আশুরার দিনে ফেরাউনের পতন: সত্য ও তাওহিদের ঐতিহাসিক জয়গাথা

‘ফেরাউন’—এই শব্দটি কেবলই ইতিহাসের কোনো একক নাম নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে চূড়ান্ত জুলুমের প্রতীক। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার ফিরে আসে এই নাম, যার অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়ায় অহংকার, জুলুম ও আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণের চূড়ান্ত পরিণতি।
প্রাচীন মিসরের রাজারা ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ উপাধিতে পরিচিত ছিল। সেই শাসকদেরই একজন ছিল হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউন, যাকে মহান আল্লাহ সত্যের দাওয়াত দিতে পাঠান নবী মুসার মাধ্যমে। সেই ফেরাউন নিজেকে খোদা দাবি করত, বলত, “আমি তোমাদের মহান রব।” (সুরা নাজিয়াত: ২৪)
মুসা (আ.)-এর অলৌকিক মুজিজা দেখেও ফেরাউন অহংকারে ফিরে আসেনি। বরং বনি ইসরায়েলকে নিপীড়ন করে চলেছে। একপর্যায়ে আল্লাহর হুকুমে মুসা (আ.) তার অনুসারীদের নিয়ে মিসর ত্যাগ করেন। তখন ফেরাউন তার সেনাবাহিনী নিয়ে ধাওয়া করে। তখনই ঘটে আশুরার সেই ঐতিহাসিক ঘটনা—লোহিত সাগর বিভক্ত হয়ে যায়, বনি ইসরায়েল পার হয়ে যায়, আর ফেরাউন তার সেনাসহ ডুবে মরে। মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে সে ঈমান আনার চেষ্টা করে, কিন্তু তা কবুল হয়নি।
সুরা ইউনুসে আল্লাহ বলেন, “আজ আমি তোমার (ফেরাউনের) দেহ রক্ষা করব, যাতে তা তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়।” (সুরা ইউনুস: ৯২)
এই ঘটনাটি ঘটে ১০ মহররম—আশুরার দিনে। হাদিসে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় এসে দেখেন ইহুদিরা এ দিন রোজা রাখে। কারণ হিসেবে তারা জানায়, এই দিনে মুসা (আ.) ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্ত হন। রাসুল (সা.) বলেন, “মুসার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি।” অতঃপর তিনি নিজে রোজা পালন করেন ও মুসলিমদের তা রাখতে নির্দেশ দেন। (বুখারি: ৩৩৯৭)
আশুরা আমাদের শেখায়, জুলুম যত বড়ই হোক না কেন, তার পতন অনিবার্য। সত্য ও তাওহিদের বিজয় চিরন্তন। ফেরাউনের দেহ আজো সংরক্ষিত আছে—আল্লাহর এক অমোঘ নিদর্শন হিসেবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম








