আন্দোলনে হতাহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরিতে ১৩ সদস্যের কমিটি

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে নিহত ও আহতদের তালিকা প্রণয়নে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, এই কমিটি আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদানের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। পাশপাশি, আহত ও নিহতদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ হুমায়ুন কবিরকে আহ্বায়ক করে ১৩ সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) যুগ্মসচিবও রয়েছেন এই কমিটিতে।

 




রয়টার্সকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সরকার সিদ্ধান্ত নিলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চাইবো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা বাড়ছে। হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হচ্ছে। তাকে ভারত থেকে ফেরত আনা হবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে অন্তর্বর্তী সরকার। যদি স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তাঁকে (শেখ হাসিনা) দেশে ফেরত পাঠাতে ভারতকে অনুরোধ করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এটি ভারত সরকারের জন্য বিব্রতকর হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, (ভারত) বিষয়টি জানে। আমি নিশ্চিত যে, তারা এ বিষয়ে খেয়াল রাখবে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত আনতে ভারতকে অনুরোধ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। এ বিষয়ে জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ সুসম্পর্ক চায় জানিয়ে পররাষ্ট্র বলেন, বাংলাদেশ এরই মধ্যে অনেক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ভারতসহ অন্য দেশগুলোকে মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।




পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত: সোহেল তাজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজ বলেছেন, সত্য বলার সময় এসেছে। সত্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় শক্তি। পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। ভবিষ্যতে পুনঃতদন্ত হলে আমার অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণগুলো বলতে চাই।

বৃহস্পতিবার বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এসব কথা বলেন। একজন মানুষের সবচেয়ে বড় সম্বল হচ্ছে তার আত্মসম্মান আর মর্যাদা এবং সত্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আর ঢাল।’

বিডিআর বিদ্রোহের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন সাহারা খাতুন। আর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সোহেল তাজ। অভিযোগ ওঠে, পিলখানা ট্রাজেডির ঘটনার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন সোহেল তাজও। যদিও সোহেল তাজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন।

এ অভিযোগের বিষয়ে আজ (১৫ আগস্ট) সোহেল তাজ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আপনারা যারা জেনে না জেনে বা বুঝে না বুঝে কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাকে নিয়ে পিলখানা হত্যাযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা অপপ্রচার করছেন; তাদের উদ্দেশে বলব- এই কাজটা ঠিক না। আমিও বাংলাদেশের সব বিবেকবান মানুষের মতো হতভম্ব হয়েছিলাম, স্তম্ভিত হয়েছিলাম। আমিও মানসিকভাবে মর্মাহত হয়েছিলাম। আমিও সত্য জানতে চাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত চাই। ভবিষ্যতে পুনঃতদন্ত হলে আমার অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণগুলো বলতে চাই। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংস ও মর্মান্তিক ঘটনার একটি বাংলাদেশের পিলখানা ট্রাজেডি বা বিডিআর বিদ্রোহ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।’




কাজে ফেরেননি হাসিনা সরকারের বিশেষ ডিএমপি কর্মকর্তারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেখ হাসিনা ভারত পালানোর পর অনেকেই পালিয়েছেন দেশ ছেড়ে আবার কেউ কেউ দেশেই রয়েছেন আত্মগোপনে। এ তালিকায় রয়েছে অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও। কর্মস্থলে অনুপস্থিত এবং দায়িত্ব পালন না করা পুলিশ সদস্যদের বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার আলটিমেটামের  শেষ দিন হলেও  আওয়ামীপন্থি কিংবা ক্ষমতাচ্যুত সরকারঘেঁষা হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বেশির ভাগ কর্মকর্তা কাজে যোগ দেননি l

শাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজে যোগ না দিলে অনুপস্থিতরা আর ‘চাকরি করতে চাইছেন না’ বলে ধরে নেওয়া হবে। সে হিসেবে পরবর্তী ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ডিএমপি সূত্র বলছে, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) হারুন অর রশীদ, যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ অন্তত ২৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজে যোগ দেননি। এর মধ্যে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।

ডিএমপি সদর দপ্তরের ক্রাইম বিভাগ ও প্রশাসন বিভাগসহ দুই-একটি ইউনিটের সদস্যরা পুরোদমে অফিস করছেন। বাকিদের কক্ষে তালা ঝোলানো দেখা যায়। অনেকের ফোনও বন্ধ। তবে থানাগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পুলিশ সদস্য কাজে যোগ দিয়েছেন। থানাগুলো চালু হলেও গত তিন দিনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৫০ থানার মধ্যে কোনো থানাতেই মামলা দায়ের হয়নি। যদিও তিন দিনে ২৫০টির মতো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। আগে দিনে প্রায় এক হাজার জিডি হতো। ১৪ আগস্ট ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকেই কাজে ফিরছেন। আমরা আশাবাদী, বাকিরাও দ্রুতই কাজে ফিরবেন।’

নিরাপত্তাহীনতা ও সহকর্মীদের হতাহত হওয়ার ক্ষোভ থেকে ৫ আগস্টের পর কাজে যোগ দেননি পুলিশের ননক্যাডার সদস্যরা। আর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়েও গেছেন।




এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সমালোচিত ব্যবসায়ী এস আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের আয়কর বিভাগের রাজধানীর কর অঞ্চল-১৫ থেকে বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। সদ্য বিদায়ী সরকারের আমলে সুবিধাভোগী অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী ছিল এস আলম গ্রুপ।

কর অঞ্চল-১৫ সূত্রে জানা গেছে, এস আলমের (সাইফুল আলম) স্ত্রী ফারজানা পারভীন, মা চেমন আরা বেগম এবং ভাই আবদুল্লাহ হাসানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে বা বোনের যৌথ নামে অথবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তলব করা হয়েছে। এর মানে, এস আলমসহ তার পুরো পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে এনবিআর।




পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়র সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং আইনে মামলাটি করেন এবং মামলাটির অনুলিপি পটুয়াখালীর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।

মামলায় হারুন অর রশিদের কাছ থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত নগদ ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, ১০ হাজার মার্কিন ডলার, ৪৮ দশমিক ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং বেশ কিছু চেক বই–দলিল উদ্ধার ও আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়।

হারুন অর রশিদ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাউজিং এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে হারুন-অর-রশিদ গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ২৮তম বিসিএসের কর্মকর্তা।

মামলার আরজিতে বলা হয়, দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশ না থাকায় শিক্ষার্থীরা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ৮ আগস্ট বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি কালো রঙের প্রাইভেট কারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হারুন অর রশিদ বরিশালের হাতেম আলী চৌরাস্তা পার হচ্ছিলেন। গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটক করেন। এ সময় প্রকৌশলীর স্ত্রী সালমা আক্তার, ছেলে আশফাক অর রশিদ ও মেয়ে সানজিদা রশিদ ওই গাড়িতে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা গাড়িটিতে তল্লাশি করে নগদ টাকা, ডলার ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেন। এসব সম্পদের সঠিক উৎস সম্পর্কে কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় শিক্ষার্থীরা কর্তব্যরত সেনাবাহিনীর সদস্যদের অবগত করলে তাঁরা জব্দ মালামালসহ আটক ব্যক্তিদের বরিশাল কোতোয়ালি থানায় সোপর্দ করেন।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই জিডির আলোকে পটুয়াখালীতে দুদক মামলাটি করেছে।

মামলার বাদী দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি জানান, দুদক এই মামলা তদন্ত করে খুব শিগগির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করবে।




ওয়াসার এমডি : ৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট, যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সত্ত্বেও প্রায় ১৫ বছর ধরে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ছিলেন বহুল আলোচিত ও সমালোচিত প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। অবশেষে গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) তার পদত্যাগের খবর দিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। অত্যন্ত সমালোচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫ হাজার কোটি টাকা লোপাট ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি করার অভিযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি থাকার তথ্যকে এর আগে তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নানা সময় অনিয়ম-দুর্নীতি ও বির্তক লেগেই ছিল। কিন্তু তারপরও তিনি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এমডি পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, তাকে অনুরোধ করে এই পদে রেখেছে সরকার।

সংবাদ মাধ্যম যুগান্তরে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে আজ বলা হয়, তাকসিম এ খানের সময়ে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এতে রাজধানীবাসীর পানি ও পয়ঃসেবার দাম বেড়েছে। বৈদেশিক সহায়তানির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নে এই সংস্থাটি প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্যপরিষদের নেতারা।

তাদের মতে, পদ্মা (যশলদিয়া) পানি শোধনাগার প্রকল্পের সঞ্চালন লাইন নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগারের নিুমানের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৬০০ কোটি টাকা, পানি ও পয়ঃবিলের ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের ৬২১ কোটি টাকা।

তারা বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতাড়িত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মীয় বলে তিনি আইনের তোয়াক্কা না করে যা খুশি তাই করেছেন। অন্যায়ভাবে অনেককে চাকরিচ্যুত করেছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা দিলেও অনেককে স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে দেননি। কয়েকদিন ধরে ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। জনরোষে পড়ার ভয়ে নিজ বাসায় না থেকে তিনি এখন হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে অনলাইনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, অতিষ্ঠ হয়ে ২০২৩ সালের ১৭ মে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রকৌশলী তাকসিমের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে চিঠি লিখেছিলাম। মন্ত্রণালয় তার তদন্ত না করে উপরন্তু চার দিনের মাথায় আমাকে সরিয়ে দেয়। দুর্নীতির টাকার জোরে তিনি ধরাকে সরাজ্ঞান করেছেন। পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসায় প্রকৌশলী তাকসিমের সময়ে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে; তা খুবই পরিষ্কার। পদ্মা (যশলদিয়া), দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে সঠিক তদন্ত করলে তা পরিষ্কার হয়ে যাবে। এছাড়া আরও যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, সেগুলোও সরকার তদন্ত করতে পারে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একবার তদন্ত শুরু করে রহস্যজনক কারণে থেমে যায়। মন্ত্রণালয়কে তিনি নিজ হাতের পুতুলে পরিণত করেছেন।

তিনি জানান, এখন পরিবর্তিত সময়; মন্ত্রণালয় বা দুদক চাইলে সঠিক তদন্ত করতে পারবে। এক্ষেত্রে বর্তমান সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা ওয়াসা থেকে এই জগদ্দল পাথরকে না সরালে রাজধানীবাসীকে পানি ও পয়ঃসেবা পেতে বহুগুণ বেশি অর্থ গুনতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই নগর সংস্থাটি আরও ধ্বংস হয়ে যাবে। এজন্য বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্টদের তার দুর্নীতির বিষয়গুলো নিখুঁতভাবে তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানাব। জনরোষের ভয়ে তিনি এখন বাসায় না থেকে পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছেন বলে জানতে পেরেছি।

ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদ বিগত সময়ে ঢাকা ওয়াসায় সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি হিসাব কষেছেন। তাদের হিসাব অনুযায়ী-প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প নির্মাণে নিুমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কমপক্ষে ৬০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। এছাড়া এ প্রকল্পের নেটওয়ার্ক না করে মূল প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় সেখান থেকে কোনো সুফল মিলছে না। এতে সেখানে কোনো বাসা-বাড়ির বর্জ্য যেমন শোধন করা যাচ্ছে না, তেমনি কোনো রাজস্বও আদায় হচ্ছে না।

শোধনাগারের প্ল্যান্ট চালু রাখতে হাতিরঝিলের ময়লা পানি সেখানে নিয়ে শোধন করা হচ্ছে। এতে ঢাকা ওয়াসার বছরে গচ্চা যাচ্ছে ৫১২ কোটি টাকা; ২০২৭ সালে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলে বছরে ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা। ২ বছর আগে প্রকল্প চালু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সঞ্চালন লাইন (নেটওয়ার্ক) প্রকল্প প্রস্তাব করেনি। এই মুহূর্তে সঞ্চালন লাইনের প্রক্রিয়া শুরু করলেও বাস্তবায়নে অন্তত ১০ বছর সময় লাগবে। ততদিনে পয়ঃশোধনাগারের যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়বে।

একই চিত্র পদ্মা-যশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পেও। মূল সঞ্চালন লাইনে নির্মাণে নিুমানের পানি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আত্মসাৎ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে সরবরাহ লাইন তৈরি না করে প্রকল্প চালু করায় দৈনিক ৪৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হওয়ার কথা থাকলেও অর্ধেকেরও কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ঢাকা ওয়াসার গচ্চা গেছে ১৪২ কোটি টাকা। আর ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় চলতি অর্থবছর থেকে গচ্চা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের পদে পদে দুর্নীতি হয়েছে; ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে ১০৫ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসার ফান্ডে টাকা থাকলেও বহস্যজনক কারণে এই প্রকল্পের সরবরাহ রাইন করা হচ্ছে না।

ঐক্যপরিষদের নেতাদের হিসাব মতে, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছর থেকে ২০২২-২০২৩ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ওয়াসার ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকা খোয়া গেছে। পানির দাম ও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি, বিলিং পদ্ধতি ডিজিটাইজেশন হওয়ার পরও সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্তদের চুরি, অবহেলা ও অদক্ষতার কারণে এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে সংস্থা বঞ্চিত হচ্ছে। ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে সংস্থার সিস্টেম লস ছিল ৩৪.৮২ শতাংশ এবং বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৮২ শতাংশ; অথচ ঢাকা ওয়াসার বর্তমান প্রশাসন দাবি করছে ঢাকা ওয়াসার সিস্টেম লস ২০ শতাংশ।

তারা বলেন, সমবায় আইন অমান্য করে ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি থেকে ৬২১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এছাড়া সমিতির মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। তার আনুমানিক মূল্যও প্রায় শতকোটি টাকা। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সমবায় অধিদপ্তরের তদন্তে ৩৩২ কোটি ৫২ লাখ টাকা লোপাটের প্রতিবেদন এসেছে। এরপর বাকি টাকা লোপাট হয়েছে। প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের ছত্রছায়ায় দুর্নীতি হওয়ায় তাদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

তারা জানান, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের ১৫ বছরে রাজধানীবাসীকে ন্যূনতম সেবা না দিয়ে অর্থ আদায়েরও নানা উদাহরণ রয়েছে। নগরীতে পয়ঃসেবা না থাকলেও বছরে এ খাতে নগরবাসীর কাছ থেকে ৪০০ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার এমডির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০২৪ সালে ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে ৭০ শতাংশ এবং ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে ৩০ শতাংশ পানি উৎপাদনের ঘোষণা ছিল। বাস্তবে তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। এখনো ঢাকা ওয়াসার মোটর পানির ৭৬ শতাংশ ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে।

আর ভূ-উপরিস্থ উৎস থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৪ শতাংশ।

তারা আরও জানান, ঢাকা ওয়াসায় পদোন্নতিতে তার সময়ে জ্যেষ্ঠতা মানা হয়নি। অবৈধ অর্থের লেনদেন পাকাপোক্ত করতে সিনিয়রদের ডিঙিয়ে জুনিয়রদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তার কাজে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের আর্থিকভাবে লাভবান করার পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণেরও সুযোগ করে দিয়েছেন। তার সময়ে অর্ধশত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। লোপাট নির্বিঘ্ন করতে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসা কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্যপরিষদের সভাপতি প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের সময়ে ঢাকা ওয়াসায় ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তার একটি হিসাবও আমরা করেছি। সেটা স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার কাছে আগামীকাল জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পানি ও পয়ঃবিলে টাকা থেকে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি করেছে। এতে করে প্রকল্পগুলো রুগ্ণ হয়ে পড়েছে। যেখানে এখন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ঢাকা ওয়াসাকে। বৈদেশিক সহায়তা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে সংস্থাকে। এই দুর্নীতিবাজ এমডিকে আমরা আর চাই না।

তিনি জানান, জনরোষের ভয়ে প্রকৌশলী তাকসিম বাসা ছেড়ে হোটেল সোনারগাঁওয়ে অবস্থান করছে বলে জানতে পেরেছি। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাব, সে যেখানে থাকুক সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ে অফিসে না এলেও দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জুমে মিটিং করছে বলে শোনা গেছে। সব দুর্নীতিবাজকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াজদানী বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের অন্যায় নির্দেশ না মানায় সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে বরখাস্ত করা হয়। উচ্চ আদালত ২০২৩ সালের ১০ জুন তা বাতিল করলেও তাকে তিনি কাজে যোগদান করতে দেননি।

তিনি বলেন, প্রকৌশলী তাকসিম এ খানের অনিয়ম ও দুর্নীতির শত শত প্রমাণ রয়েছে। বর্তমান সরকারকে অনুরোধ জানাব সেসব অনুসন্ধান করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে। আর তিনি যাতে কোনোভাবে পালিয়ে যেতে না পারেন সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখার অনুরোধ জানাব। তিনি আমেরিকার পাসপোর্টধারী, তার পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকেন, যে কোনো সময় তিনি পালিয়েও যেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় হাজার কোটি টাকা মূল্যের ১৪টি বাড়ি আছে বিতর্কিত তাকসিম এ খানের। গত বছরের জানুয়ারিতে একটি জাতীয় দৈনিকে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। এর এক দিন পর সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের বিরুদ্ধে উঠা অনিয়ম-দুর্নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ির বিষয়ে কথা বলেন তাকসিম এ খান।

ওই সময় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে তার ১৪টি বাড়ির যে খবর পত্রিকায় বেরিয়েছে, সেটা সর্বৈব মিথ্যা। যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচটি বাড়িতে আমার পরিবার সেখানে বিভিন্ন সময় ভাড়া থেকেছেন। আর একটি বাড়ি আমার স্ত্রীর নামে। আমি, আমার স্ত্রী, সন্তান সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

দুদকের তদন্ত নিয়ে তাকসিম এ খান বলেন, ঢাকা ওয়াসার ভালো কাজ দেখে যাদের ক্ষতি হয়, তারাই এমন অভিযোগ করেন। আমি জীবনে হারাম পয়সা খাইনি। খাব না।

গত বছর তাকসিমসহ ওয়াসার ঊর্ধ্বতনদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ) তাকসিম এ খানের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করে চিঠি দেয়। এর মধ্যেই গত সোমবার ‘ওয়াসার তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সব বাড়ির দাম টাকার অঙ্কে হাজার কোটি ছাড়াবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার করে তিনি এসব বাড়ির মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ি কেনার অর্থের উৎস ও লেনদেন প্রক্রিয়ার তথ্য তালাশে নেমেছে ইন্টারপোলসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। বিপুল পরিমাণ অর্থে একের পর এক বাড়ি কেনার ঘটনায় দেশটির গোয়েন্দা তালিকায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকসিমের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঢাকা ওয়াসার এই এমডির বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। তাকসিম যুক্তরাষ্ট্রে দুর্নীতি করে বাড়ি করেছেন কিনা, সে বিষয়ে অনুসন্ধান করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা ওয়াসার এমডি বলেন, ‘আমার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরি করেন। ১৯৯৫ সাল থেকে তার পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। বাড়ি ও অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে বলে যে খবর গণমাধ্যমে এসেছে, সেটা স্টান্টবাজি। আমার স্ত্রী-সন্তান সেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত, তাই সেখানে একটি বাড়ি কেনায় খুব অসুবিধার কিছু নেই। আমার স্ত্রীর নামে ওই একটা বাড়ি আছে। সেটাকে বাড়ি বলা যাবে না, এটা একটা অ্যাপার্টমেন্ট।… বিভিন্ন সময় আমাকে নিয়ে এমন নানান রিপোর্ট এসেছে কিন্তু এগুলো সব মিথ্যা, তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এগুলো পুরোটাই অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা ওয়াসা থেকে অনৈতিক সুবিধা পায়নি বা পাচ্ছে না, তারাই মূলত এসব করিয়ে থাকে।’

দুর্নীতি ও অনিয়ম করে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪টি বাড়ি কেনার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি সেখান (যুক্তরাষ্ট্র) থেকেই ওয়াসায় চাকরি করতে এসেছি। এমন নয় যে, এখানে চাকরি করে আমার সম্পদ ওখানে গড়েছি। আমার স্ত্রী সেখানে সরকারি চাকরি করেন। আমার সন্তানও সেখানে খুব ভালোমানের চাকরি করে। আমি যে ইনকাম করি, তা থেকে ওদের কিছুই দিতে হয় না। তারা ওখানে অনেক ভালো আছে; যে কারণে আমার স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে রিপোর্টে যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি অসত্য। এর মধ্যে ৫টি বাসার যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেগুলোতে আমার পরিবার বিভিন্ন সময় ভাড়া থেকেছে। কিন্তু মিথ্যা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে দেওয়া হলো। আমার ছেলেও একসময় সেখানে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল, কিন্তু তা অনেক আগেই ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে অভিভাবক হিসেবে আমার নাম আছে। এই নামগুলো ইন্টারনেট থেকে নিয়ে তার বিরুদ্ধে এ প্রতিবেদন করা হয়েছে।’

ওই প্রতিবেদনে বাড়ির যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেটি নিয়েও কথা বলেন তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, ‘একটা বিল্ডিংয়ে ১০-১৫টা অ্যাপার্টমেন্ট থাকে। সেই অ্যাপার্টমেন্টগুলার বর্তমান বাজার দর কত সেটাও আপনারা ওয়েবসাইট থেকে পাবেন। ১০২টা বেডরুমওয়ালা কোনো বাসা হয় না, আবার ১০২টা বাথরুমওয়ালা কোনো বাসা হয় না। যেগুলো হয় সেগুলা প্রেসেডিয়েনশিয়াল… যেগুলো আমাদের আলোচনার মধ্যেও নাই। সাধারণত আমেরিকায় এমন কোনো বাসা থাকে না। অতএব এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত, কাজেই এটার কোনো ভিত্তি নেই।’




ছাত্র আন্দোলনে হত্যার তদন্ত করবে জাতিসংঘ

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনায় শিগগিরই তদন্ত শুরু করবে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের বরাত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ছাত্র আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার বিষয়ে তদন্তের জন্য খুব শিগগির জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি তদন্ত শুরু করা হবে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল তদন্ত শুরু করতে শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।’

বুধবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এ কথা বলেন। অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করায় ফলকার টুর্ককে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধু জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস।




সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলককে গ্রেপ্তার দেখাল পুলিশ




পটুয়াখালী সদর উপজেলার আইনশৃংঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্ম্পকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রতিতে এখন অবদি জেলার কোথাও কোন ধরনের বিশৃংখলার খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগনের বন্ধু সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা জনগনের সেবায় সেনাবাহিনী মাঠে আছে।

পটুয়াখালীতে আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেবুখালী সেনানিবাসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল মোহসীন এসব কথা বলেন।

আজ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে সদর উপজেলার আইন শৃংখলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবুল আলম এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেজর সাব্বির, পুলিশ সুপার আবদুস সালাম, জেলা জামাতের নায়েবে আমির এডভোকেট নাজমুল আহসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র অন্দোলনের তোফাজ্জেল হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ শামিম চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া আহম্মেদ প্রমুখ ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুল রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা জামাতের আমির অধ্যক্ষ মোঃ শাহআলম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্ট্রান ঐক্যপরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস, জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন ,জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হ্রদয় , সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, মো: জাকির হোসেন সহ ১৪টি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সহ সুশীল সমাজের নেতৃবুন্দ।

তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে ভাল থাকতে চাই, এ দেশে জনসাধারন যখন যেভাবে চেয়েছে সেভাবে দেশ পরিচালিত হয়েছে। যদি কখনো সেভাবে দেশ পারিচালিত না হয়, সেক্ষেত্রে জনসাধারন তাদের ভবিষৎ এর গতি প্রকৃতি নির্ধারন করে নিয়েছে। ইতিহাস বলে শাসকগোষ্টি যখন গনমানুষের কথা বুঝতে পারে নাই, তখন গনমানুষ নতুন করে নতুন দিক নিয়ে এসেছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ একরকম চাচ্ছে, ১০ভাগ অন্য ভাবে চাচ্ছে-এ ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ মানুষের কথাই শুনতে হবে। আমরা সকলে ভাল থাকতে চাই, শান্তিতে থাকতে চাই-এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে কর্নেল মোহসীন হোসেন বলেন, এদেশের ছাত্র ও যুব সমাজ একটি ভালো ভূমিকা রেখেছে-তারাই নেতৃত্বে ছিল শুরুতে, তাদের সাথে দেশের জনসাধারন মিশে গেছে যখন দেখেছে তাদের দাবী গুলি যৌক্তিক।

সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ দেশ সবার, এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে আলাদা করা ঠিক না, তারা আমাদের ভাই সবার অধিকার সমান। পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু হিসেবে কারও উপর কোন হামলা হয়েছে-এ ধরনের কোন অভিযোগ সেনা ক্যাম্পে আসে নাই। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই আপনারা কেন বিক্ষোভ মিছিল করছেন, মানববন্ধন করছেন, কেন করছেন? আক্রমন না হয়ে থাকলেও প্রতিদিন মিছিল করার পরিকল্পনা, একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন কারনটা কি? আপনাদের কোন ধরনের নিরাপত্তার হুমকী থেকে থাকলে আমাদের সেনাবাহিনীকে
জানান, আপনাদের নিরাপত্তার পুরোদায়িত্ব আমরা নেব। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই কিসের উস্কানীতে এগুলি আপনারা করছেন? কারা আপনাদের এগুলি করাচ্ছেন? আপনারা কোন খেলার গুটি হবেন না। এ এলাকার মানুষ অসম্প্রদায়িক, এখানে একজন আরেক জনকে দেখে রাখেন। এখানে সাধারন ছাত্রদের সাথে মাদরাসার ছাত্ররাও রয়েছে। আমি ছবি দেখেছি বেড়া দিয়ে রেখে নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে-
মন্দিরের পাশে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন। আমরা যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বলি, এর চেয়ে ভালো দৃশ্য আর কি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, একটি অশুভ গোষ্টি ১৪ ও ১৫ তারিখকে সামনে রেখে যদি কোন নিরাপত্তা বিঘিœত করতে চেষ্টা করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমরা সকলে মিলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ঠান সম্প্রদায়সহ সকল উপসানালয় নিরাপত্তার চাদরে রাখবো। আমরা সকলে মিলে সব সময় নজরে রাখবো, যাতে এগুলি ভাংচুর করে বা নিরাপত্তা বিঘিœত করে কোন ই্যসু তৈরী করতে না পারে, সেদিকে আমরা খেয়ালরাখবো।

তিনি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ বাহিনী একটি সংস্কারের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সংস্কারে পরে যে পুলিশ বাহিনী আসবে তা জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। কোন সংস্থাকে ঘৃনা করবেন না, পাপকে ঘৃনা করি পাপিকে নয়। পুলিশের নেতৃত্বে সমস্যা ছিল, তারা এখন কেউ নেই কিন্তু এলাকায় যারা অফিসার বা কনষ্টেবল হিসেবে আছেন তাদের সহযোগীতা করেন।আমি সব কয়টি থানায় গিয়েছি তাদের মধ্যে অনুশোচনা হয়েছ, তারা আমাকে বলেছেন তারা বাধ্য হয়েছেন ঐ কাজ গুলি করতে। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে, তারা নিশ্চয়ই আপনাদের আস্থার জায়গায় ফিরে আসতে পারবেন, জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের চালুকৃত কমিউনিটি পুলিশের সাথে ছাত্র সমন্বয়ক ও ভলান্টিায়রদের নিয়ে টিম গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।