রাঙ্গাবালীতে জশনে জুলুছের শোভাযাত্রা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জশনে জুলুছের শোভাযাত্রা ও দোয়া মাহফিল করেছে জাঁহাগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা।

শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশুরীবুনিয়া গ্রামে অবস্থিত দরবার শরীফের খানকা থেকে বড় জুলুশ বের করা হয়। পরে জুলুশটি খালগোড়া বাজার ও রাজার বাজার প্রদক্ষিণ করে জাঁহাগিয়া শাহসূফি মমতাজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এসে শেষ হয়।

ব্যানার, ফেস্টুন ও কলেমা খচিত পতাকা নিয়ে জুলুছে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ ও মমতাজিয়া দরবারের ভক্ত, মুরিদ, আশেকান।

দরবারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, জেলার মধ্যে সর্ববৃহৎ জশনে জুলুস এটি। শোভাযাত্রা শেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে বক্তারা বলেন, মহান আল্লাহ ইসলামকে রাসূল করিম (সঃ) এর মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিপূর্ণ ধর্ম হিসেবে পৌঁছে দিয়েছেন। মানবতার মুক্তির জন্য রাসূল (সঃ) অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।

পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফ চর্চার মাধ্যমে দ্বীন ইসলামকে ধরে রাখার জন্য তিনি আমাদের কাছে রেখে গেছেন। রবিউল আউয়াল মাস ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সঃ) পালনের মাধ্যমে দ্বীন ইসলামের অনুসারীদের আলোকিত জীবনের অধিকারী হতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, প্রিয় নবীজির (সা.) শুভাগমনে আল্লাহপাক ফেরেশতাদের নিয়ে ঊর্ধ্বাকাশে জুলুছ করেছিলেন, যা কোরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এ ছাড়াও এটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, এ জুলুছ নতুন কিছু নয়। দিন দিন জুলুছে লোক সমাগম বাড়ছে, এটা নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিন উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ইমরান হাসান ফরিদ মৃধা, মাওলানা আনোয়ার হোসেন শাহীন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম, মাওলানা মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।




পটুয়াখালীতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা এবং সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে গণসমাবেশ করেছে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ।

শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পটুয়াখালী চৌরাস্তায় একটি খোলা মাঠে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামি সমাজভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

পটুয়াখালী সদর উপজেলা ও পৌর ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মুফতি মো. হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহা. নজরুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি মাওলানা মুহা. কাজী গোলাম সরোয়ার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা দুর্নীতিবাজদের গ্রেফতার ও অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের দাবির পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেন। তারা দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির জন্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।




গলাচিপায় জামায়াত ইসলামীকে সমর্থন জানিয়ে সদস্য হলেন মন্দিরের সেবক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয়। পটুয়াখালীর গলাচিপায় সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বুধবার সন্ধ্যায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের সিপাইর হাট সংলগ্ন শ্রী নাগমাতা সেভা শ্রম ও মা মনষা মন্দিরের আঙিনায় মতবিনিময় সভাটি হয়।

সভায় আগামী রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন জানিয়ে ফরম পূরণ করে মন্দিরের সেবক ও সাধক শ্রী আচার্য গোবিন্দ গোস্বামী সহযোগী সদস্য হন।

এছাড়াও সাত থেকে আট জন সহযোগী সদস্য হওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

মতবিনিময় সভায় আমখোলা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ হুমায়ুন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. শাহ আলম।

তিনি বলেন, হিন্দু মুসলিম ভেদাভেদ নয়। ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশজুড়ে সার্বিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে দেশে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন, পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা মো. শহীদুল ইসলাম আল কায়ছারী, গলাচিপা উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক মাওলানা ইয়াহিয়া খান, গলাচিপা উপজেলা জামায়াতে আমির ডাক্তার মাওলানা মো. জাকির হোসেন ও সেক্রেটারি মো. শামীম হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, শ্রী আচার্য গোবিন্দ গোস্বামী। তিনি বলেন, আমাদের যে ভুল ধারণা ও ভয় ছিল সেটি আর নাই। আমরা মনে করি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শান্তিতে থাকবে।

উপজেলা জামায়াতে আমির ডাক্তার মাওলানা মো. জাকির হোসেন জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ।

সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের যে ভুল ধারনা, ভয় ও আতংক ছিলো তা দূর হয়েছে। ফলে অনেক লোক জামায়াতের সমর্থক ও সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে শুরু করেছে।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।




ওমরাহ যাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম কমাল বিমান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ওমরাহ যাত্রীদের জন্য টিকিটের মূল্য কমিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ ছাড়া যাত্রীদের টিকিটপ্রাপ্তি সহজলভ্য করতে সকল বুকিং ক্লাস বা রিজার্ভেশন বুকিং ডেজিগনেটর (আরবিডি) উন্মুক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওমরাহ যাত্রীদের জন্য বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা ও মদিনা রুটে টিকিটের মূল্য কমানো হয়েছে। একইসঙ্গে টিকিটপ্রাপ্তি সহজলভ্য করতে সকল বুকিং ক্লাস বা আরবিডি উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ওমরাহ’র জন্য দুটি নির্দিষ্ট ফেয়ার ক্লাস বা আরবিডি ব্যবহার করা হতো। সকল বুকিং ক্লাস উন্মুক্ত হওয়ায় ওমরাহ যাত্রীগণ সাধারণ যাত্রীদের ন্যায় যেকোনো আরবিডিতে ওমরাহ টিকিট কিনতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যে সকল ওমরাহ যাত্রী আগে টিকিট ক্রয় করবেন তাঁরা সর্বনিম্ন ভাড়ার সুবিধা পাবেন। আর যে সকল যাত্রী ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে মদিনায় গমন করবেন তাদের জন্য আকর্ষণীয় মূল্য ছাড় দেওয়া হবে।




বাউফলে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা মুলক অনুষ্ঠান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগীতা মুলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে নবীজীর জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন, কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করীম, মাওলানা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. মহিবুল্লাহ্, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. সিরাজুল ইসলাম, অভিবাবক মো. জাহাঙ্গীর চৌকিদার, মো. হাবিবুর রহমান সবুজ।

সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করীম বলেন, প্রধান শিক্ষক ফেরদৌশ শিরিন ছুটিতে থাকায় তার নির্দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হাম-নাদ ও নবীজীর জীবন দর্শন নিয়ে উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠতি হয়।




পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ




আমি কখনো হিজবুত তাহরির-শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না : মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ইকোনমিক টাইমস-এর এক সাংবাদিক আমার হিযবুত তাহরীরের সাথে মিথ্যা সম্পৃক্ততা নিয়ে লিখেছেন, যা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ভারতীয় রাষ্ট্রের ন্যারেটিভে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে।
আমি আগে যেমন, এখনও তেমন হিযবুত তাহরীরের মতাদর্শের বিরুদ্ধে এবং যেকোনো অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই আছি।

আমি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথেও জড়িত ছিলাম না। আমি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে তারা আমাকে তাদের প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মতাদর্শ আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি।

আমি জামায়াতে ইসলামকে অনুসরণ করি নি এবং এখনও করি না। সেই কারণে আমি তামিরুল মিল্লাত বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য শিবিরকর্মীদের মতো কোনো সুবিধা বা অধিকার পাইনি। বরং আমাকে ক্যাম্পাসে ইসলামোফোবিয়া এবং শিবির ট্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।

আমাকে বেছে নিতে হয়েছে নির্জন পথ— মুজিববাদ, ইসলামোফোবিয়া এবং ইসলামী মতাদর্শের বিরুদ্ধে, বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষার অভিমুখে। পরে আমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অধ্যয়ন চক্রের সাথে জড়িত হয়ে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আমার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা গ্রহণ করি।

আমি মাস্টারমাইন্ড ছিলাম না। তবে নয় দফাসহ ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমার সাথে পরামর্শ করে এবং আমার ‘অনুমোদন’ক্রমে। গত পাঁচ বছরে প্রায় সব প্রোগ্রাম ও ন্যারেটিভ আমার হাত দিয়েই লেখা হয়েছে। সবই আপনার জানতে পারবেন যদি আমি বা আমার সঙ্গীরা বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো পার করতে পারি। দোয়া করবেন যেন আমরা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারি অথবা শহীদ হতে পারি।

আমি একজন বিশ্বাসী এবং বাঙালি মুসলমান। আমি ইসলামী বা সেক্যুলার কোনো মতাদর্শকেই সমর্থন করি না। আমি এই অঞ্চলে  সভ্যতাগতভাবে পরিবর্তিত একটি রাষ্ট্র ও সমাজের রূপকল্প পোষণ করি, যা গড়ে উঠবে দায় ও দরদের আদর্শের ভিত্তিতে। নির্যাতিত জনগণের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাগুলো রাষ্ট্রনীতিতে রূপান্তরিত হবে।

ঢাকা হবে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সভ্যতাগত মেলবন্ধন এবং বেণী লেনাদেনার কেন্দ্র। ইনশাআল্লাহ!

দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, আমি ইসলামী বা অন্য কোনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের বিরোধী নই। আমি মনে করি রাষ্ট্রগঠনে সম্প্রদায়গুলোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশসমূহের  সহাবস্থান করার সুযোগ থাকা দরকার। রাষ্ট্রের সেক্যুলার প্রকল্প যেন কোনো সম্প্রদায়েরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের জায়গাকে সংকুচিত করে না ফেলে। তবে এই অভিপ্রকাশগুলো যেন আবার ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের দিকে না যায়।

একদম ঠিক ঠিক করে বললে, আমি লালন বা মার্কসের অনুসারী নই, তাই আমি ফরহাদ মজহারের ইসলাম ও মার্কসবাদ গ্রহণ করি না। লালনকে আমি বাংলার আত্ম-অন্বেষণ চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানের একটি সমন্বিত প্রকাশ হিসেবে দেখি। আর যতদিন পুঁজিবাদ থাকবে ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন মার্কস। তবে, বাঙালি মুসলমানদের প্রশ্নটি প্রধানত নদীমাতৃক ইসলাম ও বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের ফ্রেমওয়ার্কে আলোচনা করা উচিত। বাঙালি মুসলমানদের উচিত হীনমন্যতার শেকল ভেঙে ফেলে তাদের পূর্বপুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বদরবারে ব্যাখ্যা করা।

আমি মাজার/কবর পূজারী নই। আমি বিভিন্ন তরিকার সুফি এবং আলেমদের শ্রদ্ধা করি। কৈশোরকাল এবং পরবর্তী সময়ে আমি অনেক আলেম ও পীরদের সাথে সংযুক্ত ছিলাম। এবং এখনও তাদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তারা আমাকে নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসায় অভিষিক্ত করেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আবার, আমি আপোষকামী এবং ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী সুফিবাদ পছন্দ করি না। আমি সেই সুফি ও আলেমদের ভালোবাসি, যারা নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়ান।

আমি মনে করি, যারা মাজার ভাঙছে তারা আসলে বাঙালি মুসলমানদের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ঐতিহাসিক সম্প্রদায় হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের জোট গঠন করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার মজলুম হিন্দু, বৌদ্ধ, ও মুসলমানের সাথে। এভাবেই দূর করতে হবে মুজিববাদ, ইসলাম-আতঙ্ক, হিন্দুত্ববাদ, এবং ফ্যাসিবাদ-সমর্থনকারী সুফিবাদ ও ইসলামিজমকে। আমরা অনেক বার দেখেছি কীভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী ইসলামিজমও মুজিববাদ ও হিন্দুত্ববাদের বাঁচার উপায় হয়ে উঠেছে।

আমি আমার বাঙালি মুসলমান পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করি, যারা ত্যাগ ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। এই সম্প্রদায় এ অঞ্চলে তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে এবং তাদের রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে। আমি পশ্চাদপদ জাতীয়তাবাদগুলোর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভেতরে এবং বাইরে আরও আরও মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য দরকার নতুন ভাষা ও শব্দভাণ্ডার।

পুনশ্চ: আমার লেখাগুলোতে কেউ আহত হলে, আমি অন্তর থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আপনাদের সকলকে সহনাগরিক হিসেবে এবং ভাই ও বোন হিসেবে ভালোবাসি। দয়াল দরদি নবিজিকে সালাম!




মহানবীর যুগে যেমন ছিল ধর্মীয় সহাবস্থান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রিয় নবী (সা.) মদিনায় হিজরতকালে (সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি.) পাঁচ ধরনের মানুষের সংশ্লেষের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। যথা—মুহাজির, আনসার, ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক। তখন তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হয় ভ্রাতৃবিরোধ-বিদ্বেষ ও বিগ্রহের অবসান ঘটানো। প্রিয় নবী (সা.)-এর দর্শন—‘সহজ করো, জটিল কোরো না। সুসংবাদ দাও, ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়ো না। ’ (বুখারি)

এই নীতিতে ‘শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ’ তথা Peace & Submission-এর শিক্ষায় তিনি Social contract বা সামাজিক চুক্তির মতো সম্প্রীতিমূলক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন।

মদিনা সনদের প্রধান অর্জন—

(ক) তাওহিদভিত্তিক লিখিত সনদের আলোকে সংঘাতের স্থলে সর্বজনীন নিরাপত্তা।

(খ) প্রিয় নবী (সা.)-এর নেতৃত্বে শান্তি ও রাজনৈতিক ঐক্য।

গ) সাম্য ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা। মদিনা সনদের ফলে অসাম্প্রদায়িকতা ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ গড়ে ওঠা সহজতর হয়। মদিনা সনদকে বলা হয়, মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান Written constitution.

সনদের সারসংক্ষেপ

(ক) মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.) হবেন নব গঠিত ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রে’র প্রধান ও সর্বোচ্চ বিচারালয়ের Court of Appeal-এর সর্বময় কর্তা।

(গ) সবার পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে, এতে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

(ঘ) কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে তার সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।

(ঙ) দুর্বল, অসহায়কে সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে।

(চ) সনদ স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে রাসুল (সা.) তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করবেন।

মদিনা সনদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি পায়, ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি রচিত হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মদিনার পুনর্গঠন সম্ভব হয়। মদিনা সনদের ধারাবাহিকতায় প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। মদিনাকেন্দ্রিক এ ব্যবস্থার বিস্তৃতি ছিল ১০-১১ লাখ বর্গমাইলেরও বেশি এলাকা। পরবর্তী সময়ে প্রিয় নবী (সা.) সংঘাতের স্থলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ষষ্ঠ হি./ ৬২৮ খ্রি. ‘হুদাইবিয়া’র সন্ধি স্বাক্ষর করেন।

হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে মক্কা-মদিনার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ স্থগিত থাকার সুবাদে প্রিয় নবী (সা.) ইসলাম প্রচারে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। ফলে প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম আন্তর্জাতিকরূপ পরিগ্রহ করে। যার ভিত্তি হলো—

উম্মাহ (অভিন্ন জাতীয়তাবোধ ও অখণ্ডতা),

উখওয়াৎ (বিশ্বজনীন ইসলামী ভ্রাতৃত্ব),

তাবলিগ (ধর্মীয় প্রচার) ও

খিদমতে খালক (সৃষ্টির সেবা-সংরক্ষণ)।

এই চেতনাবোধের সার্থকতায় প্রিয় নবী (সা.) পত্রাবলি অনন্য কিংবদন্তি ও প্রিয় নবী (সা.)-এর চলন্ত-জীবন্ত মুজিজা। মিসরীয় গবেষক ড. হামিদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (স.) যাঁদের কাছে পত্র পাঠিয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা দু-আড়াই শর কম নয়। তাঁদের অন্যতম হলেন—

রোম সম্রাট (কায়সার) হিরাক্লিয়াস,

ইয়ামামার গভর্নর হাওয়া বিন আলী,

বাহরাইনের গভর্নর মুনজির বিন সাওয়া,

ওমানের গভর্নর জাফর বিন জুলান্দি,

দামেস্কের গভর্নর হারিস বিন আবি শামর গাসসানি,

আবিসিনিয়া বা হাবশার বাদশাহ নাজ্জাসি আসহাম,

মিশররাজ মাকাওকাস এবং ইরানের শাহানশাহ কিসরা খসরু পারভেজ।

রোম সম্রাটের কাছে লিখিত পত্রের ভাষ্য—

প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র পত্র পাঠে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের মনোজগতে ঝড় বইতে শুরু করে। তিনি প্রিয় নবী (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন—‘হায়! আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতাম! তবে আমি তাঁর পা ধুয়ে দিতাম। ’ (বুখারি)

শুধু তাই নয়, তিনি রাজপ্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে ঘোষণা করলেন : ‘হে রোমবাসী। তোমরা কি কল্যাণ, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর আনুগত্য (বাইআত) গ্রহণ করো…’ (বুখারি)

বস্তুত এভাবেই ইসলাম ‘বিশ্ব বিজয়ী ধর্ম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, এতেও আল-কোরআনের বাণীর নিত্যতা প্রমাণিত হলো : ‘তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ…। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)




সম্পর্ক ব্রেকআপ হয়ে গেছে? কষ্ট কমাবেন যেভাবে




বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবার উদ্ভোদন করলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শ্রী গুরু সঙ্ঘ আয়োজনে ৫০তম তিরোভাব শুক্লাদশমী ও বুলন পূর্নিমা উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও স্থানীয় অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম।

১লা সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টায় শ্রী শ্রী মদনমোহন জিঁউর মন্দির, আখড়াবাড়ি, পুরান বাজারে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয। মাননীয় জেলা প্রশাসক নিজে তার চক্ষু পরীক্ষা করে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বরিশালের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর সহযোগিতায় এবং শ্রী গুরু সঙ্ঘ এর বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম কাউখালী পিরোজপুর এর অনুপ্রেরণায় ১৩৪ তম চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম স্থাপন করা হয়।

আরো পড়ুন : ১৬ বছর পর পটুয়াখালীতে প্রকাশ্য জনসভায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী

আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষিত (এমবিবিএস) চক্ষু ডাক্তারের মাধ্যমে চক্ষু পরীক্ষা চোখের পাওয়ার নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়াও চোখের সানি অপারেশন ও বিদেশি লেন্স সংযোজন, বিনামূল্যে ঔষধ ও চশমা পাওয়া যাবে। ক্যাম্পের দিনে ভর্তির রোগীদের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এর সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ফ্রি ব্যবস্থা করা হবে।

এদিন বেলা ১১টার মধ্যে সকল ধর্মের অন্তত ৩০০ নারী পুরুষ ফ্রিতে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম বলেন, ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়ার মত মহতী উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। ক্যাম্পের এত সুন্দর আয়োজন দেখে আমি মুগ্ধ।

এসময় শ্রীগুরু শঙ্ঘের পটুয়াখালী শাখার সভাপতি এ্যডঃ কমল দত্ত বলেন, শ্রী গুরু সংঘ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম এর অনুপ্রেরণায় সারা বছর সকল ধর্মের মানুষের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে থাকে। আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত এ কার্যক্রম এখানে চলবে। আমরা আগত রোগীদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা রেখেছি। একদিনে যত রোগী আসুক না কেন সকলকে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছি।