ফিলিস্তিনি শিশুদের কারাগারে পাঠানোর নতুন আইন পাশ করেছে ইসরাইল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিষয়ে নতুন একটি আইন পাশ করেছে ইসরাইলের পার্লামেন্ট (নেসেট)। নতুন এই আইনকে ইহুদিবাদী শাসনের বর্ণবাদী আচরণের আরেকটি জলজ্যান্ত উদাহরণ বলে অভিহিত করেছে হামাস।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শহিদি হওয়ার উদ্দেশে আক্রমণ চালানোর অভিযোগে তাদেরকে নির্বাসনের এই আইন ইসরাইলি শাসনের বর্ণবাদী আচরণকে পুনরায় স্পষ্ট করেছে।

হামাস আরও বলেছে, ‘নেসেটে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের বিচার ও কারাগারে পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টভাবেই আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তির লঙ্ঘন’।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির মতে, এটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ফিলিস্তিনি জাতির বিরুদ্ধে ইসরাইলি দখলদারদের অপরাধমূলক পদক্ষেপের আরেকটি উদাহরণ।

এছাড়াও এই বিবৃতিতে হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ এবং শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।

একই সঙ্গে গাজায় দখলদারদের অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চালানোর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠিটি। সূত্র: ইরনা




সুইজারল্যান্ডে ২০২৫ থেকে ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ আইন কার্যকর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সুইজারল্যান্ডে পাবলিক প্লেসে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের আইন কার্যকর হচ্ছে। যা ‘বোরকা নিষিদ্ধ’ নামে পরিচিত। ওই সময় থেকে কেউ যদি বোরকা পরেন এবং মুখ ঢাকেন তাহলে তাদের প্রায় ১ হাজার ১৫০ ডলার জরিমানা করা হবে। যা বাংলাদেশি অর্থে দেড় লাখ টাকার সমান।

২০২১ সালে সুইজারল্যান্ডে একটি গণভোট হয়। এতে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পক্ষে রায় দেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই গণ রায় কার্যকর করা হবে।

তবে ওই গণভোটের কঠোর বিরোধীতা করেছিল মুসলিম গ্রুপগুলো। এছাড়া পাবলিক প্লেসে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধের গণভোটে অনেকেই বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। এটি খুবই কম ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছিল।

যে গ্রুপ এই গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থা করেছিল সেটি ২০০৯ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডে নতুন করে মসজিদের কোনো মিনার নির্মাণ নিষিদ্ধের ব্যবস্থা করেছিল।

যদিও সুইজারল্যান্ডে খুব কম সংখ্যক মানুষ মুখ ঢাকা বোরকা পরেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও মুসলিমদের জন্য এটি একটি কঠিন বিষয় হয়ে পড়বে।




মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করল হুথি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইয়েমেনের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ আল-জাওফেরে আরেকটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এটি হুথি নিয়ন্ত্রিত বাহিনী কর্তৃক ধ্বংস করা ১২তম মার্কিন ড্রোন।

গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির জন্য বিশেষভাবে বানানো ড্রোনটি শুক্রবার ভোরে ওই অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় ভূপাতিত করা হয়।

ইয়েমেনি বাহিনীর কাছে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।

যা ড্রোন ভূপাতিত করতে বিশেষভাবে সক্ষম।
রিপার ড্রোনের দাম প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার। ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় উড়তে পারে এই ড্রোন। অবতরণ করার আগে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা উড়তে পারে ড্রোনটি।

মার্কিন সামরিক বাহিনী এবং সিআইএ উভয়ই বিমানটি ইয়েমেনের উপর দিয়ে বহু বছর ধরে উড়িয়ে আসছে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, গাজায় ইসরায়েলি স্থল ও বিমান হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের হামলা বন্ধ করবে না। হুথির দাবি, তারা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের সাথে যুক্ত জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করছে।




মার্কিন বাণিজ্য নীতি বদলাবে গেম! বাংলাদেশি পোশাক শিল্পের নতুন সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করতে চান বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার আগেই এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ। তাদের মতে, ব্যক্তি বা দল নয়, বরং দেশের স্বার্থে নতুন নীতি কৌশল নিয়ে কাজ করা উচিত।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর বাণিজ্যনীতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিদেশি পণ্যের ওপর ট্যারিফ বাড়ানো হবে। বিশেষ করে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশেও পৌঁছাতে পারে। ইউরোপীয় পণ্যের ওপরও কর বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির প্রভাব বাংলাদেশে কেমন হবে? কারণ, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বাড়লে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে দেশের বিদ্যমান গ্যাস সংকট এ সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে ব্যক্তি বা দলকে প্রাধান্য না দিয়ে নতুন নীতি কৌশল গ্রহণ করা উচিত। এই মুহূর্তে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতি যেদিকেই যাক, সেটি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এখন শুধু অপেক্ষা ট্রাম্পের কার্যক্রম কোন দিকে মোড় নেয় সেটির দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সমগ্র বিশ্ব এক হলেও ইরানকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে বলেছে, দেশটির সাম্প্রতিক নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে গাজার প্রতিরোধ যুদ্ধ এমনকি মার্কিন যুদ্ধকামী সরকারকেও পরিবর্তন করতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সর্বশক্তি দিয়ে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের আগ্রাসনকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বাস্তবে আমেরিকার জনগণ তাদের ভোট দেয়নি।

আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকালে মাশহাদে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেইন সালামি মার্কিন নির্বাচন সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন।




বিশ্বের ৩ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরাইলের বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান ড্যানিয়েল চামুভিট্‌স বলেছেন, আল-আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত ‌আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ ইসরাইলের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনশ’র বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক ‘ইয়েদিউত আহারোনোত’ এ তথ্য জানিয়েছে।
বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান আরও জানিয়েছেন, ইসরাইলের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ, আমেরিকা এবং কানাডা শামিল হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ এসব নিষেধাজ্ঞার ধরণ সম্পর্কে লিখেছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসরাইলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া, যৌথ নিবন্ধের প্রকাশনা বাতিল করা, ইসরাইলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষক ও গবেষকদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাতিল করা, এমনকি দখলদার ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠাগুলোকে সহায়তা প্রদান বন্ধের পাশাপাশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা।

বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি হামলা তাদের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটও কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান ড্যানিয়েল চামুভিট্‌স গত এক বছরের যুদ্ধের প্রভাবকে অকল্পনীয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। লেবাননেও এখন একই কায়দায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার সেনারা।




হামাস-হিজবুল্লাহর হাতেই ইসরাইলি দখলদারিত্বের সমাপ্তি হবে: খামেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সাইয়েদ আলি খামেনি হিজবুল্লাহর প্রয়াত মহাসচিব শহিদ সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর সাহস এবং কৌশলগত দূরদর্শিতার প্রশংসা করেছেন, যা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠীটির উল্লেখযোগ্য শক্তি এবং প্রভাবের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘হাসান নাসরুল্লাহর আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা এবং তার সাহস, জ্ঞান এবং ধৈর্যের কারণে হিজবুল্লাহ অসাধারণভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে খামেনি এ কথা বলেন।

হিজবুল্লাহ অপরাজেয়

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, হিজবুল্লাহ এমন এক শক্তি হয়ে উঠেছে, যাকে শত্রুরা পরাজিত করতে পারেনি। যদিও তারা সমস্ত সামরিক, মিডিয়া এবং রাজনৈতিক সম্পদ ব্যবহার করে ফায়দা নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সাইয়েদ নাসরুল্লাহ ‘একটি স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। আর তা হলো- হিজবুল্লাহ’। যা গত চার দশকে একটি ছোট যোদ্ধা দল থেকে একটি শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং একাধিকবার ইসরাইলি দখলদারিত্বকে লেবাননের এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছে।

খামেনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে, হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে গেছে, তারা ভুলের মধ্যে আছে। একদিন গোটা পৃথিবী দেখবে- কিভাবে এই প্রতিরোধ যোদ্ধারা দখলদার ইসরাইলকে পরাজিত করবে’।

তিনি আরও বলেন, ‘শত্রু এই সংগঠনকে পরাজিত করতে পারেনি এবং ইনশাআল্লাহ তারা কখনও পারবেও না। একদিন বিশ্ব দেখবে যে, ইসরাইলি দখলদাররা এই যোদ্ধাদের হাতেই পরাস্ত হবে’।

হামাসের সাফল্য

আলি খামেনি এ সময় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের উল্লেখযোগ্য সাফল্যও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনটি ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯ বার ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে বহু বছরের সংগ্রামের পর হামাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী বহুবার তাদের শক্তি ও দৃঢ়তার প্রমাণ দিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন সত্ত্বেও ইসরাইল হামাসের প্রতিরোধ আন্দোলনকে কখনোই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়নি। বরং ইসরাইল হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনির জীবন কেড়ে নিয়ে নিজেদের হিংস্রতা এবং অমানবিকতা বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছে’।

হামাসের সংগ্রাম এবং ইসরাইলের পরাজয়

সাইয়েদ আলি খামেনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘হামাস এখনও লড়াই করছে, এখনও প্রতিরোধ সংগ্রামে এগিয়ে যাচ্ছে। এর মানে হলো ইসরাইলি দখলদারিত্বের পরাজয়। হামাস তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে, এবং ইসরাইল তাদের এহেন কৌশলে কখনই সফল হবে না’।

এ সময় হিজবুল্লাহ ও হামাসের শহিদ নেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা

জানান খামেনি। তিনি শহিদ হাসান নাসরুল্লাহ, হিজবুল্লাহর শীর্ষ কর্মকর্তা সাইয়েদ হাসেম সাফিয়েদ্দিন, হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এবং ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং ইরানী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর জেনারেল আব্বাস নিলফোরোশানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রতিরোধ সংগ্রামে এই শহিদ নেতাদের অপরিসীম অবদান এবং তাদের নেতৃত্বের জন্য তিনি তাদের স্মরণ করেন।

প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিজয় নিশ্চিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, হামাস এবং হিজবুল্লাহ তাদের গত কয়েক দশকের বিজয় এবং অবিচল প্রতিরোধের ফলে সাম্প্রতিক ঘটনা ও পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই প্রতিরোধ ফ্রন্টের বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাবে।




গাজা ও লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের বিমান হামলা, নিহত শতাধিক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ড ও লেবাননজুড়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজায় নিহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক ফিলিস্তিনি।

অন্যদিকে লেবাননজুড়ে নিহত হয়েছেন আরও ৫৩ জন। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, গাজা জুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ৫০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে মেডিকেল সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে। এর মধ্যে গাজার অবরুদ্ধ উত্তরাঞ্চলেই নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪২ জন।

এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজার ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া এক বছরেরও বেশি সময় চলা এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ২ হাজার ৫৬১ ফিলিস্তিনি।

অন্যদিকে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে যে অভিযান চালিয়েছে তাতে ৫৩ জন নিহত এবং আরও ১৬১ জন আহত হয়েছেন।

মূলত গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানী বৈরুতের পাশাপাশি লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অপারেটিভস, অবকাঠামো এবং অস্ত্রাগারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চলছে।

হিজবুল্লাহও পাল্টা আঘাত হানছে। গত সপ্তাহে লেবাননে অভিযানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ৭০ জন সেনাকে হত্যার দাবি করেছে শক্তিশালী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। অবশ্য ঠিক কত দিনে এই সেনারা নিহত হয়েছেন, তা এই বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি গোষ্ঠীটি।

প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হয়ে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে যা করেছিলেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের জয়ে আতঙ্কিত ফিলিস্তিনের গাজাবাসী
কাল-পরশু বা এক মাস পরও না, কবে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন ট্রাম্প?
ট্রাম্পের এই আমল ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও খারাপ হতে পারে
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৩ জন নিহত এবং প্রায় ১৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।




প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যে ৭টি কাজ করতে চান ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আবারো হোয়াইট হাউজে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে নির্বাচনে এক দফা হেরে আবার তার থেকেই ক্ষমতার চাবি নিচ্ছেন তিনি।

তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সবার আগে কয়েকটি কাজ করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। সেগুলো হলো-

১) রাষ্ট্রপতি হলে ব্যাপক হারে অবৈধ অভিবাসীদের দেশটি থেকে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। একইসাথে প্রথম মেয়াদের যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত যে প্রাচীর তোলার কাজ শুরু করেছিলেন, তা শেষ করার কথাও জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও এই কাজে আইনি এবং লজিস্টিক চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন বিশ্লেষকরা।

২) অর্থনীতির ক্ষেত্রে কর কমানো, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ এবং ‘মূল্যস্ফীতি শেষ করার’ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে পণ্যে শুল্ক বাড়ালে সাধারণ মানুষের কেনার ক্ষমতা কমতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

৩) নির্বাচনী প্রচারণায় জলবায়ু বিষয়ক নীতি শিথিলের কথাও জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তির পরিবর্তে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিরোধিতা করে মার্কিন গাড়ির উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নতুন এই প্রেসিডেন্ট।

৪) ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে’ ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনার অঙ্গীকার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা দেননি।

৫) কিছু সমর্থকের ইচ্ছার বিপরীতে গিয়ে গর্ভপাতের বিষয়ে জাতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। একইসাথে এই ইস্যুতে রাজ্যগুলোর অধিকারকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

৬) ৬ জানুয়ারির দাঙ্গায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে ক্ষমা করার কথাও জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাদের ‘ভুলভাবে বন্দি’ রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প, যদিও তিনি এটিও স্বীকার করেছেন যে কয়েকজন ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল’।

৭) সবশেষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চালানো ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনাকারী বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথকে বরখাস্ত করার শপথ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেন, স্মিথ রাজনৈতিক ‘উইচ হান্ট’ চালাচ্ছেন।

সূত্র : বিবিসি




এবার ইসরাইলে হামলা করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল হিজবুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ প্রথমবারের মতো ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ‘ফাতেহ-১১০’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে।

হিজবুল্লাহনিয়ন্ত্রিত লেবাননের আল-মানার টেলিভিশন নেটওয়ার্কে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৮ দশমিক ৫ মিটার দীর্ঘ ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্রটি ৫০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। উচ্চ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার অধিকারী ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্দিষ্ট বা ভ্রাম্যমাণ প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণ করা যায়।

হিজবুল্লাহর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কঠিন-জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রটির ওজন ৩,৪৫০ কেজি এবং এর পাল্লা ৩০০ কিলোমিটার।

আল মানার টেলিভিশনে গতকাল বুধবার ফাতেহ-১১০ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে তেল আবিবের দক্ষিণে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে দখলদার বাহিনীর জারফিন ঘাঁটিতে হামলা করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা হাইফা, তেল আবিব এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে প্রথমে রকেট দিয়ে হামলা করা হয়।

এর আগে গত রোববার (৩ নভেম্বর) হিজবুল্লাহ ‘ইমাদ-৫’ নামে একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। ওই বাঙ্কারের ফুটেজে বলা হয়েছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বিজয় অর্জন করা পর্যন্ত নিজ অবস্থানে অটল থাকবে হিজবুল্লাহ।

ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারটি হিজবুল্লাহর শহীদ নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশ করা হয়। যেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা কখনো যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করব না। আমরা কখনো আমাদের অস্ত্র সমর্পণ করব না।’

ফুটেজে দেখা যায়, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা একটি জঙ্গল এলাকায় তাদের মোটরসাইকেলে চড়ছেন। এরপর তারা একটি টানেলের ভেতর দিয়ে ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারটিতে প্রবেশ করেন।

সূত্র : পার্সটুডে