মিরপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বিহারীদের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাড়ে তিন বছর বয়সী মিনহাজ ও দেড় বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন বি-ব্লকের ওয়াপদা ভবনের একটি টিনশেড বাসায় পরিবারটি ভাড়া থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারটি একাধিক সমিতি ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঋণ নিয়েছিল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য লোকজন বাসায় আসত, যা পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তারা প্রথমে শিশু সন্তানদের হত্যা করে পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফারজিনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি, যেখানে ঋণ ও দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহগুলো ময়নাতদন্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, অভাব ও ঋণের চাপ অনেক পরিবারকে নীরবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবেই, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী: সেনাপ্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন শেষে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান জানান, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কিছু অপরাধী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ভোটের দিন যারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সরাসরি অ্যাকশনে যাবে।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিন ও রাতে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধীরা যেন সবসময় আতঙ্কে থাকে, সে পরিবেশ বজায় রাখাই লক্ষ্য। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা জরুরি। এজন্য মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিন বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলে হত্যা করল মা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর মোল্লা বাড়ি এলাকায় এক নারীকে তার নিজ সন্তান হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম শেফালী বেগম (৬২)। তিনি ওই গ্রামের আহম্মদ খানের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত ছেলে সাগর খান (৩২) পরিবারের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। স্থানীয়দের জানান, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাগর দাও দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শেফালী বেগমকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই সাগরকে আটক করা হয়েছে। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার বোরহানউদ্দিনে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, কমপক্ষে ১৫ আহত

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে বোরহানউদ্দিন ও ভোলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির এক কর্মীর বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনা ঘটে শনিবার সকাল টবগী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়রা জানান, গণসংযোগের সময় দুই দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার যান চকিদার বাড়ির পাশে গেলে বিএনপি কর্মীরা তাদের বাধা দেন। এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে জামায়াতের ১০-১২ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ফয়জুল্লাহ, ইমন, আবদুল হালিম, শাহে আলম, রায়হান, শামিম ও তানজিল রয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জন বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং দুইজন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই ঘটনায় ইউনিয়ন জামায়াত তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

পাল্টা অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, জামায়াতের কর্মীরা বিএনপির একটি বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। এতে বিএনপি কর্মীরা প্রতিহত করেন। বিএনপি প্রার্থী মো. হাফিজ ইব্রাহিমের প্রধান সমন্বয়কারী অভিযোগ করেন, জামায়াতের কর্মীরা ইউসুফের ঘরবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় বিএনপি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণসংযোগকালে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও নৌবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জেলা প্রশাসকও বলেন, দুই পক্ষকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হলে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে দেশি অস্ত্রসহ যুবদল নেতা আটক

বরিশালের হিজলা উপজেলায় দেশি অস্ত্রসহ এক যুবদল নেতাকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর হিজলা ক্যাম্প শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভোররাত ৩টার দিকে মেজর কাজী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ৬০ সদস্যের একটি দল উপজেলার চর কুশরিয়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে ১২টি দেশি ধারালো অস্ত্র, একটি চায়নিজ কুড়াল ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এ সময় যুবদল নেতা মোস্তফা সিকদারকে (৫০) আটক করা হয়। তিনি চর কুশরিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রহমান সিকদারের ছেলে। এছাড়া তিনি হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

হিজলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনিসুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ মামলা দায়ের করবে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ মামলায় ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৩ সালে নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অ্বশেষে  এই ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায় আসছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের (ইকসিড) রায়ে বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রার বর্তমান মূল্যে ৫১২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ক্ষতিপূরণ দেবে কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছিল ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের একটি সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি জানা গেছে। তবে রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পুরো রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারের পরামর্শ নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চালাতেও অনেক খরচ হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের খবর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত রায় দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নাইকো ছাতক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা দায়ী নয় মর্মে ঘোষণা চেয়ে ২০১০ সালে ইকসিডে একটি সালিসি মোকদ্দমা দায়ের করে। ২০১৬ সালে বাপেক্স আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরে নাইকোর কাছে বাপেক্স ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার ৮৯ কোটি ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ইকসিডে নালিশ করে। দুয়ে মিলে ক্ষতিপূরণের দাবি দাঁড়ায় ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (বর্তমান মূল্যে ১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

ইকসিড ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ চুক্তির অধীন শর্ত ভঙ্গের জন্য নাইকোকে দায়ী করে ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২০) রায় প্রদান করেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও মনে করেন, দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি হতাশাজনক। তিনি বলেন, মামলার পুরো রায় পেলে এটি পর্যালোচনা করা হবে। মামলা পরিচালনায় মোট কত খরচ হয়েছে, তা-ও হিসাব করা হচ্ছে।

সরকারি তৎপরতার বাইরে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। আদালতের কাছে তিনি দুটি প্রতিকার চান। একটি হলো, নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ও বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিপূরণ আদায়। আদালত নাইকোর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং বাংলাদেশের কাছে নাইকোর বিক্রির অর্থ ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার না দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। থেমে যায় নাইকোর গ্যাস বিল দেওয়ার প্রক্রিয়া।

ক‍্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ক্ষতিপূরণের দাবি পূরণে সক্ষমতার নিশ্চয়ই ঘাটতি ছিল। বিলিয়ন ডলার চেয়ে মিলিয়ন ডলার পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুত অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুত ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা আছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায় পেলে আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

 




শেরপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, আহত শতাধিক

শেরপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ওই জামায়াত নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, দুইজন সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা মঞ্চের সামনে বসেন। কিছু সময় পর বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা সেখানে পৌঁছালে বসার স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংঘর্ষের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনটির উদ্যোগে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ। তাই এই সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও তারা সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সামান্য কোনো বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে ড. ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে মতামত জানাবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ফলে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে যেন প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনের বাইরেও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ শুরু করেছে। সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. ইউনূস বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে সেই পথ সুগম করতে।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম