ট্রাম্প -পুতিনের ফোন, ইউক্রেইন যুদ্ধ না বাড়ানো পরামর্শ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলে তাকে ইউক্রেইন যুদ্ধ আর না বাড়ানো পরামর্শ দিয়েছেন বলে এই কথোপকথনের বিষয়ে জ্ঞাত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিকল্পনা করেছেন, কিইভকে পরিত্যাগ না করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

রোববার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, গত কিছুদিনের মধ্যেই ট্রাম্প ও পুতিন কথা বলেছেন।

ট্রাম্প ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কির সঙ্গে বুধবার কথা বলেছেন। কিইভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ সামরিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে তার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প, দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন; তবে কীভাবে এটি করবেন সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

ইউক্রেইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনের বিষয়ে তাদের আগাম কিছু জানানো হয়নি।

প্রথম ওয়াশিংটন পোস্টে খবর হওয়া ওই ফোন কলের বিষয়ে প্রশ্নে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক স্টেভেন চন বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও অন্য বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত কলের বিষয়ে আমরা মন্তব্য করি না।”




কিউবায় পরপর দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা

এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ক্যারিবিয়ান দেশ কিউবা। প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৯ রিখটার স্কেলে, আর দ্বিতীয় কম্পনটি ছিল ৬.৮ মাত্রার। সোমবার (১১ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানায়, রোববার (১০ নভেম্বর) কিউবায় প্রথম যে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, তার উৎসস্থল ছিল গ্রানমা প্রদেশের বার্তোলোম মাসো উপকূল থেকে ২৫ মাইল দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯ কিলোমিটার গভীরে।

কিউবা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাড়িঘর এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে জানান, “ভূমিকম্পের আঘাতে ভূমিধসের ফলে কিছু এলাকায় ঘরবাড়ি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ শুরু করেছি।

ভূমিকম্পে সান্তিগো ডি কুবা এবং গ্রানমা প্রদেশ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। ওই অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা ও পুনর্গঠনের কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে, কিউবার বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কিউবায় কোনো রকম সহায়তার প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫৫ বছর আগে যেভাবে দুই বিজ্ঞানীর ভুল থেকে ইন্টারনেটের জন্ম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১৯৬৯। ২৯ অক্টোবর। সাড়ে তিন শ মাইল দূরে অবস্থিত দুই বিজ্ঞানী তাদের কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হলেন। একটা বার্তা টাইপ করছিলেন। টাইপের কাজ যখন মাঝ পর্যায়ে, তখনই ঘটল বিপর্যয়। কম্পিউটার অচল হয়ে গেল। ক্রাশ করল। এ ঘটনার ৫৫ বছর পরে, চলতি বছরে, সেই আলাপ বিবিসির স্কট নোভেরের সাথে।

শীতল যুদ্ধ তখন তুঙ্গে। চার্লি ক্লিন এবং বিল ডুভাল প্রতিভার উজ্জ্বল প্রভায় দীপ্যমান দুই তরুণ বিজ্ঞানী তৎকালীন উচ্চাভিলাষী অন্যতম এক গবেষণায় নিমগ্ন হয়ে উঠেছিলেন। ২১ বছর বয়সী ক্লিন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) গ্র্যাজুয়েট। ২৯ বছর বয়সী ডুভাল, স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআরআই) গবেষক। আরপানেট, পুরো নাম অ্যাডভানসড রিসার্চ প্রজেক্টস নেটওয়ার্কে কাজ করছেন দুজনেই। তহবিলের জোগানদার ছিল মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, টেলিফোন লাইন ছাড়াই যেন ডেটা আদান-প্রদান করা যায়। এ জন্য ডেটা আদান-প্রদানের কাজে ‘প্যাকেট সুইচিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন তারা। এই ব্যবস্থাই পরবর্তী সময়ে আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি তৈরি করে।

এ প্রযুক্তি কাজ লাগে কি না, তাই সেদিন প্রথম পরীক্ষা করছিলেন তারা। ভবিষ্যতে তাদের এ পরীক্ষা-নিরীক্ষাই গোটা মানুষ জাতির প্রায় সবকিছুকেই পরিবর্তন করে দেয়।

ক্লিন ইউসিএলএর বোয়েলটার হলরুম ৩৪২০ থেকে সাড়ে তিন শ মাইল দূরের ডুভালের সাথে সংযোগের চেষ্টা করছিলেন। লগইন শব্দটি পুরোপুরি টাইপ করার আগেই ডুভালের ফোন এল। জানালেন, কম্পিউটার ব্যবস্থা অচল হয়ে গেছে। ১৯৬৯-এ সেদিন ক্লিন কেবল ‘এল’ এবং ‘ও’ এই দুই ইংরেজি হরফ পাঠাতে পেরেছিলেন।

টুকটাক কিছু মেরামত সেরে ঘণ্টাখানেক পর আবার সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছিলেন তারা। সেদিন তাদের বিশাল অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে কম্পিউটার অচল হয়ে পড়াকে সামান্য ঘটনার পর্যায়ে ফেলা যায়। দুই বিজ্ঞানীর কেউই সেদিন আন্দাজ করতে পারেননি, ওই সময়টা কী বিশাল গুরুত্বের ছিল। ক্লিন খোলাখুলি স্বীকার করেন, গুরুত্বের বিষয়টি আমি মোটেও অনুমান করতে পারিনি। পদ্ধতিটি যেন কাজ করতে পারে, সেদিকেই ছিল পুরো মনোযোগ।

এ ঘটনার ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই দুই বিজ্ঞানীর সাথে আলাপচারিতার শুরু।

আলাপের প্রথমেই জানতে চাওয়া হয়েছিল, আরপানেটের জন্য তারা যে কম্পিউটার ব্যবহার করেছিলেন, তা কি আকারে বড় এবং শব্দবহুল যন্ত্র ছিল? জবাবে ক্লিন বলেন, সেকালের মাপকাঠিতে কম্পিউটারগুলোকে ছোটখাটোই বলা যায়। এগুলো আকারে একটা ফ্রিজের সমান ছিল। ওই কম্পিউটার শীতল রাখার জন্য কয়েকটা ফ্যান ব্যবহার করা হতো। তাতেই বেশ শব্দ হতো। তবে অন্য কম্পিউটারগুলোর তুলনায় আমাদের সিগমা ৭ কম্পিউটারের ফ্যানগুলোর শব্দ বরং কমই হতো। কম্পিউটারগুলোর সামনে কয়েকটা লাইট ছিল। সেগুলো পিটপিট করত। ইন্টারফেস মেসেজ প্রসেসর বা আইএমপির কাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য গুটিকয়েক সুইচও ছিল। পাশাপাশি কাগজের টেপ রিডার ছিল। কম্পিউটারে সফটওয়্যার ঢোকানোর কাজে ব্যবহার হতো ওটি।

আরপানেটে প্রথম মেসেজ পাঠানো দিয়েই শুরু ইন্টারনেটের। ছবি: ইমানুয়েল লাফন্ট
ডুভাল বলেন, আজকের যুগে বিশাল অনুষ্ঠানের গোটা শব্দব্যবস্থার যন্ত্রপাতি রাখার মতো বড়সড় তাকজুড়ে রাখা হতো ওগুলো। এ ছাড়া এখনকার অ্যাপেল ঘড়িতে যে প্রসেসর বসানো আছে, তার সক্ষমতার থেকেও মিলিয়ন মিলিয়ন বা বিলিয়ন বিলিয়ন গুণ কম ছিল ওসব কম্পিউটারের সক্ষমতা।

এল এবং ও টাইপ করার বিষয় কথা বলতে গিয়ে ক্লিন বলেন যে আজকের যুগের ওয়েবসাইট বা অন্যান্য ব্যবস্থার সাথে এসআরআই ব্যবস্থার পার্থক্য ছিল। এসআরআই টার্মিনালের সাথে সংযোগ স্থাপন করলেই হবে না। কিছু টাইপ করতে হবে। তাহলেই সংযোগটা কাজ করবে। যদি কোনো প্রোগ্রাম চালানোর ইচ্ছা থাকে, তবে প্রথম লগইন করতে হবে। এ জন্য টাইপ করতে হবে লগইন শব্দটি। সাথে সাথেই কম্পিউটার নাম এবং পাসওয়ার্ড জানতে চাইবে।

তিনি আরও জানান, টাইপ করার জন্য টেলিটাইপ মডেল ৩৩ ব্যবহার করা হয়েছিল। এসআরআই ব্যবস্থার কাছে তার টাইপ করা অক্ষর বার্তা হিসেবে যাওয়ার জন্য কয়েকটা ধাপ পেরোতে হতো। কিন্তু ওই সব ধাপ পেরিয়ে গেলে আর বোঝা যাবে না বার্তাটি দূর থেকে এসেছে। বরং স্থানীয় টার্মিনাল থেকে এসেছে বলে ধরে নেবে বিলের কম্পিউটার। একে প্রসেস করবে। তারপর আবার ইসিএলএতে ফেরত পাঠাবে। সেখান থেকে প্রিন্ট করে নেবেন ক্লিন। ক্লিন জানান যে ফোনে তিনি বিলের সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন। এল টাইপ করার পর বিলকে জানালেন, এল হরফ তিনি পেয়েছেন। এটা প্রিন্ট করা হয়েছে, সে কথাও জানালেন। তারপর টাইপ করলেন ও অক্ষর। এ পর্যন্ত ভালোভাবেই কাজ এগোচ্ছিল। জি টাইপ করার পরই ঝামেলা দেখা দিল। বিল জানান, তার কম্পিউটার অচল হয়ে গেছে। খানিক পরে আমার ফোন করবে বলেও জানান বিল।

এ বিপত্তির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডুভাল জানান, আসলে নেটওয়ার্ক সংযোগ অন্য কিছুর থেকে অনেক বেশি গতিশীল ছিল।

তখনকার দিনে স্বাভাবিক সংযোগের গতি ছিল প্রতি সেকেন্ডে ১০ হরফ। অন্যদিকে আরপানেটের সেকেন্ডে ৫০০০ হরফ পর্যন্ত পাঠানোর তাগদ ছিল। ইউসিএলএ থেকে এসআরআই কম্পিউটার বার্তা পাঠানোর ফল হলো যে বার্তার বন্যায় ভেসে গেল সেখানকার ব্যবস্থা। কারণ, ওখানকার ব্যবস্থা প্রতি সেকেন্ডে ১০টি মাত্র হরফ গ্রহণ করার উপযোগী ছিল। উদাহরণ দিয়ে বলেন, দমকলের আগুন নেভানোর নল দিয়ে তোড়ে আসা পানি দিয়ে গ্লাস ভরতে গেলে যা হবে, এখানেও তা-ই হলো। সমস্যার প্রকৃতি বুঝতে এবং দ্রুত তা সুরাহা করতে বেশি বেগ পেতে হলো না ডুভালের। এক ঘণ্টার মধ্যেই মুশকিল আসান।




বিমানে নারীর ওপর পড়ল গরম চা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ::নিউইয়র্কের এক নারী ইজিপ্টএয়ারের বিরুদ্ধে ৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, যাত্রাপথে গরম পানীয় তার গায়ে ছিটকে পড়ে। এতে ওই নারী দগ্ধ হন।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী এসরা হাজাইন এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে কায়রো যাওয়ার পথে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, গরম চা ‘ঢাকনাবিহীন কাপ’-এ পরিবেশন করা হয়েছিল এবং ‘ত্রুটিপূর্ণ’ ভাবে পরিবেশন করার সময় ট্রে থেকে পড়ে গিয়ে তাকে দগ্ধ করে।

বিমানে চা পরিবেশনের সময় প্রবল ঝাঁকুনি অনুভূত হয়, যা দুর্ঘটনার কারণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ক্রুরা পূর্ববর্তী সতর্কতা বা পরিষেবা স্থগিত না করায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
হাজাইনের আইনজীবী আব্রাম বোহার জানিয়েছেন, তার মক্কেল পেটের নিম্নাংশ, ডান দিকের উরু এবং পশ্চাৎদেশে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি ঢাকনার অভাবে এমনটি হওয়া উচিত ছিল না।’ এ ঘটনার বিষয়ে ইজিপ্টএয়ারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাটি ২০১৯ সালে ফ্লোরিডায় ঘটে যাওয়া আরেকটি মামলার সঙ্গে তুলনীয় যেখানে একটি ম্যাকডোনাল্ড চিকেন নাগেট শিশুর উরুতে পড়ে দ্বিতীয় স্তরের দগ্ধ সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ চার বছর পর ওই মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৮ লাখ ডলার প্রদান করা হয়। মেয়ের বিচার পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন শিশুটির মা।




প্রধান উপদেষ্টা ও তার পরিষদসহ সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ জন অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।




গাজায় গণহত্যার স্বীকৃতি দিল আয়ারল্যান্ড, ফিলিস্তিনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে ইউরোপের দেশ আয়ারল্যান্ড। গত ৫ নভেম্বর একজন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় দেশটি। এর দুইদিন পর আয়ারল্যান্ডের আইনপ্রণেতারা সংসদে একটি প্রস্তাব পাস করেছেন, যেখানে স্বীকার করা হয়েছে- ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলায় নিজেদের সম্পৃক্ত করবে।

আইরিশ আইনপ্রণেতারা দাবি করেছেন, তাদের সরকার অবিলম্বে ইহুদিবাদী শাসক গোষ্ঠীর সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম এবং অস্ত্রের ক্ষেত্রে সমস্ত লেনদেন স্থগিত করবে।

এছাড়া তেল আবিবে অস্ত্র বহনকারী বিমানের জন্য আকাশসীমা এবং আয়ারল্যান্ডের বিমানবন্দর ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা উচিত বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে আয়ারল্যান্ড জানিয়েছিল, তারা গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে সম্মত হয়েছে।

এরপর সেপ্টেম্বর মাসেই আয়ারল্যান্ড ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। আয়ারল্যান্ডের এসব পদক্ষেপ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরে। দেশটি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলের নির্মম হামলার সবচেয়ে স্পষ্টবাদী সমালোচকদের মধ্যে অন্যতম।

তথ্যসূত্র: ডেইলি সাবাহ




ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি নাগরিক অভিযুক্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে নির্বাচিত-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করায় যুক্তরাষ্ট্রে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফরহাদ শাকেরি নামের ওই ইরানি নাগরিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে।

তবে আইআরজিসির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাননি বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছেন শাকেরি।




নেপাল ভারত থেকে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি চেয়েছে

নেপাল ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করার অনুমতি চেয়েছে। কারণ, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপালকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হবে। ভারত নেপালের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিগগিরই অনুমতি প্রদান করবে, এমন আশ্বাস দিয়েছে নয়াদিল্লি।

নেপালের জ্বালানি ও পানিসম্পদমন্ত্রী দীপক খাড়কা ৩ থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সফর করেন। সফরের সময় তিনি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার এবং পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তারা জ্বালানি, পানিসম্পদ এবং সেচ সহযোগিতার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া, নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতের বিদ্যুৎ সরবরাহ অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দীপক খাড়কা জানিয়েছেন, ভারত সফর শেষে নেপালে ফিরে এসে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে, ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির জন্য ভারতীয় ট্রান্সমিশন লাইন ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নেপাল গত ১৫ জুলাই থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসের জন্য এই অনুমতি পেয়েছে। তবে, নেপালের পক্ষে ভারতের সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় পক্ষ নেপালের অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে এবং শিগগিরই অনুমতি দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ৩ অক্টোবর কাঠমান্ডুর একটি হোটেলে বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভারতের মধ্যে এক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (এনইএ) এবং ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবসা নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) এর প্রতিনিধিরাও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৬০ শতাংশ কমালো আদানি

চন্দ্রদ্বীপ আন্তজার্তিক  :: গত মাসের শেষ দিকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয় ভারতের আদানি গ্রুপ। নভেম্বরে এসে সরবরাহ আরও ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে তারা।

সবমিলিয়ে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ কমালো বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গ্রুপটি।
বাংলাদেশের গ্রিড অপারেটর এবং এই পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের তথ্য অনুসারে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ডাটা থেকেও জানা গেছে এই তথ্য।

বকেয়া ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আদায়ের চেষ্টায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে আদানি গ্রুপ – এমনটাই বলা হচ্ছে।

শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করে আদানি।

গত আগস্ট মাসেও এই কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে।

কিন্তু অক্টোবরের শেষ দিকে এটি ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটে নামিয়ে আনে তারা।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য এবং বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশে মাত্র ৫২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে তারা।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে বকেয়া পরিশোধ করছি এবং কেউ সরবরাহ বন্ধ করলে বিকল্প ব্যবস্থা নেব। আমরা কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীকে আমাদের জিম্মি করতে দেব না। ’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর নভেম্বরের বকেয়া সময়সীমা প্রত্যাহার করে আদানি। তা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমা অব্যাহত রয়েছে।

রয়টার্সকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ কমিয়ে দেওয়া ও বকেয়া আদায়ের বিবরণের বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি আদানি গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।

তবে আদানির একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের চাহিদা এবং একইসঙ্গে বকেয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।




ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর মানবজমিনের
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে এই অভিযোগ করা হয়।
লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুজ্জাম চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় আমিই প্রথম (অভিযোগ) শুরু করলাম। প্রায় ১৫ হাজার ভিক্টিম আছেন যারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সরকার পতনের পর লাপাত্তা হন সিলেটের তৎকালীন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। পরে জানা যায় তিনি লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।