বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ কোনো কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পাবে না।

বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণভবন যেমন ছিল তেমন রেখে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় এমন স্মৃতি মেমোরিয়াল করা হয়েছিল। আরও অন্য দেশেও হয়েছে। তাদের থেকে জেনে গণভবনকে স্মৃতি জাদুঘর করা হবে। সেখানে ফ্যাসিবাদী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রদর্শিত হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে এ উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিক অসন্তোষ কাটাতে রিভিউ কমিটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হেয়েছে। এই কমিটি গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বপ্লমেয়াদি দাবি পর্যালোচনা করবে।

এজন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটিতে গার্মেন্টস মালিকদের প্রতিনিধিও থাকবে।




কলাপাড়ায় আইনজীবীদের হট্টগোল, এজলাস ছাড়লেন বিচারক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যুবদল নেতার করা এক মামলায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে জামিন দেওয়ায় আদালতে হট্টগোল করেছেন বিএনপির আইনজীবীরা। তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুরু হলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ রায়ের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের পরিদর্শক মো. মহিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৮ আগস্ট কলাপাড়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট, বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৭৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা হয়েছে। মহিপুর থানা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম রিপন বাদী হয়ে মহিপুর থানায় এ মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ রায়ের আদালতে ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে শুনানিতে অংশ নেওয়া বিএনপির আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করে এজলাসে হট্টগোল শুরু করেন। তাদের চিৎকার ও শোরগোল শুরু হলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক। এতে আরও কয়েকটি মামলার কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি ও কলাপাড়া আদালত আইনজীবী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান চুন্নু বলেন, মামলাটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা হলেও আদালতে আজ যারা আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় আদালত সন্তুষ্ট হয়ে জামিন মঞ্জুর করেন। এতে বিএনপির আইনজীবীরা হট্টগোল শুরু করলে বিব্রত হয়ে এজলাস থেকে নেমে খাস কামরায় চলে যান বিচারক। আদালতে এসব করলে বিচারকার্য বিঘ্নিত হয়।

উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আইনজীবী খন্দকার শাহাব উদ্দিন বলেন, বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় এই আদালত জামিন দিতে পারেন না। এরপরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের আইনজীবীর সঙ্গে বিচারকের সুসম্পর্কের কারণে জামিন দিয়েছেন। এতে আমরা আদালত বর্জন করেছি।




হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে হবে, তা না হলে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে না: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারতে বসে দেশ সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতিকে অবন্ধুসুলভ আচরণ বলে বর্ণনা করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বাংলাদেশে তাকে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত হাসিনাকে ভারতে চুপ থাকতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এই মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে পিটিআই।

বুধবার পিটিআইকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ইউনূস আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ অনুরোধ না করা পর্যন্ত ভারত যদি হাসিনাকে নিজের দেশে রাখতে চায়, তাহলে তাকে (হাসিনাকে) আরও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এছাড়া হাসিনা ছাড়া সবাইকে ইসলামপন্থি হিসেবে তুলে ধরার জন্য তিনি ভারতের সমালোচনাও করেন।

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঢাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে পিটিআই-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, ভারতের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ককে বাংলাদেশ সম্মান করে এবং এই কারণে নয়াদিল্লিকে অবশ্যই এমন ধারণা বাইরে যেতে হবে যেটাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব রাজনৈতিক দলকে ইসলামপন্থি হিসেবে চিত্রিত করে এবং শেখ হাসিনা ছাড়া দেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে বলে মনে করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, ‘ভারতে হাসিনা অবস্থান করায় কেউই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। কারণ বিচার করার জন্য আমরা তাকে ফেরত আনতে চাই। তিনি (হাসিনা) ভারতে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই মাঝে মাঝে তিনি কথা বলছেন, এটি সমস্যা তৈরি করছে। যদি তিনি চুপ থাকতেন, তাহলে আমরা ভুলে যেতাম; মানুষও এটা ভুলে যেত যদি তিনি তার নিজের জগতেই থাকতেন, কিন্তু তিনি ভারতে বসে কথা বলছেন এবং দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন, কেউই এটা পছন্দ করছে না।’

এই মন্তব্যের মাধ্যমে ড. ইউনূস স্পষ্টতই গত ১৩ আগস্ট হাসিনার বক্তব্যের কথাই উল্লেখ করেন। সেসময় হাসিনা ‘ন্যায়বিচার’ দাবি করেছিলেন এবং বলেছিলেন, সাম্প্রতিক ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’, হত্যা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের অবশ্যই তদন্ত, চিহ্নিত এবং শাস্তি দিতে হবে।

ড. ইউনূস পিটিআইকে বলেন, ‘এটা আমাদের বা ভারতের জন্য ভালো নয়। এটি নিয়ে অস্বস্তি রয়েছে।’

পিটিআই বলছে, ছাত্র-জনতা অভূতপূর্ব সরকার বিরোধী বিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ভারতে পালিয়ে যান। এরপর প্রায় চার সপ্তাহ ধরে ভারতে তার উপস্থিতি বাংলাদেশে অনেক জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে।

হাসিনার চুপ থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ তার অবস্থান ভারতের কাছে জানিয়ে দিয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, মৌখিকভাবে এবং বেশ দৃঢ়ভাবে জানানো হয়েছে যে– তার চুপ থাকা উচিত।

নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সবাই এটা বোঝে। আমরা বেশ দৃঢ়ভাবে বলেছি যে– তার চুপ থাকা উচিত। এটি আমাদের প্রতি অবন্ধুসুলভ অঙ্গভঙ্গি; তাকে সেখানে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি যে স্বাভাবিক নিয়মেই সেখানে (ভারতে) গেছেন তা নয়। জনগণের অভ্যুত্থান এবং জনরোষের কারণে তিনি পালিয়ে গেছেন।’

ইউনূস বলেন, (হাসিনা সরকারের আমলে হওয়া) নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ন্যায়বিচারের জন্যই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, তাকে (হাসিনাকে) ফিরিয়ে আনতে হবে, তা না হলে বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে না। হাসিনা যে ধরনের নৃশংসতা করেছেন, তাকে এখানে সবার সামনে বিচার করতে হবে।’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলার সময় ড. ইউনূস ভারতের সাথে সুসম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। কিন্তু তিনি জোর দিয়ে বলেন, নয়াদিল্লিকে এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে যে শুধুমাত্র হাসিনার নেতৃত্বই বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে।




ফরিদপুরের সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলায় আসামী করা হলো পটুয়াখালীর সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন কে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় গত ৫ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ফরিদপুর সদর উপজেলার মো: সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারী (২৯)। এ ঘটনায় ২৯ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতে ফরিদপুরের সালথার খলিশাডুবি গ্রামের হাসিবুল হাসান লাবলু একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ আওয়ামীলীগের শতাধিক নেতাদের আসামী করা হয়েছে।

তবে এই মামলায় অনেকটা বায়োবিয় ভাবে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদকেও আসামী করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় ঢাকার বাইরে ফরিদপুরের মানুষদের বেশি আসামী করা হয়। আর ঢাকার মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার সদ্য সাবেক পৌর মেয়র আসামী হওয়ায় শহরে এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই মামলায় ১২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ৩০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মৎস্য মন্ত্রী আবদুর রহমান ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে আসামি করা হয়েছে। আর এই মামলার ১৩ নং আসামীর তালিকায় দেয়া হয়েছে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ এর নাম। মামলায় দাবী করা হয় ১নং থেকে ৭নং আসামীর নির্দেশে ৮নং থেকে ১২০নং আসামী এবং অজ্ঞাতনামা ২০০/৩০০ জন আসামী প্রানঘাতী আগ্নেয়স্ত্র এবং দেশীয় আস্ত্র সজ্জিত হয়ে ৫ আগষ্ট সকাল ১০ টায় শান্তিপূর্ন ছাত্র-জনতার মিছিলে আক্রমন করে এবং সেখান থেকে আজ্ঞাতন আসামীর ছোঁড়া গুলিতে সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, ঘটনা ঢাকার হলেও মামলায় ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলার ৫৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ফরিদপুর সদরের ২৩, নগরকান্দার ২৪, সালথার ৯, বোয়ালমারীর ২ ও আলফাডাঙ্গার ১ জন আছেন। তাঁদের কারও কারও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে মামলার নথিপত্র পাঠিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছেন বাদী।

মো. সিরাজুল ইসলাম ব্যাপারীর মৃত্যুর ঘটনার বিবরণ দিয়ে সিরাজুল ইসলামের পিতা শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই সময় জনতা বাড্ডা থানা আক্রমণ করে। পুলিশ গুলি করতে করতে থানা থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সিরাজুল। তার পকেট থেকে ফোন নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয়ে এক ব্যক্তি সিরাজুলের বড় ভাই শাহজাহানের ফোনে কল করে এবং মৃত্যুর খবর দেয়। পর দিন দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সিরাজুলের মরদেহ নিয়ে বিকেলে ফরিদপুরে নিয়ে আসা হয়। ওইদিন রাত ১০টার দিকে তাকে দাফন করা হয়।’ আর এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবী করেন।

মামলা দায়েরের বিষয়ে জানতে, মামলার বাদী হাসিবুল হাসান লাবলুর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয় পটুয়াখালী পৌরসভার সদ্য সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলক ভাবে পটুয়াখালী থেকে কোন ব্যক্তির ব্যক্তিগত রেশারেশির কারনে বাদীকে ব্যবহার করে অথবা বাদী আর্থিক সুবিধা নিতে এই ধরনের মামলায় আমাকে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ভাবে আসামী করা হতে পারে। ঘটনার যে তারিখ (৫ আগষ্ট) উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখে আমি পটুয়াখালীতে অবস্থান করেছি। যা নথিপত্র এবং পৌরসভার সিসিটিভি ফুটেজ, আমার মোবাইলের লোকেশন পর্যালোচনা করলে দেখতে পাবেন।’




মির্জাগঞ্জে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জাল পুরিয়ে ধ্বংস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশীয় প্রজাতির মৎস সম্পদ রক্ষায় এবং মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণের লক্ষে মির্জাগঞ্জ অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকার অবৈধ জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার কাকড়াবুনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন খাল, বিল ও উন্মুক্ত জলাশয়ে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ জাল জব্দ করে পুরিয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তরিকুল ইসলাম।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতাসহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

এসময় দেশীয় মাছের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ ৮ টি চায়না দুয়ারী জাল, ২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৫ হাজার মিটার বেহেন্দি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। অভিযানে উপজেলা মৎস অফিস এবং মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম সহায়তা প্রদান করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে এবং দেশীয় প্রজাতির মৎস সম্পদ রক্ষায় মোবাইল কোর্ট/অভিযান অব্যাহত থাকবে।




আব্দুল্লাহ আল মামুন ও শহীদুল হক গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এ কে এম শহীদুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি  নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেজাউল করিম মল্লিক  বলেন, সাবেক দুই আইজিপিকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে বুধবার ডিএমপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।

পরে রাত ১টার দিকে ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো খুদে বার্তায় বলা হয়, শহীদুল হককে উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন সেনা হেফাজতে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তিনি সেনা হেফাজতে থাকা অবস্থায় আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রাতে তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ওই সরকার আমলে আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সরকার পতনের পরদিন তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়।

অন্যদিকে শহীদুল হক ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আইজিপি হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি অবসরে যান।

 




অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। যারা পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার, স্থগিতকৃত কিন্তু জমা দেওয়া হয়নি— এমন অস্ত্র জব্দ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ এর কারবারি ও ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে গণ-আন্দোলনে রূপ নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অস্ত্র যাদের হাতে দেখা গেছে, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনী ও নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করেছেন এবং অস্ত্র মামলার আসামিদের ধরা হবে।




ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গ্রেফতারের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।

তিনি জানান, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১।

এর আগে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার গুলশানের অফিস ঘিরে রাখে র‍্যাব সদস্যরা। এরপর ওই অফিসে অভিযান শুরু করেন র‍্যাব কর্মকর্তারা। অভিযানটি এখনো চলমান রয়েছে।




বাউফলে সাবেক এমপি আসম ফিরোজের আত্মীয় পরিচয়ে জমি দখল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামে মো. সোহাগ মৃধা (৩০) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় এমপি’র ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে অণ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ জমি দখল করে নেয়াসহ জমির ধান ও গাছ কেটে নেওয়া অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সোহাগ মৃধা। জমির প্রকৃত মালিক প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণ নাশের হুমকিও দেয় কথিত এমপির আত্মীয় সোহাগ।

এঘটনায় সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মনিরুল ইসলাম বাদি হয়ে বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, কাছিপাড়া ইউনিয়নের দরিয়াবাদ গ্রামের মৃত আলী আকবরের ওয়ারিশরা যত্রকান্দা মৌজায় ৫৫,৫৬,৫৭ ও ২৭৪ নম্বর খতিয়ানের একাধিক দাগে ৪৫০ শতাংশ ও কারখানা মৌজায় ২০ নম্বর খতিয়ানের একাধিক দাগে প্রায় ৫০০ শতাংশ জমির মালিক। যা তারা ভোগ করে আসছেন। একই এলাকার সোহাগ মৃধা আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার প্রভাব ঘাটিয়ে দরিয়াবাদ গ্রামে তাদের প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ধান কেটে নেয়।

একই সাথে মাছের ঘের দখল ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালাও কেটে নেন। তখণ বাঁধা দিতে আসলে সোহাগ এমপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাদের প্রাণ নাশের হুমকি দেয়।

আরো পড়ুন : বাউফলে বিএনপি নেতা গাজী গিয়াসের সাংবাদিক সম্মেলন

মনিরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী জানান, আমরা পৈত্রিক সূত্রে জমির প্রকৃত মালিক। সোহাগ মৃধার আমাদের কোনো ওয়ারিশ নয়। তিনি সাবেক এমপি আসম ফিরোজের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে আমাদের প্রায় ৫০ শতক জমি দখলে নিয়ে প্রায় শতাধিক মণ ধান ও লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায়। এবং আমাদের মাছের ঘের দখলে নেয়।

আরেক ভুক্তভোগী মামুন বলেন, আমার পৈত্রিক জমিতে প্রায় ২৪ বছর আগে গাছ লাগাই। সেই গাছ গত বছর সোহাগ মৃধা কেটে নিয়ে যায়। এবং আমাদের জমির ধানও কেটে নিয়ে যান তিনি।সাবেক এমপির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তিনি এমন অপকর্ম করেছেন। যার কারণে আমরা কোথাও ন্যায্য বিচার পাইনি।

এবিষয়ে জানতে সোহাগ মৃধার বাড়িতে যাওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে তার স্ত্রী শিরিন আক্তার চায়না বলেন,আমরা অভিযুক্ত জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক। সাবেক এমপি আসম ফিরোজ আমাদের কোন আত্মিয় না। আমরা এলাকার নিরিহ মানুষ। প্রভাব বিস্তারের কথা সত্যি নয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার শোনিত কুমার গায়েন বলেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




কুয়াকাটায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মো. মানিক মিয়া নামের এক আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে কুয়াকাটা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের অবস্থিত দোতলা বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র, পিস্তল, চাপাতিসহ নানা সরঞ্জামাদি নিয়ে হানা দেয় ডাকাতদল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির মালিক মানিক মিয়া, তার স্ত্রী ও কন্যা নিয়ে দুইটি রুমে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমিয়ে ছিল। এর কিচ্ছুক্ষণ পরেই ডাকাতদল বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁদের হাত পা ও চোখ বেঁধে রাখে এবং মানিক মিয়াকে বেধড়ক মারধর করে। প্রায় দেড় ঘন্টার যাবৎ তছনছ করে বাড়িতে থাকা প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ন ও ৪৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়। তবে ৮-১০ জনের সবাই মুখোশ পড়া অবস্থায় থাকা কাউকে চিনতে পারেনি তাঁরা।

ভুক্তভোগী মো. মানিক মিয়া জানান, আমরা ঘুমানোর পরে অর্থাৎ আনুমানিক রাত ২টার দিকে হঠাৎ দরজা ভাঙার বিকট শব্দ পাই, চোখ খুলেই দেখি সামনে ৮-১০ মুখোশ পর ডাকাত। তখনই আমি চিৎকার করি। সাথে সাথে আমার মুখ বেধে বেধড়ক মারধর করলে আমার ডান হাত ফেটে যায়। এরপরে আমার চোখ, হাত-পা বেধে ফেলে রেখে। পরে আমার স্ত্রীকে টেনে আমার মেয়ের রুমে নিয়ে যায়। আমাকে বারবার মার দিতেছে আর বলতেছে টাকা আর স্বর্ন কোথায়। পরে আমি দেখিয়ে দিলে তাঁরা ভেঙে সব নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমল কৃষ্ণ মল্লিক জানান, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই পরে আমরা উর্ধতন টিম এখানে এসেছি। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে আমরা সব ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করবো এবং এটা নিয়ে মামলা হবে মামলার পরে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।