রমজানের প্রথম তারাবিতে মুসল্লিদের ঢল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজানের আনুষ্ঠানিকতা। আজ থেকে রোজা রাখবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। সে জন্য তারাবির নামাজ আদায় করেছেন মুসলমানরা।

সোমবার (১১ মার্চ) রাতে প্রথম তারাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামতে দেখা গেছে।

পাঞ্জাবি-পাজামা পরে এবং জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে আসেন তারা।

ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ পাড়া-মহল্লার মসজিদে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কোনো কোনো মসজিদের আঙিনা ছাড়িয়ে রাস্তায় জায়নামাজ, চাদর ও পাটি বিছিয়ে মুসল্লিদের তারাবির নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান মাসে মসজিদে খতমে তারাবি পড়ানোর বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সারা দেশের মুসল্লি, ইমাম-খতিব ও মসজিদ কমিটিকে একই পদ্ধতিতে তারাবির নামাজ আদায় করতে আহ্বান জানিয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ।

মঙ্গলবার রমজান শুরু হওয়ায় আগামী ৬ এপ্রিল (২৬ রমজান) শনিবার দিবাগত রাতে পবিত্র শবে কদর পালিত হবে।




দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, কাল থেকে রোজা শুরু

চন্দ্রদীপ নিউজ: দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত জানান জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে মঙ্গলবার থেকে রোজা শুরু হচ্ছে। আজ তারাবি পড়ে ও সেহেরি খেয়ে রোজা রাখা শুরু করবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। তিনি দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা বসে। ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে সৌদি আরবে সোমবার পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হয়।




জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ‘কালো রমজানের’ শঙ্কা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রমজান মাসে মুসলিমদের সিয়াম (সংযম) সাধনার প্রাক্কালে জেরুসালেমের ওল্ড সিটিতে উৎসবের খুব কম ছাপ পড়েছে।

গুহা আকৃতির উপহারের দোকানগুলো প্রায় অর্ধেক ধাতব শাটার দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদের দিকে যাওয়ার যে সরু রাস্তাগুলো রয়েছে, সেগুলো একদম ফাঁকা। ঝাড়বাতি আর চকচকে লণ্ঠনগুলো অনুপস্থিত। সাধারণ সময়ে তাড়াহুড়ো করে যাওয়া মুসল্লিদের মাথার ওপর এগুলো দুলতে থাকে।

কয়েক দশকের পুরনো ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র জেরুসালেম। এই শহরের রমজানের প্রস্তুতি গাজায় ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের কারণে ম্লান হয়ে পড়েছে। গাজা যুদ্ধ এখন ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে।

গাজায় ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় আছে। তাই, এখানকার মানুষের মধ্যে আনন্দ প্রকাশের কোনো অনুভূতি কাজ করছেনা।

ওল্ড সিটির অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার দামেস্ক গেটের কাছে, তার কফি স্ট্যান্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আবু মুসাম হাদ্দাদ বলেন, ‘এটি হবে কালো রমজান।’

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মনোযোগ গাজা থেকে আল আকসায় সরে যেতে পারে। কেননা, এর আগে অনেক দিন থেকেই এ এলাকাটি ছিল ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রধান কেন্দ্রস্থল।

হামাস গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। আর, তারা এই হামলা চালায় আল-আকসায় মুসলিম অধিকার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধের অংশ হিসেবে।

ইসরাইল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের নামাজ পড়া ও চলাচলের ওপর ইসরাইলি নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ করে মসজিদে যাওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছে হামাস।

অতীতে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রায়ই সংঘর্ষের কারণ হয়েছে। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে ফিলিস্তিনিরা বর্তমান পরিস্থিতিতে আসলেই সংঘর্ষের ঝুঁকি নেবে কিনা, যখন ইসরাইলি বাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য হুমকির মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

ওল্ড সিটির বাইরে একটি বইয়ের দোকানের মালিক ইমাদ মোনা বলেন, ‘এবছর রমজান মাসটি কেমন হবে তা নির্ভর করছে শহরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার বিষয়ে ইসরাইলি পুলিশ কী আচরণ করবে, তার ওপর। আর, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে।’

ইসরাইল বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন মাত্রায় আল-আকসায় প্রবেশ সীমিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে, নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে যুবকদের প্রবেশে বাধা দেয়া।

ইসরাইলের সরকার এই বছরের রমজানের আগে বিস্তারিত বিধি-বিধান প্রকাশ করেছে। রোববার সন্ধ্যা থেকেই এগুলো কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এতে বলা হয়েছে,পশ্চিম তীরের কিছু ফিলিস্তিনিকে আল-আকসায় নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে।

এ চত্বরটি দীর্ঘকাল ধরে একটি গভীর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। কারণ এটি টেম্পল মাউন্ট-এর ওপর অবস্থিত। এই স্থানকে ইহুদিরা তাদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান বলে মনে করে।

চত্বরটি পূর্ব জেরুসালেমে অবস্থিত; শহরের একটি অংশ; যা ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময় ইসরাইল দখল করে নেয় এবং পরে তাদের রাষ্ট্রের অংশ হিসাবে ঘোষণা করে।

ফিলিস্তিনিরা এই শহরকে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চায়।

যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা রমজান শুরু হওয়ার সাথে সাথে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে, এর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

ওল্ড সিটির বেশিভাগ দোকান মালিকরা আসন্ন রমজান সম্পর্কে তাদের মতামত জানাতে অস্বীকার করেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে বহু ফিলিস্তিনি ইসরাইলের হাতে আটক হয়েছে।

যারা কথা বলেছেন, তারা জানিয়েছেন যে অক্টোবর থেকে ওল্ড সিটিতে আরো ইসরাইলি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দোকান মালিকদের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শুক্রবারে জুমার নামাজের জন্য তরুণ ফিলিস্তিনি পুরুষদের নিয়মিতভাবে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে।

পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনবিষয়ক দায়িত্বে নিয়োজিত ইসরাইলি সামরিক সংস্থা, যা সিওজিএটি নামে পরিচিত, শুক্রবার বলেছে যে পশ্চিমতীরের কিছু মুসলিমকে রমজানের নামাজের জন্য এই অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। তবে তারা এবিষয়ে বিশদভাবে কিছু জানায়নি।

গত বছর এখানে কয়েক হাজার মুসলিম প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের বেশিভাগই ছিলো নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ পুরুষ।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তিনি শুধু বলেন যে গত বছরের মতো একই সংখ্যক লোককে রমজানের প্রথম সপ্তাহে আল-আকসায় নামাজের অনুমতি দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এই পুরো মাস এই বিষয়ে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

১৯৬৭ সাল থেকে একটি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার অধীনে, ওয়াকফ নামে পরিচিতএকটি জর্ডান-ভিত্তিক মুসলিম ধর্মীয় সংস্থার মাধ্যমে এই চত্বর পরিচালিত হয়। ইহুদিদের জন্য এই চত্বর পরিদর্শন করার অনুমতি আছে; তবে সেখানে তারা প্রার্থনা করতে পারে না।

সাধারণভাবে আশেপাশের অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের পূর্ব জেরুসালেমে প্রবেশের জন্য অনুমতির প্রয়োজন পড়ে। এই শহরকে ইসরাইল তার সংযুক্ত রাজধানীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যদিও এই দখলকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেশিভাগ অংশ স্বীকৃতি দেয় না।

গত ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের জেরুসালেম বা ইসরাইলের যেকোনো অংশে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা




সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রোজা পালন করবে যেসব দেশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র মাহে রমজানে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত না খেয়ে রোজা রাখেন মুসলিমরা। কিন্তু উপবাস থাকার এই সময়কাল পৃথিবীর সব স্থানে একই নয়। ভৌগোলিক কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর উপবাসের সময় নির্ভর করে।

চলতি বছর রমজানের বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৪ ঘণ্টা ২ মিনিট উপবাস থাকতে হবে।

এ বছর পৃথিবীর কোন এলাকার মানুষকে সবচেয়ে বেশি সময় উপবাস থেকে সিয়াম পালন করতে হয়, এ প্রশ্ন দেখা দেয় অনেকের মনেই। চলুন জেনে নিই সবচেয়ে বেশি সময় রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে—

এ বছর সবচেয়ে বেশি সময় না খেয়ে থাকতে হবে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের। সেখানে ১৭ ঘণ্টা ২৬ মিনিট উপবাস থেকে রোজা রাখতে হবে দেশটির বাসিন্দাদের।

নরডিক দেশ আইসল্যান্ডের রোজাদাররাও দীর্ঘ সময় রোজা থাকবেন। সেখানে ১৭ ঘণ্টা ২৫ মিনিট রোজা রাখতে হবে তাদের।

ফিনল্যান্ডের বাসিন্দাদেরও উপবাস করতে হবে ১৭ ঘণ্টা ৯ মিনিট।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ




সবচেয়ে কম সময় উপবাস থেকে রোজা পালন করবে যেসব দেশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র মাহে রমজানে ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত না খেয়ে রোজা রাখেন মুসলিমরা। কিন্তু উপবাস থাকার এই সময়কাল পৃথিবীর সব স্থানে একই নয়। ভৌগোলিক কারণে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ওপর উপবাসের সময় নির্ভর করে।

চলতি বছর রমজানের বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৪ ঘণ্টা ২ মিনিট উপবাস থাকতে হবে।  এ বছর পৃথিবীর কোন এলাকার মানুষকে সবচেয়ে কম সময় উপবাস থেকে সিয়াম পালন করতে হয়, এ প্রশ্ন দেখা দেয় অনেকের মনেই। চলুন জেনে নিই কম সময় রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে—

এ বছর সবচেয়ে কম সময় না রোজা রাখবে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ চিলির বাসিন্দাদের। সেখানে ১২ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট উপবাস থেকে রোজা রাখতে হবে দেশটির বাসিন্দাদের।

এরপর ওয়েশিনিয়ার দেশ নিউজিল্যান্ডের রোজাদাররা কম সময় উপবাস থেকে রোজা পালন করবেন। সেখানে ১২ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট রোজা রাখতে হবে তাদের।

অন্যদকে আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার বাসিন্দাদের উপবাস করতে হবে ১৩ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ।




রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ আমল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রমজান মাসেই কোরআন অবতীর্ণ হয়। এ মাসে প্রতিটা আমলে আল্লাহ ৭০ গুণ বেশি সাওয়াব দেন। এজন্য বিশেষ এই মাসে বেশি বেশি আমল করতে হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল আছে, যেগুলো পালনের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম হয়, আর জাহান্নামের কঠিন আজাব থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

রোজার নিয়ত:

রোজার নিয়ত করা আবশ্যক। ভোর রাতে সাহরি খেয়ে মুসলমানরা রোজার নিয়ত করেন। বহুল প্রচলিত রোজার একটি নিয়ত রয়েছে।

উচ্চারণ: ‘নাওয়াইতু আন আছুমা গাদান মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আংতাস সামিউল আলিম। ’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র রমজানের নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ (নিয়ত) করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে (আমার রোজা তথা পানাহার থেকে বিরত থাকাকে) কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

বেশি বেশি ইসতেগফার পড়া:

দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় ছোট-বড় বিভিন্ন ভুলে জড়িয়ে যাই আমরা। এ জন্য এসব ভুল থেকে ক্ষমা মার্জনার জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করা জরুরী।

কোরআনে কারিমে আল্লাহ তাআলা ইস্তিগফারসংক্রান্ত অনেক আয়াত নাজিল করেছেন। কোনও আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইস্তিগফারের আদেশ করেছেন, কোথাও ইস্তিগফারকারীদের প্রশংসা করেছেন, কোথাও দ্রুত গতিতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার কথা বলেছেন।

যেমন সুরা বাকারার ১৯৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

সুরা আল ইমরানের ১৩৩ নং আয়াতে তিনি বলেন, ‘এবং নিজ প্রতিপালকের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীতুল্য। তা সেই মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ’

সব নবী আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার করতেন। সেসব নবীর ইস্তিগফারের কথা আল্লাহ তা’আলা কোরআনের অনেক আয়াতে বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আল্লাহর শপথ! আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ৭০ বারেরও বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করে থাকি। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)

এমন দুটি ইস্তেগফার নিচে তুলে ধরা হলো:

১। আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লাহু আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম

২। আলহামদুলিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরলি

ইফতারের দোয়া:

ইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোয়া পড়ে ইফতার শুরু করতেন বিশ্বনবি। হজরত মুয়াজ ইবনে যুহরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন, তখন এ দোয়া পড়তেন-

আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া আলা রিযক্বিকা আফত্বারতু

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই জন্যে রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দ্বারা ইফতার করছি। (আবু দাউদ মুরসাল, মিশকাত)

ইফতার করার পরও বিশেষ দোয়া পাঠ করতেন বিশ্বনবী। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার শেষ করতেন তখন বলতেন-

জাহাবাজ জামাউ; ওয়াবতালাতিল উ’রুকু; ওয়া ছাবাতাল আঝরূ ইনশাআল্লাহ

অর্থ: ‘(ইফতারের মাধ্যমে) পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপসিরা সিক্ত হলো এবং যদি আল্লাহ চান সাওয়াব ও স্থির হলো (আবু দাউদ, মিশকাত)

তারাবিহ নামাজের নিয়ত:

রমজান এলেই অনেকে তারাবিহ নামাজের নিয়ত খুঁজতে থাকেন। নিয়ত আরবিতে করতে হবে এমন কোনও নিয়ম নেই। নিয়ত হলো নামাজ পড়ার জন্য মনের ইচ্ছা বা সংকল্প। এ ইচ্ছা বা সংকল্প আরবি কিংবা বাংলায় করা যায়। দুই দুই রাকাআতে তারাবিহ নামাজ আদায় করতে হয়। এভাবে নিয়ত করা যায়-

তারাবিহ-এর দুই রাকাআত নামাজ কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর জন্য (জামাআত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- আল্লাহু আকবার।

তারাবিহ নামাজের দোয়া:

তারাবিহ নামাজের ৪ রাকাআত পর পর অনেকে একটি বহুল প্রচলিত দোয়া পড়ে থাকেন। যার অর্থও অনেক সুন্দর। তাহলো-

সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ

বহুল প্রচলিত এ দোয়াটি না পড়লে তারাবিহ নামাজ হবে না এমন নয়। যে কোনো দোয়াই পড়া যাবে। তবে এ সময়টিতে কুরআন-সুন্নাহর দোয়াগুলো পড়াই উত্তম।

রমজান মাসে চারটি আমল বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহর রাসুল (সা.)। হজরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত-রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এ মাসে তোমরা চারটি কাজ বেশি পরিমাণে করো। দুটি কাজ এমন, যা দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রভুকে সন্তুষ্ট করবে। আর দুটি কাজ এমন, যা তোমাদের নিজেদেরই খুব প্রয়োজন।

যে দুটি কাজ দিয়ে তোমরা তোমাদের প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করবে তা হলো-১. কালেমায়ে তাইয়্যিবার সাক্ষ্যপ্রদান অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার একত্ববাদের সাক্ষ্যদান ২. আল্লাহর নিকট ইস্তেগফার করা অর্থাৎ নিজের গুনাহের জন্য তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। আর যে দুটি বিষয় তোমাদের নিজেদেরই অধিক প্রয়োজন তা হলো-১. তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে জান্নাত প্রার্থনা করবে ২. আর জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাইবে’ (ইবনে খুজাইমা: হাদিস ১৮৮৭; বায়হাকি: হাদিস ৩৬০৮)।




ডিএনএ রিপোর্টে শনাক্ত হলো অভিশ্রুতির পরিচয়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাজধানীর বেইলি রোডের ভয়াবহ আগুনে নিহত গণমাধ্যমকর্মী অভিশ্রুতি শাস্ত্রি ওরফে বৃষ্টি খাতুনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে তার বাবা সবুজ শেখ ওরফে শাবলুল আলম এবং মা বিউটি খাতুন।

শনিবার (৯ মার্চ) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। রোববার (১০ মার্চ) সিআইডি থেকে ওই প্রতিবেদন থানায় পাঠানো হয়েছে।

সিআইডি ডিআইজি (ফরেনসিক) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম বলেন, অভিশ্রুতি ওরফে বৃষ্টি খাতুনের বাবা-মা দাবিদার সবুজ শেখ ও বিউটি খাতুনের কাছ থেকে ডিএনএ নমুন সংগ্রহ করা হয়েছিল। পাশাপাশি নিহত নারীর মৃতদেহ থেকেও ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়। তা সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, অভিশ্রুতি বা বৃষ্টির বাবা সবুজ শেখ ও মা বিউটি খাতুন।

ডিআইজি নাহিদুল বলেন, রোববার ওই ডিএনএ প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করে তা থানায় তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ বাবা-মা দাবিদারের কাছে হস্তান্তরের জন্য বলা হয়েছে।

২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের নিহত ৪৬ জনের মধ্যে একজন এই বৃষ্টি খাতুন। বৃষ্টি তার বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে অভিশ্রুত শাস্ত্রি নামে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু অভিশ্রুতি শাস্ত্রি নামে নিজেকে পরিচয় দেওয়ার কারণে তার তার লাশ হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। মৃত্যুর পর মন্দিরের পুরোহিত তাকে নিজেদের ধর্মালম্বী দাবি করেন। উল্টোদিকে সবুজ শেখ ও বিউটি খাতুন বাবা-মা দাবি করে জানান, নিহত তরুণী অভিশ্রুতি নয়, তার নাম বৃষ্টি খাতুন। বৃষ্টি তাদের সন্তান। এমন পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।

বৃষ্টির গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম গ্রামের প‌শ্চিমপাড়ায়। কলেজের সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও অভিশ্রুতি শাস্ত্রীর নাম বৃষ্টি খাতুন। তবে তার বন্ধু সহকর্মীরা জানতেন তার নাম অভিশ্রুতি। মৃত্যুর পর এই নাম নিয়েই ঝামেলা হয়। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে।

এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে থাকা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের ডিএনএ পরীক্ষাতেও তার পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।




সৌদি আরবে আজ থেকে রোজা শুরু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আজ ১১ মার্চ থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হচ্ছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে খালিজ টাইমস জানিয়েছে। সে হিসেবে রোববার রাতে তারাবির নামাজ শুরু হয়।

রোববার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে চাঁদের খোঁজ শুরু হয়। এ সময় চাঁদ দেখার জন্য খালি চোখের পাশাপাশি অত্যাধুনিক টেলিস্কোপও ব্যবহার করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে চাঁদ দেখার খবর পাওয়া যায়।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেই মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু করবে।

অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল কাউন্সিল অব ইমাম, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল, কাউন্সিল অব ফতোয়া এবং শরিয়া আরবিট্রেশনের সহযোগিতায় দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি জানিয়েছে, সোমবার শাবান মাস শেষ হবে। ফলে মঙ্গলবার হবে রমজান মাসের প্রথম দিন।

ভৌগলিক অবস্থান এবং চাঁদ ওঠার কারণে অস্ট্রেলিয়া প্রায়ই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রোজার তারিখ ঘোষণা করে থাকে।

ব্রুনেইতে চাঁদ দেখা না যাওয়ার কারণে মঙ্গলবার রমজান মাস শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ায়ও চাঁদের দেখা না পাওয়ার কারণে মঙ্গলবার প্রথম রোজা পালন করা হবে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয়ও ঘোষণা দিয়েছে, সোমবার হবে শাবান মাসের ৩০ তারিখ, মঙ্গলবার রমজান মাসের প্রথম দিন।

সাধারণত সৌদিতে রমজান মাস শুরুর পরদিন বাংলাদেশে পবিত্র এই মাস শুরু হয়। তবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। সোমবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক রয়েছে।




চাঁদ দেখা যায়নি, ব্রুনাই-মালয়েশিয়ায় রোজা শুরু মঙ্গলবার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাই এবং মালয়েশিয়ায় আজ রোববার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে দেশ দুটি ঘোষণা দিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার (১২ মার্চ) থেকে শুরু হবে সিয়াম সাধনার মাস রমজান।




রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আসন্ন রমজানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আপিল করবে কী না এমন সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রায়ের কপি না পাওয়ায় এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রায়ের কপি পাওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।