বাংলাদেশে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহা ৭ জুন

বাংলাদেশে ১৪৪৬ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ৭ জুন, শনিবার সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও কোরবানির মহিমায় উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা।

বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে জিলহজ মাসের গণনা শুরু হবে। সেই অনুযায়ী, ৭ জুন (শনিবার) ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাঁদ দেখা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর চালু রাখা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়ায় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, চাঁদ দেখা কমিটির সদস্য এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও ইন্দোনেশিয়ায়ও ২৮ মে চাঁদ দেখা গেছে। এসব দেশে ৫ জুন পালিত হবে আরাফাতের দিন এবং ৬ জুন ঈদুল আজহা উদযাপন করা হবে।




চলতি হজে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ঢাকা থেকে, বরিশাল সর্বনিম্ন

চলতি বছর পবিত্র হজ পালনে অংশ নিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন। অপরদিকে, বরিশাল বিভাগ থেকে যাচ্ছে সবচেয়ে কম হজযাত্রী।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, এবার ঢাকা বিভাগ থেকে ৩৩,৩১০ জন হজযাত্রী যাচ্ছেন, যা দেশের মোট হজযাত্রীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগ থেকে হজযাত্রী সংখ্যা মাত্র ২,৩৪১ জন, যা মোটের ৩ শতাংশ

এছাড়া অন্যান্য বিভাগের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে:

  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৪,১৯৩ জন (১৭%)
  • রাজশাহী বিভাগ: ১২,৫৯৮ জন (১৫%)
  • রংপুর বিভাগ: ৭,৭৭২ জন (৯%)
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ৫,৩৪৯ জন (৬%)
  • খুলনা বিভাগ: ৫,২৭১ জন (৬%)
  • সিলেট বিভাগ: ৩,১৪৮ জন (৪%)

মোট হজযাত্রী, ফ্লাইট ও ভিসার হালনাগাদ

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭,১০০ জন হজে যাচ্ছেন। এর মধ্যে:

  • সরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৫,২০০ জন
  • বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়: ৮১,৯০০ জন

হজযাত্রী পরিবহনে ৩টি এয়ারলাইন্স অংশ নিচ্ছে:

  • বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৮৫টি ফ্লাইট
  • সৌদি এয়ারলাইন্স: ৫৭টি ফ্লাইট
  • ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স: ২১টি ফ্লাইট

এখন পর্যন্ত সৌদি পৌঁছেছেন ৬২,৮৮৩ জন হজযাত্রী। মোট ফ্লাইট সংখ্যা ১৬৩টি। ইতোমধ্যে ৮৬,৯২৭টি ভিসা ইস্যু করা হয়েছে, যা শতভাগ।

বয়স, পেশা ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান

বয়স অনুযায়ী:

  • ১৮ বছরের নিচে: ৮০২ জন
  • ১৮-৪০ বছর: ৯,৮২২ জন
  • ৪০-৬০ বছর: ৪৭,৩০২ জন
  • ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে: ২৬,০৫৬ জন

লিঙ্গ অনুযায়ী:

  • পুরুষ: ৫৪,৪৭৩ জন
  • নারী: ২৯,৫০৬ জন

পেশাভিত্তিক পরিসংখ্যান:

  • গৃহিণী: ২৪,৯৩৯ জন (সর্বাধিক)
  • বেসরকারি চাকুরিজীবী: ১৪,৪৩৮ জন
  • ব্যবসায়ী: ১৪,২২৩ জন
  • কৃষক: ১১,৭১৯ জন
  • অবসরপ্রাপ্ত: ৪,২২০ জন
  • সরকারি চাকরিজীবী: ২,৯৮৮ জন
  • শিক্ষক: ২,৫৬৩ জন
  • ডাক্তার: ৮০০ জন
  • প্রকৌশলী: ৫৩৮ জন
  • ব্যাংকার: ৪৮৫ জন
  • শিক্ষার্থী: ১,৬৭১ জন
  • চাকরিহীন: ৫০৪ জন

 হজপথে মৃত্যু: এখন পর্যন্ত ১০ জন

চলতি হজে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন হজযাত্রী, যাঁদের মধ্যে ৮ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • হাফেজ উদ্দিন (৭৩), জামালপুর
  • আল হামিদা বানু, পঞ্চগড়
  • ফয়েজ উদ্দীন (৭২), নীলফামারী
  • শাহজাহান কবীর, মোহাম্মদপুর
  • জয়নাল হোসেন (৬০), গাজীপুর
  • সাহেব উদ্দিন (৬০), রংপুর

হজ ফ্লাইট সময়সূচি

  • হজ ফ্লাইট শুরু: ২৯ এপ্রিল
  • শেষ ফ্লাইট: ৩১ মে
  • ফিরতি ফ্লাইট শুরু: ১০ জুন
  • শেষ ফিরতি ফ্লাইট: ১০ জুলাই

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ধনী হওয়ার সঠিক পথ: নবীজির শিক্ষা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষই ধনী হতে চায়; তবে ধনী হওয়া শুধুমাত্র অর্থ-সম্পদে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত ধনী হওয়া মানে হলো অন্তর থেকে ধনী হওয়া—আল্লাহর প্রতি ঈমান, তাওয়াক্কুল (বিশ্বাস) ও তাকদিরে বিশ্বাস রাখা। নবী করিম (সা.) বলেছেন, হৃদয়ের ধনী ব্যক্তিই প্রকৃত ধনী।

বিশ্বজুড়ে সফলতার মাপকাঠি ভিন্ন ভিন্ন; কেউ দুনিয়ার মাল-সম্পদ, কেউ স্বাস্থ্য বা ক্ষমতাকে সফলতা বলে মনে করে। কিন্তু ইসলামে সফলতার মাপকাঠি পরকালের জন্য প্রস্তুতি এবং জান্নাত অর্জন।

মানবস্বভাব অনুযায়ী, সম্পদের অভাব কখনো মেটানো যায় না, যেমন এক পাহাড় স্বর্ণ হলেও তার চেয়ে বড় পাহাড়ের আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। এজন্য নবীজির শিক্ষা হলো—ধনী হওয়ার প্রকৃত মানদণ্ড হলো মন ও অন্তরের তৃপ্তি।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন,
“ধন-সম্পদের আধিক্য হলেই ধনী হয় না, বরং অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।” (সহিহ বুখারী: ৬৪৪৬)
আরেকবার তিনি বলেন,
“সচ্ছলতা হলো হৃদয়ের সচ্ছলতা, আর হৃদয়ের দারিদ্র্যই প্রকৃত দারিদ্র্য।” (ইবনে হিব্বান: ৬৮৫)

অর্থাৎ, মনের শান্তি ও সন্তুষ্টিই প্রকৃত সম্পদ, যা পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের দেওয়া হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




৪০ বছরের অপেক্ষার পর হজে গেলেন ইন্দোনেশীয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী দম্পতি

চার দশকের সঞ্চয়, অগাধ ধৈর্য আর অটুট বিশ্বাস—এই তিন শক্তিকে সম্বল করে অবশেষে হজ পালনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া করে জমিয়ে, ২০২৫ সালে এসে তারা সৌদি আরবে পৌঁছেছেন পবিত্র হজ পালনের জন্য।

লেজিমান নামের এই পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তার স্ত্রী ‘মক্কা রুট’ নামক একটি বিশেষ হজ কর্মসূচির আওতায় এবার ইন্দোনেশিয়া থেকে সৌদি আরবে গিয়েছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের হজযাত্রীরা নিজ দেশেই ভিসা, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেন, ফলে যাত্রা হয় সহজ ও সাশ্রয়ী।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেজিমান বলেন,“আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমি নিজের চোখে কাবা শরীফ দেখতে পাবো। আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি তাদের প্রতি, যারা আমাদের পাশে ছিলেন।”

তিনি জানান,“১৯৮৬ সালে আমি প্রতিদিন মাত্র ১,০০০ রুপিয়া সঞ্চয় শুরু করি। আয় দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর ছিল, তবু আমরা হাল ছাড়িনি। কঠিন পরিশ্রমের মধ্যেও আমরা একদিন হজে যাব—এই আশা নিয়েই টিকে ছিলাম।”

এই দম্পতির এই সাধনার খবর ছড়িয়ে পড়েছে ইন্দোনেশিয়া ছাড়িয়ে সারা মুসলিম বিশ্বে। অনেকেই তাদের জন্য দোয়া করছেন যেন তারা সুস্থভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুসলিম জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ, যদি শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম হওয়া যায়। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে এ বছর প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যাচ্ছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




কলাপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে রাখাইনদের গুরুদক্ষিণা উৎসব

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় রাখাইন সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘গুরুদক্ষিণা উৎসব’ উৎসবমুখর পরিবেশে পালন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় বালিয়াতলী ইউনিয়নের তুলতলী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধ বিহারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধর্মীয় আয়োজন শুরু হয়।

উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই কলাপাড়া ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার রাখাইন উপাসক-উপাসিকারা বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন। তারা গুরু ভক্তি ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পঞ্চশীল গ্রহণ করেন এবং দিনের সূচনা করেন প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে।

এরপর আয়োজনে অংশ নেন পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার সবচেয়ে প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় সঙ্গরাজ, ভান্তে উইকুইনন্দা মহাথের মহোদয়। তাকে গুরুদক্ষিণা প্রদান করে রাখাইনরা তার কাছ থেকে আর্শীবাদ গ্রহণ করেন। এ সময় পেছনের সব ভুল ও দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একে অপরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা, যা রাখাইন সমাজে আত্মশুদ্ধি ও সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

দিনব্যাপী চলা এই উৎসবে ছিল আহার প্রদানের আয়োজন, ধর্মীয় আলোচনা, ভিক্ষুদের দান প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মত নানা আয়োজনে মুখর ছিল পুরো বিহার এলাকা। রাখাইন নারী-পুরুষ ও শিশুরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেয় এই মহোৎসবে, যা ছিল এক চমৎকার মনোজ্ঞ দৃশ্য।

রাখাইন সমাজের নেতারা জানান, বর্ষাবাস শুরু হওয়ার আগেই প্রতিবছর এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি তারা বিপুল শ্রদ্ধা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে পালন করে থাকেন। এটি রাখাইন সংস্কৃতি ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি গভীর আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

স্থানীয়রা মনে করেন, এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা আশা করছেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পালন করা সম্ভব হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আজ (১৬ মে) থেকে শুরু হয়েছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাস মালিকদের সংগঠন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে ও পরবর্তী দিনের টিকিট সংগ্রহ করা যাচ্ছে আজ থেকে। ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই অগ্রিম টিকিট বিক্রি।

ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই টিকিট সংগ্রহ করে আলহামদুলিল্লাহ লিখে টিকিটের ছবিসহ পোস্ট দিয়েছে। এরমধ্যে মোহাম্মদ ইমরান লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ঈদের টিকিট পেয়ে গেলাম।’ তিনি সংগ্রহ করেছে ঢাকা-রংপুর রুটের ৩ জুনের বাসের টিকিট।

এরআগে গত ১৪ মে বিকেলে ঈদ উপলক্ষ্যে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির কথা জানান বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ। তিনি জানান, যাত্রীরা ১৬ মে থেকে বাসের টিকিট অনলাইন ও সরাসরি কাউন্টারে— দু’ভাবেই কিনতে পারবেন। তবে কিছু পরিবহন সংস্থা শুধুমাত্র অনলাইনের মাধ্যমেই টিকিট সরবরাহ করবে।

অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রাকেশ বলেন, বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাই অনুসরণ করতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া যাবে না। এবং এ বিষয়ে সব পরিবহন মালিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ঈদে বাড়ি ফেরা : বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ১৬ মে

বুধবার (১৪ মে) বিকেলে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ জানিয়েছেন,
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আগামী ১৬ মে থেকে শুরু হচ্ছে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। বাস মালিকদের সংগঠন বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৯ মে’র টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ওই দিন থেকে।

তিনি বলেন, যাত্রীরা ওই দিন থেকে বাসের টিকিট অনলাইন ও সরাসরি কাউন্টারে—দুই ভাবেই কিনতে পারবেন। তবে কিছু পরিবহন সংস্থা শুধু অনলাইনের মাধ্যমেই টিকিট সরবরাহ করবে।




হজ শেষে ১১ জুন থেকে চালু হচ্ছে উমরা ভিসা: সৌদি হজ মন্ত্রণালয়

মক্কা: এবছর হজ মৌসুম শেষ হওয়ার পরই ১৪ জিলহজ (১১ জুন) থেকে আবারও চালু হচ্ছে উমরা ভিসা। সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যারা রমজানে উমরা পালন করতে পারেননি, তারা হজ-পরবর্তী সময়ে উমরা পালনের সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১ শাওয়াল থেকে উমরা ভিসা বন্ধ হয়ে যায়, এবং এরপর কেবল ইস্যুকৃত ভিসাধারীরা ১৫ শাওয়াল পর্যন্ত সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারেন। হজ নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবার স্বার্থে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর হজ শেষ হওয়ার পর থেকেই বিদেশি উমরা যাত্রীদের জন্য আবারও ভিসা প্রদান শুরু হবে। তবে যাত্রীরা কবে থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

সৌদি মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগামী ১৪৪৭ হিজরি সালের ১৫ জিলকদ (হজ মৌসুমের পূর্ববর্তী সময়) এর মধ্যে সব উমরা পালনকারীদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।

এর আগে রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে সৌদি সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য উমরা ও ভিজিট ভিসা ইস্যু অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেছিল। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ছিল হজযাত্রীদের চলাফেরা ও ইবাদতে আরাম নিশ্চিত করা এবং পবিত্র স্থানগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও যানজট কমানো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সৌদি যাত্রায় আরও ২,২৪৮ হজযাত্রী, প্রস্তুত হজ ব্যবস্থাপনা

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে আজ বুধবার সৌদি আরব গেছেন আরও ২ হাজার ২৪৮ জন হজযাত্রী। তাঁদের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যাত্রা করেছেন ১ হাজার ৪৪৬ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্সে ৮০২ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. লোকমান হোসেন।

হজ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৯ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথম ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর আগে ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে হজ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাদের সফল হজযাত্রার জন্য শুভকামনা জানান।

হজযাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং উন্নত সেবা নিশ্চিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় এবার গ্রহণ করেছে বেশ কিছু আধুনিক উদ্যোগ। স্থাপন করা হয়েছে ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ এবং চালু করা হয়েছে হজ সংক্রান্ত একটি মোবাইল অ্যাপ। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা সহজেই পেতে পারবেন।

চলতি বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদি আরবের সৌদিয়া এয়ারলাইন্স সমানভাবে ৫০ শতাংশ হজযাত্রী বহন করবে, যার সংখ্যা প্রতি পক্ষের জন্য ৪৩ হাজার ৫৫০ জন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি সংস্থা ফ্লাইন্যাস এয়ারলাইন্স ১৫ শতাংশ হজযাত্রী পরিবহন করবে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০ শতাংশ হজযাত্রী সরাসরি মদিনায় এবং ৮০ শতাংশ মক্কায় গমন করবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবারের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ জুন। হজ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ৯৪১টি হজ এজেন্সি, যারা দেশজুড়ে হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণের কাজ পরিচালনা করছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সাধারণ প্যাকেজ ১-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ ২-এর খরচ ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। অপরদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ প্যাকেজের সর্বনিম্ন ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা হবে আরও সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর।

এ বছর হজযাত্রীদের যাত্রা থেকে মক্কা-মদিনায় অবস্থান এবং ফেরার প্রতিটি ধাপে তাদের সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং এজেন্সিগুলোর প্রশিক্ষিত প্রতিনিধি দল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অননুমোদিত হজ থেকে বিরত থাকতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ

চলতি হজ মৌসুমে কেউ যেন অনুমতি ছাড়া হজ পালন না করে—এমন সতর্ক অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার স্বার্থে দেশে ও প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে কোনো ব্যক্তি যেন ভিজিট ভিসায় মক্কা কিংবা পবিত্র স্থানসমূহে অবস্থান না করেন। সেই সঙ্গে হজ বিধিমালা লঙ্ঘনকারীদের কোনো ধরনের সহায়তা না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভিজিট ভিসায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা, পরিবহন, হোটেল বা আবাসনের ব্যবস্থা করে দেয়া, কিংবা সংরক্ষিত হজ এলাকায় প্রবেশে সহায়তা করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে সৌদি সরকার কড়া অবস্থানে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বৈধ হজ পারমিট ছাড়া কেউ পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করলে তাকে ২০ হাজার রিয়াল জরিমানা করা হবে। এমনকি কাউকে সহায়তা করলেও জরিমানা ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে এবং নিজস্ব যানবাহন জব্দের বিধানও রয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত অবস্থান করলে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সৌদিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে, যা কার্যকর থাকবে ১০ বছর।

২০২৫ সালের হজ মৌসুমের জন্য ২৯ এপ্রিল (১ জিলকদ) থেকে ১০ জুন (১৪ জিলহজ) পর্যন্ত সৌদি আরবে এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এ সময় ভিজিট ভিসাধারীরা মক্কা ও আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে প্রবেশ করলে তা কঠোর নজরদারির আওতায় আসবে।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, হজ একটি পবিত্র ইবাদত এবং এর ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের আইন-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ সৌদিতে কর্মরত এবং এখান থেকেই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে। তাই কোনো অনৈতিক ও বেআইনি কাজ দেশের স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”

ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক বলেন, “হজ একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় কার্যক্রম, যেখানে সৌদি আরব নীতিনির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ সরকার অংশীজন হিসেবে কাজ করে থাকে। সুপরিকল্পিত ও শৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সকল পক্ষকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ২০২৫ সালে একটি সফল ও সুশৃঙ্খল হজ আয়োজন করতে পারবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম