পিরোজপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ ওমর ফারুক খান (২৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে আটককৃত ওমর ফারুক সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান খানের ছেলে।

জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পিরোজপুর জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় ওমর ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা গাঁজার ওজন ৪ কেজি এবং বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকার সড়ক থেকে আটক করা হয় ওমর ফারুককে। তার বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত হাসান খান বলেন, “জেলাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের উদ্যোগ চলমান থাকবে।” পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসেরের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে তাবলীগ জামাতের স্মারকলিপি প্রদান: বিশ্ব আমীরের আগমনের দাবি

তাবলীগ জামাতের মাওলানা সা’দ অনুসারীরা পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এবং সেনা ক্যাম্পে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। আজ দুপুরে সার্কিট হাউজ থেকে হাজারো সাথী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। একই সঙ্গে পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের কাছেও তাদের দাবি তুলে ধরা হয়।

তাদের প্রধান দাবি, তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমীর হজরত মাওলানা সা’দ (দা.বা.) যেন আগামী বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশে আসতে পারেন। তারা অভিযোগ করেন, গত সাত বছর ধরে তিনি প্রধান বক্তা এবং আখেরি মোনাজাত পরিচালনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, মাওলানা সা’দের বাংলাদেশে আগমনে যেন আর কোনো বাধা না থাকে এবং দেশের সকল মসজিদে তাবলীগের কাজ নির্বিঘ্নে চালানো যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিন দিনব্যাপী চরমোনাই মাহফিল শেষ আখেরি মোনাজাতে

চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অগ্রহায়ণের মাহফিল শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি হয়। মাহফিলের শেষ অধিবেশন পরিচালনা করেন চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

তিনি আখেরি বয়ানে বলেন, “মানুষ আজ আল্লাহর নির্দেশনা থেকে সরে গিয়ে নাফরমানির দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি মৃত্যুর পরে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত মানুষের আত্মাকে পশুর মতো মনে করা উচিত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার চর্চা অত্যন্ত জরুরি।”

পীর সাহেব আরও বলেন, “নিজেকে ছোট মনে করে অহংকার ও হিংসা পরিত্যাগ করতে হবে। সকাল-বিকাল জিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকা উচিত। পরিবারের মধ্যে দ্বীনের চর্চা চালু করতে হবে। নিয়মিত সাপ্তাহিক হালকায়ে জিকির ও তালিমে অংশ নেওয়া উচিত।”

আখেরি মোনাজাতে তিনি ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া এবং বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করেন। এছাড়াও তিনি মুরিদদের ইসলামী নিয়ম-কানুন মেনে চলার এবং আল্লাহর পথে ফিরে আসার পরামর্শ দেন।

এবারের মাহফিলে চারজন অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। চরমোনাই অস্থায়ী হাসপাতালের মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার মুসল্লিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। মাহফিল চলাকালে দুই মুসল্লি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। তাদের জানাজা শেষে মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় প্রেরণ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আমাদের স্বাধীন দেশ নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে আলোচনা কেন: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, “আমাদের দেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের দেশ নিয়ে ভারতের পার্লামেন্টে আলোচনা হবে কেন? আমরা কি স্বাধীন দেশের নাগরিক নই?” তিনি আরও বলেন, “হিন্দুরা এদেশের নাগরিক, তাদের ভালোমন্দ আমরা দেখবো। এটা নিয়ে অন্যদেশে আলোচনা হবে কেন?”

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে ঐতিহাসিক চরমোনাই মাহফিল ময়দানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে পীর সাহেব চরমোনাই এ কথা বলেন।

পীর সাহেব বলেন, “দেশের এই পরিস্থিতিতে সকল দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। খুনী ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ইসলাম দেশ ও মানবতার পক্ষে আওয়াজ তুললে বাতিল পালাতে বাধ্য হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সাহাবাদের অনুসরণ। রুহানিয়াত ও জেহাদের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া বিজয় সম্ভব নয়। বিজয় অর্জন করতে হলে অবশ্যই সাহাবাদের অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর রাসূল কে যেই নীতি ও আদর্শ নিয়ে পাঠিয়েছেন, সেই নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যদি এই নীতি ও আদর্শকে বিশ্বাস করেন, তবে আপনার সন্তানকে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।”

গণজমায়েতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, “যারা দখলবাজি করছে, এরা আধা পাগল। এদের চিকিৎসার জন্য একটি মেন্টাল হসপিটাল তৈরি করা জরুরি। তবে এসব রাজনীতিবিদরা সুস্থ হয়ে দেশ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবেন।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “একটি সরকার পরিবর্তন করা সহজ, তবে আদর্শ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা তত সহজ নয়। এজন্য আদর্শবান সচ্চরিত্রবান প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে। মেধাবীদেরকে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

গণজমায়েতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল বশর আজিজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির উদ্দীন, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নেছার উদ্দীন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট বরকত উল্লাহ লতিফ, অ্যাডভোকেট হাছিবুল ইসলাম, জিএম রুহুল আমীন, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, শরিফুল ইসলাম রিয়াদ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এদিন চরমোনাই ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইমামতি ও খুৎবা প্রদান করেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই হাফিজাহুল্লাহ। জামাতে অংশ নেন বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উলামায়ে কিরাম ও জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

আগামী ৩০ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় হযরত পীর সাহেব চরমোনাই’র আখেরি বয়ানের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী বিশাল মাহফিলের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।

মাহফিলে আসা মুসল্লীদের মধ্যে গতকাল দুইজন বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। উভয়ের জানাযা শেষে মাহফিল হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন মমতা ব্যানার্জি, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ‘কোনো ধর্মের ওপরেই আঘাত আসুক আমি চাই না। এখানে ইসকনের যিনি আছেন, তার সাথে আমার কথা হয়েছে। এটা যেহেতু অন্য একটি দেশের বিষয়, তাই কেন্দ্রীয় সরকারকেই (ভারত সরকার) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ইস্যুতে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের পাশেই আছি।’

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

এর আগে তার দলের সংসদ সদস্য সৌগত রায় দিল্লির পার্লামেন্ট ভবনে বার্তাসংস্থা পিটিআইকে বলেছিলেন, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা, চিন্তার বিষয়। হিন্দুদের ওপরে এই অত্যাচার হওয়া উচিত নয়। আমি এ ধরনের ঘটনার আমি নিন্দা জানাই।’

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দল-নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করা ও এর পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে এই প্রথম মন্তব্য শোনা গেল।

গত দু’দিন ধরেই বিজেপির নেতা-নেত্রীরা প্রশ্ন তুলছিলেন যে যখন হিন্দুদের ওপরে অত্যাচার (তাদের কথায়) চলছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই কেন!

এর আগে কংগ্রেস নেত্রী ও সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওয়াধেরাও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যাণ্ডেলে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতার ও ‘সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপরে ক্রমাগত ঘটে চলা সহিংসতার’ সংবাদ অত্যন্ত চিন্তাজনক।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করব যাতে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হয় এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোরালেভাবে তুলে ধরা হয়।’

এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারে উদ্বেগ জানিয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তার পাল্টা বিবৃতি দিয়ে মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বলেছে, যেভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ একটি বিষয়, চিন্ময় দাসের গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে কোনো কোনো মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, তাতে বাংলাদেশ হতাশা ও দুঃখ বোধ করছে।




চিন্ময় কৃষ্ণসহ ইসকনের ১৭ সদস্যের ব‌্যাংক হিসাব জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ইসকন বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে বলেছে।

বৃহস্প‌তিবার ( ২৮ নভেম্বর) বিএফআইইউ’র সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব জব্দ করা ব্যক্তিদের নামে ব্যক্তি মালিকানা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট স্থগিত থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার এ সময় বাড়ানো হবে।

যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে

চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, কার্ত্তিক চন্দ্র দে, অনিক পাল, সরোজ রায়, সুশান্ত দাস, বিশ্ব কুমার সিংহ, চন্ডিদাস বালা, জয়দেব কর্মকার, লিপী রানী কর্মকার, সুধামা গৌর দাস, লক্ষণ কান্তি দাশ, প্রিয়তোষ দাশ, রূপন দাস, রূপন কুমার ধর, আশীষ পুরোহিত, জগদীশ চন্দ্র অধিকারী, এবং সজল দাস।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালার সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে হিসাব স্থগিত করা ব্যক্তিদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব হিসাব স্থগিত করা হয়েছে তাদের হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী যাবতীয় তথ্য চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে।




হজ এজেন্সি ব্যবসা বিপদগ্রস্ত, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

বর্তমানে বাংলাদেশের হজ এজেন্সি ব্যবসা এক কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি। ২০২৫ সালের হজ মৌসুমের জন্য ইতোমধ্যে ৯৩৭টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশিত হলেও, এর মধ্যে ১০৯টি এজেন্সি এখনও কোনো হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করতে পারেনি। ধর্ম মন্ত্রণালয় এসব এজেন্সির কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাদেরকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ এবং পরিণতি

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জানানো হয় যে, ১০৯টি এজেন্সি যদি প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী না পায়, তাহলে তাদের নাম ২০২৫ সালের হজ মৌসুমের অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ পড়ে যেতে পারে। এর ফলে, অনেক হজ এজেন্সি তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে এবং কিছু এজেন্সি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে।

প্রথমে ধর্ম মন্ত্রণালয় ১২৪টি হজ এজেন্সিকে দ্রুত হজযাত্রী প্রাক-নিবন্ধন করার জন্য চিঠি পাঠিয়েছিল এবং বলেছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এই অবস্থার মধ্যে হজ এজেন্সিগুলোর ব্যবসা আরও সংকটে পড়তে পারে।

ব্যবসায়িক সমস্যাগুলি এবং খরচ বৃদ্ধি

হজ এজেন্সির আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে হজ ভিসা, উড়োজাহাজের টিকিট, মক্কা-মদিনায় আবাসন, গাড়ি ভাড়া, খাবারের সেবা ইত্যাদি। কিন্তু, রিয়ালের মূল্য বৃদ্ধি, হজকোটা পূর্ণ না হওয়া এবং সৌদি আরবের নতুন শর্তাবলীর কারণে এই ব্যবসা পরিচালনা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেক হজ এজেন্সি বর্তমানে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন।

একটি হজ এজেন্সির মালিক, যিনি ২০১২ সাল থেকে হজ এবং উমরা সেবা প্রদান করে আসছেন, বার্তা২৪.কমকে জানান, করোনার পর থেকে তাদের ব্যবসা আগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২২ সালে তারা মাত্র ৭০ জন হজযাত্রী পাঠাতে সক্ষম হলেও, করোনার আগে এই সংখ্যা ছিল ২০০-৪০০ জন। একই সঙ্গে, খরচ বৃদ্ধির কারণে এবছরও হজকোটা পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম, এবং ২০২৩ সালের হজ মৌসুমে ৪০,০০০ কোটার স্থান ফাঁকা ছিল, যা এবছরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে বাংলাদেশে ১,২৩৮টি হজ এজেন্সি রয়েছে, যার মধ্যে ৯৩৭টি হজ এজেন্সি কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন পেয়েছে। এই সব এজেন্সির মাধ্যমে প্রায় ২০,০০০ মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব মিলিয়ে প্রায় এক লাখ মানুষ হজ সেবা খাতে কর্মরত।

এভাবে চলতে থাকলে, অনেক এজেন্সি তাদের ব্যবসা চালিয়ে নিতে অক্ষম হবে, যা দেশের হজ সেবা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“আমি রংপুরের একজন উপদেষ্টা মনে করি নিজেকে: ড. ইউনূস”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, তিনি শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতার কারণে নিজেকে রংপুরের সন্তান হিসেবে মনে করেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঢাকার তেজগাঁও কার্যালয়ে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের স্বাগত জানাতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন, “আমাকে রংপুরের একজন উপদেষ্টা হিসেবে মনে করবেন।”

এসময়, প্রধান উপদেষ্টা শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশনের সনদ তুলে দেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের হাতে। সনদটি গ্রহণ করেন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। এছাড়া, উপস্থিত ছিলেন আবু সাঈদের ভাতিজা মো. লিটন মিয়া।

ড. ইউনূস আবু সাঈদের বাবা-মায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এর আগে, ৯ আগস্ট, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর, ড. ইউনূস রংপুরের উত্তর জেলা বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করেছিলেন। সেখানে তিনি শহীদ আবু সাঈদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করেন।

অধিকারিকদের সাথে পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাইয়ের সঙ্গে ড. ইউনূস সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এতে, শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসকন: কঠোর অবস্থানে সরকার, হাই কোর্টে জানাল রাষ্ট্রপক্ষ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপের কথা হাই কোর্টকে জানিয়েছে সরকার।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ– ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।

আসাদ উদ্দিন আদালতকে বলেন, এ ঘটনায় সরকারের অবস্থান ‘কঠোর’। এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, একটিতে ১৩ জন, একটিতে ১৪ জন এবং আরেকটিতে ৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ভিডিও দেখে আরও ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ তৎপর আছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

এরপর হাই কোর্ট বেঞ্চ বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যাতে জানমালের ক্ষতি না হয়, যাতে জনগণের উদ্বেগ না থাকে।

এরপর আবেদনকারী আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ইসকানের নিষিদ্ধের পক্ষে বললে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক আবার রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বলেন এবং তার (আবেদনকারী) দুঃশ্চিন্তা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে ইসকনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আদেশ আদালত এদিন দেয়নি।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সরকার যেহেতু ব্যবস্থা নিচ্ছে সেখানে কোর্ট তো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা থাকলে তখন কোর্ট হস্তক্ষেপ করে।”

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুধবার এই বেঞ্চে ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে আবেদনটি করেন। চট্টগ্রাম ও রংপুরে জরুরি অবস্থা জারির আর্জিও তিনি জানান।

আবেদনের শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ডেকে পাঠায় আদালত। পরে এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ইংরেজি নাম ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ইসকন। হিন্দু ধর্মগুরু অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসকন মূলত গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী। বর্তমানে বিশ্বে ইসকনের ৫০ হাজারের বেশি মন্দির ও কেন্দ্র রয়েছে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া এবং ভারত উপমহাদেশে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামে ইসকন পরিচালিত মন্দির পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ, সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের হাকিম আদালত।

ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। বেলা সোয়া ১২ টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।

এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

বুধবার সাইফুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমও ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।




সৌদিসহ যেসব দেশে নিষিদ্ধ ইসকন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস (ইসকন) বা আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের কর্মকাণ্ড নিয়ে বাংলাদেশে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনটির কার্যক্রম ‘উগ্রবাদী’ আখ্যা দিয়ে এটিকে বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবিও উঠেছে। বিষয়টি এখন আদালতে নির্ধারিত হবে।

উগ্রবাদিতার অভিযোগ থাকায় ইসকনকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী আল মামুন রাসেল।

এই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নে (বর্তমান রাশিয়া) ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুরেও এটির কোনো কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হয় না।

এছাড়া ইসকনের কর্মকাণ্ড তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং তুর্কেমেনিস্তানে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয় বলেও আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।