পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এর আগে, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ওই সময় দুই পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে, কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ও পটুয়াখালী পায়রা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে তিন বছরের জন্য কালাইয়া বন্দর ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি আশরাফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন। তবে, গত কিছুদিন ধরে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন বারবার স্ট্যান্ড দখল করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলী আজমের পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্ট্যান্ড দখল করতে গেলে, এর প্রতিবাদে স্ট্যান্ড কমিটির সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটে এবং বেশ কিছু ব্যক্তি আহত হন।
রোববার সকালে আলী আজমের পক্ষের লোকজন স্ট্যান্ড দখল করে নেয়, যা নিয়ে যুবদল নেতা আরিফ হোসেনের লোকজন হামলার শিকার হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মো. আবু তাহেরকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাসনিন তানজিলা ইসলাম জানান, আবু তাহেরের ডান হাতের তিনটি আঙুলে কোপ রয়েছে, যার মধ্যে একটি আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
স্ট্যান্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বলেন, আলী আজমের পক্ষের কাছে স্ট্যান্ড দখলের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা গায়ের জোরে স্ট্যান্ড দখল করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁর পক্ষের লোকজন এই সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, যিনি (আরিফ) অভিযোগ করেছেন, তিনি বিএনপির সদস্য নন, বরং অতীতে যুবলীগের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এখন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রথম ঘটনায় এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
—
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম