শিক্ষক হিসেবে যেমন ছিলেন মহানবী (সা.)

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ১ম নবী হজরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সব নবীই ছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত শিক্ষার আলোকে উদ্ভাসিত ও মানব সমাজের জন্য ইলমে ওহীর শিক্ষক ও বাহক।

আল্লাহ তাআলা যত নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন তারা সবাই ছিলেন শিক্ষক। নতুন নতুন জ্ঞানের ধারাও চালু করেছেন তারা। তারা সরাসরি জনগণকে শিক্ষা দিতেন। গণমানুষ ছিল তাদের শিক্ষার্থী।

নবী ও রসুলদের সবশেষ শিক্ষাগুরু ছিলেন সবশেষ নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মাদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
তিনি নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে।’ (হিদায়াতুর রুয়াত ২৪৮)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেছেন, ‘হে মানুষেরা, আমি তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকে একজন রসুল পাঠিয়েছি। যে তোমাদের কাছে আমার আয়াত (কোরআন) পাঠ করে শোনায়, তোমাদের জীবন পরিশুদ্ধ করে, তোমাদের কিতাব ও হিকমত (কোরআন ও বিজ্ঞান) শিক্ষা দেয় এবং তোমরা যে বিষয়ে কিছুই জানতে না, সেটা শিক্ষা দেয়।’ (সুরা বাকারা ১৫১)

এই আয়াতে বলা হয়েছে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে ঐশি শিক্ষা পূর্ণতা লাভ করে। তিনি তার কার্যকর ও বাস্তবমুখী শিক্ষানীতি ও পদ্ধতির মাধ্যমে আরবের মূর্খ ও বর্বর একটি জাতিকে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে সমাসীন করেন এবং ইসলামের মহান বার্তা ছড়িয়ে দেন পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগমনের আগে আরব সমাজে সীমাহীন মূর্খতা বিরাজমান ছিল, সম্ভ্রান্ত পরিবারে লেখাপড়া দোষ হিসাবে বিবেচিত হতো। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমনের পর আরবের প্রতিটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আরবের প্রত্যেক গোত্রের একটি দল মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে যেত এবং তার কাছে ধর্মীয় বিষয়াদি জিজ্ঞেস করে ধর্ম সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করত।’

নবীজির শিক্ষা ও উপদেশ দানের বিভিন্ন নিয়ম পদ্ধতি ছিল। প্রথমত, ১০-২০ দিন কিংবা এক মাস দুই মাস অবস্থান করে আকায়েদ বা মৌলিক বিশ্বাস ও অন্যান্য জরুরি মাসয়ালা শিখে নিত। এরপর আপন গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদের তা শিক্ষা দিত।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মালেক ইবনে হুয়াইরেস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু প্রতিনিধি দল নিয়ে এসে ২০ দিন অবস্থান করলেন এবং জরুরি মাসয়ালা শিখে নিলেন।

দ্বিতীয় পদ্ধতি ছিল খুব স্থায়ী। অর্থাৎ মুসলমানগণ স্থায়ীভাবে মদিনায় বাস করতেন এবং চরিত্র সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতেন। তাদের জন্য ‘সুফ্ফা’ নামের বিশেষ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। এতে বেশির ভাগ ওইসব মুসলমান অবস্থান করতেন, যারা যাবতীয় পার্থিব ক্রিয়া-কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে দিন-রাত ইবাদত ও জ্ঞানার্জনে মগ্ন থাকতেন।

মহানবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি যে অনুরাগী ছিলেন এবং শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতেন এর প্রমাণ নিম্নে বর্ণিত হাদিস থেকে আমরা তার শিক্ষা পাচ্ছি।

নবীজি (স.) একদিন মসজিদে গেলেন। মসজিদে তখন দুটি মজলিস চলছিল: একটি হচ্ছে জিকিরের মজলিস, অন্যটি পাঠদানের। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠদান তথা জ্ঞানচর্চার মজলিসটিতে বসলেন এবং মন্তব্য করলেন যে আমাকে শিক্ষকরূপে প্রেরণ করা হয়েছে। (মিশকাত, কিতাবুল ইলম পর্ব)

