কলাপাড়ায় ছাত্রলীগ সাবেক সাধারণ সম্পাদকের বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়জুল ইসলাম আশিক তালুকদারের বাসা থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।

শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে পৌরশহরের কলেজ রোড এলাকার বাসা থেকে একটি হকিষ্টিক, একটি চাকু, একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
এসময় ওই বাসায় কোন লোক ছিল না, বাসাটি তালাবদ্ধ ছিল বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় তিনিও সাথে ছিলেন। তবে অভিযানটি ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহমান পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি স্বীকার করে কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন’ মামলার বিষয়টি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলতে পারবেন।




খালেদা জিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শেখ হাসিনার নামে মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে কাজে বাধা এবং তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরিফুল ইসলাম শাওন বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

বিএনপির অভিযোগ, দীর্ঘদিন খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। সেখানে অসংখ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরই মাঝে বিএনপি চেয়ারপারসনকে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়।

২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ফিরোজার সামনে বেশকিছু বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়। ফলে ওই দিন তিনি বিএনপি ঘোষিত ‘মার্চ ফর ডেমোক্রোসি’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি।



সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ৭ দিনের রিমান্ডে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারেরর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ইমরুল সাহেদ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুদ্দীন হোসাইন তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর তেজগাঁও থানার কারওরান বাজার এলাকায় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপকে (২১) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় তার এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন রূপ হত্যার ঘটনায় তার বাবা এ কে এম রকিবুল আহম্মেদ বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করা হয়।




পটুয়াখালীতে ডাকাতি ও ধর্ষণসহ আট মামলার আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ব্যাংক ডাকাতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ ৮ মামলার আসামি সোহাগ মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টায় সেনাবাহিনীর সদর উপজেলা ক্যাম্প ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেনা ক্যাম্পের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোহাগ মাঝি নামে এক চিহ্নিত অপরাধীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আসে। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি এবং ঢাকা সিএমএম আদালতে ব্যাংক ডাকাতির মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগসহ আটটি মামলা রয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর আর্মি ক্যাম্প থেকে ৪২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির কমান্ডিং অফিসারের নেতৃত্বে থানা পুলিশসহ লোহালিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সোহাগ মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সোহাগ মাঝি সম্প্রতি এলাকায় একটি চাঁদাবাজি এবং অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিলেন। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত আটটি মামলা থাকায় পুলিশ তাকে খুঁজছিলো।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম জানান, গ্রেপ্তার সোহাগ মাঝির বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদর থানায় পাঁচটি, গলাচিপা থানায় একটি, ডিএমপির পল্টন ও হাতিরঝিল থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

সোহাগ পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের রাফেজ মাঝির ছেলে।




হারুন-বিপ্লবসহ যাদের খুঁজছে পুলিশ

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের আলটিমেটাম সত্ত্বেও এখনো কাজে যোগ দেননি অনেক প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা। পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা এসব কর্মকর্তাকে অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে খোঁজা শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কথায়ও সেই আভাস মিলেছে। গতকাল আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের যেসব সদস্য এখনো যোগদান করেননি তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

তাদের আমরা পুলিশ বলব না, তাদের ক্রিমিনাল বলব।পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৮৭ জন সদস্য এখনো কর্মস্থলে যোগ দেননি। এর বাইরেও অনেক পুলিশ সদস্য নানা কৌশল ও কারণ দেখিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সারা দেশে এখন পর্যন্ত পুলিশের সাবেক তিন আইজিসহ ১৮৪ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ডিএমপির ৯৯ জন আছেন।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে পলাতক বা আত্মগোপনে থাকা কর্মকর্তাদের অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। তাদের বিরুদ্ধে হবে বিভাগীয় মামলা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা চাকরিতে ফিরতে পারবেন না তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার তদন্ত ও বিচারকাজ আইন অনুযায়ী চলবে। যাদের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা মিলবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।অন্যদিকে দুর্নীতি, হত্যা, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে চাকরিচ্যুত, সাবেক কর্মকর্তা ও যোগদান না করে আত্মগোপনে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে অনেক মামলা হচ্ছে।

এ  প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস) রেজাউল করিম বলেন, ফৌজদারি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি পুলিশ সদস্যদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের অনুমতি রয়েছে। যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে।

কর্মে না ফেরা পলাতক তালিকার শীর্ষে হারুন

পুলিশের পলাতক কর্মকর্তাদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন ৩৮ মামলার আসামি ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। তাকে এখনো চাকরিচ্যুত করা হয়নি। পলাতক হিসেবে হারুনকে পুলিশ সদর দপ্তরের তালিকায় এক নম্বরে রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তার অজুহাতে আন্দোলনের সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখার ঘটনায় বেশি সমালোচনায় পড়েন হারুন। ৫ আগস্টের পর তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুককে নির্যাতনের অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পুনর্বাসন ও পদোন্নতি দিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ সরকার। ১৩ বছর পর গত ১৯ আগস্ট হারুনের বিরুদ্ধে ডিএমপির শেরেবাংলানগর থানায় মামলা করেন বিএনপি নেতা ফারুক।

বিপ্লব কোথায়?

গত ১২ সেপ্টেম্বরে গণমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে- লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম ইউনিয়ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে চলে গেছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। দাবি করা হয়, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে কোনো এক সময় তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। পাচারকারীদের এসংক্রান্ত কয়েকটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার জন্য বিপ্লব কুমারের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেওয়া হয় বলেও জানা যায়।

এ প্রসঙ্গে পুলিশের এসবি প্রধান মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুলিশের দুই সাবেক কর্মকর্তা ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কোনো কর্মকর্তা ইমিগ্রেশন ক্রস করেননি। আমি মনে করি তারা দেশেই আছেন। তবে কোথায় আছেন সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করব না।’

দেশ ছাড়তে ব্যর্থ গোলাম ফারুক :

গত ২০ আগস্ট ব্যাঙ্ককের উদ্দেশে রওনা হওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান ডিএমপির সাবেক কমিশনার গোলাম ফারুক। ডিবিকে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে তার দেশ ত্যাগের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। পরে অবশ্য তিনি বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফিরে যান। খন্দকার গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা রয়েছে।

কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া ১৮৭ সদস্যের যে তালিকা পুলিশ সদর দপ্তর দিয়েছে, এর মধ্যে ডিআইজি থেকে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৬ জন। পুলিশ পরিদর্শক আছেন পাঁচজন, উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তা আছেন ১৪ জন। অন্যদের মধ্যে এএসআই ৯ জন, নায়েক ৭ জন ও কনস্টেবল ১৩৬ জন।

কাজে যোগ না দেওয়া শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান (স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরের আবেদন করেছেন), ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, ডিবির সাবেক যুগ্ম কমিশনার খোন্দকার নুরুন্নবী, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার উত্তম কুমার পাল এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার।

পুলিশ সুপার থেকে সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আত্মগোপনে থাকা ৮ কর্মকর্তা হলেন আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, আরপিএমপি ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মফিজুর রহমান ও ইফতেখার মাহমুদ(গ্রেপ্তার), আরপিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ও আল ইমরান হোসেন এবং সিরাজগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার রানা।

পরিদর্শক পদে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়া কর্মকর্তারা হলেন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার সাবেক ওসি মাহফুজার রহমান, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক খাদেমুল বাহার বিন আবেদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর সার্কেলের পরিদর্শক ইউসুফ হাসান, ডিএমপির সাবেক পরিদর্শক জাকির হোসাইন ও ঢাকা জেলা পুলিশের পরিদর্শক আরাফাত হোসেন।

ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা যোগদান করেননি তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের কাজ চলছে।’




পটুয়াখালীতে আ’লীগ নেতাদের জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে একটি মামলায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের জামিন দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বার লাইব্রেরীর সামনে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহসিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন প্রমূখ। বক্তারা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামীদের জামিন দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন জানান, ২০২৩ সালে কুয়াকাটা পৌর বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর, লুটপাট ও বোমা বিস্ফোরণ করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৫/০৮/২০২৪ইং তারিখ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় কুয়াকাটা পৌর মেয়র মো. আনোয়ার হাওলাদার ও পৌর আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অনন্ত মুখার্জীসহ ১৬ জনকে আসামী করা হয়। এসব আসামীরা উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) জামিনের জন্য আবেদন করলে উচ্চ আদালত তাদেরকে চার সপ্তাহের মধ্যে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। এ প্রেক্ষিতে ওইসব আসামীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থণা করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশিকুর রহমান আসামী ১৬ জনের মধ্যে কুয়াকাটার পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অনন্ত মুখার্জীসহ ১২ জনকে জামিন দেন এবং আসামী কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুজবুর রহমান, কুয়াকাটা পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শহিদ দেওয়ান, কুয়াকাটা পৌর যুবলীগের নেতা মনির শরীফ ও কুয়াকাটা পৌর আওয়ামীলগের ক্রীড়া সম্পাদক ইসাহাক হাওলাদারের জামিন নামঞ্জুর করেন। আদালতের অতিরিক্ত পিপি ও এপিপিগণ আওয়ামীলীগের হওয়ার কারণে আসামীরা জামিনের ক্ষেত্রে এ সুবিধা পেয়েছেন। কিন্তু বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলার আসামীরা জামিন পেতে পারে না’।

এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এডিশনাল পিপি) অ্যাডভোকেট মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ওই মামলার জামিন শুনানীকালে পিপি, অ্যাডিশনাল পিপি, এপিপি কেউই উপস্থিত ছিলেন না এবং তারা কোনো প্রভাব সৃষ্টিও করেনি। আসামীদের জামিন আইন অনুযায়ী হয়েছে। তাদের (বিএনপিপন্থী আইনজীবী) অভিযোগ সঠিক নয়। তাছাড়া জামিন শুনানীকালে ওখানে শুধু বিএনপিপন্থী আইনজীবীরাই উপস্থিত ছিলেন’।




আবু সাঈদ হত্যা : ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পুলিশ কর্মকর্তাসহ এজাহারনামীয় ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়েছেন মামলার প্যানেল আইনজীবী রোকনুজ্জামান, শামীম আল-মামুন ও রায়হান কবির।

এতে জানানো হয়েছে, গত ১৮ জুলাই আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলীর দায়ের করা মামলায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এদের মধ্যে রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এসএসআই) আমির আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ইতোমধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন এবং অপর আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আবদুল্লাহ আল মামুন অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি ১৪ জন আসামি এখনো গ্রেফতার হননি।

বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা আসামিরা হলেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো: মনিরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান ও আল ইমরান হোসেন, উপকমিশনার আবু মারুফ হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রাফিউর রহমান, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মন্দির রহমান, আসাদুজ্জামান মণ্ডল, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম, এসআই বিভূতিভূষণ, ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, ছাত্রলীগের কর্মী টগর, বাবুল হোসেন ও শামীম মাহফুজ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়েছে, ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রংপুর মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিআইবি) রংপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) জাকির হোসেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিকেলে বিচারক আসাদুজ্জামান ১৪ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন।




কলাপাড়ায় ৩ ব্যবসায়ীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মেয়াদ উত্তীর্ন ওষুধ সংরক্ষন, অতিরিক্ত দামে পন্য সামগ্রী বিক্রি এবং পন্য’র মোড়কে সঠিক নাম, ঠিকানা না থাকায় তিন ব্যবসায়ীকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।

পটুুয়াখালীর কলাপাড়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরশহরের নতুন বাজার এলাকার তিন ব্যবসায়ীকে এ জরিমানা করা হয়। এদের মধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষনের দায়ে শুভ মেডেকেল হলে ১৫ হাজার টাকা, পন্য’র মোড়কে সঠিক নাম ঠিকানা না থাকায় পটুয়াখালী বেকারীর মালিককে ৫ হাজার টাকা এবং অতিরিক্ত দামে হাঁস-মুরগীর খাবার বিক্রি করার দায়ে ভাই ভাই ষ্টোর্সে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জেলার সহকারী পরিচালক শাহ্ মো. সোয়াইব মিয়া।

এসময় কলাপাড়া উপজেলা সেনেটারী কর্মকর্তা মৃনাল চন্দ্র দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে পৌরশহরের অনেক দোকান পাট তাৎক্ষনিক বন্ধ করে মালিকরা সটকে পড়েন।




জয়কে হত্যাচেষ্টা: জামিন পেলেন মাহমুদুর রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আমার দেশ পত্রিকার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী তানভীর আহমেদ আল আমিন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর তিনি এ মামলায় আত্মসমর্পণ করলে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করলে মহানগর দায়রা জজ আদালত মাহমুদুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেন। আজই তিনি কারামুক্ত হতে কোন বাধা নেই।

সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার মামলায় গত বছরের ১৭ আগস্ট ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নূরের আদালত মাহমুদুর রহমান ও সাংবাদিক শফিক রেহমানসহ পাঁজজনের পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন জাসাস নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, রিজভী আহমেদ সিজার ও মিজানুর রহমান ভুঁইয়া।

আসামিদের দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় (অপহরণ) পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাদের আরও একমাসের কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া একই আইনে ১২০-খ ধারায় (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে– আরও এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিলেম আদালত। দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন।

মামলার অভিযোগ বলা হয়, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের আগে যে কোনো সময় থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাসের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ মামুনসহ বিএনপি ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত অন্যান্য দলের উচ্চপর্যায়ের নেতারা রাজধানীর পল্টনের জাসাস কার্যালয়ে, আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার আসামিরা একত্রিত হয়ে যোগসাজশে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তার প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমেরিকায় অপহরণ করে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন।

ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফজলুর রহমান ২০১৫ সালের ৩ আগস্ট বাদী হয়ে পল্টন মডেল থানায় মামলাটি করেন।




বরিশালের উপ-পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

বরিশাল অফিস :: কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ক্রসফায়ারের ঘটনায় কুষ্টিয়ার সাবেক পুলিশ সুপার ও বর্তমান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) তানভীর আরাফাতসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি হত্যা মামলা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, এজাহারগুলো গ্রহণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের ৬ বছর পর গত সোমবার দৌলতপুর থানায় তিন পরিবারের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ মে যুবদলকর্মী আলতাব হোসেন পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন। ২০২০ সালের ২৫ জুলাই ক্রসফায়ারে নিহত হন বিএনপি কর্মী কুদরত আলী। আর ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন বিএনপি কর্মী মদন আলী। ওই ঘটনায় তিন পরিবারের পক্ষ থেকে দৌলতপুর থানায় পৃথক তিনিটি এজাহার দাখিল করা হয়।

তিন মামলায় কুষ্টিয়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার ও বর্তমান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুপার এসএম তানভীর আরাফাত, দৌলতপুর থানার ওসি শাহদারা খান, আরিফুর রহমান ও ইন্সপেক্টর নিশিকান্তকে আসামি করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।

উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বরিশাল নগরীর সদর রোডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর বেধড়ক লাঠিচার্জ করেন পুলিশ কর্মকর্তা তানভীর আরাফাত।

এ বিষয়ে বিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, মামলার কথা আমিও শুনেছি।