রাজধানীতে গ্রেপ্তার পটুয়াখালীর ছাত্রলীগ নেতা মিরাজ খান

রাজধানী ঢাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের নেতা মো. মিরাজ খান (২৮)-কে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)

রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, সিটি-আরঅ্যান্ডডি বিভাগের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা ও আউলিয়াপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজ খান-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে ইনকিলাব ভবনের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলে অংশ নেন মিরাজ খান এবং পরবর্তীতে তিনি মিছিলের ভিডিও রিল আকারে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে সিটিটিসি ইউনিট। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিরাজ খান ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে তার গ্রেপ্তারের খবরে স্থানীয় রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ছাত্রলীগের একটি অংশ বলছে, সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তবে অন্য একটি অংশ দাবি করছে, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পর মিরাজ খানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে পুলিশ। মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা সেনা হেফাজতে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার পর সেনাবাহিনীর ১৫ কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে কর্মরত এবং একজন অবসর-উত্তর ছুটিতে (এলপিআর) আছেন।

শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মকর্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। তার সন্ধান পেতে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আদালতের নির্দেশ মান্য করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তারা হলেন—
মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বর্তমান ও সাবেক ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৮ অক্টোবর আদালত এই নির্দেশ দেন এবং আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ ঘটনায় সেনা সদর জানায়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেনাবাহিনী ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দুমকিতে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে জেলেদের হামলা

পটুয়াখালীর দুমকিতে মাইলিশ শিকার রোধে মৎস্য বিভাগের বিশেষ অভিযান চলাকালীন শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আলগি এলাকায় পায়রা নদীতে অভিযান চলাকালীন কিছু জেলে ও তাদের স্বজনরা ট্রলারের ওপর লাঠি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

স্থানীয়রা জানান, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ শিকার বন্ধে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযানের সময় কয়েকটি নৌকা ও জাল জব্দের চেষ্টা করা হলে জেলেরা হঠাৎ সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়। হামলার কারণে অভিযান পরিচালিত ট্রলারটি নদীর আলগি চরে সরে গিয়ে নিরাপদ অবস্থান নেয়। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে ট্রলারের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুমকি ও পটুয়াখালী সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযান টিমকে উদ্ধার করে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ফিল্ড অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমরা নদীতে গেলে হঠাৎ জেলেরা সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী জেলায় মা ইলিশ রক্ষার জন্য ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চলমান। তবে কিছু এলাকায় জেলেদের প্রতিরোধ ও হামলার কারণে অভিযানে ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। মৎস্য বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কেউ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, দুমকিতে দুই জেলের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পায়রা নদীতে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ শিকার করার অপরাধে দুই জেলেকে ১৬ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—দুমকির আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামের মৃত চান্দু তালুকদারের ছেলে জামাল তালুকদার (৫০) এবং একই গ্রামের মৃত বারেক হাওলাদারের ছেলে মো. কাওছার হাওলাদার (৩০)

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ প্রজনন রক্ষায় ঘোষিত জাতীয় নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) গভীর রাতে মৎস্য বিভাগের একটি বিশেষ দল বাহেরচর সংলগ্ন পায়রা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকাররত অবস্থায় দুই জেলেকে হাতে-নাতে আটক করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন দুমকি সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার নৌকা ও বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে শুক্রবার সকালে আটক দুই জেলেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হলে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে উভয়কে ১৬ দিন করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জেলেকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুমে দেশের সকল নদী ও সমুদ্র উপকূলে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় যুবকের দায়ের কোপে শিশুসহ আহত ৬, প্রাণ গেল একের

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের দায়ের কোপে সাফায়েত হোসেন (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নারী-পুরুষ-শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মৃধাবাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত সাফায়েতের বাবা জামাল হোসেন তাঁর সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হলেন—বাবুল সরদার (৪৭), মইন হাসান (৮), পঞ্চমালী সরদার (৪৭), নাছিমা (৩২) এবং মরিয়ম বেগম (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী সবুজ মৃধা (৩০) দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন। তিনি একই গ্রামের আবু মৃধার ছেলে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই সবুজ মৃধা হাতে দা নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। মুহূর্তের মধ্যেই বাড়ির ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং দৌড়ে গাছের মগডালে উঠে লুকিয়ে পড়েন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে শিশু সাফায়েত, মরিয়ম ও মুইন হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু পথেই বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় পৌঁছালে সাফায়েতের মৃত্যু হয়।

স্থানীয় কবির চৌকিদার জানান, “সবুজ মৃধা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মাঝে মাঝেই অস্বাভাবিক আচরণ করত। হঠাৎ করেই সে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। পরে গ্রামবাসী তাকে ধরতে গেলে সে গাছের মগডালে উঠে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস এসে অনেক চেষ্টা করেও প্রথম দিকে তাকে নামাতে পারেনি।”

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দশমিনা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তারা আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি হামলাকারীকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে সবুজকে নিচে নামানো সম্ভব হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বলেন, “প্রথমে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। সবুজ মৃধাকে গাছ থেকে নামানোর পর চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।”

গ্রামজুড়ে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীন ও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো জরুরি, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাজাপ্রাপ্ত-অভিযুক্তরা সবাই খালাস সব মামলা বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫এর সংশোধনী অনুমোদন  দেয়া হয়েছে ।

বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সাংবাদিকদের জানান, ২০১৮ সালের ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের অধীনে হওয়া সব মামলা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত ও মামলায় অভিযুক্ত সবাই মুক্তি পেয়েছেন।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সংশোধনীর একটি ধারায় বলা হয়েছে-ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ৩১ এবং উক্ত ধারাসমূহে বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে সহায়তার অপরাধে কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পন্নাধীন কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারা অথবা কোনো পুলিশ অফিসার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট তদন্তাধীন মামলা বা কার্যক্রম বাতিল হবে এবং তাদের বিষয়ে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না এবং উক্ত ধারাসমূহের অধীন কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ড ও জরিমানা বাতিল বলে গণ্য হবে।

এছাড়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ডাটা সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং জাতীয় উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এসব নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য আরও সুরক্ষিত হবে।




পটুয়াখালীর লোহালিয়ায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ ৬ জন আহত, আটক ৩

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নে মামলা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা হয়, এতে পুলিশসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের পালপাড়া বাজার এলাকায়। আহতদের উদ্ধার করে রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন—এসআই আবদুর রহমান, এএসআই জহির উদ্দিন, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. মহিবুল্লাহ ও কনস্টেবল রানা। এছাড়া স্থানীয় মফিজুল মৃধা ওরফে মাসুদ মৃধা (৩৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত পক্ষের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন। একজন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন, আর চারজন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—

উত্তর লোহালিয়া গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হক চৌধুরীর ছেলে আমিনুল হক চৌধুরী (৪৮)

পাজাখালী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে পলাশ হাওলাদার (২৩)

মৃত আমজেদ আলীর ছেলে রমজান আলী (৫৫)

ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পেছনে থাকা মূল কারণ ও সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে।

 

আল-আমিন



আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

গুমের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। আলোচিত এই মামলাগুলোর মধ্যে দুটি গুমসংক্রান্ত এবং একটি জুলাই আন্দোলনে গুলিবর্ষণের অভিযোগের মামলা অন্তর্ভুক্ত।

বুধবার (৮ অক্টোবর) প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসাইন তামীম জানান, “আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ গুমের ঘটনায় দুটি এবং জুলাই আন্দোলনের সময় বিজিবির গুলির ঘটনায় একটি মামলা মিলিয়ে মোট তিনটি ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে।”

প্রথম মামলায় শেখ হাসিনা ও তারেক সিদ্দিকীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও একই ব্যক্তিদের মধ্যে ১৩ জনকে আসামি করে আরও পাঁচটি অভিযোগ দাখিল করা হয়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনে রামপুরায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর চিফ প্রসিকিউটর জানান, “গুমের মামলা অনেকগুলো রয়েছে। প্রধান কয়েকটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে, খুব শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট দাখিল হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটি জটিল মামলা হওয়ায় সব দিক যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক শুনানির সময় নির্ধারণ করবে আদালত।

 

আল-আমিন

 




পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে বন্দিদের ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি : এনসিআরবি

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সবচেয়ে বেশি বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন—এদের প্রায় ৮৯ শতাংশই বাংলাদেশি। সম্প্রতি ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) প্রকাশিত ‘প্রিজন স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৩’ প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের মোট ৬ হাজার ৯৫৬ জন বিদেশি বন্দির মধ্যে ২ হাজার ৫০৮ জন পশ্চিমবঙ্গের কারাগারে রয়েছেন, যা দেশের মোট বিদেশি বন্দির ৩৬ শতাংশ। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। তাদের অধিকাংশই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে আটক হয়েছেন।

২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৫ হাজার ৭৭৪ জন বন্দির মধ্যে ৯ শতাংশই বিদেশি নাগরিক। এদের মধ্যে ৭৭৮ জন দোষী সাব্যস্ত এবং ১ হাজার ৪৪০ জন বিচারাধীন। বিদেশি বন্দিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মিয়ানমার, এরপর মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের অবস্থান।

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সংযুক্ত। এই সীমান্তের অনেক জায়গা অরক্ষিত থাকায় অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি বন্দির সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। ২০২১ সালে দোষী বন্দি ছিলেন ৩২৯ জন, ২০২২ সালে ৪৭১ জন, আর ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯৬ জনে। একই সময়ে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিচারাধীন বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী জোগাড়ে অসুবিধা, আদালতের ব্যস্ততা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব। ফলে বছরের পর বছর বিদেশি নাগরিকরা কারাগারে আটকে থাকেন।

রাজ্যের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “আমাদের পক্ষ থেকে বারবার আবেদন জানানো হলেও বাংলাদেশি বন্দিদের ফেরত পাঠানোর হার খুবই কম। সাজার মেয়াদ শেষ হলেও অনেকে এখানেই থেকে যাচ্ছেন।”

এনসিআরবির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দিদের চাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৬০টি কারাগারের ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৪৭৬ জন, অথচ বন্দি রয়েছেন ২৫ হাজার ৭৭৪ জন—অর্থাৎ ধারণক্ষমতার ১২০ শতাংশ

নারী বন্দিদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা গেছে। রাজ্যের একমাত্র নারী কারাগারে বন্দিদের সংখ্যা ধারণক্ষমতার ১১০ শতাংশেরও বেশি। কারা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ এবং নারী বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব—এই বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিআরবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়াকাটায় অস্বাস্থ্যকর খাবারে ৪ হোটেলকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই হোটেল পরিচালনার অভিযোগে চারটি হোটেলকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে কুয়াকাটার জিরো পয়েন্ট ও চৌরাস্তা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদিক।

অভিযানকালে ‘মায়ের দোয়া’, ‘গাজী রেস্তোরাঁ’ ও ‘হোটেল বৈশাখী’-তে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া একই অভিযোগে ‘হোটেল আপনজন’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদিক জানান, বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন, ২০১৪-এর ১৯ ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কুয়াকাটায় আগত দেশি-বিদেশি পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁ তদারকি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কুয়াকাটা একটি আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র। তাই এখানে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।”

এসময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম