সকল সম্প্রদায়ের পাশে আছে সরকার, তাদের কথা শোনা হবে: ধর্ম উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম ড. খালিদ হোসেন বলেছেন, দেশে কমসংখ্যক যেসব সম্প্রদায়ের লোকেরা রয়েছেন তাদের পাশে আছে তার সরকার। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হবে। আগামীকাল এসকল সম্প্রদায়ের সাথে প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকে তাদের কথা শোনা হবে।

সোমবার (১২ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে সভা শেষে তিনি ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন পুলিশ কাজে ফিরে এসেছে আর কোনো ঘটনা ঘটবে না। এসকল সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানাই। দুর্বৃত্তদের দ্বারা এই হামলার ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে সরকার।

উপদেষ্টা বলেন, সরকার সকল ধর্মের মতের সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে।

হামলাকারী দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। অসাম্প্রদায়িক দেশ সেটা বজায় রাখা হবে। আজ হটলাইন চালু হবে, কারও বাড়িতে হামলা হলে যেন জানায় পুলিশ সেখানে যাবে, ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, ইমাম সাহেবরা মসজিদে মসজিদে বয়ান করে অমুসলিমদের ওপর হামলা না করতে, তাদের পাশে থাকার ওপর বয়ান করেছেন।




হজের প্রাক-নিবন্ধন শুরু কাল

চন্দ্রদ্বীপ ইসলাম ডেস্ক :: আগামী বছরের হজের প্রাক-নিবন্ধন আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। আজ রবিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠেয় আগামী বছরের ২০২৫ (১৪৪৬ হিজরি) হজের প্রস্তুতিমূলক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১২ আগস্ট থেকে হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

প্রাক-নিবন্ধনের ভাউচারমূলে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজে গমনেচ্ছুরা এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংকে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধনের অনুরোধ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

হজের কোটা অনুযায়ী প্রতি বছর বাংলাদেশ হতে ১ লাখ ২৭ হাজার ২৯৮ জন মানুষ পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান।




পটুয়াখালীতে ৮ দফা দাবিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রী দেশ তাদের পরেই সারাদেশে বিজয় মিছিল করা হয়। এরপর পরপরই সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, লুট চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। এ হামলা ও লুট এর প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন করেছে সনাতনী ধর্মাবলম্বীরা।

সনাতনী নাগরিক ও ছাত্র জনতার ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রোববার (১১ আগষ্ট) সকাল ১২ টায় পটুয়াখালীর সার্কিট হাউজ সংলগ্ন ঝাউতলায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ৮ দফা দাবি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

এসময় বক্তারা বলেন সারাদেশে হিন্দুদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালনো হয়েছে এর প্রতিবাদে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি। হিন্দুদের উপর এসব নির্যাতনের যদি দ্রুত বিচার করা না হয় আমরা এ নিয়ে কঠোর আন্দোলন করবো। এ সময় হামলা ও লুটপাটের দ্রুত বিচারের দাবি জানায় তারা।




হিন্দুদের বাড়িঘর-মন্দিরে হামলা নিয়ে ব্যাপক প্রচার, রহস্য উন্মোচন করল বিবিসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে যে সহিংসতা চলেছিল, তার মধ্যেই এমন বহু ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে দাবি করা হয় বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক অত্যাচার শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একটি বিশেষ কমিটি গড়েছে ভারত সরকার। আবার বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় রোববার থেকে হটলাইন চালু করতে চাইছে সেদেশের সরকার।

তবে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে ‘ব্যাপক অত্যাচার’ হচ্ছে বলে যেসব ভুয়া পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার বেশিরভাগই ভারতীয় বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল বলে ফ্যাক্ট-চেকাররা নিশ্চিত করেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকেও এ ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছিল সামাজিক মাধ্যমে, এমনটাও ফ্যাক্ট-চেকাররা বলছেন।

তারা এটাও বলছেন যে, নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে কিছু আক্রমণ হয়েছে, বাড়িঘর জ্বালানো হয়েছে। কিন্তু তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেছে, মুসলমানদের বাড়িঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে, জ্বালানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে আক্রমণকারীদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর, সম্পত্তি। ধর্মীয় পরিচয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গৌণ ছিল, তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্যই তারা আক্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী লীগের যেসব স্থানীয় নেতা-কর্মী পালিয়ে ভারতে চলে এসেছেন অথবা আসার চেষ্টা করছেন, তারাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যে হিন্দু আর মুসলমান– উভয় সম্প্রদায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের বাড়িতেই হামলা হয়েছে।

কিন্তু ভারত থেকে সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট- বিষয়টিকে রাজনৈতিক না রেখে সাম্প্রদায়িক রঙ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন একাধিক ফ্যাক্ট চেকার।

বিবিসির তথ্য যাচাইয়ের বিভাগ, ‘বিবিসি ভেরিফাই’-ও একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

মন্দির পাহারায় মইনুল: হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ হয়েছে বলে যে ধরনের পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, তার কয়েকটি চোখে পড়েছিল চট্টগ্রামের এক বিক্ষোভকারী মইনুলের।

বিবিসির তথ্য যাচাই বিভাগ ‘বিবিসি ভেরিফাই’ যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তিনি সেসময়ে চট্টগ্রাম লাগোয়া ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’ পাহারা দিচ্ছিলেন।

তার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা।

মইনুল বলেন, ‘তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব তো আমাদের। আমরা সব সরকারি স্থাপনা, মন্দির, গির্জা– সব কিছুই রক্ষা করব।’

তার কথায়, যেসব পোস্ট ছড়াচ্ছে, সেগুলো কিন্তু ‘আমাদের চোখে দেখা বাস্তব ছবির সঙ্গে মিলছে না। ওই সব পোস্ট বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ সম্বন্ধে একটা ভুল ছবি তুলে ধরছে।’

বিক্ষোভকারীদের ওপরে ব্যাপক নির্যাতন ও হত্যা শেষে যখন শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালালেন, বিক্ষোভকারী ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠা খুব আশ্চর্যের কিছু ছিল না।

অন্যদিকে, থানাগুলিতে আক্রমণ হওয়ার ফলে পুলিশ ছিল না পুরো বাংলাদেশেই। এই সময়েই সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘরে লুট চলে, সহিংসতা শুরু হয়।

তবে বাস্তবে দেখা গেছে, যে সাধারণ নাগরিকদের বাড়িতেও লুট চলেছে, তাদেরও কেউ কেউ সহিংসতার শিকার হয়েছেন। ‘বিবিসি ভেরিফাই’ মনে করছে, ব্যাপক সহিংসতার ফলেই সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

ভারত থেকে ছড়ানো হয় ভুয়া খবর: চারদিকে যখন একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছিল, সেই সময়ে ভারতের অতি-দক্ষিণ-পন্থি ‘ইনফ্লুয়েন্সর’রা সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও শেয়ার করতে থাকেন, যাতে মনে হয় যে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার হচ্ছে।

এ ছাড়া এরকম গুজবও ছড়ানো হয় যে ছাত্র-বিক্ষোভকারীরা ‘ইসলামি কট্টরপন্থি’।

সামাজিক মাধ্যমের ওপরে নজর রাখে ‘ব্র্যান্ডওয়াচ’ অ্যাপ। তারা খুঁজে পেয়েছে যে, ৪ আগস্টের পর থেকে ভুয়া কাহিনীগুলি ছড়ানো হয়েছে এমন একটি হ্যাশট্যাগ দিয়ে, যেটি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) সাত লক্ষ বার মেনশন হয়েছে।

যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে ট্রেন্ডিং পোস্টগুলি করা হয়েছিল, তার প্রায় সবই ভারতে অবস্থান করছে, এমনটাও জানা গেছে ‘ব্র্যাণ্ডওয়াচ’ থেকে।

বাংলাদেশ-ভিত্তিক ফ্যাক্ট-চেকাররাও গত কদিনের সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণ করে অনেকটা একইরকম তথ্য পেয়েছেন যে, মূলত ভারতের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকেই হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ বা ইউল্যাবের অনুমোদনপ্রাপ্ত স্বাধীন তথ্য যাচাই করার উদ্যোগ ‘ফ্যাক্ট ওয়াচ’এর প্রধান, অধ্যাপক সুমন রহমান বলছিলেন, ‘কিছু ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, যেখানে হিন্দুদের বাড়ি আক্রমণ করা হয়েছে। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ওই ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি।’

‘কিন্তু এমন একটা আখ্যান তৈরি করা হয়েছে, যাতে মনে হচ্ছে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হচ্ছে। এটা একেবারেই ভুল আখ্যান ছড়ানো হয়েছে। যেসব অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেগুলির বেশিরভাগই ভারতের,’ বলেন তিনি।

আবার ঢাকার ফ্যাক্ট চেকার রিদওয়ানুল ইসলাম বলছিলেন ভারতীয় অ্যাকাউন্টগুলি থেকেই বেশিরভাগ ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে।

‘তবে বাংলাদেশের ভেতর থেকেও হিন্দুদের ওপরে আক্রমণের ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে আমাদের অনুসন্ধানে জানতে পারছি।’

হিন্দুদের বাড়ি, মন্দির ‘জ্বালানো’র ভুয়া খবর: সামাজিক মাধ্যমে একটা পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল, যাতে দাবি করা হয়েছিল যে ‘হিন্দু ক্রিকেটার’ লিটন দাসের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্য অনেক অ্যাকাউন্ট থেকে সেই পোস্ট শেয়ার করে লেখা হয় যে, কট্টর ইসলামপন্থিরা তার বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।

কিন্তু যে বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, সেটা যে আসলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার, তা এখন সবার জানা।

আরেকটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ‘বাংলাদেশের ইসলামি জনতা’ একটা মন্দিরে আক্রমণ করেছে।

চট্টগ্রামের ‘নবগ্রহ মন্দির’এর কাছে আগুন লাগানোর ভিডিও ছড়ানো হয়েছিল। তবে দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে মন্দিরে আগুন লাগেনি।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের কাছে ছবি এসেছে যে, ওই মন্দিরের কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে ওই মন্দিরের পিছনে আওয়ামী লীগের একটি কার্যালয়ই আসল লক্ষ্য ছিল বলে মনে হয়েছে।

মন্দিরের কর্মকর্তা স্বপন দাস বিবিসিকে জানিয়েছেন, ওই দলীয় কার্যালয় থেকে চেয়ার-টেবিল বার করে আগুন লাগানো হয়েছিল মন্দিরটির পিছন দিকে। এ ঘটনা ৫ আগস্ট দুপুরের।

অগ্নিকাণ্ডের পরের কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগ নেতাদের ছবিসহ বেশ কিছু পোস্টারও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টাই মন্দিরে পাহারা দিচ্ছেন মানুষ।

লক্ষ্য আওয়ামী লীগ, হিন্দুরা নয়: আরও দুটি ভাইরাল হওয়া পোস্টে দেখা গেছে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে হিন্দুদের ওপরে আক্রমণ হয়েছে। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেছে যাদের ওপরে আক্রমণ করা হয়েছিল, তারা আসলে আওয়ামী লীগের নেতা এবং তারা মুসলমান।

এইসব পোস্টই ভারতীয় দক্ষিণ-পন্থি অ্যাকাউন্টগুলো থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ‘সেভবাংলাদেশীহিন্দু’ হ্যাশট্যাগ দিয়ে সেসব শেয়ার করা হয় হিন্দুত্ববাদীদের ‘ভেরিফায়েড’ অ্যাকাউন্ট থেকে।

সম্প্রতি আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ‘ইসলামি জনতা’ হিন্দুদের গ্রাম আক্রমণ করেছে এবং একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী পুকুরে সাঁতার কেটে পালানোর চেষ্টা করছে। ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকাররাই খুঁজে বার করেছেন যে ওই ব্যক্তি মুসলমান।

ফ্যাক্ট-চেকার রিদওয়ানুল ইসলামের কথায়, ‘শুধু যে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নয়। কয়েকটি টিভি চ্যানেল এবং পোর্টালও সামাজিক মাধ্যমের ওই সব গুজবের ওপরে ভিত্তি করে সংবাদ প্রতিবেদন পর্যন্ত বানিয়ে ফেলেছে।’

দুই সরকার যা ব্যবস্থা নিচ্ছে: বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপরে ব্যাপক আক্রমণ হচ্ছে, এই তথ্যের প্রেক্ষিতে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন, যারা বাংলাদেশে ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবেন।

ওই কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসএফের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক রভি গান্ধীকে। অন্য সদস্যরা হলেন- বিএসএফের দক্ষিণ বঙ্গ এবং ত্রিপুরা সীমান্ত অঞ্চলের দুই আইজি এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির দুই প্রতিনিধি।

অমিত শাহ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, বাংলাদেশের হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু এবং সেদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিশেষ কমিটি গড়ল ভারত সরকার। এই কমিটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে- যাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক, হিন্দু এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে। বিএসএফের পূর্ব কমান্ডের এডিজি এই কমিটির প্রধান হবেন।

ওই কমিটির একজন সদস্য বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেরকম টুইটে লিখেছেন, বাংলাদেশে কেউ সমস্যায় আছেন, এরকম খবর পেলে আমরা সেদেশে আমাদের কাউন্টারপার্ট, অর্থাৎ বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা মেটানোর কাজ করব।

যেরকম শুক্রবার একটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল কোচবিহারের শিতলখুচিতে। বাংলাদেশের দিকে বহু মানুষ ভারতে প্রবেশ করতে চেয়ে সীমান্তের অপর পাড়ে জড়ো হয়েছিলেন। আমরা বিজিবির সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। শনিবার কিন্তু এভাবে কেউ জড়ো হয়নি।

আবার বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও হিন্দুদের সহায়তার জন্য রোববার থেকে একটা হটলাইন চালু করছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে শনিবার এ কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

তিনি বলেন, কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনও হামলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে হটলাইনে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

‘ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘর, উপাসনালয়ে হামলার খবর আসছে’ মন্তব্য করে হোসেন বলেন, সরকারকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চলছে।

আমরা ফাঁদে পা দেব না: চট্টগ্রামের ‘শ্রী শ্রী সীতা কালী মাতা মন্দির’-এর বাইরে মুসলমান আর হিন্দু ছাত্ররা কথা বলছিলেন সম্প্রীতি নিয়ে, ভবিষ্যৎ নিয়ে।

‘এই সব গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি করা,’ বলছিলেন মইনুল।

‘তবে আমরা ফাঁদে পা দেব না’,  জানালেন তিনি।

এলাকার আরেক বাসিন্দা ছোটন নিয়মিত ওই মন্দিরটিতে যান। তিনি তার মুসলমান পড়শিদের ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন।

‘তাদের ধন্যবাদ। যতক্ষণ না এই কঠিন সময়টা আমরা পার করতে পারছি, ততক্ষণ যেন তারা এভাবেই পাশে থাকেন। স্বাধীন বাংলাদেশে ভবিষ্যতেও যেন আমরা এভাবেই একসঙ্গে কাটাতে পারি’, বললেন ছোটন।




আল-জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার, ‘আতংক ছড়াচ্ছে’ ভারতের গণমাধ্যম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর প্রচার শুরু করে।

সেসব খবরে বলা হয়, ‘ইসলামপন্থি নানা বাহিনী’ সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভারতের বেশকিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ‘আতঙ্ক ছড়ানো’ বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সংবাদ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

সম্প্রতি টাইমস গ্রুপের মালিকানাধীন মিরর নাও–এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ কর হয়। যেটির শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা? উত্তেজিত জনতার গণহত্যা, হত্যা’। ওই ভিডিওতে সহিংসতা এবং চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চিত্র দেখানো হয়। তবে আগুন দেওয়া চারটি বাড়ির মধ্যে দুটির মালিক আবার মুসলিম।

এ বিষয়ে আল–জাজিরার খবরে দাবি করে বলা হয়েছে, ভিডিওটির শিরোনাম পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। ওই সব ঘটনায় কোনো ধরনের গণহত্যা হয়নি। কোনো রকম প্রমাণ না দিয়েই চ্যানেলটির ওই ভিডিওতে আরও কিছু দাবি করা হয়। যেমন- ‘উত্তেজিত জনতা ২৪ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে’, ‘হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা’। আসলে ভিডিওতে যে চারটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখা হয়েছে দাবি করে আল–জাজিরা বলেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের দিন দুজন হিন্দু নিহত হয়েছেন। তাদের একজন পুলিশ সদস্য এবং অপরজন হাসিনার দল আওয়ামী লীগের এক কর্মী।

এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ ধরনের দাবিও করা হয়, ‘শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে এক কোটির বেশি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে।’

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ ধরনের একটি খবর প্রকাশ করে।

ভারতের সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এএনআই ভারতের একজন ছাত্রনেতার বরাত দিয়ে বলেছে, প্রতিবেশি দেশের এই গণ–আন্দোলন ‘বাংলাদেশের শত্রুদের সাজানো চক্রান্ত’।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ বিষয়টি আরও স্পস্টভাবে তুলে ধরে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে’ এ আন্দোলন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর পরিবেশন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর-রহমান আল–জাজিরাকে বলেন, ওই সংবাদগুলো মূলত ‘ইসলামভীতির দৃষ্টিকোণ’ থেকে পরিবেশন করা হয়েছে।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একসময় গণ–আন্দোলনে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো কোথাও না কোথাও পুরো বিষয়টিকে তাদের ‘ইসলামভীতির চোখ’ দিয়ে ব্যাখ্যা করছে।’

এদিকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ করে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশের এ বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছে। কারণ তারা চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসুক এবং দেশটি একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হোক।

এমনকি কয়েকটি গণমাধ্যমে ভারত সরকারকে সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতেও পরামর্শ দেওয়া হয়। দাবি করে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস–এর কূটনীতিবিষয়ক সম্পাদক দীপাঞ্জন আর চৌধুরী তার এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় হওয়াটা না সে দেশের জন্য ভালো হবে, না ভারতের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত সীমান্তে সন্ত্রাসকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে…।’

গুজরাটের টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল টিভি-নাইন বাংলাদেশের গণবিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান’ বলেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স–এ তাদের ১০ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে, ‘বাংলাদেশে এ অভ্যুত্থানের পেছনে কি আইএসআই? সহিংস হামলার পেছনে কি জামায়াতে ইসলামী?’

তবে বাংলাদেশের আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো যেভাবে খবর প্রকাশ করেছে, তা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন (৫ আগস্ট) রাতে দেশটির ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ২০টি জেলায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে।

যেসব জেলায় এ হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আল–জাজিরার প্রতিনিধিরা সেসব জেলার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, ‘ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ওই সব বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।’

অন্যদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং গুজব ছড়িয়ে চলেছেন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর। তিনি বলেন, তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হওয়ার দাবি করছেন। বলছেন আইএসআই এর পেছনে রয়েছে।




আজ হেফাজতের গণসমাবেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নৈরাজ্য প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গণসমাবেশ করবে হেফাজত

আজ (শনিবার) বিকেল ৩টায় এ গণসমাবেশ করবে হেফাজত। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দিনগত রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।

তিনি জানান, দেশে চলমান নৈরাজ্য প্রতিরোধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে শনিবার বিকেল ৩ টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকবেন। এতে দেশের ধর্মপ্রাণ জনতা ও আলেম-ওলামাদের অংশ নেয়ার জন্য তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।




দেশের প্রথম আলেম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন যা বললেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আলেম উপদেষ্টা।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালিদ হোসেন বলেন, আমরা একটি ক্রান্তিকাল পেরিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময় আমাদের মূল কাজ শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও বজায় রাখা। মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে তা নিরসন করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন আমরা সুস্থ প্রতিনিধিত্বশীল নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারি। মানুষের মধ্যে যেন স্বস্তি ফিরে আসে প্রথমে এ নিয়ে আমরা কাজ করব। বাকি কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে করব।

আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামি অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয়। তার মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন।

সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত খালিদ হোসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত তাওহিদের সম্পাদক, বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

এ ছাড়া তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং নেজামে ইসলাম পার্টির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বিশ্ব মুসলীম লীগের মুখপাত্র দ্য ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ জার্নালসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার দুই শতাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে খালিদ হোসেনের শিক্ষাজীবন শুরু। এখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে সাতকানিয়া আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ১৯৭৩ সালে ফাজিল পাস করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম চন্দনপুরা দারুল উলুমে হাদিস অধ্যয়ন করেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে এমএ পাশ করেন। পরে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খুতবা : একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’র ওপর পিএইচডি করেন খালিদ হোসেন।




মসজিদে ঘোষণা দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: শায়খ আহমাদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সারাদেশের বেশ কয়েক জায়গায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় এবার মুখ খুললেন ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৫ আগস্ট) রাতে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে এমন আহ্বান জানান তিনি। জনপ্রিয় এই ইসলামি আলোচক জানান, আনন্দে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করা যাবে না। কেউ যাতে আইন হাতে তুলে না নেয় সেই নির্দেশনাও দেন তিনি।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতিশোধের নেশায় মত্ত না হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। লুটপাট ও ভাঙচুর করবেন না। সবাই সংযত আচরণ করি। পরিবেশটা নষ্ট করলে ক্ষতি আমাদেরই।




দুনিয়ায় মুমিনের জীবন যেমন হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দুনিয়া স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা নয়। এটি মুসাফিরখানাসদৃশ। যেখানে মুসাফিররা আসবে-যাবে, কিন্তু কেউ স্থায়ীভাবে থাকবে না। অথবা পথচারীদের জন্য ক্লান্তি দূরকারী সাময়িক বিশ্রামের জায়গা মাত্র।

বিশ্রাম শেষে তারা আপন গন্তব্যে ছুটে যাবে। এই মর্মে নিম্নোক্ত হাদিস প্রণিধানযোগ্য।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার আমার কাঁধ ধরেন, অতঃপর বলেন, (হে আবদুল্লাহ!) তুমি দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা একজন পথযাত্রীর মতো অবস্থান করবে। (এই উপদেশ শ্রবণের পর থেকে) ইবনু ওমর (রা.) বলতেন, ‘তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা কোরো না (অর্থাৎ সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা কোরো না) এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না।

মুসাফির বা পথযাত্রী যেমন কোনো জায়গায় স্থায়ী হয় না, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গন্তব্যপানে ছুটে চলে, ঠিক তেমনি দুনিয়ার এই বিশ্রামাগারেও আমরা কিছু সময়ের জন্য অবস্থানের পর আমাদের আসল গন্তব্য আখিরাতে ফিরে যাব। এটাই মহান স্রষ্টার সৃষ্টিবিধি। অন্য বর্ণনায় মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার শরীরের কোনো অংশ ধরে বলেন, দুনিয়ায় এমনভাবে বসবাস করবে যেন তুমি একজন মুসাফির অথবা পথযাত্রী। আর নিজেকে তুমি কবরবাসীদের মধ্যে গণ্য করবে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৪২৫৩)

অর্থাৎ তুমি মূলত কবরের বাসিন্দা। দুনিয়ায় তোমাকে পাঠানো হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য। এখন তুমি ভূপৃষ্ঠে আছো, নির্ধারিত সময়ের পরে তোমাকে ভূগর্ভে চলে যেতে হবে। এখন তুমি মানুষ, রুহ বের হয়ে গেলে তুমি হয়ে যাবে ‘লাশ’।

তখন তোমাকে আর কেউ নাম ধরে ডাকবে না বা মানুষ বলেও পরিচয় দেবে না। তখন তোমার একটাই পরিচয় হবে ‘লাশ’।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক দিন একটি খালি চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠলে দেখা গেল তাঁর শরীরে চাটাইয়ের দাগ লেগে গেছে। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) এ দৃশ্য দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমীপে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! যদি আপনি আমাদের নির্দেশ দিতেন তবে আমরা আপনার জন্য একখানা বিছানা তৈরি করে বিছিয়ে দিতাম। (এ কথা শুনে) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, দুনিয়ার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? আমার ও দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো হলো একজন ওই আরোহীর মতো, যে একটি গাছের ছায়ায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নেয়, অতঃপর গাছটিকে ছেড়ে চলে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)

অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আমার ও দুনিয়ার উদাহরণ হলো কোনো মুসাফির গরমের দিনে চলতে চলতে কোনো একটি বৃক্ষের ছায়াতলে দিনের কিছু সময় বিশ্রাম নিল, তারপর তা ছেড়ে চলে গেল। ’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৭৯৬




ফজরের নামাজ আদায়কারীর ৮ পুরস্কার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নামাজের মধ্যে যেমন ফজরের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব, তেমনি সময়ের মধ্যে ফজরের সময়ের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

হাদিসে ফজরের নামাজের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭)

অন্য হাদিসে ফজরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

নিম্নে ফজরের নামাজ পড়ার ৮ পুরস্কার…

১. ফজরের নামাজে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান। ‘যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়লো। ’ (মুসলিম শরিফ)

২. ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। ’ (মুসলিম)

৩. ফজরের নামায কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দিবে – ‘যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও। ’ (আবু দাউদ)

৪. সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি – ‘যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামাজ) পড়বে, জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামাজ) হলো ফজর ও আসর। ’ (বুখারী)

৫. রিজিকে বরকত আসবে – আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন, সকাল বেলার ঘুম ঘরে রিজিক আসতে বাঁধা দেয়। কেননা তখন রিজিক বন্টন করা হয়।

৬. ফজরের নামাজ পড়লে, দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে – ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ’ (তিরিমিযি)

৭. সরাসরি মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে – ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদেরকে নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল। ’ (বুখারি)

৮. ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে, পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন- ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্যে, তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন। ’ (তিরমিযী)