শীতকালে যে ৩ আমলে মহা পুরস্কারের ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শীতকাল ইবাদতের বসন্তকাল। প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য মহান আল্লাহর দান। এ সময় কুয়াশা ও শিশিরের কোমলতায় প্রকৃতি সাজে নতুনরূপে। এসব নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করা মুমিনের কর্তব্য।

এখানে পবিত্র কোরআন-হাদিসের আলোকে শীতকালে মুমিনের করণীয় ৩টি আমল তুলে ধরা হলো:

বেশি বেশি রোজা রাখা

শীতকালে দিন থাকে খুবই ছোট। এতে রোজা রাখা খুবই সহজ হয়। তাই এ ঋতুতে সম্ভব হলে বেশি বেশি রোজা রাখা যায়। হজরত আমের ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, শীতকালের গনিমত হচ্ছে এ সময় রোজা রাখা।(তিরমিজি: ৭৯৫)

নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায়

তাহাজ্জুদ নামাজ সব সময় পড়া যায়। তবে শীতকালে রাত অনেক লম্বা হয়। লম্বা সময় ঘুমিয়ে আবার শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়া সহজ হয়। মহান আল্লাহ ঈমানদারদের গুণাবলি সম্পর্কে বলেন, ‘তাদের পার্শ্ব শয্যা থেকে আলাদা থাকে। তারা তাদের রবকে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে।’ (সুরা সাজদাহ: ১৬)

অসহায়দের শীতবস্ত্র দান করা

শীতকালে অসহায় মানুষ বস্ত্রের অভাবে নিদারুণ কষ্ট করে। একা ভালো থাকা ইসলামের শিক্ষা নয়। বরং সমাজের সবার প্রতি সহানুভূতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া কর্তব্য।

শীতবস্ত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সাহায্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইমানি দায়িত্ব। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
যে মুসলমান অন্য কোনো মুসলমানকে বস্ত্রহীন অবস্থায় বস্ত্র দান করবে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজ রঙের পোশাক পরাবেন। খাদ্য দান করলে তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। পানি পান করালে জান্নাতের শরবত পান করাবেন। (আবু দাউদ)




চিন্ময় কৃষ্ণ সাম্প্রদায়িক উদ্দেশে সন্ত্রাসী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পরিকল্পনা নিয়েই চিন্ময় কৃষ্ণ কাজ করছিল এবং সাম্প্রদায়িক উদ্দেশে এ ধরনের সন্ত্রাসী সমর্থকগোষ্ঠী তৈরি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে যেসব সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে তাদের অবশ্যই কঠোর শাস্তি হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দাবিদাওয়া আন্তরিকভাবে বিবেচনা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস বিভিন্ন সভা সমাবেশে মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করে যাচ্ছিল। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হওয়া সত্ত্বেও কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে বিভিন্ন সভা করে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।

মূলত এই ধরনের তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং বাংলাদেশ ও জুলাই অভ্যুত্থানকে নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা। ভারতীয় মিডিয়া এরকম মিথ্যা প্রচারণা বরাবরই করে আসছে বলেও মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, চট্রগ্রাম আদালতে যেভাবে একজন আইনজীবীকে চিন্ময় কৃষ্ণের সমর্থকরা কুপিয়ে হত্যা করলো তা নজিরবিহীন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ বরাবরই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ব্যবহার করে একটা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে চেযেছে। এখন ভারতীয় মিডিয়াও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করে সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি করতে চাচ্ছে। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় বাংলাদেশের নাগরিক। তাদের নিরাপত্তা অন্তর্বর্তী সরকার নিশ্চিত করবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার নাশকতাকারী হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসীদের আইনি প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করবে। এসময় সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, দ্রুতই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হবে।




চিন্ময় দাশকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন উপদেষ্টা আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতারের কারণ জানালেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেছেন, কোন সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে নয়, রাষ্ট্রদ্রোহের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা কলেজ মাঠে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

বাজেটসহ অন্যান্য বিষয়ে রংপুরকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে আসিফ আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সময় গোপালগঞ্জসহ দুই একটি জেলার উন্নয়ন করা হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশে রংপুরবাসী আর কোন বৈষম্যর শিকার হবে না।

এর আগে শহীদ পরিবারের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে অসহায়-দুস্থ পরিবারের মাঝে প্রায় ৬০০ শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়। এসময় ২৪ এর গণঅভুথ‍্যানে শহীদের পরিবারের সদস্য রাজমিস্ত্রি শহীদ মঞ্জু মিয়ার স্ত্রী রহিমা খাতুন, গার্মেন্টস কর্মী শহীদ মামুন মিয়ার বাবা আজগর আলী এবং শহীদ সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রানী বেগম তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।




চিন্ময় দাসের গ্রেফতারে উদ্বিগ্ন ভারত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেসের (ইসকন) সাবেক নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেফতার ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার এবং জামিন আবেদন নাকচ করায় ভারত উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার পর এ ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং দেবতার অবমাননা ও মন্দিরে চুরি-ভাঙচুরের একাধিক নথিভুক্ত ঘটনা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সংখ্যালঘুদের ওপর একাধিক হামলার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, যখন এই ঘটনার অপরাধীরা অধরা রয়ে গেছে, তখন শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি উপস্থাপনকারী একজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি।

আমরা বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে হিন্দু ও সব সংখ্যালঘুর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানাই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও তার এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছেন।




চিন্ময়কে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ সীমান্ত অবরোধের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি দাবি করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি।

এমনকি তাকে মুক্তি না দিলে বাংলাদেশ সীমান্ত সনাতনীরা অবরোধ করবে বলেও হুমকি দিয়েছেন রাজ্যটির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভেরও হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরে ইসকনের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার রাতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করছে। এমনকী বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্ব রক্ষার নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুকে ইউনূস সরকার গ্রেপ্তার করেছে।




বিতর্কিত সিলেবাসের মাধ্যমে ধর্মহীনতার ষড়যন্ত্র : বরিশালে পীর সাহেব চরমোনাই

বরিশাল হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে বরিশাল বিভাগীয় কওমি মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের আয়োজনে এক বিশাল আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির, হযরত মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম এবং পীর সাহেব চরমোনাই।

পীর সাহেব চরমোনাই তার বক্তব্যে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী ও খুনি শেখ হাসিনা সরকার বিতর্কিত শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়নের মাধ্যমে এ দেশের জনগণকে ধর্মহীন করে নাস্তিক বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিল।” তিনি বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে ‘শরিফ শরীফ’ নামক গল্পের মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার ধারণাকে প্রমোট করার চেষ্টা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের বই থেকে চার খলিফার জীবনী তুলে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ তারা নিয়েছিল। তবে এদেশের লক্ষ লক্ষ ধর্মপ্রাণ জনতার প্রতিবাদের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।

তিনি বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারের প্রতি বিগত সরকারের ২০১২ সালের বিতর্কিত শিক্ষা সিলেবাস বাতিলের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ হাসান আশজাদ মাদানি (ভারত)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজি, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি আল্লামা নুরুল হুদা ফয়েজী, চরমোনাই মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নুরুল আলম সিদ্দিকী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ইসলামী নেতৃবৃন্দ।

সম্মেলনের দাবিসমূহ : সম্মেলনে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করা হয়, যা সময়ের প্রয়োজন মেটাতে যুক্তিযুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো:

১. কওমি ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, মিশর ও সৌদি আরবের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ ও পিএইচডি করার সুযোগ নিশ্চিত করা।
২. সরকারি ও বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কওমি সনদের মর্যাদা প্রদান এবং চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে কওমি সনদের উল্লেখ নিশ্চিত করা।
৩. হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ঘোষিত ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা।
৪. কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা।
৫. আহলে হাদিস, আহলে কোরআন, হিজবুত তাওহীদসহ সকল ভ্রান্ত মতবাদ ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৬. স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষাদান কার্যক্রম নিশ্চিত করা।
৭. কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক সমাজ গঠন ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে আলেমদের পরামর্শ গ্রহণ নিশ্চিত করা।

এ সম্মেলনে দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাই ইসলামী শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার প্রতি জোর দেন।

সম্মেলনে বক্তারা জানান, পেশ করা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ দাবিগুলো দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এলডিসি দেশগুলোকে ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দে সমর্থন চাইলো বাংলাদেশ

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কপ২৯-এর চূড়ান্ত ফলাফলের আলোচনায় এলডিসি মন্ত্রীদের এবং ইইউ মন্ত্রীদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। বৈঠকে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. জিয়াউল হক এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে উভয় পক্ষই জলবায়ু সংকটের সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বারোপ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং সমতাভিত্তিক চুক্তি অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, ‘‘অনেক সমস্যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। একযোগে কাজ করে কপ২৯-এ একটি অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।’’

এছাড়া, বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মন্ত্রীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। তারা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলি তুলে আনেন।