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো, তিনি ছাত্রদের সামনে বিনয়ী হতেন। তাদের প্রতি স্নেহশীল থাকতেন। তা বুঝানোর জন্যই রসুল (স.) বলেন, আমি হচ্ছি তোমাদের সামনে পুত্রের জন্য পিতার ন্যায়। তাই আমি তোমাদের শেখাবো। (সুনানে তিরমিজি) এখানে পিতার সঙ্গে শিক্ষকের তুলনা সম্মানের দিক থেকে তিনি করেননি। বরং করেছেন দয়া ও স্নেহের দিক থেকে।




পটুয়াখালীতে চলছে দুর্গাপূজার শেষ মুহুর্তের প্রস্ততি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বছর ঘুরে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে পূজা মণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বেশিরভাগ জায়গায় প্রতিমা গড়া শেষ, চলছে রঙের কাজ।

আগামী ৯ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে থেকে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিন চলবে দুর্গোৎসব। যা আগামী ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এ লক্ষ্যে পটুয়াখালী জেলার ৮ টি উপজেলায় সর্বমোট ১৭৬ টি মন্ডপে পূজার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষে থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

শারদীয় দুর্গাপূজাকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মন্দির কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পূজা মণ্ডপ ঘিরে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। একনিষ্ঠ চিত্তে নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মাটি লাগানোর কাজে ব্যস্ত শিল্পীরা। শহর এবং গ্রামীণ জনপদের দুর্গাপূজা মন্ডপ ও মন্দিরগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেউ কাদা তৈরি করছেন, কেউ আবার কাদা দিয়ে হাত-পা বানাচ্ছেন। দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষী, গণেশ,কার্তিকসহ নানা ধরনের প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন কারিগরেরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমা শিল্পি রুপক পাল বলেন, আমরা শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর আখড়াবাড়ি নতুন বাজার, পটুয়াখালীর প্রতিমাগুলো নতুন করে রং ও তুলির আঁচড় দিয়ে সাজিয়ে তুলছি। আগে ৮০/৯০ হাজার টাকায় পুরো প্রতিমা তৈরি করা থেকে সাজানো পর্যন্ত খরচ হত। এখন মালামালের দাম বৃদ্ধি , শিল্পিদের পারিশ্রমিক বাড়ার কারনে খরচ এখন প্রায় দিগুন এর ও বেশি, তবুও এই কাজ আমাদের করতেই হবে কারন এটা আমাদের ধর্মীয় রীতিনীতি।
তিনি আরো বলেন, শেষ মূহূর্তে দেবিকে পড়ানো হবে পোষাক পরিচ্ছদ সহ অন্যান্য অলংকার।

মন্দিরের সেবাহীত সমির গাঙ্গুলি বলেন,পঞ্জিকা মতে আগামি ৯ই অক্টোবর শুরু হবে শারদীয় দূর্গা পূজা। এ দিন হবে ষষ্ঠি পূজা। আর ১২ ই অক্টোবর শনিবার দশমিতে চোখের জলে দেবি বির্সজনের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দূর্গা পুজা।

শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউর আখড়াবাড়ি নতুন বাজার, পটুয়াখালী মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল দত্ত (পিংকু) বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব এই দুর্গা পুজা। প্রতিমা গড়া শেষ, চলছে রঙ্গের কাজ ও শেষ সময়ের প্রস্তুতি। এখন শুধু মাত্র বাকি আনুষ্ঠানিকতা। আশা করি এবারের পূজা আনন্দঘন ও নিরাপদে উৎযাপন করতে পারব। পূজায় সরকারি সহায়তা আগের চেয়ে একটু বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে এ উৎসবে সামিল হওয়ার আহব্বান জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় খাসকেল জানান পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৭৬ মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৬ টি, বাউফল উপজেলায় ৬৫ টি, দশমিনা উপজেলায় ১৩টি, দুমকি উপজেলায় ১০টি, গলাচিপা উপজেলায় ২৮টি, কলাপাড়া উপজেলায় ১৪টি, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ১৫টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় ৫ টি। পটুয়াখালী জেলার সাধারণ মানুষ সব সময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলেই শারদীয় দুর্গা উৎসব পালন করে আসছি। আমরা উৎসব কে উৎসবমুখর করার জন্য ইতি মধ্যে পটুয়াখালী জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক, সুযোগ্য পুলিশ সুপার এবং ডি.আই.জি মহোদয়ের সাথে সভা করেছি। পটুয়াখালী জেলার সার্বিক পরিস্থিতি এবং পূজার প্রস্তুতি খুবই ভালো। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ৮ অক্টোবর মহা পঞ্চমীর মধ্য দিয়া শারদীয় দুর্গা উৎসব শুরু হবে এবং ১৩ অক্টোবর শুভ বিজয় দশমীতে মাকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গা পূজার সমাপ্তি ঘটবে।




৩০ হাজার টাকায় চলছে হজের প্রাক-নিবন্ধন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এবার হজে গমনেচ্ছুদের জন্য নিবন্ধন পোর্টাল চালু হয়েছে গত ১ সেপ্টেম্বর। এর মধ্যে বুধবার (২ অক্টোবর) পর্যন্ত ৫২ হাজার ৮৩৬ জন প্রাক-নিবন্ধন করেছেন।

হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৭৫৩ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৫০ হাজার ৮৩ জন হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করেছেন। অন্যদিকে সরকারি মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন ৬০৯ এবং বেসরকারি মাধ্যমে এই সংখ্যা ৪০২ জন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ নিবন্ধন চলবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। সরকারি-বেসরকারি দুই মাধ্যমেই এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়ের পর আর সময় বাড়ানো হবে না।

এ বছর যেসব এজেন্সি হজ কার্যক্রমের পরিচালনা করতে পারবে, তার তালিকা প্রাথমিকভাবে হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালে (www.hajj.gov.bd) পাওয়া যাবে।

জানা যায়, বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমে হজে যেতে হলে প্রথম ধাপে ৩০ হাজার টাকা ফি পরিশোধ করে প্রাক নিবন্ধন করতে হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে সারতে হয় প্রাথমিক নিবন্ধন। আর হজের প্যাকেজ ঘোষণা হলে বাকি টাকা পরিশোধ করে নিবন্ধন সম্পন্ন করা যায়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জন্য হজযাত্রীর কোটা এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। এই কোটা পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাথমিক নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।




মহানবীকে কটুক্তির প্রতিবাদে পটুয়াখালী মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিয়ে ভারতীয় হিন্দু পুরোহিতের কটুক্তি ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতে ভারতের বিজেপি নেতার সমর্থনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা “বিশ্বনবীর অপমান, সইবে নারে মুসলমান, রাসুলের দুশমনেরা, হুশিয়ার সাবধান” এসব শ্লোগান দেন। মিছিল শেষে একই স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, রাসুলাল্লাহ (সা.) আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন। তিনি গোটা মানবজাতির নেতা। তাই ইসলামে উনাকে সম্মানিত করা হয়েছে এবং উনার বিরুদ্ধে কটূক্তি কারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির (মৃত্যুদণ্ডের) বিধান রাখা হয়েছে। ভারতের কিছু গোষ্ঠী ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ অঞ্চলের ধর্মীয় সম্প্রতি নষ্টের জন্য বারংবার মহানবী (সা.) -কে নিয়ে কটূক্তি করে যাচ্ছে।

যা এ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকি স্বরূপ। তাই আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারেও আমরা বার্তা দিতে চাই।




দুমকিতে ১১ মন্ডপে চলছে দুর্গাপূজার শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার ১১টি পূজা মন্ডপে শেষ সময়ের প্রতিমায় রং তুলির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সব পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ দ্রম্নত গতিতে এগিয়ে এলে এখন শেষের পথে। মাটির কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। এখন চলছে রং-তুলির শেষ পর্যায়ের কাজ। এছাড়াও তোরণ নির্মাণ, প্যান্ডেল তৈরি, সাউন্ড ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুমকিতে মোট ১১টি সার্বজনীন পূজা মন্দির থাকলেও এ বছর ৯টি মন্দিরে শারদীয় দুর্গা পূজার আয়োজন করেছে। বাকি দুটি অর্থের অভাবে স্থগিত রয়েছে। এ বছর মুরাদিয়া ইউনিয়নে সর্বাধিক পাঁচটি মন্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এগুলো হলো- উত্তর মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, মুরাদিয়া বটতলা সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির, মধ্য মুরাদিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামন্দির, দক্ষিণ মুরাদিয়া শ্রী শ্রী নবজাগরণ দুর্গামন্দির ও মুরাদিয়া পাইন বাড়ি সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির।

এছাড়া শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দুমকি নতুন বাজার সার্বজনীন শ্রী শ্রী হরি কেন্দ্রীয় মন্দির, পশ্চিম আঙ্গারিয়া শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, দক্ষিণ জলিশা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির, লেবুখালী শ্রী শ্রী হরি মন্দির, দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া শ্রী শ্রী জয় গুরু মন্দিরে চলছে শেষ সময়ে প্রতিমায় রং-তুলি ও সাজসজ্জার কাজ।

প্রতিমার কারিগর পঙ্কজ পাল জানান, এ বছর পাঁচটি মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। চলমান পরিস্থিতিতে বাজার মন্দার কারণে প্রতিটি মন্ডপে প্রতিমা তৈরির পারিশ্রমিক হিসেবে ৪৫-৫৫ হাজার টাকা নিচ্ছেন।

আরেক কারিগর শিশির পাল বলেন, এ বছর প্রতিমা তৈরির মালামালের মূল্য বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটের কারণে আগের চেয়ে মজুরিও বেশি। তারপরও প্রায় ৮০-৮৫ হাজার টাকা মজুরির বিনিময়ে কাজ করছেন।

দুর্গোৎসবের প্রস্তুতির বিষয়ে উত্তর মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার দাস বাড়ি সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি আনন্দ মোহন দাস বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব পালিত হবে। দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনিক আশ্বাস আছে।

দুমকি ইউএনও শাহীন মাহমুদ বলেন, পূজা উদযাপন কমিটির সংশ্লিষ্টদের নিয়ে গত সপ্তাহে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। এ বছর পূজামন্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গ্রাম পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও ম্যাজিস্ট্রেট ও কোস্টগার্ডের টহল দায়িত্বে থাকবে।




দেশে ফিরলেন মিজানুর রহমান আজহারী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দীর্ঘ দিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী। আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।

মিজানুর রহমান আজহারী স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সালামাতে প্রিয় মাতৃভূমিতে এসে পৌঁছালাম। পরম করুণাময় এই প্রত্যাবর্তনকে বরকতময় করুন। দুআর নিবেদন।’

এর আগে ২০২০ সালে ১৯ জানুয়ারি ফেসবুক স্ট্যাটাসে মিজানুর রহমান আজহারী জানান, ‘পারিপার্শ্বিক কারণে এবং গবেষণার জন্য’ বাংলাদেশ ছেড়ে তিনি মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন।




মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে ছাত্র-জমিয়তের বিক্ষোভ মিছিল – কুশপুত্তলিকা দাহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতের মহারাস্ট্রের হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপির সাংসদ নিতেশ রানে কর্তৃক মহানবী (সা.)-কে অবমাননা ও কটূক্তির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সদস্যরা।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে জেলা ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মুফতি আবুল বাশার কাসেমীর সভাপতিত্বে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- জমিয়তে ওলামা বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান, জেলা জমিয়তে ওলামার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা মোতাহার উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা উবাইল্লাহ ফারুক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুফতি শাব্বির আহমাদ, জেলা যুব জমিয়তের সভাপতি মুফতি আবু জাফর, জেলা ছাত্র জমিয়তের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মুহা. ত্বহা বাকিবিল্লাহ প্রমুখ।

সভায় বক্তারা ভারতের পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও সাংসদ নিতেশ রানে কর্তৃক মহানবী হজরত মুহম্মদ ( সা.)-কে কটূক্তির তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিশ্বনবীকে নিয়ে কটূক্তি মুসলমানরা কখনো সহ্য করবে না। বক্তারা কটূক্তিকারী ভণ্ড হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপি নেতা নিতিশের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি করেন। তারা অর্ন্তবর্তী সরকারের কাছে কূটনৈতিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দাবি করেন।

প্রতিবাদ সভা শেষে কটূক্তিকারী ভণ্ড হিন্দু পুরোহিত রামগিরি মহারাজ ও বিজেপি নেতা নিতেশ রানের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় শহরের অদূরে হেতালিয়া বাঁধঘাট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে দীর্ঘ প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক প্রদক্ষিণ করে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে এসে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখার ব্যানারে শত শত নেতাকর্মী প্রতিবাদ সভা করেন।




জুমার দিন যে আমল করলে গুনাহ মাফ হয়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জুমার দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ দিন। এই দিনে এমন কিছু সময় আছে যখন আল্লাহ তার বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না। দোয়া কবুল হওয়ার বিশেষ সময় কোনটি সে সম্পর্কে মতানৈক্য থাকলেও দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। এই দিনে এমন একটি আমল আছে যা করলে মহান আল্লাহ তায়ালা ৮০ বছরের গুনাহ মাফ করে দেন।

জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তায়ালার কাছে এত বেশি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল করা হয়েছে।

আল্লাহ তা’আলা কোরআনে ইরশাদ করেন, হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচা-কেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে। (সূরা জুমা- ০৯)।

রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন আসর নামাজের পর ওই স্থানে বসা অবস্থায় ৮০ বার নিচের দরুদ শরিফটি পাঠ করবে, তার ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হবে এবং ৮০ বছরের নফল ইবাদতের সওয়াব আমলনামায় লেখা হবে।’ (আফদালুস সালাওয়াত-২৬)

আরবি উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লিমু তাসলিমা।’

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন এবং এরপর রাস‍ুল (সা.) তার হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (বুখারি)

রাসুল (সা.) থেকে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, জুমার দিনে ১২ ঘণ্টা রয়েছে। তাতে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর ক‍াছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাশ করো। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস নং : ১৩৮৯)।




পটুয়াখালীর ১৭৬ মন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষদিকে। এবার জেলায় ১৭৬টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমাসহ সাজ সজ্জা গোছানোর কাজ। তবে বেশির ভাগ পূজা মণ্ডপেই মাটির কাজ শেষ হয়ে শুরু হয়েছে রংয়ের কাজ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কারিগররা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমাকে। অনেক মন্দিরে আবার প্যান্ডেল সাজানো এবং লাইটিংয়ের কাজ চলছে। তবে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি হলেও মজুরি আগের চেয়ে বাড়েনি বলে আক্ষেপ কারিগরদের। সার্বজনীন এ উৎসবকে সফল করতে সনাতনীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক স্থানে রয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পটুয়াখালী পৌর শহরের পুড়ান বাজার এলাকার সবুজ সংঘ সার্বজনীন পূজা মন্দিরের প্রধান পৃষ্ট পোষক সুবাস চন্দ্র বনিক বলেন, আমাদের এখানে ৭৫ বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এবছরও আমরা ব্যাপক আয়োজন করেছি। আমাদের প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গা মাকে স্বাগত এবং বিদায় জানাতে পারবো।

কলাপাড়ার শ্রী শ্রী জগন্নাথ নাট মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করতে আসা কারিগর তাপস চন্দ্র বলেন, সব কিছুর দাম অনেক বেড়েছে। যদিও আমাদের মজুরী কিন্তু বাড়েনি। এভাবে সব কিছুর সঙ্গে আমাদের মজুরী না বাড়লে তো এ পেশায় টিকে থাক দায় হয়ে যাবে।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, জেলার ১৭৬টি পূজা উদযাপন হলেও বিসর্জন হবে ১৩২টি পূজা মণ্ডপে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আশা করছি এ উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।




নামাজের সময়সূচি – ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

আজ মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ইংরেজি, ৯ আশ্বিন ১৪৩১ বাংলা, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি। ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-

নামাজের সময়সূচি——-
ফজর- ৪:৩৪ মিনিট।
জোহর- ১১:৫৪ মিনিট।
আসর- ৪:১২ মিনিট।
মাগরিব- ৫:৫৭ মিনিট।
ইশা- ৭:১০ মিনিট।
আজ সূর্যাস্ত- ৫:৫৩ মিনিট।
আজ সূর্যোদয়- ৫:৪৭ মিনিট।

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, তা হলো- বিয়োগ করতে হবে-> চট্টগ্রাম: -০৫ মিনিট। সিলেট: -০৬ মিনিট>। যোগ করতে হবে-> খুলনা: +০৩ মিনিট।> রাজশাহী: +০৭ মিনিট।> রংপুর: +০৮ মিনিট।> বরিশাল: +০১ মিনিট।

 

তথ্যসূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন ওএফএফ/