অস্তিত্ব হুমকিতে পড়লে পারমাণবিক সীমা অতিক্রম করবে রাশিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে রাশিয়ার দেওয়া পারমাণবিক সতর্কতাকে গুরুতর হিসেবে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ এই কর্মকর্তা।

শনিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাস নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে যে, অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লেও মস্কো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সেটি ভুল হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ।

২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ। বর্তমানে দেশটির শক্তিশালী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রও মেদভেদেভ।

তিনি বলেছেন, শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ চান না। তবে কিছু কারণে তারা বিশ্বাস করেন, রুশরা কখনই চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করবে না।

দেশটির সংবাদমাধ্যম আরটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেদভেদেভ বলেন, ‘‘তারা ভুল করছেন।’’ তিনি বলেন, মস্কো বিশ্বাস করে, বর্তমান মার্কিন ও ইউরোপীয় রাজনৈতিক দলগুলোতে প্রয়াত হেনরি কিসিঞ্জারের দেখানো ‘‘দূরদর্শিতা এবং সূক্ষ্ম চিন্তা-ভাবনার’’ অভাব রয়েছে।




পুরোনো কৌশলে আগাম প্রস্তুতি ট্রাম্পের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প একবার আবার পুরোনো কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। নির্বাচনের আগে থেকেই তিনি ও তাঁর মিত্ররা ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলার কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার উইসকনসিনের মিলওয়াকি শহরে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ‘প্রতারকের দল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নির্বাচনের জন্য আগামী মঙ্গলবার ভোট গ্রহণ করা হবে, তবে এর আগেই ট্রাম্পের দল একটি অভিযোগের বয়ান তৈরি করছে যাতে নির্বাচন নিয়ে তাদের বক্তব্য সুসংহত হয়। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সমর্থকরা নির্বাচনকালীন কারচুপির অভিযোগে গড়মিল তৈরি করতে চাইছেন।

ট্রাম্পের মিত্রদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে যে, ভোট গণনার আগে ট্রাম্প নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেন, যা ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তাঁর পূর্ববর্তী আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে। তিনি ইতিমধ্যেই পেনসিলভানিয়ার নির্বাচনী সমাবেশে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন এবং দাবি করেছেন যে, স্থানীয় কর্মকর্তারা ভুয়া ব্যালট জব্দ করেছেন।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই অভিযোগকে অবাক হওয়ার কিছু মনে করছেন না। তাদের দাবি, ট্রাম্পের এই কৌশল এবারও ব্যর্থ হবে। নির্বাচনের আস্থা বৃদ্ধির জন্য অলাভজনক সংস্থা স্টেটস ইউনাইটেড ডেমোক্রেসির প্রধান নির্বাহী জোয়ানা লিডগেট জানান, নির্বাচন নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন যে, যদি ট্রাম্প আগাম বিজয়ের দাবি করেন, তবে তারা কীভাবে তা মোকাবিলা করবেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জনগণের আদালতে লড়াই চালানোর পরিকল্পনা করেছেন তারা।

এদিকে রিপাবলিকান পার্টির পুরোনো কৌশলের প্রসঙ্গে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের কাছে মন্তব্যের জন্য ই-মেইল করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।




ড্রোন-আর্টিলারি-বোমা হামলায় বাঁচার কোন জায়গা নেই গাজায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গাজা উপত্যকা জুড়ে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, মধ্য গাজা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের ওপর সবচেয়ে বেশি আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। শনিবার (২ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি ফাইটার জেট আকাশ থেকে বোমাবর্ষণের পাশাপাশি আর্টিলারি আক্রমণ চালাচ্ছে এবং ড্রোন ব্যবহার করে বেসামরিকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন মনে হলেই ড্রোন থেকে গুলি করা হচ্ছে। যদি কেউ গুলির আক্রমণ থেকে বেঁচে যায়, তাহলে আর্টিলারি হামলা হয়, এবং এরপরও বেঁচে থাকলে বোমাবর্ষণের মাধ্যমে তাদের নির্মূল করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন, যেখানে বেসামরিক লোকজন বসবাস করছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। গাজাবাসীরা নুসিরাত শরণার্থী শিবির থেকে দেইর আল-বালাহ ও মাগাজিসহ অন্যান্য শহরে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছে, তবে তাতেও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোয়াডকপ্টার ড্রোন এবং স্থল বাহিনী দিয়ে এ ধরনের এলাকায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।

উত্তর গাজার বেইট লাহিয়াতে তীব্র বোমা হামলার ফলে এলাকা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়েছে। খাবারের সঙ্কট ও বিমান হামলার আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করে চলেছে।

জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর সিনিয়র কর্মকর্তা লুইস ওয়াটারিজ জানিয়েছেন, মধ্য গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে দিন পার করছে। যেটুকু খাবার পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। খাবারের অভাবে অনেকেই অশ্রুসিক্ত নয়নে অপেক্ষা করছেন।

ওয়াটারিজ বলেন, “এখানে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, একটি আটার বস্তা নিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের মধ্যে লড়াই হচ্ছে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে সবাই না খেয়ে মারা যাবেন।”

গাজার উত্তরাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় দু’টি বহুতল ভবনে হামলা চালানো হয়েছে, এতে ৫০ শিশুসহ কমপক্ষে ৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।




যুদ্ধের বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়াকে সহযোগিতা করবে উত্তর কোরিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::ইউক্রেন যুদ্ধে বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত রাশিয়াকে সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মস্কো সফরে গিয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিচক্ষণ নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোরিয়ার উপদ্বীপে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগ তোলেন। শুক্রবার (১ নভেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা পাঠানোর বিষয়ে উত্তেজনার মধ্যে চোই সন হুই নামক উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মস্কো সফরে আসেন। মস্কো বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

একইদিনে, উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চোই সন হুই বিজয় অর্জনের দিন পর্যন্ত রাশিয়ার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং মস্কোর জয়ের বিষয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিজ্ঞ নেতৃত্বে রাশিয়ার সেনাবাহিনী এবং জনগণ অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হবে এবং এই সংগ্রামে বিজয় অর্জন করবে।” তিনি আরও বলেন, “জয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া দৃঢ়ভাবে রাশিয়ার কমরেডদের পাশে থাকবে।”

রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে সেনা পাঠানোর অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি দুই দেশের নেতারা। তবে, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন যে, কিম জং উন ও ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বে মস্কো-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি, দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, “প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং কিম জং উনের কারণে আমাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত কয়েক বছরে অভূতপূর্ব এক উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা কোরিয়ান বন্ধুদের প্রতি আমাদের নীতিগত অবস্থানের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

এছাড়া, কোরিয়া উপদ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের ব্যাপক সমালোচনা করেছেন উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন ও সিউল অঞ্চলে পারমাণবিক যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে এবং পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মত দেন।




এবার আন্তর্জাতিক আদালতেও ফেঁসে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: এবার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছেন বাংলাদেশি একজন আইনজীবী। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে মামলাটি দাখিল করা হয়। মামলাটি করেছেন ‘থ্রি বোল্ট কোর্ট চেম্বার্স’-এর ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন। এর সঙ্গে রয়েছেন ব্যারিস্টার সারাহ ফোরে ও ব্যারিস্টার এমিল লিক্সান্দ্রু।

মামলা সম্পর্কে অবগত করতে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার আশরাফুল আরেফিন ও তার সহযোগীরা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, বাংলাদেশে এক নজিরবিহীন ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে পরিচিতি লাভ করে। এই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার অমানবিক সহিংসতার মাধ্যমে নির্যতিন করেন। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে পুলিশ, র্যাব, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করা হয়।

ছাত্র-জনতার এই আন্দোলনে নির্বিচারে গুলি, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিবাদকারীদের ওপর। ইতিহাসের এই বর্বরতম নৃশংসতায় দেড় হাজারও বেশি মানুষ শহীদ হন। আর আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ, যাদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। স্বৈরাচার সরকারের এই কঠোর ব্যবস্থার ফলে দেশে গণহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও অসংখ্য বিক্ষোভকারী নিখোঁজ হয়েছেন। এই নিষ্ঠুরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের উদাহরণ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।




মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে পারে একটি মাত্র শর্তই : রাশিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে, তার স্থায়ী সমাধান হতে পারে মাত্র একটি শর্ত বাস্তবায়ন করলে; আর সেটি হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্থাপন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।

কয়েক দিন আগে তুরস্কের দৈনিক হুরিয়েতকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ল্যাভরভ। শুক্রবার সেই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে হুরিয়েত। সাক্ষাৎকারে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে ল্যাভরভ বলেন, “গত বেশ কয়েক দশক ধরে সংঘাত চলছে মধ্যপ্রাচ্যে। সম্প্রতি আমরা দেখছি যে ওই অঞ্চলে সহিংসতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে এবং একের পর এক দেশ এমন এক সংঘাতের ঘূর্ণাবর্তে ডুবে যাচ্ছে, যেখান থেকেই কেউই জয়ী হয়ে ফিরতে পারবে না।”

“অথচ মাত্র একটি শর্ত পূরণ হলেই সংঘাত-সহিংসতা বন্ধ হয়ে যাবে মধ্যপ্রাচ্যে। সেটি হলো স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্থাপন করা এবং এই কাজটি করতে হবে ১৯৬৭ সালে দুই দেশের যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা যথাসম্ভব অক্ষুন্ন রেখে।”

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধাদের ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের শুরু। তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী, যা এখনও চলছে। ইসরায়েলে হামাস যোদ্ধাদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন, অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান অভিজানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৪৩ হাজার ২৫৯ জন ফিলিস্তিনি।

তবে এ যুদ্ধ শুধু গাজা উপত্যকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; লেবানন, ইরান ও সিরিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে লেবাননে অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। একই সময়ে সিরিয়া এবং ইরানে সংক্ষিপ্ত বিমান অভিযান চালিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইতোমধ্যে যে কোনো সময়ে ইসরায়েলে সামরিক হামলার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।




বিস্ফোরক নিয়ে ইসরায়েলের পথে জার্মান জাহাজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জার্মান পতকাবাহী একটি জাহাজ বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ে ইসরায়েল যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ওই জাহাজটি মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে নোঙর করে।

এর আগে বিভিন্ন দেশে ভেড়ার চেষ্টা করলেও ওই জাহাজটি কোথাও ভেড়ার অনুমতি পায়নি। শেষ পর্যন্ত মিসরে নোঙর করে ওই জাহাজটি। মেরিটাইম ডাটা ও অধিকার গ্রুপ এসব তথ্য জানিয়েছে।

জার্মানির মানবাধিকার আইনজীবীরা মঙ্গলবার জানান, এমভি ক্যাথরিন নামের ওই জাহাজে ৮টি শিপিং কন্টেইনার রয়েছে। এসব কন্টেইনারে ১ লাখ ৫০ হাজার কেজি পরিমাণ আরডিএক্স বিস্ফোরক রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমসের জন্য এই বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন- তিনি সেপ্টেম্বরেই জানতে পেরেছিলেন, এসব ম্যাটেরিয়াল ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

শিপ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট মেরিন ট্রাফিক এবং ফাইনান্সিয়াল ডাটা প্রতিষ্ঠান এল-এস-ই-জি ডাটা অ্যান্ড অ্যানালাইটিকস বলছে, গত সোমবার আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে নোঙর করে এমভি ক্যাথরিন। আগামী মঙ্গলবার এই বন্দর থেকে জাহাজটি আবারও ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি অস্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছে মিসরের সেনাবাহিনী। সেখানে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীকে সহায়তার কথা অস্বীকার করা হয়।

তবে মিসরের সেনাবাহিনী এমভি ক্যাথরিন নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানায়নি। আবার আলেকজান্দ্রিয়া বন্দরে জাহাজটির নোঙর করার দাবিও অস্বীকার করেনি মিসরের সেনাবাহিনী। এ ছাড়া কন্টেইনার নামানোর বিষয়েও ওই বিবৃতিতে কিছু নেই। মিসরের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দাবি এবং ইসরায়েলকে সহায়তার বিষয়ে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছি আমরা। ইসরায়েলকে কোনো সহায়তা করা হচ্ছে না, এটা জোর দিয়েই জানাচ্ছি।

মিসর অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ওই জাহাজ নিয়ে মুখ খুলেছে। ওই কার্গো জাহাজটি যেন ইসরায়েলে পৌঁছতে না পারে, সেই আহ্বানও জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। সংস্থাটির হুসেইন বাউমি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, এমভি ক্যাথরিনের জাহাজে থাকা মারাত্মক কার্গো ইসরায়েলে পৌঁছতে দেওয়া উচিত হবে না। এতে ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের মতো স্পষ্ট ঝুঁকি রয়েছে।




ইসরায়েলের অভিযান : গাজায় একদিনে ৫০ শিশুসহ নিহত ৮৪

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন ৮৪ জন। নিহতদের মধ্যে ৫০ জনই শিশু এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক; এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৮৬ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে নিহত হয়েছেন ৮৪ জন এবং আহত হয়েছেন ১৮৬ জন। নিহতদের মধ্যে ৫০ জন শিশু এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক।”

“তবে নিহত এবং আহতদের সংখ্যা আরও বেশি; কারণ যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন, লোকবল ও উপকরণের অভাবে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবারের হতাহতের পরিসংখ্যানের জেরে গত এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৩ হাজার ২৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮২৭ জন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস এবং তাদের মিত্রগোষ্ঠী প্যালেস্টাইনিয়ান ইসলামিক জিহাদের ১ হাজার যোদ্ধা। হামলায় ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যার পাশাপাশি ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় যোদ্ধারা।

আকস্মিক এই হামলার পর ওইদিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী, যা এখনও চলছে। এ অভিযানে গত ১৩ মাসে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু।

জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক বিশ্ব এবং তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সেসব চেষ্টা সফল হচ্ছে না। কারণ অভিযান বন্ধ করার জন্য ইসরায়েলকে নিয়মিত আহ্বানও জানানো হলেও তেল আবিব তাতে কর্ণপাত করছে না।

ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান শুরুর আগে গাজা উপত্যকার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২২ লাখ। অভিযানের গত এক বছরে গাজার বাসিন্দাদের প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার কারণে সেখানে খাদ্য, সুপেয় পানি ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের গুরুতর সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মতে, গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন গাজার ফিলিস্তিনিরা।

সুত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা




বাংলাদেশের ‘সমালোচনা’ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশের কঠোর সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে এমন দাবি করে বৃহস্পতিবার টুইটারে পোস্ট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বর হামলার কড়া নিন্দা জানাচ্ছি। যারা উচ্ছৃঙ্খল জনতার দ্বারা হামলা ও লুটের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে।’

ট্রাম্প তার পোস্টে দাবি করেছেন যদি তিনি প্রেসিডেন্ট থাকতেন তাহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটত না।

তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বে হিন্দুদের উপেক্ষা করেছেন।

এছাড়া ইউক্রেন থেকে শুরু করে ইসরায়েল এবং নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তসহ সব জায়গায় বাইডেন-হ্যারিস ব্যর্থ হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার চোখের সামনে এগুলো কখনও হতো না। কমলা হ্যারিস ও জো বাইডেন হিন্দুদের আমেরিকাসহ পুরো বিশ্বব্যাপী উপেক্ষা করেছেন। ইসরায়েল থেকে ইউক্রেন, আমাদের দক্ষিণ সীমান্তসহ সব জায়গায় তাদের অবস্থা যা-তা। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও শক্তিশালী করব এবং শক্তির মাধ্যমে শান্তি ফিরিয়ে আনব।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘উগ্র বামপন্থিদের ধর্ম বিদ্বেষ থেকে আমরা আমেরিকান হিন্দুদের রক্ষা করব। আমরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করব। এছাড়া (নির্বাচিত হলে) আমার প্রশাসনের মাধ্যমে ভারত এবং ভালো বন্ধু নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শক্তিশালী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ব।’

গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণঅভ্যুত্থানের তোপের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর ভারত থেকে দাবি করা হয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এবার ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী কমালা হ্যারিসের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।




ইসরায়েলে ভয়াবহ রকেট হামলা হিজবুল্লাহর, নিহত ৭

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে চালানো পৃথক এই হামলায় ৭ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে এই হামলাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোর মধ্যে এটিই ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর সবচেয়ে মারাত্মক হামলা। শুক্রবার (১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সীমান্তবর্তী ইসরায়েলের শহর মেটুলার কাছে রকেটের আঘাতে একজন ইসরায়েলি কৃষক এবং চারজন বিদেশি কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন।

পরে উপকূলীয় শহর হাইফার উপকণ্ঠে কিবুতজ আফেকের কাছে একটি জলপাই বাগানে পৃথক হামলায় এক ইসরায়েলি নারী এবং তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে নিহত হন।

হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা হাইফার উত্তরে ক্রায়োট এলাকার দিকে এবং লেবাননের শহর খিয়ামের দক্ষিণে সীমান্তের ওপারে অবস্থিত মেটুলাতে ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে রকেট নিক্ষেপ করেছে।

হামলায় নিহত ইসরায়েলি কৃষকের নাম স্থানীয় গণমাধ্যম ওমর ওয়েইনস্টেইন বলে জানিয়েছে। আর সংবাদমাধ্যম হারেৎজের মতে, নিহত চার বিদেশি শ্রমিকের সবাই থাইল্যান্ডের নাগরিক।

এছাড়া পঞ্চম বিদেশি শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। অনলাইনে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাদেরকে হেলিকপ্টারে করে হাইফার রামবাম হেলথ কেয়ার ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

হারেৎজ জানিয়েছে, হামলার সময় ওয়েইনস্টেইন এবং বিদেশি শ্রমিকরা সীমান্ত বেড়ার কাছে একটি কৃষিক্ষেত্রে ছিলেন।

এদিকে লেবানন থেকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে চালানো রকেট হামলায় ৫ জন থাই নাগরিক নিহত হয়েছে বলে শুক্রবার থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।