দুনিয়ার যেসব জিনিস জান্নাতে থাকবে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুনিয়ার নেতিবাচক বা অপ্রীতিকর যেসব বিষয় জান্নাতে থাকবে না-

কোনো দুঃখ-কষ্ট বা শোক : জান্নাতে কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক কষ্ট থাকবে না। তাই জান্নাতে কান্না, হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক অশান্তি থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিত হবে না। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৬২)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি অনুভব করবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৮)

মৃত্যু বা অস্তিত্বের সমাপ্তি : জান্নাতে মৃত্যু থাকবে না; জান্নাতিরা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাই দুনিয়ার মতো জান্নাতে মৃত্যুর ভয় বা অস্তিত্ব হারানোর চিন্তা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।(সুরা : বাইয়িনা, আয়াত : ৮)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে একটি ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতিরা, তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনো মরবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি বা শারীরিক দুর্বলতা : জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতে মাথা ব্যথা, জ্বর, বার্ধক্য বা কোনো শারীরিক অক্ষমতা থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধ হবে না, এবং চিরকাল তরুণ থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৫)।

মল-মূত্র বা অপবিত্রতা : জান্নাতে মানুষের শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস (যেমন—মল, মূত্র, ঘাম) বের হবে না।

জান্নাতে কোনো নোংরা বা অপ্রীতিকর গন্ধ থাকবে না; সব কিছু পবিত্র ও সুগন্ধময় হবে। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা খাবে, তা তাদের শরীর থেকে মেশকের মতো সুগন্ধি হিসেবে বের হবে।’

 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৫)

হিংসা, শত্রুতা বা মনোমালিন্য : জান্নাতিরা একে অপরের প্রতি হিংসা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। জান্নাতে কোনো মানুষের মধ্যে বিরোধ, কলহ বা মনোমালিন্য থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তাদের হৃদয় থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা ভাইয়ের মতো মুখোমুখি বসবে।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৭)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার মতো রূপ ধারণ করবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কোনোরূপ মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৬)

ক্লান্তি বা পরিশ্রম : জান্নাতে কোনো ক্লান্তি বা শ্রম থাকবে না। দুনিয়ার মতো কাজের চাপ, শ্রম, বা ক্লান্তি জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো পরিশ্রম অনুভব করবে না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৫)

অপূর্ণতা বা অভাব : জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। দুনিয়ার মতো অভাব, ক্ষুধা, বা অপূর্ণ ইচ্ছা জান্নাতে থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যা চাইবে, তাই পাবে, এবং আমার কাছে আরো বেশি আছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৩৫)।

হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা চাইবে, তা তৎক্ষণাৎ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০১)।

অশ্লীলতা বা অসৌজন্য : জান্নাতে কোনো অশ্লীল কথা বা আচরণ থাকবে না। জান্নাতে গালাগাল, অশ্লীলতা, বা অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শুনবে না, শুধু শান্তির কথা শুনবে।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৬২)।

গোপনীয়তার অভাব : জান্নাতে কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। সবাই নিজ নিজ গোপনীয়তা ও সম্মান উপভোগ করবে। দুনিয়ার মতো গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা হস্তক্ষেপ জান্নাতে থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা তাদের প্রাসাদে থাকবে, একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৯)

শয়তান বা প্রলোভন : জান্নাতে শয়তান বা তার প্ররোচনা থাকবে না। দুনিয়ার মতো শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা পাপের প্রলোভন জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান তাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪২)

গরম বা ঠাণ্ডার অস্বস্তি : জান্নাতে কোনো চরম আবহাওয়ার অস্বস্তি থাকবে না। জান্নাতে গরম, ঠাণ্ডা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে ছায়ার মধ্যে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় থাকবে।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ৪১-৪৩)

নিষিদ্ধ খাদ্য বা পানীয় : জান্নাতে হারাম খাদ্য বা পানীয় (যেমন—মদ, শূকরের মাংস) থাকবে না। তবে জান্নাতে হালাল ও পবিত্র পানীয় থাকবে, যা মদের মতো মনে হলেও হারাম নয়। জান্নাতে সব খাদ্য ও পানীয় পবিত্র, সুস্বাদু এবং হালাল হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে পবিত্র পানীয় পান করবে, যা তাদের মাতাল করবে না।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৪৫-৪৭)

অন্যায় বা জুলুম : জান্নাতে কোনো অন্যায়, জুলুম বা অবিচার থাকবে না। দুনিয়ার মতো শোষণ, অত্যাচার বা অবিচার জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জান্নাতে কোনো অবিচার করা হবে না।’ (সুরা : মারয়াম, আয়াত : ৬০)।

জান্নাত এমন একটি স্থান, যেখানে শুধু সুখ, শান্তি ও পবিত্রতা থাকবে। হাদিসে এসেছে : ‘জান্নাতে এমন জিনিস আছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হূদয় তা কল্পনা করেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৪)।




যে ১০ অভ্যাসে শিশুরা নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে

শিশুরা সমাজসেবা করার মাধ্যমে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলী অর্জন করতে পারে। এখানে ১০টি সমাজসেবা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে:

০১. টিফিন শেয়ার করা:

শিশুরা সহপাঠীদের সাথে টিফিন শেয়ার করলে দরিদ্রদের সাহায্য করে এবং অতিথি সেবার গুণাবলী অর্জন করে।

০২. অসুস্থ গুরুজনের সেবা করা:
অসুস্থ পরিবারের সদস্যদের সেবা করা শিশুদের মমত্ববোধ ও সহানুভূতির শিক্ষা দেয়।

০৩. পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা:
শিশুরা নিজেদের আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে তা সদকাস্বরূপ হয়ে যায়।

০৪. পড়ায় পিছিয়ে থাকা বন্ধুদের সাহায্য করা:
শিশুরা তাদের সহপাঠীদের পড়াশোনায় সাহায্য করলে সওয়াব অর্জন করে।

০৫. অন্যকে পানি পান করানো:
পানি পান করানো এক মহান সদকা, যা শিশুরা সমাজসেবায় অংশগ্রহণ হিসেবে করতে পারে।

০৬. ছোটদের প্রতি সদাচার করা:
শিশুরা তাদের ছোটদের সাহায্য করে নেক কাজের মধ্যে থাকবে।

০৭. প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার:
প্রতিবেশীদের সাথে ভালো সম্পর্ক বজায় রেখে, তাদের সাহায্য করা শিশুর জন্য সমাজসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

০৮. উপকারীর জন্য দোয়া করা:
যে কেউ তাদের উপকার করলে, তার জন্য দোয়া করে শিশুরা সওয়াব অর্জন করতে পারে।

০৯. প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া করা:
গৃহপালিত প্রাণী ও গাছের প্রতি সদয় আচরণ করা শিশুর জন্য সমাজসেবার আরেকটি বড় সুযোগ।

১০. হাসিমুখে কথা বলা:

শিশুরা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে।

এভাবে শিশুরা সমাজে ভালো কাজের মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী গড়ে তুলতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারে।




ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সেনাপ্রধান : ধর্মীয় ভেদাভেদ নয়, শান্তি ও সম্প্রীতি চাই

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্ম, জাতি বা গোষ্ঠীভেদে কোনো বিভেদ থাকবে না। দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান, এ দেশের ঐতিহ্যই হলো শান্তি ও সম্প্রীতির মধ্যে মিলেমিশে বসবাস করা।

শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান বলেন, “শত শত বছর ধরে এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি ও বাঙালি-উপজাতিসহ সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে। আমরা সেই ঐতিহ্য বজায় রাখবো।”

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। নিশ্চিন্তে ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদযাপন করুন। প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”

তিনি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং বলেন, “এই আদর্শের ভিত্তিতেই আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যাবো।”

নিজের বেড়ে ওঠার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, তিনি আজিমপুর-পলাশী এলাকায় বড় হয়েছেন, এ স্থান তার অনেক স্মৃতিবিজড়িত।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




হজযাত্রায় শারীরিক সক্ষমতা বাধ্যতামূলক: সরকারের নতুন নির্দেশনা

শারীরিকভাবে অক্ষম ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজে পাঠানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের হজের জন্য নিবন্ধন করাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত এ মেলায় হজ এজেন্সি ও হজ গমনেচ্ছুদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “অসুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের হজে নেওয়া হলে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।” এজন্য তিনি সিভিল সার্জনদের হজযাত্রীদের ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ প্রদানে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “২০২৫ সালের হজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী বছর আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল হজ আয়োজন করতে পারবো।”

হজ এজেন্সিগুলোর প্রতি সতর্ক বার্তা

ধর্ম উপদেষ্টা হজ এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “কিছু এজেন্সি হজযাত্রীদের ব্যাগে মাদকদ্রব্য বা সৌদি আরবে নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করায়। অনেকে দেশে ফেরার সময় হজযাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে সোনা নিয়ে আসে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।”

তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন ও যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হাবের সঙ্গে সম্পর্ক

হাবের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে হজযাত্রীদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।”

তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ ফেয়ারে মোট ১৫৪টি স্টল রয়েছে। হজ এজেন্সি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ হজসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা দিচ্ছে। মেলা শেষ হবে ১৬ আগস্ট বিকেলে।

অনুষ্ঠানে হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মসচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান ইব্রাহিম আবদুল্লাহ আল-আহমারী ও হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার।




বায়তুল মোকাররম মসজিদে সংস্কার: সৌন্দর্য বর্ধনে বরাদ্দ ১৯০ কোটি টাকা

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনে সরকার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ মিলনায়তনে শানে সাহাবা জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে ভেতরের সাজসজ্জা নবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মসজিদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শিগগিরই চূড়ান্ত করে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।

পরে রাজধানীর বারিধারায় আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অসহায় ও এতিম শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন ধর্ম উপদেষ্টা। এ সময় তিনি বলেন, সব ধর্মেই দান, সহানুভূতি ও মানবসেবাকে পবিত্র কর্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবসেবা সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে।

অনুষ্ঠানে সারাদেশের ৮১টি মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রতিনিধিদের হাতে মোট তিন কোটি ৭০ লাখ ২৮ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইমদাদুল মুসলিমিনের অর্থায়নে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিন জমির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (প্রকল্প-১) মো. আনোয়ার হোসেন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।




“বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগাতে পারে আ.লীগ ও ভারত : গয়েশ্বরের অভিযোগ”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ভারতের স্বার্থে দেশে একটি দাঙ্গা লাগানো হতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং নির্বাচন বানচাল করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সনাতনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব বিহারি-বাঙালি দাঙ্গা লাগিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পটু—দরকার হলে নিজের ঘরে আগুনও দেবে।”

গয়েশ্বর আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশে মুসলমান নয়, হিন্দুরাই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যেখানে যত মন্দির আছে, সবগুলোকে দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করে সীমানা চিহ্নিত করা উচিত।”

সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযুক্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, “শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব মীর সরাফত আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক।




জুমার নামাজ: জান্নাতের পথ খুলে দেয় যে সালাত

‘জুমা’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ একত্র হওয়া, সমবেত হওয়া বা কাতারবদ্ধ হওয়া। ইসলাম ধর্মে শুক্রবার বিশেষ তাৎপর্যের দিন। এই দিনে মুসলিম সমাজ মসজিদে একত্রিত হয়ে যে দুটি রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করে, তাকেই বলা হয় সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ। এটি কেবল একটি নামাজই নয়, বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির একটি অনন্য প্রতীক।

পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা রয়েছে—সুরা আল-জুমা (৬২ নম্বর সুরা)। এই সুরার ৯ নম্বর আয়াতে জুমার নামাজের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ পাওয়া যায়। আয়াতে বলা হয়েছে, “হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন সালাতের আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ করো। এটা তোমাদের জন্য অধিক উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।” এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট যে, জুমার নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং এটি একটি আল্লাহপ্রদত্ত সুযোগ—নিজেকে শুদ্ধ করার, গোনাহ থেকে মুক্তির এবং ঈমানকে জাগ্রত রাখার।

জুমার নামাজের আহ্বান (আযান) দেওয়ার পর সব ধরনের পার্থিব কাজ স্থগিত রেখে মুসলমানদের মসজিদে কাতারবন্দী হয়ে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ। একত্রিতভাবে নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে ইসলামে সামাজিক বন্ধন, সম্মিলিত ইবাদতের গুরুত্ব এবং আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ দৃশ্যমান হয়।

সুরা জুমার পরবর্তী আয়াত, আয়াত ১০-এ আল্লাহ বলেন, “আর যখন সালাত সম্পন্ন হয়, তখন তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হও।” এখানে বোঝা যায়, জুমার নামাজের মাধ্যমে আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের পাশাপাশি দুনিয়ার জীবিকা অন্বেষণের পথও উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। ইসলামে ইবাদত ও রুজি উপার্জন—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য বজায় রাখতে বলা হয়েছে।

জুমার দিনকে ইসলামে “সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন” বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমা। এই দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনেই তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়।” (সহিহ মুসলিম)

এই দিন বিশেষ কিছু আমল রয়েছে—গোসল করা, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, মিসওয়াক করা, আগেভাগে মসজিদে গিয়ে ইমামের খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ইত্যাদি। যারা এই নিয়মগুলো পালন করে জুমার নামাজ আদায় করে, তাদের জন্য মহান আল্লাহ অশেষ সওয়াবের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জুমার দিন এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, তা কবুল হয়—এই সময়ের সন্ধানে রসূল (সা.) আমাদের উৎসাহিত করেছেন। তাই মুসলমানদের উচিত এই দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া, নামাজসহ অন্যান্য ইবাদতে সময় ব্যয় করা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা।

আসুন, আমরা সবাই জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে আরও সচেতন হই এবং এই মহান ইবাদতের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করে তুলতে চেষ্টা করি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুর্ঘটনা ও বিপদ থেকে বাঁচার দোয়া: জীবন রক্ষার মহান হাতিয়ার

দোয়া হলো মুসলিমদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, যা অসম্ভবকেও সম্ভব করে তোলে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সূরা মুমিন: ৬০)।

দোয়া শব্দের অর্থ হলো আহ্বান, প্রার্থনা বা কিছু চাওয়া। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়া ছাড়া আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলানো সম্ভব নয়।’ (জামে তিরমিজি: ২১৩৯)। তাই ইসলাম জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার জন্য নানা দোয়া শিক্ষা দিয়েছে—খাওয়া-দাওয়া থেকে ঘুম, যাতায়াত পর্যন্ত।

হঠাৎ দুর্ঘটনা, বিপদ ও ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় কিছু নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার নির্দেশ রয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এই দোয়া নিয়মিত পড়তেন, যা নিচে উল্লেখ করা হলো—

দোয়ার আরবি ও উচ্চারণ:
اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ، وَمَالِيْ، اللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ، وَآمِنْ رَوْعَاتِيْ، اللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْ بَينِ يَدَيَّ، وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَمِيْنِيْ، وَعَنْ شِمَالِيْ، وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ

উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আফওয়া ওয়াল আফিয়াতা ফি দ্বীনী ওয়া দুনইয়াইয়া, ওয়া আহলি ওয়া মালি।
আল্লাহুম্মাসতুর আওরাতি ওয়া আমিন রাওআতি।
আল্লাহুম্মাহফাজনি মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফি ওয়া আন ইয়ামিনি ওয়া শিমালি ওয়া মিন ফাওকি।
ওয়া আউজু বিআজামাতিকা আন উগতালা মিন তাহতি।

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাই আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের জন্য।
হে আল্লাহ! আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করুন।
হে আল্লাহ! আমাকে সামনের, পেছনের, ডান, বাম ও ওপর থেকে রক্ষা করুন।
আপনার মহত্ত্বের আশ্রয়ে নিচ থেকে হঠাৎ আক্রমণ থেকে বাঁচান।

অন্য একটি দোয়া যা দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ, বন্যা, ডুবে যাওয়া, আগুন লাগা থেকে রক্ষা করে—

দোয়া উচ্চারণ:
اللّٰهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي وَالْهَدْمِ وَالْغَرْقِ وَالْحَرِيقِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِيَ الشَّيْطَانُ إِذَا الْمَوْتُ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِغَةً

অর্থ:
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘরচাপা পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া ও অগ্নিদগ্ধ হওয়া থেকে।
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শয়তানের ছোঁয়া থেকে।
আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার পথে পলায়ন অবস্থায় মারা যাওয়া থেকে এবং সাপের কামড় থেকে।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া নিয়মিত পড়তেন এবং এ দোয়ার মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত সব বিপদ থেকে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করতেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




হাদিসে যেসব সময় ঘুমাতে নিষেধ করা হয়েছে

ঘুম মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপার নেয়ামত। এটি যেমন শরীরের ক্লান্তি দূর করে, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও এনে দেয়। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ঘুমের গুরুত্ব ও সঠিক সময়ের প্রতি দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলাম ঘুমকে শুধু বিশ্রামের মাধ্যম হিসেবে দেখেনি, বরং এর নির্দিষ্ট সময় ও আচরণকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিছু সময় রয়েছে, যেসব সময়ে ঘুমাতে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বা তা অনুত্তম হিসেবে বিবেচিত।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের নিদ্রাকে করেছি ক্লান্তি দূরকারী।’ (সুরা নাবা : ৯)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘তিনি রাতকে করেছেন তোমাদের জন্য আবরণস্বরূপ, বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন নিদ্রা এবং দিনকে করেছেন জীবিকার অনুসন্ধানের সময়।’ (সুরা ফুরকান : ৪৭)। অর্থাৎ ইসলামে রাতে ঘুম এবং দিনে কাজের প্রতি জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে হাদিসে দিনের কিছু সময় ঘুম না দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে নির্দেশনা রয়েছে। চলুন জেনে নিই, হাদিস অনুযায়ী কোন সময়গুলোতে ঘুম না করাই উত্তম—

ফজরের নামাজের পর ঘুমাতে হাদিসে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। যদিও তা হারাম নয়, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সময়টিতে বরকতের দোয়া করেছেন:
“হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে সকালবেলায় বরকত দান করুন।” (সুনানে আবু দাউদ : ২৬০৬)
সকালের সময় কর্মমুখরতা, উৎপাদনশীলতা ও মানসিক সক্রিয়তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায়ও দেখা গেছে, সকালবেলা ঘুম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আসরের পর ঘুমানো
হাদিস অনুযায়ী, আসরের নামাজের পর ঘুমানোকে ‘মাকরুহ’ বলা হয়েছে। এই সময় ঘুমালে বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
একটি হাদিসে বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি আসরের পর ঘুমায় এবং তার বুদ্ধি কমে যায়, সে যেন নিজেকে দোষ দেয়।” (মুসনাদে আবি ইয়ালা : ৪৮৯৭)

মাগরিবের পর ও ইশার আগে ঘুমানো
এই সময় ঘুমানোকে হারাম বলা হয়নি, তবে এটি অনুত্তম বা অপছন্দনীয় বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। কারণ এই সময়ে ঘুমালে ইশার নামাজ আদায়ে সমস্যা হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইশার নামাজের আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে অহেতুক গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (সহিহ বুখারি : ৫১৪)
তবে যদি কারো বিশ্রামের প্রয়োজন হয় এবং ইশার নামাজে বিঘ্ন না ঘটে, তাহলে ঘুমাতে বাধা নেই।

ইসলামের দৃষ্টিতে ঘুম এক মহৎ ইবাদতের অংশ, তবে তা যেন দৈনন্দিন ইবাদত ও দায়িত্ব-কর্তব্যের পথে প্রতিবন্ধক না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৭৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ৭৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। হজ ব্যবস্থাপনার আওতায় ১৯০টি ফ্লাইটে এসব ধর্মপ্রাণ মুসল্লির প্রত্যাবর্তন সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্র মতে, রোববার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত দেশে ফেরা হাজির সংখ্যা ৭৩ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৫ হাজার ৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬২ হাজার ৮১৪ জন হাজি দেশে পৌঁছেছেন।

ফ্লাইট পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৩২ হাজার ৩৬২ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ২৬ হাজার ৬৮৩ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে ৮ হাজার ৭৭৬ জন হাজি দেশে ফিরে এসেছেন।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৮৫ হাজার ৩০২ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে গমন করেন। এদের মধ্যে প্রথম হজ ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে ছেড়ে যায় গত ২৯ এপ্রিল। এরপর এক মাসব্যাপী ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সকল হজযাত্রীকে সৌদি আরবে পৌঁছানো হয়।

তবে এবারের হজে মৃত্যুবরণ করেছেন ৪৪ জন বাংলাদেশি হাজি। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩৩ জন এবং নারী ১১ জন। মৃত্যুর স্থান অনুযায়ী মক্কায় ২৬ জন, মদিনায় ১৪ জন, জেদ্দায় ৩ জন এবং আরাফায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হজ ব্যবস্থাপনা ও যাত্রী পরিবহনে সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সফলভাবে হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম