বিভ্রান্তি নয়, আইন অনুযায়ী খিলক্ষেত থেকে মণ্ডপ সরানো হয়েছে: রেল উপদেষ্টা

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় রেলওয়ের জমিতে স্থাপিত একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।

শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি জানান, গত বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু ব্যক্তি পূর্বানুমতি ছাড়াই রেলের জমিতে অস্থায়ী মণ্ডপ নির্মাণ করেন। পূজার আয়োজনের সময় তারা পূজা শেষে মণ্ডপটি সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পূজা শেষ হওয়ার পর বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা সরাননি।

ফাওজুল কবির বলেন, “পূজার আয়োজকরা পরে সেখানে স্থায়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা রেল কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছিল না। তাদের একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি।”

তিনি জানান, জনস্বার্থে ও সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করতে সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গতকাল বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা—দোকানপাট, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, কাঁচাবাজার এবং সর্বশেষ অস্থায়ী মণ্ডপটি সরানো হয়।

অস্থায়ী মণ্ডপে থাকা প্রতিমাগুলো যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে বালু নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফাওজুল কবির আরও বলেন, “মণ্ডপ সরানোকে কেন্দ্র করে যেকোনো বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ আইনের বাইরে কিছু করেনি, বরং জনস্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”




হিজরি নববর্ষে কাবার গিলাফ পরিবর্তন: ইতিহাস, প্রক্রিয়া ও ব্যয়বিবরণ

 

  • কাবার গিলাফ (কিসওয়া) প্রতি বছর হিজরি নববর্ষের রাতে, এশার নামাজের পর পরিবর্তন করা হয়।
  • এর আগে জিলহজ ৯ তারিখ (আরাফার দিন) গিলাফ বদলানো হতো।
  • ২০২২ সাল থেকে এই রীতি বদলে মহররমের ১ম দিনে করা হচ্ছে গিলাফ পরিবর্তন।

গিলাফ তৈরির কারিগরি বিবরণ

  • মোট আয়তন: ৬৫৮ বর্গমিটার
  • রেশম: ৬৭০ কেজি (কালো রঙের)
  • স্বর্ণ: ২১ ক্যারেটের ১২০ কেজি
  • রুপা: ১০০ কেজি
  •  সেলাই: ৪৭টি টুকরোতে ভাগ করা কাপড়
  • কারিগর: শতাধিক দক্ষ কারিগর এবং প্রযুক্তিবিদ অংশ নেন
  • বিশ্বের সবচেয়ে বড় সেলাই মেশিন (১৬ মিটার দৈর্ঘ্য) ব্যবহার করে সেলাই
  • সময় লাগে: গড় ৬-৮ মাস
  • ব্যয়: প্রায় ২৫ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল (~৬.৫ মিলিয়ন USD)
  • ওজন: আনুমানিক ৮৫০ কেজি

 পরিবর্তন প্রক্রিয়া

  • বিশেষ সুসজ্জিত গাড়িতে গিলাফ আনা হয়।
  • পুরনো গিলাফ নিচে নামিয়ে নতুন গিলাফের চারটি দিক এবং দরজার অংশ বসানো হয়।
  • নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পাহারায়, অত্যন্ত গোছানোভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

 প্রচার ও ঐতিহ্য

  • অনুষ্ঠানটি মক্কা লাইভ চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
  • এটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়।

 প্রশ্ন: পুরনো গিলাফ কী করা হয়?

  • পুরনো গিলাফ সংরক্ষণ করা হয়, কেটে কেটে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম নেতাদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
  • কিছু অংশ জাদুঘর বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও রাখা হয় প্রদর্শনীর জন্য।

 গিলাফের তাৎপর্য

  • এটি শুধু একটি কাপড় নয়, বরং মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, শ্রদ্ধা ও ঐতিহ্যের প্রতীক।
  • পবিত্র কাবার গিলাফ পরিবর্তনের রীতি মুসলমানদের কাছে হিজরি নববর্ষের এক অনন্য স্মারক।



গৌরনদীতে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বাছাই ও পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালের গৌরনদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আসনভিত্তিক প্রার্থী বাছাই ও পরামর্শ সভা।
সোমবার (২৩ জুন) বিকেলে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডস্থ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় অংশ নেন দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের প্রার্থী বাছাই উপলক্ষে আয়োজিত এই পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান

সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা মো. আব্দুর রহমান

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

  • মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম (জেলা শাখার উপাধ্যক্ষ)
  • প্রভাষক মুহাম্মদ আল আমিন
  • মাওলানা গাজী মো. ওসমান গণী
  • শরীফ মো. আবুল কালাম আজাদ
  • মাওলানা মো. আবুল খায়ের
  • মো. রাসেল সরদার মেহেদী
  • মো. মোস্তফা কামাল

এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল-১ আসনে দলীয় কৌশল নির্ধারণ, সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা, স্থানীয় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের কার্যক্রম মূল্যায়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান হেফাজতের

চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য “মহাযুদ্ধের” প্রস্তুতি নিতে হবে।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ইসরায়েল আজ শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং মানবতা ধ্বংসকারী এক দানব রূপে আবির্ভূত হয়েছে। এই অবৈধ রাষ্ট্রের আগ্রাসন ও গণহত্যা বৈশ্বিক শান্তির জন্য ভয়ানক হুমকি।”

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, মুসলিম বিশ্বকে আর নীরব থাকার সুযোগ নেই। অস্ত্রের পাশাপাশি জ্ঞান, কৌশল ও ঐক্যের লড়াইয়ের মাধ্যমে ইসরায়েল ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করতে হবে। এ জন্য আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশ্বের উৎকর্ষ অর্জন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে যুদ্ধাপরাধ চালিয়ে আসছে। বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা এবং গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং ইউরোপের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

হেফাজতের নেতারা বলেন, “যখন ফিলিস্তিনে গণহত্যা চলে, তখন বিশ্ব মানবতা রক্ষার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো নীরব থাকে। কিন্তু ইসরায়েল প্রতিরোধের মুখে পড়লেই তারা সক্রিয় হয়। এতে প্রমাণ হয়, তারা কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তরিক নয়; বরং বিশ্বব্যাপী সংঘাতের জন্ম দিয়েছে বারবার।”

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইরানকে যুদ্ধে জড়ানো হয়েছে। হেফাজতের মতে, “আধুনিক রূপে আবারও একটি ক্রুসেড শুরু হয়েছে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তবে ইনশাআল্লাহ, ইসরায়েলের পতনের সঙ্গেই আমেরিকা ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের পতনও অনিবার্য হয়ে উঠবে।”




হারামে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান

পবিত্র মসজিদুল হারামে আগত মুসল্লিদের জন্য স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বিষয়ক জেনারেল প্রেসিডেন্সি। হজ মৌসুম শেষে এখনও হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন মসজিদুল হারামে সমবেত হচ্ছেন। এ অবস্থায় বিপুল জনসমাগমে যাতে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়, সেজন্য এই সতর্কতামূলক বার্তা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মুসল্লিদেরকে অবশ্যই মুখে মাস্ক পরতে হবে, নিয়মিতভাবে সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার রাখতে হবে, এবং ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন পানির বোতল, জায়নামাজ বা রুমাল অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি গরমে হিটস্ট্রোক এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

মসজিদের ভেতরে ও বাইরের যাতায়াত পথে ভিড় এড়িয়ে চলার পাশাপাশি কেউ যদি অসুস্থতার উপসর্গ অনুভব করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।

এছাড়া, জরুরি সেবার জন্য মসজিদুল হারামের অভ্যন্তরে স্থাপিত তিনটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রয়েছে। মক্কা হেলথ ক্লাস্টারের আওতাধীন এসব চিকিৎসাকেন্দ্রে যেকোনো মুহূর্তে প্রাথমিক চিকিৎসা পাওয়া যাবে।

সৌদি সরকার ও হজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিটি সুরক্ষা ব্যবস্থা মুসল্লিদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে, যা পবিত্র দুই মসজিদের প্রতি সৌদি নেতৃত্বের অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিশ্ব মুসলিমকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার (৬ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঈদুল আজহাকে ‘কুরবান বায়রাম’ বলে উল্লেখ করেন পুতিন। এতে তিনি বলেন, “এই উৎসব মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন, যা পূর্বপুরুষদের শিক্ষা, করুণা এবং সহানুভূতির চেতনায় ভরপুর। মুসলিম সম্প্রদায় সেই শিক্ষা ধারন করে পরবর্তী প্রজন্মে তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাশিয়ায় মুসলিম সম্প্রদায় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তারা নিজেদের সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়ার সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখছে। এসব অবদান বিশেষ স্বীকৃতি এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

রাশিয়ায় সরকারিভাবে চারটি ধর্ম—খ্রিস্টান, ইসলাম, ইহুদি ও বৌদ্ধধর্ম—স্বীকৃত। প্রায় ১৪ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে মুসলিমরা দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।

ঈদুল আজহার এই বার্তায় পুতিন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের বার্তা দেন।




সিলেটে শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ জুন) সকাল ৮টায় এ জামাতে ধর্মপ্রাণ হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

নামাজ শুরুর আগে কোরবানির তাৎপর্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত বয়ান দেন বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খান। জামাতে ইমামতি করেন একই মসজিদের ইমাম মাওলানা মুফতি জুনায়েদ আহমদ।

সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবছর মোট ২ হাজার ৯৪১টি ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে মহানগর এলাকায় ৩৯০টি এবং জেলার উপজেলাগুলোতে ২ হাজার ৫৫১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মহানগরের ১৪২টি ঈদগাহ ও খোলা স্থানে এবং ২৪৮টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ২৭৪টি মসজিদ ও ২৭৭টি ঈদগাহে ঈদের জামাত।

হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে সকাল ৭টা, ৮টা ও ৯টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে ইমামতি করেন শায়খ সাঈদ বিন নুরুজ্জামান আল মাদানী, হাফেজ মাওলানা মিফতাহ উদ্দিন আহমদ এবং হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমদ।

এছাড়া সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আনজুমানে খেদমতে কুরআন সিলেটের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঈদগাহ ও আশপাশ এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সিসিটিভি, ড্রোন, ছাদভিত্তিক নজরদারি ও তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়।

সকালে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় প্রতিটি ঈদগাহ ও খোলা স্থানে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করেন।




ঈদের নামাজ, কোলাকুলি ও কোরবানিতে মুখর সারাদেশ

সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। শনিবার (৭ জুন) সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। কোরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি সমাজে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দিতেই পালিত হচ্ছে এই উৎসব।

সকালে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত। ঢাকার জাতীয় ঈদগাহে হয় প্রধান জামাত, যেখানে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাইয়ের কার্যক্রম। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থালির আঙিনা, গলি-মহল্লা ও খোলা স্থানে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। অনেকে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মাংস তিন ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টন করছেন। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে মাংস পৌঁছে দিচ্ছে।

এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির ব্যবস্থাপনায় রাজধানীসহ সারাদেশে তুলনামূলক শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সিটি কর্পোরেশনের একাধিক সূত্র জানায়, ঈদের দিন দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ ওয়ার্ডে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং রাতের মধ্যেই তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা দেন।




সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদ উদযাপন

পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন প্রায় ২৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হয় ঈদুল আজহার প্রধান জামাত। এতে অংশ নেন এলাকার কয়েক হাজার মুসল্লি।

প্রায় শত বছর ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এ অঞ্চলের মুসলিমরা রোজা রাখা, ঈদ উদযাপন এবং কোরবানি দিয়ে থাকেন। বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, “১৯২৮ সাল থেকেই আমরা সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী রোজা ও ঈদ পালন করছি। এটি আমাদের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অংশ। এবছরও আমরা সেই ধারাবাহিকতায় ঈদুল আজহা পালন করছি।”

ঈদের দিন সকালে জামাত শেষে মুসল্লিরা যার যার বাড়িতে ফিরে গিয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি দেন। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ছোট-বড় সবার মাঝে। ঈদগাহ মাঠে ছিল উৎসবের আমেজ, আর কোরবানির রক্তমাখা বিকেলজুড়ে বজায় থাকে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা এই ৩৫টি গ্রামে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পারা, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুরসহ আরও অনেক গ্রাম।

এই সকল মুসল্লিরা হানাফি মাজহাবভুক্ত কাদেরিয়া তরিকায় বিশ্বাসী। তাদের আধ্যাত্মিক নেতা হলেন চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হযরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী। এবারের ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের সেজপীর আলহাজ্ব আরিফ বিল্লাহ রব্বানী।

প্রচলিত সময়ের একদিন আগেই ঈদ উদযাপন করলেও, এসব গ্রামে কোরবানি ও নামাজসহ সব আয়োজন হয় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও আড়ম্বরের সঙ্গে। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ঐতিহ্য এবং বিশ্বাসের অংশ হিসেবেই গর্বের বিষয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশি হাজিদের সেবায় মিনায় ১৮টি বিশেষ টিম দায়িত্বে

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে বুধবার (৫ জুন)। ৮ জিলহজ্ব সকালে হাজিরা মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন। এবছর বাংলাদেশি হাজিদের সেবা নিশ্চিতে মিনায় ১৮টি বিশেষ টিম দায়িত্ব পালন করবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ হজ অফিস।

মঙ্গলবার (৩ জুন) সৌদি আরবের মক্কা আল-মুকাররমায় হজ কাউন্সিলর কর্তৃক টিম গঠনের আদেশ জারি করা হয়। এর আগে, সোমবার হজ মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হজ পালনের জন্য প্রতিটি টিমকে নির্দিষ্ট দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় আগত হাজিদের মিনায় পৌঁছে দেওয়া ও হজ শেষে হোটেলে ফিরিয়ে আনার কাজ দেখবে চারটি টিম, যেখানে মোট ১০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছয়টি সহায়তা টিম থাকবে, যারা তিন শিফটে প্রশাসনিক, কারিগরি ও সহায়ক দায়িত্ব পালন করবেন। এতে নিয়োজিত থাকবেন ৮৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের তাঁবু পরিদর্শনে নিয়োজিত থাকবে আটটি বিশেষ দল। ২৩ সদস্যের এই টিমগুলো মিনার ৫ নম্বর জোনে আটটি বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী কোম্পানির তাবু তদারকির দায়িত্বে থাকবে।

চুক্তিবদ্ধ সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলো হলো:

  • রাউয়াফ মিনা
  • ইসওর আল মাশায়ের
  • এম বাই মিলেনিয়াম
  • রেহলাত মানাফে
  • একরাম আদ দইউফ
  • মাশারিক আল মুতামাইজাহ
  • ফ্লাইনাস
  • আল রিফাদাহ

হজ অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব কোম্পানি বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধিত হাজিদের তাঁবু, খাদ্য, পানীয়, চিকিৎসা ও সাধারণ সহায়তা নিশ্চিত করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /