বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ চূড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিশ্ব ইজতেমার দুই পর্বের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি দুই পর্বে শুরু হচ্ছে দেশের তাবলিগে জামায়াতের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্ব ইজতেমা।

রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হানের পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব এবং ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে ইজতেমার প্রথম পর্ব জুবায়েরপন্থিদের অধীনে ও দ্বিতীয় পর্ব সাদপন্থিদের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।

আর, শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক জানান, প্রথম পর্বের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এতে অংশ নেবেন শুরায়ী নেজামের অনুসারীরা।




কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও রাস মেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গতকাল (১৪ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও রাস মেলা। ৩ দিনব্যাপী এই উৎসব ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে শুক্রবার ভোরে তীর্থযাত্রা শুরু হবে, এবং শনিবার ভোরে পূর্ণ স্নান অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে এবারের রাস উৎসব।

কুয়াকাটায় রাস পূর্ণিমা ও রাস মেলা উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং টুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিটগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মেলার জন্য নির্ধারিত স্থানে দোকান-পাট গড়ে উঠেছে এবং কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রম রাস মেলায় আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মেলাকে কেন্দ্র করে খেলনা গাড়ির দোকানদার রফিক উদ্দিন বলেন, “প্রতিবছর কুয়াকাটায় রাসমেলা উপলক্ষে দোকান নিয়ে আসি। এখানে হাজার হাজার মানুষ আসেন, আমরা আশা করছি এবারও ভালো মানুষের সমাগম হবে এবং আমরা ভালো বেচাকেনা করতে পারব।”

কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নীহাররঞ্জন মন্ডল বলেন, “রাস উৎসব শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। শ্রীকৃষ্ণের রসপূর্ণ কথাবাস্তুকে রাসযাত্রার মাধ্যমে জীবাত্মার থেকে পরমাত্মায় রূপান্তরিত করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ উৎসব পালন করে থাকে। তারা বিশ্বাস করেন, বঙ্গোপসাগরে জোয়ারে স্নান করার মাধ্যমে তাদের পাপ মোচন হয়। আমরা আশা করছি, এবার উৎসব ভালোভাবে কাটবে।”

রাস মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা কুয়াকাটায় আসেন। প্রতিবছর এই সময় কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। এবারের উৎসবেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্যুর গাইডরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “মেলায় আগত দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের জন্য হোটেল-মোটেলগুলি প্রস্তুত রয়েছে। রাস মেলাকে কেন্দ্র করে কয়েক লাখ পর্যটক আসবে, এবং ব্যবসায়ীরা এতে উচ্ছ্বাসিত।”

এবার রাস মেলার জন্য কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন এবং কুয়াকাটা পৌর প্রশাসন যৌথভাবে ৩ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম জানান, “রাস মেলার জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ টয়লেট, থাকার স্থান, নিরাপদ পানি, সিসি টিভি স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। সেনাবাহিনী, ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ এবং সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এই আয়োজন সফল হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সুইজারল্যান্ডে ২০২৫ থেকে ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ আইন কার্যকর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সুইজারল্যান্ডে পাবলিক প্লেসে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের আইন কার্যকর হচ্ছে। যা ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ নামে পরিচিত। ওই সময় থেকে কেউ যদি বোরকা পরেন এবং মুখ ঢাকেন তাহলে তাদের প্রায় ১ হাজার ১৫০ ডলার জরিমানা করা হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে দেড় লাখ টাকার সমান।

২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে একটি গণভোট হয়। এতে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে রায় দেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই গণ রায় কার্যকর করা হবে।

তবে ওই গণভোটের কঠোর বিরোধীতা করেছিল মুসলিম গ্রুপগুলো। এছাড়া পাবলিক প্লেসে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের গণভোটে অনেকেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এটি খুবই কম ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছিল।

যে গ্রুপ এই গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিল সেটি ২০০৯ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডে নতুন করে মসজিদের কোনো মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধের ব্যবস্থা করেছিল।

যদিও সুইজারল্যান্ডে খুব কম সংখ্যক মানুষ মুখ ঢাকা বোরকা পরেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুসলিমদের জন্য এটি একটি কঠিন বিষয় হয়ে পড়বে।




বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। আজ বুধবার ৬ নভেম্বর ঢাকা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে হাব। সেখানে এজেন্সি মালিকরা এই ঘোষণা দেন।

ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দু’টো হজ প্যাকেজ থাকবে। সাধারণ প্যাকেজে খরচ পড়বে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার। বিশেষ প্যাকেজের মূল্য ছয় লাখ ৯৯ হাজার টাকা।

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঘোষণাকালে হজ এজেন্সির প্রতিনিধিরা বলেন, এ বছরের প্যাকেজগুলোতে উন্নত সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এদিকে আগামী বছর হজে যেতে সরকারিভাবে দুটি ও বেসরকারি একটি প্যাকেজ প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনটি। সরকার ঘোষিত সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের তিন কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি) চার লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা, আর অপর প্যাকেজে (মসজিদুল হারামের আশপাশের দেড় কিলোমিটারের মধ্যে বাড়ি) পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। অন্যদিকে বেসরকারিভাবে সাধারণ প্যাকেজে চার লাখ ৮৩ হাজার ১৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়।




হজযাত্রীদের বিমান টিকিট ও তিন ফি’তে শুল্ক-ভ্যাট অব্যাহতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: হজ পালনে ব্যয় সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমনকারী হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য সমুদয় আবগারি শুল্ক এবং এম্বারকেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ফি’র ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য ছিল সেটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা বিশেষ আদেশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আদেশ বলা হয়েছে, যেহেতু উড়োজাহাজের ভাড়া প্রতিনিয়ত বৃদ্ধির কারণে পবিত্র হজ পালনে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য হজ পালন ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। যেহেতু হজ পালন সংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিমান টিকিটের ভাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। তাই বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য আবগারি শুল্ক এবং এম্বারকেশন ফি (বিডি), যাত্রী নিরাপত্তা ফি (পি৭) এবং এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ফি (পি৮) এর ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর হ্রাস বা অব্যাহতি প্রদান করা হলে ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণের হজ পালন সহজ হবে।

এসব কারণে ২০২৫ সালে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গমনকারী হজযাত্রীদের বিমান টিকিটের ওপর প্রযোজ্য সমুদয় আবগারি শুল্ক এবং এম্বারকেশন ফি, যাত্রী নিরাপত্তা ফি ও এয়ারপোর্ট নিরাপত্তা ফি’র ওপর প্রযোজ্য সমুদয় মূল্য সংযোজন কর হতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।

বর্তমানে সৌদি আরবগামী বিমান টিকিটের ওপর চার হাজার টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। যা মওকুফ করা হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৪ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। এবার বাংলাদেশ থেকে হজ পালনের সুযোগ পাবেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন।




বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় পর্ব ৭ ফেব্রুয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::আগামী ৩১ জানুয়ারি গাজীপুরের টঙ্গীতে শুরু হচ্ছে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ৭ থেকে শুরু হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) তাবলীগ জামাতের দুই গ্রুপকে (জুবায়ের ও সাদ) নিয়ে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার সূচি ও অন্য বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত এক সভায় এই তথ্য জানান তিনি।

তবে কে, কোন তারিখ পাচ্ছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিশ্ব ইজতেমার মাঠ হস্তান্তর ও প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, বিদেশি অতিথিদের ভিসা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহ, ভাসমান ব্রিজ নির্মাণ, জরুরি দুর্যোগে ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ব্যবস্থা, আখেরি মোনাজাতের দিন যানজট নিরসনসহ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতি বছরই বিশ্ব ইজতেমা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম জমায়েত হিসেবে পরিচিত। লাখ লাখ মুসলিম ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া এবং ধর্মীয় আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে সমবেত হন। বিশ্ব ইজতেমার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এই বছর ইজতেমাকে দুই দফায় বিভক্ত করা হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা ও সুবিধার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে।

ইজতেমার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, এ বিশাল ধর্মীয় জমায়েত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

এদিকে ৫৮তম বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে ঢাকার টঙ্গী ময়দানের পাশে টিনশেডে ২৮ নভেম্বর শুরু হবে তাবলিগ জামাতের ৫ দিনব্যাপী জোড় ইজতেমা।




শীতকালে সহজে পালনীয় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শীতকাল ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে পরিচিত, যা মহান আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই মৌসুমে ইবাদত করা তুলনামূলক সহজ হয় এবং এতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ বেশি পাওয়া যায়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, “শীতকাল হচ্ছে মুমিনের বসন্তকাল।” (মুসনাদে আহমাদ: ১১৬৫৬)।

নিচে শীতকালে করা যায় এমন পাঁচটি সহজ আমল তুলে ধরা হলো:

১. নফল রোজা রাখা: শীতকালে দিনের দৈর্ঘ্য কম থাকায় রোজা রাখা সহজ হয়। এটি এক ধরনের সওয়াব অর্জনের সুযোগ; হাদিসে বলা হয়েছে, “শীতকালের গনিমত হচ্ছে এ সময় রোজা রাখা।” (তিরমিজি: ৭৯৫)

২. শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো: দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের সহায়তায় শীতের মৌসুমে পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষার অন্যতম অংশ। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আত্মীয়-স্বজনকে দাও তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও।” (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৬)

৩. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়: শীতকালে রাত দীর্ঘ হওয়ায় শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা সহজ হয়। আল্লাহ ঈমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেছেন, “তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে…” (সুরা সাজদাহ, আয়াত: ১৬)

৪. অজু ও গোসলের গুরুত্ব: শীতকালে শরীর শুষ্ক থাকায় অজু ও গোসল যথাযথভাবে আদায় করা জরুরি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “অজু করার সময় পায়ের গোড়ালি যেসব স্থানে পানি পৌঁছেনি, সেগুলোর জন্য জাহান্নাম।” (মুসলিম: ৪৫৮)

৫. গাছের পাতা ঝরে পড়া দেখে শিক্ষা গ্রহণ: হাদিসে বলা হয়েছে, “কোনো বান্দা ‘আলহামদু লিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ এবং লাইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’ বললে তা তার গুনাহ এরূপভাবে ঝরিয়ে দেয়; যেভাবে এ গাছের পাতা ঝরে পড়ে।” (তিরমিজি: ৩৫৩৩)




বরিশালে শ্মশান দিপালী উদযাপন

বরিশাল : বরিশালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের বৃহত্তম শ্মশান দিপালী উৎসব উদযাপিত হয়েছে। বরিশাল নগরের কাউনিয়ার মহাশ্মশানে বুধবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন করেন। প্রতি বছরের মতোই এবারো মৃতদের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পূজা-অর্চনার জন্য স্বজনরা সমবেত হন।

বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব সুশান্ত ঘোষ জানান, প্রায় ২০০ বছর আগে স্থাপিত এই মহাশ্মশানে ৬১ হাজারেরও বেশি সমাধি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০০ সমাধি যাদের স্বজনরা দেশে নেই, সেগুলো হলুদ রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এসব সমাধিতেও কমিটির পক্ষ থেকে দীপ জ্বালানো হয়।

শ্মশান দিপালী উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব বিজয় ভক্ত জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন।




পটুয়াখালীতে দীপাবলীর উৎসবের রঙিন আয়োজন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী মহাশ্মশানসহ সকল উপজেলায় বুধবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্মশান দীপাবলি অনুষ্ঠানে মৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনায় মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও পটুয়াখালী শ্মশান ঘাটে পালিত হচ্ছে এই মহোৎসব। পটুয়াখালীর লোহালীয়া নদীর তীরে অবস্থিত মহাশ্মশান ঘাটে ভূত চতুর্দশী পূর্ণ তিথিতে হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ প্রিয় পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে আসেন।

এ বছর দীপাবলীর এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বজনদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরলোকে গমন কৃত স্বজনদের আত্মার শান্তি কামনা করা। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী স্বপন কর্মকার জানান, “আমি আমার দিদাসহ অনেক স্বজন ও পূর্বপুরুষের শান্তি কামনার জন্য এখানে এসেছি।”

এদিকে, শ্মশান দীপাবলীর আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়েছেন, যেখানে পূজার সামগ্রী, খাবার, প্রসাধনী এবং খেলনার নানা বিকল্প পাওয়া যাচ্ছে। ব্যবসায়ী রমেশ কুমার বলেন, “এ সময় আমাদের দোকান থেকে ভক্তরা বিভিন্ন পণ্য কিনে নেন, যা আমাদের জন্য ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি করে।”

শ্মশান দীপাবলী ও শ্যামা পূজা কার্যকরী কমিটির সভাপতি সন্তোষ কুমার দাস জানান, “এবারের পূজায় ব্যাপক সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে এবং এটি এলাকার দোকানদারদের জন্য একটি বড় সুযোগ।”

উৎসবের নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পূজায় অংশ নিতে পারেন। শ্মশান দীপাবলীর এই মহোৎসব পটুয়াখালীর মানুষদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আজ ধর্মীয় আচার বিধি মেনে মহাশ্মশানে “শ্মশান কালী” পূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামীকাল দিবাগত রাতে কালীপূজা (শ্যামা পূজা) অনুষ্ঠিত হবে।




হজ প্যাকেজ ঘোষণা, কোনটিতে কত খরচ পড়ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ সালের জন্য হজের দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ‌একটি প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং অন্যটিতে ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০টাকা।

আজ (বুধবার) দুপুরে এ‌ক সংবাদ সম্মেলনে এ দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম‌সচিব মু. আবদুল হামিদ জমাদ্দার, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মতিউল ইসলামসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এর আগে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ অনুমোদন দেওয়া হয়।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, হজের দুটি প্যাকেজের একটি পবিত্র কাবা শরিফ থেকে এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে যারা থাকবেন তাদের জন্য প্যাকেজ-২, আরেকটি কাবা শরিফের তিন কিলোমিটারের মধ্যে যারা থাকবেন তাদের জন্য প্যাকেজ-১। দুটি প্যাকেজেই গত বছরের চেয়ে খরচ কমেছে।

গত বছর সরকারিভাবে হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৭ টাকা খরচ হয়েছিল। বিশেষ হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। এবার বিশেষ প্যাকেজ থাকছে না।

তিনি বলেন, সাধারণ হজ প্যাকেজ ১ এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সাধারণ হজ প্যাকেজ ২ এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা। গতবারের তুলনায় ১ লাখ ৯ হাজার ১৪৫ টাকা কমে সরকারিভাবে সাধারণ হজ প্যাকেজের ১ এর মূল্য ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্যাকেজ-১ যা যা থাকছে

এ প্যাকেজে যারা যাবেন তাদেরকে মক্কায় হারাম শরীফের বহিচত্বর হতে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। হারাম শরীফ যাতায়াতে বাসের ব্যবস্থা থাকবে। একইভাবে মদিনায় মসজিদে নববী হতে সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

মিনায় গ্রিন জোনে (জোন-৫) তাঁবুর অবস্থান এবং মিনা-আরাফায় ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিস সুবিধা দেওয়া হবে। মক্কার হোটেল/বাড়ি হতে বাসযোগে মিনার তাঁবুতে এবং মিনা-আরাফাহ-মুযদালিফা-মিনা ট্রেনযোগে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে। মিনা এবং আরাফায় মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার পরিবেশন করা হবে।

সংযুক্ত বাথ মক্কা ও মদিনায় বাড়ি/হোটেলের প্রতি রুমে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। বাড়ি/হোটেল কক্ষে/ফ্লোরে রেফ্রিজারেটর এর ব্যবস্থা করা হবে। মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান, প্রতি ৪৬ জন হজযাত্রীর জন্য ১ জন হজ গাইড এবং প্রত্যেক হজযাত্রীকে খাবার বাবদ ন্যূনতম ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল এবং কোরবানি বাবদ ৭৫০ সৌদি. রিয়াল আবশ্যিকভাবে সঙ্গে নিতে হবে।

প্যাকেজ-২ যা যা থাকছে

এ প্যাকেজে যারা যাবেন তাদেরকে মক্কায় হারাম শরীফের বহিচত্বর হতে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। হারাম শরীফ যাতায়াতে বাসের ব্যবস্থা থাকবে। একইভাবে মদিনায় মার্কাজিয়া (সেন্ট্রাল এরিয়া) এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

মিনায় ইয়োলো জোনে (জোন-২) তাঁবুর অবস্থান এবং মিনা-আরাফায় আপগ্রেডেড ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিস সুবিধা, মক্কার হোটেল/বাড়ি হতে বাসযোগে মিনার তাঁবুতে এবং মিনা-আরাফাহ-মুযদালিফা-মিনা ট্রেনযোগে যাতায়াত, এ্যাটাচ বাথসহ মক্কা ও মদিনায় বাড়ি/হোটেলের প্রতি রুমে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসন, বাড়ি/হোটেল কক্ষে/ফ্লোরে রেফ্রিজারেটর এর ব্যবস্থা, মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা এবং ৪৬ জন হজযাত্রীর জন্য ১ জন হজ গাইডের ব্যবস্থা করা হবে। প্রত্যেক হজযাত্রীকে খাবার বাবদ ন্যূনতম ৪০ হাজার টাকার সমপরিমাণ সৌদি রিয়াল এবং দমে শোকর (কোরবানি) বাবদ ৭৫০ সৌদি রিয়াল আবশ্যিকভাবে সঙ্গে নিতে হবে।

বেসরকারি প্যাকেজ যা থাকবে

বেশিরভাগ হাজিরা সরকারি ব্যবস্থাপনা পবিত্র হজ পালন করেন। যেটাকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা হজ বলা হয়। বেসরকারি এজেন্সির প্যাকেজের বৈশিষ্ট্য কি হবে তা উল্লেখ করে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বেসরকারি এজেন্সিগুলো প্যাকেজ-১ হাজীদের জন্যমক্কায় হারাম শরীফের বহি:চত্বর হতে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন। হারাম শরীফ যাতায়াতে বাস ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে মদিনায় মসজিদে নববী হতে সর্বোচ্চ দেড় কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন, এ্যাটাচ বাথসহ প্রতি রুমে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসন ব্যবস্থা, মিনায় হজযাত্রীদের তাঁবু গ্রিন জোনে (জোন-৫) এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরির সার্ভিস, মিনা এবং আরাফায় মোয়াল্লেম কর্তৃক খাবার পরিবেশন, মক্কা-মিনা-আরাফা-মুজদালিফা যাতায়াতের জন্য ট্রেন/বাস (প্রতি ১০০ জনে একটি বাস অথবা ৫০ জনের ডাবল ট্রিপ) ব্যবস্থা মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে ঔষধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং ৪৬ জন হজযাত্রীর জন্য ১ জন হজ গাইড থাকবে থাকতে হবে।

আগামী বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। ২৯ এপ্রিল ২০২৫ থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে।