পটুয়াখালীতে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) সকাল আট টায় পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার সবচেয়ে বড় এ জামাতে ঈদগাহের ভিতরে ও বাইরে মিলে প্রায় ২০ হাজার মুসুল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বড় জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা আবু সাঈদ জামাতে ইমামতি করেন।

আরো পড়ুন : এলো খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

ঈদের নামাজের জামাতে পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ভিপি আব্দুল মান্নান মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মডেল মসজিদের পাশে অস্থায়ী ঈদগাহে মুসুল্লিদের সাথে নামাজ আদায় করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসক ঈদগাহ, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার দরবার শরিফ সহ জেলার ৫১১টি ঈদগাহ এবং ১৭৪১টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদগাহ সহ পুরো পটুয়াখালী শহরকে সুসজ্জিত করায় পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মুসুল্লিরা।




এলো খুশির ঈদ, ঘরে ঘরে আনন্দ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : এক মাস সিয়াম সাধনার পর বৃহস্পতিবার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ঈদের আবহ। ঈদের আগের রাতে রেডিও-টেলিভিশনে বেজে চলেছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সেই গান, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ…।’

ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করা হয় সাধারণত হিজরি বর্ষপঞ্জির চান্দ্র মাসের হিসাবে। সেই মোতাবেক এবার রমজান মাসের সিয়াম সাধনা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টীয় দিনপঞ্জির গত ১২ মার্চ মঙ্গলবার। ২৯ রমজান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসে। তবে ওই দিন বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে ৩০ রমজান পূর্ণ করে বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদ্যাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়।




সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন : প্রধানমন্ত্রী




চাঁদ রাতে জান্নাত ওয়াজিব হয় যেসব আমলে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পবিত্র মাহে রমজান শেষে যে রাত আগমন করে যাকে সহজে বুঝি আমরা চাঁদ রাত হিসেবে। এই রাতটি অত্যন্ত বরকতময় একটি রাত।

ঈদুল ফিতরের রাত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রাপ্তির রাত। এজন্য হাদিসে এই রাতকে পুরস্কারের রাত হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।

ফুকাহায়ে কেরামও দুই ঈদের রাতে জাগ্রত থাকাকে সুন্নত লিখেছেন। তাই এ রাতের বিশেষ কদর করা উচিত। এ রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম।

প্রথম ফজিলত: খোদার জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

এক. যিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, দুই. যিলহজ মাসের ৯ তারিখের রাত (আরাফার রাত), তিন. ঈদুল আজহার রাত, চার. ইদুল ফিতরের রাত এবং পাঁচ. ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি ২/৯৮, হাদিস : ১৬৫৬)।

দ্বিতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে কৃত দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাতসহ এ পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; সে রাতে তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেয়া হয় না। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭৯২৭)

তৃতীয় ফজিলত: ঈদের রাতে ইবাদতকারীর অন্তর কিয়ামতের দিন মরবে না। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াব প্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে যেদিন সকল হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৭৮২)।

অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে। (আল মুজামুল আওসাত ১/৫৭, হাদিস : ১৫৯)।

ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদতে মশগুল থাকা মুস্তাহাব। যেমন হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, রমজানের ব্যাপারে আমার উম্মতকে বিশেষভাবে পাঁচটি জিনিস দেয়া হয়েছে, যা পূর্বর্বী উম্মতগণ পায়নি। তন্মধ্যে একটি হল রমজানের শেষ রাতে রোজাদারদেরকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।

সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! ক্ষমার এই রাতটি শবে কদর নয় তো? নবীজি (সা.) বললেন, না, বরং শ্রমিকের কাজ শেষ হওয়ার পূর্বেই শ্রমের মজুরি দিয়ে দেয়া হয়। (মুসনাদে আহমদ)

উল্লেখিত হাদিসগুলোতে ঈদের রাতের যে সব ফজিলতের কথা বলা হয়েছে এগুলোর মধ্যে কোনটিতে বিশেষ কোনো ইবাদত করার কথা বলা হয়নি। তাই এই রাতে সাধ্যানুসারে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আযকার, ইস্তিগফার এবং দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা কর্তব্য।

বরকতময় এই রাতে অযথা কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘুরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ সময়মত জামাতের সঙ্গে আদায় করা। সঙ্গে অন্যান্য আমলগুলো করা। অন্যান্য আমলগুলো করা সম্ভব না হলেও অন্তত এশা এবং ফজরের নামাজের জামাত ঠিক রাখা।




আগামীকাল ঈদুল ‍ফিতর




ধুয়ে মুছে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত বরিশাল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ

বরিশাল অফিস :: সারাদেশের ন্যায় বরিশালের প্রতিটি জেলাতেই চলছে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি। এজন্য ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন করা সহ বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ও মুসল্লিদের সুষ্টমত নামাজ আদায় করার জন্য ত্রিপল দিয়ে বিশাল প্যান্ডেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বরিশাল নগরীর বান্দরোডস্থ কেন্দ্রীয় হেমায়েতউদ্দিন ঈদগাহ মাঠ। এখানে একসাথে ৫ হাজারের বেশি মুসল্লী জামাতে নামাজ আদায় করতে পারবেন। ঈদের দিন সকাল ৮ আটটায় এখানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন।

একই সময় বা কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে বরিশালের সাড়ে ৫শ মসজিদের প্রায় সবগুলোতেই সকাল ৮ থেকে সাড়ে ৯টা ও ১০টায় মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান। তবে সকাল ৮টায় প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগার্হ মাঠে। অন্যদিকে জামাত অনুষ্ঠিত হবে নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোডস্থ আঞ্জুমান ই হেমায়েত ইসলাম মাঠে, নগরীর পলাশপুরস্থ কাজীর গোরস্থান। প্রতি বছরের মতো এখানে বরিশাল সদর আসনের এমপি, (পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী) কর্নেল (অবঃ) জাহিদ ফারুক শামীম, প্রথমবারের মত সিটি মেয়র হিসাবে আবুল খায়ের (খোকন) সেরনিয়াবাত প্রধান ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করবেন। এছাড়া বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, শওকত আলী জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখানে নামাজ আদায় করবেন।

অপরদিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই পির দরবার ময়দানে সকাল ৮টায়, উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও নেছারাবাদ দরবার শরীফে সকাল আটট ও সাড়ে আটটায় টায় ঈদের সবচেয়ে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর জামে বায়তুল মোকাররম মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও জামে কসাই মসজিদে দুটি করে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবাদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত সকাল আটটায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে নয়টায়। জামে কসাই মসজিদে সকাল সাড়ে আটটা ও সকাল সাড়ে নয় টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণ আলেকান্দার খান বাড়ি জামে মসজিদ, সাগরদি ইসলামিয়া জামে মসজিদ, মল্লিক বাড়ি মসজিদসহ নগরীর প্রায় তিনশ ছোট বড় মসজিদে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ইমাম সমিতি বরিশাল জেলা সভাপতি মাওলানা কাজী আব্দুল মান্নান জানান, বরিশাল মহানগরীর সাড়ে পাঁচ’শ মসজিদের মধ্যে তিন শতাধিক মসজিদে ঈদের জামাত সকাল আটটা থেকে সকাল সাড়ে নয় টার মধ্যে শেষ হবে।




ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত পটুয়াখালীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ

 প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে একসঙ্গে ১৫ হাজার মুসুল্লির ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায়ের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জাসহ ইতিমধ্যে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পৌরসভা। মেয়র ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দফায় দফায় সকল কাজ তদারকি করছেন।

পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ জানান, ঈদের দিন বৈরি আবহাওয়া থাকলেও মুসুল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য ঈদগাহের প্যান্ডেলের উপরে এবং চারপাশে ত্রিপল দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত আলো, বাতাসের ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে। মুসুল্লিদের নিরাপত্তায় ঈদগাহের ভিতরে ও বাইরে বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : জাটকা সংরক্ষণ মৌসুমে ভিজিএফ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। এবারে ঈদগাহে যাতে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য ঈদগাহের বাইরেও প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষ যাতে ঈদের দিনে যানজট মুক্ত ভাবে চলাচল করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন রাস্তাকে ওয়ান ওয়ে করে দেয়া হচ্ছে। আনন্দ বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ব্যাবস্থা গ্রহণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বপরি পটুয়াখালী পৌর শহরের মানুষ এবার ভালোভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে।

এদিকে শহরের চরপাড়ায় জেলা প্রশাসক ঈদগাহ এবং মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার সংলগ্ন ঈদগাহে আরো দুটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জেলার বিভিন্ন ঈদগাহে ৫১১টি এবং বিভিন্ন মসজিদে ১৭৪১টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।




দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, বৃহস্পতিবার ঈদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের আকাশে কোথাও হিজরি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সে হিসাবে আগামীকাল বুধবার (১০ এপ্রিল) পবিত্র রমজান মাসের ৩০তম দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) পবিত্র ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।

অর্থাৎ শাওয়াল মাস শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল)। ওই দিনই দেশে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়।

সভায় ১৪৪৫ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৪ জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে, আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে পবিত্র শাওয়াল মাস গণনা শুরু হবে এবং ১ শাওয়াল বৃহস্পতিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।




ঈদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রমজান শেষ হয়ে এলো। দরজায় উপস্থিত ঈদ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। এই দিনে নানা রকম মজাদার খাবারের আয়োজন থাকবে না, তাই কি হয়! কিন্তু সারা মাস রোজা থাকার পরে হঠাৎ ঈদের দিন হরেক রকম মুখরোচক খাবার আমাদের পেট সহ্য না-ও করতে পারে। তাই ঈদের দিনটিতেও খেতে হবে একটু রয়েসয়ে। ঈদের আয়োজনে রাখতে পারেন স্বাস্থ্যকর এই খাবারগুলো-



সড়ক ট্রেন লঞ্চে ঈদযাত্রা: ঢল নেমেছে বাড়ির পথে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আপনজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ির পথে নগরবাসীর রাজধানী ছাড়ার ঢল নেমেছে। সড়ক-নৌ ও রেলপথ সবখানের বাড়িমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রী সংকটে ভোগা সদরঘাটের লঞ্চগুলোতেও তিল ধারণের ঠাঁই থাকছে না। গার্মেন্ট ছুটি হওয়ায় সড়কপথে গাড়ির চাপও অনেক বেড়েছে। রেলেও রয়েছে যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ। যদিও দুর্ভোগ উপেক্ষা করে আপন নীড়ে ছুটে চলা মানুষের মনে বইছে খুশির বন্যা। আপনজনদের সান্নিধ্য তাদের পথে ভোগান্তির সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।

সড়ক, রেল ও নৌপথে ঈদযাত্রার ভোগান্তি আজ আরও বেশি হতে পারে বলে শঙ্কা করা হয়েছে। যদিও হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তৎপর রয়েছে। তবে একসঙ্গে অনেক বেশি যাত্রী সড়কে নেমে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় মাঠে নেমেছে কমিউনিটি পুলিশ, রোবার স্কাউট, বিএনসিসি। তাদের সমন্বিত এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে ঈদযাত্রার দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব।

পদ্মা সেতুমুখো সড়কে স্বস্তিতে যানবাহন চলাচল : ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এবং পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়া যানবাহনগুলো তেমন ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘসারি তৈরি হয়েছিল। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পরে পর্যায়ক্রমে যানবাহনের ভিড় বাড়ে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায়। এরপর ধীরগতিতে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করেছে।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ৭টি টোল বুথে যানবাহনের টোল আদায় করা হচ্ছে। তবে মোটরসাইকেলের বাড়তি চাপ থাকায় আলাদা লেন তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ও ওভার ট্রাকিং বন্ধে স্পিডগানের মাধ্যমে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে হাইওয়ে পুলিশ।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার ম্যানেজার আহমেদ হক জানান, যেহেতু সরকারি-বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি গার্মেন্ট ছুটি হয়েছে। এজন্য সড়কে বিড়ম্বনা একটু হবে। তবে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পরিবহণগুলো পদ্মা সেতু অতিক্রম করে দ্রুতগতিতে। আজ সকাল থেকেই যানবাহনের বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এবার ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ভোগান্তি নিরসনে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষের।

লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় : সোমবার সদরঘাটের ঢাকা নদীবন্দরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। সেই সঙ্গে প্রায় লঞ্চেই অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ করতে দেখা গেছে। লঞ্চ টার্মিনাল, পন্টুনেও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। লঞ্চগুলোতে ছাদ ছাড়াও ডেকের বিভিন্ন স্থানেও যাত্রীরা অবস্থান নিয়েছে। অধিকাংশ কেবিন অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। বরিশালগামী লঞ্চগুলোতে ডেক যাত্রীদের ৫০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, ডাবল কেবিন ৩ হাজার টাকা ও ভিআইপি কেবিন ১ হাজার ২০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া চরফ্যাশন, বেতুয়া, হাতিয়া, আমতলী, বরগুনা ও ভোলা রুটেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬৫টি লঞ্চ বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। রাত ১২টা পর্যন্ত ১০৫টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এবার লঞ্চগুলোতে সুশৃঙ্খল পরিবেশে যাত্রীরা আরোহণ করেছে। ঘাটে যাত্রীদের নিয়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত টানাহেঁচড়া চোখে পড়েনি।