বাউফলে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান হাওলাদার (৩০)-কে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী জন্মগতভাবে বাক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা কাজের জন্য বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত হাসান হাওলাদার কিশোরীকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালায়।

কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মেয়ের চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তার মা। অভিযুক্ত হাসান তখনই পালিয়ে যায়। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যরা কিশোরীর মা ও ফুফুকে মারধর করেন।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আব্দুর রউফ বলেন, “ভুক্তভোগী কিশোরীকে বিকেল ৫টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসান হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।

প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয় এবং ১২টা ২৭ মিনিটে শেষ হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশের তাবলীগ জামায়েতের মুরুব্বি মাওলানা জুবায়ের।

শুরায়ি নেজামের ইজতেমা আয়োজক কমিটির মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, বুধবার সকাল থেকেই ভারতের ব্যাঙ্গালুরের তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বি ফারুক সাহেবের বয়ান শুরু হয়, যা বাংলায় অনুবাদ করেন মুফতি আমানুল হক। এরপর হেদায়াতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমান, যার বাংলা অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। এই বয়ানের পরে নসিয়তমূলক বক্তব্য পেশ করেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেউলা, যার বাংলা অনুবাদ করেন মাওলানা জুবায়ের।

ইজতেমা মাঠে কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে, এবং মাঠের মধ্যে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় মুসল্লিরা আশপাশের সড়ক ও বাড়ির ছাদেও অবস্থান নেন। শিল্পনগরী টঙ্গী পরিণত হয় এক বিশাল ধর্মীয় নগরীতে, যেখানে উপস্থিত ছিল দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা।

এদিন মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা আসেন এবং ১৬০ একরের বিশাল ময়দানটি পূর্ণ হয়ে যায়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বেঁচে গেছে হজের অর্থ, হাজিদের বিপুল অর্থ ফেরত দিচ্ছে পাকিস্তান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গত বছর পবিত্র হজ পালন করা হাজিদের জন্য বড় অংকের অর্থ ফেরত দেওয়া ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হুসাইন গত বছর হজ করা হাজিদের ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মূলত হজের জন্য হাজিদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ বেঁচে যাওয়ার কারণেই তা ফেরত দিচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রী চৌধুরী সালিক হুসাইন বলেন, “আমি জাতিকে একটি সুসংবাদ জানাতে চাই। আমরা গত বছর হজ করা সকল হজযাত্রীর টাকা ফেরত দিচ্ছি। সর্বনিম্ন ২০ হাজার রুপি থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে এবং আমরা এ বছরও হজের জন্য সর্বোত্তম সুবিধা প্রদান অব্যাহত রাখব। এ বছরের হজের খরচও বাড়েনি।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান যে হজ প্যাকেজ দিচ্ছে তা বিশ্বের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যের।

পাকিস্তানের ধর্ম-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাজিদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে আরও বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, কিছু হাজি ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত অর্থ ফেরত পাবেন, আর অন্যরা কমপক্ষে ২০ হাজার রুপি পাবেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম বলছে, গত বছর হজ পালন করা তিন শতাংশ হজযাত্রী পাবেন ১ লাখ ৪০ হাজার রুপি, ২৩ শতাংশ হজযাত্রী পাবেন ৭৫ হাজার রুপি এবং ৩ হাজার হাজি ৫০ হাজার রুপি করে ফেরত পাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, এ বছরের হজ প্রক্রিয়ায়ও যদি অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব হয়, তবে সেই অর্থও হজযাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে।




ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। মোনাজাত পরিচালনা করবেন শুরায়ি নেজামের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ।

শুরায়ি নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আয়োজকরা জানান, বুধবার বাদ ফজর ভারতের বেঙ্গালোরের মাওলানা ফারুকের বয়ান করার কথা রয়েছে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে হেদায়েতি বয়ান করবেন হিন্দুস্থানের মাওলানা আব্দুর রহমান। এ বয়ানের পর গুরুত্বপূর্ণ নসিহত পেশ করবেন ভারতের মাওলানা ইব্রাহীম দেওলা। দুপুর ১২টা থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন শুরায়ি নেজামের শীর্ষ মুরুব্বি হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ। প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতও তিনিই পরিচালনা করেছেন।

এদিকে, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপের দ্বিতীয় দিনে ২৩ যুগলের যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ আসর ইজতেমা ময়দানের মূল বয়ান মঞ্চে হজরত ফাতেমা (রা.) ও হজরত আলী (রা.) এর বিয়ের দেনমোহর অনুসারে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের প্রথম ধাপ। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়, যা আজ শেষ হচ্ছে।

৮ দিন বিরতি দিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করবেন ভারতের মাওলানা সাদ অনুসারীরা। ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২৫ সালের বিশ্ব ইজতেমা।




পটুয়াখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপন

বিদ্যার আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রত্যাশায় পটুয়াখালীতে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে সরস্বতী পূজা। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মন্দির ও বিদ্যালয়গুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আমেজ।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজা উপলক্ষে ভিড় জমায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয় রঙিন আলপনায়, আর ভক্তিমূলক সংগীতে মুখরিত হয় চারপাশ।

পূজা চলাকালীন সময়ে শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ। দেবীর চরণে অর্পণ করা হয় পুষ্পাঞ্জলি, বই-খাতা ও বাদ্যযন্ত্র। পরে আয়োজিত হয় শিশুদের হাতে খড়ি, আলোচনা সভা ও প্রসাদ বিতরণ।

এছাড়া, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের বাসাবাড়িতেও বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী মায়ের পূজা উদযাপন করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ, আখেরি মোনাজাতে লাখো মুসল্লির প্রার্থনা

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ জমায়েত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটেছে। রোববার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ১১ মিনিটে শুরু হওয়া আখেরি মোনাজাত ৯টা ৩৫ মিনিটে শেষ হয়।

বিশ্ব শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কল্যাণ কামনায় আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা জুবায়ের সাহেব। পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। লাখো মুসল্লি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় গুনাহ মাফ ও দুনিয়ার শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব বৃহস্পতিবার শুরু হয়। ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, রোববার বাদ ফজর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমানের হেদায়েতি বয়ানে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। তিনি মুসল্লিদের ইজতেমার শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার নির্দেশনা দেন। বয়ানটি বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা আব্দুল মতিন।

এরপর ভারতের মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা মুসল্লিদের উদ্দেশে নসিহতমূলক বক্তব্য দেন, যা বাংলায় অনুবাদ করেন মাওলানা জুবায়ের। বয়ানে দ্বীনের দাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া, আত্মশুদ্ধি ও ইসলামের মৌলিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালের মুক্তির জন্য দোয়া করা হয়। উপস্থিত মুসল্লিরা দুই হাত তুলে আল্লাহর রহমত কামনা করেন এবং বারবার ‘আমিন, আমিন’ ধ্বনি উচ্চারণ করেন।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব আগামী সপ্তাহে শুরু হবে, যেখানে দেশ-বিদেশের আরও লাখো মুসল্লি অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ২৪২টি আয়রন ব্রিজ জড়াজীর্ণ, জনদুর্ভোগ চরমে

পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ২৪২টি আয়রন ব্রিজ সংস্কারের অভাবে জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ব্রিজ দিয়ে একসময় স্থানীয়রা উপজেলা ও জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে যাতায়াত করতেন। তবে বর্তমানে ব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত এসব ব্রিজ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

পুরনো ব্রিজ, নতুন সংকট

পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জেলার গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ সহজ করতে এসব আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, জলযানের ধাক্কায় বেশ কিছু ব্রিজ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের পরিসংখ্যান

পটুয়াখালী এলজিইডি ২৪২টি ব্রিজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উপজেলার ভিত্তিতে ব্রিজগুলোর অবস্থা নিম্নরূপ—

বাউফল: ৬৩টি

মির্জাগঞ্জ: ৫৬টি

পটুয়াখালী সদর: ৪২টি

গলাচিপা: ৩৫টি

দশমিনা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া: ১০টি করে

এর মধ্যে ৪টি ব্রিজ মেরামতযোগ্য হলেও বাকিগুলো প্রতিস্থাপন বা নতুন করে নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলোর করুণ দশা

দুমকি উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের ভাড়ানী খালের আয়রন ব্রিজটি ২০২১ সালে বালুভর্তি ট্রলারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। ফলে দু’পাড়ের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সালাম জানান, বাজারের কয়েক হাজার মানুষ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। এখন তাদের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া-নৌকায় পার হতে হচ্ছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর আয়রন ব্রিজটি ২০২০ সালের ২ এপ্রিল প্রবল জোয়ারের চাপে ভেঙে পড়ে। ফলে অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, তাঁর এলাকায় পাঁচটি আয়রন ব্রিজ বহুদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি একাধিকবার এলজিইডি অফিসে চিঠি দিলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, ‘জেলার ২৪২টি জড়াজীর্ণ ব্রিজের তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জনপ্রত্যাশা

