আজ মহানবমী: মণ্ডপে-মণ্ডপে বিদায়ের সুর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:: শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ শনিবার (১২ অক্টোবর) মহানবমী। এই বিশেষ দিনটি দুর্গাপূজার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব, যেখানে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে শেষবারের মতো দেখে নিতে চান। মহানবমীর দিনে মণ্ডপে-মণ্ডপে বাজবে বিদায়ের সুর, এবং আগামীকাল রবিবার বিজয়া দশমির মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।

পঞ্জিকানুযায়ী, আজ মহানবমী পূজা শুরু হবে সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে। মহানবমীর বিহিত পূজা ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এই দিনটি সাধারণত দুর্গাপূজার শেষ প্রস্তুতির দিন, যেখানে দেবীর আরাধনা ও বিদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

মহানবমীর দিনে অনেক ভক্ত মনে করেন, এটি দেবী দুর্গাকে প্রাণ ভরে দেখে নেওয়ার সুযোগ। এই দিন বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে সব দেবদেবীকে আহুতি দেওয়ার রীতি প্রচলিত। ভক্তরা এই উপলক্ষে বিশেষ পূজা ও হোমযজ্ঞে অংশগ্রহণ করেন।

শারদীয় দুর্গোৎসবের এই মহতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ভক্তদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন শহরের ও গ্রামের পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ সজ্জা ও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। এ ছাড়া, মণ্ডপগুলোতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে নৃত্য, সংগীত ও নাটিকা পরিবেশন করা হচ্ছে।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেবী দুর্গার মূর্তি বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সন্ধ্যায় শেষবেলায় বিশেষভাবে আয়োজন করা হয় বিসর্জনের। এই সময় ভক্তরা প্রার্থনা করে এবং দেবীর আশীর্বাদ কামনা করেন।

মহানবমী ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে সারা দেশে ধর্মপ্রাণ হিন্দু জনগণের মধ্যে বিশেষ আবেগ ও আনন্দ বিরাজ করছে। এই উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তির প্রতীক, যা দেশের সংস্কৃতির একটি অংশ।




দুর্গোৎসব উপলক্ষে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: সেনাপ্রধান

**চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:** শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে শুক্রবার (১১ অক্টোবর) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, “দুর্গাপূজার প্রতিটি মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপিত হচ্ছে, এবং বাকি দিনগুলোতেও এ শান্তি বজায় থাকবে।” তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা সর্বদা সতর্ক রয়েছি। পূজার বাকি দিনগুলোতেও উৎসব উদযাপনে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না, এই নিশ্চয়তা দিতে চাই।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শতাব্দীর পর শতাব্দি হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা এই দেশে একসাথে বসবাস করে আসছে। আমাদের এই সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অতীতে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জাতি হিসেবে আমাদের এই ঐতিহ্য রক্ষা করা জরুরি।”

আরো পড়ুন : বাংলাদেশ স্মার্ট হচ্ছে সেনাবাহিনীকেও স্মার্ট হতে হবে: সেনা প্রধান

এ সময় পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সেনাপ্রধানকে পূজার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পূজামণ্ডপের পরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আরও উন্নত নিরাপত্তার জন্য যে কোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গাপূজা বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব, যেখানে প্রতিটি মণ্ডপে হাজারো ভক্তের সমাগম ঘটে। এমন সময়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও নিয়মিত টহল দিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নিরাপদে উদযাপনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। সেনাপ্রধানের এই আশ্বাস সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করেছে।




আবার মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন মিজানুর রহমান আজহারী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর মালয়েশিয়া থেকে গত ২ অক্টোবর দেশে ফেরেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। আজ শুক্রবার (১১ অক্টোবর) আবার মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি।

তিনি লেখেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর সংক্ষিপ্ত সফরে দেশে এসেছিলাম। বেশির ভাগ সময় পরিবারের সাথেই কাটিয়েছি। এরই মাঝে বিভিন্ন ঘরানার আলিম-ওলামা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে একটি ক্লোজ মিট-আপ প্রোগ্রাম করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, সত্যিই সে-দিনটি বেশ উপভোগ্য ছিল। তবে শর্ট নোটিশে প্রোগ্রামটি আয়োজনের কারণে অনেক প্রিয় ভাই আসতে পারেননি। আবার কিছুটা তাড়াহুড়ো করে দাওয়াত দেয়ার কারণে, বেখেয়ালবশত অনেকে বাদ পড়েছেন। আশাকরি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। পরবর্তীতে সবার সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশা রইলো।

আজহারী আরও লেখেন, আজ মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছি। মাস খানেক পর আবারও দেশে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। তখন আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, প্রটোকল, লোকেশন সিলেকশন, শ্রোতা ধারণ ক্ষমতা, অর্গানাইজিং ক্যাপাসিটিসহ সবকিছু অনুকূল হলে, দেশজুড়ে বিভাগীয় পর্যায়ে হয়ত কয়েকটি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে পারি। তবে সব কিছুই নির্ভর করবে উপযুক্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতির উপর।

ওয়াজ-মাহফিল নিয়ে তিনি লেখেন, আমি এ-জমিনে কোরআনের আলো ছড়িয়ে দিতে চাই পরিকল্পিতভাবে। তাই আগের মতো জেলায় জেলায় গণহারে তাফসির প্রোগ্রাম করতে চাচ্ছি না। আউটডোর প্রোগ্রাম সীমিত করে, কিছু ইনডোর প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে চাই। পাবলিক ইভেন্ট ছাড়াও অ্যাকাডেমিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজে যুক্ত হতে চাই। এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শিগগিরই এসব প্রকল্পের ঘোষণা আসবে ইনশাআল্লাহ। দোয়ায় রাখবেন।




পূজামণ্ডপে গান পরিবেশন নিয়ে বিতর্কের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামের জে এম সেন হল পূজামণ্ডপে গান পরিবেশন নিয়ে বিতর্কের ঘটনায় মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম কোতয়ালি থানায় একটি মামলাটি করা হয়। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের নাম জানা যায়নি।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) কাজী তারেক আজিজ বলেন, পূজামণ্ডপের অনুষ্ঠান মঞ্চে ইসলামি সংগীত পরিবেশনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে নগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এ ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

কাজী তারেক আজিজ আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মণ্ডপে অনুষ্ঠানের মঞ্চে ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম রাতেই পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। তিনি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির এক নেতার আমন্ত্রণে সংগঠনটি পূজামণ্ডপে গান করতে যায়। সংগঠনটির সদস্যরা শাহ আবদুল করিমের বিখ্যাত গান ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ এবং ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম, বিশ্ব মানুষের কল্যাণে স্রষ্টার এই বিধান’ গান দুটি পরিবেশন করে। এর মধ্যে ‘শুধু মুসলমানের লাগি আসেনিকো ইসলাম’ গানটির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম নগর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল জানান, সংগঠনটির সদস্যরা যুগ্ম সম্পাদক সজল দত্তের আমন্ত্রণে গান পরিবেশন করেছেন। তারা আমাদের অনুমতি নিয়ে এসেছেন।

অন্যদিকে সংগঠনের সভাপতি সেলিম জামান দাবি করেন, তারা কোনো জোরপূর্বক কাজ করেননি, বরং দাওয়াত পেয়ে গান করতে গিয়েছিলেন।




পটুয়াখালীতে ১৭৬ মন্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তায় আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে জেলার দুমকিতে ১০ টিসহ ৯ টি উপজেলায় ১৭৬ টি মন্ডপে ষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছ। নির্বিঘ্নে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যদিয়ে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে আনসার, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে রয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যারাতে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় ১৭৬ টি মন্ডপে দুর্গাপূজা শুরু হয়েছ।

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়, সাংবাদিক ও স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সাথে জেলা প্রশাসনের একাধিক সভা, মতবিনিময় ও প্রেসব্রিফিং করা হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আব্দুস সালাম (রিমন)সহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

১৭৬ টি পূজা মন্ডপের মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ২৬ টি, গলাচিপা উপজেলায় ২৮ টি, বাউফলে ৬৫ টি, দুমকিতে ১০ টি, রাঙ্গাবালীতে ৫ টি, মির্জাগঞ্জে ১৫ টি, দশমিনায় ১৩ টি ও কলাপাড়া উপজেলায় ১০ টি পূজামন্ডপ।

এ সব পূজামন্ডপে পূজা অর্চনার মধ্যদিয়ে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে বলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) যাদব সরকার নিশ্চিত করেছেন। উক্ত সংখ্যক পূজা মন্ডপের মধ্য অধিক গুরুত্বপুর্ন ৫৭ টি, গুরুত্বপুর্ন ৯১ টি এবং সাধারন মন্ডপ ২৭ টি বলেও জানান তিনি। পূজামন্ডপ সমূহে নির্বিঘ্ন পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত রয়েছে বলেও জানিয়েছে অতিরিক্ত জেলা পরশাসক যাদব সরকার।

