রোজার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত

চন্দ্রদ্বীপ ইসলাম ডেস্ক :: ২০২৫ সালে পবিত্র রামজান মাস শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) দেশটির গণমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী ১ মার্চ থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে।

দেশটির এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটি ঘোষণা করেছে, হিজরি জমাদিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে রোজা শুরুর সময়। হিজরি পঞ্চম এই মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে আগামী ৩ নভেম্বর। আর এরপরই ধারণা করা যাবে, এবার রোজা কবে শুরু হতে পারে।

এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ানের মতে, আগামী ১ মার্চ থেকে রমজান মাস শুরু হতে পারে। তবে এটা সম্পূর্ণ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করছে।




কোজাগরী পূর্ণিমায় আজ শুরু লক্ষ্মীপূজা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা শুরু হচ্ছে। বুধবার (১৬ অক্টোবর) পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শারদীয় দুর্গাপূজার পাঁচ দিন পর পূর্ণিমা তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এই পূজা।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, আজ রাত ৮টা ১৩ মিনিট থেকে পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে এবং বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে শেষ হবে। পূর্ণিমা তিথি শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শঙ্খ ও উলুধ্বনির মাধ্যমে পূজা শুরু হবে এবং পরের দিন সন্ধ্যায় পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।

প্রসাদ হিসেবে থাকবে নারিকেলের নাড়ু, লুচি, ডাল, ও ফলাহার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, লক্ষ্মী দেবীর পূজা করলে ধন-সম্পদ, সুখ-শান্তি, এবং সুস্বাস্থ্য লাভ করা যায়। পরিবারে ধন, যশ, খ্যাতি ও সমৃদ্ধির জন্য লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা।

কোজাগরী পূর্ণিমার এই লক্ষ্মীপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বিশেষ আচার, যা ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে।




নিয়তের কারণে আমলের নেকি বৃদ্ধি পায়: ইসলামের আলোকে নিয়তের মহত্ব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের কর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে তার নিয়ত বা ইচ্ছা। কোনো কাজের পিছনে থাকা নিয়তই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন মানুষ ভালো কাজ করার ইচ্ছা করলেও যদি কোনো কারণে সেই কাজটি করতে না পারে, তবুও তার নিয়তের জন্য সে আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হয়। এই বিষয়টি ইসলামের বিশেষ এক মহত্বের উদাহরণ, যেখানে নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সদিচ্ছার কারণে মানুষ অনেক নেকি অর্জন করতে পারে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা যদি কোনো গুনাহের কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা বাস্তবে না করে, তাহলে তার জন্য কোনো গুনাহ লেখা হবে না। বরং সে যদি আমার ভয়ে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে, তাহলে তার জন্য একটি নেকি লেখা হবে। অপরদিকে, যদি কেউ কোনো ভালো কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে না পারে, তাহলেও তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যদি সে সেই ভালো কাজটি করে, তাহলে তার জন্য ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত নেকি দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)

এটি স্পষ্টভাবে বোঝায় যে, নিয়তের বিশুদ্ধতা ও আন্তরিকতার উপর ভিত্তি করে আল্লাহ মানুষকে পুরস্কৃত করেন। মানুষ যদি কোনো গুনাহের কাজ করার ইচ্ছা করেও আল্লাহর ভয় বা সংযমের কারণে তা না করে, তবে সে শুধু গুনাহ থেকে রেহাই পায় না, বরং নেকি অর্জন করে। এটি ইসলামের মহান দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা মানুষকে শুধু বাহ্যিক কর্মে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তরিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা দেয়।

**সদকার নিয়তের উদাহরণ:**

রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গল্পের মাধ্যমে নিয়তের গুরুত্বের কথা বলেছেন, যেখানে এক ব্যক্তি রাতে সদকা দেওয়ার ইচ্ছা করেছিল। সে অজান্তে এক অসতী নারীর হাতে সদকা দিয়ে দেয়। সকালে মানুষজন এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে যে, “গত রাতে এক অসতীকে সদকা দেওয়া হয়েছে।” এ কথা শুনে সে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং বলে, “হে আল্লাহ! অসতীকে সদকা দেওয়ার ব্যাপারেও আপনারই প্রশংসা।” এরপর সে আবার সদকা দেওয়ার নিয়ত করে এবং এবার তা এক ধনী ব্যক্তির হাতে দিয়ে দেয়। পরের দিন লোকজন আবারও আলোচনা করে, “গত রাতে ধনীকে সদকা দেওয়া হয়েছে!” এরপরও সেই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে এবং আবার সদকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষবারে সে একজন চোরের হাতে সদকা দেয়, এবং পরের দিন আবারও লোকজন বলে, “গত রাতে চোরকে সদকা দেওয়া হয়েছে!” তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় যে, তার সদকা কবুল হয়েছে। সম্ভবত তার সদকার কারণে অসতী নারী অন্যায় থেকে ফিরে আসবে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ ব্যয় করার গুরুত্ব বুঝবে, আর চোর তার চুরির পথ থেকে সরে আসবে। (মুসলিম, হাদিস: ২,২৫২)

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, সদকা বা অন্য কোনো ভালো কাজের পিছনে নিয়ত থাকলে আল্লাহ তা কবুল করেন, এমনকি সেই সদকার প্রকৃত প্রাপক সম্পর্কে ভুল হলেও। আল্লাহ মানুষের অন্তরের অবস্থার উপর ভিত্তি করে তার পুরস্কার নির্ধারণ করেন, যা কর্মের বাহ্যিক ফলাফল থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

**নিয়তের বিশুদ্ধতা ও আল্লাহর পথে ইচ্ছা:**

নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সততার সঙ্গে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে সেই মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম, হাদিস: ৪,৮২৪) অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল লাভ করবে, যদিও সে বাস্তবিকভাবে সেই কাজ সম্পাদন করতে না পারে।

এছাড়াও, হাদিসে উল্লেখ আছে যে, যদি কেউ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার ইচ্ছা করে কিন্তু ঘুম তাকে ঘিরে ফেলে এবং সে উঠতে না পারে, তাহলেও তার জন্য তাহাজ্জুদের নেকি লেখা হয়। আর তার ঘুমকে আল্লাহ সদকাহ হিসেবে গণ্য করেন। (ইমাম নাসায়ি আস-সুনান, হাদিস: ১,৭৮৭)

ইসলামে নিয়ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মানুষের আমলকে মহৎ করে তোলে। আল্লাহ তাআলা মানুষের বাহ্যিক কর্মের চেয়ে অন্তরের বিশুদ্ধতাকে বেশি প্রাধান্য দেন। তাই আমাদের উচিত সব সময় নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ভালো কাজ করা। আমাদের কর্মের উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তবে আমরা অবশ্যই সেই কাজের জন্য পুরস্কৃত হব, এমনকি তা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও।




বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে  রোববার শেষ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

সকাল থেকে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয়। পরে বিকেল ৪টা থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়ার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন।

৯ অক্টোবর থেকে চন্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মাধ্যমে শুরু হয় এই উৎসব। পাঁচদিন ধরে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভক্তরা। দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হয় দোলায় বা পালকিতে। তবে শাস্ত্রমতে, দেবীর ঘোটকে গমনের ফলে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত করা হয়। দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে ফিরে গেলেন কৈলাসে স্বামীর ঘরে, পরের বছর শরতে আবার আসবেন এই ধরণীতে।

নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিসর্জনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়। বিদায়ের করুণ ছোঁয়ায় বুড়িগঙ্গা নদীতে সারিবদ্ধভাবে বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমা। একইভাবে তুরাগ নদীতেও বিসর্জন চলে।

দুপুরে পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন পলাশীর মোড়ে।

এ বছর সারা দেশে ৩১ হাজার ৪৬১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৫২টি মণ্ডপ রয়েছে। প্রশাসনসহ প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটি নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যবস্থা করে।

 




মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার যেসব দেশ দখলে নিতে চায় ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সাম্প্রতিক এক ডকুমেন্টারিতে ইহুদি রাষ্ট্রের সীমানাবৃদ্ধির একটি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি সীমান্ত ভবিষ্যতে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

স্মোট্রিচের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ঘিরে রেখেছে যেসব অঞ্চল তা বৃহত্তর ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হবে। সে হিসেবে ইসরায়েল রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

ফ্রান্স-জার্মান ভিত্তিক নিউজ ম্যাগাজিন আর্টে রিপোর্টেজ থেকে নির্মিত ‘ইন ইসরায়েল : মিনিস্টারস অব কেয়াস’ নামের ডকুমেন্টারিটি এই মাসে মুক্তি পেয়েছে। সেখানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইহুদি রাষ্ট্রের বিস্তৃতি নিয়ে কথা বলেন।

ডকুমেন্টারিতে স্মোট্রিচ একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এই বলে, ‘এটি লেখা আছে যে জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ দামেস্কে প্রসারিত হবে।’ ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ মতবাদ নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন চরম ডানপন্থি এই মন্ত্রী।

‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ জায়নিস্ট ইহুদিদের একটি মতবাদ যেখানে তারা দাবি করে, তাদের পবিত্রভূমি ইসরায়েলের বিস্তার মিসরের নীলনদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত। এই এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডনা এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ। জায়নিস্ট ইহুদিদের দাবি, পবিত্র বাইবেলে এই অঞ্চল ইহুদিদের ভূমি হিসেবে বর্ণিত আছে।

এই প্রসঙ্গে, ইসরায়েলি সাংবাদিক ওদেদ ইয়েনন বলেছেন, পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের জন্য তেলআবিবের পরিকল্পনা ইহুদিবাদের প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জলের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে যেটি ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, মিসর এবং সৌদি আরবের বিশাল অংশকে সংযুক্ত করে গঠন করা হবে।

ডকুমেন্টারিতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, অনেকের কাছে এই দৃষ্টিভঙ্গি চরমপন্থি বলে মনে হতে পারে। তবে এটি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের জনসাধারণের বক্তৃতার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং আনাদোলু এজেন্সি




সারা দেশে ৩১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রায় ২ হাজার পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ৩১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ অক্টোবর) রাতে বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা যাতে অনধিক ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পূজামণ্ডপে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য পূজামণ্ডপের আশেপাশে সুবিধাজনক স্থানে ৮৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে ৮৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে অতিরিক্ত দুই প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে।




২৩ অক্টোবরের মধ্যে হজের নিবন্ধন না করলে ভোগান্তির আশঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে পবিত্র হজের নিবন্ধন না করলে মিনা ও আরাফার ময়দানে কাঙ্ক্ষিত জোনে তাঁবু বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। এতে জামারা (কঙ্কর নিক্ষেপের স্থান) থেকে অনেক দূরে, পাহাড়ি এলাকায় ও নিউ মিনা এলাকায় অবস্থান করতে হবে। ফলে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে প্রখর রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘপথ হাঁটার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন সংক্রান্ত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে হজে গমনেচ্ছু হজযাত্রী, বেসরকারি হজ এজেন্সি ও সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, রাজকীয় সৌদি সরকারের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে, আল-মাশায়ের ও আল-মোকাদ্দাসার (মিনা ও আরাফা) তাঁবু নির্ধারণ ও সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের কার্যক্রম ২৩ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে তাঁবু বরাদ্দ প্রদান করা হয় বলে বিশ্বের অনেক দেশ জামারার নিকটবর্তী জোনে তাঁবু বরাদ্দ নেবে।

ফলে ২৩ অক্টোবরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন না হলে মিনা ও আরাফার ময়দানে কাঙ্ক্ষিত জোনে তাঁবু বরাদ্দ পাওয়া যাবে না। তাঁবু গ্রহণ ও সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনে বিলম্ব হলে হজযাত্রীদের জামারা থেকে অনেক দূরে, পাহাড়ি এলাকায় ও নিউ মিনা এলাকায় অবস্থান করতে হবে। ফলে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে প্রখর রোদ ও গরমের মধ্যে দীর্ঘপথ হাঁটতে হবে যা হজযাত্রীদের জন্য কষ্টকর হবে। মিনা ও আরাফার কাঙ্ক্ষিত জোনে তাঁবু গ্রহণ, সার্ভিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন, মক্কা ও মদিনায় বাড়ি/হোটেল ভাড়া ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের ভিসা করার মাধ্যমে সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে হজে গমনেচ্ছু সবাইকে ৩ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আগামী বছর হজে যেতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন চলবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এবার সরকারি বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজপালনের সুযোগ পাবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট এক হাজার ৪০৩ জন হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর লাখ লাখ মুসলমান সৌদি আরবে হজপালন করতে যান। তবে অনুমোদন ছাড়া হজে অংশ নেওয়া, তীব্র সূর্যতাপ ও গরমের মধ্যে যথেষ্ট বিশ্রাম ছাড়া লম্বা দূরত্বে হাঁটার কারণে ২০২৪ সালের সবচেয়ে বেশি হাজির মৃত্যু হয়েছে।




দশমী পূজা চলছে, একদিন আগেই কৈলাসে ফিরছেন দুর্গা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: মহানবমীর দিনে পরলো দশমীর তিথি। শনিবার (১২ অক্টোবর) নবমী বিহিত পূজা শেষে দশমীর বিহিত পূজা ও দেবীর দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নবমীতে দেবী দুর্গা রুদ্ররূপ ধারণ করে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন, তাই নবমীর সকাল অশুভ শক্তি থেকে মুক্তির প্রতীক। সকাল ৬টা থেকে নবমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবীর কাছে আহুতি প্রদান করা হয়।

৮টা ২৬ মিনিটে দশমী পূজা শুরু হয়। পূজা শেষে দেবীর দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে ভক্তদের কাঁদিয়ে একদিন আগেই কৈলাসে ফিরবেন দুর্গা। দেবীর বিদায়ে নবমীর আনন্দ বিষাদের রূপ নিয়েছে, আর ভক্তরা দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রার্থনা করছেন।




সমুদ্রপথে হজযাত্রী পাঠালে ৪০% খরচ কম হবে: ধর্ম উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সমুদ্রপথে জাহাজে হজযাত্রী পাঠানো গেলে বিমানের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম খরচ হবে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। শুক্রবার নারায়ণগঞ্জে দেওভোগ জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসায় এক ইসলামি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি জানান, “জাহাজে হজযাত্রী পাঠানোর জন্য চার্টার শিপ ভাড়া করতে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক যদি ঋণ দেয়, তাহলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।” এ বিষয়ে সৌদি সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, “বাংলাদেশ বিমান ইতোমধ্যে ভাড়া কমানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। আমরা হজ প্যাকেজের খরচ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের সংবিধানে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তা সংরক্ষণে সরকার সচেষ্ট থাকবে।

 




যে সুরা পাঠে আল্লাহর রহমত মেলে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:: পবিত্র কোরআনে প্রতিটি অক্ষর, আয়াত ও সুরা বিশেষ ফজিলত বহন করে। মহান আল্লাহ কিছু সুরা ও আয়াতকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে বান্দা সওয়াব ও ফজিলত অর্জন করতে পারে, বিপদ থেকে নিরাপত্তা এবং রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সুরা ইখলাস’।

সুরা ইখলাস, পবিত্র কোরআনের ১১২তম সুরা, একমাত্র মহান আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা দেয় এবং শিরক থেকে মুক্তির পথ দেখায়। হাদিস শরিফে উল্লেখ রয়েছে যে, এই সুরা তিলাওয়াতের মাধ্যমে পুরো কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াতের সওয়াব পাওয়া যায়।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত একটি ঘটনা আছে যেখানে একজন সাহাবি বারবার ‘কুল হুআল্লাহু আহাদ’ (সুরা ইখলাস) পড়ছিলেন। এক ব্যক্তি সকালে রাসুল (সা.)-এর কাছে গিয়ে এই বিষয়টি পেশ করলেন, কারণ তিনি ভাবছিলেন, এত ছোট সুরা বারবার পড়ার সওয়াব কী হবে। তখন রাসুল (সা.) বললেন, “ওই সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ! সুরা ইখলাস কোরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।” (বুখারি, হাদিস : ৫০১৩)

নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কিরামকে সুরা ইখলাস পড়ার জন্য বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করতেন, বিশেষ করে রাতের ইবাদতে। আবুদ দারদা (রা.) বলেন, নবীজি একদিন বললেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই কি প্রতি রাতে কোরআনের এক-তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করতে পারে না?” সাহাবিরা বললেন, “আমরা দুর্বল, প্রতি রাতে এত বেশি পরিমাণ তিলাওয়াত করা আমাদের সাধ্যের বাইরে।” তখন রাসুল (সা.) বললেন, “আল্লাহ তাআলা পুরো কোরআনকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন এবং সুরা ইখলাসকে তিন ভাগের এক ভাগ গণ্য করেছেন।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৭৪৯৮)

এক সাহাবির ইন্তেকালের ঘটনা সুরা ইখলাসের ফজিলতকে আরও স্পষ্ট করে। নিয়মিত সুরা ইখলাস তিলাওয়াতকারী এক সাহাবি ইন্তেকাল করলে, মহান আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে ৭০ হাজার ফেরেশতাকে তার জানাজায় অংশ নিতে পাঠান। মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া আলমুযানি (রা.)-এর জানাজায় নবীজি (সা.) এবং ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। জানাজা শেষে নবীজি (সা.) জিবরাইল (আ.)-কে জিজ্ঞেস করেন, “কোন আমলের মাধ্যমে মুয়াবিয়া এই উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হলো?” জিবরাইল (আ.) বলেন, “এটি ঘটেছে কারণ, সে দাঁড়িয়ে, বসে, হেঁটে এবং সওয়ারিতে তথা সর্বাবস্থায় সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করত।” (মুজামে কাবির : ৮/১১৬, হাদিস ৭৫৩৭; মুজামে আওসাত, তবারানি)

অতএব, সুরা ইখলাসের তিলাওয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বরকত অর্জন করা সম্ভব। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরা, যা আমাদের শিরক থেকে মুক্তি দেয় এবং আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা দেয়।