ইইউ মন্ত্রীরা এলডিসি দেশগুলোর উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, নির্গমন হ্রাস এবং গ্লোবাল স্টকটেক প্রক্রিয়া বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। কপ২৯-এর চূড়ান্ত আলোচনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে এই বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ১৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে পদাধিকারবলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখ্য সংগঠক ও মুখপাত্র এ কমিটির সদস্য থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

১৮ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন- মো. মাহিন সরকার, রশিদুল ইসলাম রিফাত, নুসরাত তাবাসসুম, লুৎফর রহমান, আহনাফ সাঈদ খান, তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা), তারিকুল ইসলাম, মো. মেহেরাব হোসেন সিফাত, আসাদুল্লাহ আল গালিব, মোহাম্মদ রাকিব, সিনথিয়া জাহিন আয়েশা, আসাদ বিন রনি, নাইম আবেদীন, মাহমুদা সুলতানা রিমি, ইব্রাহিম নিরব, রাসেল আহমেদ, রফিকুল ইসলাম আইনী, মুঈনুল ইসলাম হাসনাত।

এর আগে ২২ অক্টোবর সমন্বয়ক টিম বিলুপ্ত করে ৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

কমিটিতে হাসনাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক, আরিফ সোহেলকে সদস্যসচিব, আবদুল হান্নান মাসউদকে মুখ্য সংগঠক ও উমামা ফাতেমাকে মুখপাত্র করা হয়। এই কমিটি দিয়েই এতদিন সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।




প্রশাসনে ফ্যাসিবাদী ৬৯ জন কর্মকর্তার অপসারণে গড়িমসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসর দলবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখনো অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান করা হয়নি। প্রায় ৪২০০ জন কর্মকর্তা ন্যায়বিচার ও বঞ্চনা নিরসনের আবেদন করেছে। কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৫৪৬ জনের আবেদনকে প্রাথমিকভাবে আমলে নিয়ে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এসব দুষ্ট ক্ষতগুলো সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সরকারকে বিব্রত ও বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কেউ কেউ গোপনে বিগত স্বৈরাচারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের ইন্ধন যোগাচ্ছে। এ কারণে শত চেষ্টা সত্ত্বেও সরকারের বিভিন্ন দফতরে কাজে গতিশীলতা আসছে না, জনমনে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ৩৪ জন বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার, বিতর্কিত ১৬ জন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক ফ্যাসীবাদী সরকারের দোসর, ছাত্র-জনতা হত্যায় জড়িত সেচ্ছাচারী, দুর্নীতিবাজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ কাজে লিপ্ত ১৯ জন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহারপূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। দলবাজ, অদক্ষ ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের অপসারণ-অব্যাহতি প্রদান গত ৫ আগস্টের পর দীর্ঘদিনের বঞ্চিত কর্মরত যে সমস্ত কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েও এখনো পদায়ন পাননি তাঁদেরকে দ্রুত উপযুক্ত পদে পদায়ন করতে হবে। জনপ্রশাসনকে দ্রুত সচল করতে ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার সাথে সংগতিপূর্ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন করতে হবে। মাঠ প্রশাসনে কর্মরত বিতর্কিত জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা এবং বৈষম্যের শিকার ও পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদানসহ পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে জারির দাবিতে গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের মাধ্যমে দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টাকে দেয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল এ স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের দাবি জানিয়ে যে আবেদন করেছে তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সেটা বাস্তবায়ন করবো।




হজ উপলক্ষে ডলার বিক্রির সীমা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

হজের মৌসুমে বিদেশে গমনের জন্য মানি চেঞ্জারদের নগদ ডলার বিক্রির সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নতুন নির্দেশনা দিয়েছে, যা দেশের সব অনুমোদিত ডিলার ও বৈধ মানি চেঞ্জারের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে, বিদেশে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত নগদ ডলার কিনতে পারবেন। এর আগে এই সীমা ছিল এক হাজার ডলার।

বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্টে ডলার ব্যবহারের অনুমতি (এন্ডোর্সমেন্ট) নেয়া প্রয়োজন। প্রতি বছর একজন বাংলাদেশি নাগরিক সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার অথবা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশের বাইরে খরচ করতে পারেন, যা নগদ ডলার এবং কার্ড উভয় মাধ্যমে হতে পারে। এই অনুমোদন দেয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক ও বৈধ মানি চেঞ্জারগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে, প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকরা বিদেশে যাওয়ার সময় এক বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার বা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এন্ডোর্স করতে পারবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম