দরুদ পাঠের বরকতে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা

দরুদ পাঠের বরকত এতই শক্তিশালী যে, তা মানুষের জীবনে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ও বিশেষ রহমত নিয়ে আসে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায় যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্মরণ করে পাঠ করা দরুদ মানুষের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। নিচে এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যেখানে দরুদ পাঠের বরকতে অসাধারণ ফল পাওয়া গেছে।

১. গায়েবি সাহায্য: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মরুভূমিতে চলতে চলতে ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ প্রতি দরুদ পাঠ করতে শুরু করেন। তখনই একদল অশ্বারোহী এসে ডাকাতদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাকে উদ্ধার করে। তারা জানায়, “তুমি যখন দরুদ পাঠ করছিলে, আল্লাহ আমাদেরকে তোমার সাহায্যে পাঠিয়েছেন।” (কিতাবুশ-শিফা, ইমাম ক্বাযী আয়াদ)

২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার জান্নাতের বাগানে বসে ছিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার কবরের আজাব মাফ করে দেবেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

৩. অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টি ফিরে আসা: হযরত উসমান ইবন হানিফ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার দৃষ্টি চলে গেছে, আমি কী করতে পারি?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি দু’রাকাত নামাজ পড়ো এবং ‘আল্ল-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিন ওয়াশফি’নি’ পাঠ করো।” ওই ব্যক্তি এ আমল করলেন এবং অলৌকিকভাবে তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮)

৪. রোগমুক্তি: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, “আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত, কিছুতেই সুস্থ হচ্ছি না।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমাকে শিফা দান করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পাঠ করতে শুরু করলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। (আল-কাওকাবুদ দুররী)

৫. ঋণ থেকে মুক্তি: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললো, “আমি প্রচণ্ড ঋণের মধ্যে পড়েছি।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পড়তে লাগলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে গেল। (দারেমি, হাদিস: ২৭৫৫)

৬. অভাব দূর হওয়া: ইমাম ইবনে জাওযী (রহ.) তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি এতটাই অভাবে পড়েছিলেন যে খাবার কিনতে টাকা ছিল না। এক আলেম তাকে বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার অভাব দূর করবেন।” সে এই আমল শুরু করল এবং কিছুদিনের মধ্যে তার রিজিকের দ্বার খুলে গেল। (কিতাবুল আওরাদ)

৭. ক্ষমার সুসংবাদ: হযরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, “আমি আমার দু’আর মধ্যে আপনার জন্য কতটুকু দরুদ রাখব?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি যত বেশি পারো।” তিনি বললেন, “তাহলে আমি আমার দু’আর পুরো সময় আপনাকে দরুদ পড়তে ব্যয় করব।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমার সব চিন্তা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

৮. বিপদ থেকে মুক্তি: হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সাগরপথে সফর করছিলেন। ঝড় শুরু হলো এবং নৌকা ডুবে গেল। তিনি দরুদ পাঠ করতে করতে বেঁচে গেলেন। (শারহু শিফা)

৯. জান্নাতের সুসংবাদ: ইমাম কুরতুবি (রহ.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ শরীফ পড়তেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। তিনি বললেন, “তোমার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ আছে, কারণ তুমি জীবনে নিয়মিত আমার প্রতি দরুদ পাঠ করেছ।” (তাফসির কুরতুবি)

১০. রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্বপ্নে দেখা: হযরত আবু ইয়াজিদ (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ১০০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পাবে।” তিনি একদিন এ আমল শুরু করলেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। (তাফসির কুরতুবি)

১১. মৃত্যু-মূহুর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ সাক্ষাৎ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি মৃত্যুশয্যায় শান্ত ছিলেন এবং বলছিলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ এসেছেন, তিনি আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।” তার পরিবার জানতে পেরে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেন, “আমি প্রতিদিন ৫০০ বার দরুদ পাঠ করতাম।” (রুহুল বায়ান)


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করা যাবে অনলাইনেও




এবারের হজ ফ্লাইট শুরু ২৯ এপ্রিল




পটুয়াখালী কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

নামাজ শুরুর আগে ঈদগাহ মাঠে প্যান্ডেল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঈদগাহের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় বাইরেও প্যান্ডেলে মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের দিন যানজট এড়াতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ওয়ানওয়ে করা হয়। আনন্দ-বিনোদনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।

এছাড়া শহরের চরপাড়ায় জেলা প্রশাসক ঈদগাহ এবং মির্জাগঞ্জের ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার সংলগ্ন ঈদগাহে দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার ৫১১টি ঈদগাহ এবং ১৭৪১টি মসজিদেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় ঈদগাহে প্রধান উপদেষ্টার ঈদের নামাজ আদায়

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার (৩১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এই প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতারা, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা।

নিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নামাজ শুরুর দুই ঘণ্টা আগেই মুসল্লিরা ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করেন, এবং ক্বারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়, যেখানে প্রায় ৩ লাখ ২২ হাজার ৮০০ বর্গফুট জায়গায় একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম এর পক্ষ থেকে ঈদ শুভেচ্ছা

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই মহান দিনে, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম এর সকল পাঠক, দর্শক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং তাদের পরিবারকে জানাই রইল ঈদের অন্তরঙ্গ শুভেচ্ছা। ঈদ হোক সুখ, শান্তি, সম্প্রীতি এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একটি বিশেষ সময়।

ঈদ আমাদের জীবনে সুখ, শান্তি এবং একতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এই শুভ দিনে, আমরা সকলের জন্য একটি ভালো, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কামনা করি। ঈদ আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং একে অপরকে সহানুভূতির সাথে গ্রহণ করার বার্তা দেয়।

আমরা সবাই ঈদের খুশি ও আনন্দে একযোগিতায় থাকি, সবার জীবন সুখে ভরে ওঠুক এবং সকল সমস্যার সমাধান হোক। ঈদের মন্ত্র হচ্ছে, একে অপরকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম এর পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাই এবং প্রত্যাশা করি এই ঈদ সবার জীবনে নতুন সুখ এবং সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক।

(ঈদ মোবারক)

শুভেচ্ছান্তে,
“মো. তারিকুল ইসলাম মনির
সম্পাদক ও প্রকাশক, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




ঈদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

ঈদের নামাজ দুই রাকাত এবং এটি ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব। ঈদের নামাজ আদায় করতে হয় উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। তবে জুমার নামাজের তুলনায় ঈদের নামাজের বিশেষ পার্থক্য হলো— অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দেওয়া হয়।

ঈদের নামাজের নিয়মাবলি

  • প্রথম রাকাত:
    1. তাকবিরে তাহরিমা দিয়ে হাত বাঁধা।
    2. সানা পড়া।
    3. অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া— প্রথম দুই তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া, তৃতীয় তাকবিরে হাত বেঁধে ফেলা।
    4. আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পাঠ।
    5. সুরা ফাতিহা ও অতিরিক্ত সুরা তিলাওয়াত।
    6. নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদা আদায় করা।
  • দ্বিতীয় রাকাত:
    1. বিসমিল্লাহ পাঠ।
    2. সুরা ফাতিহা ও অতিরিক্ত সুরা তিলাওয়াত।
    3. অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া— প্রথম দুই তাকবিরে হাত উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া, তৃতীয় তাকবিরের পর হাত না বেঁধে রুকুতে যাওয়া।
    4. রুকু ও সিজদার মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

ঈদের খুতবা

নামাজের পর ইমাম দুটি খুতবা প্রদান করবেন এবং মুসল্লিদের তা মনোযোগ দিয়ে শোনার আহ্বান জানানো হয়। ঈদের খুতবা ইমামের জন্য সুন্নত এবং মুসল্লিদের জন্য তা শোনা ওয়াজিব।

নামাজের সময়

সুবহে সাদিকের পর থেকে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত ঈদের নামাজ আদায় করা যায়। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ কিছুটা দেরিতে পড়া উত্তম, যাতে নামাজের আগে সদকাতুল ফিতর আদায় করা যায়।

ঈদের নামাজ ছুটে গেলে করণীয়

যদি কেউ ঈদের নামাজ ছুটিয়ে ফেলে, তবে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করবে। কোনো জামাত না পেলে একা কাজা করার বিধান নেই। তবে ইশরাকের চার রাকাত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঈদ উদযাপনকে ইবাদতে পরিণত করার উপায়

ঈদ মুসলমানদের জন্য এক বিশেষ নিয়ামত, যা আনন্দ ও ইবাদতের এক অনন্য সমন্বয়। আমরা যদি কিছু আমল অনুসরণ করি, তাহলে ঈদ উদযাপনকে ইবাদতে পরিণত করা সম্ভব। এর কিছু উপায় হলো—

১. ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করা: ঈদের রাত আনন্দে কাটানোর পর ফজরের নামাজ পড়তে গড়িমসি করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি মানুষ ফজর ও এশার নামাজের গুরুত্ব বুঝত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তা আদায় করত। (সহিহ বোখারি: ৬১৫)

২. ঈদের নামাজ আদায় করা: ঈদের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ঈদের নামাজ আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই রাকাত ঈদের নামাজ আদায় করতেন এবং এর আগে-পরে অন্য কোনো নামাজ পড়তেন না। (সহিহ বোখারি: ৯৮৯)

৩. ঈদের দিন গোসল করা: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জনের জন্য ঈদের দিনে গোসল করা সুন্নত। ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করতেন। (সুনানে বায়হাকি: ৫৯২০)

৪. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) সুন্নত হিসেবে ঈদগাহে পায়ে হেঁটে যেতেন। (জামে তিরমিজি: ৫৩৩)

৫. ঈদের দিনে খাবার গ্রহণ: ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজের আগে খাবার গ্রহণ করা এবং ঈদুল আজহার দিন কোরবানির গোশত খাওয়া সুন্নত। (জামে তিরমিজি: ৫৪৫)

৬. ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়: সাহাবারা পরস্পরকে বলতেন, ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’ (আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের আমল কবুল করুন)। এছাড়া ‘ঈদ মোবারক’ ও ‘ঈদুকুম সাঈদ’ বলা যায়।

৭. ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে তাকবির পাঠ করা: তাকবির দ্বারা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার সময় তাকবির পাঠ করতেন। (মুসতাদরাক: ১১০৬)

৮. নতুন বা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা: রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিন উত্তম পোশাক পরতেন। (যাদুল মায়াদ)

৯. ঈদের খুতবা শোনা: ঈদের খুতবা ইসলামি শিক্ষা ও নির্দেশনা প্রদান করে, তাই এটি গুরুত্বের সঙ্গে শোনা উচিত। (সুনানে আবু দাউদ: ১১৫৭)

১০. দোয়া ও ইস্তেগফার করা: ঈদের দিনে আল্লাহ অনেক বান্দাকে ক্ষমা করেন। তাই বেশি করে দোয়া ও ইস্তেগফার করা উচিত।

১১. এতিম ও অভাবীদের সাহায্য করা: ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে এতিম ও দুঃস্থদের সহায়তা করা গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদ শুধুই আনন্দের নয়, এটি ইবাদতেরও একটি অংশ। শরিয়তসম্মতভাবে আনন্দ প্রকাশ করা আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতিফলন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘বলো, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত, সুতরাং এ নিয়েই যেন তারা খুশি হয়। এটি যা তারা জমা করে তা থেকে উত্তম।’ (সূরা ইউনুস: ৫৮)

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশবাসীকে ড. ইউনূসের ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (৩০ মার্চ) এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি ঈদের জামাতে দলমত নির্বিশেষ সবাই যেন পরাজিত শক্তির সব প্ররোচনা সত্ত্বেও সুদুঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারে, সেজন্য সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরে শুভেচ্ছা জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরে সবাইকে জানাই ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদের পরিবার-পরিজনকে নিয়ে নির্বিঘ্নে আনন্দ সহকারে নিজ নিজ বাড়ি যাবেন। আত্মীয়-স্বজনদের কবর জিয়ারত করবেন। গরিব পরিবারের খোঁজ খবর নেবেন। তাদের ভবিষ্যৎ ভালো করার জন্য চিন্তা-ভাবনা করবেন। আপনার সন্তানদের সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। এই কামনা করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঈদের জামাতে দলমত নির্বিশেষ সবাই যেন পরাজিত শক্তির সব প্ররোচনা সত্ত্বেও সুদুঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকি, সেজন্য আল্লাহর কাছে মোনাজাত করবেন, এই আহ্বান জানাচ্ছি। সবার জীবন সার্থক হোক আনন্দময় হোক। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।




শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, সোমবার ঈদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল সোমবার (৩১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

রোববার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের আকাশে চাঁদ দেখা যাওয়ার তথ্য জানিয়েছেন সেখানকার জেলা প্রশাসক।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঈদের প্রধান জামাত

রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত হবে জাতীয় ইদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ সহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নেবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক ইমাম হিসেবে এ জামাতে দায়িত্ব পালন করবেন। ক্বারী হিসেবে থাকবেন বায়তুল মোকাররমের মুয়াজ্জিন মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।