পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যুবদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক সুমন গাজীর উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটার দিকে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। হামলার পর পরই তাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক রিমন শিকদার জানান, সকালে নিজ বাড়ি থেকে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সুমন গাজী। পথিমধ্যে আওয়ামী দলীয় কার্যালয়ের সামনে তার উপর হামলা করে দূর্বৃত্তরা।
তিনি বলেন, এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতালেব তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।

হামলায় যুবদল নেতার ডান পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে আবদুল মোতালেব তালুকদার বলেন, এ ধরনের কোন ঘটনা আমার সামনে ঘটেনি। গায়েবি অভিযোগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কলাপাড়া থানার ওসি আলী আহম্মেদ জানান, আমরা এ ধরনের সংবাদ পাইনি। তবে খোঁজ নিয়ে দেখছি।




আনিসুল হক এবং সালমান এফ রহমানকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষে হকার শাহজাহান আলী খুনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কড়া নিরাপত্তায় আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে।

আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের বিচার চেয়ে ঢাকার সিএমএম আদালত চত্বরে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা মিছিল করছেন। আদালতে সেনা ও বিজিবি সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে গত ১৬ জুলাই ঢাকা কলেজের সামনে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। তাঁদের একজন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ আলী (২৬) এবং অন্যজন হকার মো. শাহজাহান (২৬)। এ ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শাহজাহান হত্যার ঘটনায় ইন্ধনদাতা হিসেবে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা আত্মগোপনে রয়েছেন। কেউ কেউ দেশ ছেড়েছেন বলে খবর এসেছে। এর মধ্যে আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। পরে তাঁদের ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন আইনজীবী আনিসুল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তাঁকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (আখাউড়া ও কসবা) আসন থেকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা তাঁকে আইনমন্ত্রী নিয়োগ দেন। সেই থেকে তিনি আইনমন্ত্রীর পদে ছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দুটি বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার পর সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অনেকটা নিষ্ক্রিয় করে সামনে আনা হয় আনিসুল হক ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে।




হেলিকপ্টার থেকে গুলির নির্দেশ দাতারাও সমান অপরাধী: হাইকোর্ট

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : যারা হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেছে ও নির্দেশ দিয়েছে তারা সবাই অপরাধী। বলা যায় আমরা যারা এই সিস্টেমের সঙ্গে ছিলাম তারা সবাই অপরাধী। আজ বুধবার কোটা আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকে করা গুলির বিষয়ে রিট শুনানিতে এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

হাইকোর্ট আরও জানান, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রজ্ঞাপনে আন্দোলনকারীদের দোষী করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চেয়ে করা রিটের আদেশ আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ধার্য করেছেন আদালত।

এর আগে অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার রিটটি দায়ের করলে শুনানি শোনার জন্যে আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। রিটে নিহত ৯ শিশুর বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলা হয়। সেই সঙ্গে পরবর্তীতে যদি অন্য কোন শিশু মৃত্যুর সন্ধান পাওয়া যায় তবে তাকেও এই ক্ষতিপূরণের আওতাভুক্ত করা হবে।

অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার গত ১ আগস্ট বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার অংশ-বিশেষ সংগ্রহ করে রিটটি দাখিল করেন। ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন চেয়ে দাখিল করা রিটটি ৪ আগস্ট বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের বেঞ্চে উপস্থাপন করা হলে, তারা শুনানি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেছিলেন, রাজনৈতিক ইস্যু রাজপথে সেটেল হওয়া উচিৎ।




আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার প্রধান কো-অর্ডিনেটর বরাবর অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম এই আবেদন দায়ের করেন।

সাভারের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো. বুলবুল কবীর এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আবেদন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনকে এই অভিযোগে দায়ী করার আর্জি জানানো হয়েছে।

 




পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত

চন্দ্রদ্বীপ বিশেষ রিপোর্ট : পরিবহন ক্ষেত্রে সড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, তার পরিমান বছরে এক হাজার কোটি টাকার উপরে। চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়ে যায় দ্রব্যমূল্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ব্যবসার ব্যয় খাত ভেদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। আর শাক-সবজির মতো নিত্য পণ্যের দাম কমতে পারে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেয়ার প্রেক্ষিতে ভেঙে পড়ে চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট। নাগরিকরা এরই মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

ভূক্তভোগীদের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের কিছুদিন আগেও সারাদেশে পরিবহন খাতে অনেকটা প্রকাশ্যেই চলতো চাদাবাজি।

বাস, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো ঘাটে ঘাটে। এ ছাড়া বিভিন্ন লেগুনা স্ট্যান্ডেও দিতে হতো চাদা। তবে গত এক সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশের অবর্তমানে শিক্ষার্থীরা সড়কে যান চালাচল নিয়ন্ত্রণ করায় কমে এসেছে চাদাবাজি। শান্তিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

দেশে বর্তমানে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন রয়েছে ৯৩২ টি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী এর ৬৮৬ টি সংগঠন ই অবৈধ। এসকল সংগঠনের মাধ্যমে বছরে অবৈধভাবে আদায় হতো ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা।
পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বলছেন শিক্ষার্থীদের তদারকির ফলে অনেক স্থানে চাদাবাজি কমলেও কিছু কিছু পয়েন্টে এখনো চাদাবাজি চলছে।

এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




দুদকের আইনজীবী থেকে আইনমন্ত্রী, ফোনালাপ ফাঁসে বিতর্কিত




আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যারা হেফাজতে আছেন, তাদের নাম প্রকাশ করুন




এবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অপহরণ মামলার আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০১৫ সালে রাজধানীর উত্তরা থেকে এক আইনজীবীকে অপহরণ করার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরীর আদালতে এই আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সোহেল রানা। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক র্যাব ডিজি বেনজির আহমেদ। এছাড়া র্যাবের অজ্ঞাত ২৫ সদস্যকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।




কোথায় আছেন ডিবির হারুন?

বিকেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও পুলিশ সদর দপ্তর লাগোয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেয়াল টপকে কোন রকমে প্রাণে বেঁচে ফিরেন হারুন। ওইদিন রাতে তিনি কোথায় ছিলেন সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।

তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, তিনি কূটনৈতিক এলাকায় একটি দূতাবাসে/হাইকমিশনে আশ্রয় নেন।

এরপর বিকেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সোয়াটের একটি গাড়ি তাকে মিরপুরের দিকে একটি জায়গায় দিয়ে আসে। সেখানে কিছু ব্যক্তির সাথে আলাপ করে– বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন হারুন। গাড়িতে করে পৌঁছেও যান বিমানবন্দরে। তবে বিমানবন্দের টার্মিনালে প্রবেশের আগেই জনতা তাকে দেখে চিনে ফেললে, মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া রাজধানীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে। সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হারুন সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।




পুলিশের চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো মনিরুল ও হাবিবুরকে 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে।  মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখা-১ থেকে জারি করা আলাদা প্রজ্ঞাপনে তাঁদের অবসর দেওয়ার কথা জানানো হয়। দুজনই পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন) ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে মনিরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমানকে অবসর দেওয়া হলো।

এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা অপর এক প্রজ্ঞাপনে মনিরুল ইসলামকে এসবি থেকে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। আর হাবিবুর রহমানকে ৭ আগস্ট ডিএমপি কমিশনারের পদ থেকে বদলি করে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল।