প্রথম বিয়ে ১০০, চতুর্থ বিয়েতে  ৫০ হাজার টাকা  কর দিতে হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এরই অংশ হিসেবে বিয়ের ক্ষেত্রে কত টাকা কর দিতে হবে তা জানিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা কর হলেও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বিয়ের ক্ষেত্রে যথাক্রমে ৫ হাজার, ২০ হাজার এবং ৫০ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে বিয়ে নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়াবলি যেমন শৃঙ্খলিত ও তথ্য সমৃদ্ধ হবে তেমনই ভবিষ্যতে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহারে বিশেষত বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অন্য সংস্থাগুলোকে সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি সরবরাহ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বাড়বে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আদায়।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৮২ নম্বর ধারার চতুর্থ তফসিলের ৮ নম্বর ক্রমিকে অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং আদর্শ কর তফসিল ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে উল্লিখিত হারে এ কর আদায় করা হবে।

মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদ সবার কাছে অপ্রত্যাশিত একটি বিষয়। কিন্তু তারপরও বাস্তবতার নিরিখে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে থাকে। বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত তথ্যাদি করপোরেশনে এলেও বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত কোনো তথ্য আমাদের কাছে থাকে না। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী এটি বাধ্যতামূলক।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও বিবাহ সংক্রান্ত তথ্য থাকলে বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে অনেক সময় তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি অনেক সময় বিজ্ঞ আদালত ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়। ফলে আমাদের এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সামষ্টিকভাবে বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে।

শৃঙ্খলা আনয়নে এ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশান বা উত্তরাধিকার নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়। তাছাড়া বিদেশগামী যাত্রীদের ও বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের প্রয়োজন হয়। এরকম বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহ নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্যাদির গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি বলেন, এছাড়াও অনেক সময় বিদেশি দূতাবাসসমূহের বিবাহ সংক্রান্ত তথ্যাদির প্রয়োজন হয়। তাই বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রম লিপিবদ্ধ থাকলে তারাও সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে এসব তথ্য পেতে পারে। শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এ লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে মন্ত্রণালয় গত বছরের ১৩ মার্চ আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিকে বর্ণিত কর আদায়ে একটি পত্র পাঠায়।

পরে গত বছরের ৬ জুন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা হয়। করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে ওই সভায় করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আরিফুল হক, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ঢাকা বিভাগীয় রেজিস্ট্রার, ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার, করপোরেশনের অধিক্ষেত্র এলাকার কাজীরা ও করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করপোরেশনের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড গত জানুয়ারি মাসে ২৮টি বিবাহ নিবন্ধন কার্যক্রমের জন্য দুই হাজার ৮০০ টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।

বর্তমানে এ কার্যক্রম ম্যানুয়ালি পরিচালনা করা হলেও শিগগির তা অনলাইনে নিতে এরই মধ্যে করপোরেশন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। এ কাজ বাস্তবায়ন হলে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও বিবাহ নিবন্ধন কর পরিশোধ করা যাবে।

ডিএসসিসি জানায়, আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর ১০(৪) এর ১৫২ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী (ক) প্রথম বিবাহ বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা, (খ) প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা, (গ) প্রথম দুই স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে তৃতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা, (ঘ) প্রথম তিন স্ত্রীর জীবদ্দশায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে চতুর্থ বিবাহের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা কর করপোরেশনের রাজস্বে জমা দিতে হবে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তির প্রথম স্ত্রী যদি মানসিক ভারসাম্যহীন অথবা বন্ধ্যা হয় তাহলে পরবর্তী বিয়ের ক্ষেত্রে ২০০ টাকা কর দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ক, খ, গ ও ঘ -এ বর্ণিত কর প্রযোজ্য হবে না।




ফুটপাতে চা বিক্রি করতেন, এখন কফি শপের মালিক

 

চন্দ্রদ্বীপ  ডেস্ক:  সারোয়ার মাহমুদ। মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ফুটপাতে ছোট্ট বক্সে চা বিক্রি শুরু করেন। এখন তিনি একটি কফি শপের মালিক। সারোয়ারের দোকানে কফি খেতে আসলেই কুশল বিনিময় শেষে ক্রেতাদের আপ্যায়ন করতে ফ্রিতে হাতে তুলে দেন বিস্কুট। এমনকি নিয়মিত আসা পছন্দের ক্রেতাদের বিনামূল্য খেতে দেন তার স্পেশাল চা।

২০১৫ সালে ফুটপাতে চা বিক্রি শুরু করে ধীরে ধীরে ব্যবসার উন্নতি করেছেন সারোয়ার। তবে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হতে তাকে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা। শিক্ষা পর্ব শেষে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন সারোয়ার মাহমুদ। কিন্তু চাকরিতে মন বসছিলো না। এরপর চাকরি ছেড়ে ফুটপাতে প্রথমে চায়ের দোকান দেন। যদিও তার এই সিদ্ধান্ত ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেনি তার পরিবার। তবে অল্প সময়ের মধ্যে নিজের মনোবল দিয়ে পরিবারকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

এখন তিনি একটি কফি শপ চালান। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল ক্রিকেট খেলে লাল-সবুজের পতাকা হাতে বাংলাদেশকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরবেন। তবে সুযোগ হয়নি সারোয়ার মাহমুদের। তবে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই দোকানের নাম দিয়েছেন টি-টোয়েন্টি কফি বার। রাজধানীর পান্থপথ এলাকায় প্রধান সড়কের পাশেই অবস্থিত এই কফি বার। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মিলশেক ও কফি বিক্রি করা হয় এই টি-টোয়েন্টি কফি বারে।

সবুজের ছোঁয়ায় নানান গাছে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে কফি শপটি। সুস্বাদু মিলশেক ও কফি খেতে প্রতিনিয়ত ভিড় করেন কফিপ্রেমীরা। কফি খেতে আসা শিবলি নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘প্রায়ই এখানে কফি খেতে আসি। আজও খেয়েছি, এখনো আগের মতোই এর স্বাদ আছে। এখানে একবার আসলে যে কেউ তার ব্যবহারে মুগ্ধ হবেন। তার কফি আসলে অসাধারণ’।

অন্যদের মতোই আখের চিনি, ফুলক্রিম মিল্ক, কফি ক্রিমারসহ বিভিন্ন উপাদান দিয়ে কফি তৈরি করা হয় এখানে। তবে বাড়তি মেলে হাসিখুশি মুখে সারোয়ার মাহমুদের বিশেষ আপ্যায়ন। তিনি বলেন, ‘আমার এখানে বিশেষ কিছুই নেই। সবার মতই লাল চিনি,ফুলক্রিম মিল্ক, কফি ক্রিমকফি এগুলোই কফিতে দেই। তবে মন থেকে ভালোবাসা দিয়ে বানাই এই কফি’।

নিয়মের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে নিজেকে স্বাধীনভাবে মেলে ধরতে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেছেন বলে জানান কফি বিক্রেতা সারোয়ার মাহমুদ। ভালো ব্যবহার না দেখালে মাঝেমধ্যেই এখানকার কফি খাওয়ার সুযোগ হারাতে হয়। ছোট্ট দোকান থেকে ব্যবসার পরিধি বড় হলেও গুণগত মান ধরে রাখতে দোকানে কর্মচারীও নিয়োগ দেননি এই উদ্যোক্তা।

ভিন্নধর্মী কফি শপের এই ব্যবসা করে মুক্ত জীবনযাপনে খুশি সারোয়ার মাহমুদ। চাকরির পেছনে না ঘুরে অন্যদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান তার। তবে ভাগ্য পরিবর্তনে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।




আখেরি মোনাজাত শেষ, যানবাহন না পেয়ে দুর্ভোগে মুসল্লিরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগপাড়ে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব আজ (রোববার) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।



দাম্পত্যে যে সমস্যার কারণে পরকীয়া করেন সঙ্গী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পরকীয়ার সমস্যা বিশ্বজুড়ে বেড়েই চলেছে। পরকীয়ার সম্পর্ক কেউই ভালোভাবে দেখে না। অথচ পরকীয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত নানা কারণ। সে খবর হয়তো অনেকেই রাখেন না। জেনে নিন কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে মানুষ জড়িয়ে পড়তে পারেন পরকীয়া সম্পর্কে-

>> অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় অভিভাবকের চাপে পড়ে বিয়ে করেন। অথচ ওই পাত্র বা পাত্রী তার পছন্দ নয়। বিয়ের পর নিজের ভুল বুঝতে পারেন তারা। তখন কারও সঙ্গে হঠাৎ প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন।

>> অনেকেরই অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যায়। ফলে ওই বয়সেই সামলাতে হয় সংসারের দায়িত্ব। ফলে জীবনকে সেভাবে তারা উপভোগ করতে পরেন না। ব্যক্তিগত কিংবা পেশাগত জীবনে স্থায়িত্ব আসার পর তাই অনেকেই পরকীয়া প্রেমের স্বাদ নিতে চান।

>> জীবনে কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পেরেও অনেকে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা, কারও মৃত্যু, চাকরি চলে যাওয়া, আর্থিক অনটনে অনেকে পরিবারের বাইরে মুক্তির পথ খোঁজেন। এ সময় পরিচিত কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা একেবারেই বিরল নয়

>> বিয়ের আগে বা বিয়ের সময় অনেকেই নিজেদের জীবনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন না। একসঙ্গে পুরো জীবন কাটাতে হলে একে অপরের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা ও বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দু’জনের জীবনের গুরুত্বের জায়গাগুলো আলাদা। সেখান থেকে শুরু হয় দাম্পত্যে কলহ। আর এ কারণে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে যে কেউই।

>> স্বামী-স্ত্রী দুজনের মধ্যে ১০০ ভাগ মিল কখনো থাকবে না। সংসারে দুজনকে মানিয়ে নিতে হয়, এতে সম্পর্ক ভালো থাকে। তবে দুজন দুই মেরুর মানুষ হলে ওই সংসারে অশান্তি লেগে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর এভাবে চলতে থাকলে দাম্পত্যে দুরত্ব বাড়ে ও সঙ্গী পরকীয়ায় ঝুঁকতে পারেন।

>> পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম বড় কারণ বৈবাহিক জীবনে যৌন অতৃপ্তি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়ার পেছনে লুকিয়ে থাকে এই কারণ।




হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়লো আরও ৫ দিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরও এক দফা বাড়ানো হলো। ‌ আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হজের নিবন্ধন করা যাবে।

হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় আরও পাঁচ দিন বাড়িয়ে শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এটিই শেষবারের মতো সময় বৃদ্ধি বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।

সাড়া না মেলায় এরই মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় তিন দফা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ আটদিন বাড়ানো মেয়াদ শেষ হয় বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি)।‌ কিন্তু, এখনো ৪৭ হাজারের বেশি কোটা খালি আছে।

সময় শেষ হওয়ায় গতকাল হজের নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর দাবি জানায় হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। এই প্রেক্ষাপটে সময় ফের বাড়ানো হলো।

হজের নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বিশেষ বিবেচনায় শেষবারের মতো আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হলো। এ সময়ের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন বা প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে।

প্রাথমিক নিবন্ধন করা হলে প্যাকেজের অবশিষ্ট মূল্য আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবশ্যিকভাবে একই ব্যাংকে জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় এ বছর হজে যাওয়া যাবে না এবং প্রদত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৬ জুন (১৪৪৫ হিজরি সনের ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এরমধ্যে সরকারি ব‌্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি ব‌্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ‌্যমে এক লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন।

সর্বশেষ তথ‌্য অনুযায়ী, মোট ৭৯ হাজার ৮৬২ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ‌্যে সরকারি ব‌্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ১৬৫ জন ও বেসরকারি ব‌্যবস্থাপনায় ৭৫ হাজার ৬৯৭ জন। সেই অনুযায়ী, এখনো ৪৭ হাজার ৩৩৬ জন নিবন্ধন করেননি।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রথম নিবন্ধনের সময় ছিল ১০ ডিসেম্বর। পরে নিবন্ধনের সময় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। হজযাত্রীদের সাড়া না পাওয়ায় সর্বশেষ নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে ১৮ জানুয়ারি করা হয়।

সৌদি আরবকে এবারের হজযাত্রীর সংখ‌্যা জানানোর তাগিদ থাকায় নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়। কিন্তু হজ এজেন্সিগুলোর চাপে শেষ পর্যন্ত হজের নিবন্ধনের সময় ২৫ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো। সেই সময় বৃহস্পতিবার শেষ হয়। এরপর আবার বাড়ানো হলো নিবন্ধনের সময়।




শীতেও জুমার দিনে গোসল করতেই হবে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জুমার নামাজের জন্য অজু করা যথেষ্ট। আর গোসল করা উত্তম। এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে পাকে বিষয়গুলো সুষ্পষ্ট করেছেন। হাদিসের আলোকে উভয়টিই ভালো ও উত্তম সুন্নাতি আমল।

তবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিন গোসলের ব্যাপারে খুব বেশি তাগিদ দিয়েছেন। জুমার দিন গোসল করা অতি উত্তম কাজ। হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত-

হজরত সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল; সে যথেষ্ট করলো ও ভালো করলো। আর যে গোসর করলো সে অধিক উত্তম।

জুমার দিনের গোসল
যে ব্যক্তি জুমার নামাজের জন্য গোসল করলো; সে অধিক উত্তম কাজ করলো। সুন্নাত আমল পূর্ণ করলো। কারণ যে ব্যক্তি জুমার দিন অজুর সঙ্গে সঙ্গে গোসল করলো, তা শুধু অজু অপেক্ষা গোসলের মতো অধিক উত্তম সুন্নাত আমল করলো। প্রসিদ্ধ চার ইমামসহ অধিকাংশ আলেম জুমার দিন অজুর সঙ্গে সঙ্গে গোসলের এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছেন।

গোসলের গুরুত্ব
তবে জুমার দিন অজুর চেয়ে গোসল করাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা প্রমাণিত-

১. হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ জুমার নামাজে আসলে সে যেন গোসল করে। ’ (বুখারি, মুসলিম)

২. জুমার দিন গোসলের তাৎপর্য
হজরত ইবনু ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু জুমার দিন দাঁড়িয়ে খুতবা দিচ্ছিলেন, এমন সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রথম যুগের একজন মুহাজির সহাবা (জুমা পড়তে মসজিদে) এলেন। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে ডেকে বললেন, এখন সময় কত? তিনি বললেন, আমি ব্যস্ত ছিলাম, তাই ঘরে ফিরে আসতে পারিনি। এমন সময় আজান শুনে শুধু অজু করে নিলাম। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, শুধু অজুই? অথচ আপনি জানেন যে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গোসলের নির্দেশ দিতেন। ’ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

৩. জুমার দিন গোসল করা ওয়াজিব
হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জুমার দিনে প্রত্যেক সাবালকের জন্য গোসল করা ওয়াজিব। ’ (বুখারি)

৪. জুমার দিন গোসলের মর্যাদা
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত (নাপাকি থেকে পবিত্রতার) গোসলের ন্যায় গোসল করে এবং নামাজের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কোরবানি করলো। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কোরবানি করলো। তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানি করলো। চতুর্থ পর্যায়ে আগমন করলো সে যেন একটি মুরগি কোরবানি করলো। পঞ্চম পর্যায়ে যে আগমন করলো সে যেন একটি ডিম কোরবানি করলো। পরে ইমাম যখন খুতবাহ দেওয়ার জন্য বের হন তখন ফেরেশতারা (ইমামের খুতবাহ) উপদেশ শোনার জন্য (মসজিদে) উপস্থিত হয়ে থাকে। ‘ (বুখারি, মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমার নামাজের জন্য গোসল করে এ দিনের উত্তম আমলে নিজেদের সম্পৃক্ত করা। একান্ত কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলে অজু করেও জুমা পড়ায় দোষ নেই। তবে জুমার জন্য গোসল করাকে আবশ্যক বলেছেন বিশ্বনবি।




টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা শুরু, মুসল্লির ঢল




জিরা ভেজানো পানি পান করলে ত্বকের যে ৫ উপকার হয়




৪০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, কর্মস্থল ঢাকা

 চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন:  গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক লিমিটেডে (জিএইচআইটিএল) ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটর’ পদে ৪০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠানের নাম: গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক লিমিটেড (জিএইচআইটিএল)

পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪০০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি
অভিজ্ঞতা: ০১ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ১৮-৪৫ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা (মহাখালী ব্র্যাঞ্চ)

আবেদনের শেষ সময়: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

 




সোশ্যাল মিডিয়া ভুল ব্যবহারের হতে পারে বিচ্ছেদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বর্তমানে সবাই সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত। আসলে কর্মব্যস্ত এই জীবনে একটু আধটু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেই মানুষ সামাজিক হতে চান। এ কথা ঠিক যে, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখে।

আবার অনেক পুরোনো স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। তবে এই সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে বহু সম্পর্কের মধ্যেই কিন্তু ফাটল দেখা দেয়।

বৈবাহিক সম্পর্ক, পারিবারিক জীবন, লাভ লাইফ, বন্ধু-বান্ধব, সব সম্পর্কেই বাড়ছে দূরত্ব। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ।

আর সেই সন্দেহ থেকেই শুরু হয় বাদ-বিবাদ। এমনকি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের জন্য সম্পর্কে বিচ্ছেদও ঘটে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি ভুল করলে সম্পর্কে কলহ সৃষ্টি হতে পারে। জেনে নিন কী কী-

সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার

অবসর পেলেই সঙ্গীকে ছেড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মনোযোগ দেন অনেকেই। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান সোশ্যাল মিডিয়ায়। আপনার এই অভ্যাস সঙ্গীর ভালো না লাগাই স্বাভাবিক।

সঙ্গী পাশে থাকার সময়ও যদি আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন বা সঙ্গী যদি সব সময় আপনাকে অনলাইনে অ্যাকটিভ দেখেন তাহলে বিবাদ হতেই পারে। এজন্য সঙ্গী পাশে থাকলে তাকে সময় দিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহারে অভ্যাস ত্যাগ করুন।

সঙ্গীর পোস্টে লাইক ও কমেন্ট না করা

বন্ধু-বান্ধব থেকে আত্মীয়-স্বজন সবার পোস্টেই হয়তো আপনি লাইক ও কমেন্ট করেন, তবে ভালোবাসার মানুষের কোনো পোস্ট দেখলেই হয়তো তা এড়িয়ে যান।

এই ভুল করবেন না আর। সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু পোস্ট করলে তাতেও লাইক-কমেন্ট করুন। তবেই আপনাদের মধ্যে বাড়বে ঘনিষ্ঠতা। সম্পর্ক হবে দৃঢ়। আর অন্যান্যরাও আপনাদের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করবেন।

সঙ্গীর সঙ্গে ছবি পোস্ট না করা

সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যে আপনার সঙ্গীর সঙ্গে তোলা ছবি শেয়ার করুন। সুন্দর ক্যাপশন দিন। তবেই তো খুশি হবে আপনার ভালোবাসার মানুষ।

সঙ্গীর পোস্ট দেখে হিংসা করা

সোশ্যাল মিডিয়ায় সঙ্গীর করা পোস্টে লাইক বা কোনো কমেন্ট দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বা অশান্তি ডেকে আনবেন না। এই বিষয়টিকে খুব সহজভাবে দেখুন।

মুখোমুখি কথা না বলা

ফোনে কথা বলা বা অনলাইন কমিউনিকেশনে অনেক সময় মনের ভাব ঠিকমতো প্রকাশ করা যায় না, ফলে ভুল বোঝাবুঝি আরও বাড়ে।

সেখান থেকেই বিতর্কের জন্ম হয়। তাই সঙ্গীর সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলুন। এতে আপনারা একে অপরের আবেগ, অনুভূতি বুঝতে সক্ষম হবেন।

গোপনীয়তা বজায় না রাখা

সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে উৎসাহিত করে। তবে অনেকে না বুঝেই নিজেদের ব্যক্তিগত বিষয় বা অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে ফেলেন।

যা একেবারেই করা উচিত নয়। গোপন বিষয় সব সময় নিজেদের মধ্যে রাখা উচিত। গোপনীয়তার অভাবেই একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ভেঙে যেতে পারে।

সূত্র: বোল্ডস্কাই