মার্কিন নির্বাচন: ট্রাম্প ২৭৭, কমলা ২২৪

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মার্কিন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে গণনায় এখন পর্যন্ত ২৭৭টি ইলেক্টোরাল কলেজে এগিয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ২১৪টিতে এগিয়ে রয়েছেন। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফলে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

এপির ভোটগণনা অনুযায়ী, আইডাহোর ৪টি, ইউটাহর ৬টি, ওয়াইওমিং-এর ৩টি, মন্টানার ৪টি, নর্থ ডাকোটার ৩টি, সাউথ ডাকোটার ৩টি, ক্যানসাসের ৬টি, ওকলাহোমার ৭টি, টেক্সাসের ৪০টি, আইওয়ার ৬টি, মিসৌরির ১০টি, আরকানসাসের ৬টি, লুইসিয়ানার ৮টি, ইন্ডিয়ানার ১১টি, ওহাইওর ১৭টি, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ৪টি, কেন্টাকির ৮টি, টেনেসির ১১টি, নর্থ ক্যারোলাইনার ১৬টি, সাউথ ক্যারোলাইনার ৯টি, ফ্লোরিডার ৩০টি, মিসিসিপির ৬টি ও আলাবামার ৯টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, হ্যারিসের ঝুলিতে ইলেক্টোরাল ভোট আছে- ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে ১৯টি, ওয়াশিংটনে ১২টি, ওরেগনে ৮টি, ক্যালিফোর্নিয়াতে ৫৪টি, কলোরাডোতে ১০টি, নিউ মেক্সিকোতে ৫টি, হাওয়াইতে ৪টি, ভার্জিনিয়াতে ১৩টি, মেরিল্যান্ডে ১০টি, নিউ ইয়র্কে ২৮টি, ভেরমন্টে ৩তি, নর্থ হ্যাম্পশায়ারে ৪টি, ম্যাসাচুসেটসে ১১টি, কানেক্টিকাটে ৭টি, নিউ জার্সিতে ১৪টি, রোড আইল্যান্ডে ৪টি, ডেলাওয়ারে ৩টি ও ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩টি।

সুইং স্টেটগুলোতে কে এগিয়ে

নির্বাচনের জয়–পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে দোদুল্যমান ৭টি অঙ্গরাজ্য। সেগুলো কোনও দলের সুনির্দিষ্ট ঘাঁটি নয়। এসব অঙ্গরাজ্য হলো—নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন, অ্যারিজোনা ও নেভাদা।

এখন পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলাইনার ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ৫১ শতাংশ পেয়ে এগিয়ে আছেন ট্রাম্প। আর কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। ফলে, এপি’র গণনা অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনার ১৬টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এছাড়া জর্জিয়াতে ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ঝুলিতে গেছে ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। আর হ্যারিসের দিকে আছে ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে এপি’র গণনা অনুযায়ী, এই রাজ্যের ১৬টি ইলেক্টোরাল ভোটও ট্রাম্প পেতে যাচ্ছেন।

পেনসিলভানিয়াতে ৯৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। সেখানে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প পেয়েছেন ৫১ শতাংশ আর হ্যারিস ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। এখানে ইলেক্টোরাল ভোট আছে ১৯টি।

মিশিগানে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প পেয়েছেন ৫২ দশমিক ৩ শতাংশ আর হ্যারিস ৪৬ শতাংশ। মিশিগানের ইলেক্টোরাল ভোট ১৫টি।

উইসকনসিনে ৮৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, ট্রাম্প পাচ্ছেন ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ আর হ্যারিস ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ। এই রাজ্যের ইলেক্টোরাল ভোট ১০টি।

অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত ভোট গণনা হয়েছে ৫১ শতাংশ। এরমধ্যে ট্রাম্প ৫০ দশমিক ১ শতাংশ আর হ্যারিস ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন বলে এপি’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

নেভাদাতে ইলেক্টোরাল ভোট আছে ৬টি। এপি জানিয়েছে, সেখানে এখন পর্যন্ত ৭৮ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। তার মধ্যে ট্রাম্প ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ ও হ্যারিস ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে




যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প: ফক্স নিউজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকমলা হ্যারিসকে এক তরফা পরাজিত করে ট্রাম্প ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে ২৭০টি ভোট নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্পের বিজয় : ট্রাম্পের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর, ফক্স নিউজ জানায় যে তিনি ২৭৭টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, আর কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৬টি ভোট। এখনও ৩৫টি ইলেকটোরাল ভোট বাকি রয়েছে।

ফ্লোরিডায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটি একটি অসাধারণ বিজয়, আমেরিকার মানুষের জন্য এটি একটি বড় জয়। আমাদের দেশের জন্য এটি স্বর্ণযুগের সূচনা, এবং আমরা আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলব।”

এসময় ট্রাম্পের সঙ্গে তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জে ডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। জনতা আমেরিকা, আমেরিকা স্লোগান দিয়ে তাদের উল্লাস প্রকাশ করে।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের আভাস :: ট্রাম্প আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য জিতলেই তিনি নির্বাচনে জয়ী হবেন। মঙ্গলবার রাতে একটি রেডিও শোতে ট্রাম্প বলেন, “পেনসিলভানিয়া জিতলেই আমরা পুরো নির্বাচনে জয়ী হবো।”

ভোটার সংখ্যা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা : যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া -তে মোট ১৮ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দেন। ভোটের আগে অনেক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে কমলা হ্যারিস ইতিহাস তৈরি করতে পারেন, অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন পরাজয়ের পর প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে। জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল।

নির্বাচনে অন্যান্য প্রার্থীরা : কমলা হ্যারিসএবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া, গ্রিন পার্টি-এর জিল স্টেইন লিবারটারিয়ান পার্টি -এর চেইস অলিভার, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র (যিনি পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন) ও করনেল ওয়েস্ট (স্বতন্ত্র) ছিলেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী।

নির্বাচনের পদ্ধতি : যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পদ্ধতি বেশ জটিল। পপুলার ভোট বা সাধারণ ভোটের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয় না। এর পরিবর্তে, ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি মিলিয়ে মোট **৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট প্রয়োজন। প্রতিটি রাজ্যে আলাদা আলাদা ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা নির্ধারিত থাকে, এবং যে দল রাজ্যে জয়ী হয়, সেই দল রাজ্যের সব ইলেকটোরাল ভোট পায়—এটি “উইনার টেকস অল (Winner Takes All) সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে।




নেতানিয়াহু-ম্যাক্রোঁসহ বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয় ঘোষণা করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রয়োজনীয় ইলেক্টরাল কলেজ ভোট পাননি তিনি।

তবে নিজের এই ঘোষণার পরই বিশ্বনেতাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তায় ভাসছেন সাবেক এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা জানানো বিশ্বনেতাদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, হাঙ্গেরির নেতা ভিক্টর অরবান ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রয়েছেন।

বুধবার (৬ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও হিন্দুস্তান টাইমস।

অভিনন্দন বার্তায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, “সম্মান এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে আরও শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা চার বছর ধরে একসাথে কাজ করতে প্রস্তুত…।”

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে “ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের” জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “প্রিয় ডোনাল্ড এবং মেলানিয়া ট্রাম্প, ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তনের জন্য অভিনন্দন! হোয়াইট হাউসে আপনাদের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন আমেরিকার জন্য একটি নতুন সূচনা এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার মহান জোটের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিশ্রুতির বার্তা দিচ্ছে।”

আর অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর কার্ল নেহামার বলেছেন, “আমাদের ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত এবং শক্তিশালী করার জন্য বিশ্বব্যাপী সকল চ্যালেঞ্জ একসাথে সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য” উন্মুখ তিনি।

সাবেক রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ট্রাম্পের এই বিজয় ইউক্রেনের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও ট্রাম্প এই যুদ্ধের জন্য মার্কিন আর্থিক সহায়তা কতটা কমাতে পারবেন সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন।

এদিকে হাঙ্গেরির উগ্র ডানপন্থি নেতা ভিক্টর অরবান বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ের পথে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি শেয়ার করে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “শুভ সকাল হাঙ্গেরি! একটি দুর্দান্ত জয়ের পথে।”




বিজয় ঘোষণা করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয় ঘোষণা করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) গভীর রাতে ফ্লোরিডায় উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের সামনে ভাষণ দেওয়ার সময় এই ঘোষণা দেন তিনি।

বুধবার (৬ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, মধ্যরাতে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় নির্বাচনে নিজের বিজয় ঘোষণা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় নিজের প্রচার শিবিরের দপ্তরে উত্তেজনায় পূর্ণ জনতার সামনে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকা আমাদের একটি অভূতপূর্ব এবং শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে।

জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, একদিন তারা (দেশের মানুষ) এই দিনের দিকে ফিরে তাকাবে এবং এই দিনটিকে “নিজেদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর মধ্যে একটি দিন” হিসেবে বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করেন।




ট্রাম্প ‘সম্ভবত’ জিতে যাচ্ছেন : নিউইয়র্ক টাইমস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে এগিয়ে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পই এ নির্বাচনে জিততে যাচ্ছেন বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। দৈনিকটির রাজনৈতিক সাময়িকী ‘নিডলস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এ তথ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটের সংখ্যা মোট ৫৩৮টি। কোনো প্রার্থী যদি জয়ী হতে চান, তাহলে তাকে অন্তত ২৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে।

পত্রিকাটির পূর্বাভাস বলছে, চলতি এই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ৩০১টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অন্যদিকে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমালা হ্যারিস পাবেন ২৩৮টি ভোট।




যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল, বাংলাদেশের জন্য কী প্রভাব ফেলবে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রিপাবলিকার প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইট বাংলাদেশে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই টুইট নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে অতীতে মার্কিন রাজনীতিকদের, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট নেতাদের ভাল সম্পর্ক থাকার পরিপ্রেক্ষিতে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস বা জো বাইডেন ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “কমলা হ্যারিস যদি জয়ী হন, তাহলে বর্তমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতা থাকবে। তবে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে সম্পর্কের কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে।”

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলেছেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে বাংলাদেশে সহায়তার পরিমাণ কমতে পারে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমেরিকার সহায়তার পরিমাণ সংকুচিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফলের পর, বাংলাদেশের সম্পর্কের পরিবর্তন বিষয়ে আরও আলোচনা হতে পারে, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের টুইট শুধু তার নির্বাচনী কৌশল হতে পারে, যা ভারতীয় ভোটারদের আকর্ষণ করার জন্য।

এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, “যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বাংলাদেশে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না।”




যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্টের বার্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাজছে যুদ্ধের দামামা। লেবানন, গাজা এবং ইরান থেকে ইসরায়েলে দফায় দফায় হামলা হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে সর্বাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে মধ্যপ্রাচ্য। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

রোববার (০৩ নভেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তাদের মিত্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতি তেহরানের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ইরনা প্রেসিডেন্টের বরাতে জানিয়েছে, যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের আচরণ পুনর্বিবেচনা করে, একটি যুদ্ধবিরতি মেনে নেয় এবং এই অঞ্চলের নিপীড়িত ও নিরপরাধ মানুষদের গণহত্যা বন্ধ করে তবে এটি আমাদের প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা এবং ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ইরান তার সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের ব্যাপারে নীরব থাকবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর ইরানের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এর আগে ১ অক্টোবর ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যারেজ ছুড়েছে ইরান। আর এ হামলাকে তারা ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীর কমান্ডার ও নিজেদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

গত মাসে এ হামলার পর ইরান ইসরায়েলের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ইসরায়েল এ বিষয়ে দেশটিকে সতর্ক করে আসছে। শনিবার (০২ নভেম্বর) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিশোধ নেবে।

এক ভাষণে তিনি বলেন, শত্রু, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসক উভয়েরই জানা উচিত যে তারা ইরান, ইরানি জাতি এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিরুদ্ধে যা করছে তার অবশ্যই দাঁতভাঙা জবাব পাবে।




প্রথম নারী নাকি দ্বিতীয়বার ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ আন্তজাতিক ::  পরবর্তী হোয়াইট হাউসের বাসিন্দা বেছে নিতে ভোট দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (গ্রেনিচ মান সময় ১২টায়) ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারবেন। তবে বেশির ভাগ রাজ্যে ডাকযোগে এবং আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় ইতোমধ্যেই ৮ কোটির বেশি মানুষ ভোট দিয়ে ফেলেছেন।