জেলার গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্রিজ দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্ব ইজতেমায় লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বৃহত্তম জুমার নামাজ

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেন।

জুমার নামাজে ইমামতি করেন তাবলীগ জামাতের শীর্ষস্থানীয় মাওলানা জুবায়ের আহমেদ। দুপুর ১টা ৪৩ মিনিটে খুতবা শুরু হয়, এরপর ১টা ৫১ মিনিটে নামাজ শুরু হয়ে ১টা ৫৬ মিনিটে শেষ হয়।

মুসল্লিদের ঢল ও নামাজের আয়োজন

জুমার নামাজে শুধু ইজতেমায় অংশ নেওয়া মুসল্লিরাই নয়, আশপাশের জেলা থেকেও অসংখ্য মানুষ এসে যোগ দেন। ভোর থেকে মুসল্লিরা বাস, ট্রেন, অটোরিকশা এমনকি হেঁটেও ইজতেমা ময়দানে আসেন।

ময়দানের নির্ধারিত খিত্তার পাশাপাশি তুরাগ নদীর পশ্চিমপাড়, পার্শ্ববর্তী কামারপাড়া সড়ক, ফুটপাত এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের খোলা জায়গায়ও মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাঁচটি সেক্টরে ভাগ হয়ে ৭ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও অন্তত ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন।

বিশ্ব ইজতেমার গুরুত্ব ও আয়োজকরা

তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বিদের মতে, টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি এতে অংশ নেন। বিশ্বের খ্যাতনামা ইসলামিক স্কলাররা এখানে বয়ান করেন, যেখানে সব বয়সী মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। এবারের বিশ্ব ইজতেমা ৫৮তম আয়োজন।

বয়ানের সময়সূচি ও বক্তারা

তাবলীগ জামাতের শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ্ রায়হান জানান,

বাদ জুমা: জর্ডানের শেখ উমর খাতিব

বাদ আসর: মাওলানা জুবায়ের আহমেদ

বাদ মাগরিব: ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট

 

এবারের বিশ্ব ইজতেমা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম ধাপ: ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।

দ্বিতীয় ধাপ: ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।

তৃতীয় ধাপ: ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কানায় কানায় পূর্ণ টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান, লাখ লাখ মুসল্লির জমায়েত

আজ শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ মুসল্লির জমায়েত শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন, সেই সঙ্গে বিদেশি মুসল্লিরাও এসেছেন।

ইজতেমা মাঠের প্রতিটি ব্লকে তাবুতে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি করছেন, কেউ ঘুমাচ্ছেন, আবার অনেকেই খাবার রান্নার কাজ করছেন। আগেভাগে রান্না শেষ করে প্রথম দিনের জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুসল্লিরা।

পল্টন থেকে ইজতেমা মাঠে আসা আহমেদ রাফি বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ জন এসেছি। এবারের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো। আমাদের সবারই চাওয়া দেশে শান্তি। আমরা যেনো ইসলামের পথে চলতে পারি।”

অন্যদিকে, পুরান ঢাকার লালবাগ থেকে ১৫০ সাথী নিয়ে এসেছেন জামিল। তিনি বলেন, “এখানে আগেও এসেছি। অতীতের চেয়ে পরিবেশ ও নিরাপত্তা অনেক ভালো। বর্তমানে তাবলীগ জামায়াত ঘিরে যে সমস্যা চলছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সমাধান চাইবো।”

বিশ্বের ৭০টি দেশ থেকে দুই হাজারের বেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা তাবুর ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কেউ তাদের সংস্পর্শে আসতে না পারে।

পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে আসা জিয়াউর রহমান ফারুকী বলেন, “আমি ৫ বার এসেছি। বাংলাদেশিরা আমাদের মতো বিদেশি মেহমানদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করেছেন। তাদের মেহমানদারিতে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

এছাড়াও, কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশি দিন ইসলামও কুয়েত থেকে ২০ জনের একটি জামায়াত নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে খুব সুন্দরভাবে আমল করছি। প্রতিটি পর্বে আমল হচ্ছে। এখানে তাবু ও খেমায় আমল হয়।”

ইজতেমা মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ এবং ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, “ইজতেমার মাঠে খুবই শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। ইজতেমা ঘিরে কোনো যানজট নেই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।” তিনি আরও জানান, হকারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ভিক্ষুকদের বিষয়ে সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম