সারা দেশে দেড় হাজার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভাঙচুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলা হয়েছে। এসব ভাস্কর্য ও ম্যুরালের বেশির ভাগই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের, স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক। ধ্বংস করা হয়েছে ময়মনসিংহের শশীলজের ভেনাসের মূর্তি, সুপ্রিম কোর্টের থেমিস ও শিশু একাডেমির দুরন্ত ভাস্কর্যটিও।

৫ থেকে ১৪ আগস্টের মধ্যে ৫৯টি জেলায় ১ হাজার ৪৯৪টি ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য (সিরামিক বা টেরাকোটা দিয়ে দেয়ালে খোদাই করে ফুটিয়ে তোলা অবয়ব), ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলার তথ্য আছে। বেশির ভাগ ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট।




ডিবি হারুনের কেয়ারটেকারও শত কোটি টাকার মালিক!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাত্র ৮০ টাকা রোজে লোড-আনলোডের শ্রমিক থেকে শ্রমিক লীগ নেতা বনে যাওয়া মোকারম সরদার এখন কয়েকশ কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ উঠেছে আরব্য উপন্যাসের জাদুকরি সেই আলাদীনের চেরাগের মতোই রাতারাতি এত টাকার মালিক বনে যাওয়ার পেছনে রয়েছে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদের ছত্রছায়া।

অনেকের ধারণা হারুন অর রশিদের অবৈধ সম্পদের কেয়ারটেকার মোকারম সরদার। বিষয়টি কিশোরগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে জানাজানি হলে মোকারম সরদার আত্মগোপন করেন।

স্থানীয়রা জানান, আলোচিত সমালোচিত সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ তার অবৈধ টাকার কেয়ারটেকার মোকারম সরদারকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে বিপুল পরিমাণ টাকা ছিটিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ- যার কোনো শিক্ষা নেই, নিজের নাম লিখতে পারে কোনোমতে, তিনি কোনোভাবেই উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানের চেয়ারম্যান হতে পারেন না। তাকে চেয়ারম্যান বানানো হয়েছে অবৈধ সম্পদ পাহারা দেওয়ার জন্য। এ নিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়।

ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় সরেজমিন জানা যায়, বুড়িগঙ্গায় জাহাজ থেকে লোড-আনলোডের সময় চুরি করে রাখা চাল, ডাল, গম, পাথর, কয়লা সার বিক্রি করতেন মোকারম সরদার। তার রয়েছে জাহাজের পণ্যচোরাই সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেট থেকে মোকারম সরদার যে পরিমাণের টাকা আয় করতেন তার অর্ধেক স্থানীয় নেতাদের ভাগ দিতে হতো।

স্থানীয়রা জানান, হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে থাকাকালে প্রায়ই আলীগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোকারম সরদারের লেবার অফিসে সময় দিতেন। দীর্ঘ সময় মোকারম ও হারুনকে লেবার অফিসে বসে টাকাপয়সার হিসাব করতে দেখেছেন। এরপরই আলীগঞ্জ এলাকায় অন্তত ৮ থেকে ১০টি প্লট কিনেন মোকারম সরদার। এর মধ্যে ৪টি বহুতল বিলাস বহুল বাড়ি করেছেন। অনেকেই এসব বাড়িকে এসপির বাড়ি নামে চিনেন।

কিশোরগঞ্জের স্থানীয় লোকজন জানান, কিশোরগঞ্জের উকিলপাড়াতে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন মোকারম সরদার। নিকলীর দামপাড়া মৌজায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে এতে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুপ্লেক্স ভবন করেছেন। এলাকার রইস মেম্বারের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছেন। ভৈরব বাজার পূবালী ব্যাংকের নামে কোটি টাকার একটি নিশান পেট্রল জিপ ক্রয় করেন। ২০১৩ সালে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইভটিজিং নামের একটি ছবি প্রযোজনা করেন মোকারম।

নিকলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোকারম সরদারের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন- তিনি স্বশিক্ষিত, তার কোনো ঋণ নেই। বাড়ি ভাড়া থেকে ৯০ হাজার টাকা ও ব্যবসা থেকে ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা বছরে আয় হয়। তার কাছে নগদ টাকা রয়েছে দুই কোটি বিশ লাখ ৯০ হাজার ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার। এছাড়া দামপাড়া মৌজায় দেড় শতাংশ, কিশোরগঞ্জ মৌজায় আড়াই শতাংশ, ভিন্নগাঁও মৌজায় ১২ শতাংশ ৩ পয়েন্ট এবং একই মৌজায় রয়েছে ৭০ শতাংশ জমি। স্থানীয়দের অভিযোগ নির্বাচনি হলফনামায় মোকারম সরদার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এ বিষয়ে মোকারম সরদারের বক্তব্য নিতে তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ ও ফতুল্লার একাধিক বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহার করা দুটি নম্বরে ফোন করে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

 




দীপু মনি গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল।

জানা গেছে, চাঁদপুরের একটি মামলায় দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের জেএম সেনগুপ্ত রোডের মনিরা ভবন নামে বাড়িতে ১০০০ থেকে ১২০০ লোক দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর করে। পরে তারা ওই ভবনে আগুন দিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে টানা চারবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ডা. দীপু মনি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন তিনি।




সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে।  সোমবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, মোহাম্মদপুর থানার হত্যা মামলায় আরিফ খান জয়কে গ্রেফতার করা হয়।




শেখ হাসিনা-মেনন-ইনুসহ ২৭ জনের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পদত্যাগের পর দেশত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৪ দলের শরিক জাসদের সভাপতি সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ৪ আগস্ট মিরপুরের দেশ পলিটেকনিক কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নিহত শাহরিয়ার হাসান আলভীর (১৫) বাবা মো. আবুল হাসান আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন।

২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আরও দুটি গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেগুলোর তদন্ত চলছে।

বাকি আসামিরা হলেন—জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, তরীকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, যুবলীগ সেক্রেটারি মাইনুল হাসান নিখিল, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুর রহমান, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হানিফ, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইসমাঈল মোল্লা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পী। এছাড়া সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রশাসনে থাকা সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও মিরপুর মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্সী সাব্বিরকে আসামি করা হয়েছে।

 




পটুয়াখালীতে মাটির গর্ত খুড়ে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দক্ষিণ বড় বালিয়াতলী গ্রাম থেকে মাটির গর্ত খুঁড়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা উদ্ধার করেছে আয়েশা বেগম নামের ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধার মরদেহ।

সোমবার সকাল ১১ টার দিকে দক্ষিণ বড় বালিয়াতলী গ্রামের মো. ইউনুস মিয়ার বাড়ির পাশের মাটির গর্ত খুড়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আয়েশা একই গ্রামের মৃত মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পরে সে বাজারে মাছ ও তরকারি টোকানোর কাজ করতো।

কলাপাড়ার বড় বালিয়াতলী ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেল মিয়া জানান, গত শনিবার রাতে আয়েশাকে একই এলাকার ইউনুস মিয়া বাজার থেকে ডেকে নেয়। এরপর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। আজ সকালে স্থানীয়রা ইউনুসের বাড়িতে গেলে মাটির গর্ত দেখে সন্দেহ হয়। বিষয়টি তাকেসহ পুলিশকে জানালে ইউনুস টের পেয়ে পালিয়ে যায়। পড়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা এসে মাটি খুঁড়ে আয়েশার মরদেহ উদ্ধার করে। তাদের ধারণা ইউনুসের কাছে আয়েশা কিছু টাকা পেতো। এ টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করা হতে পারে।

কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নিহত গৃহবধুর শরীরে পঁচন ধরেছে। দুই -তিন দিন আগে তাকে মেরে মাটি চাপা দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন। তারা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছেন। মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।




কলাপাড়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ১৫০ জনের নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২০২৩ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও কার্যালয় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের ৫০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ১৫০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) রাতে কলাপাড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু।

মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক উপেজলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও কলাপড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল আহসান, বর্তমান পৌর মেয়র বিপুল হাওলাদার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার, আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম বেপারী প্রমুখ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে ৩০ আগষ্ট রাত আটটায় সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রীর হুকুমে আসামিরা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ করে। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মারধর ও অফিসের চেয়ার, টেবিল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। বিএনপি কার্যালয়ের টিভিসহ সকল সিলিং ফ্যান লুট করে নিয়ে যায়। এতে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু বলেন, ‘ওই সময় থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিচার প্রশাসন আসামিদের ক্ষমতা ও প্রভাবের কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর সময় সুযোগ তৈরি হওয়ায় মামলা করতে বাধ্য হয়েছি।’

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




মাছ ব্যবসায়ী মিলন হত্যায় শেখ হাসিনা-শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাছ ব্যবসায়ী মো. মিলন হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৬২ জনকে আসামি করে আরও একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

রবিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে নিহত মিলনের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ হত্যা মামলা করেন। নিহত মিলন সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকী থানার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটকা গ্রামে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আমীর খসরু। এই মামলায় আরও আসামি হলেন শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমেরী ওসমান ও নাররায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ নিজাম প্রমুখ।

মামলার এজাহারে বাদী শাহনাজ বেগম উল্লেখ করেন, গত ২১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে পণ্ড করতে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা একজোট হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তল, শটগান, ককটেল, লাঠিসোঁটাসহ নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেন। শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আসাদুজ্জামান খান অন্য আসামিদের ছাত্র-জনতার উদ্দেশে এলোপাতাড়ি গুলি ও আক্রমণ করার নির্দেশ দেন। তারা রাস্তায় অবস্থানরত ছাত্র-জনতার ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতির সৃষ্টি করে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ও মারধর করেন। তখন মিলন মাছের আড়ত থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১২টার দিকে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সাইনবোর্ড এলাকার প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।




বাউফলে পূর্ব শত্র‍ুতার জের ধরে নারী সহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নারী সহ চার জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

রোববার (১৮ আগষ্ট) বিকালে উপজেলার কনকদিয়া ইউপির আমীরাবাদ গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে এক বৃদ্ধ নারীও রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানা গেছে, উপজেলার আমীরাবাদ গ্রামের আবদুর রহমান গংদের সাথে একই বাড়ীর খালেদুজ্জামান ফোরকান এর সাথে জমি জমা নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছে। ঘটনার দিন বিকাল অনুমান ৫টার দিকে আবদুর রহমানের বসত ঘরের সামনে লাগানো গাছ কেটে ফেলে খালেকুজ্জামান। ওই সময় বাধা দিলে প্রথমে দু’জনের মধ্যে তর্ক হয়।

এর কিছুক্ষণ পরে ফোরকান বহিরাগত ৮/১০জনের একটি দল নিয়ে আবদুর রহমানের উপর হামলা করে। ওই সময় হামলাকারীরা আবদুর রহমান (৩৮) ও তাকে বাঁচাতে এলে শাকিল খান (৩৩) , খায়রুল হাসান (২৪) ও চন্দন বিবি (৭৫) কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

আহতদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকৎস্যার জন্য প্রত্যেকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল থানার জরুরী বিভাগের ডাক্তার ফাতেমা জানায়, আহতের অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারনে অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালে রেফার করা হয়। চন্দন বিবি নামক বৃদ্ধার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে গেছে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন , আহতদের পক্ষে সাহাদত নামে একজন বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেলেন ৭৩ পুলিশ কর্মকর্তা