রমজানের শেষ দশক নাজাতের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র রমজানের শেষভাগে উপনীত আমরা। এই দশককে নাজাত বা মুক্তির দশক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে হাদিসে। রমজানের শেষ ১০ দিনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কারণ এই দশকেই রমজানে প্রকৃত প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। এই দশকের বিজোড় কোনো রাতে লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এই দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল ইতেকাফ। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য এই আমলের কোনো বিকল্প নেই। এই দশকেই আদায় করা হয় সদকাতুল ফিতর। অনেকে রমজানের শেষ দশকে জাকাতও আদায় করে থাকেন। রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে আসা রমজানুল মোবারকের প্রকৃত প্রতিদান এই দশকেই বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ জন্য আগের দুই দশকের তুলনায় শেষ দশকটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমলের ক্ষেত্রে সারা মাসে যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেটা এই দশকে পূরণ করা সম্ভব।

নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনের ব্যাপারে খুবই গুরুত্ব দিতেন। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি রমজানের তৃতীয় দশকে এমন কঠোর পরিশ্রম করতেন, যা অন্য সময়ে করতেন না, (মুসলিম)।  হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রমজানে ১০ দিন ইতেকাফ করতেন। কিন্তু যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেছেন, সে বছর ২০ দিন ইতেকাফ করেন (বুখারি)। জয়নব বিনতে উম্মে সালমা (রা.) বলেন, রমজানের যখন ১০ দিন বাকি থাকত তখন রাসুলুল্লাহর (সা.) পরিবারের যে কেউ নামাজে দাঁড়াতে সক্ষম হলে তাকে তিনি নামাজে দাঁড় না করিয়ে ছাড়তেন না (তিরমিজি)।  নবীজি রমজানের শেষ দশকে সারাবছরের তুলনায় অনেক বেশি ইবাদত করতেন এবং পরিবারবর্গকেও ইবাদতের প্রতি উৎসাহ দিতেন।

রমজানের শেষ দশকে যথাসম্ভব বেশি ইবাদত করতে হবে। বিশেষত, এই দশকের বিজোড় রাতগুলোতে রমজানের অন্যান্য রাতের তুলনায় বেশি বেশি ইবাদত, নফল নামাজ, তাসবিহ-তাহলিল ও কোরআন তেলাওয়াত করা প্রয়োজন। ২৭ রমজানের রাতকে সম্ভাব্য শবেকদর ধরে ইবাদত-বন্দেগি করা হলেও অন্যান্য বিজোড় রাতে শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ জন্য অন্তত এশা ও ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা গেলেও সারারাত নামাজ পড়ার সমান সওয়াব পাওয়া যাবে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এশা ও ফজর জামাতের সঙ্গে পড়ল, সে যেন সারারাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ল (মুসলিম)।
রমজানে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আন্তরিক হতে হবে। এ ছাড়াও প্রতি রাতে তাহাজ্জুদ পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমল। আট রাকাত না পারলে চার রাকাত। তাও সম্ভব না হলে অন্তত দুই রাকাত তাহাজ্জুদ যেন বাদ না পড়ে। পাশাপাশি এই দশকে বেশি বেশি দোয়া করা ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই মাসে প্রতিমুহূর্তে আল্লাহর রহমতের ধারা প্রবাহিত হতে থাকে। কখন যে দোয়া কবুল হবে, কেউ বলতে পারে না। এই দশকে দান-সদকাও বেশি বেশি করতে হবে। কেননা, এই মাসে এক টাকা দান করলে ৭০ টাকা দানের সওয়াব পাওয়া যায়।

পবিত্র রমজানের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকতে হবে। পাশাপাশি নিজের পাপরাশি ক্ষমা করিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে হতে হবে আন্তরিক। তবেই নিশ্চিত হবে রমজানের প্রাপ্তি।




কুয়াকাটা উপকূলীয় হিজবুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৪ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কোরআনের পাখি হাফেজদের উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করার লক্ষ্য প্রথমবারের মত কুয়াকাটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর আয়োজনে” কুয়াকাটা উপকূলীয় হিজবুল কোরআন প্রতিযোগিতা -২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে

রোববার (৩১ মার্চ) সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। মুহুমুহু উৎসবের মধ্যদিয়ে বিকাল ৪টায় সমাপ্তি হয় ।

উক্ত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাফেজ মোহাম্মদ মুবাশ্বের হোসেন , পেশ ইমাম- কুয়াকাটা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

আরো পড়ুন : স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবক কারাগারে

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব সভাপতি নাসির উদ্দিন বিপ্লবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র জনাব আনোয়ার হাওলাদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন ও কুয়াকাটা ইভেন ম্যানেজমেন্ট এর ব্যবস্থাপক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাংবাদিক হোসাইন আমির, অথিতি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন সাংবাদিক জুয়েল ফরাজী,জনী আলমগীর, জাকারিয়া জাহিদ এবং ভিবিন্ন মাদ্রাসার প্রধানগণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ বেলালা হোসাইন, ইমাম ও খতিব আলীপুর কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, হাফেজ মুহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম,পরিচালক তারবিয়াতুল উম্মাহ মডেল মাদ্রাসা, কলাপাড়া।

আরো পড়ুন : ডাকাতিসহ ১২ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

উক্ত প্রতিযোগিতায় ৮ টি প্রতিষ্ঠানের ২৩ জন প্রতিযোগি অংশগ্রহণ করেন। এতে ১ম পুরুষ্কার অর্জন করেন-মোহাম্মাদ মুহিন, মারকাজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা মহিপুর , ২য় পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোঃ ইসমাইল, মিরা বাড়ি হাফেজী মাদ্রাসা,কুয়াকাটা । ৩য় পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোহাম্মাদ তাওহীদ, ৪র্থ পুরুষ্কার অর্জন করেন- মোহাম্বামদ ইজিদ, ৫ ম পুরুষ্কার অর্জন করেন- মেহেদি হাসান তাওহীদ, মারকাজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসা মহিপুর।এবং সকল প্রতিযোগিদের জন্য সান্তনা পুরস্কারের ব্যবস্থা করেন।

বক্তারা বলেন, ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান প্রজন্মকে অনৈতিক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখে এবং আগামীতেও অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় ৪ দিন ধরে কিশোর নিখোঁজ



ঈদের ছুটি একদিন বাড়ানোর সুপারিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে আগামী ঈদুল ফিতরের ছুটি একদিন বাড়ানোর সুপারিশ করা করেছে আইশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

রোববার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আগামী ৯ এপ্রিল ছুটি রাখার সুপারিশ করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

 কমিটির সুপারিশ আগামীকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকেও উপস্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন মোজাম্মেল হক।



আজ থেকে মিলবে নতুন টাকার নোট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আজ রোববার (৩১ মার্চ) থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন গ্রাহকরা। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত (সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) নতুন নোট বিনিময় করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এর আগে গত ২০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য জানায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ৩১ মার্চ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের কাউন্টারের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে নতুন নোট বিনিময় করা হবে।

এছাড়া, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৮০টি শাখা থেকেও আলোচিত সময়ে ৫, ১০,২০, ৫০ টাকা ও ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত নতুন নোট প্রতিটি একটি প্যাকেট করে বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করা হবে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবেন না।




আজ মক্কা বিজয় দিবস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ রমজানুল মোবারকের বিশ তারিখ। ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যবহ একটি ঘটনার সাক্ষী রমজানের বিশ তারিখ। শুধু ইসলামের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে অনন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার অধিকারী এ ঘটনাটি হলো মক্কা বিজয়। ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরতের অষ্টম বছরে ১০ হাজার মুসলিম সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মক্কা নগরী জয় করেছিলেন এদিনে। এ ঘটনা ছিল মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের, সাফল্যের ও সন্তুষ্টির।

নবুওয়াতের ১৩তম বছরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মক্কা ছেড়ে ইয়াছরিবে হিজরত করেন। ইয়াছরিবের নাম হয়ে যায় মদিনাতুন নবী বা সংক্ষেপে মদীনা। এখান থেকে ইসলামের প্রসার ঘটে অভাবনীয় গতিতে। মক্কায় কোরাইশ গোত্র আরবে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়ায় তাদের বিরোধিতা ছিল ইসলামের প্রসারে একটি বড় অন্তরায়। তা ছাড়া তারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতাও চালায়। বদর, উহুদ,আহযাব ইত্যাদি যুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে মুসলমানদের। তবে এর মধ্যে আল্লাহর মদদের কারিশমাও প্রত্যক্ষ করেছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় আসে মক্কা বিজয়ের পালা।

তবে মক্কা জয়ের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের অভিযান পরিচালনার পেছনে কাজ করেছে হুদায়বিয়ার সন্ধি। হিজরী ষষ্ঠ বছরে সম্পাদিত এ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছিল মক্কার কুরাইশরা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিকার চেয়েছিলেন নইলে সন্ধির সমাপ্তি হয়েছে মনে করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কুুরাইশরা কোনো সাড়া না দেয়ায় তিনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর এ সন্ধি অনুযায়ী আরবের ‘বনু খুজায়া’ গ্রোত্র মহানবী (সা.)-এর সাথে এবং ‘বনু বকর’ গোত্র কুরাইশদের সাথে মৈত্রী চুক্তি করে। এ দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। বনু বকর কুরাইশদের প্ররোচনায় বনু খুজায়া গোত্রের আবাসভূমি ‘ওয়াতির’-এর নিভৃত পল্লিতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলা করে অসহায় নারী, শিশুসহ নির্বিচারে হত্যা ও লুণ্ঠন করে। প্রাণের ভয়ে কাবায় আশ্রয় নেওয়া নিরীহ মানুষকেও তারা হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিকারের জন্য খুজায়া গোত্র মহানবী (সা.) এর নিকট আসে। মহানবী সা. প্রতিকারের জন্য দূত মারফত মক্কার কুরাইশ নেতাদের জানালেন, তোমরা বন খুজায়া গোত্রকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাও; নয়তো বনু বকর গোত্রের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি বাতিল করো, না হলে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে এ চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে পরিগণিত হবে। কুরাইশ নেতারা তৃতীয় পন্থাই গ্রহণ করলেন।

মহানবী সা. এর দূত মক্কা থেকে মদিনায় ফিরে এসে জানালেন, কুরাইশরা তৃতীয় প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন। এর ফলে মহানবী সা. বহু আকাক্সিক্ষত মক্কা অভিযানের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, মক্কা বিজয় ব্যতীত আরবে ইসলাম সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত হবে না। ইত্যবসরে মক্কাবাসীদের বিভেদ ও বৈষম্যের কথা উপলব্ধি করে আবু সুফিয়ান স্বয়ং মদিনায় গমন করে শান্তি প্রস্তাব করলে হযরত মুহাম্মদ সা. তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং ১০ হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ জানুয়ারি মোতাবেক ১০ই রমজান, অষ্টম হিজরি মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

২০ রমজান মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন। প্রায় রক্তপাতহীন সে অভিযানে ইসলামের নবীর পতাকা সেখানে সমুন্নত হয়। আর সত্য ধর্মের গৌরব প্রতিষ্ঠিত হয় আরবের সবচেয়ে সমৃদ্ধ নগরীতে। হযরত ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম একক প্রভুর ইবাদতের জন্য যে বায়তুল্লাহ নির্মাণ করেছিলেন, তা ভরে ফেলা হয়েছিল মূর্তি ও বিগ্রহে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর ঘর থেকে ৩৬০টি মূর্তি অপাসরণ করেন। আর এতদিন যারা ইসলামের শত্রুতায় সদাপ্রস্তুত ছিল, তাদের জন্য ঘোষণা করেন সাধারণ ক্ষমা। শান্তি ও মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন ইসলামের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তাই মক্কা বিজয়ের ঘটনা বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ ঘটনা। আর সে কারণেই ২০ রমজান মুসলমানদের জন্য বিপুল গৌরবের স্মারক।




যে বছরে রমজান আসবে ২ বার, ঈদ হবে ৩টি




ঈদুল ফিতর কত তারিখে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। ঈমান, নামাজের পর সুস্থ, স্বাভাবিক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষ সবার জন্য বাধ্যতামূলক ইবাদত হলো রমজান মাসের রোজা। প্রতিদিন সুবহে সাদিক থেকে নিয়ে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পাহানার, স্ত্রী সহবাস, কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিধি-নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলা হয়।

৩০ দিন রোজা বা সিয়াম সাধনার পরে আসে ঈদুল ফিতর যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন।

রমজান শেষে পুরো বিশ্বের মুসলমানের ঈদ পালন করেন।

২০২৪ সালের রমজান শুরু হয়েছে ১২ মার্চ। সেই হিসেবে রমজান শেষে শাওয়ালের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ২০২৪ সালে ঈদুল ফিতর পালিত হবে ১০ অথবা ১১ এপ্রিল। রমজান ২৯ দিনের হলে ঈদুল ফিতর পালন করা হবে ১০ এপ্রিল।

আর রমজান ৩০ দিনের হলে ঈদুল ফিতর পালন করা হবে ১১ এপ্রিল।

রমজানঈদ, হজ, শবে বরাত, শবে কদর, শবে মেরাজ, আশুরার দিনগুলো মূলত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে। ইসলামি ক্যালেন্ডারের প্রত্যেক মাস শুরুর তারিখ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়। এখানে ক্যালেন্ডারে উল্লেখিত সরকারি ছুটির সম্ভাব্য তারিখের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ তুলে ধরা হয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, তখন তিনি দেখলেন সেখানে আগে থেকে বসবাস করা মানুষেরা বছরে দুইটি বিশেষ উৎসব পালন করছে (গান-বাজনা, ঢোল-তবলা বাজিয়ে)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উৎসব পালনের এই রীতি অপছন্দ করলেন এবং তাদের জিজ্ঞেস করলেন, এই দুই দিনে তোমরা কিসের উৎসব পালন করো?

উত্তরে তারা বললো- আমরা জাহেলিয়াতের যুগে এই দুটি দিনে খেলাধুলা, আনন্দ ফুর্তি করতাম, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে এই দুইটি দিনের পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন, এর একটি হল ঈদুল ফিতর, অপরটি হলো, ঈদুল আজহা। ’(আবু দাউদ, হাদিস, ১১৩৪)




জুমার দিনে সুরা কাহাফ পাঠের গুরুত্ব

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জুমার দিন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর যতদিন সূর্য উদিত হবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছিল। সর্বশেষ কেয়ামত সংঘটিত হবে শুক্রবার দিনে। (মুসলিম : ৮৫৪)। জুমার দিনকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজা : ১০৮৪)।

জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য রয়েছে ফজিলতপূর্ণ অনেক আমল। এগুলো মধ্যে একটি আমল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তা হচ্ছে জুমআর দিনে ‘সুরা কাহাফ’ তেলাওয়াত করা। পবিত্র কোরআনের ১৫তম পারার ১৮তম সুরা এটি। যদি কেউ সম্পূর্ণ সুরাটি তেলাওয়াত করতে না পারেন তবে সে যেন এ সুরার প্রথম এবং শেষ ১০ আয়াত তেলাওয়াত করে।

কোরআনের কোনো অংশ মুখস্থ করলে ইমান বৃদ্ধি হয়। সুরা আল কাহাফে কয়েকটি গল্প রয়েছে যেগুলি দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের জন্য বাস্তব পাঠ শেখায় এবং কোরআনের সঙ্গে দৃঢ় সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। যেমন, ‘পৃথিবীর ওপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা করেছি মানুষকে, এই করার জন্য যে ওদের মধ্যে কে কর্মে ভালো।’ (সুরা কাহাফ, ৭) সুরা কাহাফে চারটি ঘটনা, চারটি বক্তব্য ও উপদেশ রয়েছে। সুরার ১ থেকে ৮ আয়াতে রয়েছে বক্তব্য। ৯ থেকে ২৬ আয়াতে আছে আসহাবে কাহাফের ঘটনা।

হাদিসে আছে, ‘যে ব্যক্তি সুরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্তি পাবে।’ (মুসলিম শরিফ) রাসুল (সা.) আমাদের সুরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করতে বলেছেন।

সুরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াতে ইসলামের মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে বলা হয়েছে। ‘আর তাদের সতর্ক করার জন্য যারা বলে যে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন, এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। উদ্ভট কথাই তাদের মুখ থেকে বের হয়, তারা কেবল মিথ্যাই বলে।’ (সুরা কাহাফ, ৪-৫)

রাসুলের (সা.)–এর ওপর ওহি অবতীর্ণ হওয়ার আলোচনা এসেছে, ‘প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর দাসের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন ও এর মধ্যে তিনি কোনো অসংগতি রাখেননি।’ (সুরা কাহাফ, ১)

প্রতিদানের কথা এসেছে পরের আয়াতে। তাতে ভয় ও আশা দুটি আবেগই দেখা যায়। ‘তার কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন আর বিশ্বাসীগণ যারা সৎকাজ করে, তাদেরকে সুসংবাদ দেবার জন্য যে তাদের জন্য বড় ভালো পুরস্কার রয়েছে।’ ‘সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’ (সুরা কাহাফ, ২-৩)

রাসুল (সা.) আমাদের আগেই সতর্ক করে দিয়েছেন, ‘আদমের সৃষ্টির পর থেকে বিচার দিবসের আগ পর্যন্ত দাজ্জালের চেয়ে বড় আর কোনো ফিতনা নেই।’ (মুসলিম শরিফ) এটি দাজ্জালের বিরুদ্ধে একটি ঢাল।

‘সূরা কাহাফ’ পাঠ ও তেলাওয়াতের ফজিলত
– যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা আল কাহাফ পড়বে, তার (ঈমানের) নূর এ জুমাহ হতে আগামী জুমাহ পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মিশকাত ২১৭৫)।
– যে ব্যক্তি সূরা আল কাহাফ এর প্রথম দশটি আয়াত মুখস্থ করবে তাকে দাজ্জালের অনিষ্ট হতে নিরাপদ রাখা হবে। (মুসলিম) (মিশকাত)।
– ‘যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি উহার শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। ’ (সিলসিলায়ে সহীহা -২৬৫১)।
– যে ব্যক্তি জুমার রাত্রিতে সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য স্বীয় অবস্থানের জায়গা হতে পবিত্র মক্কা পর্যন্ত একটি নূর হবে। ’ (সহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব – ৭৩৬)।
– জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করিলে কিয়ামত দিবসে তার পায়ের নীচ থেকে আকাশের মেঘমালা পর্যন্ত নূর আলোকিত হবে এবং দুই জুমার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ হবে। (আত তারগীব ওয়াল তারহীব- ১/২৯৮)
– জনৈক ব্যক্তি সূরাহ আল কাহাফ পড়ছিল। তখন লোকটি তাকিয়ে দেখতে পেল একখণ্ড মেঘ তাকে পরিবেষ্টন করে নিয়েছে। বারা ইবনু আযিব বর্ণনা করেছেন যে, লোকটি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম এর কাছে বললেন। তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে অমুক তুমি সূরাটি পড়তে থাক। কারণ এটি ছিল আল্লাহর রহমাত বা প্রশান্তি যা কোরআন তেলাওয়াতের কারণে বা কোরআন তেলাওয়াতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। (মুসলিম- ১৭৪২)।




ঈদে ট্রেন যাত্রার পঞ্চম দিনের টিকিট বিক্রি শুরু

     

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী ১০ এপ্রিলকে ঈদের দিন ধরে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঈদ উপলক্ষ্যে আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ট্রেনে যাত্রা শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সকাল ৮টায় বিক্রি শুরু হয়েছে আগামী ৭ এপ্রিলের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। এটি ট্রেনে ঈদযাত্রার পঞ্চম দিন।




কদরের রাতের তালাশে মহানবী (সা.)-এর ইতিকাফ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : মহিমান্বিত রমজানের এক দশক গত হয়ে দ্বিতীয় দশক চলছে। যেন রমজান মুমিনদের তার বিদায়ের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। সে বলছে, আমি বিদায়ের পথে বহুদূর অগ্রসর হয়েছি। তোমার কি এখনো ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হওয়ার সময় আসেনি? অথচ প্রিয় নবী (সা.) পুরো রমজানেই ইবাদতে আত্মমগ্ন হয়ে থাকতেন।

আর দ্বিতীয় দশক এলে তিনি তাতে আরো বেশি মনোযোগী হতেন। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের মধ্যবর্তী ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। (মুয়াত্তায়ে মালিক, হাদিস : ৯)

বেশির ভাগ হাদিসের বর্ণনা মতে, নবীজি (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তবে মধ্যবর্তী দশকের মর্যাদা প্রমাণের জন্য উল্লিখিত হাদিসটি যথেষ্ট।

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। অতঃপর মধ্যবর্তী ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি লাইলাতুল কদরের তালাশে ইতিকাফ করেছি। আমাকে বলা হলো, লাইলাতুল কদর রমজানের শেষ দশকে।

অতএব, কেউ ইতিকাফ করতে চাইলে সে ইতিকাফ (শেষ দশকে) করতে পারে। ফলে লোকজন তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করল। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১১৭০৪)

আবদুল্লাহ বিন উনাইস (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন, আমি লাইলাতুল কদর দেখেছি, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব, তোমরা রমজানের শেষ অর্ধেকে তালাশ কোরো। (শরহু মাআনিল আসার : ৩/৮৮)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজানের ১৭ তারিখ রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ১৩৮৪)

প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, লাইলাতুল কদরের দিনের সকাল বদরের দিনের সকালের মতোই। আর সিরাত ও মাগাজি বিশেষজ্ঞদের প্রসিদ্ধ মতানুসারে বদরের রাত ছিল ১৭ রমজান এবং দিনটি জুমার দিন ছিল। জায়িদ বিন সাবিত (রা.) ১৭ রমজানের মতো অন্য রাতে এত বেশি জেগে থাকতেন না। তিনি বলতেন, আল্লাহ বদরের দিন সকালে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন এবং কাফির নেতাদেরকে সেদিন সকালে চরমভাবে লাঞ্ছিত করেছেন।

উল্লিখিত হাদিস ও বর্ণনাগুলো দ্বারা প্রমাণিত রমজানের মধ্যবর্তী দশকও ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রাখে।