সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম কারাগারে

বরিশাল অফিস : : বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাংচুর, লুটের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীমকে।

সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিনভর নানা নাটকীয়তা শেষে সন্ধ্যার পর শামীমকে বরিশাল জ্যেষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

আদালতে তার পক্ষে শতাধিক আইনজীবী জামিনের প্রার্থনা করে আবেদন জমা দেন।

তবে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুরুল আমিন তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের জিআরও এনামুল হক।

জিআরও এনামুল হক বলেন, সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামীমকে এজলাসে হাজির করা হয়। সেখানে ২০ মিনিটের মতো সময় তাকে রাখা হয়। তার জামিন চেয়ে করার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কিনা এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

শামীমের পক্ষের আইনজীবী বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অ‌্যাডভোকেট আফজালুল করিম ও অ‌্যাডভোকেট লস্কর নুরুল হক বলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রীর জামিন আবেদনে শতাধিক আইনজীবী স্বাক্ষর করেছি। তাকে জামিন না দিলেও কারাগারে যেন ডিভিশন দেওয়া হয় সেই আবেদনও করা হয়েছে।

জিআরও বলেন, ডিভিশনের বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখবে। তারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

বরিশাল-৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনয়নে দুই বারের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমকে গত রোববার রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১।

গত ৪ আগস্ট বরিশাল নগরীর সদর রোডে জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি তিনি। ওই মামলার বাদী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান ফারুক।




পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ইয়ামিনের মরদেহ ফেলার দৃশ্য ভাইরাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন। খবর বাসস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তখন নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। জোহরের নামাজ পড়ে বের হয়ে বাসায় ফিরছিলেন ইয়ামিন। ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে উঠায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিথর দেহ পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। আর এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনা দেখে দেশের মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যায়। পুলিশের বর্বর নির্মমতার শিকার গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ইয়ামিনের বাবা-মা বর্তমানে সাভার ব্যাংক টাউনে বসবাস করলেও তাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী।

মহিউদ্দিন ও নাসরিন সুলতানা দম্পতির একমাত্র ছেলে ইয়ামিন। অত্যন্ত মেধাবী শান্তশিষ্ট ছিল ইয়ামিন। এমআইএসটির হলে থেকেই পড়াশোনা করত ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুলাই তার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় আবাসিক হলও। ১৭ জুলাই সাভার নিজ বাসায় চলে যান ইয়ামিন। পরদিন স্থানীয় মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হন ইয়ামিন।

ইয়ামিনের মামা মো. আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিল ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় সাভার ব্যাংক টাউন এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হয় ইয়ামিন। ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে তুলে নেওয়ার পর নির্মম ও বর্বরোচিত কায়দায় নিচে ফেলে দেয়। ইয়ামিনকে ফেলে দেওয়ার সেই ভয়াবহ দৃশ্য গণমাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নির্মূলে এমন নিষ্ঠুরতম আচরণে দেশের ছাত্র-জনতা তখন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে।

তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্মম এই ঘটনার বিচার চেয়ে ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যায়নি। মরদেহ নিয়ে গ্রামেও যেতে দেয়নি পুলিশ।

পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি থেকে ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ দেহ রাস্তায় ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার মৃত্যুর কোনো সনদ না দিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়ামিনের মরদেহ হস্তান্তর করে। ঢাকা ও সাভার রেঞ্জের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের না করতে ভয়-ভীতি দেখান। সাভার তালবাগ পারিবারিক কবরস্থানে ইয়ামিনের মরদেহ দাফন করতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বাধা দেন। পরে শহীদ ইয়ামিনকে সাভার ব্যাংক টাউন কবরস্থানে দাফন করা হয়।




উত্তরায় সাবেক এমপি হাবিব হাসানের দুই গাড়ি জব্দ, কোটি টাকা উদ্ধার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাজধানীর উত্তরায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানের ছেলে আবির হাসান তামিমের শ্বশুরবাড়ি থেকে নগদ এক কোটি ১৬ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা, একটি ল্যান্ড ক্রুজার, একটি হ্যারিয়ার গাড়ি জব্দ করেছে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- শাহজাদা খান সাজ্জাদ, মো. তৌজিদুল ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলাম।

ঢাকা মেট্রোপিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম যৌথ অভিযান চালিয়ে এসব জব্দ ও তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা পুলিশকে জানায়, জব্দ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও গাড়ি দুটি সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য জানান।




