রমজানের জন্য একটি সুন্দর পরিকল্পনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাসুলুল্লাহ (স.) দুই মাস আগে থেকেই অর্থাৎ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। শাবান মাস আসলে ইবাদতের গতি বাড়িয়ে দিতেন আর বলতেন—‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (মেশকাত: ১৩৬৯)।

রমজানের পরিকল্পনা
১. সামাজিক প্রস্তুতি: রমজানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিবেশী ও সমাজের লোকজন একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে রমজানের বিভিন্ন ফজিলত ও ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করুন। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও একই আলোচনা করুন। সেইসঙ্গে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

২. পারিবারিক প্রস্তুতি: একটি পারিবারিক রুটিন তৈরি করুন, যাতে রমজানের ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। কারো তেলাওয়াত অশুদ্ধ থাকলে, সেটি ঠিক করে নিতে হবে। অনৈসলামিক টিভি প্রোগ্রাম ও অযথা অনলাইন ব্যবহার থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। সিরিয়াল দেখার অভ্যাস থাকলে, আজই ডিসের লাইন কেটে দিন।

৩. গৃহিণীর প্রস্তুতি: সেহেরি ও ইফতার ব্যবস্থাপনায় ইসলামিক নির্দেশনার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একইসঙ্গে ফরজ-নফল নামাজ, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারের জন্য আগেই একটি রুটিন করে নেওয়া উত্তম। সংযমের মাসে গৃহিণীর উচিত অপব্যয় ও অপচয় রোধ করে তা দান-সদকায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্বামীকে সহযোগিতা করা। পোষাক-আশাক থেকে শুরু করে যেকোনো কিছুর কেনাকাটা যথাসম্ভব আগে-ভাগেই শেষ করা ভালো।

৪. চাকরিজীবীর প্রস্তুতি: ভালো মানুষ হওয়ার ট্রেনিংয়ের মাস রমজান। চাকরিজীবীরা বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পান রমজানে। সেটা হচ্ছে ফাঁকিবাজি ছাড়া অফিস ডিউটির মাধ্যমে মহান মালিক আল্লাহ তাআলার হক যথাযথ আদায়ের প্রশিক্ষণ। আর সেভাবে নিজেকে অভ্যস্ত করতে চর্চা আগে-ভাগে শুরু করা চাই।

৫. ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি: ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে কাজে লাগানোর জন্য এখন থেকেই ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দের প্রশিক্ষণ নিন। পণ্য মজুদকরণ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এবং নানা অপকৌশলে মানুষকে ঠকানোর মতো কাজ করে নিশ্চয়ই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন করবেন না একজন মুমিন ব্যবসায়ী। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্য মজুদ রাখল, সে আল্লাহর কাছ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল, আল্লাহ নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে।’ (মুসনাদে আহমদ: ৮/৪৮১)

পক্ষান্তরে যারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করল, এ ব্যবসাই হবে তার ইবাদত। তার উপার্জনে বরকত দেবেন মহান আল্লাহ তাআলা। দেবেন অপ্রত্যাশিত রিজিক। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘খাঁটি ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদদকারী অভিশপ্ত হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ২/৭২৮)

হাশরের ময়দানেও পুরস্কৃত হবেন হালাল ব্যবসায়ীরা। তাকে প্রদান করা হবে নবীগণের সঙ্গী হওয়ার পরম সৌভাগ্য। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের হাশরে নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সঙ্গে হাশর হবে।’ (তিরমিজি: ৩/৫১৫)

৬. গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি: বেহুদা কথা/কাজ করার অভ্যাস থাকলে, যেমন অযথাই ফেসবুক চালানো, বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি, ঠাট্টা বা গীবত করা ইত্যাদি বাদ দিয়ে সময়কে আল্লাহর জিকির, কোরআন, হাদিস, ইসলামি সাহিত্য পড়ে কাটানোর অভ্যাস এখন থেকেই তৈরি করা জরুরি।

৭. জ্ঞানার্জনের প্রস্তুতি: নারী-পুরুষ প্রত্যেক মুসলমানের উপরই অন্তত দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন ফরজ। সে হিসেবে রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া আবশ্যক। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে কিছু বই-পুস্তক কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পড়তে পারেন। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরা যেমন- সুরা মুলক, সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত, সুরা কাহাফ, এমনকি ৩০ পারা পুরোটা মুখস্থ করা এখন থেকে শুরু করে দেওয়া যায়।

৮. দান-সদকার প্রস্তুতি: আর্থিক ইবাদতের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে রমজানে। এতে বিপুল সওয়াবের ঘোষণা আছে। তাই আত্মীয়-স্বজনের কাছে ইফতারসহ নিত্যপণ্য কিনে পাঠানোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে সে উক্ত রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। তবে এতে সে রোজাদারের সওয়াব একটুও কমবে না।’ (তিরমিজি: ৩/১৭১)

তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত রমজানকেন্দ্রিক আর্থিক একটা পরিকল্পনা করা। কিছু টাকা জমিয়ে তা দিয়ে অভাবী প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে যেন কিছু ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানো যায়। যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তাদের আগে থেকেই রমজানকেন্দ্রিক জাকাতের পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। মা-বোনেরা বা অল্প আয়ের মানুষেরাও নানা উপায়ে দান-সদকা করতে পারেন। যেমন একটি মাটির ব্যাংক বা হাতে তৈরি বক্স গিফট করে, সেখানে টাকা জমিয়ে রমজানে দান করা যায়। আর রমজানে ওমরার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যারা ওমরা করবেন তারা যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন। মহানবী (স.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে একটি ওমরা আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।’ (বুখারি: ৩/২২২)

৯. মুসাফিরের প্রস্তুতি: সফর দ্রুত শেষ করা এবং সফর করার থাকলে যথাসম্ভব সেরে নেওয়া উচিত। এতে রমজানে ইবাদতে বিঘ্নতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

১০. নফল নামাজ ও রোজার অনুশীলন: ফরজ নামাজের পাশাপাশি দিন-রাতের বিশেষ সময়গুলোতে নফল নামাজ আদায় করা। নফল নামাজের অভ্যাস গঠনে লম্বা কেরাত এবং লম্বা সেজদার অভ্যাস করা। এছাড়াও প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়ামে বিজ তথা আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজাসহ অন্যান্য দিন রোজা রেখে রমজানের রোজা রাখার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। তবে, যদি কেউ দুর্বল হওয়ার এবং এতে রমজানে রোজা রাখা কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে শাবান মাসে রোজা না রাখাই ভালো। সেক্ষেত্রে গত বছরের ভাংতি রোজাগুলোই শুধু রাখুন।

১১. শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি: রমজানে যাদের পরীক্ষা থাকবে অথবা যারা নানা ব্যস্ততার কারণে কোরআন খতম দিতে পারেন না, তারা এখন থেকেই কোরআন খতম শুরু করে দিন এবং প্রতিদিন পড়ুন। রমজানে পড়তে না পারলে এখন কী লাভ-এমনটি ভাবা যাবে না। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলা সবার মনের খবর জানেন।

১২. কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন: সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন শেখা এবং মর্মার্থ বুঝে তা অধ্যয়ন রমজান আসার আগেই শুরু করে দিন।

১৩. ইতেকাফের প্রস্তুতি: ইতেকাফের যথাযথ হক আদায়ে পারিবারিক সব প্রস্তুতি রমজানের আগেই সম্পন্ন করে রাখুন। একইসঙ্গে ইতেকাফ বিষয়ক মাসআলা-মাসায়েল জেনে রাখুন।

১৪. শারীরিক প্রস্তুতি: পর্যাপ্ত ইবাদতের জন্য সুস্থ থাকাটা জরুরি। তাই কারো যদি এমন কোনো রোগ থাকে, যা দ্রুত নিরাময়যোগ্য, তারা এখনই চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এতে রমজানে ইবাদত বন্দেগী সুন্দরভাবে করা যাবে।

১৫. আত্মসমালোচনা: রমজানের প্রস্তুতির জন্য আত্মসমালেচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো একটি করে ডায়েরিতে লিখে ফেলা দরকার। যাতে রমজানে এক এক করে সেগুলো বর্জন করা যায়।

এভাবে চিন্তা করুন যে, এটিই আপনার জীবনের শেষ রমজান। জান্নাতলাভের সর্বশেষ সুযোগ। তাই কোনোভাবেই এর একটি সেকেন্ডও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উপরোল্লিখিত প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন করে রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।




রমজানে অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র রমজান মাসে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন জানান, জোহরের নামাজের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের বিরতি থাকবে।

তিনি বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে ব্যাংক কম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব অফিস টাইম নির্ধারণ করবে।




রমজানে অফিস ৯টা থেকে সাড়ে ৩টা




সরকারিভাবে বড় ইফতার পার্টি না করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আসন্ন রমজানে সরকারিভাবে বড় ধরনের ইফতার পার্টি আয়োজন না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে বেসরকারিভাবেও এ ধরনের ইফতার পার্টি আয়োজনকে নিরুৎসাহিত করার কথা বলেছেন তিনি।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার কথা জানান।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১২ বা ১৩ মার্চ থেকে মুসলমানদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান শুরু হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে নির্দেশনা আছে, রমজান মাসে সরকারিভাবে বড় ধরনের ইফতার পার্টি নামক কোনো বিষয় উদযাপন করা যাবে না। তিনি এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, বেসরকারিভাবে ইফতার পার্টি না করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কারও যদি এ ধরনের অনুষ্ঠান করার ইচ্ছা থাকে তাহলে যেন সেই অর্থে খাদ্য কিনে গরিব মানুষদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বড় পরিসরে ইফতার পার্টি না করার নির্দেশনা কেন দিয়েছেন- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ইফতার পার্টি করারইবা কারণ কী, এটি কি বলতে পারেন?

এরপর সাংবাদিকরা মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে জানান, এর আগে করা হয়েছে, অনেকে ধর্মীয়ভাবেও এটি পালন করেন। তখন মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি কখনোই ধর্মীয় ইস্যু নয়, আমরা তো পার্টি করছি।

মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের আরও বলেন, আপনাদের বুঝতে হবে আমরা যেন অপচয় না করি। আমরা যেন লোক দেখানো কার্যক্রমে নিজেদের নিয়োজিত না করি। তার বদলে ওই টাকাটা যদি আপনি কারও কল্যাণে ব্যবহার করতে চান, গরিব মানুষ যাদের টার্গেট করলেন তাদের আপনি বিলিয়ে দিতে পারেন। আমি-আপনি বসে খেলাম, ওখানে অনেক খাদ্যের অপচয় হলো, অর্থের অপচয় হলো এটার তো ধর্মীয় দিক থেকেও যুক্তি থাকতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী এবার ইফতারের আয়োজন করবেন কি না, এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা তো আমি বলতে পারবো না।

এদিকে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অন্য বছরগুলোর মতো এবারও রমজান মাসে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অফিসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, রমজানে দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটি যথারীতি শুক্র ও শনিবার।

তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এ সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী জনস্বার্থ বিবেচনা করে সময়সূচি নির্ধারণ ও অনুসরণ করবে।

এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও এর আওতাধীন সব কোর্টের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।




আজ শুরু চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল

বরিশাল অফিস :: চরমোনাই বার্ষিক মাহফিল আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার শুরু হতে যাচ্ছে। ৩ মার্চ সকালে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হবে। চরমোনাই পীর মাওলানা সৈয়দ মো. রেজাউল করিম সাহেবের আম বয়ানের মধ্যমে বুধবার বাদ জোহর মাহফিল শুরু হবে।

মাহফিলে অংশ নিতে ইতিমধ্যে কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী চরমোনাই মাদ্রাসার মাঠসহ আশপাশের এলাকাজুড়ে সমবেত হচ্ছেন মুসল্লিরা।

৩ দিনব্যাপী মাহফিলে দেশ-বিদেশ থেকে আগত আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন। মাহফিল চলাকালীন প্রতিদিন বাদ ফজর ও মাগরিবের পর চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করীম মুরিদীন মুহিব্বিন-এর উদ্দেশ্যে হেদায়েতি বয়ান পেশ করবেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিমও গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি বয়ান পেশ করবেন।

এ ছাড়া মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি, মুফতি সৈয়দ মো. আবুল খায়ের উপস্থিত থাকবেন।

মাহফিলের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ারও কথা রয়েছে। এ বছরও মাহফিলের বয়ান লাইভ সম্প্রচার www.charmonaivs.net ওয়েবসাইটটি সক্রিয় থাকবে জানা যায়।

এবার মুসল্লিদের জন্য মোট ৬টি মাঠে ১২ বর্গকিলোমিটারের বেশি প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় রয়েছে পুলিশ-র‌্যাব ছাড়াও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রায় কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছাত্র, শিক্ষক ও মুরিদান-মুহি্ব্বিন। ইতিমধ্যে মাহফিলের সাবির্ক কাজও সম্পন্ন হয়েছে। পুরো মাহফিল নিয়ন্ত্রণ ও পর্যপেক্ষণে থাকবে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হবে হাই ভোল্টেজ অটো জেনারেটর।

আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকবে একটি দক্ষ মেডিকেল টিম কাজ করবে।

আগামী ৩ মার্চ রোববার সকালে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হবে। মাহফিল কমিটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে জিকিরের সঙ্গে মাহফিলে যোগদানের জন্য আহ্বান করা হয়েছে।




পঙ্কজ উদাসের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক




১২ মার্চ রমজান মাস শুরু হতে পারে




এমবিবিএস হলেন কুষ্টিয়ার মুফতি হাবিব

অনলাইন ডেস্ক : গণমানুষের সেবার স্বপ্ন থেকে এমবিবিএস হয়েছেন কুষ্টিয়ার মুফতি হাবিবুর রহমান। এখন উত্তম ব্যবহার, আন্তরিকতা ও সঠিক চিকিৎসা দিয়ে গণমানুষের চিকিৎসক হয়ে ওঠতে চান তিনি। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন থেকেই তিনি এই অঙ্গনে অগ্রসর হয়েছেন।

মুফতি হাবিব জানিয়েছেন, মাদরাসায় অধ্যয়নকালে তার উস্তাজ মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরী থেকে চিকিৎসক হওয়ার প্রেরণা লাভ করেন। পরে হাটহাজারী মাদরাসার মুফতি কিফায়াতুল্লাহ এবং মারকাযুদ দাওয়ার মুফতি আব্দুল মালেকের পরামর্শে তিনি এই পথে পা বাড়ান। খেদমতে খালক তথা সৃষ্টির সেবার মানসে তিনি এই পথে যাত্রা শুরু করেন। এরপর দীর্ঘমেয়াদী কঠিন পড়াশোনার চাপ সামলানোর পর অবশেষে লক্ষ্যকে ছোঁয়ার দ্বার প্রান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

এ অর্জনকে বাংলাদেশের প্রথম দৃষ্টান্ত দাবি করে তিনি বলেন, আমার জানা মতে বাংলাদেশে এটাই প্রথম দৃষ্টান্ত যে একই ব্যক্তি ভালো আলেম হওয়ার পাশাপাশি এমবিবিএস ডাক্তারও হয়েছেন।

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে সৃষ্টির সেবায় নিজেকে নিয়োগ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, মুফতি হাবিব রাজধানীর বিখ্যাত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া দারুল উলূম ফরিদাবাদ থেকে তাকমিল সমাপন করেন। তিনি বোর্ড পরীক্ষায় মুমতাজ মার্ক পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এরপর তার প্রিয় উস্তাজ মুফতি হাফিজুর রহমান মেহেরপুরীর প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া মেহেরপুর থেকে ইসলামী আইনশাস্ত্রে উচ্চতর পড়াশোনা করে মুফতি হন।




কোরআনে বিশ্বজয়ী হাফেজ বশিরকে সংবর্ধনা দেবে ছাত্রলীগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিশ্বের ৮০ দেশকে হারিয়ে ইরানে কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া বাংলাদেশের বিশ্বজয়ী হাফেজ বশির আহমেদকে ফুলের শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেবে ছাত্রলীগ।



পটুয়াখালীর বড় জামে মসজিদের পুনঃনির্মাণ কাজ উদ্বোধন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জেলার প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বড় জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ কাজের শুভ সূচনা করলেন পটুয়াখালী বড় জামে মসজিদ ওয়াকফ এস্টেট এর সভাপতি জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

রবিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মসজিদ সংলগ্ন পুরাতন আদালত মাঠে  বড় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু সাঈদের সঞ্চালনায় বড় জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বড় জামে মসজিদ ওয়াকফ স্টেটের সদস্য সচিব সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ডাঃ সঞ্জীব দাশ।

বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, মসজিদ ওয়াকফ এস্টেটের সহ-সভাপতি পুলিশ সুপার সাইদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর, সহ- সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহম্মেদ মৃধা, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ, জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ- পরিচালক মাহাবুবুল আলম ও পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন আরজু প্রমুখ।

প্রকাশ্য, ১৯০৮ সালে স্থাপিত বড় জামে মসজিদটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ায় প্রায় তিন বছর আগে প্রাক্তন জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন মসজিদটি পুনঃনির্মার্ণের জন্য ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন পর মসজিদের ওয়াকফ স্টেট এর জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসন করে বর্তমান জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম মসজিদ ওয়াকফ স্টটের নতুন কমিটি করে  ছয়তলা বিশিষ্ঠ বড় জামে মসজিদ পুনঃনির্মাণ কাজের উদ্বোধনী ঘোষনা দিয়ে  ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক মুসুল্লি উপস্থিত ছিলেন।