মন্ডপ সমূহ সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।




ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের এ উৎসব আনন্দমুখর করে তুলতে নানা আয়োজন করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। মণ্ডপে মণ্ডপে হবে দেবী দুর্গার আরাধনা।

আজ বুধবার (০৯ অক্টোবর) সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে বেলগাছের নিচে শুরু হয় ষষ্ঠীবিহিত পূজা। মন্ত্রপাঠে হয় দেবী আবাহন।

সরকারি ছুটির দিন না হওয়া সত্ত্বেও এসময় মন্দিরগুলোতে সমবেত হয় হিন্দুধর্মাবলম্বীরা। তাদের বিশ্বাস, এদিনই কৈলাশ থেকে দেবী মর্ত্যে তার বাপের বাড়িতে এসে পৌঁছান।

সমবেতদের প্রত্যাশা, এবার নির্বিঘ্নেই এই মহোৎসব উদযাপন করতে পারবেন তারা।

এবার সারাদেশে দুর্গাপূজা হচ্ছে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপে, যা গতবারের চেয়ে ৯৪৭টি কম। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির হিসাব অনুযায়ী, এবার দেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপ ও মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা হচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ৪০৮। তবে ঢাকা মহানগরে এবার চারটি পূজামণ্ডপ বেড়ে ২৫২টি হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৪৮টি।

উল্লেখ্য, ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। ফলে মাঝখানের শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে এবার দুর্গাপূজায় চার দিনের ছুটি মিলছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ ছাড়া শুভেচ্ছা জানিয়েছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

মহাষষ্ঠী আজ-
শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রথম দিন মহাষষ্ঠী আজ। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শুরু হবে। সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। এর আগে ২ অক্টোবর দেবী দুর্গার আবাহন বা মহালয়ার মধ্য দিয়ে সূচনা হয় দেবীপক্ষের। সাধারণত দেবীপক্ষ শুরুর সাত দিন পর দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। মঙ্গলবার মহাপঞ্চমীতে সন্ধ্যায় দেবীর বোধন হয়। এর মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনাপূজা করা হয়। এ সময় চণ্ডীপাঠে মুখর ছিল মণ্ডপ-মন্দির।

নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। এর পর শুক্রবার মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা এবং শনিবার মহানবমী। তবে পঞ্জিকামতে, শনিবার মহানবমী পূজার পরই দশমীবিহিত পূজা হবে। আর রোববার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে উৎসব শেষ হবে। ওই দিন বিকেলে বিজয়ার শোভাযাত্রা করে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে।

পূজার প্রতিদিনই মণ্ডপে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ-আরতির আয়োজন রয়েছে। দুর্গোৎসব চলাকালে দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক, নৃত্যনাট্যসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় (পালকি) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন।
যার ফল হলো– এবার মড়ক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারি বাড়বে। দেবী স্বর্গালোকে ফিরবেন গজে (হাতি) চড়ে। যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে।

পুরাণমতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। তিনি বসন্তে এই পূজার আয়োজন করায় একে বাসন্তীপূজা বলা হয়। কিন্তু রাবণের হাত থেকে সীতাকে উদ্ধার করতে লঙ্কাযাত্রার আগে রামচন্দ্র দেবীর পূজার আয়োজন করেন শরৎকালের অমাবস্যা তিথিতে, যা শারদীয় দুর্গোৎসব নামে পরিচিত। শরৎকালের পূজাকে এ জন্য অকাল বোধনও বলা হয়।




নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ইসলাম :: পৃথিবীতে ইসলাম একটাই। অঞ্চল ভেদে ইসলামে কখনো পরিবর্তন হয় না। নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়, সেটা নির্ণয় করার মূলনীতি কুরআন ও সুন্নাহ বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘পৃথিবীতে ইসলাম একটাই। অঞ্চল ভেদে ইসলামে কখনো পরিবর্তন হয় না। নদীয়ার ইসলাম বলতে আলাদা কোনো ইসলাম নেই। কোনটা ইসলাম আর কোনটা ইসলাম নয়, সেটা নির্ণয় করার মূলনীতি কুরআন ও সুন্নাহ। এটা বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে স্বীকৃত বিষয়।

ইসলামের বেলায় আজ যারা প্রকৃত ইসলামের কথা না বলে নদীয়ার ইসলামের কথা বলেন, সব ক্ষেত্রে কি তারা সেটা করেন? গণতন্ত্রের বেলায় তারা প্রকৃত গণতন্ত্র খোঁজেন, নাকি মামলা-হামলা দিয়ে প্রতিপক্ষকে দমন ও রাতের ভোটের প্রচলিত দেশীয় গণতন্ত্রের কথা বলেন?

গণতন্ত্রের জন্ম আমেরিকায়। কিন্তু আমাদের দেশের প্রচলিত গণতন্ত্র আর আমেরিকার গণতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। যারা ইসলামকে আঞ্চলিকতায় বিভাজিত করেন, তারা কি আমেরিকার প্রচলিত গণতন্ত্রের বিপরীতে বাংলাদেশের প্রচলিত আঞ্চলিক গণতন্ত্রের কালচারকে ধারণ করার কথা বলেন?

তাছাড়া, এদেশে নদীয়ার তথাকথিত ইসলামকে ধারণ করা মানুষের সংখ্যা ১শতাংশও হবে না। এর বিপরীতে প্রায় ৯৯ শতাংশ মুসলমান আরবের ইসলাম তথা কুরআন-হাদিস বর্ণিত ইসলামে বিশ্বাস করেন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ওপর তারা কোন ইসলাম চাপিয়ে দিতে চান?

কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে নদীয়ার কথিত ও বিকৃত ইসলামকে ধারণ করেন, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু সেই ইসলামকে যদি সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং সেটাকেই বাংলাদেশের ইসলাম বলা হয়, তবে তা বিনোদনের আইটেম হতে পারে, কিন্তু ইসলাম নয়।’




দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়িয়ে আজই প্রজ্ঞাপন জারি : মাহফুজ আলম




ভারতে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে দুমকিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সা.)-কে নিয়ে পুরোহিতের কটূক্তির প্রতিবাদে পটুয়াখালীর দুমকিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ জমইয়াতে হিজবুল্লাহ, আইম্মা হিজবুল্লাহ, যুব হিজবুল্লাহ ও ছাত্র হিজবুল্লাহ’র সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা ।

সোমবার (৭ অক্টোবর) জমইয়াতে হিজবুল্লাহর সভাপতি মাওলানা আঃ মজিদ’র সভাপতিত্বে সরকারি জনতা কলেজ সংলগ্ন মহাসড়কে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়। সংগঠনটির ৫ শতাধিক নেতাকর্মী প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন।

এসময় তারা বলেন, ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে একজন হিন্দু পুরোহিত কটূক্তি করেছেন। আবার ক্ষমতাসীন বিজেপির এক নেতা সেই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছে। মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি বা অবমাননাকর বক্তব্য ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং আপত্তিকর। তাই আমরা ভারত সরকারের কাছে এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ জমইয়াতে হিজবুল্লাহর দুমকি উপজেলার সভাপতি আব্দুল মজিদ খান বলেন, আমরা এই ধরনের কটূক্তি বন্ধের জন্য কড়া আইন প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি। এমন কাজের ফলে, ধর্মীয় সহাবস্থান এবং ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই মহানবী (সা.)-কে নিয়ে এই ধরনের কটূক্তিকারী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমাও চাইতে হবে।

এসময় পাঙ্গাশিয়া দরবার শরীফের পীরসাব মো: অলিউর রহমান, জমইয়াতে হিযবুল্লাহ’র উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো: আবুল কালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর মো: মজিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাবিবুর রহমান, আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল বিন নাসির বক্তব্য রাখেন।




ভারতে রাসূল সা: কে নিয়ে কটূক্তিকারী পুরোহিত আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ভারতে ইসলাম ও রাসূল সা: কে নিয়ে কটূক্তিকারী পুরোহিত নরসিংহানন্দ আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৬ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

আটক নরিসংহানন্দ উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের দশনা দেবী মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বে আছেন।

বিতর্কিত এই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে মহানবী সা:-কে নিয়ে অশোভন কথা বলেন। এরপরই তার বিরুদ্ধে এফআইআর করে সিহানি গেট থানার পুলিশ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, নরসিংহানন্দকে পুলিশ আটক করেছে। তবে এখনো তারা এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা তার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপির এমএলএ নন্দ কিশোর গুরজার অভিযোগ করেছেন, গত শুক্রবার ওই বিতর্কিত পুরোহিতের মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। আর যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তাদের গুলি করে হত্যা করা উচিত।

তবে পুলিশ মন্দিরে হামলার কোনো প্রমাণ পায়নি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।