সৌদিসহ বেশ কিছু দেশে নামাজ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর উৎসবমুখর পরিবেশে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

রোববার (৩০ মার্চ) সকালেই এসব দেশের মুসল্লিরা বিভিন্ন স্থানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। পরে তারা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তির পর আজ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদুল নববীতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লিদের অংশগ্রহণে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, ২০ লাখেরও বেশি মুসল্লি এই দুই মসজিদে ঈদের নামাজে উপস্থিত ছিলেন।




চাঁদ দেখা গেছে, সৌদিতে ঈদ রোববার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসলামের পবিত্রতম স্থান সৌদি আরবে ১৪৪৬ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে দেশটিতে কাল রোববার উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দুই মসজিদভিত্তিক ওয়েবসাইট ইনসাইড দ্য হারামাইন শনিবার (২৯ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে। চাঁদ দেখা যাওয়ায় এবার দেশটির মানুষ ২৯টি রোজা রাখলেন।

সৌদি আরবের বড় দুই পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সুদাইর ও তুমাইরে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা ৬টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের চাঁদের অনুসন্ধান শুরু হয়। এর আগে সুদাইর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে সৌদির প্রধান জ্যোতির্বিদ আব্দুল্লাহ আল-খুদাইরি বলেন, “সুদাইর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে আজ ৬টা ১২ মিনিটে সূর্যাস্ত যাবে। এবং অর্ধচন্দ্র সূর্যাস্তের ৮ মিনিট পর অস্ত যাবে। দৃশ্যমানতার সময় দীর্ঘ অথবা ছোট হোক, যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে তাহলে চাঁদ দেখা সম্ভব।” পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল-আমার নামে অপর এক জ্যোতির্বিদ বলেন, “আমি প্রত্যাশা করছি সুদাইরে আজ আমরা চাঁদ দেখতে পাব।” শেষ পর্যন্ত তাদের ধারণা ঠিক হয়।




শবেকদরের নেয়ামত লাভের উপায়

রমজান মাস পুরোপুরি রহমত ও ক্ষমার মাস। তবে এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ এক মহিমান্বিত রজনী, যাকে লাইলাতুল কদর বলা হয়। আল্লাহ তাআলা এ রাতের ব্যাপারে বলেন, “কদর রজনী সহস্র মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। সেই রজনীতে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতরণ করেন প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে। শান্তিই শান্তি, সেই রজনী সুবহে সাদিক উদিত হওয়া পর্যন্ত।” – সূরা কদর: ৩-৫

এ রাতে আল্লাহর দেওয়া মহা নেয়ামত ও পুরস্কার লাভের জন্য আমাদের সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। নবী করিম (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও ইহতিসাব তথা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং সওয়াব প্রাপ্তির আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (নামাজ-ইবাদত-বন্দেগি) করবে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” – সহিহ বোখারি: ২০১৪

এ রাত থেকে বঞ্চিত হওয়া বড় বঞ্চনা
আল্লাহ ও তার প্রিয় রাসূল (সা.) থেকে এত বড় খোশখবরী পাওয়ার পরও এ রাতের রহমত ও ক্ষমা লাভের চেষ্টা না করা অনেক বড় বঞ্চনার বিষয়। হজরত আনাস (রা.) বলেন, “রমজান এলে নবীজী (সা.) বলতেন, ‘এই মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হলো, সে যেন সকল কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল।’” – সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪

শবেকদর কিভাবে মিলতে পারে?
নবী করিম (সা.) আমাদেরকে শবেকদর লাভের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।” – সহিহ বোখারি: ২০২০

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, “তোমরা শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদর অন্বেষণ করো।” – সহিহ বোখারি: ২০১৬

শবেকদরের ন্যূনতম ফজিলত থেকে যেন বঞ্চিত না হই
মুমিনের কর্তব্য হলো, কদর রজনীর পূর্ণ সম্মান ও মূল্যায়ন করা। অন্তত এ রাতে গাফেল না থাকা। রমজান মাসের ফরজ নামাজগুলো জামাতে আদায় করার মাধ্যমে কদর রজনীর ন্যূনতম কদর হতে পারে। হাদিসে এসেছে, “যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতে আদায় করল, সে যেন অর্ধ রজনী কিয়াম করল। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজও জামাতে আদায় করল, সে যেন পূর্ণ রাত নামাজ পড়ল।” – সহিহ মুসলিম: ৬৫৬

শবেকদরে কোন দোয়া করবেন
আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) নবীজীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, যদি আমি জানতে পারি, আজ লাইলাতুল কদর, তাহলে আমি কোন দোয়া করতে পারি?” নবী করিম (সা.) তাকে বললেন, “তুমি বলবে- উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা-ফু আন্নি।
অর্থ: “আয় আল্লাহ! আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতেই ভালোবাসেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন।” – জামে তিরমিজি: ৩৫১৩

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানাল সুপারকো




পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হবে শবে কদরের রজনী। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে সারা দেশে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।

মহান আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদরের রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তার অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত। পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগি করবেন।

পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এ রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এ ছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশিত হবে।




সুদমুক্ত ঋণ পাচ্ছেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ পাচ্ছেন ইমাম-মুয়াজ্জিনরা। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে যেসব ইমাম-মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ থেকে এ সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরকেও এ ট্রাস্ট থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সারাদেশে ৬০০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হয়েছে। একই অর্থবছরে ৪ হাজার ৬২০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা জেলার ২৯৫ জনকে ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা নির্বাচিতদের মাঝে বিতরণের কাজ চলছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট হতে এই দুই খাতে মোট ৪ কোটি ১১ লাখ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কোনো ইমাম বা মুয়াজ্জিন মারাত্মক দুর্ঘটনা, পঙ্গুত্ব, দুরারোগ্য ব্যাধি ইত্যাদি কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে, আকস্মিকভাবেই মৃত্যুবরণ করলে তাকে আর্থিক সহায়তা ও ঋণ প্রদান, তাদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ সাধনের জন্য ২০০১ সালে এই ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়।




ঈদুল ফিতরে সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সারাদেশে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. নাসিমুল গনি সোমবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক উন্নত হলেও ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ টিম নিয়োজিত রয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবার ঈদে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে টহল ও চেকপোস্ট বাড়িয়েছে।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, ঈদে রাজধানী ছাড়বে বিপুলসংখ্যক মানুষ। এ সময়ে অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা, চাঁদাবাজির আশঙ্কা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “পুলিশের পাশাপাশি অক্সিলারি পুলিশও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।”

র‌্যাবের পক্ষ থেকেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে র‌্যাব সদস্যরা মাঠে থাকবে, গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং করা হবে।

ঈদে নিরাপদ ভ্রমণের পরামর্শ

পুলিশ নিরাপদ ঈদযাত্রার জন্য নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে:

✅ পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ভ্রমণ করা
✅ চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ না দেওয়া
✅ বাসের ছাদে বা ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে ভ্রমণ না করা
✅ অপরিচিত কারও কাছ থেকে খাবার গ্রহণ না করা
✅ জেব্রা ক্রসিং বা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার
✅ ট্রেনের ছাদে বা ইঞ্জিনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভ্রমণ না করা
✅ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযানে ভ্রমণ এড়ানো

গাড়ি ও নৌযান মালিকদের জন্য নির্দেশনা

বাস মালিকদের প্রতি অনুরোধ:
✅ অদক্ষ ও অসুস্থ চালককে বাস চালাতে না দেওয়া
✅ ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় না নামানো
✅ ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধ করা

নৌযান যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা:
✅ অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে নৌযানে না ওঠা
✅ নৌযানের ছাদে ভ্রমণ এড়ানো
✅ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নৌযান ব্যবহার না করা

 

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রমজানে নেক আমল ও সমাজসংস্কার

পবিত্র রমজান মাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধি ও আত্মোন্নতির সময় নয়, বরং এটি সমাজকে পরিশুদ্ধ এবং উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে এমন কিছু আমলের গুরুত্ব রয়েছে, যা পুরো সমাজকে একত্রিত করে, সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। নিম্নলিখিত আমলগুলো তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে:

হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে বন্দি রাখেন, ফলে পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা সহজ হয়। সুতরাং, রমজানে যদি কেউ অন্যায় কাজ করে, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত। তবে, এই প্রতিবাদ কখনো রাষ্ট্রীয় আইন বা সামাজিক শান্তি বিপর্যস্ত করার কারণ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)

সমাজে অশান্তির একটি বড় কারণ হলো অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা। রমজান মাসে আমাদের উচিত, আমরা যদি পূর্বে কোনো কারণে অন্যের অধিকার হরণ করে থাকি, তা ফিরিয়ে দেওয়া। নবী (সা.) বলেছেন, “যার কাছে তার ভাইয়ের কোনো অধিকার থাকে, সে যেন আজই মিটিয়ে ফেলে, যেদিন কোনো টাকা-পয়সা থাকবে না, বরং সে দিন তার নেকি থেকে অধিকারীদের নেকি নিয়ে নেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)

রমজান মাসে পরনিন্দা, পরচর্চা ও বিবাদ থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ, এবং যে ব্যক্তি রোজা রাখে তাকে গালি দেওয়া বা মারামারি করার চেষ্টা করলে, সে যেন শুধু বলে, আমি রোজা আছি।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১)

আধুনিক সমাজে আত্মীয়তা অনেক সময় অবহেলিত হয়, কিন্তু ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করার গুরুত্ব দিয়েছে। রমজান মাসে এই সম্পর্কগুলো আরও শক্তিশালী করা উচিত। নবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন, কিন্তু কিছু মানুষের জন্য ক্ষমা নেই, যারা মা-বাবার অবাধ্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বিদ্বেষ পোষণ করে।” (শুআবুল ঈমান, ৫/২৭৭)

হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত ও দোয়াকে নিষ্ফল করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৯৩)

প্রদর্শন ও খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা নেক আমলের সুফল ধ্বংস করে। রমজান মাসে কোনো ভালো কাজ করলে তা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করতে হবে, এবং প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নেক কাজ করুন, এবং লোক দেখানো কাজ পরিহার করুন।” (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৩১৪০)

সমাজ গঠনে প্রথমে ব্যক্তির চরিত্রের উন্নয়ন অপরিহার্য। রোজা হলো সংযম ও সাধনার মাধ্যমে নিজের কুপ্রবৃত্তি দমনের হাতিয়ার। নবী (সা.) বলেছেন, “একজন মুমিন তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে রোজা রাখার মতো মর্যাদা লাভ করে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৯৮)

রমজান মাসে এসব নেক আমলগুলো পালন করে আমরা শুধু নিজেদেরই পরিশুদ্ধ করতে পারি না, বরং পুরো সমাজকেও একটি আদর্শ সমাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সৌদির আকস্মিক সিদ্ধান্তে আটকে গেল লাখো মানুষের ওমরাহ যাত্রা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে ওমরাহ ভিসা কমিয়ে দিয়েছে সৌদি সরকার। নতুন কোটা পদ্ধতিতে বাংলাদেশিরা ভিসা পাচ্ছেন মাত্র ৮-১০ শতাংশ। রমজানের শেষদিকে সেটি নেমে এসেছে ২-৩ শতাংশে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে আগাম প্লেনের টিকিট কেটে এবং সৌদিতে বাড়ি ও হোটেল বুকিং করেও ওমরাহ যেতে পারছেন না ৩৫ থেকে ৪০ হাজার বাংলাদেশি। আর সিদ্ধান্ত নিয়েও যাত্রা বাতিল করেছেন ৫৫ হাজার ওমরাহপ্রত্যাশী। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগী ওমরাহযাত্রী ও হজ এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (হাব) নেতারা।

হাব নেতারা বলছেন, পবিত্র ওমরাহ পালনে বাংলাদেশিদের অবস্থান ৬ষ্ঠ। প্রতি মাসে গড়ে শুধু ওমরাহর জন্য ৭৫ হাজার ভিসা দেয় ঢাকার সৌদি দূতাবাস। ওমরাহ ভিসার চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায় রমজান মাসে। এ বছর কেবল মার্চ মাসে বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি আবেদন পড়ে। তবে ভিসা হয়েছে মাত্র ২৪ হাজারের মতো, সেটিও মার্চের শুরুর দিকে। শেষের দিকে ভিসা দেওয়ার হার ৩-৪ শতাংশে নেমে এসেছে। কোটা পদ্ধতির কারণে এ জটিলতায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

ধর্ম মন্ত্রণালয় বলছে, মক্কা-মদিনায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি মানুষ অবস্থান করায় সৌদি সরকার ভিসা কমিয়ে দিয়েছে। এখন বাংলাদেশ থেকে ১০০ ভিসার আবেদন করলে হচ্ছে মাত্র ২-৩টি। কী কারণে এমনটি হয়েছে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।




শবে কদর ও জুমাতুল বিদা একই দিনে পালিত হবে এবার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চলতি বছরের রমজান মাসে শবে কদর ও জুমাতুল বিদা একই দিনে পালন করবেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। এবার জুমাতুল বিদা অনুষ্ঠিত হবে ২৮ মার্চ শুক্রবার। একই দিন বাংলাদেশের মানুষেরা ২৭তম রোজা পালন করবেন। ২৭তম রোজা শুরু হবে এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে। কারণ, আরবি তারিখের হিসাব শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। শুক্রবার খ্রিস্টীয় বর্ষপঞ্জির ২৮ তারিখ হলেও এ দিন ২৭ তম রমজানের রোজা পালন করা হবে।