শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গলাচিপায় প্রস্তুতিমূলক সভা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার গলাচিপা উপজেলার প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে  রবিবার সকাল ১০ টায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রস্তুতিমূলক সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন আল হেলাল এঁর সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুঃ শাহিন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি অধ্যাপক সন্তোষ দে, কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন দাস, অফিসার ইনচার্জ শোনিত কুমার গায়েন, আ’লীগের সহ-সভাপতি হাজী মুজিবুর রহমান, রেজাউল করিম হাং প্রমুখ।

এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি বাবু গোপাল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সমিত কুমার দত্ত মলয়, পৌরসভা পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি, সম্পাদক ডাকুয়া ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায়, আমখলা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মনির,পানপট্টি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ রানা, চরকাজল ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মোল্লা ও প্রেস ক্লাব সভাপতি মুঃখালিদ হোসেন মিল্টন প্রমুখ।

প্রস্তুতি সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। প্রস্তুতিমূলক সভায় সার্বিক সঞ্চালনা করেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুব হাসান শিবলী।




বউ-শাশুড়ির সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  যৌথ পরিবারে বউ-শাশুড়ির দ্বন্দ্বটা থেকেই যায়। একটি মেয়ে এসে নিজের ছেলেকে পর করে দিচ্ছে—এমনটি ভাবেন অনেক শাশুড়ি। বেশিরভাগ শাশুড়ি বউকে প্রতিপক্ষ ভাবেন। তিনি হয়তো ভুলে যান, কোনো একদিন তিনিও বউ ছিলেন। তিনি তার শাশুড়ির জায়গা দখল করে নিজেকে প্রকাশ করতে চান।

যে মেয়ে তার ঘরে বউ হয়ে এসেছে; পুরোনো পরিবেশ ফেলে নতুন পরিবারে নিজেকে খাপ খাওয়াতে ব্যাকুল, তাকে তিনি অন্যভাবে দেখছেন। অথচ বউ এবং শাশুড়িই দিনের বেশিরভাগ সময় একসঙ্গে কাটান। তাই তাদের মধ্যেই ভালো বোঝাপড়া থাকা দরকার। যে কোনো সমস্যায় একজন অন্যজনকে সাহায্য করবেন।

শাশুড়িকে মনে রাখতে হবে, বউ তার সমবয়সী বা প্রতিপক্ষ নয়। আর বউকে শাশুড়ির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। দুজনকেই ছাড় দিতে হবে। দুজনের ভালো-মন্দ দুজনকে বুঝতে হবে। শাশুড়ির ওষুধপত্র থেকে শুরু করে তাকে আনন্দে রাখার জন্য বউকে পাশে থাকতে হবে।

দুজনের করণীয়
বউ তার শাশুড়িকে মা এবং শাশুড়ি তার বউকে মেয়ে ভেবে ত্রুটিগুলো ছাড় দিলে সম্পর্কটা মধুর হবে। দুজন গল্প করে, টিভি দেখে সময় কাটাতে পারেন। জরুরি ব্যাপার হলো, ঘরের অভ্যন্তরীণ বিষয় পাড়া-পড়শি বা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করা ঠিক নয়। কারো পরামর্শ না নিলেই বেশিরভাগ পরিবার ভালো থাকতে পারবে।

বাবার বাড়ি ছেড়ে যে মেয়েটি স্বামীর সংসারে আসে বাকি জীবন কাটানোর জন্য। তার প্রতি আন্তরিক হওয়া খুবই জরুরি। অন্যদিকে বউকেও মনে রাখতে হবে, শাশুড়িকে অবহেলা বা বিদ্রুপ করলে সম্পর্কের তিক্ততা বাড়বে। সেই সঙ্গে তার প্রভাব পরিবারের ওপর পড়বে।

বউয়ের করণীয়
১. শাশুড়ির মতামতকে প্রাধান্য দিন।
২. কখনোই দুর্ব্যবহার করবেন না।
৩. কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলুন।
৪. শাশুড়ির পছন্দের মেন্যুগুলো মাঝে মাঝে রান্না করুন।
৫. হঠাৎ করে ছোটখাটো কোনো গিফট উপহার দিতে পারেন।
৬. মাঝে মাঝে শাশুড়িকে নিয়ে বেড়িয়ে আসুন কোথাও থেকে।
৭. মাঝে মাঝে শপিংয়েও শাশুড়িকে নিয়ে যেতে পারেন।
৮. শাশুড়ির জন্মদিন ও ম্যারেজ ডে ভুলে যাবেন না।
৯. সব বিষয়ে শাশুড়ির সঙ্গে কথা বলুন।
১০. শাশুড়িকে বন্ধুর মতো ভাবুন।

শাশুড়ির করণীয়
১. বউকে আন্তরিকতার সঙ্গে গ্রহণ করুন।
২. অযথাই কাজের চাপ দেবেন না।
৩. সাংসারিক সব কাজ ভালো করে বুঝিয়ে দিন।
৪. ভুল হলে তা শুধরে দেবেন পরিবারের একজনের মতো করে।
৫. নিজের মেয়ের মতোই আচরণ করুন বউয়ের সঙ্গে।
৬. মনে রাখবেন, আপনার মেয়েও আরেক পরিবারে যাবে বউ হয়ে।
৭. বউয়ের ছোটখাটো কাজে প্রশংসা করুন।
৮. কখনোই প্রতিবেশী কারো বউয়ের সঙ্গে তার তুলনা করবেন না।




বাউফলে এক পরিবার থেকেই কোরআনের হাফেজ ৬৬ জন

আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফল উপজেলায় এক পরিবার থেকেই ৬৬ জন পবিত্র কোরআন শরিফের হাফেজ হয়েছেন । ইতিমধ্যে এই বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জেলায় সুনাম কুড়িয়েছেন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এর বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার।

মৃত হাজী নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছোট ছেলে শাহজাহান হাওলাদার। বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে এইচএসসি পাস করেন। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ও মামা বাড়ির তিন একর সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি নির্মাণ করেছেন ১২ টি মাদরাসা এবং ৩ টি মসজিদ। তার ৬ ছেলে এবং ৪ মেয়ে কোরআনের হাফেজ। তার বংশধররাও এখন হাফেজ হয়ে সংখ্যাটি বাড়িয়ে চলেছেন। ২ বছর আগে তাদের পরিবারে হাফেজ ছিলেন ৫৭ জন আর এখন ৬৬ জন।

শাহজাহান হাওলাদারের বড় ছেলে হাফেজ মাওলানা মজিবর রহমানের ৩ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ মোট ৮ জন হাফেজ। দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাওলানা নূর হোসেন। তার ৩ ছেলে ৩ মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ পরিবারে মোট ৮জন হাফেজ। তৃতীয় ছেলে হাফেজ মাওলানা আবু বকর। এই পরিবারে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্য ৩ জন হাফেজ। মেয়ে জামাইসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৬ জন। চতুর্থ ছেলে হাফেজ ইব্রাহীম। ১ মেয়ে ৪ ছেলে ও মেয়ে জামাইসহ হাফেজ সংখ্যা ৬ জন। পঞ্চম ছেলে হাফেজ জোবায়ের। তাদের পরিবারের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে তারা সবাই হাফেজ। এই পরিবারে মোট হাফেজ সংখ্যা ৬ জন। ছোট ছেলে হাফেজ হুজাইফা। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ১ জন হাফেজ। তাদের পরিবারে মোট হাফেজের সংখ্যা ২ জন।
শাহজাহান হাওলাদারের ৪ মেয়ে। প্রথম মেয়ে হাফেজা খাদিজা। তার পরিবারে ছেলে মেয়ে, ছেলের বউ এবং মেয়ে জামাইসহ হাফেজ ১১জন। দ্বিতীয় মেয়ে হাফেজা আসমা। তাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ হাফেজের সংখ্যা ১০ জন। ৩য় মেয়ে হাফেজা খানসা। তাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৬ জন। সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে হাফেজা আম্মারা। তাদের সংসারে ২ ছেলে ১ মেয়েসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৩ জন।

শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাফেজ জোবায়ের হাওলাদার বলেন, বাবার পাঁচ নম্বর ছেলে আমি। আমরা ৬ ভাই ৪ বোন। বড় ভাই সে সৌদি আরবে জেদ্দায় থাকেন সেখানে মসজিদের ইমাম। তার ৬ সন্তান হাফেজ। আমাদের অন্যান্য ভাইয়েরা ও বোনেরা তাদের সন্তানরা হাফেজ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদ্রাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। আমি এই মাদ্রাসার পরিচালনা করতেছি এখানের প্রধান শিক্ষক আমার স্ত্রী তার। হাতে এখানের শত শত মেয়েরা হাফেজ হয়ে এইসব অঞ্চলে শিক্ষকতা করছেন।

শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘আমার পরিবারের ছেলে মেয়ে নাতি বউসহ ৬৬ জন হাফেজ, হাফেজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জনই আন্তর্জাতিক হাফেজ, আমি সাতখানা কিতাব লিখেছি। সবার কাছে আমার অনুরোধ রইল আপনারা আপনাদের ছেলে মেয়েদেরকে হাফেজ হাফেজা বানাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউয়েরা বিভিন্ন মাদ্রাসায় এখন হাফেজ বানানোর শিক্ষা দিচ্ছে। আমি কোন দান বা সহযোগিতা এখন পর্যন্ত পাইনি, আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি ও মামাবাড়ির সম্পত্তি থেকে তিন একর জমি বিক্রি করে মাদ্রাসা ও মসজিদ করেছি।’

শাহজাহান হাওলাদার আরো বলেন, ‘আমার বাবা হাফেজদের খুব ভালবাসতেন। ছোটবেলা থেকেই কেমন যেন হাফেজদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও সম্মান বেশি ছিল। বাবা-মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ায় আমি হাফেজ হতে পারিনি। এজন্য আমি চিন্তা করেছি আমার ছেলে সন্তানদের সবাইকে হাফেজ বানাবো। তারা ইসলাম প্রচার করবে। আল্লাহ কবুল করেছেন। তাই আজ পরিবারে এতো হাফেজ হয়েছে।’

বাউফল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শাজাহান হাওলাদার একজন ভদ্র মানুষ ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ জানাই। তার পরিবারের ৬৬ জন আল্লাহর কালাম পবিত্র কেরআন শরিফের হাফেজ হতে  পেরেছেন। এটা নিতান্তই গর্বের বিষয় আমাদের বাউফল ইউনিয়নের জন্য।




প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে নবীজির আগমনী বার্তা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আজ ১২ রবিউল আউয়াল। পবিত্র ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ, সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম এবং মৃত্যু দিবস। সরকারি ছুটির দিন। যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

সৃষ্টিজগতের সূচনা থেকে মহাজগৎ নবীজি (সা.)-এর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীর সব নবীর কাছ থেকে তাঁর আনুগত্যের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত যা কিছু দান করেছি, অতঃপর তোমাদের কাছে যা আছে তার সমর্থক স্বরূপ যখন একজন রাসুল আসবেন, তখন তোমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, তোমরা কি স্বীকার করলে? এবং এ সম্পর্কে আমার অঙ্গীকার গ্রহণ করলে? তারা বলল, আমরা স্বীকার করলাম।

মহানবী (সা.) অন্য কোনো নবীর সমসাময়িক ছিলেন না। তার পরও এই অঙ্গীকার গ্রহণের অর্থ হলো, তাঁরা যেন তাঁদের অনুসারীদের এই নবীর আগমনের সুসংবাদ এবং আনুগত্যের নির্দেশ দেন। ফলে পৃথিবীর প্রধান প্রধান ধর্মগ্রন্থে মহানবী (সা.)-এর বিবরণ এসেছে।

যেমন—১. তাওরাত : মুসা (আ.) তাঁর অনুসারীদের বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক ও ইলাহ আমার মতো একজন নবী প্রেরণ করবেন ইবরাহিম (আ.)-এর বংশধর তোমাদের ভাইদের মধ্য থেকে।’ (আল মারজাউ ফি সিরাতুন-নাবাবিয়্যা, পৃষ্ঠা ৬৬)

তিনি মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা জানিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তিনি সিনা পর্বত থেকে আত্মপ্রকাশ করেন, তাদের জাহান্নাম থেকে বের করে এনেছেন, ফারান পর্বতে আরোহণ করেন, তাঁর সঙ্গে ১০ হাজার পবিত্র সঙ্গী। তাঁর ডান পাশ থেকে প্রজ্বলিত হলো তাদের শরিয়তের আগুন।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৬৫)

২. ইনজিল : বাইবেলে মহানবী (সা.)-কে ‘ফারাক্লিত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।

সুরয়ানি এই শব্দের অর্থ প্রশংসিত। ঈসা (আ.) মহানবী (সা.)-এর ব্যাপারে বলেন, ‘তোমাদেরকে বলার আমার আরো অনেক কথা আছে। কিন্তু তোমরা এখন তা সহ্য করতে পারবে না। যখন সেই সত্য-আত্মা আসবেন, তখন তিনি তোমাদেরকে সত্যের সন্ধান দেবেন। তিনি নিজ থেকে কিছু বলবেন না।
যা যা শুনবেন তা-ই বলবেন এবং ভবিষ্যতের ঘটনাও জানাবেন।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা ৬৮)৩. দিঘা-নিকায়া : সাইয়েদ মানাজির আহসান গিলানি (রহ.) বলেন, গৌতম বুদ্ধ আল্লাহর প্রেরিত পুরুষ হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করে গৌতম বুদ্ধ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ শিষ্য নন্দের ভাষ্যে উল্লেখ করেছেন, ‘হে আমার মুনিব! আপনি চলে যাওয়ার পর দুনিয়াকে কোন শিক্ষা দেব?’ গৌতম বুদ্ধ তার উত্তরে বললেন, ‘নন্দ! আমি দুনিয়ায় আগত প্রথম বৌদ্ধও নই এবং শেষ বৌদ্ধও নই। যথাসময়ে দুনিয়ায় আরেকজন বৌদ্ধ আসবেন। তিনি হবেন পবিত্র ও আলোকিত অন্তরের অধিকারী। তাঁর কাজগুলো হবে বুদ্ধিদীপ্ত। যিনি অনিবার্য বাস্তবতায় প্রকাশ পাবেন।’ (আন-নাবিয়্যুল খাতিম, পৃষ্ঠা ৩০)।

৪. বেদ-পুরাণ : কোনো কোনো ঐতিহাসিক দাবি করেছেন, বেদ, পুরাণ ও উপনিষদ ভবিষ্যতে ‘কল্কি অবতার’ আগমনের যে ভবিষ্যদ্বাণী এসেছে, তার উদ্দেশ্য মুহাম্মদ (সা.)। তাঁরা দাবি করেন, প্রাচীন এই ধর্মগ্রন্থগুলোতে ‘আল্লাহ’, ‘রাসুল’ ও ‘মুহাম্মদ’ শব্দগুলোও রয়েছে। যেমন—ভাগবত পুরাণের ১২ খণ্ডের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৮-২০ শ্লোকে বলা হয়েছে, ‘বিষ্ণুয়াস নামের একজন যে মহৎ হৃদয়ের ব্রাহ্মণ এবং সাম্বালা নামের একটি গ্রামের প্রধান, তাঁর ঘরে জন্মাবেন কল্কি।’

এখানে বলা হয়েছে, কল্কির বাবার নাম বিষ্ণুয়াস। ‘বিষ্ণু’ কথার অর্থ ঈশ্বর এবং ‘ইয়াস’ কথার অর্থ দাস। অর্থাৎ ঈশ্বরের দাস, যার আরবি অর্থ আবদুল্লাহ। এটা রাসুল (সা.)-এর বাবার নাম। কল্কির জন্ম সাম্বালা গ্রামে। সাম্বালা শব্দের অর্থ প্রশান্ত। রাসুল (সা.)-এর জন্মভূমি মক্কাকে দারুল আমান বা শান্তির জায়গা বলা হয়। মহানবী (সা.) মক্কার নেতৃস্থানীয় পরিবারেই জন্মগ্রহণ করেন।




পটুয়াখালীতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের গণ অনশন

 

বরিশাল অফিস : পটুয়াখালীতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চিরতরে বন্ধসহ সরকারি দলের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবীতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সকাল-সন্ধ্যা গণ অনশন ও গণ অবস্থাম কর্মসূচি পালিত।

শুক্রবার (২২সেপ্টেম্বর) স্থানীয় লঞ্চঘাটস্থ সড়কে জেলা হিন্ধু বৌদ্ধ খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অতুল চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে সকাল-সন্ধ্যা গণ অনশন ও গণ অবস্থানকালে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার দাস। গণঅনশনে বক্তব্য রাখেন জেলা ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জগন্নাথ পাল, সহ-সভাপতি মংথান তালুকদার, সহ-সভাপতি স্বপন কর্মকার, সহ-সভাপতি পুষ্প রানী, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন চক্রবর্তী, সাধারন সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন দাস, মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি এ্যাড. বিভা রানী সাহা, পৌর কমিটির সভাপতি চিনময় বণিক, সাধারন সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার, শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌতম চন্দ্র দাস, সাধারন সম্পাদক নিরোধ লাল বৈদ্য।

