নবীজির (সা.) মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন যাঁরা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আইয়ামে জাহেলিয়াতে আরবরা ছিল প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত : মরুবাসী বেদুইন যাযাবর ও আরব উপদ্বীপের শহরবাসী। শহরবাসীর নগররাষ্ট্র, সরকার ও সংস্কৃতির অস্তিত্ব ছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, মক্কাবাসীদের ‘দারুণ নদওয়া’ নামক City Hall (সম্মেলনকেন্দ্র) ছিল।

আরো ২১টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করেছেন ড. হামিদুল্লাহ।

যথা : ১) নদওয়া, ২) মশওরা, ৩) কিয়াদাহ, ৪) সেদানা, ৫) হিজাবা, ৬) সেকায়া, ৭) ইমারাতুল বাইত, ৮) ইফাদা, ৯) ইজাজাহ, ১০) নসি, ১১) কুব্বা, ১২) আন্নাহ, ১৩) রিফাদাহ, ১৪) আমওয়ালে মাহজরা, ১৫) ইসার, ১৬) এশনাক, ১৭) হুকুমাহ, ১৮) সেফারা, ১৯) ইকাব, ২০) বুয়া এবং ২১) হিলওয়া নুন নফর।

মদিনা সনদের গুরুত্ব : অন্যদিকে জনমত ও ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধে শান্তির লক্ষ্যে ৪৭টি শর্ত সংবলিত মদিনা সনদের ভিত্তিতে প্রিয় নবী (সা.) ‘ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন’-এর  সূত্রপাত করেন। ‘মদিনা সনদ’ হলো সংস্কৃতির Social contract, মানব-ইতিহাসের প্রথম Written  constitution। মদিনা সনদের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘Peace & Submission’ (শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ)।

ফলে প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ১০/১১ লাখ বর্গমাইলের বেশি এলাকার ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। তাঁর জীবদ্দশায়ই এ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রায় ১৯ লাখ বর্গমাইল এলাকায় বিস্তৃত হয়।

প্রিয় নবী (সা.) তাঁর শাসনব্যবস্থা ১০টি প্রদেশে বিভক্ত করে নিয়োগ করেন : আল-ওয়ালি (গভর্নর), আল-আমিল (কর আদায়কারী), আল-কাজি (বিচারক)। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে প্রিয় নবী (সা.)-এর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন আবু বকর, ওমর, ওসমান ও আলী (রা.)।

খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) ছিলেন স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান। স্বভাব কবি জায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত সচিব, প্রধান ওহি লেখক, রাষ্ট্রীয় পত্রলেখক, সভাকবি ও দোভাষী। হানজালা বিন আল রাবি ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)-এর সিলমোহর ও প্রশাসনিক গোপন তথ্যাদির সংরক্ষক।

মহানবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভার সদস্য : 

প্রিয় নবী (সা.)-এর মন্ত্রিসভায় অন্যতম সদস্যরা ছিলেন—

১. জাকাত ও সদকার সংরক্ষণ : জুবায়ের বিন আল আওয়াম এবং জুহায়ির বিন আল সালত (রা.)।

২. খেজুর বৃক্ষের কর : হুজায়ফা বিন আল ইয়ামান (রা.)।

৩. রাষ্ট্রীয় হিসাব সংরক্ষণ : মুয়ান কিব বিন আবী ফাতিমা (রা.)।

৪. বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসূত্র রক্ষা : মুগিরা বিন শুবা ও হুসায়েন বিন নুমির (রা.)।

৫. সেচ ও আনসারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় : আবদুল্লাহ বিন আকরাম এবং আল বিন উকবা (রা.)।

প্রিয় নবী (সা.)-এর গভর্নরবৃন্দ

১. হাজরামাউত : জিয়াদ বিন লাবিদ। ২. নাজরান : আলী বিন আবু তালিব। ৩. ইয়েমেন : মুয়াজ বিন জাবাল। ৪. আল জানাদ : ইয়ালা বিন উমাইয়া। ৫. বাহরাইন : আলবিন হাজরানি।

অন্যান্য প্রদেশ হলো : মক্কা, তায়মা, বনুকিন্দা অঞ্চল, ওমান প্রভৃতি। (সূত্র : মুসলিম প্রশাসন ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ, অধ্যাপক ড. আলী আসগর খান প্রমুখ)।




৫৮ শতাংশ কোটা খালি রেখেই শেষ হলো হজের নিবন্ধন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দুই দফা সময় বাড়ানোর পর বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) শেষ হলো হজের নিবন্ধন। কিন্তু কোটার ৫৮ শতাংশই এখনো খালি রয়ে গেছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশ তাদের হজযাত্রীর সংখ্যা জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো জানাতে পারেনি। হজযাত্রীর সংখ্যা চূড়ান্ত না হওয়ায় বাংলাদেশের নামে মিনায় তাঁবু বরাদ্দ হয়নি। সংখ্যা জানাতে আরও দেরি করলে মিনায় অনেক দূরে তাঁবু নিতে হবে, যা হজযাত্রীদের ভোগান্তির কারণ হবে। তাই নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে কোটার বড় অংশ খালি থাকায় পরবর্তী বছরগুলোতে কোটা পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে  ১৬ জুন (১৪৪৫ হিজরি সনের ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ১৯৮ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে এক লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন। চলতি বছর হজ পালনে সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয় গত ৮ জানুয়ারি।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রথমে নিবন্ধনের সময় ছিল ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে নিবন্ধনের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। হজযাত্রীদের সাড়া না পাওয়ায় সর্বশেষ নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি করা হয়।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় হজ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৩ হাজার ১১৫ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৮০২ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪৯ হাজার ৩১৩ জন।

সেই অনুযায়ী কোটার ৪২ শতাংশ হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। এখনো ৭৪ হাজার ৮৩ জন নিবন্ধন করেননি। অর্থাৎ কোটার ৫৮ শতাংশ খালি রয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বলেন, হজের নিবন্ধন আজই শেষ। সিদ্ধান্ত হয়েছে নিবন্ধনের সময় আর দেবো না। আমরা কোটা সারেন্ডার করবো।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে আমরা ডিফল্টার। তারা সব দেশকে বলেছে, তোমরা হজযাত্রীর সংখ্যা জানাও। আমরা হজযাত্রীর সংখ্যা জানাতেই পারছি না। নিবন্ধনের সময় বাড়ালে আমি মিনায় আর জায়গাই পাবো না। পরে সবাই গালাগালি করবে, সরকার আমাদের দূরে রেখেছে, কষ্ট দিয়েছে।

‘ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া মিনায় জায়গা বুক করে ফেলেছে। আমরাই একমাত্র দেশ যারা এখনো হজযাত্রীদের সংখ্যা জানাতে পারিনি।’

ধর্ম সচিব বলেন, ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছি। আর না। যা হয় হবে। আমরা আগামী সপ্তাহে সৌদি আরবকে হজযাত্রীর সংখ্যা জানিয়ে দেবো।

কোটার চেয়ে এত কম হজযাত্রী পাঠালে পরবর্তীসময়ে কোটা পেতে সমস্যা হবে কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, আগামী বছর একটু প্রভাব পড়বে। আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করবো। সরকার তো টাকা দিয়ে হজযাত্রী পাঠাতে পারবে না। এটি ধর্মীয় বিষয়।

‘আমরা নভেম্বর থেকে নিবন্ধন শুরু করেছি। সময় দুবার বাড়িয়েছি। রেডিও, টেলিভিশন, পত্রিকায় আমরা নিবন্ধন করার জন্য বলেছি। আমরা হজের খরচও গত বছরের চেয়ে এবার কমিয়ে দিয়েছি’ বলেন হামিদ জমাদ্দার।

তিনি আরও বলেন, এবার হজের সহায়ক টিমও আমরা বাংলাদেশ থেকে পাঠাবো না। এদের দিয়ে আসলে হাজিদের সেবাও হয় না। মক্কা মদিনায় যে ছাত্ররা আছে তারা কিছু কাজ করবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে না হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে আরও কিছু হজযাত্রীর নিবন্ধন হতে পারে। অনেকে হয়তো টাকা জমা দিয়েছে। পোস্টিং হতে সময় লাগছে। নিবন্ধনকারী হজযাত্রীর সংখ্যা আরও কিছুটা বাড়বে।

সৌদি সরকার হজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার কারণে এবার বিভিন্ন দেশ থেকে কতজন হজে যাবে তা আগেভাগে জানাতে হবে। অন্যান্য বছর হজচুক্তির পর নিবন্ধন শুরু হলেও এবার সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী চুক্তির আগেই নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করতে হয়।

এজেন্সি মালিকরা জানান, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় গেছে গত বছরের শেষ সময়টা। বেশির ভাগ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। অন্যদিকে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়েছিল, নিবন্ধন চলে এপ্রিল পর্যন্ত। তাই এবারের আগেভাগে নিবন্ধনের তথ্য অনেকে জানেনও না।

এবার হজের খরচ কিছুটা কমলেও দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সেটা হজে গমনেচ্ছুদের এখনো সাধ্যের বাইরে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এবার সরকারি ও বেসরকারিভাবে হজে যেতে সর্বনিম্ন খরচ কোরবানিসহ প্রায় ৬ লাখ টাকা। যদিও চলতি বছরের তুলনায় এটা অনেকটা কম।

সরকারিভাবে আগামী বছর হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। বিশেষ হজ প্যাকেজের মধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। সাধারণ প্যাকেজে চলতি বছরের চেয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রায় প্রত্যেক হজযাত্রীর ৯২ হাজার ৪৫০ টাকা কম খরচ হবে।

অন্যদিকে বেসরকারিভাবে এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সাধারণ প্যাকেজে হজ পালনে সর্বনিম্ন খরচ হবে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা। বিশেষ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ টাকা। চলতি বছরের তুলনায় খরচ কমেছে ৮২ হাজার ৮১৮ টাকা। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার সব হজযাত্রীকে কোরবানির খরচ আলাদা করে নিতে হবে।




হজ নিবন্ধনের সময় আর বাড়ছে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হজ নিবন্ধনের দ্বিতীয় দফার সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে। এদিন বিকেল ৩টা পর্যন্ত পবিত্র হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন মাত্র ৪৪ হাজার ২৯৭ জন। এখনও ফাঁকা ৮১ হাজার ৯০৪ কোটা। যদিও রাত ১২টা পর্যন্ত নিবন্ধন করার সুযোগ রয়েছে। শেষ সময়ে আরও হাজার তিনেক ব্যক্তি নিবন্ধন করতে পারেন বলে আশা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। তবে সময় আর বাড়ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়।




হার্ট অ্যাটাকের যেসব লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হার্ট অ্যাটাক হওয়ার জন্য আগে থেকেই অসুস্থ থাকাটা জরুরি নয়। বরং আপাত দৃষ্টিতে সুস্থ মানুষেরও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে, হাসপাতালে যেতে দেরি হতে পারে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে।



কোন রক্তের গ্রুপের মানুষেরা কেমন হয়?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মানুষের রক্তের গ্রুপ যে তার স্বভাব সম্পর্কে অনেককিছু বলে দিতে পারে, তা কি আপনি জানতেন? মজার বিষয় হলেও সত্যি যে, আপনার রক্তের গ্রুপ আপনার স্বভাব বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেককিছু বলে দিতে পারবে। এমনটাই জানা গেছে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণা থেকে। আপনারও নিশ্চয়ই কৌতুহল হচ্ছে যে আসলে রক্তের গ্রুপ মানুষের বৈশিষ্ট্য বরে দিতে পারে কি না? চলুন জেনে নেওয়া যাক-



রজব মাসে রাসূল সা: যে আমল করতেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : শুরু হয়েছে হিজরি মাস রজব। ‘রজব’ শব্দের অর্থ সম্মানিত। ইসলামপূর্ব জাহেলিয়াতের যুগে আরবরা এ মাসকে অন্য মাসের তুলনায় অধিক সম্মান করত। এজন্য তারা এ মাসের নাম রেখেছিল রজব।

ইসলাম আগমনের পর বছরে ১২ মাসের মধ্য থেকে রজবসহ ৪টি মাসকে ‘আশহুরে হুরুম’ তথা সম্মানিত মাস বলে ঘোষণা করা হয়। এ সম্পর্কে কুরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কাছে গণনায় মাস ১২টি, তন্মধ্যে ৪টি (সম্মানিত হওয়ার কারণে) নিষিদ্ধ মাস, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ (সূরা তাওবা, আয়াত : ৩৬)

এ মাস আসলে আল্লাহর রাসূল বিশেষ একটি আমল করতেন। হজরত আনাস ইবনে মালেক রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রজব মাস শুরু হলে হজরত রাসূলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেন- `আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান। ওয়া বাল্লিগনা রামাজান।’ অর্থ, ‘আয় আল্লাহ! রজব ও শাবান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করে দাও। আয় আল্লাহ আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দাও (জীবন দাও)।’ (সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ৬৫৯)

হজরত আবু বকর বলখি রহ: বলেন, ‘রজব ফসল রোপনের মাস। শাবান ফসলে পানি সেচ দেয়ার মাস। আর রমজান হলো- ফসল তোলার মাস।’ তিনি আরো বলেন, ‘রজব মাস ঠান্ডা বাতাসের মতো, শাবান মাস মেঘমালার মতো। আর রমজান মাস হলো- বৃষ্টির মতো।’ (লাতায়েফুল মাআরেফ: ১৪৩)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি নিতেন। অধিক নফল রোজা ও ইবাদতে কাটাতেন রজব ও শাবান মাস। তাই আমাদেরও কর্তব্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করে রজব মাসের হক আদায় করা। বেশি বেশি নফল নামাজ ও রোজা রাখা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

লেখক : শিক্ষার্থী, আততাখাসসুস ফিল ইফতা, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম রামপুরা।




এবার রমজান মাস কত দিনের হবে, জানাল আমিরাতের দুই সংস্থা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে রজব মাস। জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী, আর মাত্র ৬০ দিন পর পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। অর্থাৎ আগামী ১১ মার্চ থেকে মানুষ রমজানের রোজা রাখবেন। আর এবারের রমজান মাসটি ৩০ দিনের হতে পারে।



শীতকালে মহানবী সা. যে ‍যুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মুসলমানদের অব্যাহত উন্নতি ও ইসলামের ক্রমবর্ধমান প্রসার দেখে বদর যুদ্ধে পরাজিত ও ওহুদ যুদ্ধে বিপর্যস্ত মুশরিক ও অন্যান্য অমুসলিম সম্প্রদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিল।

মুসলামানদের বিরুদ্ধে মুশরিক, ইহুদি ও খৃস্টানদের একটি সম্মিলিত শক্তি জোট গড়ে তুললো। তারা সবাই মিলে মদিনায় আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিল। একইসঙ্গে বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে পৃথিবীর বুক থেকে ইসলাম ও মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার সংকল্প নিয়ে মদিনার চারদিক অবরোধ করে বসলো।

খন্দক যুদ্ধ

কোরআনে এ যুদ্ধকে গযওয়ায়ে আহযাব অর্থাৎ সম্মিলিত বাহিনীর যুদ্ধ এবং ইতিহাসে গযওয়ায়ে খন্দক নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের সিদ্ধান্তের কথা জেনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে স্থির করেছিলেন যে, শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করতে মদিনার বাইরে পরিখা খনন করা হবে। যাতে তারা পরিখা ডিঙিয়ে মদিনায় প্রবেশ করে হামলা চালাতে না পারে।

মুসলমানদের প্রস্তুতি

বায়হাকী, আবু নাঈম ও ইবনে খুযায়মার রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, প্রতি চল্লিশ হাত পরিখা খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দশজন করে সাহাবির ওপর। পরিকল্পনা ছিল- কয়েক মাইল লম্বা যথেষ্ট গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করতে হবে, যা শত্রু সৈন্যরা সহজেই পার হতে না পারে। পরিখা খননের কাজ কাজ খুব দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন ছিল।

সাহাবিরা নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে লাগলেন। পানাহার, ইস্তিঞ্জার মতো প্রয়োজনগুলোতেও কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। প্রচণ্ড ক্ষুধা নিয়ে কাজ করেছিলেন তারা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও এই কাজে একজন সাধারণ সৈনিকের মতো অংশ নিয়েছিলেন। এভাবে সবাই সম্মিলিতভাবে খনন কাজ শেষ করলেন।




এবার রোজা কতদিন, কত ঘণ্টা জানাল আরব আমিরাত

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হয়েছে রজব মাস। অর্থাৎ রমজান মাসের বাকী আর মাত্র ৬০ দিন বা দুই মাস। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র মাস হিসেবে বিবেচিত রমজান মাসে মুসলমানরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপোস থাকেন।

সাধারণত এ মাসে বিভিন্ন মুসলিম দেশে অফিসের সময় কমে আসে। সেইসঙ্গে একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশও বিরাজ করে। এবার কতদিন এ মাস স্থায়ী থাকবে সে ব্যাপারে আগামবার্তা প্রকাশ করেছে আরব আমিরাত।

২০২৪ সালের রমজান কবে থেকে শুরু হবে: দুবাই ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের (আইএসিএডি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১২ মার্চ থেকে রোজা শুরু হবে।

রোজার সময়কাল কত হবে : ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে রোজার সময় কম হবে। পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন মুসলমানরা ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের জন্য খাওয়া-দাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

মাস শেষে রোজার সময় প্রায় ১৪ ঘন্টায় পৌঁছে যাবে। ২০২৩ সালে রোজার সময় ছিল ১৩ ঘণ্টা থেকে ৩৩ মিনিট এবং ১৪ ঘণ্টা ১৬ মিনিট।

রমজান কবে শেষ হবে: আইএসিএডি ক্যালেন্ডার অনুসারে, পবিত্র রমজান মাস ২৯ দিন থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। শেষ রোজার দিনটি মঙ্গলবার ৯ এপ্রিল।

সূত্র: খালিজ টাইমস

 




পবিত্র শবে মেরাজ ৮ ফেব্রুয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশের আকাশে আজ পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সেই হিসেবে ১৪ জানুয়ারি থেকে রজব মাস গণনা শুরু। আর ৮ ফেব্রুয়ারি উদযাপিত হবে শবে মেরাজ।

শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. নায়েব আলী মন্ডল।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মহা. বশিরুল আলম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব রুহুল আমীন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. কাউসার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।