আশুরার দিনে ফেরাউনের পতন: সত্য ও তাওহিদের ঐতিহাসিক জয়গাথা

‘ফেরাউন’—এই শব্দটি কেবলই ইতিহাসের কোনো একক নাম নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত জুলুমের প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার ফিরে আসে এই নাম, যার অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়ায় অহংকার, জুলুম ও আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণের চূড়ান্ত পরিণতি।

প্রাচীন মিসরের রাজারা ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ উপাধিতে পরিচিত ছিল। সেই শাসকদেরই একজন ছিল হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউন, যাকে মহান আল্লাহ সত্যের দাওয়াত দিতে পাঠান নবী মুসার মাধ্যমে। সেই ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করত, বলত, “আমি তোমাদের মহান রব।” (সুরা নাজিয়াত: ২৪)

মুসা (আ.)-এর অলৌকিক মুজিজা দেখেও ফেরাউন অহংকারে ফিরে আসেনি। বরং বনি ইসরায়েলকে নিপীড়ন করে চলেছে। একপর্যায়ে আল্লাহর হুকুমে মুসা (আ.) তার অনুসারীদের নিয়ে মিসর ত্যাগ করেন। তখন ফেরাউন তার সেনাবাহিনী নিয়ে ধাওয়া করে। তখনই ঘটে আশুরার সেই ঐতিহাসিক ঘটনা—লোহিত সাগর বিভক্ত হয়ে যায়, বনি ইসরায়েল পার হয়ে যায়, আর ফেরাউন তার সেনাসহ ডুবে মরে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে সে ঈমান আনার চেষ্টা করে, কিন্তু তা কবুল হয়নি।

সুরা ইউনুসে আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমার (ফেরাউনের) দেহ রক্ষা করব, যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়।” (সুরা ইউনুস: ৯২)

এই ঘটনাটি ঘটে ১০ মহররম—আশুরার দিনে। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা এ দিন রোজা রাখে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এই দিনে মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্ত হন। রাসুল (সা.) বলেন, “মুসার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি।” অতঃপর তিনি নিজে রোজা পালন করেন ও মুসলিমদের তা রাখতে নির্দেশ দেন। (বুখারি: ৩৩৯৭)

আশুরা আমাদের শেখায়, জুলুম যত বড়ই হোক না কেন, তার পতন অনিবার্য। সত্য ও তাওহিদের বিজয় চিরন্তন। ফেরাউনের দেহ আজো সংরক্ষিত আছে—আল্লাহর এক অমোঘ নিদর্শন হিসেবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




হজে ৪৩ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরেছেন ৬৬ হাজারের বেশি হাজি

চলতি বছরের হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ৩৬২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে, পবিত্র হজ পালনের সময় সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৩ জন বাংলাদেশি।

রবিবার প্রকাশিত হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়। হজ বুলেটিনের আইটি হেল্প ডেস্ক জানিয়েছে, ৫ জুলাই দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত দেশে ফিরে আসা হজযাত্রীর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৩৬২ জন, যাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ৩৫৫ জন।

দেশে ফেরা ১৮৫টি হজ ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩১ হাজার ১৬৫ জন হাজিকে ফিরিয়ে এনেছে। সৌদি এয়ারলাইন্সে ফিরেছেন ২৬ হাজার ৪২১ জন, আর ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ফিরেছেন ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজি।

এদিকে, হজ পালনকালে ৪৩ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে ২৬ জন মক্কায়, ১৩ জন মদিনায়, ৩ জন জেদ্দায় এবং একজন আরাফায় মৃত্যুবরণ করেন।

পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী সব হাজির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে বাংলাদেশ হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আশুরার শোক ও আত্মত্যাগে ভরা স্মরণীয় দিন আজ

আজ ১০ মহররম—পবিত্র আশুরা। হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররমের এই দশম দিনটি মুসলমানদের জন্য গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এক দিবস। এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল রোজা, নামাজ, দান-খয়রাত, জিকির-আসকারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য লাভের আশায় দিনটি পালন করে থাকেন।

আশুরা শব্দটি এসেছে আরবি ‘আশারা’ থেকে, যার অর্থ দশ। ‘মহররম’ অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার মর্মন্তুদ প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) পরিবার-পরিজনসহ নির্মমভাবে শহীদ হন। ফোরাত নদীর তীরে ঘটে যাওয়া সেই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস হয়ে আছে মানবতার পাতায়।

ইমাম হোসেন (রা.)-এর এই আত্মত্যাগ কেবল শোকের আবরণে ঢাকা নয়, বরং এটি অন্যায়, জুলুম ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাঁর ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে সত্য, ন্যায়ের পথ অনুসরণ ও ইসলামের শান্তিপূর্ণ আদর্শে অবিচল থাকার আহ্বান জানায়।

শিয়া সম্প্রদায় আশুরার দিনে বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করে থাকে, এর মধ্যে তাজিয়া মিছিল অন্যতম।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এক বাণীতে বলেন, আশুরার চেতনা জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয় এবং মানবজাতিকে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি হজরত ইমাম হোসেন (রা.) ও কারবালায় শাহাদাত বরণকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং এই দিনে বেশি বেশি নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




আশুরার বাণীতে তারেক রহমান: আওয়ামী দমনপীড়ন এজিদের বর্বরতার মতোই পৈশাচিক

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ছিল এজিদ বাহিনীর পৈশাচিকতার মতোই নির্মম।

শনিবার (৫ জুলাই) পাঠানো এক বাণীতে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১০ মহররম স্মরণীয় ও ঘটনাবহুল একটি দিন। এ দিনে কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) শাহাদাত বরণ করেন। অন্যায়, অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম তিনি করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তারেক রহমান বলেন, “কারবালার ঘটনাপ্রবাহ সব যুগেই মজলুম জনগণের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে শক্তি ইনসাফ ও মানবতাকে পদদলিত করেছিল, তার বিরুদ্ধে ইমাম হোসেন (রা.)-এর আদর্শিক সংগ্রাম ছিল চূড়ান্ত আত্মত্যাগের নিদর্শন।”

তিনি আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, “গত ১৬ বছরে পতিত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের ভোটাধিকার হরণ, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, সন্ত্রাস, হানাহানি ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে শোষণের এক অবর্ণনীয় রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে বন্দী রেখে সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতারা যে পৈশাচিক দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তা এজিদ বাহিনীর বর্বরতার মতোই। এদেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইমাম হোসেন (রা.)-এর আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আর কখনো যেন কোনো অন্যায়কারী শক্তির উত্থান না ঘটে, সে জন্য কারবালার শিক্ষা ও চেতনা আমাদের অবিরাম প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা জোগাবে।”




৫ জুলাই দেশব্যাপী সকল নিহত-শহীদদের জন্য দোয়া-মাহফিলের আহ্বান হেফাজতে ইসলামের

২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতা ও আলেম-ওলামাদের স্মরণে আগামী ৫ জুলাই দেশব্যাপী দোয়া ও মাহফিল আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, “২০১৩ ও ২০২৪ সালের শহীদদের আত্মত্যাগ এখনও মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে রয়েছে। তাদের রূহের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় ৫ জুলাই দেশের মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঐসব আন্দোলন ছিল ফ্যাসিবাদী শাসন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব হরণের বিরুদ্ধে। তারা অভিযোগ করেন, এখনও ‘ভারতের দালাল’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ গোষ্ঠী দেশে ষড়যন্ত্র করে চলেছে এবং এসব প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

হেফাজতের নেতারা জানান, “জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হলে ছাত্র-জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।” দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে রাজপথে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।

৫ জুলাইয়ের কর্মসূচিকে তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং জনগণকে সুশাসনের জন্য ঐক্যবদ্ধ করার একটি উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।


প্রয়োজনে চাইলে এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ বা বিভিন্ন ধাঁচের শিরোনামও দেওয়া যেতে পারে।




আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ; তীব্র নিন্দা ফিলিস্তিনিদের

ইসরায়েল অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে পড়েছে কয়েক ডজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এসব বসতি স্থাপনকারী অতর্কিতভাবে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, এসব বসতি স্থাপনকারীরা ইসরায়েলের নাগরিক, যারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের জমিতে অবৈধভাবে বসতি গড়ে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছায়ায় তারা আল-আকসা মসজিদ চত্বরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ধর্মীয় আচারও পালন করে।

আল-আকসা মসজিদ ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। ঐতিহাসিকভাবে মসজিদ চত্বরটি কেবল মুসলিমদের উপাসনার জন্য নির্ধারিত— এমন চুক্তি আছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। এমনকি জেরুজালেমের প্রধান রাব্বির দপ্তর থেকেও ইহুদিদের এই স্থানে উপাসনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দেশটিতে উগ্র জাতীয়তাবাদী ইহুদি গোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ এই চুক্তির বিরোধিতা করছে। তারা আল-আকসা প্রাঙ্গণের একাংশে সিনাগগ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। পূর্বেও এ ধরনের দাবি ও অনুপ্রবেশ নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।




আলেমদের হতে হবে ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “আলেমদের শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে জাতির নেতৃত্ব দিতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আন্তরিকতা ও ঐক্যের পথ বেছে নিতে হবে।”

বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার জামিয়াতুল ইমাম মুসলিম (রহ.) ক্যাম্পাসে আয়োজিত ‘আরবি ভাষা ও ইসলামি সংস্কৃতি’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “নিজেদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করলে ইসলামি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন পিছিয়ে যাবে। কক্সবাজারে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষার পাশাপাশি ৭১টি মন্দিরে শিশু শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা ধর্মীয় সহাবস্থানের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “আলেমদের কোরআন-হাদিসের পাশাপাশি যুগের ভাষা ও প্রযুক্তি আয়ত্তে নিতে হবে। শুধু আরবি নয়, বাংলা ও ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত মানবসেবা পুঁজি নয়, দরকার মন-মানসিকতা। সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু বাণী নয়, দরকার কাজের মাধ্যমেই উম্মাহর উপকার সাধন।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ও মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. যায়েদ বিন মুহাম্মদ, সৌদি প্রশিক্ষক ড. বরিক বিন মুহাম্মদ, ড. সাউদ বিন আবদুল আজিজ এবং ড. মনছুর বিন আবদুল আজিজ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জামিয়া প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সালাহুল ইসলাম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন শায়খুল হাদিস আবদুল গফুর নদিম। সমাপনী বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জামিয়াতুন নূর আল আলামিয়ার পরিচালক আল্লামা ওবাইদুল্লাহ হামযা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মশালাটি সৌদি দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত রবিবার সৌদি প্রতিনিধি দল জামিয়ার ক্যাম্পাসে পৌঁছালে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করা হয়।

এর আগে সকালে ধর্ম উপদেষ্টা কক্সবাজার সার্কিট হাউজে সরকারি যাকাত ফান্ড থেকে অর্থ বিতরণ করেন এবং বেলা ১২টার দিকে কৃষ্ণানন্দধাম মন্দিরে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 

 

 




দেশের সকল ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অনিবার্য : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে শিগগিরই সমঝোতা হতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমসমাজ বুঝতে পেরেছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অপরিহার্য।

শুক্রবার (২৭ জুন) মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিরদের নিয়ে আয়োজিত জামায়াতে ইসলামীর দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের দ্বিতীয় দিনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, অচিরেই দেশের সব ইসলামী শক্তির মধ্যে একটি নির্বাচনী সমঝোতা হবে। ইসলামী মূল্যবোধ, শহীদদের স্বপ্ন ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আমাদের এই ঐক্য জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতারা শহীদের মৃত্যু বরণ করেছেন, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে জীবন দিয়েছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব সেই ত্যাগের প্রতিদান দেওয়া— আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে। আমাদের তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করে আদর্শিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”

শিক্ষাশিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব এবং সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতারা— এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, ড. খলিলুর রহমান মাদানী এবং অধ্যাপক ড. আবদুস সামাদ।

গোলাম পরওয়ার বলেন, “জামায়াতে ইসলামী জনমতকে ইসলামের পক্ষে আনতে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য— দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্ব তৈরি করা। আমরা বিশ্বাস করি, এই পথেই দ্বীনের বিজয় সম্ভব হবে, মহান আল্লাহ সন্তুষ্ট হবেন।”

তিনি দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন এক মানবিক বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই লক্ষ্য পূরণে জামায়াতে ইসলামী প্রস্তুত। এ সময় তিনি দলীয় আমির ডা. শফিকুর রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান তুলে ধরেন, যেখানে বলা হয়েছে— “আসুন আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়ি।”

সাবেক সংসদ সদস্য পরওয়ার বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সংস্কার এবং পূর্বের অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো দলীয় লড়াই নয়, বরং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। যারা এদেশে ইসলামী শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায়, এই নির্বাচন তাদের বিরুদ্ধেও স্পষ্ট জবাব হবে।”




ভারতে মুসলিম নির্যাতন, আতঙ্কে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানেরা

ভারত থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের বিনা বিচারে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দাবি—এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া আইনবহির্ভূত ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত। ইতোমধ্যে দুই দেশের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে, বিশেষ করে বাংলাদেশি মুসলমানদের ব্যাপারে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। বিভিন্ন সময় সরকারি ভাষ্যে অভিবাসীদের ‘উইপোকা’ ও ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে ভারতজুড়ে প্রায় ২০ কোটির মতো মুসলমান, বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মুসলমানরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে

ভারতের বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী হর্ষ মন্দার বলেন, “দেশের পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত মুসলমানদের মধ্যে ভীষণ ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই মনে করছেন, তারা যেন এখন নিজের দেশেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছেন।”

তিনি বলেন, “এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুধু বেআইনিই নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত জাতিগত টার্গেটিং, যেখানে ধর্মীয় পরিচয়কে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।”

কাশ্মির হামলার পর দমন-পীড়ন জোরদার

গত ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত কাশ্মিরে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই হিন্দু তীর্থযাত্রী। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও ইসলামাবাদ তা সরাসরি অস্বীকার করে। এরপর থেকেই ভারতজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরু হয়।

এই অভিযানে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিমকে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে বন্দুকের মুখে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ভারত সরকারের দাবি: ‘অবৈধ অভিবাসী’

ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তারা ‘অবৈধ অভিবাসী’। তবে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, কোনো প্রকার বিচার বা আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়াই মানুষদের এভাবে বিতাড়ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামিল।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। অতীতে ভারত ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও অস্বস্তির সুর দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতিগত উত্তেজনার প্রভাবে ভারতের এই ধরণের পদক্ষেপ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




আজ থেকে শুরু শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা আজ (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

এই উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে নয় দিনব্যাপী রথযাত্রা মহোৎসব। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ১২৮টি ইসকন মন্দির ও আশ্রমে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে উৎসবটি। উৎসব শেষ হবে আগামী ৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টোরথের শোভাযাত্রার মাধ্যমে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথদেব হচ্ছেন জগতের নাথ বা ঈশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলে মানুষের মুক্তিলাভ ঘটে এবং তাকে আর জন্ম নিতে হয় না। এই বিশ্বাস থেকেই রথের ওপর জগন্নাথদেবের প্রতিমূর্তি স্থাপন করে তা নিয়ে বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

ঢাকায় ইসকন আয়োজিত রথযাত্রা উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে স্বামীবাগ আশ্রম। আজ সকাল ৮টায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দুপুর দেড়টায় আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উদ্বোধন করা হয়।

ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, ঢাকায় রথযাত্রার শোভাযাত্রাটি স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাইকোর্ট মাজার ও দোয়েল চত্বর হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। ৫ জুলাই উল্টোরথে একই রুটে রথ ফিরিয়ে আনা হবে।

উৎসব উপলক্ষে ঢাকায় আরও কয়েকটি স্থানে রথযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরান ঢাকার জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির (তাঁতীবাজার), রামসীতা মন্দির (জয়কালী রোড) এবং একনাম কমিটি (শাঁখারীবাজার) সহ বিভিন্ন মন্দির।

নয়দিনব্যাপী রথযাত্রা উৎসবে রয়েছে হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, ধর্মীয় নাটক ও চলচ্চিত্র প্রদর্শন, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।

উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।