ভোটের মহারণ শুরু হলেও সবার অপেক্ষা কার হাতে উঠছে হোয়াইট হাউসের চাবি। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কি তার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পাচ্ছে, নাকি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইতিহাস তৈরির হাতছানি ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসের সামনে। অপরদিকে গত নির্বাচনে পরাজয়ের গ্লানি মুছে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যয় রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তবে জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।বরাবরের মতোই ফলাফলের জন্য সবার দৃষ্টি ৭টি সুইং স্টেটে। শেষ মুহূর্তের জরিপে ৪টি সুইং স্টেটেই এগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, আর একটিতে দু’জন সমানে-সমান। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেষ মুহূর্তে ভোটারের মন আর ভোট দু’টোই পাল্টে যেতে পারে।

হোয়াইট হাউজ দখলের লড়াইয়ে কে জয়ী হবেন, কে হাসবেন শেষ হাসি-কমলা হ্যারিস নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রশ্নের জবাব পেতে এখন শেষ মুহূর্তের অপেক্ষা। অনেক ভোটার শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেবেন। নীরব ভোটার আছেন অনেক। তাই ফলাফল প্রকাশের আগে কে জয়ী হবেন, তা অনুমান করা যাচ্ছে না।

প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের লড়াইয়ের পাশাপাশি আমেরিকায় সমান্তরালভাবে আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হচ্ছে এই পর্বে। তা হল আমেরিকান কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও উচ্চকক্ষ সিনেটের ভোট।

আমেরিকার কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৪টি এবং নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের ৪৩৫ আসনের সবক’টির নির্বাচন হচ্ছে এই দফায়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যে প্রার্থীই জিতুক না কেন, নতুন কোনও আইন পাশ করাতে গেলে এই দু’টি কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে সিনেটের গুরুত্ব খানিকটা হলেও বেশি। বিভিন্ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট-সহ গুরুত্বপূর্ণ পদে জয়ী প্রার্থীদের নিয়োগপত্র সুপ্রিম কোর্ট পেশ করে সিনেটই। তাই হাউস ও সিনেটের ভোট সাধারণ নির্বাচনের থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

সিনেটের ভোট প্রক্রিয়া হাউসের থেকে কিছুটা আলাদা। এখানে এক বার ভোটে জিতলে ছ’বছরের মেয়াদ থাকে। সিনেটের মোট আসনসংখ্যা ১০০টি। আমেরিকার প্রতিটি প্রদেশে দু’জন করে সিনেটর নিযুক্ত থাকেন। সেই হিসেবে মোট ৫০টি প্রদেশে ১০০টি আসনের সবগুলোতে অবশ্য একসঙ্গে ভোট হয় না। প্রতি দু’বছর অন্তর এক তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়। এ বার ভোট হবে ৩৪টি আসনে। সাধারণত নির্বাচনের রাতেই হাউসের ভোটের ফল ঘোষণা হয়ে যায়। বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, হাউসে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। সিনেটে রিপাবলিকানদের।




ভোট দিতে ফ্লোরিডায় ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট দিতে ফ্লোরিডায় পৌঁছেছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সকালে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় পৌঁছান তিনি। আর কিছুক্ষণের মধ্যে ফ্লোরিডার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া কথা রয়েছে সাবেক এই প্রেসিডেন্টের। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় সোমবার (৪ নভেম্বর) রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র‌্যাপিডস এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শেষে আজ সকালে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ এলাকায় পৌঁছান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে, আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ভার্মন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় (গ্রেনিচ মান সময় ১২টায়) ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট গ্রহণ চলবে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ভোট দিতে পারবেন। তবে বেশির ভাগ রাজ্যে ডাকযোগে এবং আগাম ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় ইতোমধ্যেই ৮ কোটির বেশি মানুষ ভোট দিয়ে ফেলেছেন।

ভোটের মহারণ শুরু হলেও সবার অপেক্ষা কার হাতে উঠছে হোয়াইট হাউসের চাবি। বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র কি তার প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পাচ্ছে, নাকি দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পদ্ধতি বেশ জটিল। পপুলার ভোটে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না। ৫০টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া খ্যাত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি মিলে ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হতে হলে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট প্রয়োজন। একেক রাজ্যে একেক সংখ্যায় ইলেকটোরাল কলেজ ভোট আছে। যে রাজ্যে যে দল জয়ী হয়, সেই রাজ্যের সব ইলেকটোরাল কলেজ ভোট সেই দল পেয়ে যায়। অর্থাৎ উইনার্স গেট অল।

এবারের নির্বাচনে সাতটি সুইং স্টেটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এসব সুইং স্টেটের মধ্যে উইসকনসিনে ১০টি, পেনসেলভিনিয়ায় ১৯টি, আরিজোনায় ১১টি, জর্জিয়ায় ১৬টি, মিশিগানে ১৫টি, নেভাদায় ৬টি এবং নর্থ ক্যারেলিনায় ১৬টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির জন্য ইলেকটোরাল কলেজ ভোট তিনটি।

কবে নাগাদ ফলাফল জানা যাবে? ,

প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার নিজ নিজ আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সময়সীমা ঘোষণা করা আছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ব্যালট গণনা ও কখন চিঠির মাধ্যমে আসা ভোট গ্রহণ করা যাবে, সে সংক্রান্ত আলাদা আলাদা আইন রয়েছে। এ কারণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের চূড়ান্ত ফলাফল নির্বাচনের পরের দিন বা তারও পরে জানা যাবে।

২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করতে বেশ কয়েক দিন লেগে গিয়েছিল। এবারও এমন হতে পারে যে নতুন প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ীদের নাম জানতে ৫ নভেম্বরের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন দেখা দেবে।




মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

চন্দ্রদ্বীপ  আন্তজাতিক :: যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় এ ভোট পরবর্তী প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি প্রতিনিধি সভা ও সিনেট গঠনও নির্ধারণ করবে।

এ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডেমোক্রেটি প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত কয়েক সপ্তাহের জরিপে দুজনেরই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। ভোটের ফল যা-ই হোক না কেন, তা আগামী চার বছরের জন্য মার্কিন রাজনীতি এবং পররাষ্ট্রসহ বিভিন্ন নীতি নির্ধারণ করবে।

আমেরিকার পূর্ব উপকূলে ভারমন্টে স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। কানেকটিকাট, ইন্ডিয়ানা, কেনটাকি, মেইন, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক এবং ভার্জিনিয়ার ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

ভোট শুরু হয়েছে ওহাইও, ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনাতেও। ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, লুসিয়ানা, ম্যারিল্যান্ড, মাসাচুসেটস, মিশিগান, মিসৌরি, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, সাউথ ক্যারোলাইনা ও ওয়াশিংটন ডিসিতেও ভোট শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এটি এক ঐতিহাসিক নির্বাচন। কারণ ভোটাররা হয় হ্যারিসকে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে, অথবা ট্রাম্পকে প্রথম দণ্ডিত অপরাধী হিসেবে নির্বাচিত করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এ নির্বাচনের আগাম ভোট দেওয়ার সংখ্যা আট কোটি ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে চার কোটি ৪০ লাখের বেশি ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আর প্রায় তিন কোটি ৭ লাখ ভোটার ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচনের আগে এবারের প্রচারণায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানের পাশাপাশি ইউক্রেন ও গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ, আফগানিস্তানে তালেবান ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ নানান বৈশ্বিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে দেখা গেছে।

আমেরিকার বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস জানেন যে এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে হলে তাকে তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে হবে।

তাই তিনি তরুণ ও নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের আমি বিশেষভাবে বলছি, আমি তোমাদের শক্তি দেখি এবং আমি তোমাদেরকে নিয়ে গর্বিত।

অন্যদিকে মিশিগানে শেষ ভাষণে ট্রাম্প উপস্থিত সমর্থকদের প্রশ্ন করেন, তারা এখন চার বছর আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছেন কি না। তার এই প্রশ্নের বিপরীতে র‌্যালিতে উপস্থিত জনতা উচ্চস্বরে না-সূচক জবাব দেন।

এরপর ট্রাম্প বলেন বলেন, আজ রাতে আপনাদেরসহ সব আমেরিকান নাগরিকের প্রতি আমার খুব সহজ বার্তা, আমাদের এমনভাবে বেঁচে থাকতে হবে না।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির কমলা হ্যারিসকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, হ্যারিস ‘একজন উগ্র বামপন্থী পাগল’।