শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টামী উপলক্ষে বরিশালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

বরিশাল অফিস : সনাতন ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’র শুভ জন্মষ্টমী উৎসব উপলক্ষে দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনা করে বরিশালে বর্ণ্যাঢ্য শোভাযাত্রা আলোচনা সভা সহ মাসব্যাপি বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে ধর্মরক্ষিণী সভা।

বুধবার (৫ই) সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় নগরীর লাইনরোড সম্মুস্থ অস্থয়ী মঞ্চে মাসব্যাপি অনুষ্ঠানমালার সভাপতি রাখাল চন্দ্র দে সভাপতিত্বে বর্ণ্যাঢ্য র‌্যালির উদ্ধোধন করেন বরিশাল সিটি মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ্যাড.একে এম জাহাঙ্গীর হোসাইন,বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. তালুকদার মোঃ ইউনুস,বরিশাল ধর্মরক্ষিণীর সাধারন সম্পাদক মৃনাল কান্তি সাহা, মানিক মুখার্জী কুডু, তমাল মালাকার সহ বিভিন্ন সনাতন ধর্মের নেতৃবৃন্দ।

এর পূর্বে ইসকন,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সহ নগরীর বিভিন্ন হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও সংগঠন থেকে নিজস্ব ব্যানার সহকারে বিভিন্ন বয়সের মহিলা-পুরুষ ও শিশুরা গান-বাজনা করে আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানস্থলে এসে একত্রিত হয়।

পরে অর্ধাশতাধিক মিনি ট্রাকে করে কংসের কারাগার, রাধা কৃষ্ণ সাজ-সজ্জায় কয়েক শত মহিলা-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বেড় করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সনাতন ধর্মালম্বীদের শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টামী উপলক্ষে মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক পুলিশ,গোয়েন্দা সংস্থা ডিবি ও র‌্যাব সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য রাখা হয়।




বাউফলে ভূমি ও কৃষিতে নারীর অধিকার শীর্ষক সেমিনার

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: বাউফলে নারীর ভূমি অধিকার নিশ্চিতে দাঁড়াই একসাথে এই শ্লোগানে “ভুমি ও কৃষিতে নারীর অধিকার স্থানীয় বাস্তবতা, নাগরিক ভাবনা ও করনীয়” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্টিত হয়েছে। বেসরকারি সংস্থা স্পিড ট্রাস্টের আয়োজনে ও এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট (এএলআরডি) সহযোগিতায় মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিড ট্রাস্ট মিশন হেড সামসুল ইসলাম দিপু সভাপতিত্বে ও স্পিড ট্রাস্ট উজ্জীবকা সাইফুল ইসলামের সঞ্চলনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি উথেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশীর গাজী।
ভূমি ও কৃষিতে নারীর অধিকারের নিয়ে এএলআরডি উপ-নির্বহী পরিচালক রওশন জাহান মনি সেমিনারে বলেন, বাংলাদেশে নারী ও পুরষের মধ্যে সমতাযনের পতে একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিবন্ধকতা হরো ভূমিতে নারীর অধিকারহীনতা। মূলত বৈষম্যমূলক সামজিক ক্ষমতা কাঠামো এবং পিতৃতানিএক ক্ষমতা সস্পকেৃর কারণেই নারীরা ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু ভূমি নয়, কৃষি বা কৃষিজ উৎপাদন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে নারীরা।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি প্রতীপ কুমার কুন্ড, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাবেক ভাইস চেযারম্যান শামসুল আলম মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান, স্লোব-বাংলাদেশ প্রকল্প কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, সাংবাদিক অহিদুজ্জামান ডিউক, সাংবাদিক জসিম উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারন উপ-সহকৃষি কর্মকর্তা আনছার মোল্লা, আরডিএস পরিচালক আ. খালেক প্রমুখ।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বহী অফিসার মো. বশীর গাজী বলেন, বর্তমান সরকার সর্বক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আগামী দিন থেকে পুরুষের পাশাপাশি সম হারে উপজেলা থেকে কৃষি প্রনোদনা দেয়া হবে। যাতে নারীরা কৃষি কাজে অংশগ্রহন করে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।




