গলাচিপায় গৃহবধূর গলা কাটা লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় রান্নাঘর থেকে খাদিজা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক প্যাদার স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের মানিক প্যাদার মা, স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তান নিয়ে চারজনের সংসার।

বুধবার সকালে মানিক সকালের খাবার খেয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে যান। পুত্রসন্তান আবু রায়হান দাখিল মাদরাসায় পড়তে যায়। প্রতিবেশীর ঘরে পান খাওয়ার জন্য যান শাশুড়ি। কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে এসে খাদিজাকে না দেখতে পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে রান্নাঘরের মেঝেতে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা।
রহস্যজনক এই ঘটনা নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল জানান, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল এখনো কিছু জানা যায়নি।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।




শাকিল ও ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ৭১ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ ও প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকালে উত্তরা পূর্ব থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের। এর আগে বুধবার তারা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে আসলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আটক করে ডিবিতে হস্তান্তর করে।

জানা যায়, একাত্তর টিভির প্রধানবার্তা সম্পাদক শাকিল, তার স্ত্রী উক্ত চ্যানেলের প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপিকা রুপা এবং তাদের মেয়েকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরবর্তীতে তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তারা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে (TK-713) ইস্তানবুল হয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য বিমানবন্দরে যান।  সিটি এসবির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

গত ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে মুস্তফা আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে শাকিল আহমেদ- হেড অব নিউজ, ফারজানা রুপা- প্রিন্সিপাল করেসপন্ডেন্ট ও প্রেজেন্টারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।




এনআইডি সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) রাতে এক বৈঠক থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন আইডিইএ-২ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা জানান,এনআইডি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে ইসিতে রাখা এবং আইডিইএ-২ প্রকল্পের নবম গ্রেড থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত আউটসোর্সিংয়ের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের লক্ষ্যে দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এনআইডি সেবা কার্যক্রম।

দাবি না মানা পর্যন্ত সারাদেশের সব জেলা-উপজেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস কর্মরতদের ঢাকায় এসে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়।




সাবেক এমপি বদি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার




কোন ‘স্ট্যাটাসে’ ভারতে রাখা হয়েছে শেখ হাসিনাকে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিমান শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে নিয়ে নিয়ে দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেদিন সন্ধ্যায় ওই বিমানঘাঁটিতে তাদের স্বাগত জানান ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

তার পরদিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর দেশের পার্লামেন্টে জানান, ভারত সরকারের কাছে শেখ হাসিনা ‘সাময়িকভাবে’এ দেশে আসার অনুমোদন চেয়েছিলেন এবং তা মঞ্জুর হওয়ার পরই তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখেছেন।

সেই থেকে শেখ হাসিনা এখনও পর্যন্ত ভারতেই আছেন। যতদূর জানা যাচ্ছে দিল্লির উপকণ্ঠে একটি আধাসামরিক বাহিনীর অতিথিনিবাস বা ‘সেফ হাউসে’ই দুই বোনকে একসঙ্গে রাখা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাদের ঠিকানা কী, সেটা সরকারিভাবে কখনওই প্রকাশ করা হয়নি।

শেখ হাসিনা ঠিক কোন ‘ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে’ ভারতে রয়েছেন, সে ব্যাপারেও এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার সম্পূর্ণ নীরব রয়েছে।

অর্থাৎ তিনি কোনও বিশেষ ভিসায় ভারতে অবস্থান করছেন, না কি তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় (পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম) দেওয়া হয়েছে – এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত সরকার আজ পর্যন্ত একটি শব্দও খরচ করেনি।

এই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, ভারতে এই মুহূর্তে তার অবস্থানের ইমিগ্রেশন (অভিবাসন)-গত বৈধতাটা ঠিক কী এবং সেই স্ট্যাটাস কতদিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে?

দিল্লিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিবিসি বাংলা এই প্রশ্নের যে জবাব পেয়েছে তা এরকম- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার যে ‘ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল’ পাসপোর্ট ছিল তা এখনও বৈধ এবং সেই পাসপোর্টের সুবাদে তিনি অন্তত দেড় মাস কোনও ভিসা ছাড়াই অনায়াসে ভারতে অবস্থান করতে পারেন।

ফলে যদি-না এর মধ্যে সেই পাসপোর্ট ‘রিভোকড’ বা প্রত্যাহৃত হয়, তাহলে এই সময়সীমার মধ্যে অন্তত ভারতে তার বর্তমান অবস্থান সম্পূর্ণ আইনসম্মত, ভারতের এ ক্ষেত্রে আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রয়োজনও নেই।”

ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, শেখ রেহানার ক্ষেত্রে অবশ্য এই জটিলতাটুকুও নেই, কারণ তিনি ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারী – ফলে সাধারণ ‘ভিসা অন অ্যারাইভালে’ই (ভারতের মাটিতে পা রাখার পর ব্রিটিশ নাগরিকদের যে ভিসা মঞ্জুর করা হয়) তিনি কার্যত যতদিন খুশি ভারতে থাকতে পারেন।

শেখ হাসিনার ভারতে বর্তমানের অবস্থানের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বিষয়টিকেই এই প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ভারত সরকার যা বলছে

গত ১৬ অগাস্ট (শুক্রবার) বিকেলে দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে নির্দিষ্ট প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল।

সে দিন তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, “প্রায় দু’সপ্তাহ হল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে অবতরণ করেছেন। আপনি কি আমাদের বলতে পারেন তার এই অবস্থানের (ইমিগ্রেশন-গত) স্ট্যাটাসটা কী … অর্থাৎ তিনি কি নিয়মিত ভিসায় এ দেশে আছেন? না কি তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন? না কি তাকে কোনও ধরনের গৃহবন্দি বা অন্তরীণ অবস্থায় (ডিটেনশনে) রাখা হয়েছে?”

“প্রশ্নটা এই কারণেই করা, যে আমরা নানা ধরনের পরস্পরবিরোধী সংকেত পাচ্ছি। তার কন্যা (সাইমা ওয়াজেদ পুতুল) টুইট করেছেন যে তিনি মা-র সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। আবার এর পাশাপাশি, আমেরিকায় অবস্থানরত তার ছেলের (সজীব ওয়াজেদ জয়) মাধ্যমে শেখ হাসিনা বিবৃতিও জারি করেছেন। ফলে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রকৃত স্ট্যাটাস নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরির অবকাশ হচ্ছে, তার বদলে ভাল হয় যদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের জানায় ঠিক কোন শর্তের অধীনে তিনি এ দেশে রয়েছেন।”

যে সাংবাদিক এই প্রশ্নটি করেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। মুখপাত্র কিন্তু তার জবাব দেওয়ার সময় প্রথমেই স্পষ্ট করে দেন, তিনি ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’কে নিয়ে কথা বলছেন!

রণধীর জয়সওয়াল তখন বলেন, “আমরা গত সপ্তাহেও এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলাম যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আসার বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছিল খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে।”

“এই পরিস্থিতি এখনও ক্রমাগত পাল্টাচ্ছে (‘ইভলভিং’)। এই মুহূর্তে অন্তত তার (শেখ হাসিনার) পরিকল্পনা নিয়ে আমাদের নতুন করে কিছু জানানোর নেই”, বলেন তিনি।

১৬ অগাস্ট মুখপাত্রের এই বক্তব্য ছিল ঠিক তার দশদিন আগে (৬ অগাস্ট) পার্লামেন্টে করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্যের হুবুহু প্রতিধ্বনি।

সে দিন মি জয়শঙ্কর সভায় জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা ৫ই অগাস্ট পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর “খুব অল্প সময়ের নোটিশে তখনকার মতো (‘ফর দ্য মোমেন্ট’) ভারতে আসার জন্য অনুমোদন (‘অ্যাপ্রুভাল’) চান। একই সঙ্গে (শেখ হাসিনার বিমানের জন্য) ফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের অনুমতিও চাওয়া হয় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের তরফে।”

বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করার জন্য মি জয়শঙ্কর সে দিনও এই ‘ইভলভিং’ বা পরিবর্তনশীল শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

ভারতের সরকারি অবস্থানে যে মাঝের এই কয়েকদিনে এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি, তা এই ধরনের বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট।

জবাব ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্টে’?’

এরপরও মূল প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে, তাহলে শেখ হাসিনা ভারতে এই মুহুর্তে ঠিক কীসের ভিত্তিতে আছেন?

দিল্লিতে একাধিক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা আভাস দিয়েছেন, ভারতে শেখ হাসিনার এই মুহুর্তে অবস্থানের ভিত্তিটা হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সংশোধিত ট্র্যাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট’।

দুই দেশের শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের মধ্যে ঢাকাতে এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই।

ভারতের পক্ষে ওই সমঝোতাপত্রে সই করেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন বিশেষ সচিব (বাংলাদেশ ও মিয়ানমার) ব্রজরাজ শর্মা। আর বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষরকারী ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগের তখনকার সচিব ফরিদউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর মেয়াদী এই সমঝোতাটি তারপর নিয়মিত ব্যবধানে নবায়ন করার কথা, যা এ বছরের গোড়ার দিকে করাও হয়েছে।

ওই সমঝোতাপত্রের ১(এ) ধারাতেই পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে, উভয় দেশের ডিপ্লোম্যাটিক ও অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীদের ৪৫ দিনের মেয়াদে ভিসা ছাড়াই বসবাসের জন্য (‘ভিসা ফ্রি রেজিম’) থাকতে দিতে দুই দেশ পারস্পরিকভাবে রাজি হয়েছে।

অর্থাৎ কি না, এই সমঝোতা অনুযায়ী বাংলাদেশের ডিপ্লোম্যাটিক/অফিশিয়াল পাসপোর্টধারীরা ভারতে ভিসা ছাড়াই ৪৫ দিন থাকতে পারবেন- আবার অন্যদিকে ভারতের ওই বিশেষ ধরনের পাসপোর্টধারীরা বাংলাদেশেও ঠিক একই সুবিধা পাবেন।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্র বা সরকারের যে পদাধিকারীদের কূটনৈতিক বা সরকারি কোনও প্রয়োজনে বিদেশে সফর করতে হয়, তাদেরই এই ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ বা ‘অফিশিয়াল’ বা ‘সার্ভিস’ পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়ে থাকে। –




বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা ছিনতাই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে হিরন (৩০) নামে এক বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ছিনতাই করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওমালা ও দাশপাড়া সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত হিরনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত দুই ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাশকর্মী মামুন ও হিরন ঘটনার দিন পটুয়াখালী থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাউফল আসার পথে নওমালা ও দাশপাড়া সীমান্ত এলাকায় ৫ জন অস্ত্রধারী মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। বাধা দিলে হিরনকে কুপিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে বাউফল, দশমিনা থানার ওসি ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় দশমিনা উপজেলার ঠাকুরের হাট এলাকা থেকে প্রিন্স (২৩) ও সোহাগ (১৮) নামে দুই ছিনতাইকারীকে আটক করে। তাদের বাড়ি বাউফল সদর ইউনিয়ননের সোমবাড়িয়রা বাজার এলাকায় ।

পটুয়াখালী বিকাশের ম্যানেজার গোবিন্দ চন্দ্রপাল জানান, দুপুরে পটুয়াখালীর একটি ব্যাংক থেকে সাড়ে ১৬ লাখ টাকা তুলে মোটরসাইকেলযোগে বিকাশকর্মী হিরন ও মামুন এজেন্টদের মধ্যে টাকা বিতারণের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা হামলা করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের বাধা দিতে গেলে বিকাশকর্মী হিরনকে কুপিয়ে আহত করে।

বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।




আদালতে কাঁদলেন দীপু মনি, ফাঁসির দাবিতে স্লোগান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ টানা চার দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে তিন বারই ছিলেন মন্ত্রী। দলেরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সদ্য সাবেক সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি এবার গ্রেফতার হয়েছেন একটি হত্যা মামলায়। আদালত তার চার দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে তিনি আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। এতে আরও ভেঙে পড়েন সাবেক প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ডা. দীপু মনি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে।

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দীপু মনির চার দিনের এবং আরিফ খান জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানির জন্য তাদের আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে দীপু মনি ও আরিফ খান জয়কে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের আদালতের গারদখানায় রাখা হয়। গারদখানা থেকে সিএমএম আদালতের দুই তলায় ২৮নং কোর্টে আনা হয়। এসময় দীপু মনি কাঁদছিলেন। তবে জয় ছিলেন চুপচাপ। এসময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আদালতে শুনানিকালেও দীপু মনির কান্না থামেনি। এসময় জয় কিছু বলতে চান। তবে আদালত কথা বলার অনুমতি দেননি।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ভিকটিমকে হত্যার ঘটনার বিষয়ে এ দুই আসামি জ্ঞাত আছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ভিকটিমকে হত্যায় হুকুমদাতা, উসকানিদাতাদের নামসহ মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামির নাম ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন, এজাহারে বর্ণিত সহিংস ঘটনার বিষয়ে এবং মামলার ভিকটিমকে হত্যাকারী, হত্যার হুকুম দানকারী, উসকানিদানকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিদের নাম ও ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেফতারের নিমিত্তে ডা. দীপু মনি (৫১) এবং আরিফ খান জয়কে (৫৩) দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশদানে আদালতের সদয় মর্জি হয়।’

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে ডা. দীপু মনিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আরিফ খান জয়কে।




হত্যা মামলায় দীপু মনি ও জয় রিমান্ডে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মোহাম্মদপুরের মুদিদোকানি আবু সায়েদকে হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনির চার দিনএবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিন শুনানি শেষে এ রিমান্ড আদেশ দেন।

আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন এ রিমান্ড আবেদন করেন।

মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনির ৪ দিনের এবং সাবেক ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুট থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন এ রিমান্ড আবেদন করেন।

এরআগে সোমবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীপু মনিকে গ্রেফতার করা হয়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীপু মনিকে শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। এরপর শিক্ষামন্ত্রী এবং সবশেষ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন তিনি। চাঁদপুরে দীপু মনির আত্মীয়-স্বজন সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়কে মোহাম্মদপুর থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আরিফ খান জয় ২০১৪ সালে নেত্রকোনা-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।




বাউফলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালিশুরি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নেছার উদ্দিন সিকদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন আল মামুন নামে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য। নেছার উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ওই অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের কাম কলেজ অধ্যক্ষর বিচারের দাবিতে কালিশুরী বাজারে মানববন্ধনও করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন ২০২২ সালে টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের অর্থায়নে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপনের উদ্দ্যোগ নেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন দলীয় প্রভাব বিস্তার করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা তুলে তা আত্মসাৎ করেন।

মামলার বাদী আল মামুন মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, ওই বছর ২৫ মে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নামে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারে কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা তোলে ইউপি চেয়ারম্যান। এমনকি নেছার উদ্দিন সিকদার তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। রোববার (১৮ আগস্ট) দায়েরকৃত এই মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন সিকদারকে ও সাক্ষী হিসাবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা রাখা হয়েছে ২১ জন।

এ বিষয়ে কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নেছার উদ্দিন সিকদারকে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন সিকদার।

বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, শুনেছি তার বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা হয়েছে। এজাহার থানায় আসলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সকালে শপথ, বিকালে চেয়ারম্যানের পদ হারালেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় মোকাররম হোসেনকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। এরপরও তিনি নির্বাচনের মাঠে আওয়ামী লীগ নেতাকে পরাজিত করে জয়ী হন। কিন্তু পরাজিত প্রার্থী আদালতে মামলা করায় আটকে যায় শপথ। আইনি লড়াই শেষে নির্বাচনে জয়ের ৮২ দিন পর আজ সোমবার সকালে শপথ নেন তিনি। এরপরও তাঁর চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসা হয়নি।

মোকাররম হোসেন  বেলা ১১টায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। এরপর গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদে পৌঁছানোর আগেই জানতে পারেন, সরকারি এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৪৯৩ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিজ নিজ পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদও আছে। বিষয়টি রংপুরে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।