দুমকিতে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে গলায় গামছা পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে মো: মারুফ (১৭) নামের মানসিক ভারসাম্যহীন এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার(১০ অক্টোবর) দুপুর ২ টায় উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরগরবদি এলাকার ফয়জর হাওলাদারের তৃতীয় ছেলে মারুফ নিজ বসত ঘরের আড়ার সাথে গলায় গামছা পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে উপজেলার আজিজ আহম্মেদ কলেজের বিএম শাখার একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মৃত মারুফের ভাই রিফাত বলেন, আমার ভাই দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক ভারসাম্যহীন। হয়ত এ জন্যই আত্মহত্যা করতে পারে বলে আমার ধারণা। এর আগেও সে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

এ ব্যাপারে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) ফিরোজ আহমেদ জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। তবে ময়না তদন্তের হাতে রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




পটুয়াখালীতে সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে হামলায় আহত ৫

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সরকারি খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে ২ পক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন ৫ জন।

বৃহস্পতিবার (১০ আক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের পশ্চিম তুলাতলী গ্রামের ইটবাড়িয়া পেখার খালকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ ঘটে। আহতদের মধ্যে ৩ জনকে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কতিপয় প্রভাবশালী নেতা বহু বছর ধরে খালটি অবৈধভাবে দখল করে রাখায় গ্রামবাসী একত্র হয়ে খালটি উন্মুক্ত করেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার গাজী, পারভেজ তালুকদার ও নূরুল আমিনসহ অনেকে জানান, সোনাপাড়া, পক্ষিয়াপাড়া, বৈদ্যপাড়া ও তুলাতলী গ্রামের প্রায় ৭০০-৮০০ একর জমির চাষাবাদের পানি এ খাল থেকে সরবরাহ করা হয়। আবার বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির পানি এ খাল দিয়েই নিষ্কাশনা হয়। স্থানীয় সাইফুল গাজী, আলতাফ গাজী, সালাম গাজী ও শাহালম গাজীসহ সাবেক ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে খালটিকে দখল করে রেখেছিল। এতে সাধারণ মানুষসহ কৃষকদের চরম ভোগান্তি হয়। এ জন্য গ্রামবাসী সম্মিলিতভাবে খালের ৯টি স্থানের বাঁধ কেটে সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

এ বিষয়ে আলতাফ গাজী বলেন, খালটি তারা চার বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেনে। কিন্তু গ্রামবাসী জোর করে মাছ ধরেছে এবং খালের বাঁধ কেটে দিয়েছে।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, তারা বিষয়টি জেনেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




দুমকীতে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে প্রাইভেট শিক্ষক আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রকে কোচিংয়ে প্রাইভেট পড়ানোর কথা বলে জোরপূর্বক বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে সাইমুন (২৪) নামের এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

গত সোমবার ( ৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার জলিসা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। পরের দিন ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাবা বাদি হয়ে পটুয়াখালী সেনা ক্যাম্পে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তিতে দুমকী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে । গ্রেপ্তারকৃত প্রাইভেট শিক্ষক সাইমুন পার্শ^বর্তী উপজেলা বাকেরগঞ্জের মধ্য নলুয়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল মৃধা’র ছেলে। তিনি উপজেলার দুমকী সংলগ্ন জলিশা গ্রামে বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন।

জানা যায় , দীর্ঘ ১ বছর ধরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সহ আরও ১০/১২ জন ব্যাচে অভিযুক্ত সাইমুনের কাছে প্রাইভেট পড়ে। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য রাতে তার বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে ওই শিক্ষার্থী ও তার মা-বাবাকে অনুরোধ করে সাইমুন। একপর্যায়ে গত সোমবার শিক্ষার্থীর বাবা মা ছেলেকে ভালো পড়াশোনার জন্য সাইমুনের বাসায় রাতে পড়তে পাঠায়। সেই রাতে শারীরিক নির্যাতন সহ বলাৎকার করা হয় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে। সর্বশেষ উলঙ্গ অবস্থায় ভুক্তভুগী শিক্ষার্থীর ছবিতুলে রাখে এবং কাউকে জানালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশের হুমকি ধামকি দেয় ওই শিক্ষক। কিন্তু খুব ভোরে বাড়িতে গিয়ে মাকে বলে দেয় ওই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আটককৃত শিক্ষক সাইমুনের বিরুদ্ধে ৯অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর বাবা। দুমকী থানার মামলা নং ৫/২৪ তারিখ ৯/১০/২৪ ইং।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আটককৃত সাইমুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে পটুয়াখালী আদালতে প্রেরণ করা হয়।




পটুয়াখালীতে হোটেল দখলের চেষ্টা : ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার বিচার দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক ব্যবসায়ীর হোটেল দখলের চেষ্টা করছে স্থানীয় এক সন্ত্রাসী। মোটা অঙ্কের চাঁদার দাবিতে হোটেলের মালিককে দলবল নিয়ে অপহরণের পর নির্যাতনও করেছেন অভিযুক্ত জসিম শিকদার রানা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ক্র্যাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের নিরাপত্তা এবং হামলা হুমকির বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এম এ খায়ের মোল্লা।

ভুক্তভোগী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের গত ৫ আগস্ট কলাপাড়া উপজেলার নবীনপুরে অবস্থিত ‘রোজ ভ্যালী মোটেল এন্ড রিসোর্ট’ দখলের চেষ্টা করে হামলা চালায় পটুয়াখালী সদর থানার লোহালিয়া এলাকার মো. জসিম শিকদার রানা ও তার ভাই কবির শিকদার। এক পর্যায়ে তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় হোটেলের ম্যানেজার রেজাউল করিম, তাজুল বেপারি ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেয়৷ তারা দলবল নিয়ে হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং মালিক খায়ের মোল্লাসহ অন্যান্যদের মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেবে মর্মে হুমকি দেয়।

অপহরণের পর খায়ের মোল্লাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জসিম শিকদার ও তার বাহিনী
অপহরণের পর খায়ের মোল্লাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে জসিম শিকদার ও তার বাহিনী
খায়ের মোল্লা বলেন, এই ঘটনার পর থেকে তারা নানাভাবে আমাকে এবং ম্যানেজারসহ আমার স্টাফদেরকে হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে মামলা করতে যাই। কিন্তু আদালত চত্ত্বর থেকে জসিম শিকদার, কবির শিকদার, সাঈদুর রহমান, মো. রনিসহ ২০/৪০ জনের একটি দল আমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জসিম শিকদারের নিজের ব্যবহৃত গাড়ীতে (ঢাকা মেট্রো-গ-২৩-৩০৩৮) করে লোহালিয়া ব্রিজ পার হয়ে কিছু দূরে বিলের মাঝে নির্জন এলাকায় নিয়ে বেধরক মারধোর করে। রাতভার আমাকে নির্যাতন করে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একশ টাকা মূল্যের ১২টি ননজুডিশিয়াল স্টাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। আমার সঙ্গে থাকা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের রাজধানীর বিজয়নগর শাখার একটি চেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। এছাড়া তিনটি ব্লাঙ্ক কাগজে আমার সই নেয় জসিম শিকদারের সন্ত্রাসী বাহিনী। এমনকি তারা আমাকে নগ্ন করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে যেন আমি এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় না নেই সেজন্য হুমকি দেয়। আমি আইনের আশ্রয় নিলে নগ্ন ভিডিওর মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলার হুমকি দেয়। এরমধ্যে আমার ম্যানেজার সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করে। এক পর্যায়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসূত্রে থানা পুলিশ আমাকে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে জেনে পরেরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লোহালিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে যায়।

ভুক্তভোগী খায়ের মোল্লা বলেন, সন্ত্রাসীরা আমাকে ফেলে যাওয়ার পর পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আমাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করার কথা জানিয়ে খায়ের মোল্লা বলেন, পুলিশ আসামি জসিম শিকদারের ব্যবহৃত গাড়িটি ড্রাইভারসহ জব্দ করেছে। আসামিদের হুমকি-ধমকিতে প্রাণভয়ে আমি আইনের আশ্রয় নিতে চেয়েও পারিনি। প্রাণ ভয়ে আমার কোনো প্রতিনিধি থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি। প্রায় একমাস চিকিৎসা নিয়ে এবং প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়িয়ে এক পর্যায়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আমি পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করি। কিন্তু আসামি জসিম শিকদার এখনো আমাকে ফোন করে এবং হোটেলে লোক পাঠিয়ে আমার স্টাফদের হুমকি দিচ্ছে। আমি যদি হোটেলে যাই তাহলে আমাকে মেরে সাগরে ভাসিয়ে দেবে। এ অবস্থায় আমার প্রাণহানির শঙ্কায় আছি এবং আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।

খায়ের মোল্লা বলেন, আমার স্থায়ী ঠিকানা রাজধানীর ফুলবাড়িয়া। এখান থেকে কুয়াকাটায় গিয়ে ব্যবসা করবো সেটা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে। চাঁদা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় প্রাণভয়ে আমি আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না। আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো পদক্ষেপ ও বিশেষ দৃষ্টি কামনা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী খায়ের মোল্লা আরও বলেন, আসামির রাজনৈতিক পরিচয় জানি না। আমি মনে করি সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না। তারা সব সময় ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষকে হয়রানি করে।




সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের ৫ মামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ঘুষ-দুর্নী‌তির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তার পরিবার ও এপিএসসহ ৫ জন‌কে আসা‌মি ক‌রে পৃথক ৫টি মামলা ক‌রে‌ছে দুর্নী‌তি দমন ক‌মিশন (দুদক)।

গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত সরকারের প্রভাবশালী প্রথম কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করলো রাষ্ট্রিয় দুর্নীতি বিরোধী এই সংস্থা।

আজ বুধবার (৯ অক্টোবর) ক‌মিশ‌নের জেলা সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ এ এসব মামলা করা হয়। কমিশনের অনুমোদনের পর তার পরিবার ও এপিএসসহ তাদের বিরুদ্ধে মোট ৫টি পৃথক মামলা করে কর্মকর্তারা।

প্রত্যেকটি মামলার আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও মামলার অন্য আসামীরা হলেন– তার স্ত্রী লুৎফুল তাহমিনা খান, তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান, মেয়ে সোফিয়া তাসনিম খান ও সহকারী একান্ত সচিব মনির হোসেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট নিয়োগ-পদোন্নতি কিংবা বদলিতে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তার পরিপ্রেক্ষিতেই আজ হলো সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই ৫ মামলা।




সাবেক হুইপ গিনির জামিন আবারও নামঞ্জুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ও গাইবান্ধা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব আরা বেগম গিনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাবেক হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনিকে বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ তার ১০ দিনের রিমান্ডসহ জামিন নামঞ্জুরের আবেদন করে।

অপরদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিনের জন্য আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে জামিন শুনানি স্থগিত রেখে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৬ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক আব্দুল হাই বাদী হয়ে জেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সাবেক হুইপ মাহাবুব আরা বেগম গিনিসহ ১১৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

সাবেক হুইপ ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনিকে গত ১ অক্টোবর ঢাকার একটি হত্যা মামলায় ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করে। আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গাইবান্ধা জেলা বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় আদালতে হাজিরের উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের পাঠানো হয়।

মাহবুব আরা বেগম গিনির পক্ষের আইনজীবী আহসানুল করিম লাছু বলেন, ‘রিমান্ড নামঞ্জুরসহ জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল, আদালত শুনানির জন্য স্থগিত রেখেছেন।’




রিমান্ড শেষে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল কারাগারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: যাত্রাবাড়ী থানায় করা হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড শেষে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (০৯ অক্টোবর) এ আদেশ দিয়েছেন আদালত।

২ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানী যাত্রাবাড়ীতে ছাত্র ইমন হত্যা মামলায় নজরুল ইসলাম মজুমদারের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওইদিন দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড নিতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক আরিফুর রহমান তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার চিটাগাং রোডে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ইমন হোসেন গাজী নামের এক যুবক।

এ ঘটনায় তার ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২৮ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

ওই মামলায় মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) রাতে এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।




জয়-পলকের বিরুদ্ধে এনআইডির তথ্য পাচারের অভিযোগে মামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ফাঁসের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা এই মামলায় জয় ছাড়াও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকসহ ১৯জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলাটি করেন এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে জনগণের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রি করেছেন।

জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, ডিজিকন গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেডকে এনআইডির তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসার অনুমতি দেন অভিযুক্তরা। যে তথ্য দেশ ও দেশের বাইরের প্রায় ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়। তৃতীয়পক্ষের কাছে তথ্য পাচার হওয়ায় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তথ্য বিক্রির প্রায় বিশ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয় মামলায়।

মামলার বিষয়ে কাফরুল থানা পুলিশ জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে মামলায় আরও আসামি যোগ হতে পারে।




হাইকোর্ট বিভাগে নতুন ২৩ বিচারক নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জনকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে তাদের নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান-এর ৯৮ অনুচ্ছেদ-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নিম্নবর্ণিত (ক)-(ব) ক্রমিকে উল্লেখকৃত ২৩ জন ব্যক্তিকে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগদান করেছেন।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন- মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সৈয়দ এনায়েত হোসেন, মো. মনসুর আলম, সৈয়দ জাহেদ মনসুর, কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা, মো. যাবিদ হোসেন, মুবিনা আসাফ, কাজী ওয়ালিউল ইসলাম, আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মো. আবদুল মান্নান, তামান্না রহমান, মো. শফিউল আলম মাহমুদ, মো. হামিদুর রহমান, নাসরিন আক্তার, সাথিকা হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন, মো. তৌফিক ইনাম, ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন, শেখ তাহসিন আলী, ফয়েজ আহমেদ, মো. সগীর হোসেন, শিকদার মাহমুদুর রাজী ও দেবাশীষ রায় চৌধুরী।

এ নিয়োগ শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোয়াজ্জেম হোছাইন জানিয়েছেন, আগামী বুধবার (৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতিদের শপথ পাঠ করাবেন।




শেখ হাসিনা কোথায়, এবার জানালেন ভারতীয় কর্মকর্তারা