দণ্ডিত আসামির সন্ধান দিলেই লাখ টাকা পুরস্কার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হওয়া ওষুধ ব্যবসায়ী জুলফিকারকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকে উল্লেখিত চল্লিশ লাখ টাকার সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গত রোববার পটুয়াখালী দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন। এদিকে অভিযুক্ত জুলফিকারকে ধরিয়ে বা সন্ধ্যান দিলে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. সোহরাব গাজী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হেমায়েত উদ্দিনের ছেলে জুলফিকার আলী পেশায় একজন ওষুধ ব্যবসায়ী। ব্যবসার পাশাপাশি লেবুখালী পাগলার মোড় এলাকায় একটি ওষুধের ফার্মেসি দোকানের সঙ্গে বিকাশের ব্যবসাও করতেন। ব্যবসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন বছর আগে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে সোনালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের চেক বন্ধক রেখে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা নেন। পাওনাদাররা তাদের টাকা চাইতে গেলে আজ দেবো-কাল দেবো বলে নানা অজুহাত দেখান। একপর্যায়ে কাউকে কিছু না বলে দোকান ও বসতঘরে তালা দিয়ে তিনি পালিয়ে যান।

লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সোহরাব গাজী বলেন, ব্যবসার কথা বলে সোনালী ও ইসলামী ব্যাংকের চেক জমা রেখে জুলফিকার আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৬ লাখ টাকা নেন। পরবর্তী সময়ে টাকা চাইতে গেলে নানান টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে শুনি তিনি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন।

আবুল বাশার গাজী নামের এক পাওনাদার জানান, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। একপর্যায়ে আমার টাকা না দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যান।

মাসুদ গাজী নামের অপর এক পাওনাদার বলেন, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় লাখ টাকা নেন জুলফিকার। হঠাৎ মানুষের কাছে শুনি তিনি পালিয়ে গেছেন। আরও অনেকের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন জুলফিকার। যদি কেউ তার সন্ধান দিতে পারেন তাহলে তার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা রয়েছে। তাকে দেখা মাত্রই দুমকি থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।




বরিশালে আওয়ামী লীগের ১০৯ নেতাকর্মীর নামে মামলা

বরিশাল অফিস ::বরিশালের মুলাদীতে বিএনপির সমাবেশে হামলা-ভাঙচুরের দুই বছর পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১০৯ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) বরিশালের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ওই মামলা করেন মুলাদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসিম সিকদার।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুমাইয়া রিজভী মৌরি নালিশি অভিযোগ এজাহার হিসেবে রুজু করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য মুলাদী থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস জানিয়েছেন।

মামলায় মুলাদী পৌরসভার ছাত্রলীগের সভাপতি তিলক খান, সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন, পৌর যুবলীগের সভাপতি মো. রাসেল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আহম্মেদ জুয়েল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেনসহ ৫৯ জন নামধারী ও ৪০ জন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।

বেঞ্চ সহকারী ফেরদৌস নালিশির বরাতে জানান, ২০২২ সালের ২৬ আগস্ট বিকেলে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা বাজারে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে উপজেলা বিএনপি সভার আয়োজন করে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের মারধর ও মঞ্চে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে অভিযোগের কপি ছিনিয়ে নিয়ে যায় নেতাকর্মীরা। পরে আদালতে মামলা করেছেন বাদী।




চট্টগ্রামে ‘গান গেয়ে উল্লাস করে’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা : ২০ সেকেন্ডের ভিডিওতে তোলপাড়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামে দলবদ্ধভাবে ‘গান গেয়ে গেয়ে, উল্লাস করে’ এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে।নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন দুই নম্বর গেট আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ‘মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা, কোন কারণে ভালোবাসার দাম ন দিলা’ গানটি গেয়ে যুবককে পেটানো হয়।

গত ১৩ আগস্ট রাতে এই ঘটনা ঘটলেও গতকাল (শনিবার) ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওটি ভাইরাল হলে চট্টগ্রামজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। হতভাগ্য ওই যুবকের নাম শাহাদাত হোসেন। ঘটনার পর দিন ১৪ আগস্ট ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরে প্রবর্তক মোড় থেকে লাশ উদ্ধারের পর তাকে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় শাহাদাতের চাচা মোহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।

খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গান গেয়ে গেয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ২০ সেকেন্ডের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি দেখে স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, এটি তার স্বামীকে মারারই দৃশ্য।

জানা গেছে, শাহাদাত হোসেনের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নে। তার বাবার নাম নুর মোহাম্মদ। নগরীর কোতোয়ালি থানাধীন বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে থাকতেন তিনি। চাকরি করতেন স্টেশন রোডে অবস্থিত ফলমন্ডির একটি দোকানে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৩ আগস্ট দুপুর দুইটার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে যান শাহাদাত। সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার স্ত্রীর শারমিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় শাহাদাতের। তখন কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় ফিরে আসবেন বলে স্ত্রীকে জানান। কিন্তু মধ্যরাত পর্যন্ত বাসায় ফেরেননি। এতে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তখন তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে নিহতের চাচা হারুন জানতে পারেন প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মিয়া (রহ.) মাজারের বিপরীতে সড়কের পাশে তার ভাতিজা শাহাদাত হোসেনের লাশ পড়ে আছে। ওই রাতেই পুলিশের সাহায্যে তিনি লাশটি উদ্ধার করেন। পরে লাশটি মর্গে পাঠানো হয়।ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়।

 




রাঙামাটিতে চলছে অবরোধ, মিলেমিশে থাকতে চায় পাহাড়ি-বাঙালি

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাঙামাটিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে অবরোধ ও ধর্মঘট। বন্ধ রয়েছে শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল। রাঙামাটি থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো দূরপাল্লার বাস, বন্ধ রয়েছে আন্তঃজেলা বাস চলাচলও। শহরের বাজার-শপিংমলগুলোও বন্ধ রয়েছে।

রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

শহর ঘুরে দেখা যায়, সড়কে যান চলাচল একেবারেই কম। খোলেনি কোনো দোকানপাট-শপিংমল। যারাই বের হয়েছেন ব্যক্তিগত প্রয়োজন কিংবা কাজের জন্য বের হয়েছেন। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে।

শহরের সবচেয়ে বড় বনরুপা বাজার বন্ধ থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ। কাঁচাবাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় কেনাবেচা করতে পারছেন না মানুষ।

ট্রাভেল আদাম এলাকার বাসিন্দা ইমন বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার থেকে রাঙামাটির পরিস্থিতি থমথমে। দোকানপাট না খোলায় আমরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে বেঁচে থাকা কষ্টের হয়ে যাবে।

শহরের রাজবাড়ি স’মিলের শ্রমিক আবদুল সোবাহান বলেন, আমরা কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। পাহাড়ি-বাঙালি মিলেমিশে থাকতে চাই। এই থমথমে পরিস্থিতির কারণে আমরা কাজে যেতে পারছি না।

সিএনজিচালক কাউসার জানান, আমদের উপার্জনের একমাত্র পথ সিএনজি। কিন্তু আজ তিনদিন হয়ে গেল গাড়ি বন্ধ, কবে থেকে শুরু হবে তাও জানি না। আমরা খুব কষ্টে আছি।

রাঙামাটি জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বাবু বলেন, উপদেষ্টাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমাদের দাবিগুলোর কথা জানিয়েছি। উপদেষ্টারা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত যানবাহন ও জানমালের পূর্ণ নিশ্চয়তা না পাব ততক্ষণ ধর্মঘট চলবে।

এদিকে অবরোধের কারণে সাজেকে আটকা পড়ে আছেন প্রায় ১৪০০ পর্যটক।

রাঙামাটি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মু. সাইফুল উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে রাঙামাটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তসাপেক্ষে মামলা ও গ্রেপ্তার করা হবে।




ট্রাইব্যুনালে যে প্রক্রিয়ায় এগোবে জুলাই গণহত্যার বিচার




কলাপাড়ায় ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারী গ্রেফতার

পটুয়খালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫৪ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদককারবারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

২১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার মহিপুর রাজা ফিলিং স্টেশন ৩৯ এর সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-মো. জাহিদ(৩৫), সোহেল ওরফে চুল সোহেল (৩২) ও শুক্কুর আলী (৩০)। এরা সবাই মহিপুর সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, তারা মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।




কলাপাড়া থেকে অপহরণ হওয়া শিশু বেনাপোল থেকে উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া থেকে অপহরণ হওয়া চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. কামরুজ্জামান (৯) বেনাপোল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বলিপাড়া গ্রামের সাইফুল ঘরামির ছেলে মো. কামরুজ্জামান।

ঘটনা সূত্রে জনাগেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে কামরুজ্জামান তার স্কুল মাঠে খেলতে গিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। উদ্ধারের পরে তার কাছ থেকে জানা যায় অপহরণকারীরা তাকে জোর করে ধরে অটোরিক্সায় নিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। পরে সে আর কিছু বলতে পারেনা। শুক্রবার সকাল ৯টার পরে বেনাপোল বন্দরের একজন স্থানীয় শিশুটিকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসা করলে সে তার ঠিকানা বলে। এসময় উদ্ধারকারী ব্যক্তি শিশুটিকে বেনাপোল বন্দর থানায় দিয়ে যায়। পরবর্তীতে শিশুটির পিতা কামরুজ্জামানের নাম্বারে ভিডিও কলে কথা বলে সিওর হয়। পরে পরিবারের লোকজন বেনাপোল বন্দর থানা থেকে শিশুটিকে নিয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি কলাপাড়ার শনিবার ভোরে এসে পৌঁছায়।

চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম আর্শ্বেদ জানান, মো. কামরুজ্জামান আমাদের বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী খেলতে গিয়ে অপহরণ হয়। পরে তাকে বেনাপোল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।