যেভাবে পরিচালিত হবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বুধবার থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হবে। মঙ্গলবারই শেষ হতে যাচ্ছে সব ধরনের অস্ত্র জমা দেয়ার সময়সীমা।

এর মধ্যে বিভিন্ন থানা থেকে লুটপাট করা অস্ত্র যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বৈধ অস্ত্রও।

গত ১৫ বছরে বেসামরিক জনগণকে দেয়া আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার। মঙ্গলবারের মধ্যে গোলাবারুদসহ এসব আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনার পতনের পর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হামলা করে লুটপাট করা হয়। লুণ্ঠিত ওই সমস্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেয়ার শেষ সময়ও মঙ্গলবার।

রোববার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা দেন।

তবে থানাগুলো থেকে কী পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে সে বিষয়ে পরিসংখ্যান মঙ্গলবারের পর জানানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রশ্ন হলো কাদের কাছে রয়েছে এসব অবৈধ অস্ত্র? কিভাবে এই অভিযান পরিচালনা করবে যৌথ বাহিনী?

কেন এই অভিযান?
আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনামলে বিভিন্ন সময়েই বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার দেখা গেছে।

বিরোধীপক্ষকে শায়েস্তা করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের প্রদর্শন করতেও দেখা গেছে। এসব ক্ষেত্রে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে সময় ছড়িয়ে পড়ে।এসব ভিডিওতে তাদেরকে কখনো পুলিশের সামনে আবার কখনো নিজেরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকারীদের দমাতে অস্ত্র হাতে দেখা গিয়েছে।

এ আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে তিন দিন রাজধানীসহ দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ থানায় হামলা হয়। লুটপাট করা হয় অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

পুড়িয়ে দেয়া হয় থানা ও পুলিশের যানবাহন। এসব ঘটনায় পুলিশের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে সব থানার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পুলিশ এখনো পুরোপুরি কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

দেশের গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, দেশে বৈধ অস্ত্রের সংখ্যা কমবেশি ৫০ হাজার।

রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হাতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র রয়েছে। এদের বড় অংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের সময়ে এদের অনেকেই অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট গত সরকারের শাসনামলে দেয়া সব অস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়।

পরে গত ২৭ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেয়ার সময়ও বেধে দেয় পুলিশ সদর দফতর।

পুলিশ সদর দফতর কোনো ব্যক্তির কাছে এ ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকলে মঙ্গলবারের মধ্যে নিকটস্থ থানায় জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। এ সময়ের মধ্যে কেউ এসব লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।

হবে।

সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসারের যৌথ সমন্বয়ে অপারেশন টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মহানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবেন পুলিশ কমিশনার। সব বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় কমিশনার এ অভিযান পরিচালনা করবেন।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কোর কমিটির মাধ্যমে স্থগিত করা লাইসেন্সের তালিকা পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযান পরিচালিত হবে। এই কমিটিতে পুলিশ সুপার, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি এবং অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

এছাড়া অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণ বা হেফাজতকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণের বিষয়টি জেলা তথ্য অফিস প্রচার করবে।

সূত্র : বিবিসি




হত্যার পরে লাশ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা: অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাফী আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করেন ডিবি সদস্যরা।

গত ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়ায় ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এক সূত্র জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডিবি পুলিশ আব্দুল্লাহিল কাফীকে আটক করেছে।




পটুয়াখালীর সাংবাদিকদের সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ।

সোমবার ( ২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় পুলিশ সুপার বলেন, চাঁদাবাজ ও মাদকদ্রব্য নির্মূলে তার নেতৃত্বে গুরত্ব সহকারে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এবিষয়ে সাংবাদিকদের আস্বস্ত করেছেন পুলিশ সুপার।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক স্কুল শিক্ষার্থীরা অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে, এবিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। এই সভায় যা আলোচনা হয়েছে আপনাদের লেখার মাধ্যমে অভিভাবকরা সচেতন হবে, এবিষয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনেক। এসময় শৃঙ্খলা রক্ষার সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালীতে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী, সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয় ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম প্রিন্সসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা।




ভারতের নিষেধাজ্ঞা সত্য হলেও কিছু আসে যায় না : সমন্বয়ক নুসরাত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেছেন, আমাদের বিরুদ্ধে ভারতের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকলে বা সত্য হলেও সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিছু আসে যায় না।

‘ছয় ছাত্রনেতার ওপর ভারতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ করে দ্য মিরর এশিয়া, যাতে নুসরাত তাবাসসুমের নাম রয়েছে। সংবাদে উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নুসরাত তাবাসসুম কালবেলাকে একথা বলেন।

তিনি বলেন, দ্য মিরর এশিয়ার নিউজটা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আমি আসলে কিছুই জানি না বা কিছু শুনিনি। এ বিষয়ে ইন্ডিয়ান হাই কমিশনার থেকেও আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি, দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিও কিছু জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই যেমন মিরর এশিয়ার খবরটা দেখেছেন অনলাইনে, আমিও সেরকমই দেখেছি। এর বেশিকিছু জানি না।

 

 

নুসরাত আরও বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সত্য কিনা সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়ে থাকলেও বা সত্য হলেও সেটাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি না। এই নিষেধাজ্ঞায় আমাদের কিছু আসে যায় না। কারণ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট। এজন্য, যদি নিষেধাজ্ঞা দিয়েও থাকে তাহলে মনে করছি যে, এতে আমাদের আন্দোলন পূর্ণতা পেলো।

 

 

দ্য মিরর এশিয়া জানায়, ভারতবিরোধী জনতাকে উসকে দেওয়া ও ভারতের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনে বাংলাদেশের ছয় ছাত্রনেতা ও তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ভিসা না দেওয়ার জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক আখতার হোসেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নুসরাত তাবাসসুম।




৬ ছাত্রনেতার ওপর ভারতের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের ছয় ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী জনতাকে উসকে দেয়া ও ভারতের জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে নয়াদিল্লি। তাদের ঘনিষ্ঠজনদের ভিসা না দেয়ার জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত মৌখিক নির্দেশনা ঢাকাস্থ ইন্ডিয়ান হাইকমিশনে পাঠানো হয়েছে। দিল্লিতে কর্মরত কয়েকজন ভারতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক দ্য মিরর এশিয়াকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই তালিকায় আছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আখতার হোসেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও নুসরাত তাবাসসুম।

হাসনাত আবদুল্লাহর চিকেন নেক নিয়ে বক্তব্য ও নুসরাত তাবাসসুমের সেভেন সিস্টার নিয়ে ফেসবুকের স্টাটাসকে আমলে নেয়া হয়েছে ভিসা নিষেধাজ্ঞায়।

মূলত, সরকারের উপদেষ্টা হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের নাম সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। মাহফুজ আলম সরকারের অংশ হওয়ার আগেই এই নোটটি পাঠানো হয়। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হওয়ার পর মাহফুজ আলমের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে কিনা তা জানতে পারেনি দ্য মিরর এশিয়া।




সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে রাজধানীর বংশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মো. রবিউল হোসেন ভুঁইয়া।

তিনি বলেন, ডিবি পুলিশের একটি দল সাবেক সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

ডিবি সূত্রে জানা যায়, একাধিক মামলায় হাজী সেলিমকে খুঁজছিল পুলিশ। পরে রোববার রাতে তাকে বংশাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

আজ সকালে কোনো এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আলোচিত সাবেক এই সংসদ সদস্য। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় ২০০৮ সালে ১৩ বছরের সাজা হয় তার। পরবর্তীতে ২০২২ সালে এই সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট।




বুধবার থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আগামী বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়




দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার খড়গে ২৭ মন্ত্রী-এমপিসহ ৬০ ব্যক্তি




ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৬ কর্মকর্তা বদলি




পটুয়াখালীর সড়ক ও জনপদের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যুগান্তর প্রতিনিধিকে হুমকির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ ও তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করায় দৈনিক যুগান্তরের উপকুল প্রতিনিধি বিলাস দাসকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সওজ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এম আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত ৩০ আগষ্ট পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছেন বিলাস। জিডি নং-১১৫২/২৪।

ডায়েরিতে বিলাস উল্লেখ করেন, “ ১৫শ কোটি টাকার পায়রা সেতুতে লুটপাটের মহোৎসব। দুই-তৃতীয়াংশ টোলের অর্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পকেটে। মুখ খুলছে না সওজ, দুর্নীতি ঢাকতে তদন্ত-অডিট।” এবং “পায়রা সেতু ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি, সাধারণ পদ্ধতিতে পার হচ্ছে ভারী যান বাহন” শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন যুগান্তরে প্রকাশ করা। এছাড়া পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে গত ২৫ আগষ্ট ২০২৪ ইং তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করায় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিক উল্লাহ গত ২৮ আগষ্ট বিকেলে তাকে ফোন করে ক্ষিপ্ত কণ্ঠে তথ্য চেয়ে আবেদন করার কারন জানতে চান। এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী তাকে বলেন-আপনি পায়রা সেতুর টোল প্লাজা নিয়ে নিউজ করছেন।

আপনার সর্ম্পকে আমি সব ধরনের খোঁজ-খবর নিছি এবং জানি। এখন আবার তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করছেন। গভমেন্ট কিন্তু আপনার বিরুদ্ধে আমাকে মামলা করার রাইট দিছে। আপনাকে জেল খাটানোর রাইট দিছে। আপনার পেছনে গোয়েন্দা সংস্থার কোন তথ্য থাকে, গর্ভামেন্ট অফিসার হিসেবে আমাকে রাইট দিছে এবং সংবিধানও দিছে। এর পূর্বে টোল প্লাজা নিয়ে বিশাল রিপোর্ট করছেন; ভাবছিলেন যে অনেক কিছু করে ফেলবেন। আপিন সাংবাদিক হয়ে কি সবার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দিতে পারেন? এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিলাসের সাথে আতিক উল্লাহর ২১ মিনিটি ৫০ সেকেন্ড কথা হয়। একপর্যায় তিনি পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব থাকা কালিন সময়ের সব ধরনের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, উদঘাটন এবং ঘাটাঘাটি করতে নিষেধ করে। যা একজন সাংবাদিকের পেশা ও জীবনের প্রতি হুমকী স্বরুপ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী জেলায় যোগদান করলো পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার জাহিদ

এ বিষয়ে বিলাস দাস বলেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি। সড়ক বিভাগের কোন কর্মকর্তার সাথে আমার কোন বিরোধ নেই। পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের র্নিবাহী প্রকৌশলী এ.এম আতিক উল্লাহসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে টেন্ডার দুর্নীতি, অর্থের বিনিময় র্নিদিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়া এবং ভুয়া বিল-ভাউচারে বরাদ্দের ৭০ শতাংশ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সওজ প্রধান প্রকৌশলীর কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে কোন তদন্ত অথবা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সওজের কাছে তথ্য চাওয়া হলে তারা তথ্য দেয়ার নামে টালবাহানা শুরু করে। তাদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন প্রকাশ না করেত প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে প্রভাবিত করা হয়। সর্বশেষ সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে ফোন করে কৈফিয়ত জানতে চান।

এ প্রসঙ্গে পটুয়াখালী সওজের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আক্তার বলেন-ব্যস্ততার কারনে আবেদনটি আমার নজরে আসেনি। আতিক উল্লাহ সাহেব র্দীঘদিন এখানে থাকায় কেউ হয়তো আবেদনের কপি তাকে দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জসীম বলেন-লিখিত অভিযোগ জিডি হিসেবে অর্ন্তভুক্ত করেছি এবং একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত সওজ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিক উল্লাহের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।