শেখ হাসিনা চাইলে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দিতে পারেন

 

আসামিপক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি আসামিপক্ষ তাদের বেস্ট ডিফেন্স দেওয়ার জন্য আইনজীবী চান—সেটি দেশি হোক, বিদেশি হোক আমাদের পক্ষ থেকে আপত্তি থাকার কোনো কারণ নেই।…তারা যে ধরনের আইনজীবী চান, সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হলে আমাদের পক্ষ থেকে আপত্তি থাকবে না। যাতে কোনো আসামি না বলতে পারেন যে বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তার এই সমস্যা ছিল, ওই সমস্যা ছিল, যে কারণে তিনি ন্যায়বিচার পাননি। এটা যাতে বলতে না পারেন, সে বিষয়ে সরকারও সচেতন আছে, প্রসিকিউশন টিম হিসেবে আমরাও সচেতন আছি। মনে করি বিচার শেষ হওয়ার পরে আসামিপক্ষ এবং বাদীপক্ষ, দুই পক্ষই যে বলে এখানে সুবিচার হয়েছে। কারও প্রতি কোনো অন্যায় করা হবে না, কিন্তু কোনো অপরাধে ছাড়ও কাউকে দেওয়া হবে না—এটা আমাদের পরিষ্কার বার্তা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যা যা করার দরকার, তাই করা হবে।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো গোপনীয়তা নেই যে রায় নিজেদের মতো করে বানিয়ে দিতে হবে, মিথ্যা কথা বলে তদন্ত সাজাতে হবে—প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকাংশ এই ঘটনাগুলোর লাইভ উইটনেস। বাংলাদেশের সবার চোখের সামনে অপরাধ ঘটেছে, যা ঘটেছে, যাদের চোখের সামনে ঘটেছে, প্রত্যেকে এসে সাক্ষী দেবেন, তাতে বিচারের রায় যা হওয়ার তা হবে। আমরা কাউকে কোনো অধিকার বঞ্চিত করতে চাই না। সম্পূর্ণ ফেয়ার ট্রায়াল নিশ্চিত করার জন্য প্রসিকিউশন কাজ করবে।’

এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনে আহত–নিহতের তালিকা, চিকিৎসা ও দাফনের বিষয়ে তথ্যাদি চেয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও সরকারি–বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘মূলত তদন্তের সূচনালগ্নে প্রাথমিক যে বিষয়গুলো দরকার, সেগুলো আমরা সংগ্রহ করার জন্য চিঠি দিয়েছি। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক তদন্তের যে যাত্রা সেটি আমরা শুরু করেছি।’

জুলাই–আগস্ট বিপ্লব নিয়ে ক্যামেরায় ধারণ করা ডকুমেন্ট ও প্রতিবেদনের অনুলিপি সরবরাহ করার জন্য সব মিডিয়া হাউসের (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া) প্রশাসনে যারা আছেন, তাদের কাছে চিঠি পাঠানোর কথাও জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

সম্মিলিতভাবে তদন্ত সংস্থাকে সহায়তা করার জন্য সমন্বয়ক ও ছাত্রনেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিগগিরই ছাত্রনেতাদের বা সমন্বয়কদের আমাদের এখানে আসার আহ্বান জানাব। তাদের কাছে যেসব তথ্য–প্রমাণ আছে, এগুলো সংগ্রহের ব্যাপারে তারা কীভাবে সহযোগিতা করবে, সে বিষয়গুলো নির্ধারণের জন্য তাদের এখানে আমন্ত্রণ




বাউফলে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় পটুয়াখালীর বাউফলে মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভরিপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমানের জমি অন্যায় ভাবে জবর দখল করতে চায় একই এলাকার আজম খান গংরা। বিরোধপূর্ন ওই জমি নিয়ে একাধিকবার শালিশ ফয়সালা করে দেন বাউফল থানার অফিসার ইন চার্জ ওসি। কিন্তু তারপরও আজম খান গংরা তা মানছেন না। ঢাকা থেকে বাড়ি আসা ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানকে সোমবার বাড়ির কাছে পেয়ে আজম খান ও তাঁর ১২/১৩জন সাঙ্গপাঙ্গ কুপিয়ে ও পিটিয়ে মোস্তাফিজুরকে আহত করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এবং মোস্তাফিজের বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল স্বাস্থ কমপ্লেক্সে এসে ভর্তি করে।

এ ব্যাপারে আজম খানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁকে পাওয়া যায় নি।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান,তিনি এ ঘটনায় ন্যায় বিচার দাবি করে মামলা করবেন।




কলাপাড়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৩

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ নারীসহ ৩ জন গুরুত্বর আহত ও জখম হয়েছে।

আহতরা হলেন- মো. মন্নান খাঁন (৫০), তার ছেলে মো. কাওছার খাঁন (২৫) ও স্ত্রী মাজেদা বেগম (৩৮)।

মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। গুরুত্বর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করেন।

আহত মন্নান খাঁন ওই গ্রামের মৃত্যু কাঞ্চন আলী খাঁনের ছেলে।

আহতরা জানান, তারা উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। বিরোধীয় জমি তারা মালিক পক্ষের নিকট থেকে ইজা নিয়েছে। সেই জমি ভোগদখল ও চাষাবাদ করতে গেলে স্থানীয় রশিদ মৃধা, তার ছেলে রাকিব মৃধা, ভাই নাসির মৃধা ও ভাতিজা ইমরান মৃধাসহ ৮/১০ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা গুরুত্বর আহত ও জখম হয়। পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসার সময় পথিমধ্যে তাদের বাধাগ্রস্থ করা হয়। এসময় আহত মন্নান খাঁনের পকেট থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা হাসপাতালে আসেন বলে অভিযোগ করেন আহতরা।

এবিষয়ে অভিযুক্ত এমরান মৃধার মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা নিজেরাই মারামারি করেছে। তাদের অস্ত্রের আঘাতে তারা আহত হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হবে বলেও তিনি জানান।

কলাপাড়া অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, এবিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী গ্রেপ্তার 




রাঙ্গাবালীতে আ.লীগের ১৬৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১৬৯ জন নেতাকর্মীর নামে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে ১৫০-১৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় পঙ্গু হওয়া উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বশির ফকির বাদী হয়ে রোববার রাঙ্গাবালী থানায় এ মামলা করেন।

আওয়ামী লীগের আমলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, লুটপাট, দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে এ মামলা করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য অপসারিত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মু. সাইদুজ্জামান মামুন খানকে প্রধান আসামি করা হয়।

এছাড়া এ মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি একে সামসুদ্দিন আবু মিয়া, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির তালুকদার, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মাহাথির মোহাম্মদ রেশাদ মল্লিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন শোভন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এস আলম, উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান শিবলী, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ওয়াহিদ খান রাজ, পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদুল কবির প্রিতম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক জামিল প্যাদা, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান শিমুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওয়ালিদ তালুকদারের নাম রয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা বিএনপির সভা-সমাবেশে বাধা এবং নেতাকর্মীদের গুম-হত্যা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় আসামিরা ক্ষমতার দাপটে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ধানের শীষের সমর্থনে উপজেলার নিজ হাওলা গ্রামে (খালগোড়া বাজার) জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে পূর্বঘোষিত পথসভা শুরু হলে হামলা চালায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। দেশিয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সাইদুজ্জামান মামুন খানের (উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) নেতৃত্বে ককটেল বিস্ফোরণ করে সভামঞ্চ এবং চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। সেদিন বিএনপির শত শত নেতাকর্মীকে পিটিয়ে-কুপিয়ে জখম করে আসামিরা।

এজাহারে বাদীর অভিযোগ, এ হামলার সময় প্রধান আসামি মামুন খানের নির্দেশে দুই নম্বর আসামি মাহাথির রেশাদের (উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক) হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেনের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে তাকে রক্ষায় এগিয়ে আসে মামলার বাদী বশির ফকির। তখন কোপটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে বশিরের ডান পায়ের পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বশির থানায় এসে মামলা করতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে তখন মামলা নেওয়া হয়নি।

সোমবার বিকালে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এখন পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল




কলাপাড়ায় ভিজিএফের ১৩৯ বস্তা চাল চুরির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এবার ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের গোডাউন থেকে মৎস্য ভিজিএফের ১৩৯ বস্তা চাল চুরি ঘটনা ঘটেছে । প্রত্যেকটি বস্তায় ৩০ কেজি করে চাল ছিল।

জানা যায় শনিবার দিবাগত রাতের যে কোনো সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এ পরিমাণ চাল নিয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইউনিয়নের ১৭৪৮ কার্ডধারী জেলেদের দ্বিতীয় কিস্তির চাল শনিবার থেকে বিতরণ শুরু হয়। চারটি ওয়ার্ডের চাল বিতরণ করা হয় ওই দিন। বাকি পাঁচ ওয়ার্ডের চাল রোববার বিতরণ করতে গিয়ে দেখা যায় গোডাউনের তালা নেই। দরজা খোলা পাওয়া যায়। দেখা যায় চালের ঘাটতি রয়েছে। পরে গণনা শেষে ১৩৯ বস্তা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে।

এর আগে টিয়াখালী ইউনিয়নে ২২ বস্তা ভিজিডির চাল লুট করেন এক মহিলা মেম্বার। মিঠাগঞ্জে প্রকৃত বহু কার্ডধারী জেলের ভাগ্যে ভিজিএফের চাল জোটেনি।

কলাপাড়ায় ভিজিএফ ও ভিজিডির চাল বিতরণের অনিয়মের গল্পের যেন শেষ নেই।




পুলিশ সংস্কারে প্রাথমিক কমিটি শিগগিরই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা




জুলাই গণহত্যায় শেখ হাসিনার বিচার সরাসরি সম্প্রচার করা হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঘিরে জুলাই মাসে সংগঠিত গণহত্যায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিচার স্বচ্ছতার জন্য সব করবে সরকার।

এর আগে রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের অপরাধী বিনিময় চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা অধিকাংশ মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণহত্যার এভিডেন্স (প্রমাণ) নষ্ট হওয়ার আগেই সংরক্ষণ করা বড় চ্যালেঞ্জ। দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, আলামত নষ্ট হওয়ার আগেই যার কাছে গণহত্যা, নির্যাতনের যে এভিডেন্স আছে আপনারা ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে বা তদন্ত সংস্থার কাছে জমা দিন।

তিনি বলেন, তদন্তকালে আসামিদের গ্রেপ্তারের আবেদন করবে প্রসিকিউটর টিম। আগে ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করলেও বর্তমানে রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াইয়ে কোনো আইনগত জটিলতা নেই। দ্রুত ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাব নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনাসহ যত প্রভাবশালী আসামিই হোক না কেন সবার সঙ্গে সমান আচরণ করা হবে। কারো প্রতি যেমন জুলুম করা হবে না, তেমনি কাউকে ছাড়ও দেওয়া হবে না।




রাজাকার খুঁজে বার করার ভার পেলেন তাঁদেরই আইনজীবী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হত্যা-গণহত্যায় অভিযুক্ত রাজাকারদের কৌঁসুলির হাতেই এ বার রাজাকারদের খুঁজে বার করে বিচারের ভার দিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব ইউনূস সরকারের উপরে কতটা, এই ঘটনায় ফের তা সামনে এল।

একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জনপ্রিয় দাবি ছিল, স্বাধীনতার বিরোধিতা করা জামায়াতে ইসলামীর যে সব নেতা সেই সময়ে রাজাকার, আল বদর, আল শামস নামে সংগঠন গড়ে মুক্তিযোদ্ধাদের গণহত্যা ও নির্যাতন চালাত, তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা। এ নিয়ে বারে বারে সাংস্কৃতিক ও গণআন্দোলন হয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৯-এক্ষমতায় আসার পরে শেখ হাসিনা এই কাজের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত গঠন করেন। এক ঝাঁক রাজাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের পরে দণ্ড কার্যকরকরে সরকার। এই রাজাকারের অধিকাংশই জামায়াতের নেতা ছিলেন। বিএনপির এক শীর্ষ নেতা এবং আওয়ামী লীগের এক নেতারও রাজাকার হিসাবে বিচার হয়েছে যুদ্ধাপরাধ আদালতে। চিফ প্রসিকিউটরদের নেতৃত্বে অন্যান্য প্রসিকিউটররা এ জন্য খুবই পরিশ্রম করে প্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন, যাতে অপরাধের শাস্তির হাত থেকে কেউ রক্ষা পেতে না পারে ন।

গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পরে যুদ্ধাপরাধ আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।শনিবার রাতে সেই আদালতের চিফ প্রসিকিউটর নিযুক্ত করা হয়েছেসুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীমোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে। তাজুল যে শুধু জামায়াত ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত তাই নয়, যে সমস্ত রাজাকারকে এ পর্যন্ত এই আদালতে বিচার করা হয়েছে, প্রায় সকলেরই আইনজীবী ছিলেন তিনি। শুনানির পরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলতেন তাজুলই। নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করার পরে এই দলের কিছু নেতা এবি (আমার বাংলাদেশ) পার্টি নামেএকটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। তাজুল ছিলেন এই দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। চিফ প্রসিকিউটর হওয়ার পরে তিনি এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁর নিয়োগে যুদ্ধাপরাধ আদালত নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবীর বক্তব্য— রাজাকারদের অন্যতম প্রধান আইনজীবীকেই রাজাকার খুঁজে বার করার দায়িত্ব দিলেন ইউনূস সরকার! এর চেয়ে হাস্যকরকী হতে পারে?

শনিবার রাতে রাজশাহিতে প্রতিবন্ধী এক যুবক আবদুল্লা আল মাসুদকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মাসুদ রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র লীগের প্রাক্তন নেতা ছিলেন। ২০১৪-য় জামায়াতে ইসলামীর শাখা ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মীরা খুনের উদ্দেশ্যে মাসুদকে প্রচণ্ড মারধর করে হাত ও পায়ের ধমনী কেটে দেয়। তাঁরএকটি পায়ের পাতাও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কোনও ক্রমে প্রাণে বাঁচলেও নিদারুণ অর্থসঙ্কটে ছিলেন নিম্নবিত্ত পরিবারের মাসুদ। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখার পরে শেখ হাসিনার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাকরি দেওয়া হয় মাসুদকে। তিন দিন আগে মাসুদের একটি মেয়ে হয়েছে। শনিবার তাঁকেখুনের জন্যও ছাত্র শিবিরকেই দায়ী করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাবেক শাসক দলের কর্মী হওয়ার ‘অপরাধে’ মাসুদের এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কোটা-বিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এ দিন জাতীয় নাগরিক কমিটিনামে নতুন একটি সংগঠনেরঘোষণা করেছে। এই সংগঠন রাজনৈতিক দল কি না, সেটি স্পষ্ট ভাবে বলতে পারেননি নতুননেতারা। দিন কয়েক আগেরাজনৈতিক দল গঠন করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কোটা-বিরোধী আন্দোলনের নেতারা।