দরুদ পাঠের বরকতে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা

দরুদ পাঠের বরকত এতই শক্তিশালী যে, তা মানুষের জীবনে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ও বিশেষ রহমত নিয়ে আসে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায় যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্মরণ করে পাঠ করা দরুদ মানুষের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। নিচে এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যেখানে দরুদ পাঠের বরকতে অসাধারণ ফল পাওয়া গেছে।
১. গায়েবি সাহায্য: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মরুভূমিতে চলতে চলতে ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ প্রতি দরুদ পাঠ করতে শুরু করেন। তখনই একদল অশ্বারোহী এসে ডাকাতদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাকে উদ্ধার করে। তারা জানায়, “তুমি যখন দরুদ পাঠ করছিলে, আল্লাহ আমাদেরকে তোমার সাহায্যে পাঠিয়েছেন।” (কিতাবুশ-শিফা, ইমাম ক্বাযী আয়াদ)
২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার জান্নাতের বাগানে বসে ছিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার কবরের আজাব মাফ করে দেবেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
৩. অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টি ফিরে আসা: হযরত উসমান ইবন হানিফ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার দৃষ্টি চলে গেছে, আমি কী করতে পারি?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি দু’রাকাত নামাজ পড়ো এবং ‘আল্ল-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিন ওয়াশফি’নি’ পাঠ করো।” ওই ব্যক্তি এ আমল করলেন এবং অলৌকিকভাবে তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮)
৪. রোগমুক্তি: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, “আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত, কিছুতেই সুস্থ হচ্ছি না।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমাকে শিফা দান করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পাঠ করতে শুরু করলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। (আল-কাওকাবুদ দুররী)
৫. ঋণ থেকে মুক্তি: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললো, “আমি প্রচণ্ড ঋণের মধ্যে পড়েছি।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পড়তে লাগলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে গেল। (দারেমি, হাদিস: ২৭৫৫)
৬. অভাব দূর হওয়া: ইমাম ইবনে জাওযী (রহ.) তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি এতটাই অভাবে পড়েছিলেন যে খাবার কিনতে টাকা ছিল না। এক আলেম তাকে বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার অভাব দূর করবেন।” সে এই আমল শুরু করল এবং কিছুদিনের মধ্যে তার রিজিকের দ্বার খুলে গেল। (কিতাবুল আওরাদ)
৭. ক্ষমার সুসংবাদ: হযরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, “আমি আমার দু’আর মধ্যে আপনার জন্য কতটুকু দরুদ রাখব?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি যত বেশি পারো।” তিনি বললেন, “তাহলে আমি আমার দু’আর পুরো সময় আপনাকে দরুদ পড়তে ব্যয় করব।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমার সব চিন্তা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)
৮. বিপদ থেকে মুক্তি: হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সাগরপথে সফর করছিলেন। ঝড় শুরু হলো এবং নৌকা ডুবে গেল। তিনি দরুদ পাঠ করতে করতে বেঁচে গেলেন। (শারহু শিফা)
৯. জান্নাতের সুসংবাদ: ইমাম কুরতুবি (রহ.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ শরীফ পড়তেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। তিনি বললেন, “তোমার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ আছে, কারণ তুমি জীবনে নিয়মিত আমার প্রতি দরুদ পাঠ করেছ।” (তাফসির কুরতুবি)
১০. রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্বপ্নে দেখা: হযরত আবু ইয়াজিদ (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ১০০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পাবে।” তিনি একদিন এ আমল শুরু করলেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। (তাফসির কুরতুবি)
১১. মৃত্যু-মূহুর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ সাক্ষাৎ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি মৃত্যুশয্যায় শান্ত ছিলেন এবং বলছিলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ এসেছেন, তিনি আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।” তার পরিবার জানতে পেরে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেন, “আমি প্রতিদিন ৫০০ বার দরুদ পাঠ করতাম।” (রুহুল বায়ান)
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








