বদরপুর দরবারে লাখো মানুষের ঢল, শেষ হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল

পটুয়াখালী জেলার ঐতিহ্যবাহী দাওয়াতুল ইসলাম বদরপুর দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো ৮৬তম ঈছালে ছওয়াব মাহফিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই বিশাল ধর্মীয় আয়োজন ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য ভক্ত, জাকের ও আশেক অংশ নেন। পুরো দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় আধ্যাত্মিক আবহে ভরা এক মিলনমেলায়।

শনিবার বাদ ফজর মরহুম পীর সাহেব কেবলাদ্বয়ের মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জিয়ারতের পর তা’লিমী জলসা, হালকায়ে জিকির, পবিত্র কোরআন খতম, খতমে তাহলিল, খতমে খাজেগান, খতমে আম্বিয়া, খতমে গাউসিয়া শরীফ, মিলাদ, সালাতু সালাম, দুরুদ ও ক্বেয়াম অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী বয়ান প্রদান করেন বর্তমান পীর সাহেব কেবলা আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ মুতাসিম বিল্লাহ রব্বানী বদরপুরী।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উডসাইড আহলুল বাইত মিশন জামে মসজিদ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন আল্লামা মুফতী ড. সাইয়্যেদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রব্বানী। উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আরিফ বিল্লাহ রব্বানী ও আল্লামা মুফতী শাহ সাইয়্যেদ নাসির বিল্লাহ রব্বানী। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী সাইয়্যেদ নাজমুস সায়াদাত আখন্দ। এছাড়া দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান পীর, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী বক্তারা বিভিন্ন পর্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

১৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সারা রাতব্যাপী তা’লিমী জলসা ও ওয়াজ মাহফিল চলে। শেষ দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতে লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রার্থনা করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে বদরপুর দরবার শরীফ দীর্ঘ এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারক। দরবারের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবে বাঙ্গাল শাহসূফী হযরত মাওলানা সাইয়্যেদ উসমান গনী বদরপুরী (রহঃ) এ অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামের দাওয়াত প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের বিহার শরীফে প্রোথিত ছিল। প্রায় আড়াইশ বছর আগে তার বংশধররা এ অঞ্চলে এসে ধর্মীয় শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের কাজ শুরু করেন।

পরবর্তীতে তার উত্তরসূরি আল্লামা শাহ সাইয়্যেদ আব্দুর রব চিশতী বদরপুরী (রহঃ) বরিশাল অঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি বিভিন্ন মাদরাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং ঢাকার ঐতিহাসিক পাটুয়াটুলি জামে মসজিদে দীর্ঘ ৩২ বছর খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সালে তার ইন্তেকালের পর তার চার সাহেবজাদা খেলাফতপ্রাপ্ত হয়ে দরবার শরীফের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আয়োজকরা জানান, শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে দরবার শরীফ সমাজ সংস্কার, শিক্ষা বিস্তার ও আধ্যাত্মিক চর্চায় যে ভূমিকা রেখে চলেছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মক্কা-মদিনায় এক মাসে প্রায় ৭ কোটি জিয়ারতকারী

পবিত্র মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববিতে মাত্র এক মাসে প্রায় ৭ কোটি উমরা পালনকারী, মুসল্লি ও জিয়ারতকারীর আগমন ঘটেছে। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমাদিউস সানি মাসে মোট ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৩ জন মানুষ এই দুই মসজিদে ইবাদত ও জিয়ারতে অংশ নেন। যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৩ কোটি মুসল্লি মসজিদে হারামে নামাজ ও ইবাদত আদায় করেন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৭০০ জন মুসল্লি কাবা শরিফসংলগ্ন হাতিমে কাবায় নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। একই সময়ে মদিনার মসজিদে নববিতে ইবাদত ও জিয়ারতের জন্য গেছেন প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ মুসল্লি।

এছাড়া পবিত্র রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ মুসল্লি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর দুই সাহাবির কবর জিয়ারত করেছেন আরও প্রায় ২৩ লাখ মানুষ।

সৌদি হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু জমাদিউস সানি মাসেই দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি মুসলমান উমরা পালন করেছেন। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সেবা এবং ডিজিটাল সুবিধার কারণে উমরা পালনকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উক্ত সময়ে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আগত উমরা যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখের বেশি। ডিজিটাল ভিসা, সমন্বিত লজিস্টিক সেবা এবং সহজ আগমন প্রক্রিয়ার ফলে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করার সুযোগ পাচ্ছেন।

দুই পবিত্র মসজিদে মুসল্লি ও জিয়ারতকারীর এই ব্যাপক উপস্থিতি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হজ, উমরা ও জিয়ারত ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কাজ করছে সৌদি সরকার। যাত্রা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সৌদি আরব ত্যাগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মুসল্লিদের স্বস্তি ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে বড়দিন

শান্তি, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন গির্জায় যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় আচার ও নানাবিধ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

সকাল ৯টায় বরিশাল নগরীর সদর রোডস্থ ক্যাথলিক চার্চ ক্যাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে প্রধান প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও অক্সফোর্ড মিশন (সেন্ট পিটার্স) চার্চ, ব্যাপ্টিস্ট চার্চসহ নগরীর অন্যান্য গির্জায় একযোগে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কনকনে শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে গির্জায় উপস্থিত হতে থাকেন।

বড়দিন উপলক্ষে বরিশালের গির্জাগুলোকে বর্ণিল আলোকসজ্জা, ক্রিসমাস ট্রি, ফুল ও রঙিন ব্যানারে সাজানো হয়। গির্জার ভেতর ও বাইরে ছিল উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আয়োজনের মধ্যে বিশেষ প্রার্থনা, কীর্তন, বাইবেল পাঠ এবং যিশু খ্রিস্টের জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনেক গির্জায় শিশুদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান ও নাট্য পরিবেশনা আয়োজন করা হয়, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

প্রার্থনায় অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, মানবতার মুক্তি, ভালোবাসা ও ত্যাগের যে শিক্ষা যিশু খ্রিস্ট দিয়ে গেছেন, সেই আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আগামী বছর যেন শান্তি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বন্ধনে অতিবাহিত হয়—এটাই তাদের প্রধান প্রার্থনা। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।

বড়দিন ঘিরে নগরীর প্রধান গির্জাগুলোর আশপাশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হচ্ছে। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের আনন্দে শরিক হন, যা বরিশালের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ফুটে ওঠে।

সব মিলিয়ে বরিশালে বড়দিন পরিণত হয়েছে ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি শান্তি ও সহাবস্থানের এক মিলনমেলায়—যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের বার্তা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




২০২৬ সালে ৭৮ হাজার বাংলাদেশির হ্বজ করার অনুমতি পাবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইসলামের পাচ স্তম্বের মধ্যে হজ্ব একটি, আর সামার্থ্য বান প্রত্যেক নর ও নারীর জন্য হ্বজ ফরজ ।   তাই প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশী মুসলমান এই হ্বজ ব্রত পালন করে এবার ও তার ব্যতিক্রম নয় ।  সৌদি আরব ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০২৬ সালের পবিত্র হজ নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তি অনুসারে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালন করতে পারবেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি আরবের জেদ্দায় এ চুক্তি হয়। বাংলাদেশের পক্ষে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাওজান আল রাবিয়াহ চুক্তিতে সই করেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুক্তি সইয়ের সময় ধর্ম উপদেষ্টা সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সৌদি হজমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সম্পর্কেও সৌদি মন্ত্রীকে জানান।

এ ছাড়া মিনা, আরাফা ও মুজদালিফার তাঁবু ব্যবস্থাপনা, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ। এ সময় সৌদি মন্ত্রী বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বাংলাদেশি হাজিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, ধর্ম উপদেষ্টা সৌদি হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এতে তিনি সম্মতি জানিয়েছেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাসান মানাখারা, বাংলাদেশের ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিন, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশে সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াহ, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, যুগ্ম সচিব (হজ) মঞ্জুরুল হক ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।




কুয়াকাটায় শুরু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রাসমেলা ও রাসপূর্ণিমা উৎসব। ইতোমধ্যে এই উৎসবকে ঘিরে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির জোয়ারে মুখর পুরো কুয়াকাটা পর্যটন শহর।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, কার্তিক মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রাসলীলা ও মা লক্ষ্মীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর কুয়াকাটায় এই উৎসব পালিত হয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি এখন কুয়াকাটার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও পর্যটন উৎসবে রূপ নিয়েছে, যেখানে দেশ-বিদেশের হাজারও দর্শনার্থী ও তীর্থযাত্রী সমবেত হন।

গত ১৮ অক্টোবর কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল বরন দাস জানান, রাসমেলা আগামী ৪ নভেম্বর শুরু হয়ে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। উৎসবের প্রতিদিনই থাকবে গঙ্গাস্নান, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রদীপ প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তিনি বলেন, “এই উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি কুয়াকাটার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক।”

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন মণ্ডল বলেন, “রাসমেলা এখন এমন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ অংশ নেয়। পর্যটক, ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনতা সবাই মিলে এটিকে উৎসবের শহরে পরিণত করে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, রাস উৎসবের সময় পর্যটকের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে।

স্থানীয় দোকানদার আবদুর রহমান বলেন, “রাসমেলার সময় কুয়াকাটায় ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মেলার সময় দোকানে ভিড় থাকে, বিক্রিও ভালো হয়। এটি আমাদের জন্য উৎসবের সময়।”

উৎসবের মূল আকর্ষণ হলো গঙ্গাস্নান, যা অনুষ্ঠিত হবে রাসপূর্ণিমার সকালে। ভোরে হাজারও ভক্ত, সাধু-সন্ন্যাসী ও তীর্থযাত্রী সমুদ্রের পবিত্র জলে পুণ্যস্নান করেন। পরে দিনভর চলে পূজা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদীপ প্রজ্বালন ও নানা ধর্মীয় আচার।

রাসমেলাকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা সৈকতজুড়ে চলছে অস্থায়ী দোকান, প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জা নির্মাণের কাজ। হোটেল-মোটেলগুলোতে চলছে বুকিংয়ের ধুম, আর পর্যটন শহরটি যেন এখন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, রাসমেলা কুয়াকাটার ঐতিহ্যের প্রাণ; এটি ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও আনন্দের মিলনমেলা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“আবরাহার নকল কাবা: রাজনীতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার করুণ পরিণতি”

ইসলামের আগমনের পূর্বে আরবের একটি ঘটনাই মুসলমানদের জন্য এক চিরন্তন স্মৃতি। ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ইয়েমেনে আবিসিনিয়ার শাসক আবরাহা ‘নতুন কাবা’ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি মক্কার কাবাকে প্রতিস্থাপন করে ইয়েমেনকে ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।

আবরাহা সানা শহরে ‘আল-কালিস’ নামে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করেন। এটি অত্যন্ত বিলাসবহুল ও উঁচু, যা দৃষ্টিনন্দন হলেও আরব উপজাতি ও কুরাইশরা একেবারেই প্রত্যাখ্যান করে। কুরাইশদের একজন যুবক সেখানে প্রবেশ করে গির্জাটিকে অপবিত্র করেন। আবরাহা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মক্কার দিকে বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে অগ্রসর হন।

কোরআনে সূরা ফিল-এ বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, আল্লাহতায়ালা আবাবিল পাখি পাঠিয়ে সিজ্জিল (পোড়া মাটির পাথর) দিয়ে আবরাহার সেনাকে ধ্বংস করেন। আবরাহা নিজেও আহত হয়ে খাত’আম অঞ্চলে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা ঘটেছিল ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে, মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম বর্ষে, যাকে ‘আম আল-ফিল’ বলা হয়।

আজ আবরাহার গৌরবময় উপাসনালয় আর নেই। সানা শহরে এর ধ্বংসাবশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের রূপে সংরক্ষিত। এটি আবরাহার ব্যর্থতার প্রতীক, যেখানে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসবহুল নির্মাণ কোনো ধর্মীয় বিশ্বাসকে জয় করতে পারেনি। বিপরীতে, মক্কার কাবা প্রতিবছর লাখ লাখ মুসলমানকে আকর্ষণ করছে, যা সত্যিকারের ইমান ও আল্লাহর সুরক্ষার প্রমাণ।

ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে ধর্মীয় বিশ্বাসকে রাজনৈতিক প্রভাব, ক্ষমতা বা বিলাসবহুল নির্মাণ দিয়ে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। সত্যিকারের ইমান অটুট থাকলেই কোনো শত্রু সফল হতে পারে না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে ফানুস উড়িয়ে শেষ হলো প্রবারণা উৎসব

পটুয়াখালী জুড়ে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে কলাপাড়ার নতুনপাড়া বৌদ্ধ বিহারে ফানুস উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় এই উৎসবের মূল পর্ব।

রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এ উৎসব উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন রাখাইনপল্লী উৎসবের সাজে সেজে ওঠে। কুয়াকাটার রাখাইনপাড়া, মৎস্য বন্দর মহিপুরের কালাচানপাড়া, অমখোলাপাড়া, মিস্রিপাড়া ও নয়াপাড়াসহ পটুয়াখালী জেলার মোট ৩১টি রাখাইন গ্রামে একযোগে শত শত ফানুস উড়িয়ে প্রবারণার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

রাতভর চলা এই উৎসবে অংশ নেন রাখাইন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণরা। আকাশজুড়ে উড়ন্ত ফানুসের আলোয় উৎসবস্থল রূপ নেয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে। উৎসবের আগে গৌতম বুদ্ধকে স্মরণে প্রজ্জ্বলন করা হয় হাজারো প্রদীপ, যা বৌদ্ধ বিহারজুড়ে এক আধ্যাত্মিক পরিবেশ সৃষ্টি করে।

উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি বৌদ্ধবিহারে ছিল বর্ণিল আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা ও ধর্মীয় আয়োজন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদীকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এদিকে, প্রবারণা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার কঠিন চিবরদান উৎসব, যা এক মাসব্যাপী চলে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হজ ও উমরা কখন করবেন: ইসলামিক নির্দেশনা

হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম। আল্লাহতায়ালা বলেন, মক্কায় প্রথম ঘর মানুষের কল্যাণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। এটি বরকতময় ও বিশ্বের মানুষের জন্য হেদায়েতবহ। যে ব্যক্তি সামর্থ্যবান, তার জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ পালন ফরজ। -সূরা আলে ইমরান: ৯৬-৯৭

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ইসলামের পাঁচ স্তম্ভ হলো:
১. সাক্ষ্য প্রদান যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল,
২. নামাজ প্রতিষ্ঠা,
৩. জাকাত প্রদান,
৪. হজ সম্পাদন এবং
৫. রমজানের রোজা পালন। -সহিহ বোখারি: ৮

জীবনে অন্তত একবার হজ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ, যদি তার শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকে। হজ সম্পাদনের জন্য খরচ, সফরের সময় নিজের ও পরিবারের স্বাভাবিক খরচের ব্যবস্থা এবং শারীরিক সক্ষমতা থাকলে হজ ফরজ হয়ে যায়।

হজের মৌসুম: ৮ থেকে ১৩ জিলহজ। এই সময়ে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ও জামারাতে হজের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতসমূহ পালন করতে হয়। হজের ইহরামের সময় হলো ১ শাওয়াল থেকে ৯ জিলহজ পর্যন্ত। এছাড়া, বারবার হজ সম্পাদন করা সম্ভব।

যদি কেউ হজ ফরজ হওয়ার পর শারীরিকভাবে সক্ষমতা হারান, তবে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে বদলি হজ করানো ফরজ। বদলি হজ করার জন্য পূর্বে নিজে হজ করা আবশ্যক নয়, এবং হজের ব্যয়ের অর্থ অন্য কেউ প্রদান করলেও হজ আদায় হয়ে যাবে।

উমরা: সামর্থ্য থাকলে জীবনে অন্তত একবার উমরা পালন করা সুন্নত। হজের সময় ছাড়া বছরের যেকোনো সময় উমরার ইহরামের নিয়ত করা যায়। উমরা করার সময় আরাফাত, মুজদালিফা, মিনা ও জামারাতে যেতে হয় না। উমরা হজের বিকল্প নয়। হজ ফরজ হলে তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। রমজান মাসে উমরা করলে তা নবী করিম (সা.)–এর সঙ্গে হজ করার সমান সওয়াবের অধিকারী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মক্কা-মদিনায় মুসল্লিদের জন্য আরও উন্নত ডিজিটাল সেবা

মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববিতে মুসল্লি ও উমরা পালনের সুবিধার্থে উন্নতমানের ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে। হারামাইন পরিচালনা কর্তৃপক্ষ আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে সমন্বিত সেবা প্রদান করছে, যার লক্ষ্য হলো ইবাদত-বন্দেগি নির্বিঘ্ন ও সুবিধাজনক করা।

মক্কার মসজিদে হারামে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভিড় নিয়ন্ত্রণে এআই প্রযুক্তি, শিশুদের জন্য নিরাপত্তামূলক ব্রেসলেট, প্রতিবন্ধী ও অন্ধদের জন্য বিশেষ সেবা চালু করা হয়েছে। অন্ধদের জন্য কোরআন শরিফ এবং মাসয়ালা জানার সুবিধার জন্য বেইল পদ্ধতির বুথ রয়েছে। মদিনার মসজিদে নববিতেও একই ধরনের সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগে মুসল্লিদের জন্য আটটি নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উমরা পালনের নির্দিষ্ট সময় বুকিং, হোটেল ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব। এছাড়া, সেবার মানোন্নয়ন ও অভিযোগ জমা দেওয়ার ডিজিটাল ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে যেকোনো অভিযোগ দ্রুততম সময়ে সমাধান করা যায়।

হারামাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহজ ও নিরাপদ পরিবেশে ইবাদত করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং সেবার মানোন্নয়নে যুগোপযোগী প্রযুক্তি ব্যবহার করা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




২১ সেপ্টেম্বর: আজকের নামাজের সময়সূচি

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ: ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয়। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বাইরে ওয়াজিব, সুন্নত ও কিছু নফল নামাজ রয়েছে।

যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিয়ামতের দিন প্রথম হিসাব নেওয়া হবে নামাজের।

আজ রোববার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইংরেজি, ৬ আশ্বিন ১৪৩২ বাংলা, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৭ হিজরি।

ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো-
জোহর – ১১টা ৫২ মিনিট
আসর – ৪টা ১৪ মিনিট
মাগরিব – ৫টা ৫৭ মিনিট
এশা  ৭টা ১১ মিনিট
ফজর (সোমবার) – ৪টা ৩২ মিনিট

উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগের সময় যোগ-বিয়োগ করতে হবে, সেগুলো হলো-

বিয়োগ করতে হবে
চট্টগ্রাম :৫ মিনিট
সিলেট :৬ মিনিট

যোগ করতে হবে
খুলনা :৩ মিনিট
রাজশাহী :৭ মিনিট
রংপুর :৮ মিনিট
বরিশাল : ১ মিনিট