৩৯৮ হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট রওনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সৌদি আরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে ৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে রওনা হলো প্রথম হজফ্লাইট।

সোমবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশি হজযাত্রী বহনকারী প্রথম ফ্লাইট (এসভি-৩৮০৩) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন হজ ফ্লাইট-২০২৫ উদ্বোধন করেছেন। এরপর উপদেষ্টা হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি হজযাত্রীদেরকে সৌদি আরবের আইন-কানুন মেনে চলা এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানান।




ইতিহাস গড়ে সমাহিত পোপ ফ্রান্সিস

সব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে সমাহিত করা হলো ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসকে। ভ্যাটিকানের বাইরে রোমের সান্তা মারিয়া মাজ্জোরে ব্যাসিলিকায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। গত একশো বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পোপকে ভ্যাটিকানের সীমানার বাইরে সমাহিত করা হলো, যা বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) আয়োজিত পোপের শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেন চার লাখেরও বেশি মানুষ। ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, ভ্যাটিকানের সেইন্ট পিটার’স স্কয়ারে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পোপের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। শেষে ফ্রান্সিসের কফিন বহন করে রোমের ব্যাসিলিকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

শেষকৃত্যানুষ্ঠানে ক্যাথলিক চার্চের অন্যতম শীর্ষ ধর্মগুরু কার্ডিনাল জিওভান্নি বাতিস্তা রে সভাপতিত্ব করেন। ৯১ বছর বয়সী এই জ্যেষ্ঠ ধর্মযাজক তার ধর্মোপদেশে ‘সবার প্রতি খোলা হৃদয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার’ জন্য পোপ ফ্রান্সিসের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া পোপ ফ্রান্সিস ৮৮ বছর বয়সে গত সপ্তাহে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পরপরই প্রায় দেড়শ কোটি অনুসারীবিশিষ্ট ক্যাথলিক চার্চ পোপ বিদায়ের প্রাচীন রীতিনীতি ও ধর্মীয় আচার পালন শুরু করে।

পোপের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার সকাল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার মরদেহ ষোড়শ শতাব্দীতে নির্মিত সেইন্ট পিটার’স ব্যাসিলিকায় শায়িত রাখা হয়। এ সময় আড়াই লাখের বেশি মানুষ পোপের কফিনের চারপাশে আবর্তন করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পোপ ফ্রান্সিসের শেষ বিদায়ের মুহূর্তে ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এক আবেগঘন পরিবেশে ধর্মীয় গুরু ফ্রান্সিসকে বিদায় জানায় গোটা বিশ্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভুলভাবে সালাম দেওয়া বিপজ্জনক! জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

ইসলামে সালাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে দুঃখজনকভাবে, অনেকেই এই সালামকে ভুল উচ্চারণের মাধ্যমে অর্থ বিকৃত করে ফেলছেন, যা কখনো কখনো শান্তির পরিবর্তে অভিশাপ বা গজবের অর্থ বহন করে।

নিম্নে কিছু সাধারণ ভুল এবং তা থেকে পরিণতি তুলে ধরা হলো:

ভুল সালাম এবং তার অর্থ:

১. স্লামালাইকুম – অর্থ: উটের নাড়িভুঁড়ি আপনার জন্য!
২. আসসালামালাইকুম – অর্থ: আপনার মৃত্যু হোক!
৩. স্লামালিকুম – অর্থ: আপনার উপর গজব বর্ষিত হোক!
৪. সেলামালাইকুম / আসলা মালিকুম – এসবেও ভুল ও বিকৃত অর্থ বহন করে।

এসব ভুল উচ্চারণ কখনোই সালামের প্রকৃত তাৎপর্য বহন করে না। বরং এগুলো শান্তির বদলে গজব, অভিশাপ এবং অশান্তি কামনার ইঙ্গিত দেয় – যা এক মুসলমানের মুখে থাকা উচিত নয়।

ভুল উত্তরও বিপজ্জনক:

বিভিন্ন সময় সালামের জবাব দিতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা অর্থের দিক থেকে ভয়াবহ:

  • অলাইকুম সালাম
  • অলাইকুম আস-সালাম
  • আলিকুম সালাম

এসবও সালামের শুদ্ধ জবাব নয় এবং এর মাধ্যমে নেকি পাওয়ার পরিবর্তে।

মো: তুহিন হোসেন, বরিশাল অফিস।




আসল রিজিক কী? হিকমাহ না অর্থ?

ডেস্ক রিপোর্ট:: আল্লাহ তা’আলা যাকে চান, তাকেই অঢেল ধন-সম্পদ দান করেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তিনি তাকে ভালোবাসেন। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে দেন হিকমাহ—অর্থাৎ প্রজ্ঞা। আর যার মধ্যে হিকমাহ আছে, তার অন্তরে থাকে সাকিনা—শান্তি, ধৈর্য ও আত্মতৃপ্তি।

আমরা অনেক সময় দেখি, টেবিল ভর্তি খাবার থাকলেও কারো মন ভরে না। কারণ, সেখানে হিকমাহ নেই, নেই সাকিনা। অন্যদিকে কেউ কেউ আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়, কারণ সে পেয়েছে হিকমাহ, সে জানে সন্তুষ্ট থাকার মানে।

একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত ও সুন্দর জীবনসঙ্গী পেয়েও অসুখী থাকতে পারে, আবার বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েও দুঃখী হতে পারে—কারণ তার মধ্যে হিকমাহ নেই, সাকিনা নেই।

আল্লাহ যাকে হিকমাহ দেন, সে সব অবস্থায় তৃপ্ত ও প্রশান্ত থাকে। নিজের অবস্থা ও সীমাবদ্ধতাকে সে মানিয়ে নেয়। আর এটিই রিযিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

রিযিক মানে শুধু টাকা-পয়সা না। এর বিস্তৃতি অনেক বেশি—

সর্বনিম্ন স্তর: সম্পদ ও অর্থ

সর্বোচ্চ স্তর: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা

সর্বোত্তম স্তর: নেককার স্ত্রী ও সন্তান

পূর্ণতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি

রিযিক নির্ধারিত—কে কত টাকা আয় করবে, কে কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে, কবে কোথায় মারা যাবে—সবই পূর্বনির্ধারিত। এমনকি কে কতটা খাবার খাবে, কোন ফল খাবে, তাও নির্দিষ্ট।

যে ফলটি আজ আপনি খাচ্ছেন, তা হয়তো হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আপনার কাছে এসেছে। কারণ, এটি আপনার রিযিক। যত বাধা আসুক না কেন, যদি তা আপনার জন্য নির্ধারিত হয়—তবে তা আপনাকেই পৌঁছাবে।

এমনকি কোনো আত্মীয় যদি আপনার বাসায় এসে খায়, তবে সে আপনার খাবার খাচ্ছে না—সে নিজের রিযিকই গ্রহণ করছে, আর আপনি হচ্ছেন কেবল মাধ্যম।

আল্লাহ বলেছেন—“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নেননি।”

(সুরা হুদ: আয়াত ৬)

আরও বলেছেন—“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ খুলে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”

(সুরা ত্বালাক: আয়াত ২-৩)

আমরা যেন হালাল পথে আস্থাশীল থাকি, হিকমাহ অর্জন করি, রিযিকের সঠিক অর্থ বুঝে তাতে সন্তুষ্ট থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিযিক দান করুন, হারাম থেকে রক্ষা করুন।

(আমিন)




হজের অনুমতি ব্যতিত  মক্কায় প্রবেশ করা যাবে না 




পয়লা বৈশাখে তৌহিদবাদী সংস্কৃতিতে আসুন : হেফাজতে ইসলাম




বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে ফিলিস্তিন- সোহরাওয়ার্দীতে আজহারি

‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচিতে ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের ভালোবাসা ফুটে ওঠে

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংস হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি।

শনিবার (১২ এপ্রিল) ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। এসময় উপস্থিত ছিলেন দেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি।

সমাবেশে অংশ নিয়ে মিজানুর রহমান আজহারি বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে ফিলিস্তিন। আল-আকসার প্রতি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি আমাদের ভালোবাসা অগাধ।”

তিনি আরও বলেন, “ভৌগলিকভাবে আমরা দূরে থাকতে পারি, কিন্তু অনুভব করি যেন ফিলিস্তিন আমাদের ভেতরেই রক্ত হয়ে বইছে। ইসরায়েলি হামলায় আমাদের ভাই শহীদ হচ্ছে—এই অন্যায়ের জবাব জাতিসংঘকে দিতে হবে।”

আজহারি কর্মসূচিতে উপস্থিত সবাইকে স্লোগানে মুখরিত করতে আহ্বান জানান। বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় তার কণ্ঠে বারবার উঠে আসে:
“আমার ভাই শহীদ কেন—জাতিসংঘ জবাব চাই”
“ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন, ফ্রি ফ্রি আল আকসা”
“ওয়ান টু থ্রি ফোর—জেনোসাইড নো মোর”
“ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি—প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি”

এই কর্মসূচি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যুতে গণজাগরণ ও সংহতির আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত অবিলম্বে এই গণহত্যা থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুসলিম উম্মাহর দুর্বলতার মূল কারণ: ‘ওহন’ নামক রোগ এবং এর প্রতিকার

বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ এক অভাবনীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন। একদিকে দুনিয়ার মোহ, অন্যদিকে একতার অভাব এবং আত্মত্যাগের মানসিকতার পতন এসব মিলেই উম্মাহ আজ পরাজিত, অবমানিত এবং নির্যাতিত। অথচ সংখ্যায় মুসলমানরা কোটি কোটি। তাহলে এই দুর্বলতার মূল কারণ কী?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহু পূর্বেই এই দুর্দশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি বলেন:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
“يوشك أن تداعى عليكم الأمم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها”… إلى آخر الحديث
(رواه أبو داود، 4297)

হাদীসের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা::

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“এক সময় আসবে, যখন জাতিসমূহ (অবিশ্বাসীরা) তোমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে একত্রিত হবে, যেভাবে আহারকারীরা খাবারের থালার চারপাশে জড়ো হয়।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?”
তিনি বললেন, “না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক থাকবে, কিন্তু তোমরা হবে স্রোতের ফেনার মতো—অর্থহীন, দুর্বল, ও ছিন্নভিন্ন।”
“আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভয় উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওহন’ নামক দুর্বলতা নিক্ষেপ করবেন।”
সাহাবীগণ বললেন, “ওহন কী?”
রাসূল বললেন, “দুনিয়ার প্রেম ও মৃত্যুকে অপছন্দ করা।”

বর্তমান বাস্তবতায় হাদীসের প্রতিফলন::

আজ আমরা এই বাস্তবতার সাক্ষী। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, সিরিয়া, উইঘুর, রোহিঙ্গা, সুদানসহ বহু মুসলিম অঞ্চল রক্তে রঞ্জিত। মুসলমানেরা নির্যাতিত, বিভক্ত এবং বিশ্বমঞ্চে প্রায় গুরুত্বহীন। দুনিয়াপ্রীতি আমাদের অন্তর থেকে তাকওয়া ও আত্মত্যাগের শক্তি কেড়ে নিয়েছে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এমনকি ধর্মীয় নেতারাও অনেকে এই ওহনের শিকার। মুসলিম জাতি কেবল গৌরবময় অতীত মনে করে আবেগে তুষ্ট থাকে, কিন্তু সেই অতীত ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মে, ত্যাগে ও ঈমানে প্রস্তুত নয়।

ওহনের লক্ষণ::

১. দুনিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় আসক্তি
২. আখিরাতকে অবহেলা
৩. দ্বীনের কাজকে পিছনে ফেলে দুনিয়ার সফলতাকেই সাফল্য ভাবা
৪. আত্মত্যাগের অভাব
৫. মুসলিম উম্মাহর প্রতি দায়িত্ববোধের অভাব

প্রতিকার কী?::

১. ইখলাস ও তাকওয়া অর্জন: প্রত্যেক কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লক্ষ্য রাখা
২. আখিরাতমুখী চিন্তাভাবনা: মৃত্যুকে স্মরণ ও দুনিয়ার মোহ থেকে বেরিয়ে আসা
৩. ইসলামি শিক্ষা ও আমলের বিস্তার: ঘরে ও সমাজে দ্বীনি চর্চার পুনরুজ্জীবন
৪. উম্মাহর ঐক্য ফিরিয়ে আনা: দলাদলি, গোত্র, রাজনীতি ইত্যাদির ঊর্ধ্বে উঠে এক প্ল্যাটফর্মে আসা
৫. সাহসী নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মানসিকতা গঠন: ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে আল্লাহর পথে ত্যাগে প্রস্তুত হওয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ‘ওহন’ রোগের কথা বলেছেন, তা এখন বাস্তব। এ রোগ শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা উম্মাহকে গ্রাস করেছে। এখন সময়, আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করি, দুনিয়ার মোহ থেকে ফিরে আখিরাতকে মুখ্য করি এবং সাহাবীদের মতো একটি ঈমানদার, শক্তিশালী উম্মাহ গঠনের পথ গ্রহণ করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ‘ওহন’ নামক দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে ঈমান, একতা ও তাকওয়ায় বলীয়ান করুন। আমীন।

প্রতিবেদক :: (মো: মনিরুজ্জামান, লেখক ও সংবাদকর্মী ) 




সহনশীলতার অনন্য নজির: হযরত মু‘য়াবিয়া (রা.) এর উদারতা

ইসলামের ইতিহাসে হযরত মু‘য়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন প্রজ্ঞাবান ও সহিষ্ণু শাসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর উদারতা, দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

একবার মদিনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর একটি ক্ষেতের পাশে ছিল মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর একটি ক্ষেত। হঠাৎ করে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর ক্ষেতের শ্রমিকরা ভুলবশত ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর জমিতে প্রবেশ করে। এতে ইবনু যুবাইর (রাযি.) ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি একটি চিঠি পাঠান মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর কাছে।

চিঠিতে তিনি লিখেন:“আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের পক্ষ থেকে কলিজা-খেকো হিন্দের সন্তান মু‘য়াবিয়ার নামে। পর সমাচার, তোমার শ্রমিকগুলো আমার ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। জলদি তাদের সরাও, নতুবা আল্লাহর কসম! যা হবার তা হবেই।”

চিঠি পড়ার পর তাঁর পুত্র ইয়াযিদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাহিনী পাঠিয়ে তাঁকে দমন করা উচিত।” কিন্তু মু‘য়াবিয়া (রাযি.) শান্ত কণ্ঠে বলেন, “না, বরং এমন কিছু করি যাতে আত্মীয়তাও বজায় থাকে এবং উত্তম পথও অবলম্বন হয়।”

এরপর মু‘য়াবিয়া (রাযি.) ইবনু যুবাইর (রাযি.) কে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লেখেন:“আল্লাহর কসম! যদি আমার ও তোমার মাঝে গোটা দুনিয়াও থাকতো, সেটিও আমি তোমাকে দিয়ে দিতাম। আমার ক্ষেত যদি মদিনা থেকে দেমশক পর্যন্ত হতো, তাও তোমার করে দিতাম। এখনই আমার ক্ষেত তোমার সঙ্গে মিশিয়ে নিও, এমনকি শ্রমিকরাও তোমার হয়ে গেল।”

চিঠিটি পেয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) আবেগে কেঁদে ফেলেন। পরে তিনি দেমশকে গিয়ে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর মাথায় চুমু দিয়ে বলেন:“আপনার এই মহত্ত্ব ও সহিষ্ণুতার কারণে আল্লাহ যেন আপনাকে তাঁর দয়ার দরজা থেকে বঞ্চিত না করেন। এটাই তো আপনার মর্যাদার আসল রহস্য।”

এই ঘটনা ইসলামি ইতিহাসে ক্ষমা, উদারতা ও আত্মমর্যাদাবোধের চমৎকার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হজযাত্রীরা ভাগ্যবান: ধর্ম উপদেষ্টা

হজ যাত্রা এক বিশেষ ভাগ্যের বিষয়, এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, শুধু টাকা বা বিত্ত-বৈভব থাকলেই হজ করা সম্ভব নয়। অনেকের টাকা থাকা সত্ত্বেও, তারা নানা কারণে হজে যেতে পারেন না। মানুষ যখন মায়ের পেটে থাকে, তখনই তার জীবনের সময়, রিজিক, সৎকর্ম এবং হজে যাওয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

আজ (৯ এপ্রিল) সকালে, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হজযাত্রী প্রশিক্ষণ ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, হজের জন্য অবশ্যই হালাল অর্থ ব্যবহার করতে হবে। হারাম অর্থ দিয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হবে না। তিনি বলেন, সমাজে অনেকেই সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে, কিন্তু এসব হারাম উপার্জিত অর্থ দিয়ে হজ করার কোনো লাভ নেই। তিনি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “কোনো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, সুদখোর বা ঘুষখোর যখন হারাম শরিফে গিয়ে বলেন ‘আল্লাহ, আমি হাজির’, তখন ফেরেশতারা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘তোমার হাজিরা কবুল হয়নি’।” তাই, সৎপথে উপার্জন করতে সকলকে উৎসাহিত করেন তিনি।

হজব্রতের শারীরিক কষ্ট ও অর্থব্যয়ের বিষয়েও আলোকপাত করেন ড. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, হজের পথে বিভিন্ন পরিবহন সেবা পাওয়ার অভাব থাকতে পারে, হাজিদের মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা হেঁটে যেতে হতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। হজযাত্রীদের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ মানুষকে কুশলী করে তোলে এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সহজে পালন করতে সহায়তা করে। তিনি হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণে মনোযোগী হতে অনুরোধ করেন।

কবুল হজের ফজিলত বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত। হাজিদেরকে আল্লাহতায়ালা সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ করে দেন।

হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। এছাড়া, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যেখানে ঢাকা জেলার বেসরকারি মাধ্যমে সাত শতাধিক হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম