ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য আহ্বান জানিয়েছে ৫৪টি দেশ

ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের জন্য জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তুরস্কসহ ৫৪টি দেশ ও দু’টি আন্তর্জাতিক সংস্থা।

রোববার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে গত ১ নভেম্বর একটি চিঠি জাতিসঙ্ঘে জমা দেয়া হয়।

হাকান ফিদান বলেন, তুরস্কের উদ্যোগে লেখা এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের কাছে অস্ত্র এবং গোলাবারুদ সরবরাহ করা বন্ধ করতে হবে।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি আফ্রিকার মুসলিম দেশ জিবুতিতে অনুষ্ঠিত তৃতীয় তুরস্ক-আফ্রিকা অংশীদারত্ব পর্যালোচনা সম্মেলনে অংশ নেন। সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা মানে গণহত্যায় সহযোগিতা করা।’

এ সময় ইসরাইলের বর্তমান প্রশাসন বিশ্বব্যাপী হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তিনি ইসরাইলকে এ ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

হাকান ফিদান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা এমন এক কাঠামো সৃষ্টি করছে, যেখানে ইতিহাসের অন্যায়গুলো পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আফ্রিকান দেশগুলোর নেতৃত্বে এই অপ্রতিরোধ্য পরিবর্তন আসবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যারা এতদিন অবহেলিত ছিল, তাদের সঙ্গেই এখন বিশ্ব পরিবর্তনের প্রয়োজন’।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি




ট্রাম্পের মন্তব্য আমাদের অনেককে বিব্রত করেছে: ধর্ম উপদেষ্টা

ট্রাম্প (ডোনাল্ড ট্রাম্প) যে মন্তব্য করেছেন, ‘এটা আমাদের অনেককে বিব্রত করেছে। কারণ, আমরা এখানে (বাংলাদেশে) যাঁরা আছি, তাঁরা মনে করি, সকল ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃত। ফলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের হয়রানি করা হচ্ছে, এমন ধরনের যে অভিযোগ আমরা শুনি, আমরা এ কথাগুলোর সঙ্গে একমত নই।’

ঢাকার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড্যাফোডিল ইসলামিক সেন্টার আয়োজিত আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে দুই দিনব্যাপী ‘সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কনফারেন্স বাংলাদেশ-২০২৪’–এর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান পার্টির নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বাংলাদেশ হিন্দু, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের ওপর বর্বরোচিত সহিংসতা ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন।

খালিদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা সব সময় বলে আসছি, এ দেশের যাঁরা নাগরিক, নানা ধর্মাবলম্বী আছেন, প্রত্যেকের নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় অধিকার, ব্যবসায়িক অধিকার আছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের পূজা–পার্বন উৎসবগুলো গেল, তাঁদের আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছি। তাঁদের কিছু দাবিদাওয়া আছে। এগুলো সরকারের বিবেচনায় আছে।’

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা মনে করি সহনশীলতা না থাকলে আমরা সুন্দর, বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে পারব না। বিভেদ কমিয়ে পারস্পরিক সম্মান, সহিষ্ণুতা, সম্প্রীতির আবহ যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব।’

দুই দিনব্যাপী ‘সুন্নাহ ফাউন্ডেশন কনফারেন্স বাংলাদেশ-২০২৪’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনজুরে এলাহীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিয়াদ হামাদ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ শামছুল আলম, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এম লুৎফর রহমান প্রমুখ।




ইসরাইলি ভূখন্ডে ২৬,০০০ রকেট নিক্ষেপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অবরুদ্ধ গাজায় গত বছরের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনে ও ইসরাইলি ভূখন্ডে এ পর্যন্ত ২৬ হাজারেরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসরাইলি চ্যানেল টুয়েলভ রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ৭ অক্টোবর থেকে ২৬,৩৬০টি রকেট ইসরাইলি অধিকৃত এলাকায় নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

এই রকেটগুলো গাজা উপত্যকা, লেবানন, ইরান এবং ইয়েমেন থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে ইসরাইল গাজার ওপর অবরোধ চাপিয়ে দেন এবং বর্বর আগ্রাসন শুরু করে।

হামাসের ওই অভিযানটি মূলত ফিলিস্তিনিদের ওপর সংঘটিত ইসরাইলি শাসনের ধারাবাহিক অত্যাচারের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই পরিচালিত হয়।

তবে এ ঘটনার পর থেকে ইসরাইল গাজায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে এবং রীতিমত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। যার ফলে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখেরও বেশি আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এছাড়া বসতভিটা হারিয়ে বা বাস্তুচ্যুত হয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও পানির অভাবে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছে গাজার দুই মিলিয়নেরও বেশি মানুষ। সূত্র: মেহের নিউজ




সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা, ২০০ সেনাকে অপহরণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ফলে সেখানকার একটি ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী। এ ছাড়া এ সংঘর্ষে অন্তত ২০০ সেনাকে অপহরণ করা হয়েছে।

রোববার (০৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (০১ নভেম্বর) বলিভিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সেনাদের অপহরণ করেছে এবং মধ্য বলিভিয়ার শহর কোচাবাম্বার কাছের একটি ঘাঁটি থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে।

বলিভিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ সময় ২০০ জনেরও বেশি সেনাকে অপহরণ করা হয়েছে।
পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্টের ২০ বছরের কারাদণ্ড

বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট লুইস আর্স অভিযোগ করেন, সমশস্ত্র এ গোষ্ঠীটির সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এমন অভিযোগ করলেও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি তিনি। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে মোরালেসের দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।

সিএনএন জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী এ গোষ্ঠীটিকে অবিলম্বে এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঘাঁটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বিবেচিত হবে। ২০২৫ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে মোরালেস এবং আর্সের সমর্থকদের মধ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সবশেষ ঘটনা এটি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মোরালেসের সমর্থকরা সরকারের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগ করে কোচাবাম্বাসহ সারা দেশে প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করেছে। বলিভিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, অবরোধের সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠী জড়িত রয়েছে। এর ফলে কিছু শহরে খাদ্য এবং জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে।




বকেয়া পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি আদানির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ৭ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়ার ৮৫০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ না করলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে বাংলাদেশকে জানিয়েছে ভারতের আদানি পাওয়ার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে ভারতের আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড লিমিটেড। সময়মতো বকেয়া বিল না পেয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর বকেয়া পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র খোলার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে উল্লেখিত শর্ত পূরণ করেনি বিপিডিবি। বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ড থেকে গত ৩১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) আদানির গোড্ডা প্ল্যান্ট এক হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে মাত্র ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। পায়রা, রামপাল ও এসএস পাওয়ার ওয়ানসহ অন্যান্য বড় কারখানাগুলোতেও জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানির বাগেরহাটের রামপাল প্ল্যান্ট এবং এসএস পাওয়ার আই এরই মধ্যে কয়লার ঘাটতির কারণে অর্ধেকেরও কম উৎপাদন করছে।

একটি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বাংলাদেশ সময়মতো বকেয়া পরিশোধ না করায়, বকেয়া দিন দিন বেড়েছে। যদিও অক্টোবরে আদানি পাওয়ারকে প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। এর আগের মাসগুলোতে ৯০-১০০ মিলিয়ন ডলারের মাসিক বিলের বিপরীতে প্রতি মাসে ২০-৫০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।




ফিলিস্তিনের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন যেসব বাংলাদেশি স্বেচ্ছাসেবক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুদ্ধে অংশ নেওয়া অনেকেই আর বেঁচে নেই। ফিলিস্তিনের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করার সময় তারা ছিলেন তরুণ। কিন্তু এখন বেঁচে থাকা প্রায় সবারই বয়স সত্তর বা তার বেশী। তবুও তাদের সাহস ও উৎসাহ কমেনি। ফিলিস্তিনের প্রতি তাদের ভালোবাসা এখনও প্রবল।

যোদ্ধাদের ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার অভিজ্ঞতা ছিল। ছবি: কে এম বদিউজ্জামান (ফেরত আসা যোদ্ধা)

৬৭ বছর বয়সী জিয়াউল কবির দুলু ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তবে এটি তার একমাত্র যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নয়। পরবর্তীতে তিনি ফিলিস্তিনের পক্ষে একটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

সম্প্রতি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুলু বলেন, “মেজর এম এ জলিল আমাকে পাঠিয়েছিলেন। আমি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়েছি। আমার সাথে যুদ্ধ করা আরও অনেক সহযোদ্ধাও ফিলিস্তিনের জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল।”

যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এর ১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকে প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি যুবক প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। জিয়াউল কবির দুলু ছিলেন তাদের মধ্যেই একজন।

লেবাননের পত্রিকা আল-আখবার ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লাইব্রেরি অব কংগ্রেস-এর তথ্য উল্লেখ করে এক প্রতিবেদনে জানায়, কয়েকজন ফিলিস্তিনি সামরিক ব্যক্তিত্বকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল।

পরবর্তীতে, বাংলাদেশি যুবকেরা প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফিলিস্তিনের যুদ্ধে অংশ নেন। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৪৭৬ জনকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে এবং তারা কারাগারে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন।

দুলু বলেন, “কেউ কেউ গিয়েছিলেন ইসরায়েলি দখল থেকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে মুক্ত করতে, কেউ ইসলামি ভ্রাতৃত্বের অনুভূতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আর কেউ গিয়েছিলেন সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সমর্থন দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকেই চেয়েছিলেন ফিলিস্তিনকে মুক্ত করতে এবং জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে। সবার একটি সাধারণ লক্ষ্য ছিল, ইসরায়েলের পরাজয়।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া সবাই শুধু ইসলামী অনুভূতি থেকেই অনুপ্রাণিত ছিলেন না। দুলু জানান, তার দলে দুইজন হিন্দুও ছিলেন। তিনি বলেন, “তবে দেশে ফিরে আসার পর তাদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”

যেসব স্বেচ্ছাসেবক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, তারা প্রধানত ছিলেন মেজর এম এ জলিলের অনুসারী। মেজর জলিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর ৯ এর কমান্ডার ছিলেন।

সেক্টর ১১-এর নেতৃত্ব দেওয়া কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিকরা এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আবদুর রাজ্জাকের অনুসারীরাও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।




জনপ্রিয়তায় এগিয়ে কমলা, মূল ফ্যাক্টর ‘ইলেকটোরাল কলেজ’

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কমূলক যুক্তরাষ্ট্রের এবারকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দুইদিন বাকি। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো- প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট নাকি দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

জনমত সমীক্ষা বলছে— ট্রাম্পের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে চলেছে কমলা হ্যারিসের। একেবারে শেষ মুহূর্তে আইওয়া অঙ্গরাজ্যে পরিচালিত এক জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পকে পেছনে ফেলে এগিয়ে আছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইওয়ায় ২০১৬ ও ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সহজ জয় পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অঙ্গরাজ্যে এগিয়ে যাওয়া ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলার জন্য নিশ্চিতভাবে দারুণ এক সুখবর। কমলার এই অপ্রত্যাশিত এগিয়ে যাওয়ার পেছনে নারী ভোটাররা ভূমিকা রেখেছেন বলে বলা হচ্ছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনপ্রিয়তার চেয়ে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো কেবল সাধারণ ভোটে (পপুলার) হয় না। সেখানে সরাসরি জনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। সাধারণ ভোটাররা মূলত পছন্দের প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচকমণ্ডলীকে নির্বাচিত করে। ‘ইলেকটোরাল কলেজ’ নামের এই নির্বাচকমণ্ডলী প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কাজটি করে।

বিজ্ঞাপন
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে এগিয়ে ট্রাম্প-ই। নেভাডা, অ্যারিজোনা, মিনেসোটা,পেনসিলভেনিয়া, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, উইসকনসিন— এই ‘অনিশ্চিত’ প্রদেশগুলোই ঠিক করবে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ফিরছেন কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি প্রদেশ মিলিয়ে মোট ৫৩৮ জন ইলেকটোরাল রয়েছেন। ক্ষমতা দখল করতে প্রয়োজন ২৭০টি ভোট। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায়, জনগণের ভোট বেশি পেয়েও শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে কোনও প্রার্থীকে।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে এর দু’টি উদাহরণ— ২০০০ ও ২০১৬-র প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ ভাবেই হেরে যান দুই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, যথাক্রমে অ্যাল গোর এবং হিলারি ক্লিন্টন।

ইলেকটোরাল পদ্ধতিতে ভোট হওয়ার প্রধান অসুবিধা, অনেক সময়ে গোটা দেশের জনমত আর ইলেকটোরাল সংখ্যায় ফারাক থেকে যায়। যেমন হয়েছিল ২০১৬ সালে। সে বার জনগণের ভোটে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন পেয়েছিলেন ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট, আর রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৪৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ, ট্রাম্পের থেকে ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েও ইলেকটোরাল কলেজের ভোটাভুটিতে হেরে যান হিলারি। তিনি পেয়েছিলেন ২২৭টি ইলেকটোরাল ভোট, কিন্তু ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৩০৪টি ভোট। টেক্সাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি তো বটেই, পেনসিলভেনিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনার মতো ‘সুইং স্টেট’ তাদের বড় অঙ্কের ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে ট্রাম্পের ঝুলিতে চলে যাওয়ার ফলেই হোয়াইট হাউস দখল করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগাম ভোটে রেকর্ড হয়েছে। আগাম ভোটের হার দেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই শিবিরই উচ্ছ্বসিত। রিপাবলিকানরা খুশি, কারণ গত নির্বাচনে তারা যত আগাম ভোট পেয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। আর ডেমোক্র্যাটরা খুশি, কারণ আগাম ভোটে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে তাদের প্রার্থী কমলা হ্যারিস।

আগামী ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও ২৭ অক্টোবর থেকে আমেরিকায় শুরু হয়েছে আগাম ভোটপর্ব। শনিবার পর্যন্ত সে দেশের প্রায় ৭ দশমিক ৫ কোটি বেশি ভোটদাতা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আমেরিকায় ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা ২৩ কোটির বেশি। এ বারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। সর্বশেষ ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা ছিল গত এক শতকের মধ্যে সর্বোচ্চ। সে বার আগাম ভোট পড়েছিল প্রায় ১০ কোটি।




তেল আবিবে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা হিজবুল্লাহর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইসরায়েলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তেল আবিবে অবস্থিত ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ঘাঁটিতে রকেট নিক্ষেপের মাধ্যমে এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার তেল আবিবে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানোর দাবি করেছে লেবাননের গ্রুপ হিজবুল্লাহ। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ বলেছে, তাদের যোদ্ধারা তেল আবিবের উপকন্ঠে গ্লিলট সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বহু সংখ্যক রকেট নিক্ষেপ করেছে।

আনাদোলু বলছে, গ্লিলট সামরিক ঘাঁটিটি ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা অবকাঠামো এবং এটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ইউনিট ৮২০০-এর আবাসস্থল। এই ইউনিটটি সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করে থাকে।

এই ঘাঁটিতে একটি সামরিক গোয়েন্দা স্কুল এবং ইসরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সদর দপ্তরও রয়েছে।

মূলত গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অপারেটিভস, অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলছে।




উত্তর ক্যারোলিনা দখলে নিতে মরিয়া ট্রাম্প ও হ্যারিস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দক্ষিণ-পূর্বের ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে পরিচিত উত্তর ক্যারোলিনা রাজ্যে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় নেমেছেন ডেমোক্র্যাটিক কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সমর্থন জোগাড়ে মরিয়া দুই প্রার্থীই শনিবার (২ নভেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ এই দোদুল্যমান রাজ্যে সমাবেশ করছেন। এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো একই দিনে একই রাজ্যে সফর করছেন কমলা ও ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমাবেশে অংশ নিতে এরই মধ্যে নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে পৌঁছেছেন কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পে। প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমানের পাশে টারমাকে পার্ক করা হ্যারিসের বিমান থেকে নামার একটি ছবি জুড়ে দিয়েছে বিবিসি।

উত্তর ক্যারোলিনা এমন একটি রাজ্য যেখানে কে জিতবে তা বলা যায় না। ২০২০ সালে জো বাইডেন সামান্য ব্যবধানে এখানে জিতেছিলেন।

হ্যারিসের সমর্থকরা শার্লটে সমাবেশস্থলের বাইরে তার ছবি সংবলিত টি-শার্ট বিক্রি করছেন। এখানে তিনি অভিনেত্রী কেরি ওয়াশিংটনের সাথে উপস্থিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে, নর্থ ক্যারোলিনার গ্যাস্টোনিয়াতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে যাওয়ার সময় ট্রাম্পের সমর্থকরা সারিবদ্ধভাবে তাকে সংবর্ধনা জানান।

সমাবেশে মুদ্রাস্ফীতি বন্ধ করাসহ বিশ্বে বিভিন্ন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করেন। এ সময় তিনি দেশের অর্থনীতি এবং অভিবাসনকে গুরুত্ব দেবেন বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে ‘গেম চেঞ্জার’ ৭ গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের ৫টিতেই ট্রাম্প এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘ফাইভ থার্টি এইট’ এর জরিপ। আগামী মঙ্গলবার ‘ইলেকশন ডে’র আগে এরই মধ্যে ৭ কোটির বেশি মার্কিন ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সমর্থনের দিক দিয়ে দুই প্রার্থী সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের বিষয়টি মূলত নির্ভর করছে উইসকনসিন ও মিশিগানসহ দোদুল্যমান সাত রাজ্যে কে এগিয়ে বা পিছিয়ে থাকছেন সেটির ওপরে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগাম ভোটে রেকর্ড হয়েছে। আগাম ভোটের হার দেখে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই শিবিরই উচ্ছ্বসিত। রিপাবলিকানরা খুশি, কারণ গত নির্বাচনে তারা যত আগাম ভোট পেয়েছিল, এবার তার চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছে। আর ডেমোক্র্যাটরা খুশি, কারণ আগাম ভোটে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে তাদের প্রার্থী কমলা হ্যারিস।

আগামী ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও ২৭ অক্টোবর থেকে আমেরিকায় শুরু হয়েছে আগাম ভোটপর্ব। শুক্রবার পর্যন্ত সে দেশের প্রায় ৭ কোটি ভোটদাতা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। আমেরিকায় ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা ২৩ কোটির বেশি। এ বারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। সর্বশেষ ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ছিল ৬৬ শতাংশ, যা ছিল গত এক শতকের মধ্যে সর্বোচ্চ। সে বার আগাম ভোট পড়েছিল প্রায় ১০ কোটি।

 




শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক থ্রি বোল্ট কোর্ট চেম্বার্সের ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন গত ২৮ অক্টোবর এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে শেখ হাসিনা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত এবং মূল সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছেন এ আইনজীবী।

মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মন্ত্রী এবং সরকারের অন্যান্য প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যে অবস্থিত লন্ডন-বাংলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন মামলার বাদী ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন।

সে সময় ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন বলেন, গত ২৮ অক্টোবর আমি এই অভিযোগ দায়ের করেছি। মালায় শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভার সদস্য ও জড়িত বিভিন্ন সংস্থার ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ব্যারিস্টার মো. আশরাফুল আরেফিন আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিল। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আবু সাঈদকে কীভাবে পুলিশ গুলি করেছে সেটি সারাবিশ্ব দেখেছে। আমরা এসব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়গুলো তুলে ধরছি।

ওই সময় বাংলাদেশের সরকার আন্দোলন দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে মাঠে নামায়। তারা আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড, লাইভ বুলেট ব্যবহার করে। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং প্রায় ২২ হাজার মানুষ আহত হয় বলে জানা গেছে। গণহত্যার পাশাপাশি গুলিতে অন্তত ৯২ জন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং শতশত মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ অবস্থায় রোম স্ট্যাটিউটের ১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে শেখ হাসিনা, তার মন্ত্রিসভা ও সংশ্লিষ্টদের মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং ভিডিও প্রমাণ যুক্ত করা হয়েছে ।