এক রাত ঠিকমতো না ঘুমালে যে ক্ষতি হয়

কাউকে কম ঘুমাতে দিয়ে এবং কাউকে পর্যাপ্ত ঘুমাতে দিয়ে বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করেছেন। পেয়েছেন দারুণ শিহরণ জাগানিয়া তথ্য। নিউরোসাইন্টিস্ট ম্যাথু ওয়াকারের ভিডিও অবলম্বনে এই তথ্য নিয়ে লিখেছেন মো: লতিফুর রহমান।

১. যারা কম ঘুমায় তাদের স্মৃতি তৈরি হয় না। বিশেষ করে বাচ্চারা রাতে কম ঘুমালে পড়া ভুলে যায়। অনেকটা কম্পিউটারে কাজ করার পর ফাইল সেভ না করার মতো।

২. আমরা দৈনন্দিন অনেক কিছু ভুলে যায় কিন্তু পুরানো স্মৃতি মনে রাখতে পারি। এজন্য দরকার শর্ট টার্ম স্মৃতিকে লং টার্মে কনভার্ট করা। কিন্তু ঘুম কম হলে এখানেও সমস্যা হয়। ব্রেইনের হিপোকমপাস নামক মেমরি ইনবক্সে নতুন স্মৃতি প্রবেশ করে না।

৩. এক রাত কম ঘুমালে পর দিন ব্রেইনের কর্মক্ষমতা কমে যায় ৪০%।

৪. শরীরে রয়েছে ন্যাচারাল কিলার সেল। এরা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার মতো ভুমিকা পালন করে। এক রাত ঠিক মতো না ঘুমালে এটার উৎপাদন কমে যায় ৭০%। ফলে ওই সময় রোগ-ব্যাধীতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৫. কোষের ডিএনএ-র মধ্যে থাকে জিন। এরা বিভিন্ন শারিরীক প্রতিক্রিয়া ঘটানোর জন্য দায়ী। ঘুম এলোমেলো হলে এদের কেউ সক্রিয় হয় এবং কেউ হয় নিস্ক্রিয়। যেমন- ঘুম কম হলে ন্যাচারাল কিলার সেলের জিন নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর টিউমার ও ক্যানসারের জিন সক্রিয় হয়।

তাই বলা যায়, বংশগত রোগ বলে কিছু নেই। মূলত আছে বংশের অভ্যাস। বাবার অভ্যাস অনুসরণ করে ছেলেরও একই রোগ হয়েছে।

৬. কম ঘুমালে পুরুষের টেস্টকল ছোট হয়ে যায় এবং টেস্টটেরন কমে যায়। যৌন ক্ষমতা কমে যায় দশ গুন। অর্থাৎ অকালে পুরুষের বয়স বেড়ে যায় ১০ বছর।

৭. মেয়েদের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্নক কমে যায়। হরমোন এলোমেলো হওয়ার প্রভাবে তাদের স্বভাব চরিত্র হয়ে পড়ে পুরুষের মতো মাসিকে সমস্যা দেখা দেয়।

৮. নারী পুরুষ উভয়ের হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বলা নাই কওয়া নাই হুট করে কেউ কেউ মরে যায়।

৯. স্বপ্ন দেখা ভালো। তার মানে আপনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। যেদিন কেউ স্বপ্ন দেখেছে তার ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে তার জ্ঞান বুদ্ধি আগের তুলনায় বেড়েছে।

১০. ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমালে উপকার পাওয়া যায় না। এছাড়া কারো সহযোগিতা ছাড়া নিজ থেকে ঘুম থেকে ওঠা ভালো।

১১. ঘুমের উপকারী সময় হচ্ছে রাত ৯টা থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। অর্থাৎ ভোর ৫টা। দেরি করে ঘুমিয়ে দেরি করে উঠে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে একই ফায়দা পাওয়া যায় না। কারণ কোয়ালিটি ঘুম হওয়া উচিত। অর্থাৎ যেই ঘুমের সময় শরীরে উপকারী হরমোন ও এনজাইম নিসৃত হয় সেটা লাগবে।

১২. প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং একই সময়ে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস করা খুবই উপকারী।

১৩. কৃত্রিম আলো ও কৃত্রিম শব্দ নেই এমন স্থানে ঘুমাতে হবে। এমনকি চার্জারের মিটিমিটি আলো নিভায়ে ফেলতে হবে। ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানিতে গোসল করা উত্তম। রাতের খাবার খেতে হবে সন্ধ্যার সময়। আর বিকালের পরে চা, কফি বা এজাতীয় উত্তেজক কিছু খাওয়া যাবে না।

১৪. ঘুমের কাজা আদায় হয় না। পরে বেশি ঘুমিয়ে কখনই আয়ু বাড়ানো যায় না। এজন্য বর্তমানে অকালে মৃত্যু বেড়ে গিয়েছে।




পটুয়াখালীতে বাল্যবিবাহ রোধে  কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী: বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধের তৎপরতা তরান্বিতকরণ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩০ আগস্ট) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের দরবার হলে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের আয়োজনে, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহযোগিতায় এবং মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ আবদুল্লাহ সাদীদ।

মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের ডে-কেয়ার ইনচার্জ রেখা রানী হালদার এর সঞ্চালনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক শিরিন সুলতান।

বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ বন্ধের তৎপরতা তরান্মিতকরণ প্রকল্পের জেলা পর্যায়ে অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রকল্পের পরিচিতি পাওয়ার পয়েন্টে তুলে ধরেন ইউএনএফপির ফিল্ড অফিসার কামরুজ্জামান।

বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা: এস এম কবির হাসান, জেলা শিক্ষা অফিসার মুহাঃ মুজিবুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুর রহমান, সদর উপজেলা শিক্ষ অফিসার আহমল হোসেন খান।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, কিশোরী মেয়েদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিবাহিত-অবিবাহিত মেয়েদের জন্য বিনিয়োগ বাড়ানো, কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারি ও বে-সরকারি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কর্মের গতি বাড়ানো। দিনব্যাপী কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের প্রধানগণ, এনজিও প্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন, নিকাহ রেজিস্ট্রার, জেলাসহ বিভিন্ন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।




ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের যেকোনো শহর ভ্রমণ করা যাবে: সৌদি হজ মন্ত্রী

চন্দ্রদীপ নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সব সময়ই দৃঢ় সম্পর্ক ছিল যা আজও অব্যাহত রয়েছে। এই সুসম্পর্কের মূলে রয়েছে সৌদি আরবে কাজ করতে আসা বাংলাদেশিরা।

ওমরাহ ভিসা ব্যবহার করে সৌদি আরবের যেকোনো শহর ভ্রমণ করা যাবে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক আল-রাবিয়াহ।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সৌদি মন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়াহ বলেন, ‘আমি আমাদের বাংলাদেশি ভাই ও বোনদের মক্কা ও মদিনায় আসার আমন্ত্রণ জানাতে চাই। এখন আপনাদের আসার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। ওমরাহ ভিসার মেয়াদ ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিন করা হয়েছে। যারা মক্কা ও মদিনা পরিদর্শনে আসবেন, তারা চাইলে রিয়াদ, দাম্মাম বা অন্য যেকোনো শহরে (একই ভিসা ব্যবহার করে) যেতে পারবেন। একটি বড় সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক সৌদি আরবের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। প্রায় ২৮ লাখ বাংলাদেশি এখানে কাজ করছেন। আমি মোটামুটি নিশ্চিত, যত বাংলাদেশি ওমরাহ করার জন্য এখানে আসেন, তাদের অন্তত একজন হলেও বন্ধু বা আত্মীয় সৌদি আরবে রয়েছেন, যাদের সঙ্গে দেখা করা এখন আরও সহজ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা এখন মাহরামের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই মক্কা বা মদিনায় আসতে পারেন। এটি একটি নতুন সুবিধা যা আমরা চালু করেছি। এছাড়াও, ওমরাহ ভিসা সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যু করা হয়, যা মূলত একটি ইলেক্ট্রনিক ভিসা। এটি খুবই দ্রুত এবং আপনারা যেকোনো পর্যটন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর জন্য আবেদন জানাতে পারেন। অথবা আপনারা নুসুক নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরিও আবেদন জানাতে পারেন। এটি একটি অনলাইন ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে ওমরাহ ভিসা সহ সব ধরনের ভিসার আবেদন করা যায় ও থাকার জায়গা খুঁজে বুকিং দেওয়া যায়।’

‘পাশাপাশি, আমরা ট্রানজিট ভিসাও চালু করেছি। পশ্চিমের দেশগুলোতে ভ্রমণের সময় সৌদি আরবে যাত্রাবিরতি নেওয়া যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক ঊর্ধ্বে ৪ দিনের ট্রানজিট ভিসা পেতে পারেন। এই ভিসা ব্যবহার করে তারা মদিনা ছাড়া অন্য যেকোনো শহরে যেতে ও বিমানবন্দরে ফিরে আসতে পারবেন। বিমান টিকিটের অংশ হিসেবে এই সেবা পাওয়া যাবে—এর জন্য আলাদা কোন ভিসা ফি দিতে হবে না। অর্থাৎ, এটি আরও একটি সুবিধা যা আমরা দিচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ‘সর্বোপরি, আমাদের দেশে আসার জন্য পর্যটক ভিসা সুবিধাও রয়েছে। সৌদি আরবে বসবাসরত যেকোনো বাংলাদেশি অন্য যেকোনো বাংলাদেশিকে আমন্ত্রণ জানানোর ভিত্তিতে এই ভিসা দেওয়া হয়। আমি আবারো জোর দিয়ে বলতে চাই, আরও বেশি বাংলাদেশি মানুষ যাতে আরও সহজে মক্কা-মদিনায় আসতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই আমি এখানে এসেছি।

এ বিষয়ে সৌদি আরব ও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মধ্যে চুক্তি সাক্ষর হবে। এর ফলে ২ দেশের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়বে।এছাড়াও আমরা ফ্লাইটের খরচ কমানো ও সেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলোও মাথায় রাখছি, যাতে বাংলাদেশে আমাদের ভাই ও বোনেরা সৌদি আরবে আসতে পারেন।’




সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার অন্যতম মাধ্যম সালাম বিনিময়

সমাজে হিংসা-হানাহানি বিদ্বেষ দূর করে পারস্পরিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ‘সালামের’ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। ‘সালাম’ শব্দটি মহান রাব্বুল আলামীনের গুন বাচক নাম “সালাম” ইসলামের একটি অন্যকতম বিধান। হযরত আদম (আ:) হতে শুরু করে প্রত্যেক নবীর যুগেই সালামের প্রচলন ছিল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) আনীত দ্বীনে এর প্রচলনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তিনটি বিশেষ সুন্নতের ওপর আমল করলে প্রিয় নবি হযরত মুহম্মদ স. অধিকাংশ সুন্নতের ওপর আমল করা সহজ হয়। এর মধ্যের অন্যনতম হলো সমাজে বেশি বেশি সালামের প্রচলন করা। আগে সালাম দেওয়ার চেষ্টা করা। ধর্ম ও জীবন এই পর্বে এ সম্পর্কে লিখেছেন হাফেজ মাওলানা মানজুরুল হক, মুহতামিম, বাইতুল ফালাহ মাদরাসা ও এতিমখানা, আফতাব নগন, বা্ড্ডা, ঢাকা

সহি শুদ্ধভাবে সালাম দেয়ার মাসায়েল:
১. আসসালামু-এর হামযা এবং মীমের পেশকে স্পস্ট করে উচ্চারণ করা! (মুসলিম)
২. পরিচিত-অপরিচিত, ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলকে সালাম দিবে মাতা-পিতা স্বামী, ছেলে-মেয়ে সকলকেই সালাম করবে! অনেকে মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে বা স্বামীকে সালাম দিতে লজ্জা বোধ করে! অথচ এই লজ্জা ঠিক না! কয়েক দিন সালাম দিলেই এ লজ্জা কেটে যাবে! লজ্জা করে সালামের মত একটি ফযীলতের আমল থেকে বঞ্চিত হওয়া বোকামি (বুখারী ও মুসলিম)
৩. সওয়ারী ব্যক্তি পায়ে চলা ব্যক্তিকে, চলনেওলা বসা বা দাঁড়ানো ব্যক্তিকে, আগন্তুক অবস্থানকারীকে, কম সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোককে এবং কম বয়সী ব্যক্তি অধিক বয়সীকে আগে সালাম করবে এটাই উত্তম।

৪. সালামের সময় হাত দিয়ে ইশারা করবে না বা হাত কপালে ঠেকাবে না কিংবা মাথা ঝুকাবে না! তবে দূরবর্তী লোককে সালাম করলে-যার পর্যন্ত আওয়াজ না পৌছাঁর সম্ভাবনা রয়েছে-সেরুপ ক্ষেত্রে শুধু বোঝানোর জন্যে হাত দিয়ে ইশারা করা যেতে পারে। আমাদের অভ্যাস হল প্রয়োজন না থাকলেও আমরা সালাম প্রদান করার সময় হাত উঠাই এটা ঠিক না

৫. হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান, ইয়াহুদী প্রমুখ অমুসলিমকে সালাম করবে না তবে বিশেষ প্রয়োজনে নিজের ক্ষতির আশংকা থেকে বাচাঁর জন্যক একান্তই কিছু বলে যদি তাকে অভিবাদন জানাতেই হয়, তাহলে “গুডমর্নি ” “গুড ইভিনিং “বা শুভ-সকাল ইত্যাদি কিছু বলে অভিবাদন করা যায় (মুসলিম)
৬. কোন মজলিসে মুসলিম অমুসলিম উভয় প্রকারের লোক থাকলে মুসলমানদের নিয়তে সালাম দিবে কিবা নিম্নরূপ বাক্যেও সালাম দেয়া যায় (আসসালামু আলা মানিত্তাবা আল হূদা) (বুখারী ও মুসলিম)
৭. কিছ লোককে আবার সালাম দেয়া নিষিদ্ধ অর্থাৎ মাকরূহ (ক) কোন পাপ কাজেরত ব্যক্তিগনকে (খ) পেশাব-পায়খানায়রত লোককে (গ) পানাহাররত ব্যক্তিকে (ঘ) ইবাদত রত ব্যক্তিকে (ঙ) কোন মজলিসে বিশেষ কথা-বর্তা বলার মুহুর্তে, কথা -বার্তায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও সালাম করা উচিত না (চ) গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে ফেতনার আশংকা থাকে সেখানে সালাম আদান – প্রদান নিষিদ্ধ। কোন খালি ঘরে প্রবেশ করলে সেখান-ও সালাম দিতে হয়। সেক্ষেত্রে “আসসালামু আলাইনা অ আলা ইবাদিললাহি অথবা “আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল বাইতিস সালিহীন”।

সহীহ্ বোখারী ও মুসলিম শরীফ অবলম্বনে।




জেলা মডেল মসজিদে প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা করছেন ওলামায়ে কেরাম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: জেলার সকল উলামায় কেরামগণ একত্রিত হয়ে সম্মিলিত ভাবে ইসলামের সঠিক দাওয়াত সকল মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা মডেল মসজিদে অবস্থান করে প্রতিদিন নিদিষ্ট সময়ে বিষয় ভিত্তিক আলোচনা পেশ করছেন।

জেলার সম্মানিত উলামায় কেরামগণের এই বিশেষ উদ্যোগের দাওয়াত পৌঁছে দিতে বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবে আসেন জেলা ইমাম পরিষদ ও বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আবু সাঈদসহ চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

এসময় পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম আরিফ সহ পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিশেষ দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।




শরিয়তের দৃষ্টিতে পায়খানা-প্রসাবের (এসতেনজার) আদব ও সুন্নত

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। বিশেষ করে পায়খানা ‍ও প্রসাবের পরে পবিত্রতা অর্জনের জন্য ইসলামে বিশেষ তাগিদ দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বলেছেন, মিরাজের সময়ে আল্লাহতায়ালা তাকে যখন জাহান্নাম দেখিয়েছেন, তখন তিনি দেখেছেন পুরুষের মধ্যে যারা জাহান্নামী তাদের বেশিরভাগ পায়খানা-প্রসাবের পর ভালোভাবে পবিত্র হয়নি। ধর্ম ও জীবন এই পর্বে এ সম্পর্কে লিখেছেন মাওলানা মানজুরুল হক, মুহতামিম, বাইতুল ফালাহ মাদরাসা  ও এতিমখানা,  আফতাব নগর, বাড্ডা, ঢাকা।

এসতেনজার আদব ও সুন্নতসমূহ:

১. এস্তেনজাখানায় প্রবেশের আগে বিসমিল্লাহ বলা

২. খালি পায়ে প্রবেশ না করা। প্রথমে ডান পায়ে জুতা পরা ( সহিহ বুখারী : ১৬৮, বাইহাকী: ৪৫৯)

৩. এস্তেনজাখানায় প্রবেশর পূর্বে এই দোয়া পড়া-বিসমিল্লাহী আল্লাহুম্মা ইন্নি আওজুবিকা মিনাল খুবসি অল খাবায়েস (সহিহ বুখারী ১৪২, ইবনে মাজাহ: ২৯৭, মুসান্নাফে আবি শাইব: (ভুলে গেলে প্রবেশের অথবা কাপড়  উঠানোর পর মনে মনে দোয়া পড়া / মুখে উচ্চারণ  না করা)

৪. এস্তেনজাখানায় প্রথমে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করা (সহিহ বুখারী: ১৬৮, আবু দাউদ ৩২)

৫. এস্তেনজাখানায় বসার সময় প্রথমে ডান পা দিয়া পাদানিতে বসা এবং নামার সময় প্রথমে বাম পা দিয়ে নামা (আবু দাউদ: ৩২)

৬. বাম পায়ে ভর দিয়ে এস্তেনজা করা (ত্বাবারানি কবীর: ৬৪৭৬, বাইহাকী: ৪৬২)

৭. কেবলার দিকে মুখ ও পিঠ করে না বসা (বুখারী: ১৪৪, মুসলিম: ২৬৪)

৮. এস্তেনজাখানা হতে বের হ ওয়ার সময় প্রথমে ডান পা দিয়ে বের হয়ে এই দোয়া পরা -গোফরানাকা আলহামদুলিল্লা হীললাযি আযহাবা আন্নি আল আযা অ আফানি (আবুদাউদ: ৩২ ইবনে মাজাহ: ৩০০ ও ৩০১)

৯. কবরস্থান,মানুষ চলাচলের রাস্তার পাশে, গোসল খানায়, ছায়াদার ও ফলদার গাছের নিচে পেশাব-পায়খানা করা মাকরুহে তাহরিমি (সহিহ মুসলিম: ২৫৯, আবুদাউদ ২৭,মুজামুল আওসাত: ২৩৯২)

১০. বেজোড় সংখ‍্যায় ঢিলা ব‍্যবহার করা (বুখারী: ১৬১ ও মুসলিম ২৩৭)




সকল এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ দাবীতে পটুয়াখালীতে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের মানববন্ধন

মোঃ আল-আমিন (পটুয়াখালী): ইবতেদায়ী মাদরাসাসহ সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করণ ও মাদরাসা শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রাখার দাবীতে জাতীয় শিক্ষক ফোরামের উদ্যোগে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে।

শনিবার পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে জেলা জাতীয় শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা আনছার উল্লাহ আনছারী এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মোঃ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ঘন্টাব্যাপী অবস্থান ও মানববন্ধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শিক্ষক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা আর.আই.এম অহিদুজ্জামান।

বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির উপদেষ্ঠা মোঃ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবুল হাসান বোখারী ও সহ-সুপার মাওলানা মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মোঃ হাফিজুর রহমান, উপাধ্যক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন জাফর, সহকারী শিক্ষক মাস্টার মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ আল আমিন, মাওলানা বশির উল্লাহ নোমানী, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, মাওলানা ফোরকান মাহমুদ, মাওলানা আলিম প্রমুখ।

বক্তারা উক্ত দাবী সমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানান। শেষে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবুল বশার।