দুমকিতে অবৈধ কারেন্ট জাল বিক্রির সময় দু’জন আটক, এক মাসের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় অবৈধ কারেন্ট জাল ক্রয়-বিক্রয়ের সময় দু’জনকে হাতেনাতে আটক করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও থানা পুলিশ। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন — কাইয়ুম ফরাজী (৩০), পিতা খলিল ফরাজী, এবং মনির খান (৪০), পিতা হাকিম খান। স্থানীয়দের দেওয়া সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের যৌথ দল অভিযান চালিয়ে অবৈধ কারেন্ট জালসহ তাদের আটক করে।

পরে আটক দুজনকে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ‘মৎস্য সংরক্ষণ আইন ১৯৫০’-এর আওতায় তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে নদী ও বাজার এলাকায় নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ জাল ব্যবহার বা বিক্রির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মৎস্য বিভাগের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের চার সদস্য আটক

পটুয়াখালী সদর থানার পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চার কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করেছে। শুক্রবার রাতের এ অভিযানে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল বলে জানা গেছে।

আটককৃতরা হলো— তালহা মৃধা (২০), মো. আল কাইয়ুম রিফাত (২১), মো. নাজমুল হাসান (১৯) এবং মো. সিয়াম সিকদার ওরফে আকাশ (১৯)। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে লোকজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, এ গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। তাদের কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ বলেন, “কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে আমরা শূন্য সহনশীল নীতি অবলম্বন করেছি। শহরের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পটুয়াখালী শহরের স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এমন অভিযান নিয়মিত চালানো হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।”

শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিয়ের আগের রাতে তরুণের ঝুলন্ত মরদেহে স্তব্ধ দশমিনা

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় বিয়ের আগের রাতে মো. শুভ দ্বীন ইসলাম (২৬) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মীর মদন গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শুভ ওই গ্রামের প্রবাসী নুরুল ইসলামের ছেলে। শুক্রবার বাদ আসর তাঁর বিয়ের দিন ধার্য ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের প্রস্তুতি ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে শুভ ছিলেন ভীষণ ব্যস্ত। বাড়ির সাজসজ্জা থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়নের নানা আয়োজন তিনিই তত্ত্বাবধান করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে ছিল উৎসবের আমেজ। নাচ-গান আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে বাড়ির আঙিনা, সেখানে শুভও অংশ নিয়েছিলেন। তবে কিছুক্ষণ পর হঠাৎই তিনি নিজের চায়ের দোকানের দিকে চলে যান। দীর্ঘ সময়েও ফেরত না আসায় পরিবারের সদস্যরা খুঁজতে গিয়ে দোকানের আড়ার সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান।

চিৎকার শুনে আত্মীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শুভর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর গলায় দড়ির স্পষ্ট চিহ্ন ছিল।

শুভর দাদা আবদুর রব হাওলাদার জানান, “বিয়ের ব্যাপারে শুভর কোনো আপত্তি ছিল না। বরং সে-ই সব আয়োজন করছিল। হঠাৎ করে কেন এমন করল, আমরা কেউই বুঝতে পারছি না।” শুভর মামাতো ভাই মো. রাবিনও একই কথা বলেন, তিনি জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত শুভ হাসি-আনন্দে সবার সঙ্গে মেতে ছিলেন।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

ঘটনার পর পুরো গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আনন্দঘন বিয়ের আয়োজন এক মুহূর্তে পরিণত হয়েছে বিষাদে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বাউফলে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গাজীপুরে গ্রেফতার

পটুয়াখালীর বাউফলে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক প্রধান আসামি গোবিন্দ ঘরামীকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানার মৌলাইদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালীর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ।

গ্রেফতারকৃত গোবিন্দ ঘরামী (৩৫) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার গোসিংগা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি রঙ্গেশ্বর ঘরামীর ছেলে।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চলতি বছরের ২১ মার্চ প্রতিপক্ষরা মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় মো. শাহ আলম রাঢ়ীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২২, তারিখ: ২৩/০৩/২০২৫ ইং)। প্রথমে মামলায় বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হলেও পরে শাহ আলম রাঢ়ীর মৃত্যু হলে এতে হত্যা ধারা (৩০২) সংযোজিত হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


 




বরিশালে তরমুজ খেত নিয়ে বিরোধ, যুবককে ‘ডেকে নিয়ে’ পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সোহেল খান (৩৫) নামের এক যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকালে উপজেলার চর কবাই এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করেছে।

নিহত সোহেল ওই এলাকার নুর ইসলাম খানের ছেলে। তার স্ত্রী সাজেদা বেগম জানান, কয়েক দিন আগে স্থানীয় শাহিন হাওলাদার, তাঁর ভাই ফিরোজ হাওলাদারসহ কয়েকজন সোহেলের কাছে তরমুজ চাষের জন্য জমি চেয়েছিলেন। সোহেল তা না দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে তাঁকে রাতে ফোন করে ডেকে আনা হয়। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মসজিদের মাইকে মাইকিং করে তাকে ডাকাত বলে প্রচার করা হয়।

নিহতের মেয়ে ফাতেমা আক্তার বলেন, “আমার বাবার কী দোষ ছিল? বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ডাকাতির অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মেরেছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।” সোহেলের মা নিলুফা বেগমও দাবি করেন, “আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি তার ন্যায়বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শনিবার রাতে মসজিদের মাইকে সোহেলকে ডাকাত হিসেবে প্রচার করা হয়। পরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নিহত হওয়ার পর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ওসি আরও জানান, তরমুজ খেত নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে হত্যার অভিযোগ তুলেছে পরিবারের পক্ষ। তবে নিহত সোহেলের বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে, যা জামিনে ছিল।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

বরগুনার পাথরঘাটায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে হানিফ মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।

মৃত নারী কৈতুরী পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাড়াবাড়িয়া গ্রামের মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মেয়ে। অভিযুক্ত হানিফ কালমেঘা ইউনিয়নের কালীবাড়ী এলাকার চান মিয়ার ছেলে এবং পেশায় এক চা বিক্রেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে কৈতুরী ও হানিফের পরিচয় ঘটে এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ে হয়। প্রথম দিকে সংসার ভালোই চললেও কন্যাসন্তানের জন্মের পর হানিফ অনলাইন জুয়ার নেশায় ডুবে যান। টাকার জন্য তিনি স্ত্রীর কাছে নিয়মিত যৌতুক দাবি করতেন। পরিবার থেকে সাড়া না পেলে কৈতুরীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন তিনি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতেও একই কারণে নির্যাতনের শিকার হন কৈতুরী। এক প্রতিবেশী সেই দৃশ্য গোপনে মোবাইলে ধারণ করেন, যেখানে দেখা যায় হানিফ স্ত্রীকে অমানবিকভাবে মারধর করছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা কৈতুরীকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই হানিফ পালিয়ে যায়।

পরে জানা যায়, হানিফ এর আগে আরও সাতবার বিয়ে করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওসি মেহেদী হাসান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হানিফকে খাগড়াছড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে দ্রুত আদালতে হাজির করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিচার সংস্কারের রোডম্যাপ এখন বাস্তবে: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ সংস্কারের ঘোষিত রোডম্যাপ এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এর ফলে আদালতের কার্যপ্রণালী, জনগণের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।

বৃহস্পতিবার বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে সুপ্রিম কোর্ট ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) যৌথভাবে আয়োজিত “জুডিশিয়াল ইনডিপেনডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছিল, তার বাস্তবায়নের মাধ্যমে আদালতের সংস্কৃতি নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল অর্ডিন্যান্স-২০২৫’ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিচারপতি নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের ভিত্তি প্রায় সম্পূর্ণ, যা বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে। দীর্ঘদিন স্থবির থাকা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় বিচারপতিদের শৃঙ্খলা ও অপসারণ প্রক্রিয়া সাংবিধানিকভাবে পুনঃস্থাপন হয়েছে।

বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার্থে সুপ্রিম কোর্টসহ বিভাগীয় শহর ও ৬৪ জেলায় হেল্পলাইন সার্ভিস চালু করা হয়েছে। দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার পৃথকীকরণ এবং জেলা পর্যায়ে ২৩২টি নতুন বিচারিক পদ সৃষ্টির মাধ্যমে মামলা জট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ ২০২৫ খসড়া আকারে তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়া ও দক্ষ বিচারকদের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।

সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হকোন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সেমিনারে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সরকারি কৌসুলি, পাবলিক প্রসিকিউটর এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাড্ডায় মাসুদ হত্যা মামলায় পটুয়াখালীর সাবেক মেয়র মহিউদ্দিনের রিমান্ড

রাজধানীর বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় নিহত হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান হত্যা মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসার সামনে থেকে মহিউদ্দিন আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ জুলাই বাড্ডা থানাধীন লিংক রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় আসামিদের গুলিতে মারাত্মকভাবে আহত হন হাফেজ মাসুদুর রহমান। গুরুতর অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার কয়েক মাস পর গত বছরের ৯ নভেম্বর নিহত মাসুদের পরিবার বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট তদন্ত করছে।

এই মামলায় সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদের রিমান্ডে নেওয়ায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসিনার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার বিস্ফোরক সাক্ষ্য

বাংলাদেশের ইতিহাসে আলোচিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে প্রসিকিউশন দাবি করেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সেতুভবন, বিটিভি ভবন ও মেট্রোরেলে অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দেন এবং পরবর্তীতে সেই দায় চাপিয়ে দেন আন্দোলনকারীদের ওপর।

প্রসিকিউশন আদালতকে জানায়, সেতুভবনে আগুন দেওয়ার পর শেখ হাসিনা মন্তব্য করেছিলেন— “পোড়াইতে বলছি কী, আর আগুন দিছে কই!” এই বক্তব্যই প্রমাণ করে ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত এবং আন্দোলনকারীদের ওপর দোষ চাপানো ছিল একটি কৌশল।

এদিন মামলার ৫১তম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির হন বিশেষ অনুসন্ধান কর্মকর্তা। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে এই সাক্ষ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা সাহেদ জুবায়ের লরেন্স। তিনি আদালতে উপস্থাপিত জব্দ করা অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত করেন যে, কণ্ঠস্বরটি শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর। এই ফরেনসিক বিশ্লেষণ মামলার প্রমাণকে আরও জোরালো করেছে।

একই দিনে ডিএমপির ওয়্যারলেস অপারেটর কামরুল হাসান আদালতে বলেন, গত বছরের ১৭ জুলাই ঢাকার তৎকালীন পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান নির্দেশ দিয়েছিলেন আন্দোলন দমন করতে ডিএমপির সকল সদস্যকে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগ ও প্রয়োজনে গুলি চালাতে। তার বক্তব্যে আন্দোলন দমনের সময় পুলিশি ভূমিকার কড়া সমালোচনা উঠে আসে।

পরে সিজার লিস্ট থেকে আরেক সাক্ষী মামলার জব্দ তালিকা আদালতের সামনে উপস্থাপন করেন। এতে অডিও ক্লিপ, ওয়্যারলেস বার্তা এবং বিভিন্ন নথি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব প্রমাণ আদালতে চলমান মামলার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিচ্ছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, এই মামলার মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে আন্দোলনের নামে ঘটে যাওয়া অগ্নিসংযোগ, সহিংসতা ও দমননীতির নেপথ্যে কীভাবে শীর্ষ পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব জড়িত ছিল। আগামী দিনের সাক্ষ্য ও যুক্তি-তর্কে মামলার চূড়ান্ত চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লামিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে সহপাঠীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়া হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা। সোমবার দুপুর বারোটার দিকে ছোট বালিয়াতলী ইউনিয়নের শিশুপল্লী একাডেমী প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিশুপল্লী একাডেমীর শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে নামবেন। এ সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আয়শা, সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হিমা, রাসেল ও সজিব বক্তব্য দেন। বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঘুরে এলাকায় গিয়ে শেষ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা লামিয়ার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে নানা স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন শিশুপল্লী একাডেমীর ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লামিয়াকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ নিজ বাড়ির চর বালিয়াতলী গ্রামের চাম্বলগাছে ঝুলিয়ে রাখে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর পুলিশ তাইফুর, জয়নাল, সুজন ও হাসান নামের চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম