পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জেলার কলাপাড়ায় তরুনী এক গৃহবধূকে উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ৩ দিন আটকে রাখা হয়েছে একটি কক্ষে। টানা মারধরে ধেতলে দেয়া হয়েছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গসহ মুখ। থেতলানো জায়গায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। বাদ দেয়া হয়নি যৌ-না-ঙ্গ। সেখানেও লাগিয়ে দেয়া হয়েছে মরিচের গুড়ো। খাবার, পানি কিংবা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বললেই নেমে আসতে স্বামী, শাশুড়ী, জাঁ, ভাসুর এবং ননদের ভয়াবহ গন নির্যাতন। স্বামীর চাহিদার যৌতুক দিতে না পারায় এবং পরকীয়া দেখে ফেলায় পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গৃহবধূ কাকলীর উপড় চালানো হয়েছে এমন নারকীয় মধ্যযুগীয় নির্যাতন।
মেয়ের উপড় চলমান ভয়াবহ নির্মমতার কথা জানতে কাকলীর বাবা-মা শশুড় বাড়ী ছুটে আসলেও পারেননি মেয়েকে নির্যাতনকারীদের হাত থেকে উদ্বার করতে। বাধ্য হয়ে থানা অভিযোগ দায়ের করে পুলিশ এনে উদ্বার করেন মুমুর্ষ প্রায় কাকলীকে।
গুরুতর আহত কাকলী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিছানায় শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন।
কাকলীর পারিবার জানায়, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামের কালাম ফরাজীর কন্যা কাকলীর সাথে লতাচাপলী এলাকার খাজুরা গ্রামের ইউনুচ খা’র পুত্র রুবেল খা’র সাথে ৮ বৎসর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের রয়েছে সওদা (৫) ও ইসা নামের আট মাসের দু’সন্তান। বিয়ের পর থেকেই ইজিবাইক চালক রুবেল ও তার পরিবার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের যৌতুকের দাবী করে কয়েকবার মারধর করে। এনিয়ে বছরে প্রায় ২ বার শালিস বৈঠক এ মিমাংসা হয়। ফলে সন্তানদের কথা চিন্তা করে কাকলী ফিরে যায় স্বামীর কাছে।
সর্বশেষ রবিবার (১৪ জুলাই) ২ লাখ দাবী করে রুবেল ও তার পরিবার। এনিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কাকলী তুলে ধরেন স্বামীর পরকীয়ার খবর। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল ও তার পরিবার। চিৎকার যাতে না করতে পারে সেজন্য কাকলীর মুখ বেঁধে স্বামী রুবেল খা, ভাসুর হানিফ খা, জাঁ সুরমা, ননদ রহিমা শুরু করে গন নির্যাতন।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ কাকলী যন্ত্রনা কাতর গলায় চোখের পানি মুছতে মুছতে বলেন, উপর্যপরি নির্যাতনে কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফিরলেই আবার শুরু হত নির্যাতন। টানা তিনদিন উ-ল-ঙ্গ করে হাত-পা বেঁধে ফেলা রাখা হয় জাঁ সুরমার কক্ষে। সারা শরীর এমনকি গোপনা-ঙ্গে মরিচের গুড়া লাগিয়ে দিয়েছে। খাবার কিংবা পানি চাইলে পেতে হত নির্যাতন। হাত-পা ধরে প্রান ভিক্ষা চেয়েছি। শশুড় ইউনুচ খাঁ আমার প্রানভিক্ষা দেয়ার জন্য ওদের কাছে অনুরোধ করেছেন। বলেছেন মরে গেলে সবগুলো আসামী হবে। ওরা একটা মরলেও যা, ৩টা মরলেও তা। তিনটাকেই মেরে ফেলবে।
নির্যাতনের বর্ননা দিতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠছিল তরুনী গৃহবধূ কাকলী বলেন, মেয়ে সাওদাকে ওরা লুকিয়ে রেখেছে। ওরা ওকে মেরে ফেলবে। আমি স্বামীর কাছে ফিরে যাব না। ওদের সবার বিচার চাই।
হাউমাউ করে কেঁদে দিয়ে কাকলীর মা শাহিনুর বেগম বলেন, জামাতা রুবেল যখন যা দাবী করেছে সাধ্যমত দেয়ার চেস্টা করেছি। তারপরেও মেয়েকে নির্যাতন করে মেরে ফেলতে চেয়েছে। বুধবার (১৭ জুলাই) স্বন্ধ্যা ৬টায় পুলিশ নিয়ে মেয়েকে উদ্বার করে এনেছি। এসময় ওরা পুলিশকে লাঞ্চিতও করেছে।
কাকলীর বাবা কালাম ফরাজী বলেন, আমার মেয়ের উপড় চালানো নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই। আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে জানার জন্য রুবেল খা’ বলেন, আভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা। পারিবারিক সামান্য বিরোধকে বড় আকারে তুলে ধরে আমাকে হয়রানি করার চেস্টা করা হচ্ছে।
লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, রুবেল-কাকলীর বিষয় নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক করা হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনা আমাকে জানানো হলে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলে দিয়েছি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।