বেলজিয়ামের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভোলায় মসজিদ নির্মাণ

বরিশাল অফিস::  প্রাচীন ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো দৃষ্টিনন্দন বোরহানউদ্দিন চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদ। বেলজিয়াম থেকে কলকাতা হয়ে আনা হয়েছিল মসজিদটির নির্মাণসামগ্রী। ভারতের কলকাতা থেকে আসা শ্রমিকরা ৩ থেকে ৪ বছরে মসজিদটি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

১৮৬০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেন তৎকালীন জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী। তার নামানুসারেই মসজিদটির নামকরণ হয়েছে। শুধু মসজিদ নয়, জমিদার বোরহানউদ্দিনের নামে নামকরণ করা হয়েছে বোরহানউদ্দিন উপজেলারও।

প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি ভোলার বোরহানউদ্দিন সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দক্ষিণে বোরহানউদ্দিন-দরুন বাজার মূল সড়কের পাশে রামকেশব গ্রামে অবস্থিত। প্রায় ১ একর ৪০ শতাংশ জমির উপর নির্মিত মসজিদটির পশ্চিম পাশে রয়েছে ঘাট বাঁধানো পুকুর।

কারুকার্য খচিত চারটি লোহার পিলারের বারান্দা পেরিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা মিলবে বাদামি রঙের তিনটি কাঠের দরজা। মসজিদের মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে আরও দুটি জানালা। যা নির্মাণের পর থেকে এখনো একই রকম বিবর্ণহীন। ওপরে লোহার বিম। তার উপরে চুন, সুরকি ও পাথরের ঢালাই।
বেলজিয়ামের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ

যেভাবে নির্মিত হলো মসজিদে নববী:;

মসজিদের দক্ষিণ পাশে খোলা মাঠ। তৎকালীন সময়ে মসজিদের পূর্ব পাশে ছিল তিনটি কাচারি। যেখানে পথিকরা আশ্রয় নিতেন। কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেলেও সম্প্রতি সেখানে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশ্রামাগার এবং সাধারণ মুসল্লিরের জন্য ওজু ও গোসলখানা করা হয়েছে।

চৌধুরী বাড়ির প্রবীণ ব্যক্তি ও মসজিদের নিয়মিত তত্ত্বাবধায়ক মাহাবুব আলম চৌধুরী জানান, কারুকার্য খচিত মসজিদটি নির্মাণের জন্য শ্বেতপাথর, লোহার বিম, চুন সুরকি, দরজা-জানালার কাঠসহ সব নির্মাণসামগ্রী বেলজিয়াম থেকে আনা হয়েছিল।

বোরহানউদ্দিন চৌধুরীর ছিল তিন ছেলে। তার সব সম্পত্তি চার ভাগ করে তিন ভাগ সন্তানদের মধ্যে আর এক ভাগ ওয়াকফ্ স্টেট করে মসজিদের জন্য রেখে যান। মসজিদের জন্য তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অনেক জমি তেতুলিয়া নদীর ভাঙ্নে বিলীন হয়ে যায় এবং সরকারি খাসজমিতে পরিণত হয়। বর্তমানে ১২ একর জমি রয়েছে। সেই জমির আয় দিয়েই মসজিদের আনুষঙ্গিক কাজ ও খরচ করা হয়।

মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুজ্জামান জানান, দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে এই মসজিদটি দেখতে আসেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করেন। মসজিদ মাঠে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার জামায়াতও অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদের বর্তমান মোতাওয়াল্লি শামিম আহমেদ নোমান চৌধুরী জানান, ইতিমধ্যে মসজিদটির বেশ কয়েকবার সংস্কারকাজ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের শেষের দিকে ব্যক্তিগত অনুদান থেকে তিনি মসজিদটির রং ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেন।

প্রাচীন এই মসজিদটি নির্মাতা জমিদার বোরহানউদ্দিন চৌধুরী ১৯১৩ সালের ৪ মে মারা যান। মসজিদের পাশেই তাকে কবরস্থ করা হয়েছে।




ঈদ উদযাপনে ১১ জনকে নিয়ে সিঙ্গাপুরে গেলেন মিম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  এবারের ঈদে সিনেমার ব্যস্ততা নেই চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের। কারণ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে না তার কোনো ছবি। ফলে ঈদের সময়টা পরিবারের সঙ্গেই উদযাপনের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি।



বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে ১১ এপ্রিল




মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এমন একটি রাত নির্ধারণ করেছেন, যার নাম ‘লাইলাতুল কদর’। এ রাত এত সম্মানিত যে, এক হাজার মাস ইবাদত করলেও যে সওয়াব হতে পারে, তার চেয়ে লাইলাতুল কদরের ইবাদতের সওয়াব অনেক বেশি। যে বেশির পরিমাণ একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।

এ রাতকে পাওয়ার জন্য মন ও দেহের প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। রমজানের শেষ দশক লাইলাতুল কদর তালাশ করা হয়।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত বোঝানোর জন্য মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে আলাদা একটি সুরা নাজিল করেছেন।

একবার নবিজি (সা.) সাহাবিদের সম্মুখে বনি ইসরাইলের জনৈক চারজন লোক সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে, তারা দীর্ঘ হায়াত লাভ করে অধিককাল ধরে ইবাদত করেছেন। এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও নাফরমানি করেননি।

নবিজি (সা.) এর পবিত্র জবান থেকে এ কথা শুনতে পেরে সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত বিস্মিত হলেন এবং নিজেদের ব্যাপারে আফসোস করতে লাগলেন। সাহাবায়ে কেরামের এ আফসোসের পরিপ্রেক্ষিতে মহান রাব্বুল আলামিন হজরত জিবরাঈলের (আ.) মাধ্যমে নবিজি (সা.) এর কাছে এমন সময় এ সুরায়ে ‘কদর’ অবতীর্ণ করেন। (তাফসিরে মাজহারি)।

এ রাতের বিরাট মাহাত্ম্য ও অপরিসীম মর্যাদার কারণে রাতটিকে ‘লাইলাতুল কদর’ তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি একে (কুরআনকে) নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে আপনি কী জানেন? লাইলাতুল কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতারা ও রুহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। এটি নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।’ (সুরা আল কাদর : ১-৫)

‘নিশ্চয় আমি তা (কুরআন) এক মোবারক রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা আদ দুখান : ১-৪) এ রাতে পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি ব্যবস্থাপক ও প্রয়োগকারী ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাতে প্রত্যেক মানুষের বয়স, মৃত্যু, রিজিক, বৃষ্টি ইত্যাদির মেয়াদ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করে তা সংশ্লিষ্ট ফেরেশতাদের লিখে দেওয়া হয়।

নবিজি (সা.) রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর পাওয়ার জন্য ইবাদতের কথা বলেছেন। মুমিন বান্দারা এ রাতটিকে পাওয়ার আশায় মুখিয়ে থাকেন। রমজানের শেষ দশকে তারা ইবাদতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেন।

নবিজি (সা.) বলেন, ‘যদি তোমরা কবরকে আলোকময় পেতে চাও, তাহলে লাইলাতুল কদরে জাগ্রত থেকে ইবাদত করো।’ যদি কেউ ইমানের সঙ্গে সাওয়াব লাভের খাঁটি নিয়তে লাইলাতুল কদর কিয়ামুল্লাইল বা তাহাজ্জুদে অতিবাহিত করে, তবে তার পূর্ববর্তী সব গোনাহ ক্ষমা করা হবে।’ (বুখারি)।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত অপরিসীম। তাই সারা রাত জাগরণ করে সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করা কর্তব্য। বেশি বেশি নফল নামাজ, তাহাজ্জুদ, সালাতুস তাসবিহ, কাজা নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, দান-সাদকা, জিকির-আসকার, তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইসতেগফার, দুয়া-দুরুদসহ নফল আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমি একবার নবিজিকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি কদরের রাত সম্পর্কে অবহিত হতে পারি, তবে আমি কী করব? তখন রাসুল (সা.) আমাকে এ দোয়া পাঠ করার জন্য বললেন। ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ (তিরমিজি)

যে লোক শবেকদর থেকে বঞ্চিত হয়, সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিত হলো। যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেল, কিন্তু ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাতে পারল না, তার মতো হতভাগা দুনিয়ায় আর কেউ নেই। কদরের রাতের ইবাদতের সুযোগ যাতে হাতছাড়া হয়ে না যায়, সেজন্য রাসুল (সা.) শেষ দশ দিনের পুরো সময়টাতে ইতেকাফরত থাকতেন। (মুসলিম)।

লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নেই। অনেকেই মনে করেন, ২৭ রমজানই লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট রাত। কারণ নবিজি (সা.) কখনো বলেননি, ২৭ রমজানের রাতই কদরের রাত। তবে ২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতই শবেকদর হতে পারে।

লাইলাতুল কদরের তারিখের ব্যাপারে নবিজি (সা.) বলেন, আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে, অতঃপর আমাকে তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর খোঁজ করো। (বুখারি)

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা শবেকদরকে রমজানের ৯ রাত বাকি থাকতে অথবা সাত রাত বাকি থাকতে অথবা পাঁচ রাত বাকি থাকতে অথবা তিন রাত বাকি থাকতে অথবা রমজানের শেষ রাতে (অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাতে) তালাশ করবে। (তিরমিজি)।

২১ থেকে ২৯ রমজান পর্যন্ত বেজোড় যে কোনো রাতেই শবেকদর হতে পারে। শবেকদরের সম্ভাব্য রাতগুলোর মধ্যে আর মাত্র দুটি রাত আমাদের হাতে রয়েছে। আজ রমজানের ২৭তম রাতে হাজার বছরের চেয়ে দামি সৌভাগ্যের সময়টুকু অর্জনে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।

লাইলাতুল কদরকে নির্দিষ্ট না করার কারণ হচ্ছে, যাতে আমরা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কেয়াম করেই ক্ষান্ত না হয়ে যাই এবং সেই রাতের ফজিলতের ওপর নির্ভর করে অন্য রাতের ইবাদত ত্যাগ না করি।

তাই আমাদের উচিত হবে- শেষ দশকের কোনো বেজোড় রাতকেই কম গুরুত্ব না দেওয়া এবং সব বেজোড় রাতেই ইবাদতের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা। আল্লাহর কাছে বেশি পরিমাণে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ রাতের বরকত অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দেশ ও মুসলিম জাহানের কল্যাণ কামনা প্রধানমন্ত্রীর : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শবেকদর রজনিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।




সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো পুণ্যভূমি আছে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। সারা বছরই এই দরবার মুখর থাকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পদচারণে। তাদের কেউ আসেন দান কিংবা মানতের মাধ্যমে নেক মনোবাসনা পূরণের জন্য আবার কেউ আসেন স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য। পীর-মুরিদহীন ব্যতিক্রমী এই দরবারে শুধু বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিলেই লাখো মানুষের সমাগম হয়।

মির্জাগঞ্জ দরবারে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো দরবার বা পুণ্যভূমি আছে, তার প্রতিটিতেই একজন করে পীর থাকেন। থাকেন অসংখ্য মুরিদ বা অনুসারীও। বংশপরম্পরায় পরিবারের বড় ছেলেই পীর নির্বাচিত হন এসব দরবারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফ। এই মাজারে কোনো পীর নেই, কোনো মুরিদও নেই। এ ছাড়া ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনেই চলে এ মাজারের সব কার্যক্রম। তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এ মাজারের সুনাম রয়েছে।

আরো পড়ুন : গুঠিয়া মসজিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ইয়ার উদ্দীন খান। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম সরাই খান। যুবক বয়সেই তার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে মৃত্যুবরণ করেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এসে প্রথমে মুদি ও মনোহরি পণ্য বিক্রি শুরু করেন ইয়ার উদ্দিন। এতে তাকে সাহায্য করতেন গগন মল্লিক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপর পেশা পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়রা তাকে খলিফা উপাধি দেন। জীবিকা নির্বাহের কাজের পেছনে তিনি স্বল্প সময় ব্যয় করতেন। দিন ও রাতের সিংহভাগ সময় তিনি নামাজ ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের মগ্ন থাকতেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সব মানুষকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। তাই তার দোকানের কোনো পণ্য তিনি পরিমাপ করে ক্রেতাদের দিতেন না। ক্রেতারাই পরিমাপ করে পণ্য নিয়ে দাম দিয়ে যেতেন। তবে ইয়ার উদ্দীন খলিফা কবে জন্মগ্রহণ করেন ও কবে মির্জাগঞ্জে আসেন এবং কবে মৃত্যুবরণ তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি কেউই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ১৯২০ সালের দিকে ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মির্জাগঞ্জ আসেন এবং ১৯৩০ অথবা ১৯৩৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে প্রতিবছর ২৪ ও ২৫ ফাল্গুন দুদিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি দর্শন ও মাজার জিয়ারত করতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষের আগমন ঘটে।

খুলনার পাইকগাছা থেকে চার বন্ধুর সঙ্গে মো. ওমর ফারুক (২৫) এসেছেন মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে। তিনি বলেন, এর আগেও আমি একাধিক দরবারে এসেছি। সেসব স্থানে মাহফিলে আসা মুসল্লিদের পীর তাদের মুরিদ বানান। তাদের নিজস্ব কিছু রীতি-রেওয়াজ পালনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখানে এ রকম কিছু নেই। এখানে শুধু কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনাই করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক দরবারে দেখেছি, বার্ষিক এসব অনুষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও নারী-পুরুষ মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু এখানের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাইলেই এখানে নারীরা পুরুষদের স্থানে যেতে পারেন না আর পুরুষরাও নারীদের স্থানে যেতে পারেন না। এসব কারণেই দরবারটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। তাই পরবর্তীতেও আমি এখানে আসতে চাই।

বরিশালের উজিরপুর থেকে মানতের একটি গরু নিয়ে এ দরবারে এসেছেন পৌঢ় হামিদ গাজী। তিনি বলেন, নেক মনোবাসনা পূরণে এ দরবারে দানের জন্য যদি কেউ মানত করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতে তার মনোবাসনা পূরণ হয়। পারিবারিক একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এ দরবারে আমি গরু মানত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাই মাহফিলের শেষ দিন আমি মানতের গরু নিয়ে এখানে এসেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পৌঢ় আহমদ আলী বলেন, বর্তমানে সিংহভাগ দরবার ধর্মীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই ধরবারে ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখন পর্যন্ত সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে এই দরবার। তাই কোনো পীর-মুরিদ না থাকার পরও লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।

সাড়ে আট একর জমি নিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত হজরত ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ, একটি আলিম মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি নুরানি মাদরাসা, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী থেকে অপহৃত কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে উদ্ধার

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ মল্লিক বলেন, আমাদের সমাজে মাজার মানেই গানবাজনাকে বোঝায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মাজার ও দরবার। আমাদের প্রিয় ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না, এমন কোনো কাজ এ মাজার ও দরবারে করা হয় না

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনে চলা হয় বলেই এখানের বার্ষিক মাহফিলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শত শত মানুষ আসেন মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি দান ও মানত করতে।




মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল কদর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফারসিতে বলা হয় ‘শবে কদর’। আরবিতে ‘লাইলাতুল কদর’। যার অর্থ মহিমান্বিত রাত। এই রাতের মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। পবিত্র কুরআনে ‘কদর’ নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা নাজিল হয়েছে। পাঁচ আয়াতবিশিষ্ট এই সুরায় লাইলাতুল কদরের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে ইসলামি শরিয়তে এর বিশেষ গুরুত্ব ও তাত্পর্য রয়েছে। মহান রব্বুল আলামিন বলেন, ‘আমি এই কুরআন কদরের রাতে নাজিল করেছি। কদরের রাত সম্পর্কে তুমি কী জান? কদরের রাত হাজার মাস থেকে উত্তম মাস। এই রাতে জিবরাইলসহ সব ফেরেশতা অবতীর্ণ হয়, প্রত্যেক কাজে তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে। এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সুরা কদর)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) রসুল (স.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান সহকারে এবং প্রতিদানের আশায় লাইলাতুল কদরে নামাজ পড়বে, তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বুখারি : ১৯০১)। হাদিসে ‘ইমানসহকারে’ কথাটির অর্থ হচ্ছে, এই রাতের মর্যাদা ও বিশেষ আমল শরিয়তসম্মত হওয়ার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আর ‘প্রতিদানের আশায়’ কথাটির অর্থ হচ্ছে, নিয়তকে আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠ করা। সুরা দুখানের ৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয় আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি একটি বরকতময় রাতে।’ আর এই রাত হলো শবে কদর।

লাইলাতুল কদর অতি মূল্যবান রাত হওয়ায় মহান রব্বুল আলামিন এর সুনির্দিষ্ট তারিখ গোপন রেখেছেন। তবে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে,  রসুল (স.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো। (বুখারি : ২০১৭)। এর মধ্যে ২৭তম রাতে হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) কুরআনের সুরা কদর গবেষণা করে ২৭ তারিখ লাইলাতুল কদর হওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তবে রমজানের শেষ দশকের ফজিলতই সবচেয়ে বেশি। প্রিয়নবি (স.) শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। (মুসলিম : ১১৭১)।

এই রাতে মহাগ্রন্থ কুরআন নাজিল হয়, মানব জাতির এই বিরাট নিয়ামতের কারণেই এই রাতের এত মর্যাদা ও ফজিলত। এই কুরআনকে ধারণ করলেই মানুষ সম্মানিত হবে, একটি দেশ ও জাতি মর্যাদাবান হবে; গোটা জাতির ভাগ্য বদলে যাবে। কাজেই এই রাতে বেশি বেশি কুরআন পড়তে হবে। কুরআনের শিক্ষাকে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিষ্ঠার শপথ গ্রহণ করতে হবে। বাছাইকৃত কিছু আয়াত এই রাতে মুখস্থও করা যেতে পারে। যাদের কুরআনের ওপর প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে, তারা এই রাতে একটি দরসও প্রস্তুত করতে পারেন। কুরআনের এই গভীর অধ্যয়ন আমাদের সৌভগ্যের দ্বার খুলে দেবে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রসুল (স.)কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রসুল (স.)! যদি আমি শবে কদর পেয়ে যাই, তবে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রসুল (স.) বলেন, এই দোয়া পড়বে—‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুম তুহিব্বুল আফওয়া আফু আন্নি।’ অর্থাত্, হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে তুমি ভালোবাসো, তাই তুমি আমাকে ক্ষমা করো।




মাহে রমজান ও নাজাত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রমজান হলো পাপমুক্তির মাস; কল্যাণের মাস। এ মাসে মহান আল্লাহতায়ালার অনুগ্রহ লাভ করাই মুমিনের আরাধ্য। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রহমত ও মাগফেরাত শেষে এখন নাজাতের সময়। বান্দা জাহান্নামের পথ থেকে বেরিয়ে আসবে; জান্নাতের পথে ধাবিত হবে; নেক আমল করবে। পাপের প্রতি তার কোনো আকর্ষণ থাকবে না। নাজাতের এই সময়ে অর্জিত শিক্ষাকে ধারণ করেই বছরের বাকিটা সময় কাটিয়ে দেবে একজন মুমিন মুসলমান। নেক আমল ও দ্বীনের হেকমত দিয়ে সে শয়তানকে পরাভূত করবে। এভাবে রমজানের অর্জিত শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে জীবনকে করে তুলবে ছন্দময়।

নফসে আম্মারার কারণে মানুষ ধোঁকায় পড়ে। পাপ কাজ করে। এই অবাধ্য মানবসত্তার কাজই হলো মানুষকে খারাপের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই মন্দ আত্মাকে সক্রিয় হতে দেওয়া যাবে না। আর একে দমন করার উপায় হলো বেশি বেশি নেক আমল করা। যখন মানুষ বেশি বেশি নেক আমল করবে, এই আত্মা মানুষের ওপর আর কোনো প্রভাব খাটাতে পারবে না। সে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়বে। সুতরাং, নফসে আম্মারাকে পরাজিত করতে হলে মন্দের ডাকে সাড়া না দিয়ে কল্যাণের পথে চলতে হবে। ইসলামের অনুশাসন মানতে হবে। মানুষ অনেক সময় মন্দ কাজ করার পর অনুতপ্ত হয়। নিজের ভুল বুঝতে পারে। এর কারণ হলো মানুষের ভেতরকার নফসে লাউওয়ামা তথা অনুতপ্ত সত্তা তখন জেগে ওঠে। নফসে আম্মারা, শয়তানের ধোঁকা বা পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এবং কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মানুষ মন্দ কাজ করে বসতে পারে। কিন্তু এর রেশ কেটে গেলে সে অনুতপ্ত হয়। নফসে লাউওয়ামা তাকে বলে, হে মানব! তোর ওই কাজটি করা উচিত হয়নি। তুই অনুতপ্ত হয়ে তওবা-এস্তেগফার কর। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নে।

নফস জগতে প্রশান্ত আত্মা হলো নফসে মুতমাইন্নাহ, যার আকর্ষণ থাকে নেক কাজের দিকে। সে সব সময় বান্দাকে ভালো কাজের দিকে ডাকে। মানুষের অন্তরে সার্বক্ষণিক এ নফসের প্রভাব ধরে রাখতে হলে তাকে আমলে সালেহের দিকে সব সময় রুজু থাকতে হবে। চিন্তা ও কর্মে ভালো হতে হবে। একবার নিজেকে এই আদলে গড়ে তুলতে পারলে এর বাইরে গিয়ে মন্দ কাজ করতে তার মোটেই ভালো লাগবে না।

ভালো-মন্দ নিয়েই মানুষ। তবে মন্দকে ঘৃণা করা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যই তার পরম চাওয়া। আর যে আল্লাহতায়ালার সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে, আল্লাহ নিজেই তাকে সম্মানিত করবেন। তার সব ধরনের সুখের ব্যবস্থা তিনি করবেন। তাই নাজাতের এই ১০ দিনে মানুষের উচিত ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে যাবতীয় অন্যায়, অপরাধ ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করে নেওয়া।




কাবায় অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা




টিভি চ্যানেলের অবৈধ সম্প্রচারে আইনগত ব্যবস্থা : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সরকার অনুমোদিত দেশি ও বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের ফিড শুধু বৈধ কেবল ও ডিটিএইচ অপারেটররা গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

আজ মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেশি-বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের অবৈধ সম্প্রচার বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত এক সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অনুমোদিত দেশি ও বিদেশি টিভি চ্যানেলের ফিড শুধু বৈধ কেবল ও ডিটিএইচ অপারেটররা গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারবে।

তাদের বাইরে অন্য কেউ এ কাজ করলে তা বেআইনি ও অবৈধ। এ বেআইনি কাজ বন্ধে সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এ বেআইনি কাজের কারণে সরকার রাজস্ব হারায় এবং বিভিন্নভাবে বিদেশে অর্থ পাচার হয়। একই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, ‘বিদেশি চ্যানেলের অবৈধ সম্প্রচারের মাধ্যমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধে যে ক্লিনফিডের ব্যবস্থা করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়। বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে এসংক্রান্ত আইনের বাস্তবায়ন করা হবে। যারা অবৈধ সেট টপ বক্সের মাধ্যমে অবৈধভাবে চ্যানেলগুলো দেখাচ্ছে, ক্লিনফিডের ব্যবস্থা না করে ইচ্ছামতো বিজ্ঞাপনসহ চ্যানেল দেখাচ্ছে, তাদের কারণে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এ সময় বলেন, ‘অবৈধ সেট টপ বক্স যেগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে এবং আমদানি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন অভিযান আরো জোরদার করবে। আমরা একটা কঠোর বার্তা দিতে চাই যেন কেউ কোনোভাবে সেট টপ বক্স অবৈধভাবে আমদানি না করে এবং সেটা বাজারজাত না করে। বাংলাদেশের নিরাপত্তার স্বার্থে, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির স্বার্থে, বিদেশে অর্থ পাচার রোধে এবং আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণের উদ্দেশে আমরা এ অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে মিলে আমরা শক্ত অবস্থান গ্রহণ করছি।’




ফিরতি ঈদ যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু বুধবার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঈদুল ফিতর শেষে ফিরতি যাত্রা অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রেলওয়ের ওয়েবসাইট (https://eticket.railway.gov.bd/) ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হবে।