এ কর্মসূচীতে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মোতালেব মোল্লা, সাধারন সম্পাদক সমীর কর্মকার, জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক শ.ম দেলোয়ার হোসেন দিলিপ, বাসদের সমন্বয়কারী এ্যাড. জহিরুল আলম সবুজ।

সমাবেশে বক্তারা নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া সাত দফা দাবি বাস্তবায়ন-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপ কামনা করেন। কোনোভাবেই স্বাধীন বাংলাদেশে বঞ্চনা, বৈষম্য, নিগৃহণ, নিপীড়নের শিকার হতে চান না। তারা অপেক্ষা করবে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় উদ্যোগের জন্য।




জীবনসঙ্গীকে এই ৫ কথা কখনো বলবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক নয়, বরং সব ধরনের সম্পর্কেই সুন্দর করে কথা বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সম্পর্কের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি বা দ্বন্দ্ব এড়াতে কিছু জিনিস আপনার যত্ন সহকারে করা উচিত। যেমন ধরুন আপনি হয়তো আপনার সঙ্গীকে কথায় কথায় এমন কিছু বলে দিতে পারেন যা তাকে ভীষণ কষ্ট দিতে পারে। আপনার সামান্য কথায়ই একটি সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার দিকে যেতে পারে। জেনে নিন এমন ৭টি কথা সম্পর্কে যা আপনার সঙ্গীকে কখনো বলবেন না-

‘তোমাকে বিয়ে করা আমার বড় ভুল’

বিয়ে নিয়ে আফসোস প্রকাশ করা ক্ষতিকারক হতে পারে। এটি আপনাদের সম্পর্কের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ভিত্তি ফাটল ধরাতে পারে। অনুশোচনা নিয়ে পড়ে থাকার বদলে একসঙ্গে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজেদের কাজের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং আপনার বন্ধনকে শক্তিশালী করার উপায় খুঁজে বের করুন।

‘তুমি ঠিক তোমার মা-বাবার মতো’

মা-বাবার মতো হওয়া মন্দ কিছু নয়। কিন্তু যখন কেউ তার স্বামী বা স্ত্রীকে এ ধরনের কথা বলে তখন তা বেশিরভাগ সময়েই নেতিবাচক অর্থ বহন করে। এর কারণে আপনার সঙ্গী বিরক্ত হতে পারে। এর পরিবর্তে একটি গঠনমূলক এবং সংবেদনশীল পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করুন।

‘আমি তোমাকে আর ভালোবাসি না’

এই শব্দগুলি ধ্বংসাত্মক হতে পারে এবং আপনার সঙ্গীর ওপর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আপনার অনুভূতি নিয়ে সন্দেহ থাকে তবে সময় নিন। ভালোবাসা অল্পদিনে হতে পারে আবার অনেকটা সময়ও লাগতে পারে। তাই বলে সঙ্গীকে হুট করে ‘ভালোবাসি না’ বলে দেবেন না।

‘মা/বাবা হিসেবে তুমি উপযুক্ত নও’

আপনার সঙ্গীর প্যারেন্টিংকে উপহাস করবেন না। আপনাদের সন্তান আপনাদের দু’জনেরই অংশ। তার দেখাশোনা করার দায়িত্বও আপনাদেরই। তাই আপনার সঙ্গী যদি ভুল কিছু করে তাহলে একসঙ্গে বসে সমাধান করুন। মতবিরোধ হতেই পারে। তবে তা সন্তানের সামনে নিয়ে আসবেন না। এতে সন্তানের ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

‘তুমি আমাদের সমস্ত সমস্যার কারণ’

বিয়ে পরবর্তী সমস্ত সমস্যার জন্য আপনার সঙ্গীকে দোষারোপ করা কোনো সমাধান নয়। এটি সমস্যা সমাধানে বাধা দেয়। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো খুঁজে বের করুন, একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানুন এবং সমাধান খুঁজতে একসঙ্গে কাজ করুন।




পড়া-লেখা অনিশ্চয়তায় মেধাবী ইভা ও রুপক

 

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী: অসুস্থ মা শয্যাশায়ী। তাই ইভার স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে গরিব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু অভাবের সংসারে তার উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথায় পড়বে, কীভাবে পড়বে—নানা শঙ্কা আর সিদ্ধান্তহীনতায় প্রথম ধাপে পছন্দের কলেজে আবেদন করা হয়নি তার। একই রকম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পটুয়াখালী সদরের রুপক কুমার, সেলিনা আক্তার ও খাদিজা আক্তারের। নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের পরিবারে।

পড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইভা আক্তার এবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া মোজাফ্ফর ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের বাড়ি উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। তার বাবা মহিষকাটা বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। এ অবস্থায় ইভা এবং তার কলেজ পড়ুয়া বড় ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানো তাঁর পক্ষে সম্ভব না ।

ইভা বলে, তার মা শয্যাশায়ী। টাকার অভাবে ঠিকঠাক চিকিৎসা হচ্ছে না। নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে হয়। মা অসুস্থ থাকায় সংসারের যাবতীয় কাজও সামলাতে হয় তাকে। তবু ইচ্ছাশক্তির জোরে সে এসএসসিতে ভালো ফলাফল করেছে।

ইভা আরও বলে, ‘ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু চিকিৎসক হওয়া তো দূরের কথা, উচ্চমাধ্যমিকে পড়া হবে কি না, বুঝতে পারছি না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশোনা করেছি। কিন্তু এবার কলেজে ভর্তি, বই-খাতা কেনা, প্রাইভেট, কোচিং করার সামর্থ্য আমার বাবার নেই।’

ঝাটিবুনিয়া মোজাফ্ফর ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস ছাত্তার বলেন, ইভা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অংশগ্রহণ করত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়। একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো মেয়েটি জীবনে অনেক উন্নতি করবে।

দুশ্চিন্তায় রুপকের মা–বাবা
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে রুপক কুমার। ছেলের ভালো ফলাফল মা-বাবার দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। রুপকের বাবা জগদীশ চন্দ্র শীল শহরের একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে রুপক ছোট। রুপকের মা রীনা রানী সেলাইয়ের কাজ করেন। শহরের চরপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তাঁদের সংসার।
পাড়া-প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় রুপক এত দিন লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন জানান, রুপক মেধাবী ছেলে। এত দিন তাঁরা লেখাপড়ায় সহায়তা করেছেন।

রুপকের বাবা জগদীশ চন্দ্র বলেন, ‘আমি আর পারছি না ছেলেরে লেহাপড়া করাইতে। অনেক দেনা রয়েছে। রুপকের লেহাপড়ার ভার দেশের দশজনের ওপর ছেড়ে দিলাম।




দূর্গাপূজা পূজার প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

 

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : দূর্গাপূজা পূজা যতই ঘনিয়ে আসছে ব্যস্ততা ততটাই বাড়ছে বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

কেউ কেউ খড়, কাঠ, সুতা দিয়ে প্রতিমার কাঠামো তৈরি করছেন কেউবা নিপুণ হাতে ফুটিয়ে তুলছেন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রতিমা। প্রতিমার কাঠামো তৈরি শেষে এখন চলছে মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির মূল কাজ। এরপর প্রতিমা শুকানোর পর কেউ কেউ শুরু করেছে প্রতিমায় রঙের কাজ।

প্রতিমা তৈরির কারিগর বিপক পাল বলেন, সবকিছুর দাম বাড়লেও প্রতিমা তৈরির কারিকরদের মজুরি খুব একটা বাড়েনি। আগের মতো মানুষ মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যাবহার না করায় আমাদের প্রায় সারা বছরই অলস সময় কাটাতে হয়। তবে দুর্গাপূজা চলাকালীন প্রতিমা তৈরি করে যে টাকা আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে সারা বছর সংসার চালাই।

জানা গেছে,গত বছর বরিশাল জেলা ও মহানগরী এলাকায় ৬৪৬ টি পুজা মন্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে মহানগরীতে ছিলো ৪৪টি। এবছর মহানগরীতে ১টি এবং বাকেরগঞ্জ ও মেহেন্দিগঞ্জে দুটি পুজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ বরিশাল জেলা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জী কুডু বলেন, আগামী ২০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্যে দিয়ে শেষ হবে পাঁচদিন ব্যাপী এবাবের দুর্গোৎসব। চলতি বছর দেবীর আগমন ও গমন ঘোটকে (ঘোড়ায়) যার ফল ছত্রভঙ্গ অর্থাৎ পৃথিবী এবার অনেকটা অস্থির ও বিশৃঙ্খল থাকবে। তবে দেবীর আগমনে বিশ্ব হবে শান্তিময়, অশুভ শক্তিকে বিনাশ করে উদয় হবে শুভ শক্তির এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের ।




রাতের আধারে বরিশালে মন্দিরে চুরি

 

বরিশাল অফিস: বরিশাল নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ২৭নং ওয়ার্ডের ১নং ইন্দ্রকাঠী সড়কে অবস্থিত ইন্দ্রকাঠী সার্বজনীন দূর্গা, শীতলা ও কালিমাতার মন্দিরে রাতের আধারে দুর্ধর্ষ চুরি সংগঠিত হয়। ধারনা করা হয়, ঘটনাটি দলবদ্ধ হয়ে সংগঠিত হয়েছে।

রাতভর  বৃষ্টি থাকার কারনে মন্দির প্রাঙ্গনে কেউ থাকতে না পারায় এবং বিদ্যুৎ না থাকার কারনে মন্দিরের তালা ভেঙ্গে এঙ্গেল (লোহা) ৩১২ কেজি ও ৯ ফুটের ৯ টি টিন এবং মন্দিরের দানবাক্স ভেঙ্গে সকল টাকা পয়সা নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ধারনা রাত ২টা থেকে ৫ টার মধ্যে ঘটনাটি সংগঠিত হয়।

মন্দিরের বর্তমান সভাপতি প্রবীর সরকার বলেন, এরকম একটা ঘটনা আমাদের জন্য লজ্জাজনক ব্যাপার এবং সকলকে সর্তকতা অবলম্বন করার জন্য অনুরোধ জানান। খুব তারাতারি মন্দিরটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মন্দির পরিদর্শন করেন এয়ারপোর্ট থানার পরিদর্শক (অফিসার ইনচার্জ) মো: হেলাল উদ্দিন ও উপ-পরিদর্শক সুমন মজুমদার। এসময় পরিদর্শক (অফিসার ইনচার্জ) মো: হেলাল উদ্দিন জানান, সাধারণ ডায়েরি নেয়া হয়েছে এবং অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বরিশালে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে অর্থায়নের দাবিতে সাইকেল শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে বান্দ রোড শিশুপার্কের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন প্রান্তজন, উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশগত কর্মজোট, বাংলাদেশ ওয়াকিং গ্রুপ অন ইকোলজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

র‌্যালি শেষে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সরকার ১৮টি এল.এন.জি ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া এল.এন.জি আমদানির জন্য পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর ও কক্সবাজারের মহেশখালীতে টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এল.এন.জি আমদানিতে ব্যয় বোঝা জনগণের কাঁধের ওপর পড়বে। আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

বক্তারা আরও বলেন, এল.এন.জি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে ৩৫০ গ্রাম কার্বন-ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়। যা আমাদের অর্থনৈতিক ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। চলমান ডলার সংকটের মধ্যে বিপুল পরিমাণ এল.এন.জি আমদানি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য ব্যয়বহুল এবং উপকূলীয় অঞ্চলবর্তী দেশের জন্য বিপদজনক। তাই দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক বিবেচনায় এল.এন.জি টার্মিনাল ও এল.এন.জি ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং পরিকল্পনা অনুসারে নবায়নযোগ্য জ্বালানীতে অর্থায়ন করতে হবে।

ক্যাব-এর সমন্বয়কারী রনজিত দত্তের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বরিশাল ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আহ্বায়ক একে আজাদ, প্রান্তজনের নির্বাহী পরিচালক এসএম শাহাজাদা, ম্যাপ-এর নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর চক্রবর্তী, এনভিএস-এর নির্বাহী পরিচালক শওকত আলী বাদল, ইব্রাহিম হামিদ মাসুম প্রমুখ। র‌্যালিতে উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।