শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য শিক্ষানবিশ পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় একাডেমিক প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের এ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ এবং প্যারেড পরিদর্শন করার কথা ছিল। এছাড়া পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ময়নুল ইসলাম এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম শহিদুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রোববার সকালের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়ার জন্য শনিবার রাতে সারদা পুলিশ একাডেমিতে অবস্থান করছিলেন। তবে শনিবার রাতে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়েছে।

সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান স্থগিত করার এরকম ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটল। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। ইতোমধ্যে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ করা হয়েছে।




ষোড়শ সংশোধনী : রিভিউ আবেদনের শুনানি চলছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে।

রোববার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ১৫ আগস্ট বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৫ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তিনি আদালতে বলেন, অনেকদিন ধরে ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে রয়েছে। শুনানি হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে বেশ কয়েকবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন কার্যতালিকায় আসলেও শুনানি হয়নি।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ ৬ জন বিচারপতি শুনতে পারবেন বলে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন আপিল বিভাগ।

২০১৭ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে এনে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেওয়া আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হয়।

আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ৯০৮ পৃষ্ঠার এ রিভিউ আবেদনে ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে ৯৪টি যুক্তি দেখিয়ে আপিল বিভাগের রায় বাতিল চাওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। ৮ মে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে ১১ দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিকাস কিউরির (আদালতের বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন।

অপর ৯ অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ ব্যারিস্টার এম. আমিরুল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

২০১৬ সালের ১১ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।

রায়ে আরও বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে সাংসদরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে সাংসদদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে সাংসদদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।

রায়ে আরও বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।

সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে; এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন।




আওয়ামী লীগ নেতারা কীভাবে পালালো তদন্ত হচ্ছে: শফিকুল আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনার পতনের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কীভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তা তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। কেন, কীভাবে আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলেন তা নিয়ে সরকার তদন্ত করছে।

প্রেস সচিব বলেন, একটা বিষয় স্পষ্ট তা হলো ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো সরকার ছিল না। প্রায় এক সপ্তাহের মতো পুলিশ ধর্মঘটে ছিল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শুনছেন যে—লোকটা পালাচ্ছেন, কিন্তু পুলিশ দিয়ে ধরতে হবে, সেই জায়গায় ওই সময় একটা গ্যাপ ছিল। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল তাদের গ্রেপ্তার করা, এখনো চেষ্টা করছি যারা বাংলাদেশে আছেন তাদের গ্রেপ্তার করতে। তারা কীভাবে পালালেন তা নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও অপূর্ব জাহাঙ্গীর উপস্থিত ছিলেন।




নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় পটুয়াখালীতে অর্ধশত জেলে কারাগারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরায় অর্ধশত জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে লেবুখালী এলাকার নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার মিটার জাল ও ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করে। অভিযানের পর জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং উদ্ধার করা মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত আরা জামান উর্মি, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মাহমুদ এবং সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মাদ মাহফুজুর রহমান।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত পটুয়াখালীতে সাড়ে তিন লাখ মিটার জাল ও এক হাজার ৮০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে এবং ৫০ জন জেলেকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




মির্জাগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল খালেক মৃধাকে (৫৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের চালতাবুনিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারের পর আজ শনিবার দুপুরে খালেক মৃধাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গত ১ সেপ্টেম্বর মজিদবাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মো. নসা মিয়া ২২ জনকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এজাহার গ্রহণ করেন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ১৫ জনকে আসামি করা হলেও, খালেক মৃধাকে অজ্ঞাত হিসেবে দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।




সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী গোলাম মোস্তফা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, কামাল আহমেদ মজুমদার এসএস অ্যাগ্রো কমপ্লেক্সের মালিক এবং ঢাকা-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যান। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ওসি মোস্তফা।

শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে রিমান্ডের জন্য তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।




রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পল্লী বিদ্যুতের ৬ কর্মকর্তা রিমান্ডে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পৃথক দুই রাষ্ট্রদ্রোহসহ সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) ছয়জন কর্মকর্তার তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা শাকিলা সুমু চৌধুরী রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় করা পৃথক মামলায় তাদের এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মুন্সীগঞ্জের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রাজন কুমার দাস, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া, কুমিল্লার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার দীপক কুমার সিংহ, মাগুরার শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার রাহাত, নেত্রকোনার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মনির হোসেন ও সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বেলাল হোসেন। এদের মধ্যে বেলাল হোসেন এক মামলার আসামি। অপর পাঁচজন আরেক মামলার আসামি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক আশিকুর রহমান দেওয়ানপ্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে খিলক্ষেত থানায় পৃথক দুটি মামলা করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড খিলক্ষেত থানার পরিচালক প্রশাসন (আইন শাখার) আরশাদ হোসেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কতিপয় বিপথগামী কর্মকর্তা/ কর্মচারী একত্রিত হয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি পরিচয়ে পরস্পর যোগসাজশে জরুরি সেবা বিদ্যুৎখাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে এবং বিগত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালীদের মদদে নানান অযৌক্তিক দাবি দাওয়ায় ষড়যন্ত্র করে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করছে। বিভিন্ন ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম কাজে লিপ্ত আছে।

এতে আরও অভিযোগ করা হয়, তাদের এ ধরনের কার্যকলাপ ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করার শামিল। তাদের এ সব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ পল্লীবিদ্যুতায়ন বোর্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা, বোর্ডের কর্মকর্তাদদের সম্মানহানি এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতা তথা জনমনে ঘৃণা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করার মাধ্যমে সরকারকে চরমভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা। যা দেশদ্রোহীতার শামিল।




মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জনপ্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইসিটির প্রধান কৌঁসুলি মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
গণহত্যায় উস্কানিদাতা হিসেবে জাফর ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান কৌঁসুলি। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। জাফর ইকবালসহ আরও ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ আওয়ামী সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আইসিটির প্রধান কৌঁসুলি মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
এর আগে অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল তার মতামত প্রকাশের পর শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা তাকে ক্যাম্পাসে আজীবন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকার’ উক্তির প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক বিক্ষোভ মিছিল করেন। ১৪ জুলাই রাতের ওই মিছিলে তারা স্লোগান দেন, ‘তুমি কে আমি কে – রাজাকার, রাজাকার, কে বলেছে কে বলেছে – স্বৈরাচার, স্বৈরাচার।’ এই স্লোগান ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত শিক্ষক ও লেখক ড. মুহম্মদ জাফর। ফেসবুকে করা এক পোস্টে করেন আন্দোলনকারীদের কটাক্ষ।

১৬ জুলাই ‘সাদাসিধে কথা’ নামে নিজের একটি ওয়েবসাইটে বিষয়টি নিয়ে দুই প্যারায় ছোট্ট মতামত লিখেছেন তিনি। তার নিজ হাতে লেখা চিরকুটও সেখানে আপলোড করা হয়। হাতে লেখা চিরকুটের অংশটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।

সেখানে তিনি লেখেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আমি মনে হয়, আর কোনো দিন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে চাইব না। ছাত্রছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে, এরাই হয়ত সেই ‘রাজাকার’। আর যে কয়দিন বেঁচে আছি, আমি কোনো রাজাকারের মুখ দেখতে চাই না। একটাই তো জীবন, সেই জীবনে আবার কেন নতুন করে রাজাকারদের দেখতে হবে?’




আরও ৪টি কমিশন গঠন করেছে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আরও চারটি খাত সংস্কারে কমিশন গঠন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কমিশনগুলো হলো, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, শ্রমিক বিষয়ক কমিশন ও নারী বিষয়ক কমিশন। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ফরেন সার্ভিস একাডেমীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

এর মধ্যে, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকবেন ড. এ কে আজাদ খান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনে কামাল আহমেদ, শ্রমিক বিষয়ক কমিশনে সৈয়দ সুলতান আহমেদ এবং নারী বিষয়ক কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকবেন শিরীন পারভিন হক। আগামী ৭ দিনের মধ্যে পূর্নাঙ্গ কমিশন ঘোষণা করা হবে বলেও জানান উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের ভেরিফায়েড তালিকা হয়েছে। এর বাইরেও আরেকটি তালিকা করা হচ্ছে। আন্দোলনের সময় তৎকালিন সরকারের নির্দেশে হাসপাতাল থেকে অনেক কাগজপত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এর সাথে জড়িতদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে।

আগামী সপ্তাহে আহতদের পুনর্বাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন তাদেরকে সেখানে পাঠানো হবে। আহতদের চিকিৎসায় কোনও শৈথিল্য সহ্য করা হবে না। যেসকল বেসরকারি হাসপাতাল আহতদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তা ফেরত দিতে হবে। অন্যথায় সরকারিভাবে ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

এর আগে, রাষ্ট্র সংস্কারে ছয়টি কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। সেগুলো হলো, সংবিধান সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও দুদক সংস্কার কমিশন।




বাউফলে শিশু ধর্ষণ ঘটনায় অভিযুক্তের বিচার ও ফাঁসির দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতার গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাউফল প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন সমাজের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অভিযুক্ত মো. আনোয়ার হাওলাদার, মদনপুরা ইউনিয়নের মৎস্যজীবী দলের (সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত) সভাপতি এবং মৃধার বাজারে মুদি ব্যবসায়ী। শিশুটির পরিবার ১১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করে। এর আগে, আনোয়ার হাওলাদার শিশু নির্যাতনের আরেকটি ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছিলেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শিশুটি প্রায়ই আনোয়ারের দোকানে যেত এবং তখনই সে যৌন নির্যাতনের শিকার হতো। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং দ্রুত তার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতের প্ল্যাকার্ডে ‘শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ’, ‘অপরাধীর ফাঁসি চাই’ এবং ‘শিশু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ লিখে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে মামলা হয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধ সমাজে এক অভিশাপ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত এবং এর বিরুদ্ধে সকলের সচেতনতা ও আন্দোলন জরুরি।

বিভিন্ন সংগঠন এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার পর আইনগত প্রক্রিয়ায় সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা যায়।

এদিকে, শিশুটির পরিবার নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তার দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা চান যে, তাদের শিশু যেন এই ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হয়।