পটুয়াখালীতে ৫০ হাজার মিটার ইলিশের জাল জব্দ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়ালীর পায়রা নদীতে যৌথ অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মিটার ইলিশ ধরার জাল জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা মৎস্য অফিস, কোস্টগার্ড এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে এ জালগুলো জব্দ হয়। অভিযানের সময় অসাধু জেলেরা পালিয়ে যায় এবং উদ্ধারকৃত জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ দিন ধরে পায়রা নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু কিছু অসাধু জেলে এই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদীতে জাল ফেলছিলেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রশাসন এবং মৎস্য অফিসের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের শুরুতে জেলেরা টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় প্রায় ৫০ হাজার মিটার জাল জব্দ করতে সক্ষম হন তারা। উদ্ধারকৃত জালগুলো পায়রা নদীর পাড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান আরও জানান, পায়রা নদীতে ইলিশ মাছের প্রজনন মৌসুম চলছে, তাই সরকার এ সময় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তিনি বলেন, “আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা এ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে তারা শাস্তির আওতায় আসবে।”

এদিকে, স্থানীয় জেলেদের মধ্যে কিছু ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা তাদের জীবিকার জন্য বিকল্প কিছু করার সুযোগ পাননি। তবে মৎস্য কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন যে, এ নিষেধাজ্ঞা ইলিশের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য জরুরি।




স্ত্রীসহ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ এবং তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা দেন।

দুদকের অভিযোগ অনুসারে, জেনারেল আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংক এবং হস্তান্তরের মাধ্যমে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার করেছেন বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তারা দেশের বাইরে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশগমন রোধ করা জরুরি বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

জানা গেছে, জেনারেল আজিজ এবং তার স্ত্রী দেশত্যাগের চেষ্টায় রয়েছেন। দুদক আদালতে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, যাতে তারা দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন।

জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ২০১৮ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি সেনাবাহিনীর সদর দফতরে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তিনি ময়মনসিংহে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তার দুই ভাই হারিস ও জোসেফের ভুয়া পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরি করে তাদের নাম পরিবর্তনের সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের চারটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র বাতিল করেছে।

দুদকের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশ যাত্রা নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য।




২৫ হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় রাশেদ খান মেননের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আওয়ামী সরকারের আমলে ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক। রমনা, মতিঝিল ও সবুজবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য।

ছিলেন সমাজ কল্যাণমন্ত্রী এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ ৮ বছর।

অভিযোগ, বিগত ১৬ বছরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের একান্ত দোসর ও সহযোগী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বিমান ক্রয় দুর্নীতি ও অবৈধভাবে বরাদ্দ নিয়ে দেশে এবং বিদেশে ওই সম্পদ গড়েছেন।

অবৈধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাশেদ খান মেননের নামে লন্ডনে ২৫টি বাড়ি, কানাডায় স্ত্রীর নামে ৫টি বাড়ি ও আমেরিকায় ২টি বাড়িসহ বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। অন্যদিকে ঢাকার গুলশানে ৪টি ফ্ল্যাট ও বানানীতে ২টি ফ্ল্যাটসহ ঢাকা ও ঢাকার বাইরে হাজার বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিজ ও আত্মীয় স্বজনের নামে দেড় হাজার কোটি টাকা ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানে অভিযোগের বেশকিছু দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পর প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। সম্প্রতি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের চলমান দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুদক সদ্য সাবেক ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-এমপি ও আমলাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কাজ চলমান। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়ায় কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য হয়ে সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ও এবং বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী হন। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবে অবৈধভাবে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি বাণিজ্য, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসা, ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়, ক্যাসিনো ব্যবসার চাঁদা, সমাজকল্যাণ ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বিমান ক্রয়, অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদান ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে দেশে এবং বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রাজধানীর কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আদেশ অমান্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযোগ্য ব্যক্তিদের সহকারী শিক্ষক, হিসাব রক্ষক উচ্চমান সহকারী, অফিস সহকারী, অফিস সহায়ক ও সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ দেন। দায়িত্বপালনকালে তিনি ১৮২ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানে ২৭ জন সহকারী শিক্ষক থেকে প্রভাষক পদে অবৈধভাবে পদোন্নতি দিয়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে ১৫ জন প্রভাষককে সহকারী অধ্যাপক পদে ২০১২ সনে পদোন্নতি দিয়ে প্রত্যেকের নিকট থেকে ১২ লাখ টাকা করে ১৫ জনের কাছ থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঘুষ নেন। অথচ এডহক কমিটির শিক্ষক/কর্মচারী/পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। এমনকি ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মেনন চক্র।

অভিযোগ সূত্র আরও বলছে, ২০০৯ থেকে ২০১৬ এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানের অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবৈধভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ৪০ শতাংশ টাকা নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা প্রদান করিয়া প্রতিষ্ঠানের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। অথচ এ ধরনের অবসর সুবিধা বাংলাদেশের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নাই। যেখানে বাংলাদেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক/কর্মচারীরা ৪ শতাংশ গ্রাইচুইটিবাবদ অবসরভাতা সুবিধা পেয়ে থাকে। অথচ উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরভাতার নামে নিজেরাই হাতিয়ে নিয়েছেন। যা দণ্ড বিধির ৪০৯/৪২০ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এই চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রভাষক শ্যামলী হোসেন এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষরা।

অন্যদিকে ভিকারুননেছা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০০৯ হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে থাকাকালীন সময়ে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ এবং ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির বাণিজ্য করে ৮ বছরে ৬ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছেন।

দুর্নীতির মামলায় ডেপুটি পোস্ট মাস্টার মোস্তাক কারাগারে
আর রাশেদ খান মেনন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী থাকাকালে অবৈধভাবে চাকুরিতে নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য, স্বর্ণ চোরাচালান, বিমান ক্রয় অবৈধভাবে বরাদ্দ প্রদানসহ বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে কমপক্ষে ১৫ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।

রাশেদ খান মেননের যত অবৈধ সম্পদ

সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন লন্ডনে ২৫টি বাড়ি ক্রয় করেছেন। যার আনুমানিক মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকা। কানাডায় তার স্ত্রীর নামে ৫টি বাড়ি ক্রয় করেছেন। যার মূল্য প্রায় ১২০ কোটি টাকা এবং আমেরিকায় ২টি বাড়ি ও বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার গুলশান-২, রোড-৫, বাড়ি নং-২৭ এ ৪টি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন যার মূল্য ১৫ কোটি টাকা। বনানী রোড নং-৪, বাড়ি নং-১৬ তে ৯ কোটি টাকার ২টি ফ্ল্যাট, ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে ৪৫০ কোটি টাকার ১৬০ বিঘা জমি, পূর্বাচলে ১০ কাঠার ১টি ও ৫ কাঠার ৪টি ৪০ কোটি টাকার প্লট ও কেরাণীগঞ্জ দক্ষিণ হাইওয়ে রোডে ২৫০ কোটি টাকার ২০ বিঘা জমিসহ রিসোর্ট ক্রয় করেছেন।

আর ঢাকার বাইরে বরিশাল জেলার উজিরপুর থানায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৩০০ বিঘা জমি, নিজ নামে, স্ত্রীর নামে, ভাইদের নামে, সন্তানদের নামে ও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ১৫০০ কোটি টাকা।

গত ২২ আগস্ট বিকেলে গুলশানের বাসা থেকে রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আরএম/পিএইচ




আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত : চাকরিতে প্রবেশের বয়স সবার জন্যই ৩৫ হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই ৩৫ বছর করা হচ্ছে। একই বয়সসীমা নির্ধারণ করে একটি খসড়া প্রস্তাব আজ উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন করা হবে। এজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি সার-সংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নারী চাকরি প্রত্যাশীদের বয়সসীমা ৩৭ করা হলে এক ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এছাড়া নারী চাকরি প্রার্থীরা এত বেশি বয়সে চাকরির আবেদন নাও করতে পারেন। তবে আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকেই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এটি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশন, স্বশাসিত সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা অধ্যাদেশ-২০২৪ নামে অভিহিত হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি নিয়ে একেকবার একেক ধরনের সিদ্ধান্তে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের করিডরে সাংবাদিকদের বলেন, চাকরিতে প্রবশের বয়সসীমা মেয়েদের জন্য ৩৭ এবং ছেলেদের ৩৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মেয়েদের এ ধরনের সুবিধা পাশের দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মঙ্গলবার পাঠানো প্রস্তাবে ছেলে ও মেয়েদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা একই (৩৫ বছর) করা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে স্বামীর লাথিতে স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় পারিবারিক জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে স্বামীর লাথির আঘাতে আমেনা বিবি (৫৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) সকালে রতনদী তালতলী ইউনিয়নের গুরিন্দা বাজারে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধের সময় আমেনার স্বামী নসু ঘরামী প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে নসু ঘরামীর লাথির আঘাতে আমেনা গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।




বঙ্গোপসাগরে ৩১ ভারতীয় জেলেসহ দুটি ট্রলার আটক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ৩১ জন ভারতীয় জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করেছে নৌবাহিনী। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে কুয়াকাটার কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত টহলের সময় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বিএনএস শহীদ আকতার উদ্দিন ট্রলার দুটি আটক করে। আটক জেলেদের বাড়ি ভারতের চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন গ্রামে।

বুধবার সকালে পায়রা বন্দরের জেটি এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য জানান বিএনএস শহীদ আকতার উদ্দিনের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মসিউল ইসলাম। তিনি আরও জানান, আটককৃতদের কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মা ইলিশ সংরক্ষণে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।




ঢালাও মামলা, ন্যায়বিচার নিয়ে শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সংঘটিত হতাহতের ঘটনায় ঢালাওভাবে মামলা করে বাছবিচার ছাড়াই আসামি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে কয়েকটি চক্র মেতেছে মামলাবাণিজ্যে।

রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এতে প্রকৃত অপরাধী পার পেয়ে আহত ও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

জানা গেছে, ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর থেকে ১৩ অক্টোবর (রোববার) পর্যন্ত সারা দেশে দায়ের হওয়া প্রায় ১২ হাজার মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রায় লক্ষাধিক। এসব মামলায় গ্রেফতার হয়েছে ৩২ হাজার জনের বেশি। যাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা মামলা।

সারাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদদের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষ থেকে গঠিত স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটি এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি। প্রাথমিক তালিকায় মোট এক হাজার ৫৮১ জন নিহতের তথ্য জানিয়েছে তারা। তবে সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ৭১৭ জন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ এবং অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, নিহতদের অধিকাংশেরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়নি। যে অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে আলামত হিসেবে সেগুলোও উদ্ধার বা শনাক্ত নেই। উদ্ধার হয়নি হত্যায় হত্যায় ব্যবহৃত বা গুলির খোসা। আবার অনেক আগেই মারা গেছে- এমন ব্যক্তিদের অনেককে এজাহারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে হত্যাকাণ্ড চালানোর কথা উল্লেখ করে আসামি করা হচ্ছে।

অধিকাংশ মামলাতেই দেখা গেছে, বাদী সব আসামি বা সাক্ষীকে চেনেন না। মামলায় অপরাধ প্রমাণের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এমন দুর্বল দিকগুলো ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের। অনেকেই মনে করছেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে আলোচিত এসব মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা।

আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীকে আসামি করে ঢালাও মামলা হয়েছিল। যে ঘটনা ঘটেনি, সেই অভিযোগে করা এসব মামলা গায়েবি মামলা নামে পরিচিতি পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতা এবং দলটির সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলায় তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা।

বাছবিচারহীন মামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপিও। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মামলা নথিভুক্ত করার আগে প্রাথমিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের প্রতি। সম্প্রতি তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খাগড়াছড়িতে ঘটনা ঘটলে, মামলা করা হচ্ছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। এমন কোনো মামলা দেবেন না, যার সারবস্তু থাকবে না।

আইন ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও নিরীহ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর জেলা ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করেছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে কমিটির সভাপতি, পুলিশ সুপার (মহানগর এলাকার জন্য পুলিশের একজন ডেপুটি কমিশনার) ও পাবলিক প্রসিকিউটরকে (মহানগর এলাকার মামলাসমূহের জন্য মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর) সদস্য এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু তদন্তের জন্যও একটি পৃথক সেল করা দরকার। এতে করে মামলাগুলো দীর্ঘসূত্রতা থেকে রেহাই পাবে। ক্ষতিগ্রস্তরাও সঠিক বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর শুরু হয়েছে ভিন্নধারার গ্রেফতার অভিযান। আগস্টে গ্রেফতার হয় ৮ হাজার ৫৫৯ জন। সেপ্টেম্বরে ১৪ হাজার ১৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী। অক্টোবরে এসে গত শনিবার পর্যন্ত ৯ হাজার ৪৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা-হত্যার ঘটনায় গত ৬ আগস্ট থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সাবেক ও বর্তমান ৪৫১ পুলিশ কর্মকর্তা আসামি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ২০ জন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, ১১ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ৪২ জন পুলিশ সুপার এবং ২৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার। সাবেক দুই আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং এ কে এম শহীদুল হকসহ ১৭ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারও হয়েছেন। এদের প্রায় সবাই হত্যা মামলার আসামি।

ঢালাও মামলার বিষয়ে অপরাধবিষয়ক সিনিয়র আইজীবী ব্যারিস্টার খালিদ আদনান বলেন, ৩০২ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে ফৌজদারি আইনে অধিকাংশ মামলা হয়েছে থানায় বা আদালতে। এসব মামলায় হুকুমের আসামিও রয়েছেন। ফৌজদারি আইনে একটি হত্যা মামলার অপরাধ তদন্তে এবং বিচারে কিছু আলামতের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেমন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। এতে করে আঘাত এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিশদ তথ্য পাওয়া যায়।আরেকটি হচ্ছে, হত্যার ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হলে ব্যবহৃত অস্ত্র ও বুলেট শনাক্ত এবং সেগুলো উদ্ধার করা। সেগুলো কি সম্ভব হয়েছে? আমার জানা মতে, সিংহভাগ ঘটনাতেই হয়নি। সংঘর্ষে মারা গেলেও কার গুলিতে বা কোন অস্ত্রের গুলিতে মৃত্যু ঘটেছে তাও নির্ণয় করা জরুরি। এখানে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না? হুকুমদাতার নাম আছে, কিন্তু হুকুম পালন করে কে হত্যা করল সেটা তদন্তে বের হয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠন করা হলে ভালো হতো। এখনও সেটা করা সম্ভব। এমনও ব্যক্তি আছেন যার বিরুদ্ধে দেড় থেকে দুইশ মামলা হয়েছে। এখন বিচ্ছিন্নভাবে এসব মামলার তদন্ত করতে গেলে এবং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে কত বছর লেগে যাবে সেটাও ভেবে দেখা দরকার। এতে তদন্ত ও বিচার শেষ করতে অনেক সময় পার হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।




হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচিতে নাগরিক কমিটিও আছে ছাত্রদের সঙ্গে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামীপন্থী বিচারপতিদের মিছিলের প্রতিবাদে তাদের অপসারণ চেয়ে বুধবার (১৬ অক্টোবর) বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একই সময়ে হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত গণমাধ্যমকে জানান, বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর থেকে একটি গণজমায়েত হাইকোর্টের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে সেখানে আগেই আমাদের লিগ্যাল উইংয়ের সদস্যরা থাকবেন।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের ডাকে সাড়া দিয়ে সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

গত ১৫ অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এ ঘটনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ হাইকোর্ট ঘেরাওয়ের ডাক দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতা রাস্তায় ইনসাফ কায়েমের জন্য রক্ত দেবে, আর আপনারা আদালতে বিচারকের আসনে বসে জুলুম কায়েম করবেন?




আজ হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগের বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) হাইকোর্ট ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এ ঘোষণা দেন।

ফেসবুক পোস্টে তারা উল্লেখ করেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট বিচারকদের পদত্যাগের দাবিতে আজ সকাল ১১টায় হাইকোর্ট ঘেরাও করা হবে।” একই পোস্টে সারজিস আলম আরও লেখেন, “এই খুনি হাসিনার দালালদের কারনেই রাষ্ট্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। এদের উৎখাত না করা পর্যন্ত দেশ এগোতে পারবে না।”

জানা গেছে, আজ সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হবেন আন্দোলনকারীরা, সেখান থেকে তারা হাইকোর্ট অভিমুখে যাত্রা করবেন।

 




ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পটুয়াখালীতে আত্মসমর্পণ করেছেন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, যিনি জিএস মিজান নামেও পরিচিত। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে তিনি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম।

মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সাভারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে হত্যার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত। গত ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর তিনি সাভার থেকে পালিয়ে কুয়াকাটায় অবস্থান করছিলেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, মিজানুর রহমান নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, সাভার থানার সঙ্গে কথা বলে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেন, “মিজানুর রহমান পালিয়ে না থেকে আত্মসমর্পণকেই সঠিক মনে করেছেন।” তার এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের কাছে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং যুবলীগের মধ্যে তার আত্মসমর্পণের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। মিজানুর রহমানের আত্মসমর্পণ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।