কলাপাড়ায় গাঁজা পরিবহনে যুবকের কারাদণ্ড

কলাপাড়া উপজেলার হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় গাঁজা পরিবহনের দায়ে গাজী সায়েম মেহেদী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাজীপুর টোল ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় সন্দেহজনক এক ব্যক্তিকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে পুলিশ তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

এরপর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারায় গাজী সায়েম মেহেদীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযান পরিচালনাকারী কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেক জানান, “মাদক সমাজের জন্য ভয়ংকর এক অভিশাপ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কিছুদিন ধরে মাদকের লেনদেন বেড়ে গিয়েছিল। প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে খোলা জায়গায় প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে, তবে দৃঢ় প্রচেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ৮ নম্বর গেইটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট কাজ করেছে। এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুজন ফায়ার ফাইটার এবং আনসারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “বাতাসের কারণে আগুন নেভাতে সময় লেগেছে, এখন আগুন ছড়িয়ে পড়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা শুধু নির্বাপণ কাজ করছি।”

মহাপরিচালক আরও জানান, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো এলাকার কোনো অংশ থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়, যা পরে বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলটি প্রায় ৪০০ গজ বাই ৪০০ গজের বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। রাত ৯টা ১৮ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) মো. নওসাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেবে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রচণ্ড বাতাস ও দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন ছড়িয়ে পড়তে সময় লাগেনি। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর থেকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং কার্গো কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় হোটেল রুমে পর্যটকদের গোপন ভিডিও ধারণ, এক যুবকের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক হোটেলের রুমে গোপনে পর্যটক দম্পতিদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে মো. হালিম (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত হালিম বরগুনার ফুলবুনিয়া এলাকার মৃত কামাল মূর্ধার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুয়াকাটায় ‘হোটেল কেয়ার’ নামে একটি টিনশেডের চার কক্ষবিশিষ্ট হোটেল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে। জানা যায়, রাত ৪টার দিকে অভিযুক্ত হালিম একটি আবাসিক হোটেলে প্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে দু’টি কাপল রুমকে টার্গেট করে কৌশলে রুমে ঢুকে নারী-পুরুষ পর্যটকদের ভিডিও ধারণ করেন। পরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করারও চেষ্টা করেন।

অভিযোগকারী হোটেল মালিক মো. শাকিল বলেন, “রাতে দু’টি রুম ভাড়া দিয়ে আমি বিশ্রামে যাই। পরে জানতে পারি হালিম গভীর রাতে স্টাফদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পর্যটকদের রুমে ঢুকে ভিডিও ধারণ করেছে। সকালে বিষয়টি জেনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাই।”

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত হালিমকে আটক করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক বলেন, “পর্যটকদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই। অভিযুক্তের মোবাইলে ভিডিও পাওয়া যাওয়ায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময় কাজ করছি। এ ধরনের অপরাধীদের জন্য এটি একটি কঠোর বার্তা—এমন দুঃসাহস আর কেউ দেখালে ছাড় দেওয়া হবে না।”

স্থানীয়রা বলছেন, কুয়াকাটায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক ভ্রমণে আসেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আরও বাড়ানো জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগে বিজিবি

ভারতের ত্রিপুরায় তিন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে ৫৫ বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়, নিহত তিনজনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সোনাচং বাজার এলাকায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত তাদের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান জানান, নিহতদের সঠিক পরিচয় উদঘাটনের কাজ চলছে। বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তীতে তথ্য জানানো হবে।

বিজিবির সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই-তিন দিন আগে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী বিদ্যাবিল এলাকা দিয়ে তিন বাংলাদেশি ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই থানার কারেঙ্গিছড়া এলাকায় গোপনে প্রবেশ করেন। স্থানটি সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে, যা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ৭০ ব্যাটালিয়নের আওতায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে গরু চোর সন্দেহে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই তিনজনের ওপর সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালায়, এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। পরে তাদের মরদেহ ত্রিপুরার সাম্পাহার থানায় নিয়ে যায় ভারতীয় পুলিশ।

এ ঘটনার পর বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সীমান্তবর্তী এই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জমি লিখে না দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যা করে ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখেন স্বামী

রাজধানীর কলাবাগানে এক নারীকে হত্যার পর তার মরদেহ ডিপ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বাবার বাড়ির জমি স্বামীর নামে লিখে না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিহত তাসলিমা আক্তারের ভাই নাজমুল হোসেন মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

নাজমুল হোসেন জানান, তার বোনের স্বামী নজরুল ইসলাম আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন, পরে ব্যবসা ছেড়ে বেকার হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই তিনি বারবার গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় তাসলিমার নামে থাকা ১০ কাঠা জমি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় নজরুল তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, “আমরা রাজি ছিলাম না জমি পুরোটা নজরুলের নামে দিতে। শুধু আমার বোন ও ভাগ্নিদের জন্য কিছু অংশ দিতে চেয়েছিলাম। এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। সম্প্রতি সে আমার বাবা-মাকে ফোন দিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে ঢাকায় আসতে বলে। পরে ক্ষমা চেয়ে আবারও জমি চায়।”

নিহতের ভাই আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে নজরুল তার দুই মেয়েকে জানায়, তাদের মা নাকি অন্য কারও সঙ্গে পালিয়ে গেছে। মেয়েরা খুঁজতে গিয়ে তার রুমে রক্ত দেখতে পায়। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে ফ্রিজের ভেতর থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই নাঈম হোসেন কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালে নজরুল ইসলামের সঙ্গে তাসলিমার বিয়ে হয়। তাদের তিন কন্যা রয়েছে— নাজনীন আক্তার (১৯), নাজিফা ইসলাম (১৪) ও নিশাত আনজুম (৫)। গত কয়েক বছর ধরে পারিবারিক কলহ ও নির্যাতনের কারণে তাদের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়।

নাঈম জানান, নজরুল নিয়মিত তার বোনকে মারধর করত এবং যোগাযোগ বন্ধ করে রাখত। এমনকি মোবাইল ফোন ব্যবহারেরও অনুমতি দিত না। ঘর থেকে বের হলে বাইরে থেকে দরজা লক করে রাখত।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। আসামি নজরুল ইসলাম ঘটনার পর পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পরিবারের দাবি, নজরুল ইসলামের লোভ আর নিষ্ঠুরতার কারণেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।


আল-আমিন




তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ ধরায় আটক ৬ জেলে

পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ছয় জেলেকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর সৈয়দজাফর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলমান মা ইলিশ রক্ষা অভিযানকে কেন্দ্র করে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হয়। ওই সময় নদীতে অভিযান চালিয়ে ছয় জেলেকে আটক করা হয়। আটক জেলেদের মধ্যে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মৎস্য সংরক্ষণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় সতর্ক করে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযানে ১২ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও একটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে ধ্বংস করা হয় বলে জানিয়েছেন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস। তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা যায়, গ্রেপ্তার তিন জেলে হলেন—দশমিনা সদর ইউনিয়নের সৈয়দজাফর এলাকার মো. ইউনিসের ছেলে মো. আল-আমিন (২৫), শাহজাহান খানের ছেলে মো. রাসেল খান (৩২) ও মো. মোস্তফা হাওলাদারের ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (২৪)।
অন্য তিন অপ্রাপ্তবয়স্ক জেলের নাম-পরিচয় নাবালক হওয়ায় প্রকাশ করা হয়নি।

নৌ-পুলিশ জানায়, মাছ ধরার এই নিষেধাজ্ঞা মানা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তেঁতুলিয়া নদীতে নিখোঁজ যুবকের লাশ তিন দিন পর উদ্ধার

পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ–পুলিশের ধাওয়া খেয়ে ঝাঁপ দেওয়া নিখোঁজ যুবক রাসেল খানের (৩২) লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল এলাকার বাতিঘর পয়েন্টে নদীর ভাসমান অবস্থায় লাশটি দেখতে পেয়ে স্বজনরা শনাক্ত করেন।

জানা যায়, গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাসেল খান চার বন্ধুকে নিয়ে একটি ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ কিনতে যান। ওই সময় নৌ–পুলিশের টহল দল তাদের ধাওয়া করলে আতঙ্কে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

ঘটনার পরদিন থেকেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টানা উদ্ধার অভিযান চালালেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে তিন দিন পর মঙ্গলবার সকালে নদীতে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।

নিহত রাসেল খান উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বড় ডালিমা ব্রিজ এলাকায় একটি দর্জির দোকান চালাতেন। তাঁর স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান সরকার বলেন, “লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকলে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ইলিশ শিকার ও ক্রয়-বিক্রয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এক ক্লিকেই জেলে যাবে জামিননামা, শুরু হচ্ছে অনলাইন ব্যবস্থা

আগামীকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর) থেকে দেশের আদালত ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্যোগ—অনলাইন জামিননামা (বেইল বন্ড)। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুরের পর এক ক্লিকেই জামিননামা সরাসরি সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জামিননামা প্রক্রিয়ায় আসামিদের নানা হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ ছিল। আগে আদালত থেকে মুক্তি পেতে আসামিদের ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো, যার প্রতিটি ধাপেই ছিল সময় ও অর্থের অপচয়। নতুন এই অনলাইন পদ্ধতি চালু হলে আদালতের রায় থেকে শুরু করে আসামির মুক্তি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি এক ক্লিকেই সম্পন্ন হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এটা সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হয়েছে। কোনো বিদেশি সহায়তা লাগেনি। এটা আমাদের নিজেদের উদ্যোগে করা সংস্কার। পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আগামীকালই আমরা নতুন যুগে প্রবেশ করব।”

তিনি আরও জানান, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পর্যাপ্ত অর্থের প্রাপ্যতা আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে ১৬০০ কোটি টাকা এবং রেজিস্টার অফিসে (আইজিআর) ১৫০০ কোটি টাকা জমা আছে। আমরা চাইলে নিজেদের অর্থ দিয়েই উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিতে পারি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন জামিননামা চালু হলে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে, পাশাপাশি আসামিদের হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জাগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর অবহেলার কারণে বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলসী রানী জানান, চোরেরা রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা একটি সাউন্ড বক্স, প্রজেক্টর, প্রিন্টার, ওজন মেশিন, ক্যালকুলেটর ও একটি তোয়ালে নিয়ে যায়। তার দাবি, প্রায় এক লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৈশপ্রহরী মো. মেহেদী হাসান মাসকুর খান ঘটনার রাতে দায়িত্বে অনুপস্থিত ছিলেন। তার দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে নৈশপ্রহরী মেহেদী বলেন, “আমি রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম। বিষয়টি থানায় জিডি করা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চুরি হওয়া মালামালের মূল্য আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার টাকা হবে।”

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, চুরির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। সে কারণে এখনো থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন ফারুক মাস্টার বলেন, “আমি ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু তদন্তে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষক তুলসী রানী জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দ্রুত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে নৌ পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে ঝাঁপ, দর্জি রাসেল এখনো নিখোঁজ

পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নৌ পুলিশের ধাওয়ার মুখে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন রাসেল খান (৩৫) নামে এক যুবক। শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৩ অক্টোবর) পর্যন্ত টানা ৪২ ঘণ্টা পার হলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

নিখোঁজ রাসেল খান উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড়ডালিমা গ্রামের ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দর্জি এবং স্থানীয় বড়ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তার সেলাইয়ের দোকান ছিল। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কম দামে ইলিশ কেনার জন্য শনিবার সন্ধ্যায় রাসেল তার তিন বন্ধু—রাকিব, হাসান ও মাহবুবকে নিয়ে একটি ছোট ট্রলারে তেঁতুলিয়া নদীতে যান। এ সময় মা ইলিশ রক্ষায় টহলে থাকা নৌ পুলিশের একটি স্পিডবোট তাদের দিকে এগিয়ে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভয় পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন রাসেল খান। এরপর থেকে তিনি আর উপরে ওঠেননি।

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় জেলেরা, ডুবুরি দল ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীর তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া ডুবুরি আব্দুল্লাহ ও ইমরান জানান, “সাধারণত এক কিলোমিটারের মধ্যে লাশ ভেসে ওঠে। কিন্তু তেঁতুলিয়া নদীর স্রোত খুব বেশি, তাই তিন থেকে চার কিলোমিটারের মধ্যেও থাকতে পারে। আমরা এখনো অনুসন্ধান চালাচ্ছি।”

কালাইয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ মামুন বলেন, “রাসেল খানকে এখনো পাওয়া যায়নি। আশপাশের সব ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। নদীতে আমাদের টিম টহলে রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকেও আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খোঁজ চলছে।”

এদিকে নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয়রা বলছেন, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন জরুরি হলেও, এমন মানবিক দুর্ঘটনা রোধে আরও সচেতন ও সতর্ক অভিযান পরিচালনা প্রয়োজন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম