খাওয়ার স্যালাইনের বিকল্প কী খেতে পারেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ডায়রিয়া, শরীরে পানি শূন্যতা ঠেকাতে কার্যকর উপায় খাওয়ার স্যালাইন। এছাড়াও প্রচুর বমি, ঘাম হলে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় খাওয়ার স্যালাইন পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণ করে। স্যালাইন শরীরে বাড়তি শক্তি জোগাতেও সহায়তা করে। কিন্তু অনেকে স্যালাইন মেশানো পানি খেতে পারেন না—বিশেষ করে শিশুরা। কেউ যদি স্যালাইন খেতে না পারেন তাহলে তাদের বিকল্প কিছু দিয়ে স্যালাইনের অভাব পূরণ করতে হবে।
স্যালাইনের বিকল্প যা খেতে পারেনডাবের পানি
ডাবের পানি শরীরে পানির ঘাটতি ভালো কার্যকর। সেই সঙ্গে এতে থাকা ইলেকট্রোলাইট কম্পোজিশন ডায়রিয়া, বমি ও অতিরিক্ত ঘামে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া খনিজের ঘাটতি পূরণেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। রিবোফ্লাবিন, নিয়াসিন, থিয়ামিন ও পাইরিডক্সিনের মতো উপকারী উপাদানে ভরপুর ডাবের পানি।

চিড়ার পানি
চিড়ার পানি ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভালো একটি উত্‍স। ডায়রিয়া ও আমাশয়ে চিড়া ভেজানো পানি বেশ উপকারী। চিড়া ভেজালে তা প্রায় চার গুণ বেড়ে যায়। ১০০ গ্রাম চিড়ায় রয়েছে ৩৪৬ ক্যালরি, ৬.৬ গ্রাম আমিষ, ৭৭.৩ গ্রাম শর্করা, ২.০২ মিলিগ্রাম লোহা ও ২৩৮ মিলিগ্রাম ফসফরাস। চিড়ায় আঁশের পরিমাণ অনেক কম থাকে বলে অন্ত্রের প্রদাহ এবং ডাইভারটিকুলাইসিস রোগ প্রতিরোধে উপকারী। খাওয়ার আগে চিড়া ধুয়ে নিন। তিনবার ধোয়ার পর আবার কিছুটা পানি ভিজিয়ে নিন। এরপর স্বাদমতো লবণ ও চিনি দিয়ে পরিবেশন করুন।

ভাতের মাড়
ভাতের মাড়ে আছে অনেক রকমের পুষ্টি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে, ভাতের মাড়ে ভিটামিন বি ও ভিটামিন ই রয়েছে। এতে শর্করা, আয়রন, ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান আছে। এছাড়া ভাতের মাড়ে ৪ গুণ ক্যালসিয়াম, ১২ গুণ ম্যাঙ্গানিজ ও ২ গুণ মেলানিয়াম রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে টোকোট্রিনল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান। অল্প হলুদ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে খেলে শরীরের পানিশূন্যতা কমে যাবে।

কাঁচকলার স্যুপ
কাঁচকলায় আছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফেট। এতে কার্বোহাইড্রেট কমপ্লেক্স স্টার্চ হিসেবে থাকে। কাঁচকলার ভিটামিন বি৬ রক্তে হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, যা রক্তে অক্সিজেন পরিবহন করে। এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি৪ রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। এ জন্য রোগীর পথ্য হিসেবে কাঁচকলা পরিচিত। কাঁচকলা পেটের ভেতরের খারাপ ব্যাকটেরিয়া দূর করে  দেয়।

পিংক সল্ট
এ লবণ হিমালয় পর্বত থেকে তৈরি হয়ে থাকে। উত্‍পাদিত অঞ্চলে লবণটি হোয়াইট গোল্ড নামেও সুপরিচিত। হিমালয়ান সল্ট প্রধানত সোডিয়াম ক্লোরাইড নিয়ে গঠিত। এতে সালফেট, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফসফরাস, কপার, জিংক, সেলেনিয়াম, আয়োডিন, ফ্লোরাইডসহ প্রায় ৮০টির মতো উপাদান থাকে। এই লবণের খনিজ উপাদানগুলো মানুষের শরীরের কোষে খুব সহজেই শোষিত হতে পারে। তবে দিনে বেশি সোডিয়াম গ্রহণ করা ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই পিংক সল্ট খেতে হবে চিকিত্‍সক অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী। মাল্টা বা কমলার রসের সঙ্গে এক চিমটি পিংক সল্ট মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন।




দশমিনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মশারি বিতরন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর দশমিনায় সাবেক যুব লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও অতিরিক্ত জিপি পটুয়াখালী এ্যাডভোকেট আজিমুর রাইহান শাহিন এর ব্যাক্তিগত অর্থায়নে উপজেলা ৫০শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতাধিক মশারি বিতরন করা হয়।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা মো.মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম সরোয়ার, এমটিইপিআই মো. ইয়াকুব আলী খান, উপজেলা যুব লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রমিজ উদ্দিন, দশমিনা সদর ইউনিয়ন যুব লীগের সাধারন সম্পাদক বশির মোল্লা সহো আরো অনেকে।




পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২৮ সেপ্টেম্বর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের কোথাও পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার।

সভা শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আজ ২৯ সফর ১৪৪৫ হিজরি, ৩১ ভাদ্র ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। ফলে আগামীকাল ১ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ শনিবার পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ২ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রি. রোববার থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি, ১৩ আশ্বিন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা. বশিরুল আলম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. আ. আউয়াল হাওলাদার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহা. আসাদুর রহমান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. ফরিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনের সহকারী প্রশাসক মো. শাহরিয়ার হক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জুলফিকার রহমান কোরাইশী, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা ই-আলিয়ার আল-কুরআন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকা মেডিকেলে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক: সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এই প্রথম টেস্টটিউব বেবির (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) জন্ম দিয়ে অসাধারণ এক অর্জন করলেন হাসপাতালের বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। জন্মের পর শিশুটি সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক।

তিনি বলেন, হাসপাতালের বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় জন্ম নিয়েছে টেস্টটিউব শিশু। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জন্ম নেয় শিশুটি। বর্তমানে শিশুটি অধ্যাপক ফাতেমা রহমানের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কোনো হাসপাতালে এই প্রথম কোনো টেস্টটিউব বেবির জন্ম হলো। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. জাহিদ মালেক এ বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক জানান, বন্ধ্যা নারীর মা হওয়ার আধুনিক পদ্ধতি হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান না হওয়ার কারণে অনেক স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে অনেকভাবে সন্তান জন্মদানের চেষ্টা করেন। বহু দম্পতি প্রতিবেশী দেশ ভারতে যান বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার জন্য। দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বা ভারতে টেস্টটিউব শিশুর জন্য ব্যয় অনেক বেশি। কোনো নিম্নবিত্তের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক নিম্নবিত্ত দম্পতিও নতুন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২৫ জানুয়ারি ইংল্যান্ডে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয়। এরপর ২০০১ সালে বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর জন্ম হয়।‌ এরপর বেসরকারিভাবে কিছু হাসপাতালে ধারাবাহিকভাবে এটি হলেও সরকারিভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজে এটি প্রথম শিশু।




রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি, নিহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ৬নং ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পালংখালী ৬নং ক্যাম্পের বাসিন্দা সামসু আলম (২৩) ও নুর মোহাম্মদ (১৭)।

উখিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। তবে কারা- কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও এপিবিএন সদস্যরা কাজ করছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেক সাব মাঝি সৈয়দুল করিম নামে জানান, আরাকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) নেতা মৌলভী রহিমুল্লাহ ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) নেতা নবী হোসেন গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মূলত দুই গ্রুপের মধ্যে ক্যাম্পে ইয়াবা ব্যবসা ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।




ক্যানসার শনাক্ত করবে এআই

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব জায়গায় বিকল্প হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন কোনো কাজ নেই যেটা করতে পারে না। এআই খবর পড়া থেকে শুরু করে রচনা লেখা, চাকরি বা ছুটির আবেদন, চুক্তিপত্র, কোনো ঘটনা সম্পর্কে ব্যাখ্যা, ছোটখাটো প্রতিবেদন তৈরি করে দিতে পারে।

এআই কম্পিউটার প্রোগ্রাম, গান বা কবিতাও লিখে দিতে পারে ব্যবহারকারীর জন্য। আবার আপনি চাইলে আপনার ভার্সিটির রিপোর্ট বা প্রেজেন্টেশন এই এআইয়ের মাধ্যমে লিখে নিতে পারবেন। এবার শোনা যাচ্ছে, এআই ক্যানসার শনাক্ত করতেও সক্ষম।

ডিজিটাল প্যাথলজি সংস্থা পাইজেনের সঙ্গে যৌথ ভাবে মাইক্রোসফট তৈরি করছে এক বিশেষ এআই মডেল। এটি হতে চলেছে ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য বিশ্বের বৃহত্তম ইমেজ-বেসড এআই মডেল। সংস্থা বলেছে, মডেলটিকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় চার মিলিয়ন ডিজিটাইজড মাইক্রোস্কোপিক স্লাইড ব্যবহার করা হবে। সেখানে নানা ধরনের ক্যানসারের তথ্য পাওয়া যাবে, এই তথ্য ব্যবহার করা হবে পাইজেনের নিজস্ব সংগ্রহ থেকে।

পাইজেন এক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবে মাইক্রোসফটের উন্নত সুপারকম্পিউটিং পরিকাঠামো। কৃত্রিম মেধাকে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর সেই মডেল ব্যবহার করা হবে সারা বিশ্বের হাসপাতাল ও গবেষণাগারগুলোতে। সেখানেও কাজে লাগানো হবে মাইক্রোসফট আজউরকে। ২০২৪ সালের মধ্যেই এর কাজ শেষ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর তা হলেই রোগ শনাক্তকরণ আরও সহজ হবে।

নতুন এআই মডেল চালু ইমেজ-বেসড এআই মডেলগুলোর মধ্য সবচেয়ে বড়। এই মডেল ক্যানসারের সূক্ষ্ম জটিলতাগুলো খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। শুধু তাই নয়, পরবর্তী প্রজন্মের ক্লিনিকাল অ্যাপ্লিকেশন এবং কম্পিউটেশনাল বায়োমার্কারগুলোকে সাহায্য করবে। অঙ্কোলজি এবং প্যাথলজির পরিধি এতে অনেকখানি বিস্তৃত হবে বলে দাবি করছে সংস্থাটি।

পাইজেনের পক্ষ থেকে সংস্থার এসভিপি টেকনোলজি রাজিক ইউসুফি বলেন, ‘পাইজেন প্রথম থেকেই উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। কৃত্রিম মেধা, প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল প্যাথলজিতে এর গভীর দক্ষতার সঙ্গে মাইক্রোসফটের বিপুল কম্পিউট শক্তি মিলে গেলে ক্যানসার ইমেজিং-এর প্রভূত উন্নতি সম্ভব। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবেন এর মাধ্যমে।’

সূত্র: সিএনবিসি




আখেরি চাহার সোম্বা কী?

আখেরি চাহর সোম্বা মূলত আরবি ও ফার্সি বাক্য। প্রথম শব্দ ‘আখেরি’ আরবি ও ফার্সিতে পাওয়া যায়। যার অর্থ হলো- শেষ। ফার্সি ‘চাহর’ শব্দের অর্থ হলো- সফর মাস এবং ফার্সি ‘সোম্বা’ শব্দের অর্থ হলো- বুধবার। অর্থাৎ ‘আখেরি চাহর সোম্বা’র অর্থ দাঁড়ায়- সফর মাসের শেষ বুধবার। দিনটিকে মুসলিম উম্মাহ খুশির দিন হিসেবে জানে এবং খুশির দিন হিসেবেই উদযাপন করে থাকে। কিন্তু কেন?

আখেরি চাহার সোম্বা উদযাপন

সফর মাসের শেষ বুধবার হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ অসুস্থতার পর সাময়িক সুস্থ হয়ে ওঠার দিনকে স্মরণ করে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে যে ইবাদত ও উৎসব প্রচলিত তাই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলিমরা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তি উদ্যোগে এ উৎসব-ইবাদত যথাযথ ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্যের মাধ্যমে পালন করে থাকেন।

পারসিক প্রভাবিত অঞ্চলসহ ভারতীয় উপমহাদেশের দেশ ও অঞ্চলগুলোতে বহু যুগ ধরে ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ ইসলাম ও মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ অঞ্চলের সুফি-সাধকসহ দিল্লি সালতানাতের শাসকবর্গ রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই আখেরি চাহার সোম্বা পালন করতেন।

তবে বিশ্বব্যাপী দিনটি একযোগে যথাযথভাবে পালিত না হওয়ার কারণে বর্তমান সময়ে অনেকেই ‘আখেরি চাহার সোম্বা’ উদযাপন ও তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, আখেরি চাহার সোম্বা পালনের বিষয়ে হাদিসের কোনো দলিল নেই কিংবা পরবর্তী সময়ে সাহাবায়ে কেরামও এ দিনটি খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করেছেন বা প্রতি বছর দান-সাদকা করেছেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তাই অনেকেই মনে করেন যে, যেহেতু সাহাবায়ে কেরামদের যুগ ও পরবর্তী সময়ে তা ছিল না, সে হিসাবে আখেরি চাহার সোম্বা ঘটা করে পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তবে পৃথিবীর সব অঞ্চলের মুসলমানরা যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিনটি পালন না করলেও উপমহাদেশের অনেকে এ দিনটিতে ইবাদত করে অথবা দান-খয়রাত করেন। তাই অনেকে মনে করেন, উপলক্ষ যা-ই হোক, আখেরি চাহার সোম্বা উপলক্ষে যদি কেউ নফল নামাজ পড়েন, আল্লাহর নামে গরিব-দুঃখীর মাঝে দান-খয়রাত করেন, তাতে ব্যক্তি ও সমাজের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হওয়া ছাড়া অকল্যাণের কিছু আছে বলে মনে হয় না।  তাতে দোষের কিছু নেই। কারণ, দানে-ইবাদতে মানুষ পরিশুদ্ধ হয়। সম্পদ বাড়ে।

আখেরি চাহার সোম্বা কী?

প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে, সফর মাসের শেষ বুধবার হচ্ছে, ‘আখেরি চাহার সোম্বা’। এটা কী? তা অনেকেই জানেন না। এ সম্পর্কে সিরাত গ্রন্থ থেকে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাহলো-

সিরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) গ্রন্থে ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক উল্লেখ করেছেন, সফর মাসের শেষ দিকে কিংবা রবিউল আউয়াল মাসের শুরুর দিকে হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার অন্তিমযাত্রার অসুখ হয়। ওই সময়ে এক মধ্যরাতে তিনি গিয়েছিলেন বাকিউল গারকাদ (জান্নাতুল বাকি) কবরস্থানে। সেখানে মৃত ব্যক্তিদের জন্য তিনি মোনজাত করেন। শেষ রাতে ঘরে ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওই অসুখ যে তার মৃত্যুযাত্রার সূচনা ছিল, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার মুক্ত ক্রীতদাস হিবার কথোপকথন থেকেও বিষয়টি সুস্পষ্ট। মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মধ্যরাতে বাকিউল গারকাদ কবরস্থানে যান, তখন হিবাও সেখানে গিয়েছিলেন। হিবা বলেন, মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে দেখে বললেন, ‘আমাকে দুটো বিকল্পের একটি পছন্দ করতে বলা হয়েছে-

১. এই জগতের সব সম্পদের ধণভান্ডারের চাবি ও দীর্ঘজীবন অথবা

২. বেহেশত, আমার আল্লাহর দিদার এবং তাৎক্ষণিক বেহেশত।’

হিবা বলেন, ‘আমি বললাম, আপনি প্রথমটি পছন্দ করেন।’

তিনি বললেন, ‘আমি দ্বিতীয়টি পছন্দ করেছি।’ অর্থাৎ মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াকে বিদায় জানিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে আল্লাহর দিদার লাভকে বেছে নিয়েছেন। আর এরই পরিপেক্ষিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে ওই অসুখে তার জীবনাবসান হবে, তা তার অজানা ছিল না।

এ অসুস্থতায় আবিসিনিয়া থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হলেও তাঁর অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। তিনি কিছুক্ষণ ভালো থাকলেও পরবর্তী মুহূর্তেই তিনি জ্ঞান হারাতেন। এ অবস্থায় নবি পরিবারের সদস্য ও সাহাবিরা তার বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দেন।

ওই নিরাশার মধ্যেই একদিন তিনি আশার আলো জ্বালালেন। এক সকালে তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন। অনেকটা সুস্থ স্বাভাবিক আচরণ শুরু করেন। সাত কুয়ার পানি দিয়ে তিনি গোসল করেন। হজরত ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এবং দুই নাতি হাসান  ও হোসেন রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে সঙ্গে নিয়ে দুপুরের খাবার খান।

প্রিয় নবির সুস্থ হওয়ার ঘটনায় তার পরিবারের সদস্য ও সাহাবিরা আনন্দে আত্মহারা হন। খুশিতে তারা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নফল নামাজ আদায় করেন। আল্লাহর নামে গরিব-দুঃখীর মাঝে সামর্থ্য অনুযায়ী দান-খয়রাত করেন।

বর্ণিত আছে যে, এই খুশিতে সাহাবাদের মধ্যে- হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু পাঁচ হাজার, হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু সাত হাজার, হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তিন হাজার দিরহাম এবং হজরত আবদুর রহমান বিন আউফ রাদিয়াল্লাহু আনহু ১০০ উট দান করেন।

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার এক বর্ণনা থেকেও জানা যায় যে, সফর মাসের শেষ বুধবার মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হঠাৎ সুস্থ হয়ে ওঠেন। যদিও দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে নামতে তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওই ঘটনাকে অঞ্চলভেদে কিছু মুসলিম প্রতিবছর স্মরণ করেন। সফর মাসের শেষ বুধবার বিশ্বনবি সুস্থ হয়ে ওঠেছেন বিধায় পারসিক মুসলিমরা এর নামকরণ করেন ‘আখেরি চাহার সোম্বা’।

বিশ্বনবির অুস্থতা কী ছিল?

আখেরি চাহার সোম্বার আগে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে অসুস্থতা ভোগ করেছিলেন তা নিয়ে দুইটি বিবরণ পাওয়া যায়-

১. ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মতে, মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাকিউল গারকাদ কবরস্থান থেকে ফিরে প্রচণ্ড শিরপীড়ায় আক্রান্ত হন।

২. ইবনে হিশামের বর্ণনা মতে, মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অন্তিমযাত্রায় প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন।

মূলত প্রচণ্ড শিরপীড়ায় আক্রান্ত হওয়ার কারণেই হজরত মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসহ্য মাথাব্যথা অনুভব করেন। ওই মাথাব্যথা এতটা মারাত্মক ছিল যে, তিনি তার অন্তিমযাত্রার অধিকাংশ সময় অজ্ঞান ছিলেন। কখনও একটু সুস্থ হলেও আবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলতেন।

আখেরি চাহার সোম্বা পালন করতেই হবে এমনটি নয়; তবে এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কিছু নেই। তাছাড়া প্রত্যেক আরবি মাসেই রয়েছে সুন্নাত ইবাদতের দিকনির্দেশনা। আবার আছে সাপ্তাহিক ইবাদতের দিকনির্দেশনা। যা পালনে রয়েছে অনেক মর্যাদা ও সাওয়াব। যেমন-

প্রত্যেক সপ্তাহে জুমআর দিনের ইবাদত। সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা পালন। আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল ছিল প্রত্যেক আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা। যাকে আইয়ামে বিজের রোজা বলা হয়ে থাকে।

সুতরাং সফর মাসের বিশেষ কোনো ঘটনা বা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে পক্ষ-বিপক্ষ মতভেদ না করাই উত্তম। হাদিসের অনুসরণ ও অনুকরণে নেক আমল ও ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত করলেই মিলবে অনেক সাওয়াব।




বিশ্বের যেসব স্থানে জন্ম-মৃত্যু নিষিদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স:  বিশ্বের এমন কিছু দেশ বা স্থান রয়েছে যেখানে জন্ম-মৃত্যু নিষিদ্ধ। এমন কথায় অনেকেই অবাক হতে পারেন। কিন্তু সত্যিই এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে মৃত্যু নিষিদ্ধ। নরওয়ে, ইতালি, জাপান, ফ্রান্সের কিছু শহর ও গ্রাম আছে, যেখানে মানুষের মৃত্যুতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

লংইয়ারবাইন, নরওয়ে
নরওয়ের লংইয়ারবাইন শহরে মরে যাওয়া বারণ। প্রায় ৭০ বছর ধরে এখানকার কবরস্থানে শহরের কোনো মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়নি। আসলে এই শহরটি সব সময় তুষারে ঢাকা থাকে। সেই কারণে বরফে কবর দিলে মৃতদেহ পচে না বা নষ্ট হয় না। এর ফলে ভাইরাস উৎপন্ন হয় এবং এই ভাইরাসের প্রভাবে স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর এই জন্যই কেউ অসুস্থ হলে তাকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়! এমনকি যারা অনেকবেশি বয়স্ক হয়ে যান তাদের বাইরে রেখে আসা হয়।

ফ্যালসিয়ানো দেল মেক্সিকো, ইতালি

২০১২ সালের মার্চ মাসে ইতালির ফ্যালসিয়ানো দেল মেক্সিকো শহরে এক আইন পাশ হয়! সেই আইন অনুযায়ী এই পৌরসভায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির মৃত্যু বেআইনি। আসলে এই পৌরসভা এলাকার কবরস্থানে আর জায়গা নেই। সেখানে কাউকে কবর দেওয়ার এতটুকু জায়গা নেই। এ কারণে বয়স্ক মানুষদের সবাকেই পৌর এলাকায় বাইরে থাকতে হয়। এখানকার মানুষদের মোটা টাকার বিনিময়ে কবর দেওয়া হয় অন্য এক শহরে!

ইতসুকুশিমা, জাপান
জাপানের ইতসুকুশিমা একটি পবিত্র স্থান। তাই সেদেশের সরকার এই স্থানটির পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য এক অবাক নিয়ম জারি করে। এই পবিত্র স্থানে ১৮৭৮ সাল থেকে মৃত্যু এবং জন্ম দুটোই নিষিদ্ধ করে পুরোহিতরা। মানে এই গ্রামে কারও মৃত্যু বা জন্ম হতে পারবে না! অন্য গ্রামে জন্ম দিয়ে এই গ্রামে এসে থাকা যাবে! গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের এই স্থানে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ল্যানজারন, স্পেন
দক্ষিণ স্পেনের ল্যানজারন শহরটিতে কবরস্থানের অভাব ছিল! কবর দেওয়ার মতো জায়গাই ছিল না! তাই এখানে এক নতুন নিষেধের নির্দেশ জারি হয়েছিল। শীঘ্রই যাতে কেউ মারা না যান, সে জন্য নাগরকিদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ জারি হয়!। এছাড়াও যারা অসুস্থ এবং বৃদ্ধ তাদের পাঠানো হয়েছিল অন্য শহরে। যাতে মৃত্যুর পর কবর দিতে অসুবিধে না হয়!

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম সার্পোরেক্স। ২০০৮ সালে এখানে নতুন নিয়ম করা হয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে এই এলাকার কবরস্থানে কারও মরে যাওয়া বারণ! মৃত্যুর আগে তাদের অন্য শহরে নিয়ে যেতে হবে। কবরস্থানে রাখা যাবে না। শুধু তাই নয়, কেউ এই আদেশ অমান্য করলে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। ভাবতে পারেন মৃত্যুর পর আবার কি শাস্তি পাবেন তিনি। আসলে এই শাস্তি ভোগ করবে সেই ব্যক্তির পরিবারের জীবিত সদস্যরা। এই কারণে অনেকেই বয়স হলে এই শহর ছেড়ে চলে যান!

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অডিটি সেন্ট্রাল




খাঁটি সরিষার তেল চেনার উপায়


চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স: খাবারে ভেজাল নিজ থেকে মেশে না। মানুষের অসৎ উদ্দেশ্যের ফসল এই ভেজালযুক্ত খাবার। বাড়তি লাভের লোভে পড়ে মানুষ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। খাদ্যে ভেজাল মেশানোর মতো চরম খারাপ কাজ করতেও তাদের হাত কাঁপে না। কিন্তু কথায় বলে, চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। তাই মানুষেরা ভালো হয়ে যাবে এই আশা বাদ দিয়ে ভেজালযুক্ত খাবার চিনে রাখতে হবে আপনাকেই। তাহলে আর বিশ্বাস করে ঠকে আসতে হবে না।

চাল, ডাল, আটা, মসলা তেল- সবকিছুতেই ভেজাল মেশানো হচ্ছে। এই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না সরিষার তেলও। ভেজালযুক্ত বা নকল সরিষার তেল খেলে তা শরীরে বিভিন্নভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তখন দেখা দিতে পারে নানা ধরনের অসুখ। অনেক সময় সরিষার তেলে রাসায়নিক মিশিয়ে সোনালি রঙ নিয়ে আসে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সেই রঙযুক্ত তেল দিনের পর দিন খেলে বৃদ্ধি পায় ক্যান্সারের ঝুঁকি।

ফ্রিজিং টেস্ট

আঙুলের সাহায্যে পরীক্ষা

সরষের তেলে ভেজাল আছে কি না তা বোঝার একটি খুবই সহজ ঘরোয়া উপায় হলো হাতের তালুতে আঙুল দিয়ে ঘষে দেখা। আপনার হাতের তালুতে একটুখানি সরিষের তেল নিয়ে তারপর তা খানিকক্ষণ ঘষে নিন। যদি তেলের রঙ ছেড়ে যেতে শুরু করে, কোনোও আলাদা গন্ধ পান বা চিটচিটে ভাব অনুভব করেন তবে বুঝে নেবেন সেই তেল ভেজালমিশ্রিত।

আসল সরিষার তেলে তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ থাকে, যা চোখে পানি এনে দেয়। অপরদিকে ভেজাল মেশানো সরিষার তেলের গন্ধ ততটা তীব্র হয় না। তাই গন্ধ শুঁকে খুব সহজেই এটি বুঝতে পারা সম্ভব।

রঙের মাধ্যমে পরীক্ষা

সরিষার তেলের রং খুব গাঢ় এবং ঘন হয়। তবে অনেক সময় দেখবেন সরিষার তেল হালকা হলুদ রঙের। কোনো তেল যদি এরকম হালকা হলুদ রঙের দেখেন তাহলে তাতে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা বেশি।




পাত্রে ফুঁ দেওয়া ইসলামে নিষেধ কেন?

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক : প্রত্যেক বিষয়ে সুন্নতের অনুসরণে বরকত নিহিত। সুন্নতের অনুসরণ না করা হলে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। প্রিয়নবী (স.) আমাদের অনেক সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়েও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মুসলমানরা সেগুলো সুন্নত হিসেবেই পালন করেন। ফলস্বরূপ অজান্তেই বরকত লাভ করেন এবং নানা ক্ষতি থেকে বেঁচে থাকেন।

পানি পান করা ও পানপাত্র ব্যবহারেও সুন্নত পদ্ধতি রয়েছে। পাত্রে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন নবীজি (স.)। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) পানপাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে ও তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (ইবনে মাজাহ: ৩৪২৮)

এই হাদিসের সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানও সহমত পোষণ করে। আমরা জানি, পানি পানের সময় পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলার দরুন সেই পানি বিষাক্ত হয়ে যায়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য নাক ও মুখ দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। নিঃশ্বাসে থাকে দেহের দূষিত বাষ্প ও রোগ-জীবাণুবাহী অপেক্ষাকৃত ভারী বায়বীয় পদার্থ কার্বন ডাই-অক্সাইড, যা খাবার কিংবা পানির সঙ্গে মিশে আবার মানুষের দেহের ভেতরে প্রবেশ করে। ফলে শরীরে বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর আস্তানা গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

পানির অপর নাম জীবন। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব কখনোই কল্পনা করা যায় না। বিশুদ্ধ পানির জন্য মানুষ কত কিছুই না করছে। উন্নত বিশ্বে এই খাতে খরচ করা হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। ডিডাব্লিউর তথ্যমতে, জার্মানিতে চারজনের একটি পরিবার বিশুদ্ধ পানির জন্য দেড় হাজার ইউরো ব্যয় করে। যা বাংলাদেশি টাকায় হিসাব করলে এক লাখ ৪১ হাজার ৩৯৯ টাকা হয়।

এতকিছু করার পরও যদি কেউ পানি পান করার সময় রাসুল (স.)-এর এই হাদিসটির ওপর আমল না করে, তাহলে তার পুরো পরিশ্রমটাই বৃথা হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগতে পারে, অনেকের এভাবে পানি পান করতে গেলে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসতে পারে। কিংবা অতৃপ্তি থেকে যেতে পারে, তারা কী করবে? তার সমাধানও দিয়েছেন প্রিয়নবী (স.)।

আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) পানীয় পানকালে তাতে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। একটি লোক নিবেদন করল, ‘পানপাত্রে (যদি) আমি খড়কুটো দেখতে পাই?’ তিনি বলেন, ‘তাহলে তা ঢেলে ফেলে দাও।’ সে নিবেদন করল, ‘এক শ্বাসে পানি পান করে আমার তৃপ্তি হয় না।’ তিনি বললেন, ‘তাহলে তুমি পেয়ালা মুখ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে নিঃশ্বাস গ্রহণ করো।’ (রিয়াদুস সালেহিন: ৭৬৯)।